আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৩০

🟢

আয়ন্তি-ভাইয়া,,আজ রমনা পার্কে একটা বড় মেলা চলছে।চলনা সবাই মিলে।ঘুরে আসি সেখান থেকে?

আদ্র-মেলা??নট এট অল।বোনু তুইতো জানিসই এসব জনবহুল জায়গায় বডিগার্ড ছাড়া গেলে আমাকে লোকে ঘিরে ধরবে।

আয়ন্তি-আরে তুই সেলিব্রিটি মানুষ।তাতো।হবেই।

আদ্র-বাট আমার এসব একদম ভালোলাগে না।প্লিজ জোর করবি না একদম।

আয়ন্তি-প্লিজ ভাইয়া

আদ্র-আহ বোনু,,,বারবার কেন একই কথা বলছিস।

আয়ন্তি-হুহ,,,গেলাম আমি কথা নেই তোর সাথে।

(বলেই আদ্রের রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।,,,,, একটু আগেই আদ্রের রুমে এসে কথাগুলা বললো সে।অবশ্য এটা শুধু তারই না সবার যৌথ প্ল্যান ছিলো।,,,,,আয়ন্তি আবার মুখ বেজার করে ড্রয়িংরুমে সবার সামনে এলো।এসেই সোফায় ধপ করে গালে।হাত দিয়ে বসে পরলো।,,,তখন সবাই উৎশুক হয়ে বললো..)

সায়মান-কিরে কি বললো??

রুসা-আপিনি বলনা কি বললো ভাইয়া??

রিসব-বলনা,,রাজি হলো??

রাহুল-তুমি কিছু বলছো না কেন।ভাই যাবে তো নাকি??

(সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আয়ন্তি তেতো স্বরে বললো.....)

আয়ন্তি-রাজি হয়নি ভাইয়া।

শারমায়া-এ্যা,,,,, : {)

আয়ন্তি-হুম

(তখনই সোহা রুম থেকে বেরিয়ে সিড়ি বেয়ে নেমে এসে বললো....)

সোহা-কি কথা বলছো তোমরা??

রাহিল-হাহ,,,বলে আর কি হবে।

সায়মান-আজ রাতে মেলায় যাওয়ার প্ল্যান করেছিলাম

(কথাটা শুনেই সোহা খুশি হয়ে বললো...)

সোহা-সত্যিই।আমরা মেলায় যাবো??

রুসা-উহুম।।।যাওয়া হবে না।তোমার ঐ পচালোকটা না করে দিয়েছে।সে নাকি যেতে রাজি হচ্ছে না।

সোহা-এ্যা : (

আয়ন্তি-এ্যা নয় হ্যা।

(হঠাৎ শারমায়া হাতে তুরি বাজিয়ে বলে উঠলো...)

শারমায়া-আইডিয়া।

রিসব-হ্যা,,কি আইডিয়া?.

শারমায়া-এইবার দেখো এই শারমায়া সাহরিয়ারের খেল।আব তু কেইসে না কারেগা আদ্র ভাই।হাহাহা।

সায়মান-এই,,তুই পাগল পরে হোস।আগে বল কি আইডিয়া??

শারমায়া-আদ্রভাইকে রাজি করাবে আমাদের পিচ্চি।

সোহা-আমিই??না না,, আ্ আ্ আমি পারবো না।

রিসব-পারবি পিচ্চি পারবি।

সায়মান-হ্যা,,,ব্রো তোর কথা ফেলতে পারবে না।প্লিজ বোনু যা না।

(এদের সবার জোরাজুরিতে রাজি হলো সোহা।এখন সে আদ্রের রুমের দিকেই যাচ্ছে। আর ভাবছে কিভাবে রাজি করাবে আদ্রকে।,,,,এসব ভাবতে ভাবতেই এসে পরলো আদ্রের রুমে।মুখে একরাস হাসি টেনে গিয়ে বসলো আদ্রের একদম পাশে।,,,,,)

সোহা-কি করছেন??

আদ্র-এইতো অফিসের হালকা একটু কাজ।(লেপটপের দিকে তাকিয়ে)

সোহা-ওহ আচ্ছা।

আদ্র-ফ্রেশ হয়ে নিয়েছো তো?

