আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ২২

🟢

(বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই স্টেজে বধুবেসে বসে থাকা আয়ন্তিকে চোখে পরলো।আয়ন্তি বাড়ির সবার সাথে হাসি নিয়ে কথা বলছে।সবার সাথে কথা বলার পরে আয়ন্তি দেখলো তার ভাই আর বোন অরূপে ভাবী,, দাড়িয়ে আছে মুখে হাসি নিয়ে।তাই আয়ন্তি হাসি মুখে হাতের ইশারায় তাদের কাছে ডাকলো।হাটতে নিয়ে থেমে যায় আদ্র, তার একটা কল আসে।তাই সে সানিকে বললো...)

আদ্র-ডল,,তুমি যাও অন্তির কাছে।আমি আসছি

সানি-আচ্ছা।

(আদ্র চলে গেলো।সানি সামনে এগোতে গেলেই হাতে কারো স্পর্শ পেলো।তাকিয়ে দেখলো রাহিল তার হাত ধরে আয়ন্তির কাছে নিয়ে যাচ্ছে।সানি হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললো..)

সানি-আ্ আরে,,কি করছেন,, আমার হাত।

রাহিল-আরে বিয়াইন।এখন তো শুধু হাতটাই ধরেছি।এত হাইপার হচ্ছেন কেন??চলুন চলুন।ভাবী ডাকছে তো।

(সানি চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারলো না।রাহিলের এসব কান্ড দেখে আয়ন্তি একবার আদ্রের দিকে তাকালো।দেখলো সে উলটো দিকে ঘুরে ফোনে কথা বলছে।,,রাহিল সানিকে জোর করে আয়ন্তির কাছে নিয়ে এলো।একইরকম ভাবে হাত ধরে স্টেজে উঠাতে গেলো।তখনই আদ্র ফোন রেখে উলটো দিকে ঘুরলো।যা দেখলো তা দেখে আদ্রের চোখ থেকে গরম লাভা গলতে থাকলো।আয়ন্তি তা ঠিকই লক্ষ করেছে।তাই মুখে একটা মেকি হাসি দিয়ে সানির হাত ধরার বাহানায় রাহিলের থেকে ছাড়িয়ে নেয়। সে ঠিকই বুঝতে পারছে এখন কি হতে চলেছে।আদ্রের দিকে তাকাতেই দেখলো বিহান আদ্রকে কিছু একটা নিয়ে জোর করে অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছে।তা দেখে আয়ন্তি চোখ বন্ধ করে একটা জোরদমে নিঃশ্বাস ফেললো।আবার তাকাতেই দেখলো বিহান আদ্রকে নিতে নিতে আয়ন্তিকে চোখের ইশারায় বোঝাচ্ছে যে সব ঠিক আছে।,,,আয়ন্তি বুঝলো রাহিলের ব্যপারটা বিহানও লক্ষ করেছে।আয়ন্তি এবার সানির দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে বললো...)

আয়ন্তি-আমার বোনটা কেমন আছে??ভাইয়া ঠিক- ঠাক খেয়াল রাখছে তো??

সানি-ভালো আছি আপু।,, তুমি কেমন আছো??

আয়ন্তি-কি করে ভালো থাকি বলতো।তোদের ছেড়ে ভালো থাকা যায় নাকি??

সানি-এটাতো নিয়তি আপু।দেখো সব ঠিক হয়ে যাবে।

আয়ন্তি-হুম।আমার পিচ্চিবোনটা তো অনেক কিছু বুঝে দেখছি।এবার তো তোকেও বিয়ে দিতে হবে।

সানি-কি যে বলোনা আপু।আমি কি কখনো বিয়ে করবো নাকি??আমিতো সারাজীবন মামনি আর বাবাইয়ের কাছে থাকবো।

আয়ন্তি-তা থাকবি ঠিক।কিন্তু বিয়েতো করতেই হবে।

সানি-উহুম,,বিয়ে করলে তো চলে যেতে হবে।

আয়ন্তি-না,,ঐ বাড়িতে থেকেই বিয়ে করবি তুই।বুঝেছিস??

