আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৬

🟢

(আদ্র সানিকে নিয়ে ব্যাকস্টেজে চলে আসলো।ওখানে কেউই নেই।,,,কিছু গার্ডস ছিলো।কিন্তু তারাও আদ্র ইশারা করতেই বেরিয়ে গেলো।আদ্র সানিকে নিয়ে একটা সোফায় বসলো।,,,,সানি এখনো কেমন যেন চুপচাপ আছে।তা দেখে আদ্র পানির বোতলের চিপি খুলে সানির সামনে নিয়ে বললো...)

আদ্র-হা করো,,,

(সানিও কিছু না বলে আদ্রের হাতে পানি খেয়ে নিলো।এটা ওর এখন দরকারও ছিলো।তারপর আদ্র বোতল রেখে নিজের দুহাত সানির দু গালে আলতে করে ধরলো।সানির মুখটা একটু উপরে তুলে হাসি মুখে বললো....)

আদ্র-ভয় পেয়েছো??

সানি-(চুপ,,,,,)

আদ্র-কথা বলবে না???,,,,ভয় করছে এখনো??আরে বোকা,, আমি আছি তো।

সানি-আমার এখানে আসাটাই উচিৎ হয়নি।আমি যেখানেই যাই সেখানেি প্রবলেম হয়।সব আমার জন্য হয়েছে(মন খারাপ করে)

আদ্র-একদম বাজে কথা বলবে না।তোমার জন্য কিচ্ছু হয়নি।যা হয়েছে,,তাএকটা সামান্য মিসআন্ডাসট্যান্ডিং।আর কিছুই নাহ।

সানি-আমি আপনাকে পচা বলেছি,,তাইতো ওরা আমাকে ওভাবে বকছিলো।

আদ্র-ওরা বুঝতে ভুল করেছে ডল।তুমি যা ভেবে বলেছো,,তা ওরা বুঝতে পারেনি।এখন ছারো তো ওসব।একটু হাসো তো দেখি।দেখ,,,,এই সাজের সাথে আমার ডলকে কখনোই মন খারাপ মানায় না।একদম বাজে লাগে।একটু হাসো না প্লিজ।

,,,,(সানি হালকা মুচকি হাসলো)

আদ্র-এইতো,,,দেটস লাইক মাই ডল।এখন চলো,,,এখানে একা থাকা যাবেনা তোমসর।কিছুক্ষণ পরে আমিও স্টেজে চলে যাবো তো।তোমাকে ওদের কাছে দিয়ে আসি।

(বলেই আদ্র সানির হাত ধরে উঠতে গেলে সানি বলে উঠলো...)

সানি-আপনার যাওয়া লাগবে না।এখন গেলে সবাই আবার ঘিরে ধরবে।

আদ্র-মানে কি,,,আমি তোমাকে একা ছারবো না।চলো তো।

সানি-আরে,,একা ছারতে কে বলেছে??আপু আর ভাইয়াদের ফোন করে এখানে আসতে বলুন না,,আমাকে ওরাই নিয়ে যাবে।

আদ্র-গুড আইডিয়া,,,,,বাহ,,আমার ডলতো দেখছি বুদ্ধিমান হয়ে যাচ্ছে,,,,

সানি-আমি মোটেও বুদ্ধিমান নাহ,,

আদ্র-তাহলে কি??

সানি-আমি বুদ্ধিমতী।হিহিহি

আদ্র-ওহ,,আচ্ছা,,,ওয়েট আমি রিসবকে কল করছি।,,,

(রিসবকে কল করতেই কিছুক্ষণ পরে সায়মান আর রিসব এসে সানিকে নিয়ে গেলো রুসা আর শারমায়াদের কাছে।তারা স্টেজের ঠিক সামনের থেকে দুটো সীট পিছনে,,, জায়গা পেয়েছে।হাজার হাজার মানুষের ভীরে এটা পেয়েছে৷ তাই অনেক।তারা পাচজনই একসাথে বসলো।কিছুক্ষণ পরেই সামনে থাকা স্টেজে একজন লোক এংকার হিসেবে বলতে লাগলো....)

