আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ১১

🟢

সানি-আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন??গাড়ি থামান।আমি নামবো।

(হঠাৎ সানির কন্ঠস্বর শুনে পাশে ফিরে তাকালো আদ্র।মুচকি হেসে বললো...)

আদ্র-তোমার জ্ঞান ফিরেছে??গুড।এখন তুমি চুপচাপ থাকো।নাহলে আরো অসুস্থ হয়ে পরবে।

সানি-আমি বলেছি গাড়ি থামাতে।নামবো।মানে নামবো আমি।(চেচিয়ে বললো...)

আদ্র-ডল,,তোমাকে বলেছিনা রেস্ট নিতে।এমন চেচাচ্ছো কেন??

সানি-চাইনা আমার রেস্ট।আপনি গাড়ি থামান।

আদ্র-ডল।আমাকে রাগিও না। আমি চাইনা আবার তোমাকে রাগের মাথায় কষ্ট দিতে।

সানি-আপনি এমন কেন??বললাম তো গাড়ি থামান।

(আদ্রের এবার রাগ উঠতে লাগলো।হালকা রাগি কন্ঠে বললো...)

আদ্র-চুপ।একদম চুপ।খুব সাহস বেরে গেছে তোমার।মুখে মুখে কথা বলা শুধু।তুমি কি ভেবেছো,,আমি নরমাল আছি মানে আমার কিছু মনে নেই??তুমি যা করেছো,তার শাস্তি পাবেই তুমি।এখন চুপ করে বসে থাকো।

(সানি আর কিছু বললো না।,,,সে বুঝে গেছে যে এখন আর কিছু বলে লাভ নেই।,,তাই চুপ করে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।,,,,,,কিছুক্ষনের মধ্যেই তারা বাড়ি পৌছে গেলো।বেল বাজাতেই শারমায়া এসে দরজা খুলে দিলো।)

শারমায়া-একি ভাইয়া।তুই এখন?আর পিচ্চি এত তারাতারি?স্কুল।কি ছুটি??

আদ্র-আগে আসতে তো দিবি নাকি??

শারমায়া-হুম।আয়।

(আদ্র সানির হাত ধরে ভেতরে ঢুকলো।দেখলো সেখানে আয়শা আর আরিফা সোফায় বসে আয়ন্তির বিয়ের কার্ড নিয়ে কিছু একটা দেখছে।ইরুনি সোফায় বসে সামনে থাকা টেবিলের উপর পা তুলে বসে পকোড়া খাচ্ছে,,আর টিভিতে একটা সিনেমা দেখছে।আদ্র আর সানিকে এই সময় দেখে সবাই অবাক।আদ্র সানিকে নিয়ে ইরুনির পাশে জায়গা দেখিয়ে বললো...)

আদ্র-বসো এখানটায়।

(কিন্তু সানি আদ্রের হাত ছাড়িয়ে আরিফার পাশে গিয়ে বসলো।তা দেখে ইরুনি বিরবির করে বললো..)

ইরুনি-উউউহ।ন্যাকা,,

(আদ্রও ভাবতে লাগলো...)

আদ্র-(বাবারে,,,এত রাগ যে তার পাশেই বসবে না।যাক,,আমার পিচ্চি পুতুলটা তাহলে আমার মতোই। ভালোই জমবে।বাট এত রাগ??)(মনে মনে)

আরিফা-কিরে আদ্র??মামনি কে এত তারাতাড়ি নিয়ে এলি যে??আর তোর কলেজে কাজ নেই??

আদ্র-তা তোমার আদরের মামনিকেই জিজ্ঞেস করো।ক্লাশে কি অঘটন ঘটিয়েছে??

আরিফা-আমি ওর সাথে কথা বলছি না।তাই পারবো না।(রাগি সুরে)

সানি-আন্টি,,তুমিও??ওহ বুঝলাম।(করুন সুরে)

আয়শা-কি বুঝলি তুই?

