(সানি এগিয়ে গেলো স্টোর রুমের দিকে।এই দিকে তেমন মানুষ নেই বললেই চলে।সবাই বিয়ের ওদিকে ব্যস্ত।,,,,,)
সানি-(রুসা আপু আমাকে এখানে কেন ডাকলো??(মনে মনে)
(ভাবছে সানি।কিন্তু কোনো উত্তর পেলো না তাই মুখে হালকা সুস্থির হাসি এনে বললো...)
সানি-রুসা আপু??তুমি কি আছো এখানে??
(কারোর কোনো আওয়াজ নেই। সানি আরেকটু ভেতরে ঢুকলো।রুমে একটা মাত্র লাইট জ্বলছে।নির্জন রুমটায় কেমন যেন একটা অন্য রকম লাগছে সানির।সাথে ভয়ও করছে একটু একটু।নিজেকে কোনো মতে সামলে বললো...)
সানি-রুসা আপু??তুমি কোথায়??আমায় ডেকেছিলে??
-----ডেকেছিতো বটেই । তবে রুসা নয় আমি।
(পেছন থেকে পুরুষালি কন্ঠ পেয়ে সানি পেছনে ঘুরে তাকায়।,,,একি!!!এরাতো তারাই,,, তখন যারা সানির সাথে বাজে ভাবে কথা বলেছিলো।,,,)
সানি-এ্ এরা আমাকে কেন এনেছে এখানে??এখন কি করবো আমি??(মনে মনে)
********
(অন্যদিকে আদ্র বিয়ের ওখানে কাজে ব্যস্ত থাকায় সানির সাথে তেমন একটা থাকতে পারেনি।এখন একটু ফ্রী সে।তাই আর কাল বিলম্ব না করে খুজতে লাগলো সানিকে।কিন্তু সানি কোথায়??আশে পাশে তো দেখছে না।,,আদ্র বন্যার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো...)
আদ্র-বন্যা?ডল কোথায়??
বন্যা-সানিপুকে রুসাপু ডেকেছে।তাই তার কাছে গিয়েছে।
আদ্র-ওহ আচ্ছা।থ্যাংকস।
(বলেই আদ্র বিয়ের ওখানে চলে এলো এটা ভেবে যে তার ডল রুসার সাথে সেফ আছে।,,,কিন্তু একি রুসা তো এখানেই।তার সাথে তো সানি নেই??আদ্র গিয়ে রুসাকে বললো...)
আদ্র-এই রুসা।
রুসা-হ্যা বল ভাইয়া কিছু লাগবে??
আদ্র-নাহ,,,ডল কোথায়??অনেকক্ষণ দেখছিনা।বন্যা বললো তুই ডেকেছিস।এখন কোথায় গেলো ও??
রুসা-ওয়াট!!আমি পিচ্চিকে ডেকেছি??কই,, আমিতো ডাকিনি।
আদ্র-কি!!তাহলে বন্যাযে বললো...
রুসা-আরে তুই টেনশন নিস না।আছে দেখ আশেপাশে।
আদ্র-হুম দেখছি।
(রুসাকে বললেও আদ্রের কেমন জানি চিন্তা হতে লাগলো।,,,,,তখনই ওখানে বন্যা এলো...)
বন্যা-রুসাপু তুমি এখানে??দেখো,,ভাইয়া অনেকক্ষণ সানিপুকে খুজছে।সানিপু কোথায়??
রুসা-আরে,,,পিচ্চিকে তো আমিও খুজছি।
বন্যা-সেকি,,একটু আগে তো তোমার সাথেই ছিলো।
রুসা-কই নাতো।আমার সাথে কেন।ও তো তোর সাথে ছিলো।
বন্যা-হ্যা,,আমার সাথে ছিলো।তারপরইতো তুমি তাকে ডেকেছো।
আদ্র-বন্যা,,,রুসা বলছে ও ডাকেনি ডলকে।তুমি বলছো ডেকেছে।
বন্যা-মানে কি,,,রুসাপু,,কিছুক্ষণ আগে তুমি একটা ছেলেকে পাঠাওনি সানিপুকে স্টোররুমে যেতে বলতে??
