সানি-আপনার গ্ গ্
আদ্র-গ গ না করে ঠিক করে বলোতো কি লাগবে??
সানি-আ্ আপনার গিটারটা একটু দেবেন??কিছুক্ষণ পরেই এনে দেবো।
(আদ্র এক দৃষ্টিতে সানির দিকে তাকিয়ে আছে।আর মনে মনে ভাবছে,এই মেয়ে এই কথা বলার জন্য এতটা ভয় পাচ্ছে??।।।।।।আদ্রের এমন চাহনি দেখে সানি ভয় পেয়ে বলে উঠলো..)
সানি-না থাক।লাগবে না।আমি আসলে..জানি যে আপনি আপনার গিটার কাউকে ধরতেও দেন না।তবুও ভাবলাম....আচ্ছা আমি চললাম।লাগবে না।
(বলেই সানি উঠে চলে যেতে নিলে পেছন থেকে আদ্রের কন্ঠ ভেসে এলো..)
আদ্র-দাড়াও।
(আদ্রের কথা শুনে সানি চোখ খিচে দাড়িয়ে রইলো,,)
সানি(এইরে,,এই বুঝি আমায় ধমক দিলো...)(মনে মনে)
(আদ্র তার সামনে এসে বললো...)
আদ্র-চোখ খুলো ডল।
(সানি পিটপিট করে চোখ খুলতেই দেখলো আদ্র গিটার হাতে দাড়িয়ে আছে।মুখে হাসি টেনে বললো...)
আদ্র-নাও,,,আর শোনো।আমার সবকিছুতেই তোমার অধিকার আছে।তাই যখন যা লাগবে নিজের ভেবে নিয়ে নিও।আমার থেকে পার্মিশান নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
(আদ্রের এমন কথা শুনে সানি অবাক হয়ে বললো...)
সানি-আপনি সত্যিই দিচ্ছেন??
আদ্র-হুম,,নাও।
সানি-আমিতো জানতাম আপনি এই গিটার কারোর সাথে শেয়ার করেন না।তাহলে??
আদ্র-হাহ।ডল,,এটা আমার প্রানের খুব কাছের বুঝেছো??বাট,,, যদি আমার প্রান নিজেই এটা চায় তাহলে কি করে না করি বলো??আরো ভালো বরং এটা তার কাছেই সুরক্ষিত থাকবে।,,,
সানি-মানে বুঝলাম না
আদ্র-ওত বুঝে লাভ নেই।নাও ধরো।
(বলেই গিটারটা সানির হাতে তুলে দিলো।সানি অবাক হয়েই গিটারটা হাতে নিলো।তারপর নিজেকে স্বাভাবিক করে বললো...)
সানি-আমি যাই?
আদ্র-হুম।
(একটু হাসি দিয়ে সানি এগোতে নিলে আদ্র আবার ডেকে উঠে...)
আদ্র-শোনো..
সানি-কিছু বলবেন??
আদ্র-কোথায় যাচ্ছো তুমি??
সানি-ছাদে আছি।
আদ্র-আচ্ছা যাও।
(সানি আবার চলে গেলো ছাদে।গিয়ে ছাদের কর্নারে থাকা দোলনায় বসলো।তারপর নিজের মতো গিটারে টুংটাং শব্দ তুলতে লাগলো।,,অনেকদিন হলো গিটার বাজিয়েছে।আজ এতদিন পরে ধরায় তেমন তাল পাচ্ছে না।তাই প্রথমেই একটু প্র্যাক্টিস করে নিলো।ধীরে ধীরে সেই তাল একটা মিষ্টি সুরে পরিনত হলো।তারপর সে বাজানো বন্ধ করলো।তখনই পেছন থেকে কেউ একজন বলে উঠলো...)
---বাহ,,,তুমি তো খুব ভালো বাজাতে পারো দেখছি।
(কথা শুনেই সানি পেছনে ফিরে তাকালো।তারপর মুখে হাসি এনে বললো...)
সানি-তানিশা ম্যাম,, আপনি এখানে??
(তানিশা সানিদের পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে দাড়িয়ে আছে।,,,)
তানিশা-হ্যা,,আমিই।কেন দেখে খুশি হওনি বুঝি??
