আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ১৩

🟢

(সবাই নাস্তা করতে বসেছে।আজ এখানে রুসার বড়বোন রেশমিও আছে।তার সাথে আছে তার হাসবেন্ড আতিস।আর তার মেয়ে রায়াত।,,,সবাই এখানে থাকলেও সানি নেই।আর নেই রেশমির তিন বছরের মেয়ে রায়াত।,,,,)

আদ্র-ডল কোথায় মাম্মাম??

আরিফা-মামনি তো সেই যে রুমে গেলো এখনো এলো না।,,

আদ্র-নাস্তা করেনি ও??

আয়শা-না,,,,আমি গিয়ে দিয়ে আসবো না হয়।

রুসা-হয়তো ও এখানে আসতে চাইছে না।

আদ্র-তোমরা খাও৷ আমি ওকে নিয়ে আসছি।

(বলেই আদ্র সানির রুমে গেলো।,,,,রুমে দেখলো সানি নেই।হঠাৎ আদ্র শুনতে পেলো বারান্দা থেকে কারো হাসির খিলখিল আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।আদ্র ভাবলো...)

আদ্র-কতদিন পর তোমার এই হাসির আওয়াজ আমি শুনতে পাচ্ছি পুতুল।আমার জন্যই এই হাসিটা বিলিন হয়ে গেছিলো।কিন্তু কি নিয়ে ডল হাসছে??আর ওতো তেমন বারান্দায় যায় না।তাহলে আজ বারান্দায় কি করছে??(মনেমনে)

(এসব ভেবেই আদ্র বারান্দার দিকে এগোলো।দরজার সামনে আসতেই দেখলো সানি বেলকানির দোলনায় বসে দোল খাচ্ছে।তার কোলে ছোট্ট রায়াত।,,,দুজনেই হাসছে।,,,আদ্রকে দেখে রায়াত তুতলানো গলায় বললো..)

রায়াত-মামাই,,তুমিও এসেছো??দেখ,,,এই মিম্মিটা কত্ত ভালো।আমাকে কত্ত কত্ত আদর দিচ্ছে।,,,সবার থেকে বেশি।

আদ্র-তাই নাকি রায়াতমনি??,,তা তোমার এই মিম্মিকে ভালো লেগেছে??

রায়াত-হ্যাতো,,,মিম্মিকে আমার এত্ত এত্ত এত্ত ভালো লেগেছে।(দুহাত দুদিকে প্রসারিত করে)

আদ্র-তাই???তোমার মিম্মিকে সবার ভালো লাগে।যেমন এই দেখো,,তোমার মামাইয়ের ও ভালো লাগে।এবার কি করার বলতো??

রায়াত-লাগবেই তো।আমার মিম্মিতাহ তো এত্ত এত্তগুলো কিউট।,,মাম্মা আমায় কি যেন বলে??উমমম

(গালে এক আঙ্গুল দিয়ে চিন্তা করার মতো করে বললো।৷,, এরপর হাসি মুখে বললো..)

রায়াত-গ্যা,,,মাম্মা আমায় বলে আমি নাকি কিউটের ডিব্বা।এখন দেখো।আমার মিম্মিও আমার মতো কিউটের ডিব্বা।তাকে তো সবারই ভালো লাগবে।

আদ্র-কিন্তু তোমার মামাইয়ের যে একটু বেশিই ভালো লেগেছে??

রায়াত-তাই??তাহলে কি করা যায়??উমমম,,তুমি বরং,,,আমার মিম্মিকে তোমার কাছে রেখে দাও।যেমন পাপা আমার মাম্মাকে রাখে।ঠিক তেমন।পাপা বলে সে নাকি আমার মাম্মাকে অনেক ভালো লাগে।তাই মাম্মাকে তসর নিজের কাছে রেখেছে।তেমনি তুমিও রেখে দাও মিম্মিকে নিজের কাছে।

(রায়াতের কথা শুনে আদ্র আড়চোখে সানির দিকে তাকায়।রায়াতের ছোট্ট মস্তিষ্কের এই কথাটা আদ্র যে ভাবে নিয়েছে সানির তা নিয়ে বিন্দু মাত্রও ভাবান্তর নেই।সে রায়াতের কথাকে হাসির ছলেই চালিয়ে দিচ্ছে।,,,)

আদ্র-তাই,, আচ্ছা,,,রাখবো আমার কাছে তোমার মিম্মিকে।এখন বলো তুমি কি খেয়েছো??