এংকার-লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যানস,,,,, এতক্ষণ আপনারা যার অপেক্ষা করছেন,,,সে ইতোমধ্যেই আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়ে গেছে।তো আপনাদের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে এখুনি।তো,,,প্লিজ ওয়েলকাম দা সুপার স্টার আদ্রিয়ান জুনায়েদ আদ্র,,,,

(কথা শেষ না হতেই অডিয়েন্সরা হু হা করে চিল্লাতে শুরু করলো।এবং সবাই হাত তালি দিতে লাগলো।আর তখনই আদ্র গিটার হাতে নিয়ে স্টেজের উপর উঠলো বেক স্টেজ থেকে।সে উঠতেই দুদিক থেকে ধোয়া দেওয়া হলো।স্টেজের সমস্ত লাইটের ফোকাস এখন শুধু মাত্র আদ্রের উপর। আদ্র প্রথমেই নিজের ডান হাত নাড়িয়ে সবাইকে হাই জানালো।এতেই যেন সবার জান যায় যায় অবস্থা। সবার মধ্যেই টান টান উত্তেজনা আদ্রের গান শুনবে বলে।আদ্র মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলে উঠলো....)

আদ্র-হোয়াটস অ্যাপ গায়েজ???

(অডিয়েন্সের মধ্যে থেকে অনেকেই বলে উঠলো....)

+++++ভালো।।।

আদ্র-আজ আপনাদের জন্য ডবল সং আছে ফ্রম মি...

(সবাই যেন খুশিতে আত্মহারা। এই কথা শুনে সবাই জোরে চিল্লিয়ে উঠলো...)

+++++ইয়েএএএএএ

আদ্র- তবে আজ আমি একা নই।আজ আপনাদের মধ্যে উপস্থিত হতে চলেছে,,,মাই বেস্টফ্রেন্ড,,,,। ছোটবেলা থেকে আমার পাশে আছে যে।যার জন্য আমি এসেছি এই পর্যায় পর্যন্ত। তার নাম বিহান সিকদার।,,,,,সো গায়েজ,,আপনারা কি আজ এই নতুন সিঙ্গারের কন্ঠে গান শুনতে রাজি???

সবাই মিলে বললো....---রাজি,,,,

আদ্র-ওকেয়,, থ্যাংকস ফর কোঅপারেট।

(তখনই অডিয়েন্স থেকে একটা মেয়ে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে দাড়িয়ে বললো...)

মেয়েটি-মিঃআদ্রিয়ান।

আদ্র-ইয়েস???

মেয়েটি-আই হ্যাভ এ কোইসচান??

আদ্র-হ্যা,,,প্লিজ টেল।

মেয়েটি-স্যার,আজ আপনাকে অন্যরকম লাগছে।এনি থিং স্পেশাল??

(আদ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে মুচকি হাসলো।,,,তারপর মাথা তুলে আবার বলে উঠলো....)

আদ্র-ইয়াহ,,,আজ আমার লাইফে একটা নয়।দু দুটো স্পেশাল। সেগুলো হলো,,,, এক,,,আজ আমার সেই বেস্টফ্রেন্ড বিহানের ২৫তম জন্মদিন। আর দুই,,,,,,

(এটুকু বলেই আদ্রে অডিয়েন্স সীটে সানিকে খুজতে লাগলো।কিছুক্ষণ চোখ বুলানোর পরেই খুজে পেয়ে সানির দিকে তাকিয়ে এক তৃপ্তির হাসি দিলো।,,,আদ্রের কথা না বলায় মেয়েটি আবার বলে উঠলো....)

মেয়েটি-আর দুই কি স্যার???

(এবার আদ্র সরাসরি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো...)

আদ্র-আজ আমি এত খুশি কারন আমি আমার লাইফ পার্টনার খুজে পেয়েছি।

(একথা বলতেই অডিয়েন্স সবাই আউউউ করে চিৎকার দিয়ে উঠে।,,,,এবার আরেকটা ছেলে উঠে দাড়িয়ে মাইক হাতে নিয়ে বললো...)