সোহা-হুম।

আদ্র-তাহলে নিচে যাও।আমিও আসছি এরপর লাঞ্চ করে নিবো সবাই।

সোহা-একটা কথা বলবো???

আদ্র-হুম বলো???

সোহা-বলছিলাম যে চলুননা আজ সবাই যখন চাইছে,,তখন মেলা থেকে ঘুরে আসি।

(আদ্র এবার লেপটপ থেকে চোখ উঠিয়ে একবার সোহাকে দেখে নিলো।আবার লেপটপের দিকে তাকিয়ে বললো...)

আদ্র-এই বুদ্ধিটা কে ঢুকিয়েছে তোমার মাথায়??

সোহা-আরে কে ঢুকাতে যাবে।সবাই বলছিলো তারা যাবে মেলায়।তাই আপনাকে রিকুয়েষ্ট করতে এলাম।

আদ্র-ওসব হবেনা।লাগবে না মেলায় যাওয়া।আমার একদম মুড নেই।

সোহা-সবাই বলছে তো।কিইবা হবে গেলে??কিছুক্ষণের ব্যাপারইতো।চলুনা।আমারও খুব ইচ্ছে করছে মেলায় যেতে।অনেকদিন যাওয়া হয় না।

আদ্র-ডল।আমায় রাগীও না।দেখছোতো আমি অফিসের কাজে একটু বিজি আছি।এখন এসব হবে না

(আদ্র সেই আগের মতোই লেপটপের দিকে তাকিয়ে বললো।,,,)

সোহা-প্লিজ। আজকেই তো।আর কখনো বলবো না।চলুন না। সবাই এতো করে বলছে।প্লিজ প্লিজ প্লিজ।রাজি হয়ে যা....

(এটুকু বলতেই আদ্র সোহার দিকে কড়া দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রাগী কন্ঠে চেচিয়ে বলে উঠলো...)

আদ্র-কতবার বলবো আর, এসব বাদ দিতে।কথা কানে যায় না তোমার??দেখছো আমি কাজ করছি তার পরেও আমাকে ডিসট্রাব করছো। এমনি তে তো কথাই বের হয় না তোমার।আজ আমাকে বিজি পেয়ে এতো কথা বলছো।যাও এখান থেকে।আর নেক্সটাইম আমার কাছে এসব কথা নিয়ে আর আসবে না।

(আদ্রের এমন ধমক শুনে সোহা কেপে উঠলো।কথাগুলো সত্যিই গায়ে লাগার মতো।সোহা কথা গুলো শুনেই নিরবে চোখের জল ফেলছে।আদ্র তাকে চলে যেতে বলেছে। থাকবে না সে আর এই রুমে।,,,,,)

(এসব ভাবনার মাঝে আদ্র আবার শক্ত কন্ঠে বলে উঠলো...)

আদ্র-আর কিছু বলবে তুমি??

সোহা-উ্ উহুম।

(বলেই দৌড়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।আদ্র একবার সোহার দিকে ফিরে তাকালো।আবার লেপটপে মন দিলো।)

**দুপুর ২ঃ৩০**

(সবাই লাঞ্চ করার জন্য ডাইনিং টেবিলে বসেছে।এরমধ্যে আদ্রও সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো।টেবিলে চোখ বোলাতেই দেখলো সোহা নেই।সে সামনে দাড়িয়ে বললো...)

আদ্র-ডল কোথায়।ও এখনো আসেনি যে??

(শারমায়া অবাক হয়ে বললো...)

শারমায়া-ও তো তোর রুমে গেলো অনেকক্ষণ আগে।তোর সাথেই তো থাকার কথা।

রুসা-হুম।

আদ্র-কি বলছিস।ওতো সেই কখন আমার রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।এখানে আসেনি আর??

রিসব-না।,,,আমরা তো ভাবছি তোর সাথেই আছে হয়তো।

সায়মান-হয়তো রুমে আছে।,,,

আরিফা-তোরা বস।আমি মামনিকে ডেকে আনছি।

আদ্র-মাম্মাম,আমি যাইনা।

আরিফা-উহুম,,,খেতে বসেছিস উঠতে হবে না তোর।আমি দেখছি।

(আদ্র আর গেলো না।আরিফা সোহার রুমে গেলো।রুমের দরজাটা ভেরানো ছিলো।তাই সে কিছু না বলেই রুমের ভেতরে ঢুকলো।দেখলো সোহা উপুর হয়ে শুয়ে আছে।,,,আরিফা খাটে বসে সোহার মাথায় হাত রেখে বললো...)

