আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৪

🟢

(পরদিন সকাল হতেই সানিকে রিলিজ দেওয়া হয়।আদ্র হসপিটালের সব ফর্মেট কমপ্লিট করে সানওকে নিয়ে বাইরে এলো।আদ্র কাল রাতে আর বাসায় ফিরেনি।কেন যেন যেতে ইচ্ছে করেনি সানিকে একা রেখে।,,,তাই আয়ন্তিকে কল করে জানিয়ে দিয়েছিলো যে সে বাসায় ফিরবে না।,,,,,,,,সানি ঠিক মতো হাটতে পারছে না শরীর ব্যথার কারনে।,,তাই আদ্র তাকে কোলে করেই বাইরে এনেছে।বাইরে এসে একটা টুলে সানিকে বসিয়ে দিয়ে বললো...)

আদ্র-সানি,,তুমি যাস্ট দু মিনিট বসো।আমি পার্কিং লট থেকে গাড়ি নিয়ে আসছি।

সানি-আচ্ছা।

(ঠিক দু মিনিট পরে আদ্র গাড়ি নিয়ে সানির সামনে থামালো।আদ্র গাড়ি থেকে নামতে যাবে তখনই খেয়াল করলো সানি আস্তে আস্তে উঠে গাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে।,,তা দেখে আদ্র সামনের সীটের দরজাটা খুলে দিলো।,,,,কিন্তু সানি সেখানে না বসে গাড়ির পেছনের সীটে উঠে বসলো।,,,আদ্র ভ্রু কুচকে বলে উঠলো...)

আদ্র-ওখানে কেন??

সানি-এ্ এখানেই ঠিক আছে।,,,,আচ্ছা?আপনি আমাকে গাড়িতে বসতে বললেন কেন??,,,

আদ্র-তোমাকে বিক্রি করে দেবো বলে।(দুষ্টু হেসে)

সানি-ককককি???আমি নামবো,,,যাবো না আমি।

(আদ্রের কথায় সানি ভয় পেয়ে হাইপার হয়ে যায়।।,,,তা দেখে আদ্র থতমত খেয়ে বলে উঠে...)

আদ্র-আরে আরে,,,আমি মজা করছিলাম।,,,,ঠিক করে বসো তুৃমি।,,

সানি-নাহ,,আমি বিশ্বাস করি না।, আপনি সত্যি সত্যিই আমাকে বিক্রি করে দেবেন।আমি শুনেছি,,,যে মানুসকে বিক্রি করলে নাকি মানুষের চোখ,,রক্ত,,,কিডনি,, সব সবকিছু নিয়ে ফেলে,,,,,,না না না,,,আমি থাকবো না আপনার সাথে।আপনি আমাকে বিক্রি করে দিলে ওরা আমারও সব নিয়ে নিবে।আর তারপর আমিও মরে যাবো।আমি বাপু এতো তারাতাড়ি মরতে পারবো না।,,,,

(নিজমনেই কথাগুলো বলতে লাগলো সানি।আর আদ্র সানির কথায় থতমত খেয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো সানির দিকে।,,,)

আদ্র- কি বলে এই মেয়ে।বিক্রি করলে এসব হয়??অন্যদিকে তার কোনো খেয়ালই নেই।হায় রাব্বা,,,কাহা ছে আয়া ইয়ে লারকি??,,(মনে মনে)

সানি-এই এই,,,আপনাকে দেখতে তো সত্যি সত্যিই কিডনাফারের মতো লাগছে।তারমানে সত্যিই আমাকে বিক্রি করে দিবেন??

আদ্র-এই মেয়ে,,,আমাকে কি তুমি একটু ভালোভাবে দেখতে পারো না??কখনো ছোটলোক তো কখনো কিডনাফার??তুমি চেনো আমাকে?? কি বলছো এসব।

সানি-আপনাকে চেনার কি আছে??আপনি তো কিডনাফার।না হলে কি সারাক্ষণ মুখে মাস্ক আর চোখে চশমা পড়ে থাকে কেউ??

আদ্র-এইটা দেখে তুমি আমাকে কিডনাফার বলছো??

সানি-হ্যা???তা নয় তো কি??আর আপনিওতো বলেছেন তাই না??

(আদ্র এবার নিজের মাথায় হাত দিয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে হতাশার সুরে বলে উঠলো...)

