পর্ব ১৮
(রুমে ঢুকতেই আদ্র দেখলো সানি খাটের উপর কাচুমাচু হয়ে বালিশে মুখ গুজে কাদছে।আর কিছুক্ষণ পর পর কেপে কেপে উঠছে।,,,আদ্র তারাতাড়ি সানির কাছে গিয়ে সানিকে ডেকে বললো...)
আদ্র-ডল,,,কি হলো তোমার??কাদছো কেন তুমি??বলো আমাকে।
(কারোর কন্ঠের আওয়াজ পেয়ে সানি এক ঝটকায় উঠে আদ্রের গলা জরিয়ে ধরলো শক্ত করে।এতক্ষণ নিবিরে কান্না করলেও এবার জোরে কেদে দিলো।,,,, আদ্রও সানিকে শান্তনা দিতে সেও আগলে নিলো তাকে।)
আদ্র -কি হয়েছে আমার পুতুলরানির??,,,আমাকে বলবে না??
সানি-ও্ ওরা আম্ আমাকে ন্ নিয়ে যাব্ বে আবার।
(ফোফাতে ফোফাতে বললো সানি।কান্নার জন্য ঠিক করে কথাও বলতে পারছে না।,,,,)
আদ্র-কারা নিয়ে যাবে তোমাকে???কেউ নিবে না।আমি নিতেই দেবো না।কেউ নেই তো এখানে ডল।দেখো,,তুমি একদম ঠিক আছো।
সানি-ন্ না,,আমি দ্ দেখেছি।ও্ ওরা এস্ এসেছে।
(আদ্র বুঝলো সানি হয়তো তখনকার ব্যপারটা নিয়ে কোনো দুঃস্বপ্ন দেখেছে।,,,তাই সে সানিকে থামাতে তার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললো..)
আদ্র-কেউ নেই ডল,,,এখানে আমি আর তুমি ছাড়া কেউ নেই।তুমি শান্ত হও।দেখো,,,তুমি ভুল দেখেছো।
(আদ্রের কথায় সানি কিছুটা শান্ত হলো।কান্না থামালো সে।অনেকক্ষণ পরে আস্তে আস্তে আদ্রকে ছেড়ে বসলো সানি।এবার আদ্র সানির চোখ মুঝে দিতে দিতে মুচকি হেসে বলে..)
আদ্র -এই তো আমার ডলটা।চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে।এবার কান্না থামাও।আর তুমি ঘুমাও।
সানি-না,,আমি ঘুমাবো না।তাহলে আপনি আবার চলে যাবেন।
আদ্র-নারে বাবা,,এবার আর যাবোনা।এই প্রমিস করছি।
সানি-কিন্তু আমারতো আর ঘুম আসছে না।
আদ্র-ঘুম আসছে না?
সানি-উহুম,,,একটুও না।
আদ্র-তাহলে কি করবে এখন???
সানি-তখন থেকে এই সব ভারি ভারি শারী পরে আছি।আমি আগে একটু ফ্রেশ হতে চাই।
আদ্র-আচ্ছা।তাহলে তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো।আনি আছি এখানে কেমন।
(বলেই আদ্র কাবার্ড থেকে একটা প্লাজো,লিলেন কাপরের একটা টপস এনে সানির হাতে দিলো।)
আদ্র-যাও,,,গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো।
সানি-আ্ আপনি কোথাও য্ যাবেন না তো??
আদ্র-উহুম,,আমি এখানেই আছি।তুমি যাও ফ্রেশ হয়ে এসো।
(বলেই আদ্র সানিকে ওয়াশরুম পর্যন্ত পৌছে দিলো।তারপর এসে খাটে বসলো সে।হঠাৎ তার চোখ যায় সানির স্টাডি টেবিলের উপর।কিছু একটা ভেবে আদ্র সেখানে যায়।এরপর সে সানির নোটস গুলো দেখতে থাকে।সে সানির ফিজিক্সের নোট খাতাটা হাতে নিয়ে প্রথম পেজ খুলতেই বড় বড় করে হেডলাইনটা দেখে বলে উঠলো...)