রুসা-ওয়াট!!আমি কেন কোনো ছেলেকে পাঠাবো।আমি চাইলে নিজেইতো ওকে ডেকে নিতাম।
আদ্র-তার মানে কেউ মিথ্যা বলেছে??
বন্যা-ভাইয়া,,, আমার এবার চিন্তা হচ্ছে।সানিপু ঠিক আছে তো??
রুসা-হ্যারে ভাইয়া,,,ওকে আমাদের খুজা দরকার।
(আদ্রের মাথা কাজ করছে না।সেকি তবে হারিয়ে ফেললো তার পুতুলটাকে??আদ্র কেমন যেন অস্থির হয়ে উঠছে।,,,)
আদ্র-বন্যা,,,ক্ কোথায় যেতে বললো ছেলেটা??
বন্যা-স্টোররুমে।
আদ্র-ওকেয়।
(বলেই আদ্র ছুটলো স্টোর রুমের দিকে।)
*******
(এদিকে সানির সামনে দাড়িয়ে আছে জিমান,, সিমন ও তাদের ফ্রেন্ডস গ্রুপ।সবার মুখেই এক রহস্যের হাসি।,,,)
সানি-আপনারা??আ্ আমাকে এখানে ক্ কেন ডেকেছেন?
জিমান-আরে আরে,,,এটুকুতেই তুতলাচ্ছো মিস সানি লিওন??
সানি-আমি বাইরে যাবো।
জিমান-তাতো যাবেই,,,,।তবে তার আগে আমাদের কাজ হাসিল হবে।খুব শখ না আমার ফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া করার??এবার দেখবে তুমি মিস সানি লিওন।যে এই জিমানের ফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া করার ফল কি হতে পারে।
(এসব বলেই জিমানরা একপা একপা করে সানির দিকে এগোতে লাগলো।আর সানি পিছাতে লাগলো।ভয়ে তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।কি হবে এখন তার সাথে?,,,,কি করবে এবার সে?)
সানি-আ্ আপনি এভাবে এগোচ্ছেন কেন,,,,আমাকে যেতে দিন।
(সানি ভয়ে কেদে দেওয়ার পালা।প্রায় কেদে দিয়েছেই।,,,পেছাতে পেছাতে এক সময় সানি দেওয়ালের সাথে লেগে গেলো।প্রচুর পরিমানে ভয় পাচ্ছে সে।কি করবে এবার সে?জিমান তার সামনে এসে দাড়িয়েছে।যার কারনে সানির পালাবার পথও বন্ধ।চিৎকার করেও লাভ নেই।কারন বিয়ে বাড়ির সোরগোলে তার চিৎকার কেউ শুনবে না।)
জিমান-তো মিস সানি লিওন,,,,চলো তোমার খুক ঝগড়া করার ইচ্ছে।এখন তোমাকে অন্যরকম ঝগড়া দেখাবো।একদম হাতে কলমে।কি বলো???
(বলেই তারা সবাই হাসতে লাগলো।)
সানি-আ্ আমাকে ছে্ রে্ দিন প্ প্লিজ।কি ক্ করেছি আমি।আ্ আপনারা আমার সা্ সাথে এমন করছেন কেন??
(সানি প্রায় কেদেই দিলো।ভয়ে তার পুরো শরীর কাপতে লাগলো।তার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে ভয়ের চোটে।সামনে দাড়িয়ে থাকা লোকটাকে আজ অতি ভয়ংকর লাগছে তার কাছে।,,,সানে দেখলো জিমান তার হাত সানির দিকে এগিয়ে দিচ্ছে।তা দেখে সানি চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে লাগলো।,,,,)
(জিমান এগিয়ে নিচ্ছে তার হাত। তখনই কেউ একজন এসে জিমানের হাত এক ঝটকায় নামিয়ে দিলো।জিমান তার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো...)
