(পরদিন সকাল,,,,পিটপিট করে চোখ খুলতেই সানি নিজেকে এক অচেনা জায়গায় আবিষ্কার করলো।এটাতো তার রুম নয়??তাহলে কোথায় আছে সে??এসব ভাবনার মাঝেই পাশ থেকে ডাক পরলো...)
আদ্র-ঘুম ভাঙলো আমার পুতুলটার??
(কথা শুনেই সানি পাশে তাকায়।দেখে,,,আদ্র তার দিকেই ঝুকে শুয়ে আছে।তার দৃষ্টিও সানির দিকে বন্ধি।,,,)
সানি- আমি এখানে কেন??
আদ্র-সেটাতো তুমিই বলতে পারবে।
সানি-মানে???কাল রাতে আমি এখানেই ঘুমিয়ে পরেছিলাম???
আদ্র-শুধু নিজে ঘুমাওনি।আমার ঘুমও হারাম করেছো।
সানি-মানে??
আদ্র-কিছুনা।উঠো,,,,নাস্তা করবে চলো।এমনিতেই অনেক বেলা হয়ে গেছে।পরে সবাই ভাববে এত বেলা পর্যন্ত কি না কি করছি।
(উঠে বসতে বসতে কথাগুলো বললো আদ্র।সানিও উঠে বসলো।)
সানি-মানে??
আদ্র-এত মানে মানে করো কেন??এখন বলো।ফ্রেশ কি নিজের রুমে হবে??নাকি এটাও একসাথে??
সানি-ছি,,,কি বলছেন এসব??
আদ্র-কিছু না।যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে এসো।আমিও আসছি।ওকেয়?(হালকা হেসে)
সানি-ওকেয়।
(বলেই সানি চলে গেলো নিজের রুমে।আদ্র বসে বসে ভাবতে লাগলো...)
আদ্র-উপহ,,,মেয়েটা সারারাত ঘুমাতেই দিলোনা।,,কি করবো আর আমি।ওর মুখখানা যে দেখতে দেখতে সকাল হয়ে গেলো।
(এসব ভাবতে ভাবতে আদ্রও ফ্রেশ হয়ে নিলো।নিচে আসতেই সানিকে দেখে রুসা আর শারমায়া মিটিমিটি হাসছে।সানি এসে নিজের চেয়ারে বসলো।)
সফিক-গুড মর্নিং মামনি।
সানি-গুড মর্নিং বাবাই।
সফিক-তা এতো দেরি যে???শরীর ঠিক আছে তো???
সানি-হ্যা,, বাবাই,,, একদম ঠিক আছে।
(তখনই আদ্র ফরমাল ড্রেসআপে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো।ঠোটের কোনে একরাস হাসি।এসেই সে সানির পাশের চেয়ারে বসলো...)
আদ্র-গুড মর্নিং এভরিবডি।
সেলিম-গুড মর্নিং।
রিসব-গুড মর্নিং ব্রো।
বিহান-ইয়ার,,,তুই ফর্মাল ড্রেসে??
আদ্র-হুম।কলেজ যাবো।
সফিক-মানে কি??
শিরিন-আদ্র বাবা,,তুই তো অসুস্থ।
আরিফা-না না,,এই শরীর নিয়ে কোথাও যাওয়া চলবে না একা একা।
আদ্র-নো মাম্মাম।এমনিতেই অনেকদিন যাওয়া হচ্ছে না।
সানি-তাই বলে আপনি এই অবস্থায় যাবেন?.
আদ্র-তুমি চিন্তা করোনা ডল।আমি ঠিকঠাক থাকবো।আর হ্যা,,আমি না আসা পর্যন্ত নিজের খেয়াল রাখবে।
সানি-খেয়াল রাখবে মানে??আমিও তো স্কুলে যাবো।
রফিক-এই দেখো,,মেয়ের কান্ড।
আয়শা-তোদের কারোরই কোথাও যাওয়া চলবে না
আদ্র-ডল,, তুমি আজ না।কাল বা পরশু থেকে যেও।
সানি-নাহ,,,আপনিও তো আজ যাচ্ছেন,তাহলে আমি গেলে সমস্যা কোথায়??
আদ্র-তুমি বুঝতে পারছো না ডল।তুমি অসুস্থ
সানি-আপনি কি সুস্থ আছেন??অসুস্থ হয়ে আপনি যদি যেতে পারেন।তাহলে আমিও পারবো।
আদ্র-উপহ ডল।এত তর্ক কেন করছো??