সানি-কি আবার।তোমরা যে আমাকে এখানে দেখে সহ্য করতে পারছো না তা।

(সানির কথা শুনে সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে।আর ইরুনি তার পৈশাচিক হাসি দিচ্ছে নিরবে।সানি এবার আস্তে করে আরিফার পাশ থেকে উঠে দাড়িয়ে মাথা নিচু করে বললো....)

সানি-আসলে,,আমি উনার সাথে আসতে চাইছিলাম না।উনিই আবার নিয়ে এলেন।আমি তো কালই চলে গেছিলাম।কিন্তু আবার সেই এখানেই আসতে হলো।

(বলতে বলতে সানির চোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পরতে লাগলো।সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সানির দিকে।কারন আজ পর্যন্ত সানি কখনো এমন করে কথা বলেনি।মেয়েটার মনে যে এতটা কষ্ট লুকিয়ে আছে তা এতদিন বোঝেই নি কেউ।)

সানি-আ্ আসলে আমার কপালটাই এমন।যেখানে যাই সেখানেই কারো না কারো ক্ষতি করে দিই।

(সানি এবার বা হাতের তালু দিয়ে চোখের পানি মুছে হালকা হাসলো।)

সানি-তোমরা চিন্তা করো না আন্টি।আমি এক্ষুনি চলে যাচ্ছি।তোমরা আমার উপর নারাজ হইওনা প্লিজ।আমি আর তোমাদের কষ্ট দেবো না।

(বলেই পেছনে ঘুরে একপা এগোতেই আরিফা তাকে আটকানোর জন্য তার ডানহাত খপ করে ধরতেই সানি ব্যথায় আহ করে কুকড়িয়ে উঠলো।তা শুনে আরিফা চিন্তিত স্বরে বললো..)

আরিফা-কি হলো তোর!!

(আদ্র দৌরে এসে সানির হাত উপরে তুলে উত্তেজিত হয়ে বললো...)

আদ্র-ঠিক আছো তুমি ডল?বেশি ব্যাথা পেয়েছো??কি হলো বলো আমায়??

সানি-আমার লাগেনি।আমার হাতটা ছেড়ে দিন স্যার।আমাকে যেতে হবে।

আরিফা-কোথায় যাবি তুই??আর এমন করছিস কেন??কি হয়ে গেছে তোর??

আদ্র-জান নিয়ে নেবো আরএকবার যাওয়ার কথা বললে।

আরিফা-তোর হাতে ব্যান্ডেজ কেন?আদ্র,,,কি হয়েছে ওর হাতে??

সানি-কিছু হয়নি।এটা এমনিই।তুমি চিন্তা করছো কেন??,,,

আরিফা-তুই একদম চুপ থাক।আমার কথা শুনিস?যে আমি তোর কথা শুনবো??

আদ্র-মাম্মাম,,তুমি ওর উপর রেগে আছো কেন?

আরিফা-ওকে জিজ্ঞেস করতো,,সকালে ঠিক মতো খেয়েছে কিনা??

(এই কথা শুনে আদ্র সানির দিকে অবাক চোখে তাকায়।আর অন্যদিকে ইরুনি একটু ভয় পেয়ে যায়।)

শারমায়া-মানে কি??সকাল বেলায় ওতো বললো নুডলস খেয়েছে??

আরিফা-মিথ্যা বলেছে ও। আমি যানি ও খায়নি।

সানি-না আন্টি,, আসলে...

আরিফা-থাক।আর মিথ্যা বলতে হবে না,,,তুই যদি ঐ নুডলসটা খেতি তাহলে বোলটা ইরুনির রুমে কি করে গেলো??

(এবার ইরুনি ভয় পেয়ে গেলো।মনে মনে ভাবলো...)

ইরুনি-(এই রে,,এই মেয়েটা আবার সবাই কে বলে দেবে নাকি??)(মনে মনে)

আদ্র-ডল,,,মাম্মাম যা বলছে তাকি সত্যি??নাকি ইরুনি কোনো ভাবে আবার...

সানি-নানা,,,আমিই আপুকে দিয়েছিলাম।খেতে ইচ্ছে করছিলো না তাই।

আদ্র-(আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তুমি ইরুনি কে বাচাতে চাইছো।কিন্তু কেন??)(মনে মনে)

আরিফা-তোর খিদে পায়না বুঝি???

