(হসপিটালের সেকেন্ড ফ্লোরে, করিডোরে আদ্রের ফ্যামিলি ছাড়া আর কোনো আউটসাইডার নেই।সামনেই থ্রিয়েটারে অপারেশন চলছে আদ্রের ছোট্ট পুতুলটার।করিডেরের চেয়ারে আয়শার কাধে মাথা রেখে নিস্তেজ হয়ে নিরবে চোখের জল ফেলছে আরিফা।,,,এই কয়েকটা মাসে সোহাকে সে নিজের মেয়েই বানিয়ে নিয়েছে।তাকে দেখেই বলতে পারি জন্ম দিলেই শুধু মা নয়।রক্তের টান ছাড়াও মা হওয়া যায়।আরিফাকে এখন বাইরের যেকেউ দেখলেই বলে দিবে যে সে তার নিজের সন্তান শোকে কাতর।,,,,শারমায়া আর রুসা কাদছে।সেলিম, রফিক,সফিক গেলো মসজিদে, সোহার জন্য দোয়া কামনায়।রিসবও দাড়িয়ে আছে দেওয়ালে হেলান দিয়ে।মুখে চিন্তার ছাপ সবারই।সায়মানও বসে আছে।তারা যে এই কয়েক মাসে সোহাকে নিজেদের আপন বোন বানিয়ে ফেলেছে।,,,,,,এদিকে আদ্রতো যেন সব কিছু এলোমেলো করে দিচ্ছে।সে বসে আছে ফ্লোরে।একহাটু ভেঙে।,,,,কি ভাবছেন??সে কাদছে???উহুম।আদ্রের চোখে বিন্দু পরিমান পানি নেই।আরো ফুরে আছে হাসি।পাশেই বিহান আদ্রকে নরমাল করার চেষ্টা করছে।আর আদ্র বিহানকে তার পুতুলের ছোট ছোট সৃতিময় কথা গুলো বলছে।,,সাথে হাসছে।)
আদ্র-জানিস বিহান।কিছুদিন আগে আমার পুতুলটা একটা টেডি পেয়ে কি যে খুশি হয়েছে।খুশিতে সে বাচ্চাদের মতো লাফাচ্ছিলো।তুই জানিস,আমি না,,,লুকিয়ে লুকিয়ে আমার পুতুলের সকল ছোট বড় কাজ গুলো ভিডিও করে রাখতাম।তুই দেখবি??দাড়া দেখাই তোকে।আমার ফোন??আমার ফোনটা কোথায়?
(বলেই এপাশ ওপাশ ফোন খুজতে লাগলো।কিন্তু পেলো না।হতাশ হয়ে বললো...)
আদ্র-হয়তো আমার পুতুলের ফোনের কাছে ফেলে এসেছি।,,ওহ,,,তুই জানিস?আমার পুতুলেরও একটা ফোন আছে।উহুম,,,ছিলো।ও যেদিন আমার জিবনে এসেছে সেদিন থেকে ওর ফোন চলে গেছে ওর জিবন থেকে।
বিহান-কি বলছিস এসব।আমি তো কিছুই বুঝছি ণা।(করুণ সুরে)
আদ্র-আরেএএ,,আমি বলছি তো।সেই ১০ মাস আগে,, তোর মনে আছে আমার পুতুল একদিন আমার উপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলো??সেদিন আমি ওকে খুজতে তার বাড়ি গিয়েছিলাম না,,,তখন ওর ভাই অনুজ আমাকে ওর ফোনটা দিয়ে দিলো।এখনো আমার কাছেই আছে।কিন্তু কখনো আমি দেখিনি কি আছে ঐ ফোনে।আচ্ছা,,একবার দেখলে কেমন হয় বলতো??হয়তো ওর ফোনেও আমার মতো ওর অনেক ছবি আছে।যেখানে আমার পিচ্চি পুতুল স্ট্রভেরি প্লেভারের চকলেট খেতে খেতে পুরো গালে লাগিয়ে ফেলেছে।কিরে বলনা।।আছে হয়তো তাই না???আচ্ছা,,,এখনতো আমি ওর মুখ মুছে দিই।তখন কে মুছে দিতো বলতো??আমি তো তখন ওর কাছে ছিলাম না।কিরে তুই কাদছিস কেন?/বলনা।
বিহান-আদ্র,,,আদ্র,,তুই এমন করছিস কেন।স্বাভাবিক হ ভাই।ডক্টর কি বললো শুনলি না??সোহা আর নাও ফিরতে পারে।তখন তুই নিজেকে কি করে সামলাবি। একটু ঠিক হ না আদ্র(কাদতে কাদতে)
