আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ১২

🟢

(পরদিন সকল।আজ সবাই শপিংয়ে যাবে।,,,,তাই সবাই রেডি হচ্ছে।আদ্র,সায়মান,, রিসব,, এরা ড্রয়িংরুমে বসে অপেক্ষা করছে বাকিদের জন্য।এদিকে আদ্র বিরক্ত হচ্ছে,,কারন বিহান এখনো আসেই নি।সে এবার বিহানকে কল করলো...)

আদ্র-হ্যা,,,কোথায় তুই??

বিহান-আছি,,,বল।

আদ্র-কখন আসছিস??

বিহান-সরি ইয়ার।আজ যেতে পারছি না।আমি কাল ডিরেক্ট হলুদের অনুষ্ঠানে পৌছে যাবো।বাই।

(বলেই ফোন কেটে দিলো।কারন সে যানো এখন আদ্রের সাথে কথা বলা মানে বিপদ।,,,এদিকে আদ্র আবার গিয়ে সোফায় বসলো।)

রিসব- কিরে,,তোদের হলো??আর কতকাল লাগবে শুনি??

(তখনই শারমায়া সিড়ি বেয়ে নামে।)

শারমায়া-আদ্র ভাই।তোর বউ বলছে যাবে না।ওকে একটু বলনা।প্লিজ??

আদ্র-বউ??(অবাক হয়ে)

শারমায়া-হ্যা,,,পিচ্চি বলছে যাবে না।ও এই ভরদুপুরে পরতে বসেছে।

আদ্র-আমি দেখছি।

(আদ্র উঠে সানির রুমের দিকে গেলো।দেখলো আয়ন্তি আর রুসা তার সামনে বসে আছে।আর সানি নিজের মতোই পরছে।,,,আদ্র আয়ন্তিকে চোখের ইশারা করতেই আয়ন্তি আর রুসা বেরিয়ে গেলো।এই দিকে আদ্র যে এসেছে তা সানি বলতেই পারবে না।,,,আদ্র আস্তে করে গিয়ে পেছন থেকে সানির কোমর জরিয়ে ধরলো।আর নিজের থুতনি সানির কাধে রাখলো।এতে সানি কিছুটা হকচকিয়ে যায়।)

আদ্র-কি করছে আমার ডলটা??

সানি-আ্ আপনি?!!!আপনি এখন এখানে??আর এভাবে ধরছেন কেন??

আদ্র-ইচ্ছে হলো তাই।,,,, এখন বলো রেডি হচ্ছো না কেন??তুমি কি চাইছো,, আমি নিজে তোমাকে চেঞ্জ করিয়ে দিই?

সানি-না না,,ছিহ।কি বলছেন এসব??

আদ্র-তাহলে রেডি হচ্ছো না কেন??

সানি-আমার যেতে ইচ্ছে করছে না।তাই।আপনারা জাননা।

আদ্র-তুমি যাবে না??,,, তাহলে আমিও যাচ্ছি না।আমিও তোমার সাথে এভাবেই থাকবো।

(বলেই সে আরো শক্ত করে সানির কোমর জরিয়ে ধরলো।আর আলতো করে নিজের অধরজোড়া সানির গলায় ছোয়ালো।এতে সানি কেপে উঠলো।)

সানি-ক্ কি করছেন??

আদ্র-কেন??তুমিই তো বললে যাবে না।তো আমার কি দোষ??

সানি-আমি,,যাচ্ছি।হ্যা।

আদ্র-(পথে এসো জানু)(মনে মনে)

ঠিক আছে,, রেডি হয়ে নাও।

(বলেই আদ্র সানিকে ছেড়ে দিলো।উঠে দাড়িয়ে কাবার্ড থেকে একটা গোলাপি কালারের কুর্তি বের করে সানির হাতে দিয়ে বললো..)