রায়াত-উমমম,,একটু আগে খেয়েছি তো।তবে এখন আবার খিদে পেয়েছে।

আদ্র-আচ্ছা।তোমার মিম্মি খেয়েছে??

রায়াত-মিম্মি,,,,তুমি খেয়েছো???

সানি-না,,ম্ মানে হ্যা,,হ্যাতো সোনা।

আদ্র-দেখ রায়াতমনি।তোমার মিম্মি কথা আটকাচ্ছে।তার মানে কি রায়াতমনি???

রায়াত-এই,, যে মিম্মি মিথ্যা বলছে।

(এদের মামা ভাগ্নের কথায় সানি বোকা বনে গেলো।এটা কি করে হলো??)

রায়াত-মিম্মি, তুমি না খেয়েও বলছো খেয়েছো???তোমাকেও কি ঐ পচা পচা মিল্ক খাওয়ায় যে তুমি খেতে চাওয়া???আচ্ছা।আমি ওদের বকে দেবো।বলবো তোমাকে এ মিল্ক যাতে না দেয়।তোমাকে অন্নেক ইয়ামি খাবার দিতে বলবো।এবার খাবে তো??

(রায়াতের কথায় সানি এবার ফিক করে হেসে দিলো।,,,)

আদ্র-খাবে না কেন??আলবাদ খাবে।,,,রায়াতমনি চলোতো তোমার মিম্মিকে নিয়ে।

সানি-আপনারা যান না,,আমি পরে...

আদ্র-সমস্যা কি তোমার ডল??

সানি-না,,এমনিই।ওখানে তো অনেকেই আছে।

আদ্র-তো কি হয়েছে??

সানি-আমি চাই না ওরা কেউ আমাকে দেখুক।ভাবুনতো।আমাকে যদি জিজ্ঞেস করে আমি কে।তাহলে তো বলতেই হবে যে আমি এই বাড়ির আশ্রিতা।তখন তো আপনাদেরই মুখ ছোট হবে তাই না???

আদ্র-কে বলেছে এসব তোমায়??

সানি-না না,,, আমি নিজেই বলছি।

আদ্র-এসব বাদ দাও মাথা থেকে।আর তুমি আশ্রীতা হতে যাবে কেন??তুমি তো এই ফ্যমিলিরই একজন মেমবার।আর কেউ জিজ্ঞেস করলে এটাই বলবে।,,ওকে।।।এখন চলো,,,আর একটা কথা বাড়াবে আমি তোমাকে তুলে নিয়ে যাবো।তখন সবাই বলবে কেন এনেছি।তো আমি বলবো...

সানি-আচ্চা যাচ্ছি।

আদ্র-গুড গার্ল।,,,রায়াতমনি,,চলো

রায়াত-হুম,,,চলো মিম্মি।আমি আজ তোমার সাথে খাবো।

সানি-আচ্ছা চলো।

(বলেই ওরা তিনজন নিচে গেলো।,,,,,টেবিলের সামনে গিয়ে আদ্র নিজের পাশের চেয়ারটা সানির জন্য টেনে দিলো।সানিও সেখানেই বসলো।রায়াত গিয়ে সানির কোলে উঠে বসলো।,,,)

আদ্র-রায়াতমনি।তোমার মিম্মি তো অসুস্থ।তুমি বরল আমার কোলে আসো।

সানি-থাক না ও আমার কোলে।

রায়াত-মিম্মি,,তুমি অসুস্থ?? এতক্ষন বলো নি কেন আমায়???আমি তো ছু মন্তর করে দিতাম নাকি??

সানি-না সোনা।আমি একদম ঠিক আছি।,,তুমি বসো আমার কোলে।

রেশমি-বাব্বা,,,মাম্মা,,তুমি এত শান্ত কবে হলে শুনি???নিজে থেকে টেবিলে বসছো।

আতিস-দেখ,,রেশমি,,তোমার মেয়ে আজ কাকে পেয়ে ভদ্র হয়েছে??

রায়াত-কাকে আবার।,,,দেখো পাপা,,,এই হলো আমার মিম্মি।কত্ত কিউট তাই না???