আয়শা-হ্যা তো??কাল দুপুরেও না খেয়ে বেরিয়ে গেলি।রাতেও জ্বরের কারনে তোর খাওয়া হলো না।আর সকালেও তুই খেলি না।এভাবে বেখেয়ালি ভাবে চললে হয় নাকি??

সানি-আমি ঠিক আছি তো কাকিয়া।

শারমায়া-আচ্ছা,,,এখন থাক ওসব।পিচ্চি এখন তো কিছু খাবে নাকি??

আদ্র-ডল,,,তুমি রুমে যাও।ফ্রেশ হয়ে নিচে এসো।চেঞ্জ করে নিও।আর হ্যা হাতে একদম পানি লাগাবে না।ওকেয়??

(সানি হ্যা সুচক মাথা কাত করলো।তার চোখে এখনো পানি। আদ্র আস্তে করে গিয়ে তার দু হাত সানির গালে রাখলো।বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে সানির চেোখের পানি মুছে দিয়ে আদুরে গলায় বললো...)

আদ্র-কি হয়েছে আমার ছোট্ট পুতুলটার??কাদছো কেন তুমি??কষ্ট হচ্ছে তোমার?

(সানি না বোধক মাথা নাড়ে)

আদ্র-আমাকে বলবে না??রাগ হয়েছে আমার উপর??সরিনা পুতুলটা।,,এবার মাফ করে দাও এই বানদাটাকে??

সানি-আমি তো রেগে নেই আপনার উপর।আর আমি রেগে কেন থাকবো??আপনি তো ঠিকই বলেছেন।যত দোষ সব আমারই।আমিই বেশি দুষ্টুমি করি।কাল ইরুনি আপুকে ঐ ভাবে ধরাটাও ঠিক হয়নি আমার।আর আমি আপনাদের সবার মাঝে থেকে এটাই ভুলে গিয়েছিলাম যে আমি এখানে একজন আশ্রিতা ছাড়া আর কিছুই না

আদ্র-ডল!!!,কি বলছো তুমি এসব??সানি-আমি ঠিকই বলছি।আমি সত্যি বলছি,,আর ফিরবো না কখনো।অনেক দুরে চলে যাবো।থাকতে না পারলে আমার মায়ের কাছেই চল.....

আদ্র-ডল!!আর কখনো এই কথা মুখে আনবে না।আমার দিব্বি।

(বলেই সানিকে নিজের বুকে জরিয়ে নিলো আদ্র।যেন ছেড়ে দিলেই পালিয়ে যাবে।কিছুক্ষণ পরে সানি শান্ত কন্ঠে বললো....)

সানি-ছাড়ুন প্লিজ।আমাকে এভাবে ধরে রাখলে আপনার জামা নোংরা হয়ে যাবে।

(সানির কথা শুনে আদ্র অবাক হয়ে সানিকে ছেড়ে তার দিকে তাকালো।মনে মনে বললো...)

আদ্র-(আমার পুতুলটার তাহলে অভিমান হয়েছে আমার উপর।তাই এত কিছু।পুতুলরানী,,,তোমার রাগ এই তোমার পচালোকটাই ভাঙাবে।আই প্রমিস ইউ।,,,)

আয়শা-আদ্র,,এখন থাক ওসব।ওকে তো কিছু খেতে হবে।

শারমায়া-হ্যা,,,চল পিচ্চি।

আদ্র-সাবধানে নিবি।আমার ডল যদি একটুও ব্যাথা পায় তাহলে খবর আছে তোর।

শারমায়া-আচ্ছা বাবা।পাবেনা ব্যাথা।এখন তো যেতে দে।

আদ্র-হুম যা।

(শারমায়া সানিকে নিয়ে উপরে চলে গেলো।আদ্র গিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসলো।,,,)

আরিফা-কাল।বাদে পরশু বাড়িতে একটা বিয়ে।আর মামনি এমন হয়ে গেলো??আদ্র,,,, কেন তুই ওকে এমন কষ্ট দিতে গেলি বল??কত চেঞ্জ হয়ে গেছে মেয়েটা একদিনে।