ছেলেটি-ওয়াও স্যার,,,,কে সেই লাকি গার্ল,, যে আপনার লাইফপার্টনার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

আদ্র-সত্যি বলতে সে এখনো এই সুযোগটা খুজেই নি।তবে হ্যা,,,আমি সেই লাকি মেন, যে তাকে ভালোবাসার সুযোগ পেয়েছে।সে আমার সাধারনের মাঝেও অসাধারণ।আর হ্যা,,,,এখন আমি তার সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারছি না।কারন এখনো সে নিজেই হয়তো এই বিষয়ে জানে না।আমি চাই ও এইভাবে না।আমার মতো ফিল করে আমার মনে কথা জানুক।আর এখন ও আপনাদের মাঝেই আছে।একটা সুযোগ নাহয় আপনাদেরই দেই।পারলে খুজে নিন তাকে।আর আজ আমার প্রথম গানটা আমি তাকেই ইনডিগেট করে গাইবো।ওকেয়। ক্যান আই স্টার্ট???

সবাই-ইয়াহহহহহ

(আদ্র এবার টুংটাং গিটার বাজিয়ে গাইতে শুরু করলো।.....)

Jab se tuje dekha

Dil ko koyi aram nehi..

Meri hothope ek tere siba

Koi nam nehi

Apna vi hal tumhare jeisa hey sajan

Bas yaad tujhe karta hu or koi kam nehi

(এইটুকু গেয়েই আদ্র সানির দিকে তাকায়।মুচকি হাসি দিয়ে গেয়ে উঠলো....)

Bangaya hu main tere diwana.

Dhire dhire se ea dil ko churana...

Dhire dhire se meri jingegi mein aanaaa

Dhire dhire se ey dilko churana.

Tumse pear hamey hey kitna jane jana,

Tumse milkar tum kohi patana...

[সংক্ষিপ্ত]

(গান শেষ করে আদ্র বলে উঠলো।,,)

আদ্র-আর ইউ গায়েজ রেডি ফর নেক্স সং??

সবাই-ইয়েএএএএএ

(মুচকি হেসে আদ্র আবার গিটার বাজাতে লাগলো।...)

আদ্র;;;;;

Tujo rutha to kan hasega

Tujo chuta to kan rehega

Tu chup he to ye dar lagtahe

Apna mujko ab kan kehega...

(তখনই স্টেজের পেছন থেকে বিহান গিটার হাতে নিয়ে স্টাইলিশ ভাবে আসতে আসতে গেয়ে উঠলো....)

বিহান;;;

Tuhi waja,, tere bina,

Beaja bekar hu mein.

Tera yaar hu main...

এবার আদ্র গেয়ে উঠলো...

আদ্র

Tera yaar hu mein

(এবার দুজন একসাথেই গেয়ে উঠলো..)

huuuu,,tera yaar hu mein.

(এভাবেই দুজন মিলে পুরো গানটা শেষ করলো।,,)

(গান শেষে সবাই হাততালি দিয়ে আদ্র আর বিহানকে ধন্যবাদ জানালো।,,,,,,আর বিহানকে কিছু বলার জন্য রিকোয়েস্ট করতে লাগলো।বিহান প্রথমে বলতে না চাইলে আদ্র তাকে চোখের ইশারা দিয়ে আসস্ত করে।তখনই বিহান স্ট্যান্ড থেকে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলতে শুরু করে....)

বিহান-আই লাভ ইউ ইয়ার,,,,,,

(প্রথমেই বিহানের মুখে এই কথা শুনে সবাই অবাক হলো।,বিহান আবার বলতে শুরু করলো...)

বিহান-ইয়াহ,,আই লাভ ইউ সো মাচ।তুই যে আমার জন্য এতোটা করবি তা আমি জিবনেও ভাবিনি।,,,,,,,গায়েজ।এই যে আজ আমি এইদাড়িয়ে আছি,, সেটা শুধু মাত্র আদ্রের জন্যই।আমি সত্যিই ওর কাছে সারাটা জীবন ঋণী হয়ে থাকবো।

