(দুপুর ১২টা প্রায়,,,,ছাদের রেলিং ঘেসে দাড়িয়ে আছে এক নিরব মানবী।মুখে কোনো কথা নেই তার।চোখ দিয়ে দর্শন করে যাচ্ছে নিচে থাকা সুইমিংপুলটা যেখানে নীলছে টলটলে পানি ছাড়া আর কিছুই নেই।,,,ছাদটা অনেক বড় হলেও সানির খুব একটা পছন্দ হয়নি।কারন ছাদে একটাও ফুল গাছ নেই।তাই সানি খুব একটা ছাদে আসে না।,,,কিছু একটা ভেবে মুখটা হাস্যজ্জল করে নিচে দৌরে গেলো।ড্রয়িংরুমে আসতেই দেখলো প্রায় সবাইই বসে বসে গল্প গুজব করছে।সানি গিয়ে সফিকের সাথে বসলো।..)
সফিক-কিছু বলবি মামনি??
সানি-আমি কি তোমার কাছে একটা আবদার করতে পারি বাবাই???
সফিক-কেন পারবি না মামনি।তোর কি লাগবে শুধু বল।আর এভাবে অনুমতি নেওয়ার কি আছে।তোর যখন যা দরকার হবে নির্দিধায় আমাকে বলবি।এখন বলতো কি লাগবে তোর??
সানি-আমি কিছু ফুল গাছ চাই বাবাই।এনে দেবে আমায়???
সফিক-এইটুকুই,,,কি কি গাছ লাগবে বল।আমি এক্ষুনি এনে দিচ্ছি।
সানি-সত্যিই তুমি আনবে??
সফিক-তুই বলেই দেখ না।
সানি-উমমম,,,গাদাফুল গাছ,বেলি,করবি,গন্ধরাজ,জবা,,শিউলি,নীলকন্ঠ, আর বাগান বিলাশী।এই গুলোর মধ্যে যেকোনো একটি আনলেই হবে।
(সফিক হাসি মুখে উঠে দাড়ালো।)
সেলিম-ভাইয়া,,,তুই বস।আমি কাউকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
সফিক-উহুম,,আমার মামনি আমার কাছে আবদার করেছে
তাই আমি নিজেই আনবো।
(বলেই সফিক বেরিয়ে গেলো।।,,,)
,,,
(১টার দিকে সফিক বাড়ি ফিরলো।সাথে সানির বলা প্রত্যেকটা ফুলের গাছ।ড্রয়িংরুমে এসেই হাক ছেড়ে বললো...)
সফিক-মামনি,,,আমার মামনিটা কোথায়??বাবাইয়ের কাছে আয় একটি বার।
(সানি নিজের রুমে বসে আদ্রের ফোন দেখছিলো।আদ্রও খাটে হেলান দিয়ে বসে তার মিটিং কমপ্লিট করছে লেপটপে।সফিকের কথা শুনতেই সানি আদ্রের ফোন খাটে রেখে দৌড়ে চলে গেলো।তা দেখে আদ্র বলে উঠলো...)
আদ্র-আস্তে যাও ডল,,পরে যাবে তো।
(একথা শুনে লেপটপের ওপারে মিঃরয় বলে উঠলো...)
মিঃরয়-ওয়াট হ্যাপেন্ড মিঃআদ্রিয়ান।আর ইউ ওকেয়।
আদ্র-সরি সরি,,,ইউ গায়েজ প্লিজ ক্যারি অন।
(বলেই আদ্র আবার মিটিংয়ে মন দিলো।,,,সানি নিচে যেতেই দেখলো সফিক অনেকগুলো গাছ এনেছে।তা দেখে সানি খুশি +অবাক হয়ে বললো...)
সানি-এতগুলো গাছ,,আমিতো শুধু একরকমের কথা বলেছিলাম বাবাই।
সফিক-তা হয় নাকি।আমার মামনিরতো সবগুলো পছন্দ ছিলো।তাই আমি বেছে বেছে সবগুলো নিয়ে এসেছি।,,,
সায়মান-তা পিচ্চি,, এত গাছ দিয়ে কি করবি তুই??