আদ্র-চলতড়িৎ!!!কিন্তু স্কুলে তো এখনো এই অধ্যায় টাচও করা হয় নি।তাহলে ডল,এই অধ্যায় নিয়ে কেন বসলো।,,,,
(আদ্র এক এক পাতা উলটাতে থাকে,,।সে দেখলো ফিজিক্সের প্রায় অধ্যায়ই সানির কমপ্লিট।এটা দেখে আদ্র অনেকটাই অবাক হলো।কারন সানির কোনো প্রাইভেট টিউটরও নেই যে এগুলা পড়াবে।তার মানে সানি এগুলো নিজেই করেছে।,,,,,,,, এসব ভাবনার মাঝেই ওয়াশরুমের দরজা খোলার আওয়াজ এলো।আদ্র তাকাতেই দেখলো সানি চেন্জ করে নিয়েছে।আদ্র ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার পুতুলের দিকে।সানিকে দেখতে এখন মনে হচ্ছে কোনো এক হুর। আদ্রের ঘোর কাটতেই দেখলো সানি ড্রেসিং টেবিলের সামনে দারিয়ে আছে বিরক্তি নিয়ে।তার মাথায় হাত দিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করছে।আদ্র উঠে তার পেছনে গিয়ে দাড়ালো...)
আদ্র-কি হলো আমার ডলটার??এত বিরক্ত কি নিয়ে??
সানি-দেখুন না। চুল থেকে এই ফুলগুলো খুলতেই পারছি না।কিভাবে যে লাগিয়ে দিলো।উহপ।
(আদ্র দেখলো সানির মাথায় এখনো সেই খোপা করা রয়েছে।যার চারদিকে লাল গোলাপ দিয়ে কাবার করা আছে।,,,আর সেটাই সানি খুলতে পারছে না।আদ্র তার মাথার ফুল গুলো খুলতে লাগলো...)
আদ্র-আমি দোখছি ডল।তুমি হাত নামাও।,,,
সানি-আচ্ছা।
আদ্র-লোকেরা কারোর মাথায় এরকম ফুল লাগিয়ে দেয়।আর আমার কপাল দেখো৷, আমি কিনা ফুল খুলে দিচ্ছি(দুষ্টুমি করে)
সানি-ম্ মানে??বুঝলাম না।
আদ্র-আর বুঝতে হবে না।খোলা হয়ে গেছে।
(বলেই আদ্র চিরুনি নিয়ে সানির চুল গুলো স্বযত্নে বেধে দিতে লাগলো।সানি বাধা দিলো না।কারন মাঝে মাঝে আদ্র এরকম তার চুল বেধে দেয়।)
সানি-একটা কথা বলবো??
আদ্র-বলো।
সানি-আপনি এভাবে চুল বাধা শিখলেন কিভাবে???
আদ্র-কেউ একজনের জন্য শিখে নিয়েছি।যার জন্য আমি সব করতে পারি।
সানি-ওহ,,,সে আপনার গার্লফ্রেন্ড তাইনা???আচ্ছা নাম কি আপুর???
(সানির কথা শুনে আদ্রের মাথায় বাজ পরলো।কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে দুষ্টুমি করে বলে উঠলো...)
আদ্র-হ্যা,,,শিখেছিতো আমার গার্লফ্রেন্ডের জন্যই।যে আর কয়েক বছর পর আমার ওয়াইফি হয়ে যাবে।
(সানি অবাক হয়ে বললো....)
সানি-কয়েক বছর!!!,,,,,এটা কেন??বছর কেন??কিছুদিন পরেই তো করতে পারেন।
আদ্র-(বাহ,,আমার পুতুলটার দেখছি বিয়ে করার খুব শখ।সবকিছুতেই এডভান্স) (মনে মনে)
(আদ্র এবার সানির কাধে হাত দিয়ে নিজের দিকে ঘোরালো।)
আদ্র-তাই??
সানি-হ্যা,,,তাই
আদ্র-আচ্ছা,,,মনে করো কিছুদিন পরে তোমার বিয়ে।তুমি কি এটা মানতে পারবে??