আতিস-মাম্মা,,,তোমার মিম্মির কিউটনেসের প্রশংসা করলে আমার আর চাকরি থাকবে না।

(আদ্রের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে)

রায়াত-ওওও,,আচ্ছা।তাহলে মাম্মা,,তুমি বলো।,,আমার মিম্মি খুব কিউট তাই না??

রেশমি-হুম,,তোমার মিম্মিতো অনেক কিউট।তা তোমার মিম্মি তো আমার সাথে কথাই বলছে না।

রায়াত-ও,, হ্যা,,,তাই তো।মিম্মি।তুমি আমার মাম্মার সাথে কথা বলো।

সানি-হ্যা,মানে...

আদ্র-ডল,,,ও হচ্ছে তোমার রুসা আপির বড়বোন রেশমি।এই হলো তার হাসবেন্ড আতিস।আর তোমার কোলে যে বসে আছে সে হচ্ছে তাদের এক মাত্র দুষ্টু মিষ্টি মেয়ে রায়াত।,,,আর রেশু আপু,,,এটা হলো ডল,,আই মিন সানি।,,আমার মায়ের দুইমাত্র মেয়ে।আর আমার....

রেশমি-থাক,,তুই যে বলতে পারবি না,,তা আমি জানি,আর ওর কথা আমি সবই শুনেছি।তাই আর বলতে হবে না।,,,,,,ডল???

আদ্র-নো নো নো।ও শুধু আমার ডল।অন্য কেউ ওকে এই নামে ডাকবি না

রেশমি-ওকে বাবা সরি।তো সানি বলেই ডাকবো??

শারমায়া-আপু,,আমরা সবাই ওকে পিচ্চি বোনু বা পিচ্চি ডাকি।তুইও তা বলেই ডাক।

রেশমি-ওকে।পিচ্চি বলেই ডাকবো।তা পিচ্চি,,, তুইকি আমার সাথে কথা বলবি না???এই আপুকে পছন্দ হয়নি বুঝি??

সানি-না না আপু,, তা না।আসলেআমি তো চিনি না তাই...

আতিস-হুম,,তাই।তবে চিন্তা নেই চিনে যাবে।কিসে পরো তুমি/???

সানি-জ্বী,,এবার নিউ টেন।

আতিস-ওহ আচ্ছা।কোন গ্রুপ??

সানি-স্ সাইন্স।,,

আতিস-ওহ গুড।

রায়াত-দেখো মাম্মা।তোমারও মিম্মিকে ভালো লেগেছে তাই না???

রেশমি-হুম,,,ওকে তো ভালো লাগবেই সবার।

রায়াত-হুম,,,কিন্তু মাম্মা,,,যানো?মামাই না একটু বেশিই ভালো লেগেছে মিম্মিকে।,,তাই আমি বলেছি যে পাপা যেমন তোমাকে নিজের কাছে রেখে দিয়েছে তেমনি মামাইও মিম্মিকে নিজের কাছে রেখে দিক।কেমন বলো??

রেশমি-হুম,,,আইডিয়াটা তো ভেরি নাইচ।,,,কিন্তু তোমার মামাই আর মিম্মি কি রাজি এই ব্যপারে??

রায়াত-মামাই তো রাজি হলো।কিন্তু মিম্মি।।

(রায়াত এবার সানির গালে দু আঙ্গুল দিয়ে চাটি মেরে বললো...)

রায়াত-মিম্মি,,,তুমি কি রাজি বলো??দেখো আমার মামাই কিন্তু খুব ভালো,,,ও তোমাকে ঠিক আমার পাপার মতো মানে পাপা যেমন মাম্মাকে ভালোবাসে তেমনি তোমাকেও মামাই ভালোবাসবে।,,বলো তুমি রাজি কি না??

(সানি পরলো এক মহা বিপদে।কি বলবে সে??রায়াতের জোরাজুরি তে শেষমেস বললো...)

সানি-হ্যা।ঠিক আছে।

রায়াত-ইয়েএএএ মিম্মিও রাজি।

(বলেই হাততালি দতে লাগলো।,,,সবাই রায়াতের কথায় হাসলো।,,,,,,এবার সবাই খাওয়ায় মনোযোগ দিলো।,,,,)

আদ্র-আজ পাস্তায় অন্যরকম টেস্ট পাচ্ছি যে???

