আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ২

🟢

(বর এসে গেছে।গেইটেই আছে।সেখানে থাকা একটা টেবিলের একপাশে বরযাত্রীরা আর আরেক পাশে কনেযাত্রীরা।বন্যার বড়বোন অন্যা,,,,তার হবু বর শৌরভ।,,,,শৌরভকে টেবিলের সামনে একটা চেয়ারে বসানো হয়েছে।,,,বন্যা আর সানি একসাথেই ছিলো...)

সানি-ঐ, যানা,,তোর দুলাভাইকে স্পেশাল নাস্তা খাওয়া গিয়ে।

বন্যা-আমার একার দুলাভাই নাকি??তুই ও তো শালি,,,। আমার কখন যে মুখফেটে হাসি বের হয়ে যায়??তুই যানা প্লিজ।

সানি-ওকে ওকে।তুই আমার সাথেই থাক।আর একদম হাসবিনা।নাহলে সব বুঝে যাবে।

(সানি বন্যাকে নিয়ে এগিয়ে গেলো টেবিলের সামনে।,,,,টেবিলে থাকা মিষ্টির প্লেট থেকে একটা মিষ্টি কেটে কিছুটা সৌরভের মুখের সামনে তুলে বললো....)

সানি-নিন দুলাভাই,,,খেয়ে নিন।আপনার রিয়েল শালি লজ্জা পাচ্ছে,,তাই আমিই খাওয়াচ্ছি।

সৌরভ-নো প্রবলেম এনাদার শালি,,,,,আফটার অল ইউ ঠু মাই শালি।

(বলেই একগাল হেসে মিষ্টি টা মুখে পুড়ে নিলো।সাথে সাথেই তার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেলো।দু সেকেন্ড পর থু থু দিয়ে মুখের মিষ্টিটা ফেলে দেয়।সৌরভের পাশেই রবিন আর আদ্র দাড়িয়ে ছিলো।....)

রবিন-কিরে দোস্ত? এই বাচ্ছা মেয়ে আবার কি ডোজ দিলো??

আদ্র-মিষ্টি দেখছি খুব বেশিই টেষ্ট। ইয়ার,,,,এটা বল যে মিষ্টিটা বেশি টেষ্টি নাকি যে মিষ্টি খাইয়েছে সে???

রবিন-কি কচ দোস্ত? সালা এইখানেও প্ল্যাটিং শুরু করছোচ নাকি??

সৌরভ-আরে চুপ যা।,,এটা মিষ্টি না।

রবিন-তোর চোখ কি শেরওয়ানির পকেটে রাখছোচ??মিষ্টিরে কি দেখতে পাচ নাই??

সৌরভ-ধুর,,,মিষ্টির মধ্যেই টক।লেবু মিসাইছে এতে।

আদ্র-ওরে সালা।পিচ্চি গুলাতো সেই চালাক।,,,,দাড়া দাখাচ্ছি।

সানি-ওহে দুলাভাই,,,মিষ্টিতো খাওয়াইলাম।এবার আমাদের বাজেটটা দিয়ে দেন।

আদ্র-বিয়াইনরা,,মিষ্টি যে ডুবলিকেট,,তাকি যানেন??সো, বাজেট নেই।

সানি-মানে টাকি,, বললেই হলো বাজেট নেই??না দিলে ঢুকতে দেবোনা।,,,

আদ্র-ওকে ওকে,,দিচ্ছি।তবে আগে ভেতরে আসতে দাও।

বন্যা-উমমম,ওকে ঠিক আছে।,,

(সবাই ভেতরে আসতেই সানি আর বন্যা মিলে আদ্রের পথ আটকে ধরলো।)

সানি-গিম মি মাই বাজেট,,,(হাত পেতে)

আদ্র-এত সহজে??উমমম,,ওকেয়,,,এই নিন

(এই বলেই হাত মুঠ করে সানির হাতে কিছু একটা দিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো আদ্র।হাত খুলে সানি দেখলো হাতে একটা দু টাকার নোট।,,,এই দেখে মুখ মলিন করে ফেললো...)