সানি-আমার কেন বিয়ে হবে কিছুদিন পরে।আর আমার তো এখনো বিয়ের বয়সই হয়নি।আর আমি তো কখনো বিয়েই করবো না।তাই না???
আদ্র-আমার গার্লফ্রেন্ডও তোমার মতোই এখনো পিচ্ছি।তাই এখন বিয়ে করা যাবে না।
সানি-তাই? আমরা কি সেম ক্লাসে পরি?
আদ্র-হুম তো।
সানি-তাহলে নাম বলুন না ওর।
আদ্র-নাম বলবো???
সানি-হ্যা,,,বলুন?
আদ্র-তার নাম হলো,,,,,,,""""পুতুল"""",,,,,,,,
সানি-পুতুল??
আদ্র-হ্যা,,,আমার পুতুলরানি।
সানি-এই নাম টা কোথায় যেন শুনেছি।আচ্ছা,,আমি কি তাকে চিনি?
আদ্র-হ্যা চিনোতো।খুব ভালো করে চিনো।
সানি-তাহলে বলুন কে উনি?
আদ্র-তুমি নিজেই খুজে নিও।এখন চলোতো এভাবে আর দাড়িয়ে থাকতে হবে না।
(বলেই আদ্র সানিকে নিয়ে খাটে বসিয়ে দিলো।তারপর সে নিজের খাটের কার্নিসে হেলান দিয়ে বসলো।সানিকে টেনে এনে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলো।সানিও আদ্রের বুকে মাথা রাখলো।)
আদ্র-তো এখন কি একটু ঘুমানো যায়??রাত ১ঃ৩০ বাজলো তো।
সানি-না,,আমিতো আজ সেই কখন থেকে ঘুমাচ্ছি।আর ঘুমালে ঐ বাজেলোক গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে
আদ্র-আচ্ছা,,তাহলে এভাবেই থাকো।ডল,,,ওরা তোমার সাথে এমন করলো কেন??
সানি-আমি যে আপনার সাথে ঝগড়া করেছিলাম তার জন্যই আমাকে শাস্তি দিয়েছিলো।কিন্তু এমন শাস্তি কেন??ওরাতো আমাকে টিচারদের মতো মারতে পারতো।তা না,,,এভাবে কাছে আসছিলো কেন??আর আমি তো তখন......
(আর বলতে পারলো না সানি।,,)
আদ্র-এখন যদি ওরা তোমার কাছে ক্ষমাচায় তাহলে তুমি কি করবে??
সানি-যানিনা।আচ্ছা,,,একটা কথা বলবো??
আদ্র-হুম বলো।
সানি-সবাই আমাকে ঐ নামে ডাকে কেন??কি যেন নামটা,,হ্যা,,সানি লিওন।কেন ডাকে বলুন তো??কে এই সানিলিওন??
আদ্র-তুমি চিনোনা একে??
সানি-নাতো??
আদ্র-ও হলো বলিউডের একজন স্টার।যে তোমার মতোই হট।
সানি-হট???হট মানে তো গরম।আমি তো একদম ঠিক আছি।আমার তো জ্বর হয়নি।দেখুন।
(বলপই আদ্রের হাত নিয়ে নিজের কপালে রাখলো)
আদ্র-(আল্লাহ,,এই মেয়ে হট কি এটাই বোঝেনা??কত মাসুম আমার পুতুলটা।)(মনে মনে)
আদ্র-আরে এই হট সেই হট না।
সানি-তাহলে??
আদ্র-তুমি বুঝবে না।এখন বলো তো এই নামটা কি তোমার ভালো লাগে??
সানি-মোটেও না।খুব বাজে একটা নাম।
আদ্র-আচ্ছা আর কেউ এই নামে তোমাকে ডাকবে না।
সানি-সত্যিই!!!আপনি আমার নাম চেঞ্জ করে দেবেন??