সায়মান-হুম আমিও।

রফিক-কে বানিয়েচে এটা??

সেলিম-হুম,,তাইতো।কে বানালো??

রিসব-বলো বলো কে বানিয়েছে??অসাধারন হয়েছে।,,,

আরিফা-আর কে বানাবে???আচ্ছা তোমরা কেউ গেস করোতো??

সফিক-উমমম,,,কে রেশমি নাকি???

ইরুনি-মনে হয় বাইরে থেকে কোনো কুক এসেছে।

আরিফা-আর কেউ??

আদ্র-ডল,,তুমি বলো কে বানিয়েছে??

সানি-আমি???

আরিফা-আরে,,ও কি গেস করবে।এটাতো আমার মামনিই বানিয়েছে।

রুসা-হোয়াট!!

আতিস-কি!!!

আদ্র-এত ভালো পাস্তা ডল বানিয়েছে!!!

শারমায়া-পিচ্চি রান্না জানে??

সায়মান-তাইতো??এটা তো জানতাম না তো??

আরিফা-হ্যা,,,এটা আমাদের সানিই বানিয়েছে।

আদ্র-ডল,,তুমি অসুস্থ শরীর নিয়ে রান্না কেন করতে গেলে??

সানি-না মানে,,,

(আদ্র বুঝলো সানি ঘাবরে যাচ্ছে। তাই সানিকে ঠিক রাখতে সে হেসে বললো...)

আদ্র-অন্নেক ইয়াম্মি হয়েছে।ঠিক যেমন তোমার স্ট্রবেরি ফ্লেভারের চকলেট আর আইসক্রিমের মতো।,,তবে ডল,,,রোজ রোজ এসব একদম নয়।

সানি-আচ্ছা।

রেশমি-পিচ্চি স্ট্রবেরি ফ্লেভার লাভ করে??

সায়মান-হুম।।তা দেখলে পাগলই হয়ে যায় সে।

আতিস-তাই নাকি???বাহ।তো এই উপলক্ষে সানির জন্য স্ট্রবেরি ফ্লেভারের চকলেট আর আইসক্রিম আনা হোক??

সানি-না না লাগবে না এখন এসব।

আদ্র-হুম তাই।আমি পরে এনে দেবো এসব।এখন এসব খাওয়া একদম ঠিক হবে না।

রায়াত-তোমরা সবাই তো আমাকে ভুলেও গেলে।আমিও যে স্ট্রবেরি ফ্লেভার লাভ করি তাকি মনে আছে??মামাই আমার জন্য আনবে না??

রেশমি-হুম তাই তো??তা আদ্র ভাই আজ কিন্তু মামি ভাগ্নি দুজনের জন্যই চকলেট আইসক্রিম আনতে হবে।,,

সানি-এ্যা!!!মামিটা কে??

আদ্র-ইয়ে মানে,,ডল,,রেশু আপু ভুল করে বলে ফেলেছে।কিরে তাই না??

রেশমি-হ্যা,,,আমি মিম্মি বলতে গিয়ে মামি বলে ফেলেছি।হিহিহি।

(আদ্র একটা লুকিয়ে নিঃশ্বাস ফেললো।।)

আদ্র-উহ,,বাচলাম,,,(মনে মনে)

(এরকম নানা রকম কথার মাঝেই সবাই খাওয়া শেষ করলো।,,,,)

{বেলা ১২ঃ৩০,,প্রায়}

সবাই রেডি হচ্ছে আয়ন্তির মেহেন্দীর জন্য।এই ইভেন্টে সবাই ম্যচিং পরবে।ছেলেরা সবাই পরেছে গ্রীন কালার পাঞ্জাবি। আর সাদা পাজামা।মেয়েরা পরেছে স্কাইব্লু কালারের আনার কলি ড্রেস।কানে সবার একই রকম বড় ঝুমকো।সবার চুল খোলা,,সিতি করে মাঝখানে বড় পাথরের টিকলি।হাতে গরজিয়াস চুরি সবারই।সবাই রেডি হয়ে বাড়ির বাইরের বড় উঠোনে গেলো।পুলসাইডেই মেহেন্দীর স্টেজ করা হলো।।আয়ন্তিকে নিয়ে স্টেজে বসালো।মেহেন্দী আটির্সট তার হাতে মেহেন্দি লাগাতে লাগলো।,,,ওদিকে সানি তখন থেকে রুসার সাথে দাড়িয়ে আছে।তার সাথে রায়াত।,,,,,)