জিমান-আরে আদ্র তুই??এই মেয়েটাই তোর সাথে মিসবিহেভ করেছিলো তাই না??আজ দেখ আমি ওর কি করি।
(সানি এখনো চোখ বন্ধ করে আছে। আদ্রের নাম শুনে এক ঝটকায় চোখ খুললো।দেখলো সামনে আদ্র দাড়িয়ে আছে রক্তচক্ষু নিয়ে।আর কিছু না ভেবে সানি দৌড়ে গিয়ে আদ্রকে জাপটে ধরলো।নিজের হাত দিয়ে আদ্রের পিঠের দিকের শার্ট খামছে ধরলো।আদ্রের বুকে মুখ গুজে দিলো।,,,,আদ্রও কোনো মতে নিজের রাগ কন্ট্রোল করে সানিকে জড়িয়ে ধরলো।,,,,)
আদ্র-ডল??
(আদ্রের মুখে নিজের নাম শুনে সানি মুখ তুলে তাকালো।সে কিছু বলার চেষ্টা করছে।কিন্তু অতিরিক্ত ভয়ের কারনে গলা দিয়ে কথা বেরোচ্ছে না।অনেক চেষ্টা করেও কিছু বলতে পারছে না সানি।সে হাত দিয়ে আদ্রকে কিছু বোঝাতে চাইছে।কিন্তু পারছে না।তার সারা শরীর কাপছে।আদ্র সানির এমন অবস্থা দেখে প্রচুর ঘাবরে যায়।সে তারাহুরো করে সানির সারা মুখে পাগলের মতো কিস করতে লাগলো।তারপর সানির মাথার পেছন দিয়ে ধরে তাকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো।আর এক হাত দিয়ে সানিকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখলো।)
আদ্র-কিছু হয়নি পুতুলটা।কিছু না।দেখ আমি এসে গেছি তো।তোমার কিছু হবে না।প্লিজ পুতুলটা শান্ত হও একটু। দেখ,, আমি এসে গেছি।আর কেউ কিছু করবে না তোমার।
(সানি জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে।শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার।ভয়ে সে আদ্রকের পিঠে এমন ভাবে খামছে ধরলো যে আদ্রের পিঠে সানির নখ গেথে যাচ্ছে।সানি সহ্য করতে না পেরে আদ্রের বুকে কামর বসিয়ে দিলো নিজের অজান্তেই।,,,,,)
আদ্র-জিমান,,,,কি করছিলি এসব??(রাগি কন্ঠে)
(এদিকে জিমানরা সবাই অবাক।কারন যাকে সানি এক বিন্দুও দেখতে পারেনা।যার সাথে তার ঝগড়া হয়েছে।তাকে এভাবে জড়িয়ে ধরলো কেন??আর আদ্রই বা সানির জন্য এমন করছে কেন??তাদের মাথায় কিছুই ঢুকছে না।,,)
জিমান-দেখ ইয়ার,,,আমরাতো ওর সাথে মজা করছিলাম।আর শাস্তি দিচ্ছিলাম কারন ও তোর শত্রু।
আদ্র-ওয়াট মজা??এটাকে মজা বলে??ভয় পাচ্ছিলো ও।আর তোদের কাছে মজা এটা??কি অবস্থা হয়েছে দেখ একবার।,,,আর কি বললি শত্রু??আরে ও আমার শত্রু কেন হতে যাবে??ও আমার সব সব সব।understend??? She is my everything, my whole life..
(এতক্ষন সানির জোরে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ আদ্র শুনছিলো।কিন্তু হঠাৎ তা আর শোনা যাচ্ছে না।আর আদ্র অনুভব করলো সানির হাতদুটোও তার পিঠ থেকে আলগা হয়ে যাচ্ছে।)
আদ্র-ডল,,,আর ইউ ওকে ডল??প্লিজ কথা বলো।
সিমন-আদ্র ওতো জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে
(বলেই সানিকে ধরতে গেলে আদ্র আঙুল তুলে বললো...)
আদ্র-ডোন্ট টাচ হার।একদম আমার পুতুলকে ছুবিনা তোরা।
(আদ্র সানির মাথা তুলে দেখলো সানির চোখ বন্ধ।আদ্র সানিকে তারাতারি পাজাকোলে তুলে নিলো।তারপর সানিকে নিয়ে হাটা শুরু করলো।তার আগে জিমানের দিকে তাকিয়ে বললো...)