সানি-ভাইয়া,,তোমাদের ছাদটা না একদম নিরামিস হয়ে আছে।চারদিক থেকে শুধু লাইট আর লাইট।যা দেখতে একদমই ভালো লাগে না।তাই এগুলো ছাদে লাগাবো।
শারমায়া-বাহ,,আগে তো কখনো ভেবে দেখিনি।
সানি-কিন্তু এসব একা করবো কি করে??
রিসব-কে বললো একা,, আমরা সবাই আছি তো।
রুসা-হ্যা,,আমরা তোকে হেল্প করবো।
সানি-সত্যিই তোমরা হেল্প করবে??
বন্যা-আমিও আছি।
সানি-ওয়াও,,তোমরা কত্ত ভালো।আর বাবাই,, তুমিতো এত্ত এত্ত এত্ত গুলা ভালো।
সফিক-হয়েছে হয়েছে।এবার যা দেখি।নাহলে দেরি হয়ে যাবে।সন্ধ্যায়তো আবার কিসব তত্ত সাজাবি তোরা।
রুসা-হ্যা,,,হ্যা,,চলো চলো।
সানি-বাবাই,, তুমি এতটা পথ হেটে এসেছো।বসো আমি চা এনে দিচ্ছি।
আরিফা-তার আর দরকার নেই।আমি নিয়ে এসেছি।তোরা বরং যা,,,আমার ছাদটাকে আমার মেয়ের মন মতো করে সাজা দেখি।
রিসব-ওকেয় চাচি।চলো সবাই।পিচ্চি চলতো।
সানি-হ্যা,,যাচ্ছি।
(সবাই ফুলগাছ নিয়ে ছাদে গেলো।একএক করে পুরো ছাদটা ফুলগাছ দিয়ে ভরিয়ে দিলো।,,এসবের বেশিরভাগই সানির আইডিয়া।গাছ ছাড়াও তারা আরো নতুন কিছু এড করলো।যেমন,,,ছাদের একপাশে দুটি ডবলসিট স্টিল দোলনা,যার হ্যান্ডেলে মাধবী ফুলের লতা পেছানো।আরেক পাশে পুরো, একটা ফোটো কর্নার হয়ে গেছে।যেখানে সিড়ি সিস্টেম করে একদম নিচে ছোট ছোট টবের মধ্যে বেলির গাছ।এর উপরে একটু বড় বড় সূর্যমুখীর গাছ।তার উপর বড় বড় কয়েকটা ড্রামের মধ্যে পাতাবাহার গাছ।যেগুলো উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ঝুলানো।ড্রাম গুলোর মধ্যে সানি বিভিন্ন কালার দিয়ে স্মাইলিফেস বা ইমুজি একে দিয়েছে।আর টব গুলোতে নানা রকম নকশা।যার দরুন জায়গাটা আরো মানিয়েছে।,,,শারমায়া আর বন্যা অলরেডি জায়গাটার সামনে দাড়িয়ে নানা পোজে ছবি তুলা শুরু করে দিয়েছে।সবকিছু মিলিয়ে এককথায় ছাদটা এখন অসাম লাগছে।,,,,)
(এদিকে অনেকক্ষণ হলো সানি রুমে ফিরছে না।মিটিং শেষ হতেই আদ্র হাফ ছেড়ে বাচলো।সানিকে দেখার জন্য সে এই রুমে এসে বসে ছিলো।আর এখান থেকেই মিটিং করছিলো।তখন সানি সেই বোরিং ভাবে ঘুমিয়ে যেতে নিলে আদ্র তার ফোন ধরিয়ে দেয় তাকে।যেন কোনো বাচ্চা সে।সানি প্রথমে নিতে চাইলো না।পরে আদ্র জোর করে দিতেই সে ফোন নিয়ে ব্যস্ত হতে থাকলো।আর আদ্র নিশ্চিন্ত মনে নিজের কাজ করতে লাগলো।কিন্তু সেই যে সানি গেলো এখনো এলো না কেন??,,,আদ্র ল্যাপটপটা অফ করে উঠে নিজের ফোনটা হাতে নেয়।হঠাৎ তার মনে পড়ে...)