আদ্র-এই,, চুপ,,একদম চুপ।কি বলছিস এসব??আমার পুতুল কি আমাকে ছেড়ে যাবে নাকি??তুই জানিস না??ও আমাকে কথা দিয়েছে,,সে হারিয়ে গেলে আবার খুজে নেবে।তাহলে ও কি করে আমাকে ছেড়ে যাবে??কিরে বল??দেখ,,এক্ষুনি ডক্টর এসে বলবে আমার পুতুলের কিচ্ছু হয়নি।ও একদম ঠিক আছে।তুই দেখই না।
(বিহান আর সহ্য করতে না পেরে আদ্রকে জরিয়ে ধরে কাদছে।আদ্রের যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।।হঠাৎ বিহান খেয়াল করলো যে আদ্র কেমন ঢুলে পরছে তার গায়ে।সে বুজলো আদ্র জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।,,,,, সায়মান আর রিসব এসে আদ্রকে তুলে একটা কেবিনে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিলো।ডক্টরকে জানানো হলে সে এসে আদ্রকে চেকআপ করে একটা ইনজেকশন পুশ করে দিলো।)
(১ঘন্টা পর,,,,,,ধীরে ধীরে চোখ খুলে নিজেকে হসপিটালের বেডে আবিষ্কার করলো আদ্র। পাশে বিহান বসে আছে।আদ্রকে চোখ খুলতে দেখে মুখে হাসি এনে বললো....)
বিহান-আদ্র,,তোর জ্ঞান ফিরেছে।উহ,,কেন এমন হাইপার হয়েছিলি।,,
আদ্র-আমার পুতুল,,,আমার পুতুল কোথায়??ও্ ওর জ্ঞান ফিরেছে??কোথায় ও??ঠিক আছে তো আমার পুতুল??
(বলেই তারাহুরো করে বেড থেকে নেমে গেলো।বাইরে বেরিয়ে এই কেবিন ঐ কেবিন খুজে বেড়াচ্ছে সোহাকে।বিহানও পিছু পিছু যাচ্ছে। কিন্তু আদ্রকে থামাতেই পারছে না সে।,,অবশেষে একটা কেবিনের সামনে এসে আদ্র থেমে গেলো।গ্লাসে সোহাকে দেখা যাচ্ছে।আরিফাও আছে সেখানে।,,আদ্র মুখে হাসি ফুটে উঠলো।দরজা খুলে একপা এগোতেই সে শুনতে পেলো সোহার কথা।...)
সোহা-আম্মুউউ,,আমার আম্মু কোথায়,,আমি আম্মুর কাছে যাবো।(কাদতে কাদতে)
আরিফা-মামনি দেখনা,,আমিই তোর মা।দেখ না একটিবার।
সোহা-তুমি আমার মা নও,,,তুমি কেন আমার মা হতে যাবে??আমার আম্মুকে ডেকে দাও না।আমি এখানে থাকবো না।
(সোহা অস্থির ভাবে কাদছে আর হাতপা ছড়াছড়ি করছে।,,,সোহার এমন বাচ্চামো দেখে আদ্র অবাক হয়ে গেলো।দরজার সামনেই দাড়িয়ে রইলো সে।,,তার মাথায় কিছুই ঢুকছে না।পাশ দিয়ে ডক্টর যেতেই আদ্র বললো....)
আদ্র-ডক্টর,,ডক্টর।ওয়ান মিনিট প্লিজ।,,আমার পুতুল এমন করছে কেন??কি হয়েছে ওর??
ডক্টর-মিঃ আদ্রিয়ান। আপনি একটু আমার কেবিনে আসুন প্লিজ।
(আদ্র আর ডক্টর কেবিনে চলে গেলো।)
আদ্র-এখন বলুন প্লিজ ডক্টর।আমার পুতুলের কি হয়েছে??,,
ডক্টর-দেখুন মিঃআদ্রিয়ান,, আপনি নিজেকে সামলান।আর পেসেন্ট এখন যেই অবস্থায় আছে,তার তার এমন ব্যবহার করা স্বাভাবিক।
আদ্র-মানে,,এটা স্বাভাবিক?? কি বলছেন আপনি,,আপনি দেখেননি ও কি রকম বাচ্চাদের মতো বিহেভিয়ার করছিলো??তাহলে এটা নরমাল কিভাবে??
ডক্টর-পেশেন্টের শর্টটার্ম ম্যমোরি লস হয়েছে।
(কথাটা যেন আদ্রের মাথার ওপর দিয়ে গেলো।)
আদ্র-মানে??