সানি-কি যে বলেন ম্যাম,,আপনাকে দেখে খুশি না হওয়ার কি আছে?তা এখানে যে??
তানিশা-নতুন প্ল্যাট নিলাম এটা।তাই আর কি।এখন তো দেখছি আমার স্টুডেন্টের বাসাও এইখানেই।তা এটা তোমার বাড়ি??
সানি-না মানে,,এটা আদ্র স্যারদের বাড়ি।
তানিশা-হুম,,তাতো আমি জানি।তা ওদের বাড়িতে তুমি কি করছো??
সানি-আসলে...
তানিশা-আচ্ছা তুমি ওদের কে হও শুনি??
সানি-আমি ওদের কেউ হইনা(মাথা নিচু করে মিনমিনে সুরে বললো)
তানিশা-হোয়াট!!কেউ না হয়ে এভাবে অচেনা লোকের বাড়িতে থাকছো??
(সানি চোখ উঠিয়ে তানিশার দিকে তাকালো।তার চোখে একরাশ দুঃখের ছাপ ফুটে উঠেছে।)
তানিশা-আচ্ছা,থাক এখন ওসব।আমরা এই নিয়ে পরে কথা বলবো না হয়।তা এখন গান তুলছো যে??
সানি-এমনি,,,
(তখনই তানিশার কল বেজে উঠলো..)
তানিশা-এই আমি আসছি হ্যা,,
সানি-হুম।
(তানিশা ফোনে কথা বলতে বলতে ছাদের আরেক পাশে চলে গেলো।সানি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে আবার গিটারে সুর তুলতে তুলতে আকাশের এই মাধুর্যের দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো...)
♪♪♪♪
Teri wo bateee, wo cahat ki rasmi
Jhuthe the wade,kea khuthe the kasmi
Jane tamanna, kea ye sac hey,
Bas itna kehe de,,,,,,
Tute jaye na lamha,etebar ka,,,
De koisi ra mere,intejar ka,,
Caha hey tujko,
Cahungi har dam,,
Marge vi dilse ye pear na hoga kam..
♪♪♪♪♪♪♪
(এটুকু গেয়েই শেষ করলো সানি।তখনই কোথা থেকে আদ্র এসে হুট করে দোলনায় সানির পাশে বসে পরলো।,,)
সানি-আপনি??
আদ্র-হুম
সানি-কখন এলেন??
আদ্র-তুমি যখন গান গাইছিলে তখন।
সানি-ওহ,,গিটার লাগবে বুঝি??এই নিন।আমার আর লাগবে না।
আদ্র-শুধু একটা গান গাওয়ার জন্যই আনলে??আর গাইবে না বুঝি??
সানি-উহুম,,আজ আর ইচ্ছে নেই।উমমম,,আপনিই একটা গান না।
আদ্র-আমি??
সানি-হুম,,প্লিজ না করবেন না।আমার জন্য।
আদ্র-কি বললে??
সানি-বলেছি যে আমার জন্য।
আদ্র-ওকেয়য়,,,আজ না হয় তোমার জন্য গাওয়া গান তোমাকেই শুনাই।অন্যদেরতো অনেক শুনিয়েছি।
সানি-মানে??
আদ্র-গান শুনবে তো??
সানি-হুম।
আদ্র-তাহলে আগে আমার কাধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করো।
সানি-এটা কেন??
আদ্র-তুমি অনেক ক্লান্ত। এভাবে থাকলে মন ভালো লাগবে আর গানটাও ফিল করতে পারবে।
সানি-আচ্ছা,,ঠিক আছে।
(বলেই সানি আদ্রের একহাত পেচিয়ে তার কাধে মাথা রেখে চোখ বুঝলো।আর আদ্র হালকা হাসলো।তারপর সানির মুখের দিকে তাকিয়েই গিটারে তাল তুলে গেয়ে উঠলো.....)
♪♪♪♪♪
Sun meri sehejadi,,
Me huu tera sehejada,
Bahome leke tuje,
Me karta hu wada,,(//)
E jane tammanna meri,,,
Me khake kasam teri,
Karta hu ekhrar,....
Mar vi geya to me tujhe,,,
Karta rahunga peaar
Satho janam me tere,,
Sath rahunga yeaar.........