আরিফা-মামনি,,,

(হঠাৎ আরিফার কন্ঠ শুনে সোহা তার আড়ালে চোখ মুছে নিলো।তারপর আরিফার দিকে তাকালো।..)

সোহা-হ্যা,মামনি।বলো।

আরিফা-কি হয়েছে তোর??এভাবে শুয়ে আছিস কেন??আর তোর চোখমুখ এমন লাগছে কেন??

সোহা-ও কিছু না ম্ মামনি।ম্ মাথাটা একটু ব্ ব্যাথা করছিলো।ত্ তাই আর কি।তুমি বলোনা কিছু লাগবে??

আরিফা-দুপুরতো অনেক হলো।খেতে আয় না সবাই খুজছে তো তোকে।

সোহা-আমার ইচ্ছে করছে না মামনি।আমি এখন খাবো না।তোমরা খেয়ে নাও।

আরিফা-তা বললে হয় নাকি??একটুতো খেতেই হবে।উঠ না।

সোহা-বলছি তো আমার ভালো লাগছে না মামনি।আমি পরে খেয়ে নেবো।

(অনেক বলার পরেও সোহা রাজি হলো না।সে তার কথায় অটল।অগত্যা আরিফা চলে গেলো তার রুম থেকে।সোহা আবার সেই আগের ন্যায় উপুর হয়ে শুয়ে পরলো।)

(নিচে নেমে আসতেই আরিফাকে আদ্র বললো...)

আদ্র-ডল আসছে মাম্মাম??

আরিফা-নাহ,,,ও নাকি এখন খাবে না।মাথা ব্যথা করছে ওর।

রিসব-তখন তো ঠিকই ছিলো।হঠাৎ মাথা ব্যথা কেন করবে।,,,,

সায়মান-এক মিনিট।ব্রো,, তুই কি ওকে কিছু বলেছিস??

আদ্র-আমি??কি বলবো??তখন তো তোদের কথায় মেলায় যাওয়ার কথা বলছিলো।আমি বারণ করে দিয়েছিলাম।

আয়ন্তি-ভাইয়া,,আমার মনে হয় তোর কথায় পিচ্চি কষ্ট পেয়েছে।

শারমায়া-এটা তুই ঠিক করিস নি আদ্রভাই।ওকে না বকলেও পারতি।

রাহুল-ওর কি সত্যিই মাথা ব্যথা করছে??নাকি এখানে না আসার জন্য বলছে।

আদ্র-আমার ডল কখনোই তার মামনিকে মিথ্যা বলবে না।

রাহিল-এখন কি হবে??

আদ্র-মাম্মাম।তুমি আমাদের দুজনের জন্যই খাবার নিয়ে রাখো।আমি আসছি।

আরিফা-আচ্ছা।

(আদ্র উঠে সোহার রুমের দিকে যেতে লাগলো আর নিজেকেই নিজে গালি দিতে লাগলো...)

আদ্র-(কেন যে ওভাবে ধমকাতে গেলাম।নিশ্চয়ই এখন কান্না করতে করতে মাথা ব্যাথা উঠিয়ে ফেলেছে আমার পুতুলটা।উপহ,,,এই রাগটাও না।যাচ্ছেতাই।কেন যে কন্ট্রোল করতে পারিনা।আমার জন্য এখন পুতুলটা কষ্ট পাচ্ছে।) (মনে মনে)

(এসব ভাবতে ভাবতে সোহার রুমে পৌঁছে গেলো।দরজাটা খুলে আস্তে করে ঢুকে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিলো।আওয়াজ শুনে সোহা বলে উঠলো...)