বন্যা-দেখলি কিভাবে ঠকালো??

সানি-দেখাচ্ছি মজা।চল।

(বলেই সানি আর বন্যা বাড়ির ভেতরে গিয়ে আদ্রকে খুজতে লাগলো।,,,,কিছুক্ষণ না পেয়ে হাল ছেড়ে দিয়ে নিজের মতোই আনন্দ করতে লাগলো সানি।,,,,বিয়ে শুরু হয়ে গেছে।সবাই বিয়ের ওদিকেই।সানি ঘরে আসছিলো বন্যাকে ডাকতে,,,খেতে যেতে।,,,,গিয়েই দেখলো সোফায় আয়েসি ভাবে বসে আছে আদ্র। তখনই গিয়ে চেপে ধরলো তাকে...)

সানি-এইতো,,পাইছি।এটা কি হলো,,,আমাদের কি ফকির মনে হয় আপনার??এই নিন আপনারা কেমন মানুষ বুঝে গেছি আমি।লাগবে না আপনার টাকা।

(বলেই সানি দুটাকার নোটটা আদ্রের হাতে ধরিয়ে দিলো।এতেই আদ্র রেগে বম।তখনই বন্যা রুম থেকে বেড়িয়ে তাদের সাথে এলো।৷,,,,,,, এরপরতো আপনারা জানেনই,,,,,,,,)

বর্তমান,,,,,,,

(রক্তিম সানি আর বন্যাকে নিয়ে খাওয়ার যায়গায় চলে এসেছে।সানিরা একটা টেবিলে বসেছে।ঠিক তার পাশের টেবিলেই আদ্রের গ্রুপটা বসেছে।রক্তিম সবে সানির পাশে বসতে যাবে তখনই কোথা থেকে রবিন এসে বললো...)

রবিন-এই যে ভাইয়া,,,বিয়াইনের রাগ ভাঙাবো।আপনি যদি একটু অন্যপাশে বসেন।

(রক্তিম একবার সানির দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললো...)

রক্তিম-ওকে,,ওকে,,,বসুন।তবে আমার শালিগুলার রাগ ভাঙাইয়া তারপরই উঠবেন।

রবিন-হ্যা,,,হ্যা,,আফটার অল আমাদের বিয়াইন বলে কথা।

(রক্তিম উঠে গেলো। আর রবিন এসে সানির পাশে বসলো...)

রবিন-তো বিয়াইন,,,আমার আদ্রিয়ানের হয়ে আমি সরি বলছি।,,,রাগ করবেন না।

সানি-না না,,,আপনি কেন সরি বলছেন।,,,

রবিন-আসলে বিয়ে বাড়িতে এসব প্রায়ই হয়।তাই এটাকে সিরিয়াসলি নিবেন না।,,,আর আমার খালাতোভাই মানে আদ্রিয়ান,,,ও একটু রাগি সভাবের।তাই সিনক্রিয়েট করে ফেলেছি।।

সানি-হুমমমম,,, যা হওয়ার হয়েই গেছে।এরপর আমার কি হবে তা আল্লাহই যানে(ফিসফিসিয়ে)

রবিন-কিছু বললেন??

সানি-নাহ,,কিছুই না।আপনি সৌরভভাইয়ার কি হন?

রবিন-ওর খালাতো ভাই।ইভেন আদ্রও আমাদের খালাতো ভাই।তবে ভাইয়ের থেকেও আমরা বেশি।

সানি-ওও,,,

(সানি কেমন জানি চিন্তিত হয়ে আছে।,,,,যা,সবাই খেয়াল করেছে।তাদের সব কথাই সবাই শুনছে।এমন কি আদ্র ও।,,,)

রবিন-তা আমি বিয়াইন বলেই ডাকবো নাকি আপনার নামটাও বলবেন,,,,

সানি-আমার নাম,,,,,সম্মোহীনি,,,,,,

(কথাটা বলতেই পাশের টেবিলের আদ্র খাবার চিবুতে গিয়ে থেমে গেলো।কেমন যেন সম্মোহীনি কথাটা তার কানে বারবার প্রতিফলিত হচ্ছে।,,,,)

রবিন-ওরে বাবা,,একটু বেশিই কঠিন না???