আদ্র-ওয়ে রাব্বা,,,উঠালে মুঝে,,,,,এই মেয়ে একদম চুপ করে বসে থাকো।নাহলে ভালো হবেনা কিন্তু।

সানি-এই এই,, কি ভেবেছেন কি আপনি??আমি বোকা??মোটেও না,,,আমি জোড়ে জোড়ে চিৎকার করে সবাইকে বলবো যে আপনি আমাকে কিডনাফ করেছেন।

আদ্র-এই না না।,,,একদম নয়।

সানি-তাহলে আমার বাসায় দিয়ে আসেন।

আদ্র-বাসা??

সানি-হ্যা,,যেখান থেকে এনেছেন সেখানে।

আদ্র-তুমি ওখানে গিয়ে কি করবে??তোমাকে তো.....

(একথা শুনেই সানির মন খারাপ হয়ে গেলো।তবুও বলে উঠলো...)

সানি-আমাকে কি হ্যা??কিছুই নাহ।এআমি বাড়ি যাবো ব্যাস।

আদ্র-(কিন্তু ঐ বাড়িতে আমি ওকে কিভাবে রেখে আসি।ওখানে থাকলে তো ওকে মেরেই ফেলবে ওরা।না না,,,কিছুতেই না।ওকে ঐ বাড়িতে রাখা যাবেনা।কিন্তু এই পিচ্চিতো সেটা বুঝবেও না।কি করা যায়,,,,)(মনে মনে)

সানি-কি হলো,,,যাবেন নাকি চেচাবো??

আদ্র-এই মেয়ে তুমি যানো তুমি কার সাথে কথা বলছো??

সানি-জানার কি আছে??আপনিও মানুষ আর আমিও মানুষ।

আদ্র-তুমি সত্যিই আমাকে চিনো না??আচ্ছা,,,টিভি মোবাইল দেখা হয় কি??

সানি-হ্যা??বাসায় তো টিভি আছে।তাতো চোখে পরেই।না দেখার কি আছে।

আদ্র-আরে বোকা।,,,কি করে যে বোঝায় একে।।।আচ্ছা?টিভি তে আমাকে কখনো দেখোনি??

(সানি ডায়ে বায়ে মাথা নাড়ে।মানে সে দেখেনি।)

সানি-আমিতো টিভি দেখার সময়ই পাইনা।দেখবো কিকরে??

আদ্র-(বাহ,,,এই আদ্রিয়ানকে চিনেনা এমন মানুষও আছে বাংলা দেশে।ভালোই।ওকে এখন আমার পরিচয় দেওয়া লাগবে না।,,,,,)

সানি-কি হলো চলুন??

আদ্র-যাচ্ছি(রাগী কন্ঠে)

(বলেই আদ্র গাড়ি স্টার্ট দিলো।আর সানি গাড়ির সীটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করলো।লুকিং গ্লাসে সানির দিকে তাকিয়ে আছে আদ্র,,মুচকি হেসে ভাবছে)

আদ্র-(মেয়েটা সত্যিই অনেক ইনোসেন্ট। উপহ।,,পাগল করে দিচ্ছে আমায়।কি আছে এই ১৫ বছর বয়সী মেয়েটার মধ্যে?? যে এই আদ্রিয়ানকেও ঘায়েল করে দিচ্ছে??,,,,তবে পিচ্চি,,যাই হয়ে যাক না কেন??তোমাকে আর ছাড়ছি না আমি।সারাজীবন আমার করেই রাখবো তোমায়।,,,,,)(মনে মনে)

(এসব সাত পাচ ভাবতে ভাবতেই আদ্র সানির বাড়ির সামনে গাড়ি থামালো।সানির দিকে তাকিয়ে দেখলো সানি কেমন যেন মনমরা হয়ে আছে।আদ্র ব্যপারটা বুঝতে পেরে সানিকে বলে উঠলো....)

আদ্র-নামবে না??

সানি-হুম??ও হ্যা,,নামছি

(সানি আস্তে আস্তে গাড়ি থেকে নেমে দাড়ালো।আদ্র সানিকে বললো...)