আদ্র-এটা পরে এসো।আমি নিচে ওয়েট করছি।

(বলেই বাইরে চলে গেলো।আর সানি গেলো রেডি হতে।,,রেডি হয়ে আসতেই সবাই বড়দের থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পরলো।গাড়ি ড্রাইভ করছে আদ্র,,তার পাশে রিসব।পেছনে সানি,,আয়ন্তি আর রুসা।তাদের পেছনে আছে সায়মান, শারমায়া আর ইরুনি।,,,,,,,,কিছুক্ষণ পরেই সবাই শপিংমলে পৌছে গেলো।এই মলটা পুরোই আদ্রের।তাই নিজের মলেই এসেছে তারা।,,,,,,,সবাই সবার মতো শপিং করতে লেগেছে।আদ্র গিয়ে অন্য দিকে হাটছে।কানে তার ফোন।কারোর সাথে কথা বলছে সে।।।বলতে বলতে হঠাৎ তার চোখ আটকে যায় একটা দোকানে থাকা লাল একটা শারীর উপর।তার দিকে তাকিয়েই ফোনের লোকটিকে বললো...)

আদ্র-I'll call you back.

(ফোনটা নামিয়ে আদ্র ভাবতে লাগলো....)

আদ্র-(এই রকম একটা লাল শারীতেই আমি তোমাকে প্রথম দেখেছি পুতুল।হাহ।কি ঝগড়াটাই না হয়েছিলো ঐ দিন।আমি না জেনেই তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি।সরি ডল।আম রিয়েলি সরি।)(মনে মনে)

(আদ্র গিয়ে ঐ শারীটা কিনে নিলো।আবার অনেকক্ষণ পরে আয়ন্তিদের কাছে ফিরে এসে বললো...)

আদ্র-কিরে,,,৩ ঘন্টা হলো।আর কতক্ষণ??

আয়ন্তি-দেখ না ভাইয়া।পিচ্চি কিছুই নিতে চাইছে না।ম্যচিং ইভেন্ট গুলোর জিনিস তো কিনেছি আমরা সবার জন্য।কিন্তু এক্সট্রাগুলো।ও তো কিনছেই না।

আদ্র-ডল,,কি হলো তোমার??তুমি কিছু দেখছো না কেন??

সানি-আমার কিছু লাগবে না।

আদ্র-তোমাকে নিয়ে আর পারিনা

(বলে আদ্র নিজেই সানির জন্য ড্রেস আর অর্নামেন্স কিনে নিলো নিজের চয়েজ মতো।,,,,,,শপিং শেষে সবাই পাশে একটা রেস্টুরেন্টে গেলো।এমনিতেি দুপুর হয়ে গেছে।তাই তারা লাঞ্চটা আজ বাইরেই করে যাবে।,,,সবাই ফ্রাইড রাইস আর মাংস অর্ডার করলো।,,,সবাই নিজেদের মতো খাচ্ছে।সানি হাত দিতে যাবে তখনই আদ্র বলে উঠলো..)

আদ্র-স্টপ ইট ডল।হাতে ব্যথা পাবে তো।

(বলেই নিজে সানির মুখের সামনে খাবার তুলে ধরলো।)

আদ্র-নাও হা করো।

সানি-আমি নিজেই খেয়ে নিচ্ছি।না হলে দেরি হয়ে যাবে তো।

আদ্র-হবে না।তুমি মুখে নাও আগে।

(সানি আর কিছু না বলে খাবার মুখে তুলে নিলো।,,,তার পরপরই আদ্র একই প্লেট থেকে খাবার নিয়ে নিজের মুখে নিলো।,,,)

সানি-একি আপনি আমার এটো খাচ্ছেন কেন??রাখুন ওটা(উতলা হয়ে)

আদ্র-প্রবলেম কি??

সানি-ছি ছি,,,আপনি আমার এটো খাবারটা কেন খেলেন??

আদ্র-বেশ করেছি।আবার খাবো।এবার নাও তুমি হা করো।

(এভাবেই আদ্র নিজেও খেলো আর সানিকেও খাওয়ালো।এসব দেখে বাকি সবাই মুখ টিপেটিপে হাসলো।শুধু ইরুনি ছাড়া।,,,,,,,সে তো এসব দেখে জলছে।,,,খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই আবার আগের মতো।গাড়িতে উঠে বসলো।শুধু আদ্র আর রিসব সিট চেন্জ করেছে।)

সায়মান-এই,,বোরিং লাগছে।একটা গান ধর না তোরা।।

ইরুনি-সায়মান,,,এসব ডিজগাস্টিং আইডিয়া আসে কোথা থেকে???

শারমায়া-তোমার কাছে ইয়ার ফোন আছে??ইরুনি আপু??

ইরুনি-হ্যা,,,আছে।কেন??

রুসা-একটা বুদ্ধি দিই।ইয়ারফোন কানে দিয়ে বসে থাকো।তাহলেি আর এই ডিজগাস্টিং কথা শুনা লাগবে না বলো??

ইরুনি-গুড আইডিয়া।এটাই করবো।

(বলেই ইরুনি ইয়ারফোন বের করে কানে গুজে নিলো।,,,,সবার আর তার দিকে লক্ষ না করে বলে উঠলো...)

সায়মান-আদ্রভাই,,,ধরনা একটা গান।

আদ্র-উহুম।আজ আমি না।ডল গাইবে।ডল,,ধরো তো একটা গান।

সানি-আমিই??আমি না,, এসব আমি পারিনা।

সায়মান-আরে পিচ্চি হবে হবে।,,নাও শুরু কর।

রুসা-হ্যা,,হ্যা,,শুরু কর পিচ্চি।

(এদের জোরাজুরিতে সানি রাজি হলো.)

সানি-ঠিক আছে আমি গাইবো।তবে তোমাদেরও আমার সাথে গাইতে হবে।রাজি তো??

সবাই-ওকে,,ওকে।রাজি আমরা।

(এবার সানি গান ধরলো...)

♪♪♪♪

তোমার ঘরে বাস করে কারা ওমন জানো না

তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা মন জানোনা

তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা।

(এবার সবাই একসাথে গেয়ে উঠলো...)

তোমার ঘরে বাস করে কারা ওমন জানো না

তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা মন জানো না

তোমার ঘরে বসত করে কয়জা।

(এবার সবাই থেমে গেলো।সানি একা গেয়ে উঠলো...)

♪♪♪♪

একজনে ছবি আকে এক মনে ও অমন

আরেকজনে বসে বসে রং মাখে ও অমন।

(এবার আদ্র গেয়ে উঠলো...)

♪♪♪একজনে ছবি আকে এক মনে ও অমন

আরেকজনে বসে বসে রং মাখে ও অমন।

(এবার আদ্র সানিকেহাতের ইশারা করতেই সানি আর আদ্র একসাথে গেয়ে উঠলো...)

♪♪♪♪

আবার সেই ছবি খান নষ্ট করে

কোন জনা কোন জনা।

সেই ছবিখান নষ্ট করে কোনজনা কোনা।

(এবার আদ্র থেমে গেলো।সানি একাই গেয়ে উঠলো...)

♪♪♪♪

তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা মন জানোনা

তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা।

(এবার আবার সবাই একসাথে গেয়ে উঠলো...)

♪♪♪♪

তোমার ঘরে বাস করে কারা ওমন জানোনা

তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা মন জানোনা

তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা।

(গান শেষে সবাই হাততালি দিয়ে উঠলো।)

সারমায়া-ওয়াও,,,এখনই 4K ভিউজ।

রিসব-ভিউজ???

সারমায়া-হ্যা,,লাইভ হয়েছিলো এতক্ষণ। ওয়াও কমেন্টস দেখ।,,,হাউ সুইট ভয়েজ,,লাইক দা সুইট লেডি।

রুসা-বাহ,,পিচ্চিকে ইনডিগেট করে

সারমায়া-আরেকটা শুন।গানটা অনেক ভালো হয়েছে।গায়িকার মতোই সুন্দর।

আদ্র-এরা কমেন্স করার জন্য আর কিছু পায় না নাকি??,,,গান শুনেছে নাকি গায়িকাকে দেখেছে এর?(রেগে গিয়ে)

রুসা-বুঝেছি বুঝেছি।জেলাসি হুহ??