সানি-আপনি আমাকে সানি বলেও ডাকতে পারেন।এই নামেই সবাই আমাকে ডাকে।

রবিন-সানি??ওহ,,ইটস বেটার।,,,,

কথাটা শুনে আদ্রের টেবিল থেকে একটা ছেলে বলে উঠলো...)

-----আরে ওয়াহ,,,, কি দারুন মিল।চেহারার সাথে নামটা মিল আছে দেখছি।

(কথাটা কারোরই কর্ণগোচর হলো না।কিন্তু সানির মাথায় কথাটার কোনো অর্থই নাড়া দিলোনা।তাই সে আপন মনে খেতে লাগলো...)

রবিন-তা আপনি অর্নাভাবির কে হন??

সানি-তার বাবার ফুফাতোভাইয়ের মেয়ে আমি।

রবিন-ওহ,,,কিসে পরেন?

সানি-এবার নিউ টেন।

রবিন-কি বলেন??আপনাকে দেখে তো মনে হয় বিয়ের বয়স হয়ে গেছে।(দুষ্টামি করে)

সানি-কেন??

রবিন-সরি,,, তবে দেখে মনে হয় না টেনএ পরেন।আমি ভেবেছিলাম এইট কি নাইন হবেন।তবে বয়সের চাইতে কিছুটা টল আপনি।

সানি-হিহি,,,এই যে নিচে দেখেন।

(সানি তার শারিটা কিছুটা পা থেকে উঠিয়ে নিজের পায়ের জুতো দেখালো রবিনকে।)

রবিন-আরে বাস।এতো বড় হিল।এই জন্যই এতো লম্বা দেখাচ্ছে।

সানি-হুম

রবিন-তা আপনার বাবা কি করে??

(শুনেই সানির মন খারাপ হয়ে গেলো)

সানি-আমার বাবা নেই।চলে গেছে অনেক আগে আমাকে ছেড়ে।

রবিন-ওহ,,আম সরি।

সানি-ইটস ওকে।

রবিন-তাহলে আপনি আপনার মায়ের সাথেই থাকো তাইনা???

সানি-আমার বাবা,যেদিন মারা গেছে সেদিন সে একা যায়নি আমার মাকেও নিয়ে গেছে সাথে করে।

রবিন-হোয়াট,,,তার মানে আপনি......ওহ,,,সরি ফর হার্টিং।

সানি-ইটস ওকেয়।নো প্রবলেম।

রবিন-কার কাছে থাকেন??

সানি-আমার চাচা চাচির কাছে।

রবিন-আজকে থাকবেন তো নাকি??রাতে অনেক মজা হবে।

সানি-নাহ,,চাচির সাথে চলে যেতে হবে।

বন্যা-চলে যাবে মানে???তুই থাকবি।আমি তোর চাচির সাথে কথা বলবো।

(আদ্রের টেবিলের একটা ছেলে আদ্রকে বলে উঠলো....)

----ঐ আদ্রের বাচ্ছা।আমরা জানি তুই গান ভালোবাসিস।তাই বলে খেতে বসেও কানে হেডফোন গুজে রাখবি??