আরিফা-নানা,,,তোদের দুজনকেই আমি একা কোথাও যেতে দিচ্ছি না।
সানি-মামনি,,,আমার কয়েকদিন পর ফাস্টটার্ম এক্সাম আছে।এই সময় স্কুল মিস দেওয়া ঠিক হবে না।বোঝার চেষ্টা করো।
আরিফা-তাই বলে আমি তোদের একা যেতে দেবো??কেউ তো সাথে গেলেও হতো।
রিসব-চাচি,, চাচি,,চাচি।বলছিলাম যে আজ তো অফিসে তেমন কাজ নেই।আমিতো না গেলেও চলবে।আমি যাই ওদের সাথে??
আরিফা-তুই যাবি??তাহলে তো ভালোই হয়।
সায়মান-তাহলে আম...
শারমায়া-তুইও যাবি তাইনা ভাইয়া??জানতাম আমি হিহিহি।
সায়মান-হ্যা,,না মানে,,রিসব তো একা সব সামলাতে পারবে না।আ ্আমারও যাওয়া উচিৎ।কি বলো??
আয়শা-বাহ,,তাহলে তো ভালোই হয়।
সেলিম-সবই বুঝলাম।কিন্তু তোরা হঠাৎ যাওয়ার জন্য এত উতলা হয়ে গেছিস কেন??কোনো মতলব আছে নাকি??
রিসব-ম্ ম্ ম্ মতলব??না মানে,,ইয়ে আর ্ আর কি,,ঐ, এ্ এ্...
সায়মান-ক্ কিযে বলো না বাপি,,,আ্ আমাদের আবার কি মতলব থাকবে।আ্ আমরাতো শুধু দেখতে যাবো।না মানে ওদের দেখতে যাবো।যাতে কোনো প্রবলেম না হয়।তা্ তাছড়া আর কিছুই না।
রুসা-(আমি তো ঠিকই জানি,, কেন তোমরা ওখানে যেতে চাইছো।)(মনে মনে)
শিরিন-আহ তুমি এত সন্দেহ কেন করছো।ওরা যখন যেতে চাইছে যাকই না তাহলে।
বিহান-ইয়ার, আমিও কি যাবো?
আদ্র-আরে তু....
রুসা-এই একদম না।তুমি ওখানে যাবে না।
(রুসার কথায় বড়রা সবাই অবাক হয়ে রইলো।বেচারা বিহানের কাশিও উঠে গেলো।রুসা বুঝতে পারলো সে কি ভুল করে ফেলেছে।জিভে কামর দিয়ে নিজেকেই নিজে বকতে লাগলো...)
আয়শা-কিরে তোর আবার কি হলো??
রুসা-ইয়ে না মানে...
আদ্র-আসলে ক্ কাকিয়া,,ও বলতে চাইছে এতজন গিয়ে কি করবে।তেমন কিছু তো নয়।তাই না রুসা???
রুসা-হ্যা,হ্যা,আ্।আমিতো ওটাই বলতে চেয়েছিলাম।
আয়শা-ওহ,,তাই বলো।
আয়শা-তোরা যে যাওয়া যা।শুধু আমার ছেলে মেয়ে দুটোকে একটু দেখে রাখলেই চলবে।
আদ্র-তুমি চিন্তা করোনা মাম্মাম।
বিহান-এই আদ্র। তুই এখন খাবি কি করে,,তোর হাততো কাটা।
আরিফা-ও হ্যা,,তাই তো।
শারমায়া-আমি বলি কি,,পিচ্চি তো ওর পাশেই আছে।পিচ্চি তুই ভাইয়াকে খাইয়ে দেনা।
সানি-আমি!!
আয়শা-হ্যা৷,, দেনা,,কিছু হবে না।
সানি-আমি তো কখনো...