আদ্র-তুমি এগোও আমি আসছি।

সানি-হুম

(বলেই সানি বাসার দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।এই সুযোগে আদ্র তার মায়ের নম্বরে কল দিলো।,,,দুবার রিং হওয়ার পরই কল রিসিভ করলো আদ্রের আম্মু সরিফা।)

সরিফা-হ্যালো,,,,

আদ্র-হ্যা,,মাম্মাম??

সরিফা-কিরে বাবাই,,কোথায় আছিস তুই??কি এমন কাজ পরলো যে তুই রাতে বাড়ি ফিরিস নি??

আদ্র-মাম্মাম আসলে...হসপিটালে ছিলাম সারারাত।

সরিফা-হুম,,তাতো আমি জানিই।তা কার জন্য সারারাত হসপিটালে ছিলি??আর তুইতো কোথাও বেশিক্ষণ থাকতেও পারিস না।সবাই ঘিরে ধরে।তা হসপিটালে বুঝি তোর ফ্যানরা ছিলোনা??

আদ্র-মাম্মাম,,,সারারাত কেবিনে ছিলাম।কেউ তেমন চিনতে পারেনি।শোন মাম্মাম,,একটা কথা বলার জন্য তোমাকে কল করেছি।

সরিফা-হ্যা,,,বল না??

আদ্র-মাম্মাম,,,আমি একটা মেয়েকে আমাদের বাড়িতে রাখতে চাই।খুব বিপদ ওর।,,,না থাকতে দিলে হয়তো ও.....। আচ্ছা,,তুমি প্লিজ বাড়ির সবাইকে একটু মেনেজ করে নিও,যাতে ও বাড়িতে গেলে কেউ সিনক্রিয়েট না করে।

সরিফা-আচ্ছা বাবা,,, করে নেবো।তা কি হয়েছে মেয়েটার??আর কে হয় তোর?

আদ্র-সব বলবো মাম্মাম,,,বাড়িতে এসে বলছি।এখন বাই।

(বলেই আদ্র কল কেটে দিলো।আর মনে মনে ভাবতে লাগলো...)

আদ্র -(আমি জানিনা সম্মোহীনি,,তোমাকে এরা এখানে রাখবে কিনা।কিন্তু আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো তোমাকে আমার নিজের কাছে রাখার।,,)

(কাপা কাপা হাতে সানি দরজার বেল বাজাতেই তার চাচাতো বোন অন্নি দরজা খুলে দেয়।মুখের মধ্যে ফেইসপেগ। সানিকে দেখে রাগি গলায় বললো..)

অন্নি-তুই আবার এসেছিস??দারা দেখাচ্ছি মজা।মা,,ওমা দেখ,,ঐ মুখপুরি আবার এসে গেছে।

(অন্নির ডাক শুনে ভেতর থেকে তরিঘরি করে নূর বেরিয়ে আসে। এসেই তেতো স্বরে বলে উঠে...)

নূর-মরন,,,,এতো কিছুর পরেও তুই বেচে গেলি??পোড়া কপাল আমার,,,কোন কুক্ষণে তোকে এই বাড়িতে আনলাম।তা বেচে গেছিস ভালো কথা,,এই খানে আসতে গেলি কেন হ্যা??

সানি-চাচি,,,আমাকে থাকতে দাও না,,,আমি কোথায় যাবো বলো??

নূর-উউউহ,,থাকতে দেব??এতটাও বোকা আমি না যে তোকে বের করে দিয়ে আবার বাড়িতে ঢুকাবো।যা এখান থেকে।আর তুই কোথায় যাবি তা আমি কি যানি,, যাহ এখান থেকে।

(বলেই সানিকে একটা ধাক্কা দিলো নূর।সানি পরে যেতে নিলেই পেছন থেকে কেউ একজন সানিকে ধরে ফেলে।সানি তাকিয়ে দেখে এটা আদ্র।,,,মুখ থেকে মাস্কটা খুলে ফেলেছে সে।,,,সানি খেয়াল করলো আদ্র কেমন অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করছে নূরের দিকে।,,,এদিকে আদ্রকে দেখে অন্নির জ্ঞান হারানোর দশা।দুগালে হাত রেখে হা করে আদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে অন্নি।)

নূর-এই ছেলে,, তুমি কোথা থেকে উদয় হলে??ছাড়ো এই অপয়া কে,,,.

(নূরের কথা শুনে অন্নি নূরের কাছে গিয়ে তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো...)