সানি-ছাড়ো তো ওসব।তোমাকে খুব মিষ্টি লাগছে আপু।

আয়ন্তি-তোর থেকে বেশি না।দেখ সবাই আমার থেকে বেশি তোকে দেখছে।

সানি-কি যে বলোনা আপু।তুমি বৌ,, তোমাকেই দেখছে সবাই।

আয়ন্তি-তবে যাই বল।আজ আমার বোনকে তো সাক্ষাত হুর লাগছে।

সানি-ধুর আপি।আমি আর থাকবোই না এখানে।তুমি আজ বেশি বেশি করছো।চলে যাচ্ছি।হুহ

আয়ন্তি-তা কোথায় যাচ্ছিস শুনি??

সানি-কোথায় আবার,,,তোমার ঐ পচা ভাইয়ের কাছে।

আয়ন্তি-বাআআবা,,আমার ভাইকে মনে ধরলো নাকি??যে সারাক্ষণ ওর সাথেই থাকিস??

সানি-আপু,,,হুহ,,আরি তোমার সাথে।

(বলেই মিছে মিছে রাগ দেখিয়ে নিচে নেমে আদ্রকে খুজতে লাগলো।এদিকে সানির এমন লজ্জা পেতে দেখে আয়ন্তি হেসেই দিলো।,,,,,,,)

(অনেকক্ষণ ধরে আদ্রকে খুজে না পেয়ে সানি একটু বিরক্ত হলো।তখন তার সাথে দেখা হয় রুসার সাথে।সে রুসাকে দাড় করিয়ে বললো...)

সানি-আপি,,উনি কোথায়??উনাকে কোথাও দেখেছো??

রুসা-উনি??এই উনিটা আবার কে(দুষ্টুমি করে)

সানি-আরে উনি আরকি।

রুসা-কে?তোর সায়মান ভাইয়া??নাকি বিহান ভাইয়া??

সানি-আরে না।কি করে বলি,, আরে উনি,, আ্ আদ্র ভ্ ভাইয়া।

(রুসা পেছন ফিরে হেসে দিলো সানির আদ্রকে ভাইয়া ডাকায়।তখন সে দেখলো বিহান আর আদ্র তাদের দিকেই আসছে।তা দেখে রুসা আদ্রকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললো..)

রুসা-আরে ব্রো এসে গেছিস??দেখ না পিচ্চি তোকে সেই কখন থেকে খুজছে।এই পিচ্চি।দেখ,,তোর আদ্র ভাইয়া এসে গেছে।

(একেই আদ্র রাহিলের ব্যবহারে রেগে আছে।তার উপর আরো রেগে গেলো এটা শুনে যে সানি তাকে ভাইয়া বললো।,,আদ্র বিয়ে বাড়িতে কোনো সিনক্রিয়েট করতে চাইছে না তাই মনে মনে বললো)

আদ্র-(তোমাকে তো আমি পরে দেখে নিচ্ছি ডল)

আদ্র-রুসা,,তোরা না খেয়ে এখনো ঘুরছিস কেন??চল খেয়ে নিবি চল।এরপরতো বেরোতে হবে।

রুসা-হ্যা,,চল।এই পিচ্চি আয়।

(এরপর সবাই মিলে খেতে গেলো।সানি লক্ষ করলো আদ্র কিছু একটা নিয়ে রেগে আছে।তার সাথে কথাও বলছে না।সানি নানা বাহানায় আদ্রের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না।,,,সব শেষে সবাই আবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো।এতটা সময় ধরে আদ্র সানির সাথে একটুও কথা বলেনি।গাড়িতে সেই আগের মতোই সবাই বসেছে।,,,কিছুক্ষণ পরে সানি দেখলো আদ্র তার কাধে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে পরেছে।সানি কিছুটা অবাক চোখে চেয়ে রইলো আদ্রের দিকে।কি বাচ্চা বাচ্চা লাগছে এই ঘুমন্ত অবস্থায় আদ্রকে।গাড়িতে সবাই আছে ভেবে সানি আদ্রের মাথাটা সরিয়ে নিতে গেলে...)