আদ্র-কাজটা তুই ঠিক করিস নি জিমান।তুই ভুল করে আমার কলিজাকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছিস।একটা কথা জেনে রাখ,,,আজ যদি আমার পুতুলের কিছু হয়ে যায় তাহলে তোরা তোদের ফ্রেন্ডকেও হারাবি।
(বলেই আদ্র গদগদ করে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো।যাওয়ার সময় অনেকেই সানির এমন অবস্থা দেখে ঘাবড়ে যায়।আদ্রকে জিজ্ঞেস করলে আদ্র কাউকে কিছুই বলেনি।এতক্ষণে আয়ন্তি আর রাহুলের বিয়েও হয়ে গেছে।,,,,আদ্র সানিকে নিয়ে সোজা সানির রুমে গেলো।তার পেছন পেছন আরিফা সহ আরো কয়েকজনও এলো।,,,আদ্র সানিকে শুইয়ে দিয়ে তার দিকে ঝুকে সানির মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললো...)
আদ্র-মাম্মাম,,, ডক্টর আঙ্কেলকে আসতে বলো প্লিজ।
আরিফা-হ্যা,,,আমি বলছি।
(আরিফা ডক্টরকে ফোন করে আসতে বললো।এদিকে আদ্র প্রায় পাগলপ্রায়। সে কখনো সানির হাত পায়ের তালু ঘসছে হাত দিয়ে।কখনো সানির মাথায় হাত বোলাচ্ছে।কখনো পানির ছিটা দিচ্ছে।আবার কখনো সানির দুগালে আলতো করে হাত দিয়ে ঝাকিয়ে বলছে...)
আদ্র-এই ডল,,,উঠো প্লিজ। চোখ খুলো।ওঠো না পুতুলটা।দেখ,,তুমি একদম ঠিক আছো।উঠো প্লিজ।
(এদিকে ছেলের এমন পাগলামি দেখে চিন্তা করছেন সরিফ।সে ভাবছে...)
সরিফ-(আজ যদি মামনির কিছু হয়ে যায়,,তাহলে তো আমার ছেলেটা পাগল হয়ে যাবে।হে আল্লাহ,,,দয়া করে আমার মেয়েটার জ্ঞান ফিরিয়ে দাও।)মনে মনে
রুসা-ভাইয়া,,,পিচ্চির এই অবস্থা কি করে হলো।কিছু বল।কেন ও জ্ঞান হারালো??
বন্যা-কি হলো আমার সানিপুর।ওর জ্ঞান ফিরছে না কেন??(কাদো কাদো মুখ করে)
আয়শা-ওসব পরে হবে।আগে ডক্টর আসুক।
(তখনই বিহান ডক্টরকে নিয়ে রুমে আসলো...)
বিহান-আসুন আঙ্কেল। আসুন।
(আদ্র হন্তদন্ত হয়ে ডক্টরের সামনে গিয়ে বললো...)
আদ্র-আঙ্কেল।। প্লিজ আমার পুতুলের জ্ঞান ফিরিয়ে দিন।প্রচুর ভয় পেয়েছে,,আর তারপরেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।প্লিজ কিছু করুন।
ডক্টর-আদ্র,,মাই সন।তুমি শান্ত হও।আমি দেখছি।
(ডক্টর সানিকে চেক আপ করতে লাগলো।,,,কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন...)
ডক্টর-আদ্র,, আমি তোমাকে আগেও বলেছি ও খুব দুর্বল।বেশি টেনশন বা ভয় সহ্য করতে পারবে না।আর এর আগেও ও জ্ঞান হারিয়েছে অনেক বার।আমি বলেছিলাম ওকে দেখে রাখতে।তার পরেও কিভাবে এমন হলো??