Ehesas nehi tujko,,
Me pear karu kitna,,
Kardunga tujhe pagal
Ja honnga sanam itna(//)
Da marna kavi chute,,,
Torena kavi tute,,
Jo rista jure akbar,,,
Satho janam me tere
Sath rahunga year..........
♪♪♪♪♪♪
(সানি এখনো আগের মতোই চোখ বন্ধ করে আছে।আদ্র তাকে হালকা করে ডাকলো...)
আদ্র-ডল???
সানি-এত্ত সুন্দর কি করে হলো আপনার কন্ঠ??
(সানির ঘুম ঘুম কন্ঠ শুনে আদ্র বুঝলো সানি এসব ঘুমের মধ্যেই বলছে।আনমনেই বলে উঠলো...)
আদ্র-ইশশ,,,পুতুলটা ঘুমের মাঝেও আমার তারিফ করছে।এত্তো কিউট কেন আমার পুতুলটা??
(এটুকু বলতেই সানি ঘুমের মাঝেই আদ্রকে আরেকটু জরিয়ে ধরলো।এতে আদ্রও সানিকে একহাতে আগলে ধরলো।আর মনে মনে বললো....)
আদ্র-(আমার পুতুলটা আমায় যেকোনো রুপে মুগ্ধ করে তুলছে দিন দিন।ইশশ কি মিষ্টি লাগছে এই ঘুমন্ত অবস্থায়ও।তুমি এতো সুন্দর কেন হলে পুতুলরানি??আমার যে তোমার এই সৌন্দর্য নিয়ে ভয় হয়।জানিনা,, কে কখন তোমাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।,,,কি করবো আমি বলো??তোমাকে যে হারাতে পারবো না।)
(এসব ভাবনার মাঝেই পেছন থেকে তানিশা বলে উঠলো...)
তানিশা-মিঃআদ্রিয়ান নাকি??
(কথা শুনে আদ্র পেছনে ঘাড় কাত করালো।তানিশাকে দেখেই তার সারা গা জলে উঠলো।)
আদ্র-আপনি এখানে??
তানিশা-হুম,,আমি।কেন খুশি হননি বুঝি?(হাসি দিয়ে)
আদ্র-তা এই প্ল্যাটে আপনি কি করছেন??
তানিশা-ভাড়া নিয়েছি।এখন থেকে এখানেই থাকবো।তা সম্মোহীনি বুঝি ঘুমিয়ে পরেছে??
আদ্র-আশা করি দেখতে পাচ্ছেন।
তানিশা-তা ওকে রুমে রেখে আসুননা।আমরা একটু কথা বলি নিজেদের মধ্যে।
আদ্র-নো,,,আপনি নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন আমি এখন আমার ওয়াইফের সাথে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করছি।তাই আপনি এখন আমাদের ডিসট্রাব না করলেই ভালো হয়।
তানিশা-আমি ডিসট্রাব করছি??ওকেয় ওকেয়।সরি।ইউ গায়েজ ক্যারি অন।
(বলেই উলটো ঘুরে মুখের এক্সপ্রেশন বদলে নিলো।আর মনে মনে বললো...)
তানিশা-আমাকে অপমান না করলেই পারতে মিঃ আদ্রিয়ান। এর ফল তো পাবেই।তুমি নয় তোমার সো কল্ড ওয়াইফ মিস সম্মোহীনি সিনহা।হাহাহা(মনে মনে)
(তারপর গদগদ করে চলে গেলো সে।আদ্র নিজের রাগ কন্ট্রোল করে সানিকে পাজাকোলে তুলে নিলো।তারপর নিচে নেমে সানির রুমে চলে গেলো।তাকে আলতো করে শুইয়ে দিলো আদ্র।)
আদ্র-কবে তোমার এই ঘুমুঘুমু মুখ আমি আমার বাহুডোরে দেখবো পুতুলরানি??কবে তুমি আমার মনের রানি হয়ে আসবে??ওহ,,সরি সরি।তুমি তো আমার মনের রানি হয়েই গেছো।কিন্তু এখনো সেই সম্পর্কটাকে সিকৃতি দেওয়ার বাকি।(মনে মনে)
(এসব ভাবতে ভাবতে সানির কপালো আলতো একটা কিস করে বেরিয়ে যায় আদ্র।)