আদ্র-হ্যা।নাহলে তো এই নামে ডাকবে তোমাকে সবাই।
সানি-হ্যা,,আমিও রাখবো না এই সানি নাম টা।
আদ্র-আচ্ছা ঠিক আছে।এবার চোখ বন্ধ করো। আমি ঘুম পারিয়ে দিই।
সানি-আপনার ঘুম পাচ্ছে??
আদ্র-তাতো একটু পাচ্ছেই।
(সানি একগাল হেসে বললো...)
সানি-আমি আপনাকে ঘুম পারিয়ে দিই??
আদ্র-তুমি আমায় ঘুম পারাবে??(হেসে দিয়ে)
সানি-হ্যা,,,এবার আসুন তো এইখানটায় মাথা রাখুন।
(সানি হাটু ভাজ করে বসে বললো।আদ্রও মুচকি হেসে তার কোলে মাথা রেখে শুলো।সানি পরমযত্নে আদ্রের সিল্কিচুল গুলোতে হাত বোলাতে লাগলো।আর এক হাত আদ্রের কাধে রাখলো।,,,,,,আদ্র মুগ্ধ নয়নে তার ছোট্ট পুতুলটাকে দেখছে।যে কিনা এখন আদ্রকেই বাচ্চাদের মতো করে ঘুম পারাচ্ছে।,,,,)
সানি-কি দেখছেন এভাবে???চোখ বন্ধ করুন,,তাহলেই তো আরাম পাবেন।
আদ্র-আমি তো এভাবেই আরাম পাচ্ছি মাই ডল।
সানি-একি কথা।চোখ খুলে রেখে কি কেউ ঘুমাতে পারে??
আদ্র-আমিতো পারি।দেখো,,এই যে আমি চোখ খুলে রেখেছি।কিছুক্ষণ পরে আমি ঘুমিয়ে পরবো।
(তখনই দরজায় কেউ নক করে বললো...)
জিমান-আমি কি একটু আসতে পারি আদ্র??
(জিমানকে দেখেই সানি আদ্রের কাধে রাখা হাত দিয়ে আদ্রকে আকড়ে ধরে।এটা অনুভব করতেই আদ্র হাত দিয়ে সানিকে আস্বস্ত করে...)
আদ্র-এত রাতে তুই এখানে?ভেতরে আয়।
(জিমান ভেতরে ঢুকলো।সানির দিকেএকবার অপরাধী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নিলো।,,,)
জিমান-আসলে ওর কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি।আমি জানি আমি যা করেছি তা ভুল।তাই আমি সত্যিই লজ্জিত। সানি,,, পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও বোন।
আদ্র-ডল,,,তুমি কি ভাইয়াটাকে ক্ষমা করতে চাও।ওরা আর কখনো এমন করবে না।দেখে নিও।আর বাকিদের মতো ওরাও তোমাকে বোন মানবে।ক্ষমা করে দাও ওদের।
জিমান-তুমি এই ভাবে ভয় পাচ্ছো কেন।আমি সত্যিই আর কিছু করছি না।
সানি-আ্ আপনি সত্যি বলছেন তো??
জিমান-হ্যা বোন আমি সত্যি বলছি।
সানি-ঠ্ ঠিক আছে।
আদ্র-নে ডল তোকে ক্ষমা করে দিয়েছে।তা এত রাতে,,, এখনো ঘুমাসনি কেন তুই??
জিমান-এমনিই,,,দেখলাম তোদের রুমের লাইট জলছে।তাই এখনই এলাম।আমি এখন যাই।
আদ্র-আচ্ছা,,,
(জিমান সানিকে আবার সরি বলে বেরিয়ে গেলো।এরপর সানি আবার আদ্রকে ঘুম পারিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করলো।কিন্তু আদ্রের ঘুম আসার আগেই সানি ঘুমিয়ে পরলো।আদ্র তাকে ঠিক করে শুইয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।তখন ভোর ৪টা প্রায়।সে চায়না তাকে আর ডল কে নিয়ে কেউ কোনো বাজে কিছু ভাবুক।তাই সে এতরাত পর্যন্ত সানির রুমে থাকলেও দরজা খুলেই রেখেছে।,,,)