আদ্র-কি বলছিস এসব।থাক না এখন এসব।

বিহান-নাহ ইয়ার।আজ আমায় বলতে দে।,,,সো গায়েজ,,,আমার আর আদ্রে বন্ধুত্ব আজ কালের নয়।গত ১৪ বছর ধরে আমি ওকে আমার বন্ধু হীসেবে পেয়েছি।তোহ,,,আমি এখন আমার কথা বলার ভাষাই হারিয়ে ফেলছি।তো অবশেষে একটাই কথা বলতে চাই,,,ভাই,,তুই আমার কলিজাভাই।তুই না থাকলে এতদিনে আমি মরেই যেতাম।,,,আই লাভ ইউ দোস্ত।মোর এন্ড মোর।,,,থ্যাংকস অল।

(বলা শেষ করেই বিহান চোখের কোনের সেই আনন্দের পানিটা হাতের উলটো পিঠে মুছে নিলো।,,,,,,,এরপর আদ্র বলে উঠলো...)

আদ্র-সো গায়েজ, আজ আর নয়৷, আমাদেরকে যেতে হবে।দেখা হচ্ছে আবারও।বাই এভরিওয়ান।

(বলেই আদ্র বিহানের হাত ধরে স্টেজ থেকে নেমে দারালো।আর দর্শকরা করতালি দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানালো।,,নিচে নামতেই আদ্রের গার্ডসরা দুদিকে সরে মাঝখানে হাটার জায়গা করে দিলো।আর আদ্র সেখান দিয়েই আস্তে আস্তে বাইরে এসে গাড়িতে গিয়ে বসলো।,,,তারপর রিসবকে কল দিলো....)

রিসব-হ্যা ভাই বল।

আদ্র-কোথায় তোরা??আর সানি কোথায়।ওর কোনো প্রবলেম হয়নিতো??

রিসব-আরে সানি ঠিকই আছে।আর আমরা অডিটোরিয়াম থেকে বের হচ্ছি।,,,

আদ্র-ওহ,আচ্ছা,আমি গাড়িতেই আছি।তারাতাড়ি আয়।আর সানিকে দেখে রাখবি।

(বলেই কল কেটে দিলো।পাশেই বিহান বলে উঠলো....)

বিহান-তুই আমাকে ওভাবে টাইনা আনলি ক্যান??আমি কি কচি বাচ্চা নাকি??

আদ্র-উহুম,,তুই এখন সেলিব্রিটি। এখন শুধু ওখানে একবার যা,, তোর অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য মানুষ হুরমুড়িয়ে পরবে।

বিহান-ঐটা তো তোর সাথে হয়।

আদ্র-আজ থেকে তোর সাথেও হবে।তাই যেখানে সেখানে থেকে এভাবেই বের হতে হবে।

বিহান-তো তুই আমাকে এখানে আনলি কেন??ঐ গাড়িতে চল।

আদ্র-আমার বাড়ির লোকেরা আসছিলো।ওদের জন্য ওয়েট করছি।বস।

বিহান-কি?রুসা এসেছে।তুই আমাকে জানালিও না।

আদ্র-শুধু রুসা নয়,,,বাকি সবাইও এসেছে।ওকেয়,,,

বিহান-আ্ আসলে,আ্ আমি তো সেটাই বলছিলাম।হিহিহি।

(এদের কথার মাঝেই সায়মানরা চলে এলো।,,,)

শারমায়া-আরে বিহান ভাইয়া যে,,,তুমি তো আজকে ফাটিয়ে দিয়েছেন।কি বলিস রুসা??

রুসা-হুম,,সেই হইছে।

বিহান-তোমরা এলে আমাকে বলোনি যে??

সায়মান-আমাদের বলছিস নাকি রুসাকে হুহ??

বিহান-রু্ রুসাকে কেন বলবো।সবাইকে বলছি।

আদ্র-হইছে।এখন চল।ডল,,,তোমার কোনো প্রবলেম হয়নি তো???

সানি-নাহ,,,এখন বাড়ি চলুন।

আদ্র-উহুহ,,,এখন বাড়িতে নয়।

রিসব-তাহলে কোথায় যাবো??

আদ্র-ডিনার করতে।রেডিসুন রেস্টুরেন্টে। কি যাবিনা তোরা???

সায়মান-ইয়েহ,,,বাহ,,অনেকদিন একসাথে বাইরে ডিনার করা হয়নি।চলো চলো।

আদ্র-ঠিক আছে।,,,বিহান,এই গাড়িতে সবাই একসাথে যেতে পারবো না।তুই বরং রুসাকে নিয়ে আমার গাড়িতে আয়।আমি ওদের সাথে যাচ্ছি।

বিহান-ওকেয়।রুসা বেবি, চলো।

(শারমায়া আস্তে করে রুসার কাধে ধাক্কা দিয়ে বললো...)

শারমায়া-যাও, রুসা বেবি।তোমার বেইবি তোমাকে ডাকছে।

রুসা-ধ্যাত।

(বলেই রুসা বিহানের সাথে আদ্রের গাড়িতে বসলো।,,,,,)

সায়মান-ভাই,,,আজকে আমি ড্রাইভ করবো।

রিসব-বাহ,, চাদ আজকে কোন আকাশে উঠেছে ভাই।,,,তুই করবি ড্রাইভিং।

আদ্র-ইচ্ছে হলে করতেই পারিস,,।তবে আমি আজ পেছনের সীটে।

সায়মান-তাহলে উঠে পরো।

আদ্র-এই আয়ন্তি কই রে?

শারমায়া-ওতো জিজুর সাথে এসেছে। আর বলেছে জিজুই নাকিবাড়ি পৌছে দেবে।

আদ্র-ওহ,,ওকেয়,।উঠে বসো।

(এরপর রিসব সায়মানের পাশের সীটে উঠে বসলো।শারমায়াও পেছনের সীটে জানালার পাশে বসলো।এদিকে আদ্র বলছে ও নাকি জানালার পাশে ছাড়া বসবে না,। তাই সানি বসলো আদ্র ও শারমায়ার মাঝখানে।,,,,,আদ্র খেয়াল করলো সানি কেমন যেন খারাপ করে আছে।,,তাই আদ্র সানির দিকে ঝুকে বললো..)

আদ্র-আর ইউ ওকেয় ডল???

সানি-হুম,,ঠিক আছি আমি।

আদ্র- দেখি,,,এদিকে ফিরো তো।আমার দিকে তাকাও।

(আদ্র সানির মুখটা দু হাতে আগলে নিয়ে নিজের দিকে ঘুরালো।)

আদ্র-কি হয়েছে বলো আমায়??কেউ কিছু বলেছে তোমাকে??কি হলো বলো প্লিজ?

সানি-কেউ কিছু বলেনিতো।,,আমার ঘুম পাচ্ছে খুব।তাই।

আদ্র-ঘুমাবে তুমি??আচ্ছা,,আমরা এখুনি নেমে যাবো।ডিনার করে গাড়িতেই ঘুমিও।কিন্তু এখন ঘুমায় না প্লিজ।ওকেয়।

সানি-আচ্ছা।

(আদ্র মুচকি হেসে সানিকে ছেড়ে দিলো।আদ্রের কান্ড দেখে সায়মান রিসব আর সারমায়া মিটিমিটি হাসছে।,,,,,,কিছুক্ষণ পরেই তারা রেস্টুরেন্টে পৌছে গেলো।সবাই ডিনার করে আবার গাড়িতে যার যার আগের জায়গায় উঠে বসলো।,,,,,আদ্র খেয়াল করলো সানি সীটে হেলান দিয়ে আছে চোখ বন্ধ করে।কিন্তু গাড়ির ঝাকানির কারনে কিছুক্ষণ পরপর নড়ে উঠছে সে।,,,যাতে করে সানি ঠিক মতো ঘুমাতেও পারছে না।,,,তা দেখে আদ্র সানিকে নিজের আরেকটু কাছে টেনে এনে, সানির মাথার পেছন দিয়ে নিজের একহাত দিয়ে সানিকে আগলে ধরলো।সানির মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে বললো..)

আদ্র-নাও,,এবার ঘুমাও তুমি।আর নড়বে না।

(সানি আদ্রের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিলো।তারপর আবার নিচের দিকেতাকিয়ে চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা চালাতে লাগলো।,,কিছুক্ষণের মধ্যেই সানির চোখে ঘুম নেমেএলো।তা দেখে আদ্র আলতো করে সানির মাথায় একটা কিস করলো।,,,তা দেখে শারমায়া বলে উঠলো...)

শারমায়া-ইয়ার ভাই,,,আমরা বোধয় লাভবার্ডসদের বিরক্ত করছি।আমাদের এদের একা ছেড়ে দেওয়া উচিৎ।

আদ্র-শামু,,থাপ্পর চিনিস??

রিসব-সত্যিই ইয়ার।তুই আবার এই পিচ্চিকে ভালোবেসে ফেললি না তো??

সায়মান-হা হা হা,,,কি স্টোরি। প্রথমে ঝগড়া তারপর লাভ।মোট কথা আমার ভাইয়ের সিনেমার নাম হবে ঘৃণা থেকে ভালোবাসা।অথবা,, পিচ্চি ডলের প্রেমে সুপারস্টার গায়ক।কেমন হলো নামটা???

আদ্র-খুবই বাজে।,,,,এই তোরা যদি ডলকে এই বিষয়ে কিছু বলতে যাস,,তাহলে ভালো হবে না।ওকে যা বলার আমিই বলবো।,,,, আর হ্যা,,,আমাদের গল্প হবে ভিন্ন ধরনের,,,ঘৃনা থেকে আমাদের ভালোবাসাটা শুরু হলেও আমি আমাদের গল্পে ঐ ঘৃনাটাকে স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই ভাববো না।ঐটা আমাদের স্টোরির প্রথম ধাপ।।তাই আমাদের গল্পের নামে কোনো দোষ বা গুন কিছুই থাকবে না।(ঘোরের মধ্যে থেকে সানির দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বললো আদ্র)

সায়মান-তাহলে ভাই,,তোদের গল্পের নামটা কি দেওয়া যায়???

আদ্র-#আদ্রের_সম্মোহীনি

শারমায়া-আওওওওও,,,হাউ সুইট।

রিসব-কিন্তু ভাই।বুঝলাম আদ্রটা তুই।কিন্তু সম্মোহীনির মানে কি

আদ্র-ঐ দিন ডলের মুখে সম্মোহীনি নামটা শুনার পর আমার কেমন যেন লাগতে থাকলো।ঐ নামটা যেন আমার কানে বার বার প্রতিফলিত হতে লাগলো।তখন আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।তাই শেষমেশ কানে হেডফোন দিয়েই বসে ছিলাম।

সায়মান-এই সম্মোহীনিটা আবার কে??আর তোর আর সানির গল্পে সম্মোহীনি কোথা থেকে এলো.???

আদ্র-আরে গাধা।সানির আসল নাম সম্মোহীনি।

রিসব-ওয়াট??আগে তো জানতাম নাহ??বাট নামটা কিন্তু সেই,এমনি তে তো সবাই সানিলিওন বলে.....

(রিসবের কথা শুনে আদ্রের মাথা গরম হয়ে গেলো।রিসবের দিকে চোখ গরম করে বললো...)

আদ্র-আমার সম্মোহীনিকে নিয়ে একটাও বাজে কমেন্ট করবি না।না হলে আমি গুলি করে মারবো সবাইকে।মনে রাখবি,,, ওর নাম সানি,,,,,,,সানিলিওন নয়।আন্ডারস্ট্যান্ড??

রিসব-ওকেয় রিলেক্স,,আমি তো মজা করছিলাম।আচ্ছা,আমরা ওকে সম্মোহীনি বল ডাকবো।

আদ্র-একদম নয়।,,এই নামটা শুধু আমার ডাকার জন্য। এই নামে ওকে শুধু আমিই ডাকবো।আর কেউ নয়।এটা আমার সম্মোহীনি।।শুধু মাত্র এই #আদ্রের_সম্মোহীনি।আর কারোর না।আমি নিজেই ওকে এই নামে ডাকিনা,,কারন আমার দেখা দেখি যাতে ওকে কেউ এই নামে ডাকতে না পারে।

সায়মান-ওকেয়,,,আমরা ওকে পিচ্চি প্লাস বোনু বলে ডাকবো।এবার হ্যাপি,,,দেখ এবার কিন্তু ওকে বোন বানিয়ে নিলাম।তোদের বিয়ের পর না হয় ভাবিই ডাকবো।হয়েছে।