আদ্র-(আচ্ছা,,ডলের ফোনটাতো আমার কাছে।ঐদিন অনুজ দিয়েছিলো ডলকে খুজতে যাওয়ার সময়।আমিতো আসার পরে এতদিন চেকও করিনি।ফোনটা কি ডলকে দিয়ে দেবো??নাকি আমি একবার চেক করে দেখবো।থাক,, আমি একবার দেখে নিই।পরে না হয় ওকে দেওয়ার কথা ভাবা যাবে।)(মনে মনে)
(তারপর আদ্র নিজের ফোনটা পকেটে নিয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে পা বাড়ায়।এখানে এসে দেখলো তার মাম্মাম,বাবাই,আর চাচা-চাচিরা ছাড়া আর কেউ নেই।)
আদ্র-মাম্মাম,,,,বাকি সবাই কোথায়?দেখছিনা যে।
আরিফা-ছাদে আছে যা।
আদ্র-সবাই ছাদে??
আরিফা-হ্যা,,,গিয়েই দেখ না
(আদ্র আর কথা না বাড়িয়ে সিড়ি বেয়ে ছাদে উঠলো।ছাদের দরজার সামনে আসতেই তার চোখ চরকগাছ।এই অল্প সময়ের মধ্যে ছাদটার এত পরিবর্তন।,, কি দেখছি আমি??,,,,,,আদ্র দেখলো সারমায়া,বন্যা আর রিসব এরা তিনজন ঐ ফোটোকর্নারে নানা পোজে ছবি তুলছে।রুসা একটা দোলনার মধ্যে লতা পেচাচ্ছে।সায়মান ছাদের কর্নার গুলোতে নানা রকম লাইট সেটিং করছে।,,,অবশেষে আদ্রের চোখ গেলো ছাদের এক কোনায়।যেখানে তার ছোট্ট পুতুলটা পেছন ঘুরে বসে ড্রামে আর্ট করছে।হাতে তার রং তুলি।খোলা চুল আর গলায় জরানো ওরনাটা বাতাসের সাথে সমান তালে দোল খাচ্ছে।,,এতক্ষণ পরে আদ্রের মুখে এক হাসি খেলে গেলো।ধীর পায়ে আদ্র সেদিকে এগোলো।তারপর বুকে দুহাত গুজে সানির কান্ড দেখতে লাগলো।,,এদিকে এতক্ষণ ধরে সানির পেছনে যে কেউ দাড়িয়ে আছে সে খেয়ালই নেই।সে নিজের মতোই কাজ করে যাচ্ছে।কিছু অবাধ্য চুল সানির মুখের উপর এসে পরছে যার কারনে সে বিরক্ত হয়ে হাতের উলটো পিঠে তা সরানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু পারছে না।তা দেখে আদ্র পেছন থেকেই সানির চুল গুলো কপাল থেকে সরিয়ে এনে সবগুলো একসাথে মুষ্টি বদ্ধ করলো।যেটা করতে গিয়ে আদ্রের আঙুলগুলো সানির ঘার সংলগ্ন জায়গায় হালকা করে ছুয়ে দিলো।,,,,এদিকে এমন স্পর্শ পেয়ে সানি মুখ ঘুড়িয়ে দেখতে লাগলো কে। আদ্রকে দেখেই বলে উঠলো...)
সানি-আপনি??
আদ্র-হুম,,,চুলগুলো তোমাকে খুব বিরক্ত করছিলো তাই না??এবার ওরা বন্ধি।তুমি করতে থাকো।
(আদ্রের কথায় সানি হালকা হাসলো।,,তারপর বললো...)
সানি-এবার ছেড়ে দিন।আমার কাজ শেষ।উঠবো আমি।
(আদ্র তার কথা মতো সানির চুল ছেড়ে দিলো।সানি উঠে দাড়ালো।হাত থেকে তুলিটা রেখে সানি আদ্রের দিকে তাকাতেই দেখলো আদ্র ভ্রু কুচকে তার দিকে তাকিয়ে আছে।,,,)
সানি-কি হলো??
(আদ্র নরমাল হয়ে বললো...)
আদ্র-কিছু না।একটু ওয়েট করো।
(বলেই আদ্র হাত বাড়িয়ে সানির বাগালে লেগে থাকা রং টুকু উঠানোর চেষ্টা করতে লাগলো।কিন্তু অনেকক্ষণ হওয়ায় এমনি এমনি এগুলো উঠতে চাইছে না।)
আদ্র-ডল,,মুখটা ধুয়ে নেবে চলো।এই রং গুলা স্কীনের জন্য ভালো না।
সানি-পরে ধুয়ে নেবো।
আদ্র-না,,এখন ধুবে তুমি।বলছিনা স্কিন খারাপ হয়ে যাবে।
সানি-হলে হোক।আমার লাগবে না এত ভালো স্কিন।
আদ্র-কি বলছো এসব।তুমি চাওনা তোমার স্কিন ভালো থাকুক??চাওনা তোমার লুকিং ভালো থাকুক?