আদ্র-ডক্টর আঙ্কেল। আমি ওর খেয়াল রাখতে পারিনি।আজ ওকে একা ছারাটাই উচিৎ হয়নি আমার।
ডক্টর-দেখ আদ্র,,,এভাবে তো হবে না।এরকম চললে ওর এই বয়সেই হার্ট ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর এত কম বয়সে এই রোগ নিয়ে থাকাটা মোটেও ভালো না।তাই বলছি,,,,আমি জানিনা এই মেয়েটা তোমার কে হয়।তবুও তুমি যখন ওকে নিয়ে আগেও আমার কাছে গিয়েছো,,তাই বলছি।যদি ও তোমার দায়ীত্ব হয়ে থাকে তাহলে ওকে যদি সুস্থ ভাবে বাচাতে চাও,, তাহলে খুন সতর্কের সাথে ওর খেয়াল রাখবে।এছাড়া আর কারোরই কিছু করার থাকবে না।আর ওর বয়সটাও কম।কিছু হয়ে গেলে অপারেশনের প্রেসার ও হয়তো সহ্য নাও করতে পারে।তাহলে তার মৃত্যু নিশ্চিত।
আদ্র-না(চিৎকার দিয়ে বলে ওঠে ও)আমার পুতুলের কিচ্ছু হবে না।আমি ওকে সারা জীবন আমার কাছে রাখবো।ওর খেয়াল রাখবো আমি।সব ঠিক হবে আবার।,,,,
ডক্টর-হুম,,,কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান ফিরবে ওর।আর এই রুমটা খালি করুন।এত ভীর ওর জন্য ভালো হবে না।দু এক জন থাকতে পারো।
আরিফা-আচ্ছা। সবাই চলো।রুম খালি করা উচিৎ।আদ্র, তুই মামনির কাছে থাক।আমরা আছি ওখানে।
(এর পর এক কটে সবাই বেরিয়ে গেলো।বিহান ডক্টরকে এগিয়ে দিতে গেলো।,,,,,পুরো রুম নিস্তব্ধ,,, সানি পরে আছে খাটে।আর তার হাত ধরে পাশে বসে আছে আদ্র।তার দৃষ্টি তার পুতুলের মায়া লাগা মুখখানার উপর।,,,,)
(এদিকে বিয়ে শেষ।বরযাত্রীরা অনেকেই চলে গেছে।শুধু যায়নি বর রাহুল আর তার কিছু ইয়াং কাজিনরা।নিয়ম অনুসারে পরদিন সকালে বউ নিয়ে যাবে তারা।আর আজ রাতে হবে দুই পক্ষের জমিয়ে আড্ডা।।।)
***************৩০মিনিট পর***************
(চোখের সামনে ভাসতে লাগলো তখনকার ঘটনাটা।চোখ বন্ধ অবস্থায়ই সানি কেমন অস্থির অস্থির করতে লাগলো।আর কিছু বিরবির করে আওরাতে লাগলো।সানির এমন অবস্থা দেখে আদ্র অস্থির হয়ে বলে উঠলো...)
আদ্র-ডল,,,আর ইউ ওকেয়??কি হয়েছে তোমার??এমন করছো কেন??দেখ,,আমি আছি তো।কিছু হয়নি তোমার।
(হঠাৎ সানি এক ঝটকায় চোখ খুলে উঠে বসে।আশেপাশে তাকাতেই ঘোলাঘোলা চোখে দেখলো সামনে কেউ বসে আছে।তার মনে হলো এটা যদি সেই ছেলেটা হয়??,,,, এটা ভেবেই এক ঝটকায় আদ্রের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে খাটের এক কোনায় গিয়ে দু হাটু ভাজ করে চেপে বসে রইলো।,,,)
সানি-আ্ আমাকে ছেড়ে দিন।আমি চলে যাবো।আ্ আমি্ আমার মায়ের ক্ কাছে যাবো।
(একথা শুনেই আদ্র চোখ বন্ধ করে ফেললো।একি বলছে সানি?তবুও নিজেকে সামলে আদ্র শান্ত গলায় বললো...)