অন্নি-আহ মা,,,তুমি কাকে কি বলছো??চুপ করোতো।,, দা গ্রেট,,, সুপারস্টার আদ্রিয়ান জুনায়েদ আদ্র,,আমাদের বাড়ির দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে,,আমিতো বিশ্বাসই করতে পারছি না।

নূর-তুই চুপ কর তো।,,কে না কে,,এসে এই মেয়েটাকে বাচিয়ে নিলো।আর তুই আমাকে চুপ করতে বলছিস??

অন্নি-আরে মা,,,উনি একজন জনপ্রিয় গায়ক।আর বাংলাদেশের প্রায় বেশিরভাগ মেয়েরই ক্রাশ উনি।,,

(এতক্ষণ পরে আদ্র গম্ভীর গলায় বলে উঠলো...)

আদ্র-আপনার সাহস কিকরে হলো সানিকে এভাবে ধাক্কা দেওয়ার??

নূর-এই এই,,তুমি এত কথা বলার কে হ্যা??আমার ঘরের মেয়ে, আমি যা ইচ্ছে তাই করবো।

আদ্র-সি ওয়াজ ইউরস,,,বাট নাও,,সি ইজ ওনলি মাইন,,,।গড ইট,,,নেক্সট টাইম,,ওর কিছু হলে,, আমি কাউকে ছারবো না।,,,আজ প্রথম, তাই আপনার কিছু করছি না,,,কিন্তু দ্বিতীয় বার ছারবো না আমি।কথাটা মাথায় ভরে নিবেন।,,,,

(বলেই সানির হাত ধরে একটান দিয়ে বলে উঠলো...)

আদ্র-চলো সানি

সানি-আহ,,

(আদ্র হঠাৎ জোরে টান দেওয়ায় সানি পায়ে কিছুটা ব্যথা পায়।,,,সানির আর্তনাদ শুনে আদ্র থেমে যায়।পেছনে ফিরে এক ঝটকায় সানিকে কোলে তুলে নেয়।,,,আর নূরের দিকে একবার রাগী চোখে তাকিয়ে গদগদ করে চলে যায় সে।এদিকে পেছন থেকে অন্নি বলে উঠে...)

অন্নি-আরে,,আরে,,আদ্রিয়ান,,একটা সেলফি প্লিজ।ওনলি ওয়ান।,,এই যাহ,,চলে গেলো।

(ঘরের ভেতর থেকে অনুজ সবই লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিলো।আদ্র যাওয়ার পর সে মুচকি হেসে মনে মনে বল উঠলো...)

অনুজ-(যাক,,,বোনটা আমার একটা ভালো মানুষের কাছেই পরলো।,,ও গড,, প্লিজ সেভ মাই সিস্টার।)(মনে মনে)

++++++

(গাড়ির সামনে এসে আদ্র সানিকে নামিয়ে দিয়ে,,নিজের চুল খামছে ধরে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে।,,,ওমনি সানি বলে উঠলো...)

সানি-আ্ আপনি এমন করছেন কেন?কিছু হয়েছে??

(আদ্র উঠে দাড়িয়ে সানির দিকে তাকিয়ে বললো...)

আদ্র-কিছুনাহ,,,,

সানি-ওহ,,আচ্ছা।,,,আপনি যাবেন না??

আদ্র-হুম,,,,চ...

সানি-তাহলে যান।,,এখানে থেকে আর কি করবেন??আর হ্যা,,আমার জন্য এতোটা করার জন্য ধন্যবাদ।

আদ্র-ধন্যবাদ???,,,,

সানি-হুম,,হয়তো আমাদের আর দেখা হবেনা।তাই বলে দিলাম।

আদ্র-দেখা হবেনা মানে??কোথায় যাবে তুমি??

(সানি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো...)

সানি-দেখি,,, কোথায় যাওয়া যায়।৷,, কোথাও যায়গা না হলে আমার মা বাবার কাছেই না হয় চলে যাবো।,,,

(আদ্র কিছুটা অবাক হলো,,সানির হাসি দেখে,,মনে মনে ভাবলো...)