আদ্র-মাম্মাম আমি রাগের মাথায় কি না কি বলে ফেলেছি।

ইরুনি-আদ্র।তুমি তো ঠিকই বলেছো।ঐ রকম মেয়েদের আমার হারে হারে চেনা আছে।ওদের সাথে এভাবেই কথা বলা উচিৎ।

আদ্র-ইরুনি,,,তুমি এই বাড়ির অতিথি। তাই আমাদের ফ্যামিলি মেমবারকে আমাদের থেকে ভালো তুমি চিনবে না।আর হ্যা,,,,আমি তোমার সম্পর্কে মামাতো ভাই হই।তাও তোমার বড়।তাই ভাইয়া বলে ডাকো।ওকেয়??

(ইরুনি ঠিকই বুঝেছে যে আদ্র তাকে পানি ছাড়াই ধুয়ে দিয়েছে।তাই আর কোনো কথা না বলে চুপচাপ নিজের রুমে চলে গেলো।)

আয়শা-ওহ,,গেলো।

আরিফা-আমি সার্ভেন্টকে বলি গিয়ে মামনির জন্য খাবার নিতে।আদ্র তুইও চেঞ্জ করে আয়??

আদ্র-না মাম্মাম।আমি বেরোবো।শো আছে আজকে।

আরিফা-ওহ,,তাহলে খেয়ে বেরোস?

আদ্র-হুম,,তাই হবে।তা আয়ন্তির বিয়ের কার্ড ছাপানো হয়ে গেছে??

আয়শা-হুম।সেম্পল পাঠিয়েছে।

আদ্র-তাহলে আজকে থেকেই পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।আর মাত্র দু দিন বাকি।

আয়শা-হুম।আজতো শিরিন চলে আসবে।

আদ্র-ছোট কাকাই গেছেতো ড্রপ করতে??

আয়শা-সে আর বলতে??সেলিম ভাই না গেলে তার কি হবে তাতো জানেই(হাসতে হাসতে)

(ওদিকে আরিফা চলে গেছে রান্নাঘরে।,,,তখনই দরজার বেল বেজে উঠলো।এক জন সার্ভেন্ট গিয়ে দরজা খুলতেই শায়মান আর রিসব ভেতরে ঢুকলো।সায়মান এসেই আনমনা হয়ে আদ্রের পাশে সোফায় ধপাস করে বসে পরলো।চোখ বন্ধ করে বললো...)

সায়মান-ওয়াটস আ্যাপ ব্রো??

(তখনই সে কিছু একটা ভেবে এক লাফে চোখ খুলে আদ্রের দিকে তাকালো।আদ্রের দিকে আঙুল তুলে বললো...)

সায়মান-তুই??? এখন???এখানে?কি করে???কলেজ যাসনি???কিরে??অফিসে কাজ নেই??এই তোর না শো ছিলো??

রিসব-ঐ সায়মানের বাচ্চা।।গুনে গুনে ৮টা প্রশ্ন করলি।ভাই কোনটার উত্তর দিবে শুনি??

সায়মান-তুই থামতো।এই ব্রো??তুই তো কখনো এই সময় বাড়িতে থাকিস না??আজ হঠাৎ এখানে??

আদ্র-তার আগে এটা বল ডল তোদের সাথে গিয়েছিলো কি না??

রিসব-হ্যা,,গিয়েছিলো তো??

আদ্র-তাহলে ওকে দেখে রাখার দায়িত্ব তোদের কি না??

সায়মান-হ্যা,,,এই যা।আমরা সবাই চলে এলাম।তুইও চলে এলি।এখন পিচ্চিকে আনবে কে??সরি ব্রো সরি।আমি এক্ষুনি যাচ্ছি পিচ্চিকে নিয়ে আসতে।

(বলেই উঠতে নিলে....)

আদ্র-থাক,, আর উপকার করতে হবে না।ডল এখানেই আছে।

রিসব-সে কিরে??স্কুল তো এখনো ছুটিই হয়নি।

আদ্র-তোরা কিকরে জানলি??