সানি-না,,কি করবো এসব দিয়ে??
আদ্র-(আল্লাহ,,এই মেয়েটাকে নিয়ে আর পারিনা।)(মনে মনে)
আদ্র-হয়েছে।কথা বন্ধ করে আমার সাথে চলো।
(বলেই আদ্র সানির হাত ধরে ছাদে থাকা কলে নিয়ে গেলো।তারপর তার মুখ ধুইয়ে দিলো।)
আদ্র-নাও,,এবার ঠিক আছে।
সানি-আচ্ছা,,আপনি আমার স্কিন নিয়ে এত ভাবেন কেন??(বাচ্চাদের মতো করে)
(সানির কথা শুনে আদ্র দুষ্টু হেসে সানির গাল টেনে দিয়ে বললো...)
আদ্র-কারন,,এটা আমার প্রোপাটি।
(বলেই সিটি বাজাতে বাজাতে চলে গেলো।আর সানি হা করে তাকিয়ে রইলো..)
সানি-কি বললো উনি??কিছুই তো বুঝলাম না।
*************
রাত৯ঃ৩০,,,,,
(এতক্ষণ ছাদে বসে বসে তত্ত সাজিয়েছে সবাই।সেই সন্ধ্যা থেকে শুরু করেছে।আর এখানে আদ্রও আছে।এতক্ষণ পরে শেষ হলো সবকিছু।)
রিসব-সব শেষ,,এবার চলো সবাই মিলে ডিনার করে নিই।আমার তো ভেরি ভেরি হাঙরি পেয়েছে।
বিহান-হ্যা,,চল।তুইতো খাওয়া ছাড়া কিছুই বুজিস না।
আদ্র-ডিনার করে তারাতারি ঘুমিয়ে পর সবাই।কাল আবার বোনুর বাড়িতে যেতে হবে।সব তো ম্যানেজ করতে হবে।
জিমান-এই আদ্র,, তোর না কালকে কনসার্ট আছে??আমরা তো প্রিপারেশন নিচ্ছি।
আদ্র-ক্যান্সেল করে দিয়েছি।আর তোরা ব্যন্ডগুলো ঠিক রাখিস।আর কয়েকটা কনসার্টের পরেই আমাদের ইন্ডিয়ান স্টেজ ফারপরমেন্সের জন্য ইনভাইট করা হবে।তখন কিন্তু আর বাংলার ১৮ কোটি নয়।পুরো ভারতের মন জয় করতে হবে আমার গান আর তোদের সাহায্য দিয়ে।মাথায় থাকে যেন।
সিমন-ভাই,,,তুইতো বললি আধুনিক ব্যন্ড আর পুরোনো দিনের ব্যন্ড একসাথ করবি।তা সেই নিয়ে কিছু ভাবলি?
আদ্র-তোরা সবাই আছিস তো।সব সামলে নেবো।আর এখন তো গানের দুনিয়ায় নতুন কন্ঠ এসে গেছে।বিহান রাওয়াত।তো আমরা না হয় এক সাথেই কয়েকটা ফারফম করবো।এতে আমারও পার্টনার হয়ে গেলো।আর বিহানেরও ফেইমাসিটি বারলো।
বিহান-আমি কি তোর সাথে একই তালে পারবো নাকি।কোথায় তুই,,আর কোথায় আমার গরু মার্কা কন্ঠ।
আদ্র-এখন চুপ কর।আর চল সবাই।পরের কথা পরে ভাবা যাবে।আপতত কালকের বিষয়টা হ্যান্ডেল করে নিই।
সায়মান-হুম,,চলো চলো সবাই।
আদ্র-ডল,,চলো। অনেক কাজ করে নিয়েছো।এবার উঠো।
সানি-উঠছি।
(এরপর সবাই নিচে গিয়ে একসাথে ডিনার করে যার যার মতো রুমে চলে গেলো।,,,,)