(আদ্রের পাশের ছেলেটি একটানে আদ্রের কান থেকে হেডফোনটা খুলে ফেললো।,,,,এতে আদ্র কিছুটা বিরক্ত হলেও কিছু বললো না।কেন জানি কথা বলতে ইচ্ছে করছে না তার।তখন সম্মোহীনি নামটা শোনার পরেই আদ্র কানে হেডফোন লাগিয়েছিলো।তাই এরপরের কোনো কথাই আদ্রের কর্ণপাত হলো না।)

********************

সময়,,,রাত ১১টা,,,

(অর্না আর সৌরভের বিয়ে সমন্ন হলো কিছুক্ষণ আগে।বরযাত্রী অনেকেই চলে গেছে শুধু ইয়াং জেনারেশনের গ্যাংটা থেকে গেছে।এই রাতে আর নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফেরা হবেনা।কাল সকাল হলেই রওয়ানা দেবে সবাই।এখন সবাই মিলে বন্যাদের ড্রয়িংরুমের সোফা খাট চেয়ার জুড়ে বসে আছে।কনেপক্ষ আর বরপক্ষ। অর্না আর সৌরভকে পাশাপাশি সোফায় বসানো হলো।,,,আর হ্যা এখানে সানিও আছে।তার চাচা আর চাচি চলে গেছে।বন্যার জোরাজুরিতে তিনি সানিকে রেখে যেতে বাদ্ধ হয়।সাথে তার চাচাতোভাই অনুজও আছে।সবাই কিছুক্ষণ নর্মাল কথা বলার পর রক্তিম বিরক্তিকর ভংগিতে বলে উঠলো......)

রক্তিম-ধুর,,,ভালো লাগছে না।কেমন যেন জমছে না আসরটা।এই একটু নাচ গান হলে কেমন হয়??

রবিন-হ্যা,,হয়ে যাক।নাচের কথা জানিনা।তবে আমাদের মাঝে উপস্থিত আছে সুপারস্টার সিংগার আদ্রিয়ান এহসান আদ্র,,,,,

(বলেই হাততালি দিতে লাগলো।,,,,তখন মেয়েপক্ষ থেকে তানিয়া বলে উঠলো.....)

তানিয়া-হ্যা,,হ্যা,,,আদ্রের অনেকগুলো সো আমি দেখেছি।অনেক ভালো গায় উনি।এখনতো মনে হয় বাংলাদেশে টপ টেনেও উনি জায়গা করে নিয়েছে।

বন্যা-উমমমহ,,,আমরাও কম পারি নাকি??কি বলিস সানি আপু?

সানি-হ্যা,,,তাই তো।আমাদের সাইডেও অনেক সিংগার আছে।যারা নিজেদের প্রতিভা সবার সামনে প্রকাশ করে না।কি বলেন আপু আর ভাইয়ারা??

(সবাই সানির কথায় তাল দিয়ে বললো..)

সবাই-হ্যা,,হ্যা,,ঠিক ঠিক।

(ফোরন কাটার জন্য ছেলে পক্ষ থেকে হৃদয় বলে উঠলো....)

হৃদয়-তবে যাই বলো।আমাদের আদ্রিয়ানের মতো টপে কেউ পৌছাতে পারবে না।

রবিন-হ্যা,,,একদম ঠিক।

সানি-উহহহ,,মোটেও না।ইচ্ছে থাকলে সবই করা যায়।

আদ্র-(এই ফাজিল মেয়েটা কি দারুন হেসে হেসে কথা বলছে দেখ।যেন কিছুই হয়নি।আমার তো এই মেয়ের হাসি একদম সহ্য হচ্ছেনা।,,,,,)(মনে মনে)...

রবিন-ওকে,,,তাহলে হয়ে যাক??বরপক্ষ vsকনেপক্ষ।

রক্তিম-হ্যা,,হ্যা,,কেন নয়।সানি একটা গান ধরো তো।

সানি-এই না না।আমি গান গাইতে পারিনা।

আদ্র-(এইতো,, এইবার হাওয়া বের হবে।খুব বেশি পাকনামি তাইনা,,দেখো,,কি করে এই আদ্রিয়ান এহসান কি করে তোমার ব্যান্ড বাজায়।,,,আমাকে ছোটলোক বলা তাই না??)(মনে মনে দুষ্টু হাসি দিয়ে)