সায়মান-ইয়ে মানে,,,,ঐ আর কি,, হিহি।এমনি আর কি।

আদ্র-সোজাসুজি উত্তর দে।কি করছিলি তোরা ওখানে??আর হঠাৎ আজ তোরা কলেজে কেন গেলি??

(রিসব আনমনা হয়ে বলেই দিলে...)

রিসব-না ভাই।আমি কলেজে গেছি,,আর সায়মান স্কুলে গেছে।

সায়মান-ওরে রিসবের বাচ্চা।তোরে এখনি চাইনিজ কাচি দিয়ে কাইটা ঐ ইম......

(এইরে কি বলছিলাম।ধরে ফেলে নিতো??)

আায়শা-তোরা আজ সানিদের স্কুলে গিয়েছিলি??

আদ্র-হ্যা,,আমি মনে হয় জানি যে ওরা কেন গিয়েছিলো।

আয়শা-এই রুসা কোথায়??

সায়মান-ও আছে।তুমি ভেবোনা ওকে নিয়ে।

আয়শা-এই দুপুরবেলায় মেয়েটা একা কোথায় আছে?

(সায়মান আর কোনো কথা খুজে না পেয়ে আদ্রের দিকে চোখ দিয়ে কিছু একটা ইশারা করতেই আদ্র বলে উঠলো...)

আদ্র-কাকিয়া,,,টেনশন নিওনা।ও ওর ফ্রেন্ডের সাথে আছে।

রিসব-(সালা।বয়ফ্রেন্ড বল।ফ্রেন্ডতো তোর।)(মনে মনে)

(তখনই শারমায়া সানিকে নিয়ে নিচে এলো।,,আদ্র সামনে গিয়ে সানির দিকে হাত বাড়ালেই সানি শারমায়ার সাথে ঘেসে দাড়ায়।আদ্র হাত নামিয়ে ফেলে।)

আদ্র-ওকে ফাইন।আমাকে ধরার প্রয়োজন নেই।টেবিলে এসো।

(কোন কথা না বলে সানি লক্ষি মেয়ের মতো গিয়ে টেবিলে বসলো।তখনই একজন মেয়ে স্টাপ তার সামনে খাবারের প্লেট দিলো।,,,)

আরিফা-খেয়ে নে মামনি।না খেয়ে তো মুখটা শুকিয়ে গেছে।

(সানি হাতটা প্লেটের কাছে নিতেই আদ্র বলে উঠলো...)

আদ্র-ওয়েট,,,,কি করছো তুমি??হাতে ব্যান্ডেজ,, সে খেয়াল আছে তোমার??

(বলেই এগিয়ে এসে সানির পাশের চেয়ারে বসলো।সানির প্লেটের খাবার মাখতে মাখতে বলতে লাগলো...)

আদ্র-এতো আনমনা কেন তুমি ডল??হাতের কি অবস্থা সেটাকি ভুলে গেছো তুমি??নাও হা করো। আমি খাইয়ে দিচ্ছি।

(বলেই সানির মুখের সামনে খাবার তুলে ধরলো।সানি অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আদ্রের দিকে।)

আদ্র- কি হলো,,,হা করো না ডল।

(সানি এবার আস্তে করে হা করলো।আর আদ্র তার মুখে খাবার পুরে দিলো।ঘোরের মধ্যে থেকেই সানি খেতে লাগলো।এদিকে আদ্র সানির কোমল অধরের নেশায় হারাতে লাগলো।খাওয়ানোর সময় আদ্রে আঙুল গুলো বার বার সানির অধর স্পর্শ করছে।তখনই আদ্রের হার্ট বিট বেরে যাচ্ছে।,,,ওদিকে বাড়ির বাকিরা আদ্রের এমন কেয়ারিং রুপ দেখে মিটিমিটি হাসছে।,,,,,,,)

(খাওয়া শেষ হলে আদ্র নিজেও খেয়ে নেয়।তারপর সানিকে রুমে দিয়ে এসে নিচে নামে বাইরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।যাওয়ার সময় বলে...)