আদ্র -কিচ্ছু হবে না ডল।আমি না হয় কাটা হাতেই কষ্ট করে খেয়ে নেবো।কি আর করার।
সানি-না না,,আ্ আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
(আদ্রের মুখে ফুটে উঠলো এক প্রাপ্তির হাসি।,,,সানি তার আলতো হাতে খাইয়ে দিতে লাগলো আদ্রকে।আর আদ্র খাওয়ার সাথে সাথে অনুভব করতে লাগলো তার পুতুলের নরম হাতের ছোয়া।,,,,,খাওয়া শেষে তারা চারজন রওয়ানা দিলো স্কুলের উদ্দেশ্যে।,,,,,,স্কুলে পৌছাতেই সানি চলে গেলো ইমু আর নিডোদের সাথে দেখা করতে।সায়মান আর রিসব তাদের ক্রাশকে দেখতেই ব্যস্ত।আদ্র সানিকে রেখে অফিসরুমের দিকে যেতে লাগলো।করিডোর দিয়ে হাটার সময় দেখা হয় তাদের কলিগ মিস তানিশার সাথে।সেও এই স্কুল এন্ড কলেজেরই শিক্ষিকা।খুবই সুন্দরী, এক কথায় গায়ের রং মাস্ত।কিন্তু আদ্রের তাকে একদমই পছন্দ হয়নি।মেয়েটা কেমন যেন গায়ে পড়া স্বভাবের।আগে সেলোয়ার কামিজ পরে আসতো।কিন্তু আজ শাড়ি পরে এসেছে।সাথে স্লিভলেস ব্লাউজ।এমন ভাবে শাড়ি পরেছে যে তার প্রায় পুরো পেটটাই দৃশ্যমান।ড্রেসআপের দিক দিয়ে নোরা ফাতেহির চেয়ে কম কিছু লাগছে না।আদ্রের সামনে এসেই একগাল হেসে বললো....)
তানিশা-হ্যালো মিঃ আদ্রিয়ান। হাউ আর ইউ??
(না চাইতেও আদ্র হালকা হেসে উত্তর দিলো...)
আদ্র-ফাইন।ইউ??
তানিশা-নাউ হ্যাপি।তো আজতো আপনার শো আছে মনে হয়??
আদ্র-মিস??
তানিশা-তানিশা..
আদ্র-ও ইয়াহ।হোয়াট এভার। লিসেন,,ইটস আ স্কুল।আম নট ইনটারেস্টেড টু টক দা টপিক অফ মাই আদার্স ক্যারিয়ার ইন দা স্কুল প্লেস।আই হোপ ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড। এক্সকিউজ মি।
(বলেই আদ্র পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।এদিকে তানিশা তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বাকা হাসি দিলো।)
তানিশা-(উহ,,তোমার এই এটিটিউডটাই তো আমাকে এত পাগল করে মিঃ আদ্রিয়ান। হাহ,,স্কুলে না হয় তুমি আমার সাথে এইসব নিয়ে কথা বলছো না।কিন্তু নো প্রবলেম। আমি যে এখন তোমার আরেকটু কাছে চলে এলাম।কি করবে এবার মিঃ???আমার মতো হট একটা মেয়েকে কতজনই বেশিক্ষণ ইগনোর করতে পারে বলো???তুমিও পারবে না।তোমাকে তো ধরা দিতেই হবে আমার কাছে।)(মনে মনে)
(আদ্র চলে গেলো অফিসরুমে। সেখানে অন্যান্য শিক্ষক সহ প্রিন্সিপালও ছিলো।,,,)
আদ্র-হ্যালো এভরিওয়ান।
প্রিন্সিপাল-হেই,, আদ্র। ওয়েলকাম ব্যাক ইয়াংম্যান।তা কেমন কাটলো বোনের বিয়ে??
আদ্র-জ্বী ভালো।আপনারা তো কেউই এলেন না।আমি কিন্তু এতে কষ্ট পেয়েছি।
প্রিন্সিপাল-আরে,,,আমরা তো দেখেছিই।যাওয়ার আর কি দরকার।
আদ্র-দেখেছেন??
প্রিন্সিপাল-হ্যা,,,মিডিয়া থাকতে তা কি অসম্ভব কিছু নাকি??
তৌহীদ-হ্যা,,আফটার অল,,ওয়াল্ড ফেইমাস সিঙ্গার মিঃ আদ্রিয়ানের বোনের বিয়ে বলে কথা।তাতো দেখানোরই কথা।
আদ্র-ওহ,,তাই বলি।
তানিশা-আমার মনে হলো আপনার সাথে আমাদের একজন স্টুডেন্টকেও দেখেছি।তা মিঃআদ্রিয়ান।আপনি কি স্টুডেন্টদেরও ইনভাইট করেছেন নাকি??
আদ্র-এক্সকিউজ মি।কার কথা বলছেন??