আদ্র-হেই,,মাই ডল।দেখো,,এটা আমি,,,আদ্র,,,তোমার পচালোকটা। দেখো,,ভয় পায়না পুতুলটা।আসো,,আমি কিছু করবো না।তুমি সেফ আছো ডল।
(সানি এবার একটু শান্ত হয়ে ভালো করে দেখতে লাগলো আদ্রকে।হ্যা,,এটা তার সেই পচালোকটা।যে নামে পচা হলেও আসলে ভালো।বুঝতে পেরে সানি আবার গিয়ে ঝাপটে ধরলো আদ্রকে।আদ্রও অনেক যত্নে সানিকে আগলে রাখলো নিজের বাহু ডোরে।,,,সানি কাদছে,,,যার ফলে আদ্রের পরনের শার্ট ভিজে যাচ্ছে।সেই আগের মতো সানি আবারও নিজের অজান্তে আদ্রের বুকে কামর বসিয়ে দিলো।হালকা ব্যথা অনুভব করে আদ্র ভ্রু কুচকে কোনা চোখে সানির দিকে তাকালো।,,তারপর আনমনেই হালকা হাসলো সে।,,,,)
আদ্র-কাদেনা ডল,,,তুমি এখন একদম ঠিক আছো।
সানি-ও্ ওরা আ্ আমাকে্
আদ্র-ওরা ভুল করে করে ফেলেছে ডল।ওরা বুঝতে পারেনি।তাই।প্লিজ তুমি ভয় পেওনা।ওরা আর কিছু করবে না।
(কিছুক্ষণ পর সানি শান্ত হলো।কান্নাও থামলো।সে এখনো আদ্রের বুকে মুখ গুজে আছে।এত ধকলের পর সানি কেমন যেন নির্জীব হয়ে গেছে।,,,আদ্রও স্বযত্নে এক হাত দিয়ে সানিকে আগলে ধরলো যাতে সানি তার কোল থেকে পরে না যায়।আর আরেক হাত দিয়ে সানির মাথায় বুলিয়ে দিতে লাগলো।কারোর মুখে কোনো কথা নেই।আদ্রেরতো এতেই শান্তি যে সানি তার কাছে আছে।তার বুকে মাথা রেখে আছে।আর কি চাই আদ্রের??,,,,তখনই দরজার কড়া নারলো আয়ন্তি...)
আয়ন্তি-আসবো ভাইয়া??
আদ্র-হুম আয়।
(সানি এখনো সে আগের মতোই আছে।আয়ন্তির কথা শুনে শুধু তার দিকে মর্মবিদ্ধ হরীনির মতো তাকায়,,,)
আয়ন্তি-পিচ্চির জ্ঞান ফিরেছে??,
আদ্র-হুম,,,তুই এখন এখানে??খাওয়া দাওয়া হলো সবার??
আয়ন্তি-প্রায় সবার শেষ।শুধু আমরা কয়েকজন আছি।পিচ্চি খাবে তো নাকি??
আদ্র-হ্যা,,,
আয়ন্তি-আচ্ছা,,,তুই পিচ্চিকে নিয়ে আয়।তারপর আমরা সবাই একসাথে খাবো।আমি বরং সবাইকে জানাই যে পিচ্চির জ্ঞান ফিরেছে।,,মাম্মামতো চিন্তায় অস্থির হয়ে পরেছে।
(এতক্ষণে সানি বলে উঠলো....)
সানি-ম্ মামনি ক্ কোথায়??
আয়ন্তি-আছে তো।আমি কি ডেকে দেবো??
আদ্র-নাহ,,লাগবে না।তুই যা,,আমি ওকে নিয়ে আসছি।তখন না হয় কথা বলে নেবে।
আয়ন্তি-আচ্ছা।
(বলেই আয়ন্তি চলে গেলো।,,,,)
আদ্র-ডল,,,চলো,,খাবে চলো।
সানি-আমি খাবো না।আর নিচে ওরা আছে।আমি যাবো না ওদের কাছে।
আদ্র-দেখো ডল,,আমি আছিতো।,,ওরা কিচ্ছু করবে না।আর খাবেনা বললে হয় নাকি??একটু তো খেতে হবে ডল।আর তুমি তোমার মামনির সাথে দেখা করবে না??
সানি-হুম
আদ্র-তাহলে চলো।
সানি-আচ্ছা।
(আদ্র এবার সানির একবাহু ধরে আরেক হাত তার কাঠে রেখে নিচে গেলো।ড্রয়িংরুমে আসতেই আরিফার সাথে দেখা।,,,,,)
সানি-মামনি??