আদ্র-রিসব,সায়মান।কার্ডগুলো যেন আজকের মধ্যে দেওয়া হয়ে যায়।আর পরশু মেহেন্দি সংগীত হবে।তাই কালকের মধ্যে সব শপিং কম্প্লিট করতে হবে।যা করার করে নিস।

সায়মান-সে কি রে।শপিংয়ে তুই থাকবি না??

রিসব-এটা ঠিক না ব্রো।

আদ্র-দরকার পরলে যাবো।নো প্রমলেম।

শারমায়া-যেতেই হবে।আর পিচ্চিকেওতো সামলাতে হবে তাই না??(মিটিমিটি হেহেসে)

আদ্র-ওকে ফাইন।আমি কালকে কোথাও যাবোনা।তোদের সাথে শপিংয়ে যাচ্ছি।হ্যাপি??

শারমায়া-এয়েএএএএএএ

আদ্র-মাম্মাম,,, আসছি আমি।ফিরতে দেরি হবে।শো আছে

আরিফা-যা,বাবা।

(আদ্র চলে যায়।আরিফা আর আয়শা চলে যায় তাদের মতো কাজ করতে।বিয়ে বাড়ি বলে কথা। কাজ না করলে হয় নাকি??এদিকে সায়মান আর রিসব গিয়ে সোফায় বসতেই শারমায়া গিয়ে তাদের মাঝখানে বসলো।)

শারমায়া-কিরে,,, কেমন পটালি শুনি??

রিসব-তোকে কেন বলবো???

সায়মান-পিচ্চি একা আছে।যা ওর কাছে যা।

শারমায়া-ও হ্যা,,তাই তো।তবে,,,আমি একা কেন যাবো??তোরাও যাবি।আর যা কথা হবে পিচ্চির সামনে হবে।

(বলেই দুহাতে দুজনকে টানতে টানতে সানির রুমের দিক গেলো।)

শারমায়া-পিচ্চি?????

(ভতরে ঢুকতেই দেখলো সানি পরার টেবিলে বসে বসে পরছে।শারমায়ার কথা শুনে পেছনে ফিরে তাকায়।)

সানি-আপি,,ভাইয়া,,,তোমরা???আসো??

রিসব-তুই এই সময় পরতে বসেছিস কেন??

সানি-এমনি ভাইয়া।ভালো লাগছিলো না।তাই একটু।

সায়মান-এই,, আমাদেরও একটু টিপস দিস তো।কিভাবে এত এত পরতে হয়??

(সায়মানের কথায় সবাই হালকা হাসলো।)

শারমায়া-ছারতো এসব কথা।এই পিচ্চি,,তুইকি জানিস??আজকে এরা তোর স্কুলে কেন গিয়েছিলো??কিছুকি দেখেছিস??

সানি-জানিনা তো???তবে দেখলাম রিসব ভাইয়া ইমু আপুর সাথে কি যেন কথা বলছে।বাট কিছু শুনলাম না।

শারমায়া-ও আচ্ছা।আর এই গর্ধপটা??

সানি-সায়মান ভাইয়া তো????

সায়মান-শামুর বাচ্চা,,তোরে তো আমি??.

(বলেই শারমায়াকে উরাধুরা মারতে লাগলো।।)

সানি-ভাইয়া,,আপু ব্যাথা পাচ্ছে তো??এবার টি ছেরে দাও।

(সানির কথায় সায়মান শারমায়াকে ছেড়ে দিলো।,,,,)

শারমায়া-তোকে তো পরে দেখে নেবো।হুহ।

রিসব-আচ্ছা ভালো কথা।রুসা এখনো আসে নাই যে??

সায়মান-তোর বোন যে প্রেম লীলা চালাচ্ছে।তার থেকে কি আসবে এত তারাতারি?

সানি-কি বলছো তোমরা??

শারমায়া-আরে,,রুসা তার বয় ফ্রেন্ডের সাথে আছে। এটাই??

সানি-তার মানে কয়দিন পরে রুসা আপুরও বিয়ে??