রুসা-পিচ্চি।চলনা অন্তি আপুর কাছে যাই।মেহেদি দেওয়া লাগবে তো।

সানি-তুমি যাও আপি।আমি এখানেই আছি রায়াতকে নিয়ে।

রুসা-আচ্চা।ডাকলে চলে আসিস।তুইও তো মেহেন্দি পরবি নাকি??

,,,(বলেই রুসা চলে গেলো। সানি রায়াতের সাথে মজা করতে লাগলো।,,,,,একটু পরেই ওখানে আদ্র হাজির।)

আদ্র-আয় হায়,,আনারকালি।একদম মাস্ত লাগছে।,,,তুমি এখানে দাড়িয়ে আছো কেন ডল??সবাই তো ওদিকে।

সানি-থাক না।আমি এখানেই আছি।

(আদ্র এবার সানির আরেকটু সামনে এসে সানির দুগালে হাত রেখে বললো...)

আদ্র-তুমি কি নিজেকে আড়াল করতে চাইছো??

সানি-না,,আসলে...

আদ্র-এসব কেন তোমার মাথায় ঘুরে ডল??বলেছিনা এসব ভাবতে না।

সানি-না মানে,,,

রায়াত-মামাই,,,তুমি মিম্মিকে আদর করছো??আমাকে করবে না??

আদ্র-করবো তো রায়াতমনি।তুমি তো আমার কিউটেরডিব্বা।তোমাকে করবো না কাকে করবো??

রায়াত-তাই??তাহলে নাও কোলে নাও??

(আদ্র হাসি মুখে সানিকে ছেরে রায়াতকে কোলে তুলে নিলো।,,,,,,)

আদ্র-ডল,,যাও ওদের কাছে যাও।আর হ্যা,,হাতে যেন মেহেদি দেখি।

(তখনই কেউ একজন পেছন থেকে সানির চোখ ধরলো।,,,,)

----বলো তো কে?

(সানি হালকা হেসে বললো...)

সানি-বন্যা??

বন্যা-উহ সানিপু,,তুই কিকরে বুঝিস যে কে ধরলো তোর চোখ?.

সানি-গায়ের গ্রানটা যে পরিচিত।

বন্যা-তা তুই এখানে কি করে,,,এটা তো ঐ লোকটা....

(বলতেই বন্যার চোখ গেলো আদ্রের দিকে।)

বন্যা-আরে,,,আপনি???তা আমার সানিপুর সাথে কি কথা বলছেন আপনি??এই আপু,,এই লোকটা আবার ঐদিনের মতো ঝগড়া করছে নাতো??

আদ্র-দেখ বন্যা৷,,, ঐ দিনের জনজন্য আম সরি।আর আমি ওর সাথে ঝগড়া করছি না।

(তখনই দুর থেকে আদ্রের এক ফ্রেন্ড তাকে ডাক দিলো।)

আদ্র-ডল,,তোমরা কথা বলো।আমি আছি ওদিকে।

সানি-আচ্ছা।

(আদ্র চলে গেলো।)

বন্যা-ডল???এই লোকটা তোকে ডল বললো কেন??আর তুই এখানেই বা কি করে??

(সানি বন্যাকে সব খুলে বললো।,,,)

বন্যা-ওওও,,তাই বলো।আমি তো এর কিছুই জানি না।

,,(দুর থেকে শারমায়া বললো...)

শারমায়া-বন্যা,,,পিচ্চি,,এদিকে আয়না।মেহেদী লাগাবি তো নাকি??

বন্যা-হ্যা আসছি আপু।সানিপু চল।

(বন্যা সানিকে নিয়ে গেলো।তারাও মেহেদি লাগাতে লাগলো।সানির হাতে যে মেহেদি লাগাচ্ছে তাকে আদ্র ফিসফিসিয়ে বললো...)

আদ্র-ওর হাতে হিডেন ভাবেAলিখে দিবে ওকেয়??