রবিন-আরে বিয়াইন,,গান না,,,

আদ্র-হ্যা হ্যা,,,দেখি এই বিয়াইন কেমন গায়।,,,

সানি-(এই লোকটা এত ভালো ব্যবহার করছে কেন??কি করতে চাইছে উনি??যাই হোক এখন এসব বাদ) আ্ আমি,,??? না না,,আমি গান টান পারি না।

অনুজ-এই সানি,,, মিথ্যা বলছিস কেন??তুই না তোর ফ্রেন্ডদের সাথে মাঠে বসে গান গাস???তো এখন একটা গেয়ে দেনা।

(অনুজের কথা শুনে বরপক্ষের সবাই হেসে দিলো।,,,,বরপক্ষ থেকে সিয়াম বলে উঠলো....)

সিয়াম-কি??সিরিয়াসলি??স্কুলের মাঠে ফ্রেন্ডদের সাথে গান গায়???এতেই সে গায়িকা হয়ে গেলো??,,,,হা হা হা।

(বরপক্ষ থেকে একটা মেয়ে,,, সিমরান বলে উঠলো....)

সিমরান-আদ্রিয়ান আর এই মেয়ের তুলনা হচ্ছে???হাহাহা,,আমার তো শুনেই হাসি পাচ্ছে।,,,,তো এই যে পিচ্চি মেয়ে।তুমি গাও মাঠে চার পাচজনের মাঝে,,আর আমাদের আদ্রিয়ান গায় মঞ্চে,,, কখনো চার পাচ হাজার,,আবার কখনো একলাখ বেশি মানুসের মাঝে।

রবিন-আহ তোরা,,, বিয়াইনের মনোবল ভাঙছিস কেন??যাই হোক বেচারি আমাদের আদ্রের সাথে চেলেন্জ নিয়েছে।একটা গানতো গাইতেই হবে।,,,

সিয়াম-হ্যা,,,তাতো ঠিকই,,,যদিও আমরা জানি এটা কাকের গলায় কা কা শুনার মতো হবে,,,,হাহাহা।

(বন্যা সানির কানের কাছে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো....)

বন্যা-আপুরে,,মান সম্মানটা বাচা প্লিজ।যা পারিস তাই গেয়ে দে না,,,,

রক্তিম-সানি,,,,তুমি গাইতে পারবে তো??দেখো,,, সম্মানটা যেন থাকে শালিকা।

অনুজ-পারবে না মানে??অবশ্যই পারবে।,,,এই সানি গান ধরতো।,,,,,,

সানি-অনুজ ভাইয়া,,,আমি পারবো না,,,,,,

রবিন-ভাইয়া???অনুজ না আপনার সেম ক্লাস??তাহলে ভাইয়া ডাকেন কেন?

অনুজ-আসলে,,আমার আম্মু......

সানি-আসলে আমার ভাইয়া ডাকতেই ভালো লাগে।তাই।।

(অনুজের বুঝতে কষ্ট হলোনা যে সানি কথা ঘুরাচ্ছে।তবুও সে কিছু বললো না আর।)

রবিন-ওহ,,আচ্ছা।তো বিয়াইন গান ধরেন।,,,

অনুজ-এক মিনিট আমি আসছি।

(বলেই অনুজ উঠে চলে গেলো।কিছুক্ষণ পর ফিরে এলো হাতে একটা গিটার নিয়ে,,,তা দেখে সানি জিজ্ঞেস করলো....)

সানি-এটা কোথা থেকে আনলে??

অনুজ-ব্যান্ডপার্টির থেকে বলে আনছি কিছুক্ষণের জন্য। এই নে,,, তুই গান ধর।

সানি-এই নানা,,,,কি করছো অনুজ ভাইয়া??কোনো ভাবে তার ছিরে গেলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।

অনুজ-কিচ্ছু হবেনা,,ছিড়লে তা আমি দেখে নিবো।তুই গান ধর তো।এতসব ভাবিস না।

সিমরান-ভালোই হলো,, আদ্রিয়ানও গাইতে পারবে।

রবিন-বিয়াইন,, শুরু করুন।

সানি-আচ্ছা,,আমি গাইছি।তবে এককলি,,,ওকেয়??