রিসব-এই না না না।তার তো এখনো কেউ যানেই না।আমরা ছাড়া।

রিসব-শালা বিহানের আর কাজ নাই।আদ্রের ফ্রেন্ড হয়ে তার বোইনের সাথে থাকে।কি কপাল দেখ।

সায়মান-এই শামু।বোরিং লাগছে।ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম নিয়ে আয়।

রিসব-না,,,পিচ্চির জ্বর। সে খেয়াল আছে??

শারমায়া-তাহলে, চকলেট/???

সানি-আমি এখন কিছু খাবো না।তোমরাই খাও।

শারমায়া-এই পিচ্চি।কি হলো তোর??আজ কাল এমন করছিস কেন??

সানি-কিছু হয়নি তো??আমি তো ঠিকই আছি।

রিসব-না,,তুই ঠিক নেই।আগের মতো হাসিস না তুই??কেমন যেন গোমড়া মুখ করে আছিস?.

সায়মান-ভাইয়ের কথায় খারাপ লেগেছে??

সানি-নাহ,,,সে কি ভুল কিছু বলেছে নাকি??যে আমার খারাপ লাগবে?

রিসব-তার মানে,,,ঐ ইরুনি।

সানি-থাক না ওসব।

শারমায়া-এখন থাক ওসব।এই পিচ্চি।কালতো শপিংয়ে যাচ্ছি আমরা সবাই।

সানি-কেন??

রিসব-কেন মানে???পরশু থেকে আয়ন্তির বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু।তাই।

সানি-ওহ,,আচ্ছা।

সায়মান-আাচ্ছা বললে হবে না।যেতে হবে।সবাই মিলে যাবো।

সানি-তা না হয় পরে দেখা যাবে।

(এরকম ভাবে আরো কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে রিসব,সায়মান আর শারমায়া চলে যায়।আর সানি আবার পরায় মনোযোগ দেয়।)

রাত ১১ঃ৩০।।

(কিছুক্ষণ আগেই আদ্র বাসায় এসেছে।ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠে..)

আদ্র-সবাইকে দেখছি।আমার ডল কোথায়??...

আরিফা-রুমেই আছে।

শিরিন-আসছি ধরে মেয়েটাকে বের হতে দেখিনি।কি হয়েছে ওর??

(শিরিন এতদিন তার বাবার বাসায় ছিলো। আজকেই এসেছে।)

আদ্র-কিছু হয়নি কাকিয়া।আর তোমরা ওকে একা কেন রেখেছো??এখানে আনলে তো একটু হাসি খুশি থাকতো ও।

রুসা-আমি ডেকেছিলাম।ও বললো আসবে না।

আরিফা-আমি ডিনারের ব্যবস্থা করছি।আয়ন্তি মা।ওকে একটু ডেকে আয়তো।

আদ্র-বোনু তুই বস।আমিই যাচ্ছি।

(বলেই আদ্র সানির রুমের দিকে গেলো।তা দেখে সবাই মিটিমিটি হাসতে লাগলো।,,,সফিক বললো...)

সফিক-তোরা হাসছিস??আমি তো এটা ভেবে খুশি যে ছেলেটা কাউকে না কাউকে পছন্দ করেছে।যাক বাবা। চিন্তা দুর।

রফিক-তা তো বটেই ভাইয়া।আর দেখ।কেমন ভালো মেয়ে??ওকে দেখেই চেনা যায় বলো?.

সিরিন-হুম,,,,মেয়েটা ভারী মিষ্টি।

+++++++++

(ওদিকে আদ্র সানির রুমে গিয়ে দেখলো সানি খাটের কোনায় হেলান দিয়ে বসে বসে ঘুমাচ্ছে।সামনে বই।দেখেি বোঝা যাচ্ছে পরতে পরতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরেছে।আদ্র সানির সামনে গিয়ে তার দিকে একটু ঝুকে তাকে দেখতে থাকে।কি মিষ্টি লাগছে তার পিচ্চি পুতুলকে।ঘুমালেও যে কাউকে এতটা মিষ্টি লাগে তা পুতুলকে না দেখলে বোঝাই যেত না।,,,আদ্র মুচকি হেসে আস্তে আস্তে বলতে শুরু করে...)