ডক্টর-ইয়েস।মাথায় লোহার আঘাতে তার ব্রেন ইফেক্ট হয়েছে।তাই এখন সে নিজেকে একটি বাচ্চার মাইন্ডে কাজ করাবে।গত কয়েক বছরের কথা সে সব ভুলে গেছে।সে আর একটা ৪-৫ বছরের শিশুর মধ্যে এখন কোনো তফাৎ নেই।সে এখন শুধু তাদেরই চিনবে যারা তার ঐ বয়সের সঙ্গী ছিলো।
আদ্র-তার মানেহ,,,,ত্ তার মানে,আমাকে আ্আমার পুতুল ভুলে গেছে??
ডক্টর-ইয়েস।আর আমি যতদুর জানি সোহার মা বাবা ওর ৬ বছর বয়সে মারা যায়।তাই সে এটাও ভুলে গেছে যে তার মা বাবা আর নেই।
আদ্র-এ্ এটা হতে পারেনা।,,কখনো না।আ্ আমাকে আমার পুতুল ভুলতে পারে না।একদম না।৷,,,, ডক্টর,আমার পুতুল ঠিক হয়ে যাবে তো??বলুন প্লিজ।
ডক্টর-দেখুন।আমরা আমাদের যথাসম্ভব চেষ্টা করছি।আর ওর ম্যমোরি কবে আসবে তা কেউই নিশ্চিত বলতে পারবে না।আমি মেডিসিন দিয়ে দেবো। যেগুলো ওর কনটিনিউ চলবে।এতে ও অনেকটা ইমপ্রুভ হতে পারে।
(আদ্র যেন একটা রোবটে পরিনত হয়ে গেলো।সে বাকরুদ্ধ হয়ে ডক্টরের কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো।চলে গেলো সোহার কেবিনের সামনে,,ভেতরে ঢুকার মতো সাহস বা শক্তি কোনোটাই যে তার নেই।তার মাথায় এখন একটাই চিন্তা৷ ...)
আদ্র-(আমার পুতুল তো আমায় চিনবে না।তাহলে আমি কি করে ওর সামনে গিয়ে দাড়াবো।আমি তো পারবো না ঐ যন্ত্রণা সহ্য করতে।না না,,আমি যাবো না,,,যাবোনা আমি আমার পুতুলের সামনে।,,,,)(মনে মনে)
(এসব ভাবতে ভাবতে আদ্র গ্লাস দিয়ে বাইরে থেকে সোহার কেবিনে তাকালো।দেখলো,,,আরিফা দুরে সোফায় বসে মুখে আচল গুজে নিরবে কাদছে।সফিকও দেওয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে দাড়িয়ে আছে।তাকে দেখে কেউ বলবে না যে সে নিজের না অন্যের মেয়ের জন্য কষ্ট পাচ্ছে।সোহার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেই দেখা গেলো সোহা বাচ্চাদের মতো খিলখিলিয়ে হাসছে।সেই হাসির উৎস খুজতেই আদ্র পাশে তাকিয়ে দেখলো নিডো তাকে বাচ্চাদের মতো ট্রীট করছে।আর সাথে অনুজও এসেছে।,,,,,,,,,,,পেছন থেকে কাধে কেউ হাত রাখলে আদ্রের ঘোর কাটে।ঘুরে দেখলো সায়মান অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে আছে তার দিকে।আদ্র কি বলবে বুজতে পারছে না।সে যে বাকরুদ্ধ। কান্নারত কন্ঠে সায়মান বলে উঠলো....)
সায়মান-আম্মুকে খুজছিলো পিচ্চি।আ্ আমরা তো কেউই ওর ছোটবেলার পরিচিত না।তাই ওকে থামাতেও পারছিলাম না।চাচি অনেক চেষ্টা করেছে মনে করানোর।কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।চিনে নি চাচিকে পিচ্চি।তাই ওকে তখন শান্ত করার জন্য অনুজ আর নিডোকে আনলাম।শুনেছি নিডো নাকি ওর ছোটবেলার বন্ধু। তাই ওকে দেখে এখন অনেকটা ঠিক আছে পিচ্চি।
(আদ্র হঠাৎ তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। সায়মান ও আদ্র কে জরিয়ে ধরে।)
আদ্র-আমি কি করবো রে ভাই??কি করে আমার চোখের সামনে আমার পুতুলটার এই অবস্থা দেখবো??আমার যে আর মাথা কাজ করছে না।কি করবো এবার আমি??