বিহান-পিচ্চি, থাক না ওভাবে।এটা ঐ বাংলার কারনে হচ্ছে।ওকে একটু ঘুমাতে দাও।নাহলে পরে ওর মাথা ব্যথা করবে।

(সানি আর সরালো না। ওভাবেই রয়ে গেলো।কিছুক্ষন পরে ঘুমের মধ্যেই আদ্র সানির কোমর পেচিয়ে ধরলো। যেন সানি কোনো কোলবালিশ।সানি কিছুটা ইতস্তত করলেও সরালো না আদ্রকে।সে চায়না তার জন্য আদ্রের মাথা ব্যথা করুক।,,,,বাড়ির কিছুটা কাছে আসতেই আদ্রের ঘুম ভেঙে যায়।চোখ খুলতেই নিজেকে সানির বুকে আবিষ্কার করে।অনুভব করতে থাকে তার পুতুলের গায়ের সেই মিষ্টি গ্রানটা।যা আদ্রকে বার বার মোহীত করে।আরেকটু গভীর ভাবে গ্রানটা নেওয়ার জন্য আদ্র নিজের মুখ সানির গায়ের দিকে ঘুরিয়ে নেয়।এতেই যেন সানির পুরো শরীর শিহরণ দিয়ে উঠলো।তবুও কিছু না বলে সানি আদ্রের মাথার চুলগুলোতে হাত বোলাতে লাগলো।,,,হঠাৎ কিছু একটা মনে আসতেই আদ্র সানিকে সম্পুর্ন ছেড়ে দিয়ে নিজের সীটে ঠিক মতো হেলান দিয়ে বসে।,,এতে সানির কিছুটা খারাপ লাগলো।তবুও সবার সামনে কিছুই বললো না।,,,)

শারমায়া-পিচ্চি,,তোর আদ্র ভাইয়া তো উঠে গেলো।এবার তুই একটু রেস্ট নিয়ে নে।শরীর ঠিক আছে তো?

সানি-হুম

রুসা-তা পিচ্চি।আজতো অনেক কিছুই দেখলাম।

সানি-মানে??

রুসা-না মানে,,অন্তি আপির দেবরতো তুই বলতে পাগল হয়েছিলো।তাই না??

সানি-এসব কি বলছো??

শারমায়া-ও তো ঠিকই বলছে পিচ্চি।দেখিসনি তোর সাথে কত কথা বললো।তুইও নিশ্চয়ই ওকে পছন্দ করে ফেলেছিস??তাইতো ওর হাত ধরে....

(আদ্র আর সহ্য না করতে পেরে বলে উঠলো...)

আদ্র-এনাফ।দেখছিস না আমি ঘুমাচ্ছি।এত কথা বলার কি আছে??

(এতেই সবাই চুপ।,,,কিছুক্ষণ পরেই সবাই বাড়িতে এসে পৌছালো।গাড়ি থেকে নেমেই আদ্র হনহন করে নিজের রুমে চলে গেলো।এরপর সবাই এক এক করে নিজেদের রুমে গেলো।সানি রুমে এসে জুতো খুলে সব জুয়েলারি খুলে নিলো।তারপর গায়ের ডোমেন জ্যাকেটটাও খুললো।তখনই কারোর পায়ের আওয়াজ শুনে সানি পেছনে তাকালো।দেখলো আদ্র আসছে ঝড়ের বেগে।কিছু বুঝে ওঠার আগেই আদ্র সানির হাত ধরে টেনে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলো।বড় ওয়াশরুমের ভেতরে থাকা শাওয়ার কর্নার, যেটা পুরোটাই একটা কাচের তৈরি ঘরের মতো।না আছে কোনো ফুটো আর না আছে বিন্দু পরিমান বাতাস ঢুকার জায়গা।তবে এর রয়েছে একটা লকিং দরজা।আদ্র সানিকে নিয়ে সেই ঘরেই গেলো।তারপর এক ঝটকা মেরে সানির হাত ছাড়িয়ে নিলো।তারপর রাগের মাথায় পেছনে থাকা টেপটা অন করে দিলো।রাগ এতটাই বেশি যে টেপের প্যাচটাই খুলে নিচে পরে গেছে সে খেয়ালও নেই।সে নিজের মতোই গর্জন করে বলে উঠলো...)