আদ্র-স্টপ ইট গায়েজ।চলে এসেছি,, নাম এবার।

(বাড়িতে এসে সবাই যার যার রুমে গেলো ফ্রেশ হতে।,,,,আদ্র ফ্রেশ হয়ে সানির রুমে গেলো।,,দেখলো সানি আবার সেই পড়া নিয়ে বসেছে।দেখেি বোঝা যাচ্ছে সদ্য শাওয়ার নিয়েছে।চুল থেকে টপটপ করে পানি পরছে।,,,তা দেখে আদ্র সানির কাছে যেতে যেতে বললো...)

আদ্র-এসব কি ডল??এমনিই তুমি উইক।এর ওপর চুল মুছোনি ভালো করে।আবার ঠান্ডা লেগে যাবে তো।আর এই সন্ধ্যায় শাওয়ার নেওয়ার কি আছে শুনি??

সানি-এমনিই।ভালো লাগছিলো না তাই।

(আদ্র সানির হাত ধরে টেনে নিয়ে ড্রেসিন টেবিলের সামনে বসালো।এরপর নিজে বারান্দা থেকে টাওয়াল এনে আলতো করে সানির চুল মুছতে লাগলো।,,,)

সানি-আমি মুছে নিচ্ছি।

আদ্র-লাগবে না।চুপ করে বসো।,,,

(সানি আর কিছু বললো না।আদ্র সানির চুল মুছা শেষ হলে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে সানির চুল শুকিয়ে দিলো।,,,,,,)

সানি-আপনি এখন কেন এসেছেন??কোনো দরকার??

আদ্র-না,,এমনিই এলাম।ভাগ্যিস এলাম।নাহলে তো তোমার এই কাজ টা চোখেই পরতো না।,,,দেখ ডল,,কাল থেকে কিন্তু সবাই একটু বিজি থাকবে।,,দেখ,বিয়ে বাড়ি।এমন হবেই।তাই বলছি,,এমন ছোট ছোট কাজ গুলোর দিকে একটু খেয়াল রেখো।নাহলে নিজেরই ক্ষতি।।

সানি-হুম(শান্ত গলায়)

আদ্র-এই তোমার কি হয়েছে বলো তো??শরীর খারাপ করছে??এভাবে কথা বলছো কেন??

সানি-না,, একটু টায়ার্ড লাগছে তাই।

আদ্র-ওহ,,তাহলে চলো।একটু রেস্ট নিয়ে নাও।ঠিক হয়ে যাবে।

সানি-না ঠিক আছে।

আদ্র-কিছু ঠিক নেই।তুমি এখন ঘুমাবে মানে ঘুমাবে।আজ আর পরতে হবে না।এখন তুমি ঘুমাবে।আমি তোমাকে ডিনারের আগে ডেকে দেবো।

(বলেই সানিকে জোর করে শুইয়ে দিলো।তারপর আদ্র সানির মাথায় বিলি কাটতে লাগলো।সানি না করলো কিন্তু কে শুনে কার কথা??আদ্র নিজের মতোই কাজ করতে লাগলো।আরাম পেয়ে সানিরও চোখ বুঝে এলো।সানি ঘুমিয়ে পরতেই আদ্র সানির কপালে একটা পরশ দিয়ে চলে গেলো।,,,,,,)

*★*★*★*★*★*★*★*★*

পরদিন সকাল।,,,,

(আজ আয়ন্তির মেহেন্দী আর সন্ধায় হলুদ অনুষ্ঠান। তাই ভোর থেকেি বাড়ি সাজানো শুরু করে দিয়েছে।,,,,,সানি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে দেখলো পুরো বাড়ি নানা রকম ফুল দিয়ে সাজানো।,,,,,,এতে সানি একটুও অবাক হয়নি।কারন সে জানে এসব কেন....,।সিড়ি বেয়ে সানি নিচে নেমে আসতেই দেখলো ড্রয়িং রুমে অনেকেই আছে।যাদের সানি চেনেই না।তাই সেখানে না গিয়ে সানি রান্নারুমের দিকে গেলো।দেখলো আরিফা কিছু একটা কাটছে।)

সানি-কি করছো আন্টি??