আদ্র-এত কিউট কেন তুমি??বার বার আমাকে নিজের প্রতি সম্মোহন করছো।এই রুপেও সম্মোহন করা যায়??ওহ,,আমিও কি ভাবছি।তুমিতো আমারই সম্মোহীনি।যে শুধু আমাকে সম্মোহন করবে।এই আদ্রকে সম্মোহন করবে।নিজের অজান্তেই।আমার পুতুল।আমার সম্মোহীনি,,,। এই #আদ্রের_সম্মোহীনি।

(এসব বলে আদ্র সানির কপালে একটা ভালোবাসার পরশ একে দেয়।,,,কিছুক্ষণ ওভাবেই তাকিয়ে থেকে খাটে উঠে সানির কোলে মাথা রেখে শুয়ে পরে।তার দৃষ্টি এখনো সানির উপর।,,,)

আদ্র-(উপহহ।আমার পুতুলটা যে এত ঘুমপ্রিয় তাতো জানতাম না??কিন্তু পুতুলসোনা।এখন তো তোমাকে ঘুমাতে দিতে পারবো না আমি।দাড়াও দেখাচ্ছি মজা।)(মনে মনে)

(বলেই আদ্র নিজের মাথাটা সানির পেটের দিকে ঘুরালো।গ্রান নিতে থাকলো তার পুতুলের শরীরের। এক হাত দিয়ে সানির কোমরে হালকা সুরসুরি দিতেই সানি হকচকিয়ে উঠলো।সোজা হয়ে বসতেই আদ্রকে এই অবস্থায় দেখে চমকে উঠে সে।,,,)

সানি-আ ্্আপনি এখানে।এএএই অবস্থায়??কি করছেন আপনি।

আদ্র-মাতাল হচ্ছি আমি।তোমার নেশায়(ঘোরের মাঝে)

সানি-কি বলছেন এসব।আ্ আপনি উঠুন প্লিজ।আমার কেমন জানি লাগছে।

(সানির কথায় আদ্র হালকা হাসে।আবার সোজা হয়ে শুয়ে সানির মুখের দিকে তাকিয়ে বললো..)

আদ্র-এখন ঠিক লাগছে??

সানি-আপনি এখানে কেন শুয়েছেন??রুমে গিয়ে আরাম করুন?.

আদ্র-আমিতো এভাবেই আরাম পাচ্ছিলাম।তুমি তো আরাম করতেই দিলে না।

সানি-এটা কোনো কথা??আপনি যেভাবে শুয়েছিলেন।।উহহহ।আমার তো দম বন্ধ হয়ে আসছিলো।

আদ্র-এটুকুতেই দম বন্ধ???আল্লাহ।আমার কপালে কি আছে কে যানে??

সানি-মানে??

আদ্র-না,,,ভাবছি এই সামান্য ব্যপারে দম বন্ধ হলে আরো সিরিয়াস ম্যাটারে কি হবে??এই ভাবে চললেতো আর আমার নাতি-নাতনির মুখ দেখতে হবে না।

সানি-এই,, কি বলছেন আপনি??কিছুই বুঝতে পারছি না।

(আদ্র উঠে বসে সানির নাক টিপে দিয়ে বললো..)

আদ্র-তোমার ছোট্ট মাথায় এসব ঢুকবে না।বড় হও ঠিক বুঝবে।

সানি-এ্যা!!

(আদ্র একগাল হেসে দিয়ে সানিকে হাত ধরে খাট থেকে নামালো।)

আদ্র-চলো।ডিনার করবে।আর এত পরা কিসের শুনি??য পরতে পরতে ঘুমিয়েই গেছো।

সানি-এমনি(মন খারাপ করে)

আদ্র-আচ্ছা চলো।আর কিছু বলতে হবে না।

(আদ্র সানিকে নিয়ে গিয়ে সবার সাথে টেবিলে বসালো।দুপুরের মতোই তাকে খাইয়ে দিলো।এরপর রুমে সানিকে শুইয়ে দিয়ে চলে আসলো।,,,,,,)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ১১