আদ্র-হাউ ডেয়ার ইউ টু ক্লোজ উইথ দা রাসকেল??

(সানি ভয়ে কিছুটা কেপে উঠলো।)

আদ্র-তোমার সাহস কি করে হলো ঐ ছেলেটার হাত ধরার??আর কোন কারনে তুমি আমাকে ভাইয়া ডাকো??কিভাবে আমি তোমার ভাইয়া হই??যখনই একটা ছেলে দেখেছো,,ওমনি তার পেছনে লেগে গেলে।তার সাথে সাথে আমিও হয়ে গেলাম সো কল্ড ভাইয়া।কোন অধিকারে ও তোমাকে টাচ করলো??বলো??তোমাকে শুধু আমি টাচ করার অধিকার রাখি।আর কেউ না।আর কেউ না,ডেমেড।এই তোমাকে সে ছুয়েছিলো তাই না?আজ তুমি সারারাত এখানে থাকবে।এই অন্যের সাথে মিশা শরীরকে আবার পবিত্র করবে।আর এটাই হবে তোমার শাস্তি।

সানি-আরে, আ্ আপনি এমন করছে...

আদ্র-যাস্ট সেটআপ।আর একটা কথাও না।থাকো তুমি সারারাত এখানে।

(বলেই হন হন করে বাইরে এসে ঘরের লকটা করে চলে গেলো ওয়াশরুম থেকে।এদিকে আদ্রের এমন ব্যবহারে সানি ভয়+অভিমান নিয়ে কাদতে শুরু করলো।আর আনমনেই বলতে লাগলো...)

সানি-আমি কি করেছি,,,কেন উনি আমার সাথে এমন ব্যবহার করে।কেন, কেন,কেন করে এমন।

(এসব বলতে বলতেই বসে পরে সে।হাটুতে মুখ গুজে কাদতে লাগে।,,,,)

(প্রায় ১৫ মিনিট পর....।হঠাৎ সানি অনুমান করলো যে তার হাটুতে পানি।মুখ তুলে তাকাতেই দেখলো,কাচের রুমটা পুরো পানি ভরতি হয়ে যাচ্ছে।এতক্ষণ ধরে পানির টেপ অন ছিলো।তাই এরকম হয়েছে।আর দরজা লক থাকার কারনে পানি গুলো বাইরে যেতে পারছে না।এমনকি অন্য কোনো উপায়ও নেই যে পানিগুলো বের হবে।,,সানি তারাহুরো করে উঠে পানির টেপ বন্ধ করতে নিলো।একি!!টেপটা যে খুলে পরে গেছে।বন্ধ করার কোনো উপায়ই নেই।,,,)

সানি-এবার কি করবো আমি৷,,, কিকরে বের হবো।পানিগুলো তো বেরেই যাচ্ছে।কি হবে এবার(ভয়ে ভয়ে)

(কোনো উপায় না পেয়ে সানি দৌরে দরজার কাছে গেলো।অনেকক্ষন টানা হিচরা করার পরেও খুললো না দরজাটা।কারন আদ্র বাইরে থেকে লক করে গেছে।ব্যাকুল হয়ে সানি দরজায় এবং গ্লাসে বাড়ি দিতে লাগলো...)