আরিফা-তুই উঠে পরেছিস??,,,সকালের নাস্তায় পাস্তা বানাবো সকার জন্য।তাই

সানি-ওও,,আচ্ছা।

আরিফা-তোর শরীর কেমন আছে??

সানি-ভালোই আছে।

(তখনই রুম থেকে সফিক ডাক দিলো....)

সফিক-আরিফা??কোথায় তুমি??আমার পাঞ্জাবিটা পাচ্ছি না।

আরিফা-আসছি।আমি একটু আসছি মামনি।তুই আছিস তো??

সানি-হ্যা,,তুমি যাও।আমি এখানে আছি।

(আরিফা চলে গেলো।কিছু একটা ভেবে সানি কোমরে ওরনা পেচিয়ে নিয়ে পাস্তা রান্না শুরু করে।,,, প্রায় শেষ দিকে তখন আরিফা আসে)

আরিফা-একি মামনি,,তুই কেন রান্না করতে যাচ্ছিস??আমিই তো করে নিতাম।

সানি-কিছু হবে না আন্টি।আমার অভ্যাস আছে

আরিফা-মানে??

সানি-হ্যা,,ওবাড়িতে তো প্রায় আমিই রান্না করতাম।

(সানির কথায় আরিফা একটু কষ্ট পেলো।)

আরিফা-আহারে,,এই টুকু মেয়েকে দিয়ে কেউ এমন করায়??(মনে মনে)

সানি-কি ভাবছো মামনি??

আরিফা-কিছু না।এখন তুই সরে আয়।আর বাদবাকি কাজ ওরা(সার্ভেন্টরা)করে নিবে।

সানি-আচ্ছা।

(ব্যাসিনে হাত ধুয়ে সানি চলে আসলো।)

সানি-আমি কি এখন রুমে যাবো আন্টি??

আরিফা-হুম,,যা।

(দুকদম আগাতেই আরিফা আবার বললো...)

আরিফা-শোন??

সানি-হ্যা,,আন্টি বলো।

আরিফা-একটু আগে আমাকে কি বলে ডাকলি তুই??

সানি-কেন??আন্টিই তো বললাম

আরিফা-উহুম।তার আগে কি বললি??

(কিছুক্ষণ ভেবে সানি বললো...)

সানি-সরি আন্টি,,ভুল করে মুখ থেকে বেরিয়ে গেছে।আসলে তুমি আমাকে মামনি বলে ডাকোতো,,তো ওটা শুনতে শুনতে আমি ভুল করে...আর কখনো এমন হবে না আন্টি।

আরিফা-উহু।ভুল যখন করেছিস,,তখনতো শাস্তি পেতেই হবে।

সানি-তুমি যা বলবে আমি তাই করবো।বলো।(কাদো কাদো মুখে)

আরিফা-তোর শাস্তি হলো এই যে,,,এখন থেকে তুই আমায় মামনি বলেই ডাকবি।

(আরিফার কথা শুনে সানি চমকে তার দিকে তাকায়।,,,,তা দেখে আরিফা মুচকি হেসে বলে...)

আরিফা-কিরে,,ডাকবি না মামনি বলে??

(সানির চোখ বেয়ে দুফোটা নোনা পানি গরিয়ে পরলো।,,)

সানি-ম্ মামনি,,,,,

(বলেই দৌড়ে গিয়ে আরিফার বুকে ঝাপিয়ে পরলো।,,,,তার কোলে মাথা রেখেই চোখের পানি ফেলতে লাগলো।আরিফাও সানির কষ্টের ব্যপারটা বুঝতে পেরে তাকে জরিয়ে ধরলো।সানির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো...)