আদ্র-(ওটাও গাইতে পারবে কিনা সন্দেহ,,)(মনে মনে)

সিয়াম-ওকে ওকে,,চলবে।শুরু তো করুন।

(সানি বড় একটা শ্বাস ছেড়ে চোখ বন্ধ করলো।তারপর গিটারে টুংটাং আওয়াজ করা শুরু করলো....)

আদ্র-(হুহ,,কেমন গাইবে তা এখনই বোঝা যাচ্ছে।)

(এসব ভেবেই চিল মুডে ফোন টিপতে লাগলো আদ্র,,।তখনই চোখ বন্ধ অবস্থায় সানি গেয়ে উঠলো.....)

♪♪♪♪♪

সানি-

হুমমমম,,,বকুলের মালা শুকাবেএএএ

রেখে দেবো তার সুরবিইই

দিন গিয়ে রাতেরও পাশেএএএ

মুছোনা কো আমার ছবিইই

আমি মিনতি করে গেলাআআম।

(এটুকু গেয়ে সানি গিটার বাজানো বন্ধ করে দিলো।আবার একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে দু সেকেন্ড পর আবার গিটার বাজিয়ে গেয়ে উঠলো....)

তুমি চোখের আড়াল হও

কাছে কি বা দূরে রও

মনে রেখো আমিও ছিলাম।

এই মন তোমাকে দিলাম

এই প্রেম তোমাকে দিলাম।

এই মন তোমাকে দিলাম

এই প্রেম তোমাকে দিলাম।

(গিটার বাজানো বন্ধ করে সানি ধীরে ধীরে চোখ খুললো।দেখলো সবাই হা করে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।কারোর মুখে কোনো কথা নেই।যেন সবাই আজব কিছু দেখে ফেলেছে।,,,,,সানি এসব দেখে করুন ভঙ্গিতে বন্যার দিকে তাকিয়ে কাদো কাদো ভাব নিয়ে বলে উঠলো....)

সানি-ভালো হয়নি,,, তাই না???

(বন্যা কিছুই বললো না।,,,সানি এবার বিরক্ত হয়ে গিটারটা পাশে রেখে অনুজের দিকে তাকিয়ে বাচ্ছাদের মতো করে বলে উঠলো....)

সানি-দেখেছো অনুজ ভাইয়া।বলেছিলাম ভালো হবে না।আমি পারবো না।তবুও তোমরা জোর করেছো।এবার সব্বাই আমাকে নিয়ে হাসবে।হুহ।

(তখন রবিন হঠাৎ ঘোরের মধ্যে থেকেই বলে উঠলো...)

রবিন-এক্সট্রাঅর্ডিনারি মাইন্ডব্লোয়িং,ফ্যান্টাস্টিক বিয়াইন

(সিয়ামও ঠিক একই অবস্থায় হাততালি দিয়ে উঠলো।তার সাথে তাল দিয়ে আদ্র ছাড়া বাকি সবাইও হাত তালি দিয়ে উঠলো।)

রক্তিম-ওহ,, শালিকা,,পুরাই ফাটিয়ে দিয়েছো।

অনুজ-দেখলি,,,বলেছিলাম না,,সবার ভালো লাগবে।

(রবিন আদ্রের পাশেই ছিলো।সে দেখলো আদ্র এখনো একদৃষ্টিতে সানির দিকে তাকিয়ে আছে।তা দেখে রবিন আদ্রকে হালকা একটা ধাক্কা দিলো।এতে আদ্রও নিজের হুসে এলো।আর সানির থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলো।,,,,)

রবিন-ওহে সুপারস্টার সিংগার আদ্রিয়ান এহসান???আমাদের বিয়াইনের গান কেমন লাগলো,,বললেন না তো??