সানি-কেউ আছো??এখানে একটু আসো প্লিজ।কেউ শুনতে পাচ্ছো??দরজাটা খুলে দাও না।

(অনেকক্ষণ ডাকার পরেও এলো না কেউ।ধীরে ধীরে পানি বারতেই লাগলো।উঠতে উঠতে প্রায় সানির বুক সমান পানি এসে পৌছালো।অতিরিক্ত ভয় পেয়ে যায় সানি।আরো জোরে জোরে দরজা ধাক্কায় এবং ডাকতে থাকে।কিন্তু তার ডাক কারোর কান পর্যন্ত পৌছালোই না।পানি তার নিজ গতিতে বেরেই চললো।।কিছুক্ষণ পরেই পানি সানিকে নিজের মধ্যে ডুবিয়ে নিলো।অনেক ছটফট করছে সানি এর থেকে বাচার জন্য।কিন্তু হায়,,পারলো না সে।ডুবে যাওয়ার কারনে অনেক পানিই তার পেটে চলে যায়।ধীরে ধীরে একসময় সানির শ্বাস আটকে যেতে থাকে।নিস্তেজ হয়ে চোখ বুঝে নিলো সে।.....)

*********

(এদিকে ড্রয়িংরুমে আড্ডা জুরে দিলো সবাই।সানি আসেনি।রুসা ডাকতে গেলে আরিফা বলে উঠে...)

আরিফা-থাক,,,মেয়েটা বোধহয় টায়ার্ড হয়ে পরেছে।এখন আর ডাকিস না।একটু রেস্ট নিক।

রুসা-আচ্ছা চাচি।

(প্রায় ৪৫ মিনিট পরে বাইরে থেকে আদ্র এসে ড্রয়িংরুমে রিসবের পাশে সোফায় গা এলিয়ে দিলো।,,,)

রিসব-কি ব্রো, এখনো হ্যাংওভার হচ্ছে??

আদ্র-ওসব আমার জন্য না।

শারমায়া-তাই নাকি।তা গাড়িতে তো ঠিকই পিচ্চিকে জরিয়ে ধরে বেহুসের মতো ঘুমাচ্ছিলি।

(শারমায়ার কথা শুনে সবাই হেসে দিলো।সফিক বলে উঠলো...)

সফিক-উহুম,,তোরা গল্প কর।আমি গেলাম না হয়।

(বলেই সফিক উঠে রুমে চলে গেলো।)

আরিফা-আমিও গেলাম।তোরা তোদের মতো গল্প কর।আমার এখানে থাকা উচিৎ হবে না।

(সেও চলে গেলো।সবার বুঝতে বাকি রইলো না তারা কেন চলে গেলো।এখন পুরো ড্রয়িংরুম জুরে শুধু ইয়াংজেনারেশন।)

আদ্র-শামু,,,তুই দেখছি খুব বেশিই বেড়ে গেলি।ব্যবস্থা করতে হবে।

সায়মান-ও কি ভুল বললো শুনি??আর তুই লজ্জা পাচ্ছিস কেন??আফটার অল তোরইতো বউ হবে তাই না??জরিয়ে ধরে ঘুমাতেই পারিস।

আদ্র-থামবি তোরা??

রুসা-তবে যাই-ই বল তোরা।আজ কিন্তু পিচ্চিকে অনেক কনফিউসড করে দিয়েছিলাম আমরা।

সারমায়া-তোরা জানিস??আমি কতো কায়দা করে ওকে দিয়ে আদ্র ভাইয়া ডাকিয়েছি??ওতো বলতেই চাইছিলো না।হাহাহা

(শারমায়ার কথা শুনে আদ্র চমকে তাকালো তার দিকে।)

আদ্র-মানে!!!ডল ইচ্ছে করে আমাকে ভাইয়া ডাকেনি??