সোহা-মামনি,,আমি বললাম তো খাবো না এখন।কেন আমাকে নিতে এলে আবার।

(বালিশে মুখগুজে থাকার কারনে সে দেখলো না কে এসেছে।,,,,,,সোহা কারোর কথার শব্দ পেলো না।হঠাৎ সে অনুভব করলো তার পাশে।কেউ সুয়ে তার কোমর জড়িয়ে ধরেছে।আর মুখ দিয়ে সানির ঘাড়ে গুজে রেখেছে।,,,,হালকা দাড়ির খোচা লাগতেই সোহা বুঝলো এটা তার মামনি নয়।,,তাই এটা কে দেখার জন্য সোহার ঘুরতে নিলেই আদ্র ঘোরলাগা কন্ঠে বলে উঠে...)

আদ্র-আমার পুতুলটা রাগ করেছে??

(সোহা বুঝলো এটা আদ্র।, তাই সে কান্না জরিত কন্ঠে বলে উঠলো....)

সোহা-স্ সরি।তখন আমি....

আদ্র-আমাকে কি তুমি নিজের মনে করো না??

(হঠাৎ আদ্রের এমন কথায় সোহা চুপ করে গেলো)

আদ্র-মন থেকে বলো ডল।আমি কি তোমার কেউ নই??

(সোহা এখনও চুপ করে রয়েছে।)

আদ্র-কি হলো বলো না।আমি যদি তোমার কেউ না হই।তাহলে আই প্রমিস,আর কখনো তোমায় বিরক্ত করবো না।চলে যাবো তোমার কাছ থেকে।

(কথাটা যেন সোহার বুকে তীরের মতো বাধলো।,,সোহা আদ্রকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফুফিয়ে কেদে উঠলো

আদ্র হালকা হাসলো।কারন সে তার উত্তর পেয়ে গেছে।,,,কখনো কিছু কথা মুখে না বললেও বোঝা যায়।,,,আদ্র সোহাকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বললো..)

আদ্র-এই পাগলি।কাদছো কেন তুমি?আরে কি হলো তোমার??

সোহা-আপনি কেন আমার থেকে দুরে চলে যাবেন??

আদ্র-আরে,,আমি তো এমনি বলছিলাম।যাচ্ছি নাতো।আমি বলছিলাম আমি তোমার প্রিয় কিনা।যদি প্রিয় না হই তাহলে।চলে যাবো।

সোহা-হ্যা,,,খুব খুব খুব প্রিয় আপনি।আমার সবথেকে কাছের মানুষ আপনি।আমার মায়ের ভালোবাসাও এতটা ভাগ্যে জোটেনি আমার।যা আপনি আমাকে এই কটা দিনে দিয়েছেন।আ্ আমি পারবো না আবার কাউকে হারাতে।সত্যিই পারবো না।আমার আর ক্ষমতা নেই কাউকে হারানোর যন্ত্রণা সহ্য করার।মরে যাবো আমি।সত্যিই মরে যাবো।

(কথাটা শুনেই আদ্র আরো গভীর ভাবে আকড়ে ধরলো সোহাকে।নিজের সকল আবেগ দিয়ে ভরিয়ে দেয় সোহার মুখমন্ডল। সে যে তার পুতুলরানির এমন কথা সহ্য করতে পারেনা।)

আদ্র-এমন কথা আর বলে না পুতুল।আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবোনা।সত্যি বলছি।আমার এই দেহে যতদিন প্রান নামক জিনিসটা আছে ততদিন আমি তোমাকে নিজের সাথে বেধে রাখবো।আর রইলো হারানোর কথা??যদি কখনো হারিয়ে যাও তাহলে আবার খুজে বের করবো তোমায়।,,আই প্রমিস।

(এবার আদ্র একটু নিজেকে সামলে নিয়ে বলে...)

আদ্র-আর কাদেনা পুতুল।এবার শান্ত হও।চলো লান্চ করবে চলো।

সোহা-নাহ,,,আমার ইচ্ছে করছে না

আদ্র-মাথা ব্যথা করছে তাইতো।

সোহা-না তেমন কিছু না ঐ একটু।

আদ্র-হয়েছে আর মিথ্যা বলতে হবে না। আমি আসছি।

(বলেই আদ্র উঠে নিচে চলে গেলো। খাবার নিয়ে এসে সোহাকে খাইয়ে দিলো।তারপর অষুধ খাইয়ে দিয়ে সোহাকে শুইয়ে দিয়ে চলে গেলো।)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৩০