মেয়েটি-ওকে স্যার।(আদ্রের কথা মতো মেয়েটি সানির হাতে এমন ভাবে A অক্ষরটি লিখলো যাতে কেউ সহজে খুজে না পায়।,,,,,)

(এদিকে রুসার মন খারাপ।কারন বিহান এখনো আসেনি।সে বিহানের নম্বরে ডায়াল করতেই শুনলো পেছনে কিউটিপাই সংটা বাজছে।,,,সে পেছনে ঘুরতেই দেখলো বিহান নেচে নেচে তার দিকে ইশারা করছে।রুসা মুচকি হেসে সেখানে গিয়ে বিহানের সাথে নাচতে লাগলো।,,,তাদের সাথে সাথে আরো অনেকেই এসে তাল মেলালো।,,,,,,,,)

(নাচ শেষ হতেই আয়ন্তি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলে উঠলো...)

আয়ন্তি-এটেনসন এভরিওয়ান।আজ আমার মেহেন্দী উপলক্ষে এখানে উপস্থিত সকল ছেলের কাছে আমার একটা রিকুয়েষ্ট আছে। তো কথা হলো এই যে আমি চাই আজ সব মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও মেহেদি লাগাবে।

(এই কথা শুনে ছেলেদের মাথায় যেন বাজ পরলো...)

সায়মান-ইয়ামপসিবল।ইয়ামপসিবল।চুইঙগামের হাতে,,থুক্কু সায়মানের হাতে মেহেদি লাগানো ইয়ামপসিবল।

আদ্র-অন্তি,,,এটা মানা যায় না বোনু।

আয়ন্তি-প্লিজ ভাইয়া।ইটস মাই রিকুয়েস্ট।,,,

(আয়ন্তির জোরাজুরিতে সবাইকেই মেহেদি লাগাতে হলো।আদ্রের পালা আসতেই সে বললো হাতের বাহুতে শুধু একটু লাগাবে।এতেই সবাই রাজি।শেষমেষ আদ্র তার হাতের কব্জিতে মেয়েদি দিয়ে ট্যাটুর মতো করে লিখলো My heart sammahini,,,,,,,।এটা লিখেই আদ্র আর কিছু লিখলো না।)

(মেহেন্দী অনুষ্ঠান শেষ হতেই সবাই রুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে।।কারন সন্ধ্যায় আবার হলুদ অনুষ্ঠান আছে।,,,,,এদিকে আদ্রের এক ফ্রেন্ড জিমান সানির হাইডেন ভাবে কিছু পিক নিলো।মেহেন্দির সময়।,,,,কিন্তু সে সানিকে চিনেই না।তাই সামনে সৌরভকে পেতেই তাকে ধরে বললো...)

জিমান-এই সৌরভ ভাই।একটা হেল্প করো প্লিজ।

সৌরভ-হ্যা,,বলো।

জিমান-এই মেয়েটা কে গো??চিনলাম না তো।(ফোন দেখিয়ে)

সৌরভ-ওও,,ওতো সম্পর্কে আমার শালি হয়।বিয়ের দিন তোমার বন্ধু মানে আদ্রের সাথে সেকি ঝগড়া,,,,

জিমান-হোয়াট!!,আদ্রের সাথে ঝগড়া হয়েছে???

সৌরভ-হ্যা,,,কেন তোমাদের বলেনি??

জিমান-হ্যা,,,তা বলেছে।অনেক আগে।বলেছলো তোমার বিয়েতে নাকি একটা মেয়ের সাথে ঝগড়া হয়েছে।কিন্তু এটাই যে সে মেয়ে তাতো বলেনি??

সৌরভ -তা জানি না।এই সেই মেয়ে।

(বলেই সৌরভ চলে গেলো)

জিমান-ভেবেছিলাম এর সাথে হালকা মজা করবো।বাট এবার মজা না।তোমায় দেখে মনে হয়না যে তুমি এতটা ধুরন্ধর মেয়ে।বাট তুমি সেটাই।এবার আমাদের ফ্রেন্ডের সাথে মিসবিহেব করার শাস্তি পাবে তুমি।মিস ধুরন্ধর। কি বলিস তোরা??

(ওদের বাকি ফ্রেন্ডরা একসাথে বলে উঠলো...)

----হ্যা,,ঠিক ঠিক।শাস্তি তো পেতেই হবে।

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ১৩