আরিফা-এই মেয়ে,,,কাদছিস কেন তুই??এমন করে কাদে কেউ??থামতো দেখি।আমার মিষ্টি মামনির মুকে ঐ মিষ্টি হাসিটাই মানায় বুঝলি??এই কান্নাটা একদম পচা পচা লাগে।

সানি-তুমি,,,তুমি এত ভালো কেন মামনি??আমি তোমার কেউই হইনা।তবুও কেন এত আদর করছো আমায়??যেখানে আমার মায়ের পরিবর্তে আমার চাচিও আমায় এত আদর করেনি??তাহলে তুমি কেন করছো মামনি??

আরিফা-ধুর পাগলি??কে বললো তুই আমার কেউ না??তুইতো আমার মেয়েই। যেমন আয়ন্তি আমার মেয়ে,, তেমনি তুইও ‌আমার আরেক মেয়ে।আর তোর মা এখন নেই তো কি হয়েছে,,তিনি তো দেখছে রে উপর থেকে।যে তুই ঠিক আছিস কিনা।,,আর আমার মেয়েকে আমি আদর করবো না তো কে করবে শুনি??অবশ্য,,,যার এমন মিষ্টি একটা মেয়ে থাকে তাকে তো সবাইই আদর করতে চায়।যেমন আমার আছে।আমার মিষ্টি মামনি।,,

সানি-না মামনি,,আমাকে তো সবাই আদর করে না।সবাইতো ভাবে আমি একটা বারতি ঝামেলা।,,আমাকে সবাই দুরে ঠেললেই বাচে।,,যেমন আমার চাচি,,তিনি তো আমাকে একদমই আদর করতো না।দেখ,,এখন আমি ওখানে নেই,,উনি কত্তো শান্তিতে আছে।

(সানির কথা গুলো শুনে আরিফার দুঃখে বুক ফেটে যাচ্ছে।,,,তবুও সানিকে শান্তনা দেওয়ার জন্য বলে...)

আরিফা-ওমন মানুষ থাকে রে মামনি।ভাবতো একবার যদি পৃথিবীতে খারাপ না থাকতো তাহলে ভালোর কোনো মুল্য থাকতো??না তো,,তেমনি দেখ,,,এখন যদি তোর চাচি এমন না হতো তাহলে তুইকি আমাকে এতটা ভালোবাসতি বল??আর আমি কি তোর মতো একটা মিষ্টি মেয়ে পেতাম বল??

(তখনই আদ্র এদিক দিয়ে যাচ্ছিলো।সে দেখলো সানি আরিফাকে জরিয়ে ধরে নিরবে কাদছে আর আরিফা তাকে কিসব বলছে।সানির এই অবস্থা দেখে আদ্র ব্যস্ত হয়ে বলতে লাগলো...)

আদ্র-ড...

(এটুকু বলতেই আরিফা তাকে চোখের ইশারায় থামতে বললো।আদ্রও আর কিছু বললো না।আস্তে করে তাদের আরেকটু কাছে এসে দাড়ালো।সানি এখনো জানেই না এখানে যে আদ্রও আছে।সে নিজের মতোই আরিফার সাথে কথা বলতে থাকে)

সানি-তুমি আমাকে এত আদর করো না মামনি।যানো আমার চাচি না ঠিকই বলতো।,,,আমি একটা অপয়া।আমাকে যেএকটু বেশি ভালোবাসে তাকেই আমি খেয়ে ফেলি।দেখ,,আমার মা বাবাওতো আমাকে কত্তো আদর করতো।তাদেরও আমি শেষ করে ফেললাম।তাই বলছি তুমি আমাকে এত আদর করো না মামনি।তাহলে আমার জন্য তোমারও ক্ষতি হয়ে যাবে।আমার লাগবে না এত আদর।আমি আর কাউকে নিজের জন্য বিপদে ফেলতে চাই না মামনি।আর আমি অপরাধী হতে চাই না।

(সানির কথা শুনে আদ্র অবাক চোখে আরিফার দিকে তাকালো।চোখের ইশারায় বোঝালো,, কি বলছে এসব ও?? ,,, আরিফাও চোখের ইশারায় বললো,, আমি দেখছি।)