জিমান-আরে না,,,শামুই ওকে কায়দা করে ডাকিয়েছে।

আদ্র-(তার মানে আমার ধারনা ভুল।আমি আমার পুতুলকে শুধু শুধু ভাইয়া ডাকার অপরাধের শিকার করলাম।)(মনে মনে)

বিহান-আর ঐ ছেলেটা।,,কি যেন নাম,,ও হ্যা,,রাহিল।অন্তির দেবর।ছেলেটা কিন্তু অনেক লেগেছিলো পিচ্চির পেছনে।তখনতো জোর করে হাতও ধরেছিলো।বেচারি পিচ্চি ছাড়াতে না পেরে বার বার তার বর মহাশয়, মানে এই আদ্রের দিকে তাকাচ্ছিলো।কিন্তু এতো দেখেইনি,,অন্য দিকে ফিরে কি করছিলো কে জানে??

আদ্র-ওয়াট!!!ডল ইচ্ছে করে ঐ ছেলেটার হাত ধরেনি??

বিহান-নাহ,,ও ই জোর করে ধরেছিলো।

আদ্র-ডেমিড,,এ কথাটা তখন কেন বললি না তোরা।

বিহান-তখন দেখলাম,তুই রনচন্ডী রুপ ধারন করেছিস।তাই তোকে বলিনি,আর ওদের কাছে যেতেও দিই নি।

আদ্র-তোদের একটা ভুলের জন্য,,আমি আমার পুতুলকে ভুল বুঝলাম।

রুসা-মানে??

আদ্র-আমি ঠিকই বলছি।ঐ ছেলেটার জন্য আমি ওকে ভুল বুঝলাম।আর ওকে শাস্তি.....

(এটুকু বলতেই আদ্রের মনে পরে যায় সানির কথা।)

সায়মান-শাস্তি??কি রে বল??

আদ্র-আমার পুতুল,,,,

(বলেই উঠে উত্তেজিত হয়ে চলে গেলো সানির রুমের দিকে।,,আদ্রকে এই অবস্থায় দেখে তার পিছু পিছু বিহান, রিসব,শারমায়াও গেলো।,,,আদ্র সানির রুমের দরজা খুলতে লাগলো...)

বিহান-কিরে কি হলো তোর??এমন করছিস কেন??

আদ্র-আমার পুতুলের ঠান্ডা লেগে যাবে।পুরো ভিজে আছে ও।আমাকে যেতে হবে।

(বলতে বলতে আদ্র দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো।তার সাথে সাথে বাকি সবাইও।এবার আদ্র ওয়াশরুমের দরজা খুলতে লাগলো....)

শারমায়া-এই,,,ভিজে আছে মানে কি??ও এতক্ষণ ভিজে থাকবে কেন??

আদ্র-আমি ওকে এখানে আটকে রেখেছি।তাই।ওকে বের করতে হবে।নাহলে ও কষ্ট পাবে।

(বলতে বলতে ওয়াশরুমের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো সে।সেই রুমটার দিকে তাকাতেই আদ্রের যেন দম আটকে গেলো।মূহুর্তের মধ্যেই তার যেন হার্ট বিট করা বন্ধ হয়ে গেলো।অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে সামনের দিকে।যা দেখছে তা কল্পনাও করতে পারছে না সে।সবাই অবাক এমন কিছু দেখে।সব ভাবনা মাথা থেকে বিদায় নিচ্ছে আদ্রের।)

আদ্র-এ্ এ কি দ্ দেখছি আমি।নাহ,,এটা হতে পারে না।ক্ কখনোই না।(মনে মনে)

(মাথাটা হঠাৎ চক্কর দিয়ে উঠলো আদ্রের। ঘুরে পেছনে পরে যেতে নিলেই বিহান তাকে সামলে ধরে।)

বিহান-আদ্র,,কি হলো তোর।নিজেকে সামলা।

(হুস আসতেই আবার ঠিক মতো দাড়ালো সে।,,,,সবাই দেখছে যে ঐ কাচের রুমটার ভেতরে পুরে পানি ভরতি হয়ে আছে।আর তার মধ্যেই নির্জীব হয়ে অর্ধডুবিত অবস্থায় ভাসছে সানি।নেই কোনো ছটপট,নেই কোনো কথা।,,,সবার মনে এখন একটাই ভাবনা আসছে...)

""" তবে কি সানি আর নেই তাদের মাঝে??"""

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ২২