আদ্র-(কি দিয়ে তৈরি তুমি??এতোটা বিপদের মাঝেও হাসছো??সত্যিই পিচ্চি,, তুমি অদ্ভুত। দুঃখের মাঝেও তুমি হাসতে যানো।আই লাইক ইট)(মনে মনে)

আদ্র-বাজে কথা বন্ধ করো।নাও,,, গাড়িতে উঠো।

সানি-মানে??

আদ্র-মানে তুমি আমার সাথে যাবে।,,,

সানি-কোথায়??

আদ্র-তোমাকে অত ভাবতে হবে না।,,,গাড়িতে উঠো।

সানি-নাহ,,আমি যাবো না।

আদ্র-আমাকে রাগিওনা পিচ্চি। যা বলছি তা করো।

সানি-আ আমি যেতে পারবো নাহ।,,

(আদ্র এবার কিছু না বলে সানিকে কোলে তুলে নিয়ে গাড়ির ভেতরে ড্রাইভার সিটের পাশের সীটে বসিয়ে দিলো।,,,দরজা বন্ধ করে নিজেও ড্রাইভার সূটে গিয়ে বসলো..)

সানি-আরে,,,কি করছেন আপনি,,, আমি যাবোনা বলেছিলাম না??

আদ্র-সেট আপ।সীট বেল্ট বাধো।আর হ্যা,,,একটা ওয়ার্ড মুখ থেকে বের করলে গাড়ির ডিকিতে বসিয়ে দেবো।

(বলেই আদ্র নিজের সীটবেল্ট বেধে নিলো।তারপর সানির দিকে তাকিয়ে দেখলো সানি এখনো সীটবেল্ট লাগায় নি।এটা দেখে আদ্র সানির দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায়।যা দেখে সানি ভয়ে মাথা নিচু করে উঠে।আর আস্তে করে কাপাকাপা কন্ঠে বলে উঠে...)

সানি-এ,,,,এ,,,একটা,,ক্্্ কথা বলি??শু্ শুধু একটা।

আদ্র-ওয়াট??(রাগী মুডে)

সানি-আমি সীটবেল্ট লাগাতে পারিনা।,,

(শুনেই আদ্র সানির দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বললো...)

আদ্র-তো এটা এতক্ষণ বলোনি কেন??

(সানি কিছু বললো না।মাথা নিচু করে বসে রইলো।।তা দেখে আদ্র একটু ঝুকে সানির সীটবেল্টটা লাগিয়ে দিলো।,,আবার নিজের সীটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিলো।,,,সানি ভয়ে আর কোনো কথাই বললো না।পুরোটা সময় চুপ করে রইলো।প্রায় ৪০ মিনিট পরে আদ্র একটা বিশাল বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামালো।,,,সামনে তাকিয়েই সানিকে বলে উঠলো...)

আদ্র-নেমে দাড়াও।

(সানিও আদ্রের কথা মতো নেমে দাড়ালো।,,,,আদ্র গাড়িটা এক সাইডে পার্ক করে সানির কাছে এসে দাড়ালো।সানি খেয়াল করলো ডুপ্লেক্স বাড়িটা পুরোই একটা রাজপ্রাসাদের মতো।মেইন দরজার দুপাশে সারি সারি করে সাজানো ছোট ছোট ফুলের টব।,,,বাড়ির সামনে একটা সাইডে বিভিন্ন ধরনের ফুলের বাগান।,,,বেশ দেখতে লাগছে বাড়িটাকে।)

আদ্র-চলো ভেতরে,,

সানি-এ্ এটা কার বাড়ি???

(সানির কথায় আদ্র কিছুটা ঝুকে সানির দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে বললো...)

আদ্র-এটা সেই ডক্টরের বাড়ি,,যিনি তোমার চোখ,, রক্ত,,,কিডনি নিয়ে নিবে।

সানি-কিহ??আআআআমি ভেতরে যাবো না।,,,,,

আদ্র-যেতে হবেই তোমাকে,,না হলে কিভাবে হবে??

সানি-না,,,না,,মা,,,আমি যাবো না।,,আপনি৷ আপনি খুব বাজে লোক।আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন,,আমি যাবো না যাবোনা যাবোনা।এই চললাম আমি।

(বলেই উলটো পথে হাটা ধরলেই আদ্র সানির হাত শক্ত করে ধরে বাড়ির দিকে হাটা শুরু করে।)

আদ্র-যেতে তোমাকে হবেই,,,না হলে তো হচ্ছে না,,,হাহাহা।

(সানি হাত মোচরামুচরি করতে লাগলো আদ্রের থেকে নিজেকে ছড়ানোর জন্য। চোখের কোনে ভয়ে পানি চলে এলো,,,)

সানি-ছেড়ে দিন না আমাকে।,,কি ক্ষতি করেছি আপনার??আমি যাবো না ভেতরে।,,,উহুহ উহুহ,,,আমায় ছেড়ে দিন না,,,...

(আদ্র সানিকে টানতে টানতে দরজার সামনে এসে বেল বাজাতেই আদ্রের মা আরিফা দরজা খুলে দিলো।)

সানি-ছেড়ে দিন না আমাকে।আপনি একটা বাজে লোক।আমি দেবোনা আমার কিডনি,, দেবো না আমার চোখ।,,,আআআ,,আমি মায়ের কাছে যাবো।মায়ের কাছে যা....

(এটুকু বলেই দরজার দিকে তাকাতেই সানি থেমে গেলো।এদিকে আদ্রও সানির মুখে মায়ের কাছে যাবো,,কথাটি শুনে হাত আলগা করে নেয়।,,,হাত আলগা হতেই সানি ছুটে গিয়ে আরিফাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।টাল সামলাতে না পেরে আরিফা দু কদম পিছিয়েও থেমে যায়।তিনিও অবাক চোখে আদ্রের দিকে তাকিয়ে সানিকে জড়িয়ে ধরে।,,,সানি ঐ অবস্থায় কাদতে কাদতে বলে...)

সানি-আন্টি তুমি??,,,আন্টি,,আন্টি,,এই পচা লোকটাকে বলে দাও না,,আমি উনার সাথে যাবো নাহ,,আমি চলে যাবো।কিন্তু দেবোনা,,, দেবোনা আমি কিডনি।কক্ষনো নাহ,,বলে দাও না তুমি।

(এদিকে সানির এহেন কান্ড দেখে আদ্রও হা করে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।,,,আরিফা সানিকে শান্ত করার জন্য পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে বললো....)

আরিফা-মা,,,,কি হলো তোর??কিচ্ছু হবেনা তোর।কেউ কিচ্ছু করবে না।

সানি-না,,,না,,,না,,,দেখ তুমি,,এই লোকটা আমাকে বিক্রি করে দেবে।উনাকে বলে দাও না তুমি,,যে আমাকে যেন বিক্রি না করে দেয়।বলে দাও না।

আরিফা-আচ্ছা,,আ্ছা,,তুই শান্ত হ।আমি বলছি।,,,এই আদ্র,, তুই ওকে বিক্রি করবি না বল??বল বিক্রি করবি না??

(আদ্র অবাক হয়ে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো...)

আদ্র-মাম্মাম??

আরিফা-বল ওকে বিক্রি করবি না??(চোখ গরম করে)

আদ্র-ওকে,,ওকে,,করবো না বিক্রি। আরে পিচ্চি আমি তো মজা করছিলাম।তুমি ভয় পাচ্ছো কেন??

আরিফা-সানি মা?,,দেখ,,ও বলে দিয়েছে।এবার শান্ত হ।

(আরিফার কথায় সানি কিছুটা শান্ত হলো।আস্তে আস্তে মুখ তুলে দেখলো অনেকেই তার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে।এমনকি আদ্র আর আরিফাও একে অপরের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে।,,,,,সানি তাদের দিকে তাকাতেই আদ্র বলে উঠলো...)

আদ্র-আচ্ছা মাম্মাম,,, কথা পরে হবে। আগে ওকে নিয়ে বসাও।,,

আরিফা-হুম।

(আরিফা সানিকে ধরে ড্রয়িং রুমের সোফায় এনে বসায়।,,,সাথে সাথে বাকিরাও সেখানে এসে পৌছায়। আদ্র এসে সানির পাশে বসে,,)

আদ্র-তুমি ঠিক আছো??,,আম সরি,,তুমি কি বেশি ভয় পেয়েছো??কি হো বলো??

সানি-প্ পানি,,,

আদ্র-পানি খাবে??

(সানি হ্যা সুচক মাথা নাড়ে,,,তা দেখে আদ্র তার বোন আয়ন্তিকে বলে উঠে...)