আদ্র-হুম।এখন তারাতাড়ি চালা।ডলের ঘুম ভেঙে যাবে।

(বাড়ি পৌছাতেই আদ্র সানিকে কোলে তুলে রুমে দিয়ে এলো।,,,,,পরদিন আদ্র রেডি হয়ে সোফায় বসে আছে।)

আদ্র-ডল,,,তোমার হলো??বেরোবে তো নাকি,,,এবার কিন্তু লেট হয়ে যাবে।

সানি-এই তো আসছি।(রুম থেকে।)

(কিছুক্ষণ পরে সানি সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো।পরনে স্কুল ড্রেস।চুলে দুই পাশে বেনি করা।কাধে স্কুল ব্যাগ।দেখতে একদম বাচ্চা বাচ্চা লাগছে।,,,আদ্র সানিকে দেখে মুচকি হাসলো।তারপর উঠে দাড়িয়ে বললো...)

আদ্র-একদম পিচ্চি লাগছে।

আরিফা-আমার মেয়েটাকে ঠিক মতো পৌছে দিস।

আয়শা-আদ্র তুইকি আবার ওকে নিয়ে আসবি??

আদ্র-হ্যা কাকিয়া।

আয়শা-আচ্ছা ঠিক আছে।সাবধানে যাস তোরা।

আরিফা-মামনি,,,আমার কাছে আয় একটু,,,,

(সানি মুখে হাসি নিয়ে আরুফাকে জড়িয়ে ধরলো।,,,)

আরিফা-সাবধানে যাস মামনি,,,স্কুল ছুটি হলে যদি আদ্র যেতে দেরি হয় তাহলে একা একা আবার হাটা ধরিস না যেন।কেমন,,?

সানি-আাচ্ছা আন্টি।

আয়শা-বলি,,,এখানে তো আরেকটা আন্টিও আছে নাকি??

(সানি এবার আরিফাকে ছেড়ে আয়শাকে জড়িয়ে ধরতে ধরতে বললো...)

সানি-তুমি আন্টি কেন হবে??তুমি তো আমার কাকিয়া,,,তাই না??

আয়শা-হ্যারে বাবা,,আমি তো তোর কাকিয়া।,,,সাবধানে থাকবি কেমন??

সানি-আচ্ছা কাকিয়া।

আদ্র-ডল,,যাবে তো এবা??লেট হচ্ছে কিন্তু।

সানি-আসছি তো।এমন করেন কেন?

আয়শা-যা মা,,নাহলে দেরি হয়ে যাবে ক্লাসে।

(সবার থেকে বিদায় নিয়ে আদ্র সানিকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।আদ্র নিজে ড্রাইভ করে সানির স্কুলের সামনে গাড়ি থামালো।,,গাড়ি থেকে নেমে আদ্র সানির কাছে গিয়ে সানিকে নামালো।দরজা বন্ধ করার সময় আদ্রের চোখ গেলো স্কুলের গেইটে দাড়িয়ে থাকা একটা ছেলের উপর। কেমনযেন সানির দিকে তাকিয়ে আছে।আদ্র দরজা বন্ধ করতেই সানি চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো...)

সানি-জানুউউউউউ

(সানির দিকে তাকাতেই দেখলো সানি সেই ছেলেটার দিকেই তাকিয়ে আছে।যেন কত জনম পর দেখছে একে অপরকে।সানি দৌড়ে যেতেই আদ্র সানির হাত ধরে আটকায়।কিন্তু সানি হাছ ছাড়িয়ে ছুটে পালিয়ে গেলো গেইটের দিকে।আদ্র যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে।সে দেখলো ছেলেটাও সানির কাছেই দুহাত প্রসারিত করে এগিয়ে আসছে।,,,আদ্র বুঝতে পারছে এরা এখন একে অপরকে জড়িয়ে ধরতেই যাচ্ছে।মুহুর্তের জন্য আদ্রের মাথায় একটাই কথা ঘুরতে লাগলো...)

আদ্র-তবে কি আমি আমার সম্মোহীনিকে হারিয়ে ফেলবো??...

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৬