(আদ্রিয়ান মুখে বিরক্তিকর ভাব নিয়ে বলে উঠলো....)

আদ্র-ডিজগাসটিং।

(বলেই ওখান থেকে উঠে চলে গেলো।সবাই আদ্রিয়ানের কথায় বোকার মতো চেয়ে রইলো।কারন সানি এতো ভালো গেয়েছে আর আদ্র তাকে বাজে বললো?)

(আদ্র ওখান থেকে উঠে অন্যএকটা রুমে চলে এলো।,,,নিজে নিজেই ভাবতে লাগলো....)

আদ্র-(এই পিচ্চি মেয়ে এতো ভালো গান গায়,,হাউ ইজ ইট পসিবাল??যাই হোক।আমি তো কখনোই তার প্রশংসা করবো না।আমাকে অপমান করে প্রসংশা শুনার সৌভাগ্য এখনো কারো হয়নি।,,,হুহ)

★★★★★ ২দিন পর ★★★★★

(এই দুই দিনে অর্না আর সৌরভের বৌভাতও হয়ে গেলো।কিন্তু সেখানে আদ্রের পুরো পরিবার থাকলেও আদ্র ছিলো না।কারন ঐ সময় তার একটা শো ছিলো তাই।আফটার অল সে একজন নাম করা গায়ক।,,,,,,,,)

*******

(সময় দুপুর ১ঃ৩০,,,,,কিছুক্ষণ আগেই আদ্রিয়ানের একটা শো ছিলো।সেখান থেকেই ফিরে আসছে ঐখানকার রাস্তা ধরে।এই রাস্তায় আগে তেমন একটা আসা হয়নি।তার বাসা থেকে তেমন একটা দুরেও না।এই ৪০-৪৫ মিনিটের পথ।আদ্রিয়ান বসে আছে তার গাড়িতে।সামনের সীটে ড্রাইভার গাড়ি ড্রাইভ করছে।,,,ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আদ্রিয়ান বাইরে তাকাতেই দেখলো রাস্তার পাশে অনেক লোকজন ভীর করে দাড়িয়ে আছে কিছু একটা ঘিরে।,,,তা দেখে আদ্রিয়ান ড্রাইভার রামেসকে বললো...)

আদ্র-ওয়েট ওয়েট,,,রামেস।গাড়ি স্টপ করো একটু।

(রমেস গাড়ি থামাতেই আদ্রিয়ান নেমে দাড়ালো।রমেসকে বললো....)

আদ্র-রমেস,,,দেখোতো ওখানে কি হয়েছে,,,এতো ভীর কেন??

রমেস-ওকে স্যার।

(বলেই রমেস ভীর ঠেলে সামনে এগিয়ে গেলো।,,,আদ্র গাড়ির সাথেই দাড়িয়েছিলো।কিছুক্ষণ পর রমেস সেই ভীর থেকেই জোরে চিল্লিয়ে বলে উঠলো.....)

রমেস-আদ্রিয়ান স্যার????এখানে একটা মেয়ে অসুস্থ হয়ে পরে আছে।হসপিটালে নিতে হবে।

আদ্র-(ওহ,,,,এটা নিয়ে মানুষ এতো ভীর করে আছে।,,,যাস্ট ইরিটেটিং।,,,,,)(বিরবির করে)

রমেস,,,,ওখানে কাউকে কিছু টাকা দিয়ে দাও।বলো ওকে হসপিটালে ভর্তি করাতে।আসো তুমি।

(বলেই বিরক্তিকর ভাব নিয়ে পেছনে ঘুড়ে দু কদম এগোতেই পেছন থেকে কোনো একজন মেয়ে অস্পষ্ট সরে বলে উঠলো...)

----আদ্রি্,,,,আদ্রিয়ান স্ স্যার,,,,

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ২