আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ২১

🟢

(সকাল ১১টা।সবাই নিজ নিজ ভাবে রেডি হচ্ছে আয়ন্তির রিসেপশনের জন্য।সানিও পরে নিলো আদ্রের দেওয়া ড্রেস আর অর্নামেন্স।এ্যাশ কালারের লং গ্রাউন।যার ওপর ব্লাক স্টোনের কাজ।শীত কাল থাকার কারনে সবাই কমবেশি শীতের পোশাক পরেছে।সানিকেও আদ্র একটা ব্র্যান্ডেড ডোমেন লেডিস জ্যাকেট দিলো।যেটা সানি গ্রাউনের উপরে পরলো।আর সবগুলো বাটানই খোলা।পায়ে স্টিলেটো।বা হাতে ব্লাক ওয়াচ আর ডান হাতে ছোট্ট লাভ সেইপের একটা ব্রেসলেট।যেটা আদ্রই সানিকে পরিয়ে দিয়েছে।চুলগুলো দুপাশে রোল করে ছেড়ে দেওয়া।আর পেছন দিকে হালকা বাকা।ব্যাস এতেই যেন সানি পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।শারমায়া জোর করে তার চোখে কাজল, আইলানার আর হালকা করে মাশকারা লাগিয়ে দিয়েছে।যার কারনে তার চোখ গুলো টান টান হরিনীর মতো লাগছে।গায়ে ডোমেন থাকার কারনে ওরনা আর পরলো না।এটা অবশ্য আদ্র জানে না।রুসাই জোর করে রেখে দিয়েছে ওরনাটা।,,,,,,সবাই গাড়ির সামনে এসে পৌছালো।গাড়ি ঠিক করা হলো ৮টি।একটায় ইয়াং জেনারেশন,আরেকটায় আদ্রের মা,বাবা এবং কাকাই আর কাকিয়ারা সবাই।আর ৫টা গাড়িতে বাকি আত্মীয়রা,আর একটা তে আদ্রের কিছু গার্ড।আদ্র নিজের ফ্যামিলিকে সেফ রাখার জন্য গার্ড সাথে রেখেছে।এক এক করে সবার গাড়ি যাত্রা শুরু করলো শুধু আদ্রদের গাড়ি ছাড়া।কারন এখনো শারমায়া,সানি আর ইরুনি এসে পৌছালো না।,,,,একটু পরেই তারা তিনজন একসাথে বের হলো।আদ্র সানিকে আপাদমস্তক একবার চোখ বুলিয়ে নিলো।আজ তার পুতুলটাকে সত্যিই অন্যরকম লাগছে।এই প্রথম সানি ওরনা ছাড়া কোথাও যাচ্ছে।অবশ্য এখানে কারোরই তেমন ওরনা নেই।তবুও তারা নিজেদের ঠিক মতোই তৈরি করেছে।যেমনটা সানি।কিছু একটা ভেবে আদ্র মুচকি হেসে বললো...)

আদ্র-ডল,,আসো কুইক।

সানি-হ্যা,,আসছি।

শারমায়া-এই কোথায় বসবো??

ইরুনি-আমি কিন্তু লাস্ট সীটে বসবো।

রিসব-ওকে,ওকে,আমি দিচ্ছি ঠিক মতো।

(তারপর রিসবের কথা মতো সবাই যার যার সীটে বসলো।আজ রিসব ড্রাইভ করবে,আর তার পাশে সায়মান।একদম পেছনের সীটে শারমায়া, ইরুনি আর রুসা।তাদের সামনে বিহান, জিমান আর সিমন।তার তাদের সামনে বসলো বন্যা,আদ্র আর সানি।আদ্র ইচ্ছে করেই সানির সাথে বসলো।,)

সায়মান-একটা মিউজিক প্লে করলে কেমন হয়???

রুসা-হ্যা,,হ্যা৷ নাহলে বোর লাগবে।

বিহান-কর ভাই কর।সত্যিই বোর লাগছে

সারমায়া-আরে লাগবে না।আমি বরং লাইভ করি।

জিমান-তুই এই নিয়েই থাক।

বন্যা-সামুআপু,, তুমি সারাদিন এই লাইভ নিয়েই থাকো।

শারমায়া-আরে বন্যা,,তুই জানিস না,,আমার কতো কতো ফ্যান ফলোয়ার।তারা তো অপেক্ষায় থাকে না??যে আমি কখন পোস্ট আপলোড করবো।তাই আরকি।

রিসব-বন্যা,,ওর এসব ভোলাভালা কথায় তুই ভুলিস না।এরা ভাই বোন দুজনই একই কম্পানির মাল।একজন সারাদিন লাইভ ভিডিও তো আরেকজন ফ্রীফায়ার।

সিমন-রাইট ব্রো।

সায়মান-রিসবের বাচ্চা,,আমি কি এখন খেলছি নাকি?তুই আমাকে টানলি কেন??

আদ্র-এই,,,আমরা রিসেপশনে যাচ্ছি। কোনো।ফাইটে নয়।এভাবে ঝগড়া করছিস কেন তোরা??

সানি-হ্যা,,তাই তো।তবে স্যার,,আমার না এই মিষ্টি মিষ্টি ঝগড়াগুলো সেই ভালো লাগছে,,(মিটিমিটি হেসে)

ইরুনি-এটাও ভালো লাগার জিনিস নাকি।অবশ্য কি আর করার,, তোমার তো এসবই ভালো লাগবে।

(ইরুনির কথায় সবাই একটু বিরক্ত হলো।আর সানির এতক্ষনের হাস্যজ্জল মুখটা মলিন হয়ে গেলো।তা দেখে জিমান কথা ঘুরিয়ে বললো...)

জিমান-পিচ্চি,,,তোরও ভালো লাগছে??আমারো তো ভালো লাগছে।

বিহান-হ্যা,,আমারো সেই লাগছে।ভাইয়েরা আমার,, তোমরা তোমাদের ঝগড়া চালিয়ে যাও।আমরা সত্যিই মুগ্ধ হচ্ছি তোমাদের একটিং থুক্কি ঝগড়ায়।

শারমায়া-আজ লাইভ হবে ঝগড়া স্পেশাল। যেখানে রয়েছে সায়মান Vs রিসব।দেখা যাক গায়েজ,,কে জিতে নিতে পারে আজকের ঝগরা প্রতিযোগিতার প্রাইজ।

(এটাই যেন বাকি ছিলো।শুরু হলো সায়মান আর রিসবের কথা কাটাকাটি।রিসব ড্রাইভ করতে করতেই তার ঝগড়া চালাচ্ছে।সানি সহ বাকি সবাই তাদের চিয়ারআপ করছে।আর শারমায়া পুরোটা লাইভ করছে।,,,এভাবে চলতে চলতে তারা পৌছে গেলো আয়ন্তির শশুর বাড়ির সামনে।,,এবার আদ্র বলে উঠলো...)

আদ্র-ওকে বয়েজ,,,এবার থামো।আমাদের একটা রেপুটেশন আছে।সো এখন আর নয়।,,যাওয়ার সময় আবার হবে। কি বলো??

সবাই মিলে-ইয়েএএএএস।

(এরপর সবাই এক এক করে গাড়ি থেকে নামলো।গেইটের সামনে যেতেই অপরপক্ষ থেকে একদল তাদের পথ আটকে দাড়ালো।তখন ওপাস থেকে একজন মুরুব্বি এসে বললো...)

----এই তোরা যা করার কর।কিন্তু বড়দের ছেড়ে দে।

(তার কথা মতো সবাই বড়দের ভেতরে ঢুকতে দিলো।আটকে গেলো ইয়াং জেনারেশনের সবাই।তখন বরপক্ষ থেকে একটা মেয়ে নিশু বলে উঠলো...)

নিশু-সো গায়েজ,, আপনারা আগে আমাদের গেইটের বকসিশ দেবেন।তারপর ভেতরে যাওয়া হবে।

সায়মান-এখানে তো জল মিষ্টি কিছুই নেই।এসব ছাড়া কি বকসিশ দেওয়া যায় নাকি??

(তখন ও পক্ষ থেকে রাহিল বললো..)

রাহিল-এই তোরা কিরে??সামান্য জল মিষ্টির প্ল্যানও করলি না??ওকে আমি দেখছি।

(বলেই একজনকে দিয়ে দুইটা ট্রে আনালো।একটার মধ্যে ৬গ্লাস কোল্ডড্রিংস।আর একটায় প্লেট ভরতি মিষ্টি। এসব দেখে রুসা বিহানকে চুপিচুপি বললো...)

রুসা-এই জান,,আমার মনে হয়,, এগুলোতে কোনো ঘাপলা আছে।সবাইকে একটু বলে দাওতো।

(বিহানের আরেক পাশেই আদ্র ছিলো।তাই বিহান মাথা ঘুরিয়ে আস্তে আস্তে বললো...)

বিহান-ইয়ার, বি কেয়ারফুল।এসব এদের প্লেন।

আদ্র-নো টেনশন।

(তখন ওপক্ষ থেকে একটা মেয়ে পাহি বলে উঠলো...)

পাহি-মিষ্টি মুখটা প্রথমে মিঃআদ্রিয়ানকে দিয়েই শুরু করা যাক।একেই তিনি একজন বিখ্যাত ব্যাক্তি।তার ওপর আমাদের ভাবি কি ভাই।,,কি বলো তোমরা??

রাহিল-আরে আরে তা কি করে হয়??উনি বিখ্যাত ঠিক।কিন্তু এখানে তো আমাদের ভাবির বোনও রয়েছে।তাই তাকে দিয়েই শুরু হোক।

(সানি এতক্ষন আশপাশ দেখছিলো।এদের কথা শুনে চমকে তাকালো।আদ্রও তারাহুরো করে বললো...)

আদ্র-এই না না,,,ও কেন??

পাহি-বাআআবা,,ভাইতো দেখছি খুব কেয়ার করে তার বোনের।

(পাহির কথায় মোটামুটি এপক্ষের সবাই একটু অবাক হলো।আর আদ্র হালকা রেগে গেলো।বিহান মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো।,,,রাগ সামলাতে না পেরে আদ্র যখনই এগিয়ে গিয়ে কিছু বলতে যাবে তখন বিহান খপ করে তার হাত ধরে বলতে লাগলো...)

বিহান-আরে,,বিয়াইন।আপনি ভুল ভাবছেন।ও আপনার ভাবির বোন কিন্তু আদ্রের না।

নিশু-মানে কি,,ভাবির বোন মানে তো এনারও বোন।

রুসা-না না,,এখানে একটু টুইস্ট আছে।আপনারা বুঝবেন না।

রাহিল-তবে যাই বলো।সানি কিন্তু আমার বিয়াইন৷ মানে অন্য কিছুও হতে পারে।তা বিয়াইন আজ কিন্তু আপনাকে সেই লাগছে।

(শারমায়া লক্ষ করলো আদ্র কেমন রেগে যাচ্ছে তাই পরিস্থিতি সামলাতে হাসি মুখে বলে উঠলো...)

শারমায়া-আরে আরে,,আমাদেরওতো একটু তারিফ করুন।

পিজুস-আরে,, আপনার তারিফ করার জন্যতো আমি হাজির রানীসাহেবা

কারান-এবার তাহলে একটু জল পানি গ্রহন করুন।

পাহি-তো মিঃ আদ্রিয়ান। নিন নিন।

(বলেই একটা গ্লাস আদ্রের দিকে এগিয়ে দিলো।)

(আদ্র বাকা হেসে বললো...)

আদ্র-আরে আরে এত তারা কিসের??

(বলেই আদ্র গ্লাসটা নিয়ে ট্রেতে আরেক সাইডে রাখলো।তারপর ওদিকে তাকিয়েই বললো...)

আদ্র-আমরা অতিথি মানুষ।

(বলেই একটা গ্লাসের জায়গা বদল।করলো।)

আদ্র-আমরা কি আপনাদের ছাড়া নিতে পারি??

(বলেই আরেকটা গ্লাসের জায়গা বদল করলো।এরকম নানা রকম কথার মাঝে সবাইকে ব্যাস্ত রেখে সবগুলো গ্লাসের জায়গা বদল করলো।শেষ মূহুর্তে একটা গ্লাস হাতে নিয়ে পাহির দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো...)

আদ্র-এই নিন।আগে আপনারা,,তারপর আমরা।

(পাহি পরলো মহা বিপদে।সবগুলো গ্লাস একই রকম হওয়ার কারনে কোনটার মধ্যে কি মিশিয়েছে তা ঘুলিয়ে ফেলেছে।তারওপর আদ্রের এমন তীক্ষ্ণ বুদ্ধির চাল।পাহি ক্যাবলা হেসে বললো..)

পাহি-আরে,, আমি কেন??আগে আপনি এইটা নিন।

(বলেই আরেকটা গ্লাস তুলে আদ্রের সামনে ধরলো।আদ্র বাকা হেসে গ্লাসটা হাতে নিলো।তারপর পাহিকে নানা কথায় ফাসিয়ে তার হাতে গ্লাস ধরিয়ে দিলো।এরপর আরেক হাতে থাকা গ্লাসটা নিশুকে দিলো।সেও ভয়ে ভয়ে হাতে তুলে নিলো।তারপর আরেকটা গ্লাস তুলে রাহিলকে দিলো।)

পিজুস-এটা ঠিক না।সব আমরা নিলে আপনারা কি নিবেন??

আদ্র-ওকেয়,,আপনারা তিনটা নিয়েছেন এবার আমরা তিনটা নিবো।

(বলেই একটা গ্লাস তুলে বিহানের হাতে দিলো।বিহান ইনোসেন্ট ফেইস করে বললো..)