আদ্র-বোনু,,এক গ্লাস পানি নিয়ে আয়।

আয়ন্তি-আনছি।

(কিছুক্ষণের মধ্যেই আয়ন্তি পানি এনে সানিকে খাইয়ে দেয়।পানি খাওয়ানোর সময় সানি আয়ন্তির দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।তা দেখে আয়ন্তি মুচকি হেসে বলে উঠে...)

আয়ন্তি-কি হলো??ওভাবে তাকাচ্ছিস কেন??আপুকে ভালো লাগেনি??

সানি-আপু??(অবাক হয়ে)

আয়ন্তি-হুম,আপু।ভাইয়ার বোন মানে তো আপুই তাইনা??তা আমার ভাইয়াকে কি বলে ডাকিস শুনি??

(আয়ন্তির কথা শুনে সানি আদ্রের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আবার আয়ন্তির দিকে তাকিয়ে বাচ্চাদের মতো ঠোট ফুলিয়ে বলে উঠে...)

সানি-পঁচা লোক।

(সানির কথায় পুরো বাড়ির সবাই চোখ বড় বড় করে একে অপরের দিকে তাকিয়ে দু সেকেন্ড পর সবাই মিলে ঘর কাপিয়ে হেসে উঠলো।শুধু আদ্র হাসলো না।,,,)

সানি-আচ্ছা??ঐ পচা ডক্টরটা কোথায়,, যার কাছে উনি আমাকে বিক্রি করবে বলেছে?

আদ্র-উহ, সানি,,,বলেছিনা আমি মজা করছিলাম?,,কোনো ডক্টর নেই।,,ওয়েট আমি তোমাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।,,,

(এই বলেই আদ্র সানিকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে লাগলো।আদ্রদের জয়েন ফ্যামেলি।তার আব্বুরা তিন ভাই।তাদের মধ্যে আদ্রের আব্বু সবার বড়।তার মেঝো চাচা রফিক,,তার ছোট চাচা সেলিম। মেজো চাচি আয়শা,, ছোট চাচি শিরিন।আদ্রের মেঝ চাচার ছেলে রিসব,,, আদ্রের চেয়ে প্রায় এক মাসের ছোট সে।তার বোন রুসা,,এবার অনার্স সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট।এছাড়াও রিসবের এক বড় বোন আছে।যে বর্তমানে তার শশুর বাড়িতে আছে। আদ্রের ছোট চাচার ছেলে সায়মান এবার মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে।আর তার ছোট বোন শারমায়া এবার ইন্টার ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট।।।।।)

শারমায়া-আদ্র ভাই,,,তুই কিন্তু বাড়িতে ওকে এনে ঠিক করিস নি।,,,,,,,এবার আমাদের আদরই কমে যাবে(অভিমানি শুরে)

রুসা-তবে যাই বলিস।পিচ্চি বোনু কিন্তু সেই দেখতে।

(রুসার কথায় আদ্র ঘোর লাগা কন্ঠে সানির দিকে তাকিয়ে বললো...)

আদ্র-ইয়াহ,,,সি ইজ লাইক আ ডল।সানি??ক্যান আই কল ইউ ডল???

(সানি আদ্রেদ মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলো আদ্র এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।,,,তা দেখে সানি একগাল হেসে দিয়ে বললো....)

সানি-আই লাইক ইট।,,,ডল,,,খুব সুন্দর।সত্যিই আপনি আমাকে ডল বলে ডাকবেন??

আদ্র-যদি তুমি অনুমতি দাও(মুচকি হাসে)

সানি-দিলাম,, দিলাম,,,দিলাম।আই রিয়েলি লাইক ইট।

(সানির কথায় সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।,,,সবাই ভাবছে,, মেয়েটা কি দারুন কথা বলতে পারে।অনেকটাই বাচ্চা স্বভাবের। খুব মায়াবীও।,,,,,এই কিছুক্ষণের মধ্যেই সানির সাথে বাড়ির সবার বেশ জমিয়ে আলাপ হলো।তারপর রুসা আর শারমায়া মিলে সানিকে তার নিজের রুম দেখিয়ে দিলো।ফ্রেশ হয়ে সবাই মিলে লাঞ্চ করে নিলো।,,,,,সানির সবার সাথে খুশি থাকা দেখে আদ্রও খুব খুশি)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৪