তানিশা-ঐ যে,,আমাদের স্কুলের আইডিয়াল স্টুডেন্ট সম্মোহীনি সিনহা???আপনি আর তাকে তো খুব ঘনিষ্ঠ ভাবেই দেখা গেছে।তা মিঃ আদ্রিয়ান,,, ও কি আপনাকে কোনো ভাবে নিজের দিকে এট্রাক্ট করছে??
আদ্র-হোয়াট!!!
তানিশা-না মানে,,এখনকার মেয়ে তো,,হয়তো নিজের রুপ দিয়ে আপনাকে নিজের আয়ত্বে আনার চেষ্টা করছে??,,,এসব মেয়েদের তো বিশ্বাস নেই,,,কে জানে এই বয়সে আর কটা ছেলেকে নিজের রুপের জালে ফাসিয়েছে।
আদ্র-এনাফ ইজ এনাফ মিস তানিশা।ডোন্ট টক এনিথিং মোর এবাউট মাই ডল।(রেগে গিয়ে)
তানিশা-মাই ডল??বাহ,,,এতদিনে তাহলে আপনাকে ফাসিয়েও নিয়েছে।
প্রিন্সিপাল-মিস তানিশা।স্টপ ইউর চিপ ল্যাঙ্গুয়েজ।আপনি কিসের ভিত্তিতে এসব কথা বলছেন।আপনি কি জানেন ও কে হয়?
তানিশা-সরি স্যার।আমাকে বলতেই হচ্ছে।ঐ মেয়েটার মাইন্ড নোংরা।নাহলে কেউ নিজের টিচারের সাথে এভাবে চিপকে থাকে??
আদ্র-মিস তানিশা,,ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন,,, এট ফাস্ট সি ইজ মাই উড বি ওয়াইফ।দেন মাই স্টুডেন্ট।
(তানিশার মাথায় যেন বাজ পরলো...)
তানিশা-হোয়াট!!!
প্রিন্সিপাল-ইয়েস,,হি ইজ রাইট।সম্মোহীনি হলো আদ্রের উড বি ওয়াইফ।আর এত বড় সিঙ্গার হয়েও আমাদের এই স্কুলে টিচিং করার একমাত্র কারন হলো সেই মেয়েটিই।সম্মোহীনির খেয়াল রাখার জন্যই আদ্র এখানে জয়েন করেছে।
তানিশা-দিস ইজ নট ফেয়ার।এটা কি করে হতে পারে।মিঃ আদ্রিয়ান। আমি বলছি,,ঐ মেয়েটা নোংরা।ওরা যা খুশি তাই করতে পারে।
(তখনই ক্লাস বেল পরে গেলো।)
প্রিন্সিপাল-ক্লাসটাইম হয়ে গেছে, সবাই নিজ নিজ ক্লাসে যাও।আদ্র তুমিও যাও।এখানে আর থাকা লাগবে না।
(প্রিন্সিপালের কথা শুনে আদ্র যেতে নিলেই তানিশা আবার বলে উঠে....)
তানিশা-মিঃ আদ্রিয়ান,, আমার কথা শুনুন।আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই..
আদ্র-ইউ চিপ মাইন্ডার ওমেন।আমার তোমার সাথে কথা বলার কোনো ইচ্ছাই নেই।যাস্ট গো টু হেল।
(বলেই আদ্র হনহন করে চলে গেলো নিজের ক্লাসের উদ্দেশ্যে।প্রিন্সিপাল সহ বাকিরাও চলে গেলো।এদিকে তানিশা চেয়ারে বসে নিজের রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে।হঠাৎ তার মুখে একটা বাকা হাসি ফুটে উঠলো...)
তানিশা-(উড বি,,,এখনোতো বউ হয়নি।তাহলে নাও হতে পারে।এবার দেখবে মিঃ আদ্রিয়ান। এই তানিশা সারমার আসল খেলা।তোমাকে কি করে ঐ মেয়েটার থেকে ছিনিয়ে নিজের কাছে আনতে হয় তা আমি খুব ভালো করেই জানি।আর হ্যা,,,কি যেন নাম,,,সম্মোহীনি সিনহা।তুমি আর বেশি দিন থাকবেই না।তখন তোমার উডবি হাসবেন্ডের পার্মানেন্ট ওয়াইফ হবো আমি।এই তানিশা সারমা।কাউন ডাউন শুরু করো সম্মোহীনি সিনহা।)(মনে মনে)