আরিফা-ধুর,,, পাগলি মেয়ে।এমনও হয় নাকি??দেখ,,,তোর মা বাবার জিবন ওতটুকুই ছিলো।তাই তারা তাদের সময় ফুরাতে চলে গেছে।সবাই এভাবেই যায় রে মামনি।কেউ কাউকে খায় না।,,,আর তুই অপয়া হতে যাবি কেন??তুইতো আমার ঘরে এক নতুন সুখ নিয়ে এলি।আমার আগের গোমরা মুখো ছেলেকে তুই নরমাল করলি।আমি যে কি খুশি হয়েছি তুই জানিস??,,,,,তুই অপয়া না মা।তুই তো সাধারনের মাঝেও অসাধারন।তোর মধ্যে ম্যাজিক আছে রে।যা অন্যরা পারে না তা তুই পারিস।আমিতো খুব লাকি তোর মতো একটা পরি মেয়ে পেয়ে।,,,দেখ,,আজ বাদে কাল আমার আরেক মেয়ে আয়ন্তির বিয়ে।সেতো আমায় রেখে চলে যাবে কাল।সে কাল থেকে অন্যের বাড়ির সদস্য হবে।,,,,আমি যে তোদের ছাড়া একা হয়ে যাবো।,,,,,মামনি,,তুই সারাজিবন আমার মেয়ে হয়ে আমার কাছে থাকবি তো??,,,

(সানি ওভাবেই মাতা উপর নিচ করে।মানে সে থাকবে।,,,,আরিফা এবার দুষ্টু হেসে বললো..)

আরিফা-কিন্তু আয়ন্তির মতো তোরও একদিন বিয়ে হয়ে যাবে।তখন তুই কিভাবে আমার কাছে থাকবি?তখন তো তুইও চলে যাবি তাই না???

(আদ্র,আরিফার কথা বুঝতে পেরে উদগ্রীব হয়ে আছে সানি কি বলে শোনার জন্য।,,,)

সানি-তাইতো??এবার কি হবে??পেয়েছি।

(আদ্র ভাবছে সানি বলবে যে সে তাকে বিয়ে করে এই বারিতেই থেকে যাবে।কিন্তু তার ভাবনায় এক বালতি পানি ঢেলে সানি বললো...)

সানি-আমি বিয়েই করবো না।তাহলেই আর অন্য কোথাও যাওয়া লাগবে না।

(সানির এমন বাচ্চামো কথা শুনে আদ্র ও আরিফা অবাক হয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো।,,,কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ দুজন একসাথে অট্টহাসিতে মেতে উঠলো।,,,,,)

(এদিকে হঠাৎ এমন হাসি শুনে সানি অবাক হয়ে মুখ তুলে তাকালো।,,,,).

সানি-আপনি এখানে???

আদ্র-ওয়েট,,,ওয়েট।আগে হেসে নিই৷, তারপর কথা বলছি।

(সানি এবার আরিফাকে ছেড়ে দাড়ালো।,,,সে বুঝতেই পারছে না এরা হাসছে কেন।,,,)

সানি-মামনি,,তোমরা এমন হাসছো কেন বলোতো??

আদ্র-ডল,,তুমি এমন কথা বললে আমি না হেসে থাকতেই পারলাম না

(আদ্র এবার হাসি থামিয়ে বললো...)

আদ্র-ডল,,,আমার কাছে একটা ভালো আইডিয়া আছে। শুনবে??

সানি-কি??

আদ্র-তুমি বরং এই বাড়িতেই বউ হয়ে আই মিন বিয়ে করে নিও।তাহলে তোমার বিয়েও হবে আর তোমার মামনিও তোমার কাছেই থাকলো।ভালো না আইডিয়াটা??

সানি-এটা কেমনে সম্ভব হবে??ধুর,,কিছুই মাথায় ঢুকছে না।,,,আমি গেলাম

(বলেই সানি চলে গেলো।,,,আর দিকে আরিফা আর আদ্র আবারও হাসিতে মেতে উঠলো।,,,)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ১২