বিহান-ইয়ার,,তুই এটা করতে পারলি।এটা খেয়ে যদি মরে যাই তাহলে আমার বেবি আই মিন রুসা কিন্তু বিধবা হয়ে যাবে।

আদ্র-চুপচাপ নে।

(বিহান হাতে নিলো।তারপর আদ্র আরেকটা গ্লাস সায়মানের দিকে এগোতেই...)

রাহিল-এটা হচ্ছে না।এই দুইটা আপনি আর আমার সানি বিয়াইনকে নিতে হবে।নাহলে মানবো না।

(জোরাজুরির কারনে আদ্র এটা মানলো।সানির সেপটির জন্য সে একটা গ্লাস তুলে নিয়ে হালকা মুখে দিলো।অনুমান করলো এতে চিনি মেশানো হয়েছে।তাই নির্ধিধায় সে সানির দিকে এগিয়ে দিলো।আর চোখের ইশারায় বোঝালে যে এটা খাওয়া যাবে।সানি হাতে তুলে নিলো।তারপর বাকি একটা গ্লাস আদ্র তুলে নিলো।মুখের সামনে নিয়ে আবার থেমে বলে উঠলো...)

আদ্র-একি সবাই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন কেন??খান।

(এবার সবাই ধীরে ধীরে মুখে তুললো।এতক্ষণে সবাই বুঝে গেছে যে সানির ভাগে ভালো কিছু পরেছে।যা খাওয়ার যোগ্য। মুখে দিতেই এক এক জনের রিয়েকশন এক এক রকম হলো।বিহানের ভাগে পরলো লবন মেশানো টা।একটু মুখে দিয়েই বিহান থু থু করে ফেলে দিলো।পাহির ভাগে পরলো তিতাওয়ালা টা।মুখে তুলেই সে ওয়াক ওয়াক করতে করতে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো।নিশুর ভাগে পরলো, যেটায় ছিলো সয়াবিন তেল।মুখে দিতেই একধরনের বাজে স্বাদ পেলো সে। সেও থুথু দিয়ে ফেলে দিলো।রাহিলের ভাগে পরলো মরিচ মেশানোটা।খেতেই সে হাপাতে শুরু করলো।আর আদ্রের ভাগে পরলো যেটার মধ্যে মেশানো ছিলো "বাংলা"(একপ্রকার মদ)।প্রথমে মুখে দিয়ে আদ্র একটু চমকালো।তারপর অনেক চেষ্টায় সেগুলো গিলে নিয়ে হাসি মুখে বললো...)

আদ্র-তা কেমন ছিলো কোল্ডড্রিংসের টেস্ট??

বিহান-ইয়ার৷, আইডিয়া বেশ ভালোই ছিলো।

বন্যা-কিন্তু,, নিজেরাই ফেসে গেলো।হা হা হা।

রুসা-এই জান।কি মিশিয়েছে বলো না??

বিহান-আমারটাতো লবন ছিলো।কিন্তু এদের অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছে তার থেকেও সুস্বাদু কিছু পরেছে।

শারমায়া-কি??সানি কা দিওয়ানা,,,ঝাল কি বেশি নাকি??

জিমান-এই আদ্র,,,তুই কি খেলি শুনি??

আদ্র-ইয়ার,,আমি এখন ঠিক আছি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর কি হবে তা ঠিক বলতে পারছি না।

সানি-মানে??কি খেয়েছেন আপনি??

(আদ্র সানির দিকে হালকা ঝুকে আস্তে আস্তে বললো...)

আদ্র-তোমার পচালোকটাকে একটা পচা জিনিস খাইয়ে দিয়েছে এরা।

সিমান-এই আদ্র,,আমাদেরও বল।কি খেলি তুই??

কারান-ভাই,,আপনি এত ফিট আছেন কিভাবে??আমরাও শুনি কি খেলেন??

রিসব-হ্যারে বল??

আদ্র-এতে বাংলা মিশিয়েছে।

সায়মান-হোয়াট!!!(বলেই হুহা করে হাসতে লাগলো।)

বিহান-যাক,,আপনারা একটা ভালো কাজই করেছেন।অনেকদিন হলো আদ্র বাংলাটা ঠিক খাচ্ছে না।

শারমায়া-আর কিছু পাইলেন না আপনারা??

পিজুস-আপনি বললে আপনাকে আমি অন্যরকম কিছু খাওয়াতে পারি।কি বলেন??

বন্যা-এবার যেতে দেওয়া হোক।খাওয়া দাওয়া তো হলো।

রাহিল-বকশিসটা,,,,

বিহান-নাস্তা ডুবলিকেট ছিলো।তাই নো বকশিস।

আদ্র-আচ্ছা,,দিয়েই দিই।

(বলেই আদ্র পকেট থেকে ২০হাজার টাকা তাদের দিয়ে দিলো।আর সবাই মিলে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো।)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ২১