সায়মান-ভাই,,,তুই কাদছিস??কাদছিস তুই??তুইতো কখনো কাদিস না।তাহলে আজ তুই পিচ্চিতে এতোটাই মুগ্ধ হয়ে গেছিস যে আজ তোর সারা জিবনের রেকর্ড ব্রেক করে ফেললি??কাদছিস তুই??,,,,
আদ্র-আমি জানি,আমি জিবনের যে কোনো পরিস্থিতি নিজের মতো সামলে নিয়েছি।কখনো চোখে জল আনিনি।ছেলেদের যে কাদতে নেই।কিন্তু,কিন্তু আজ আমি আর আমার কান্না আটকাতে পারছি না।আমার পুতুলকে এই অবস্থায় দেখার পর আমার মনে শূন্যতা অনুভব হচ্ছে ভাই।আমার মনে হচ্ছে, আমি আ আমার জিবনের সবচেয়ে মূল্যবান কিছু হারিয়ে ফেলছি।যা ছাড়া আমার বেচে থাকাটাই অসম্ভব।
সায়মান-ভাই,,,তুইতো আমার ব্রেভ ব্রাদার।তুইতো কখনো হারিস নি।দেখ,,,এই যুদ্ধটাও তুই ঠিক জয় করবি।দেখ ভাই,,মনের বল একদম হারাবি না।বি স্ট্রং।তোকে লড়তে হবে।জয় করে নিতে হবে তোর ভালোবাসাকে।
(আদ্র সায়মানকে ছেড়ে দাড়ায়।সে আজ যেন নিজেকে অন্যভাবে আবিষ্কার করছে।যে আদ্র কখনো শত কঠিন পরিস্থিতিতেও চোখে জল আনেনি।সে আজ কাদছে।তাও মাত্র কিছু মাসের পরিচিত একটা মেয়ের জন্য।অদ্ভুত তাই না??.......)
আদ্র-এখন,আমি কি করবো।আমার পুতুল তো আমাকে চিনবেই না।আমি পারবো না ওর সামনে গিয়ে দাড়াতে।পারবো না আমি।
(হঠাৎ আদ্রকে পেছন থেকে আরিফা ডেকে উঠলো...)
আরিফা-আদ্রবাবা???(কান্না জরিত কন্ঠে)
(আদ্র পেছনে ফিরে তাকালো...)
আদ্র-মাম্মাম,,,,
(আদ্র তার মায়ের সামনে গিয়ে দাড়ালো।আরিফার দুহাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো।আরিফা এবার কেদেই দিলো ছেলের কান্না দেখে।নিজেকে আর সামলাতে না পেরে আদ্রকে জরিয়ে ধরলো...)
আরিফা-আদ্রবাবা,,আমি যে আমার মেয়েটাকে হ্ হারিয়ে ফেললাম বাবাআমার মামনি যে আমাকে চিনতে পারছে না।
(আদ্র এবার তার মাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে বললো....)
আদ্র -আমি কি করবো মাম্মাম।আমি তো আমার প্রাণটাই মনে হচ্ছে হারিয়ে ফেললাম।আমার পুতুল যে আমার সমস্ত শিরা উপশিরায় রক্তের মতো চলাচল করছে।সে যে আর আমার নেই।
আরিফা-আমার ছেলেটাও আজ ভেঙে পরেছে?আমি কি করে সামলাবো আমার ছেলেটাকে??
(তখন সফিক এসে ওদের দুজনকে আগলে ধরে বলে...)
সফিক-আদ্র বাবা,,,তুই তো কখনো এভাবে ভেঙে পরিস না বাবা।তাহলে আজ কেন ভেঙে পরছিস??তুই তো রণক্ষেত্রে না নামতেই নিজেকে হারিয়ে দিচ্ছিস।বাবা,,,মামনিকে তুই একবার কাছ থেকে দেখবিনা??
(আদ্র এবার ওদের ছেড়ে সোজা হয়ে দাড়ালো।চোখ মুছে নিয়ে বললো...)
আদ্র-আমি্ আমি বাড়ি চলে যাচ্ছি।ওর সামনে যাওয়ার মতো শক্তি আমার নেই।পারবো না আমি।
সফিক-এটা তুই কি বলছিস আদ্রবাবা??মামনি এখানে একা।
আদ্র-অনুজ আর নিডোকে বলো আজ এখানেই থাকতে।দরকার হলে নিডোর মা বাবাকেও আসতে বলো।আই হোপ ডল ওদের চিনবে।আর এখানে শামু আর রুসা থাকুক।সায়মানও থাক।বাবাই,তোমার যদি শরীর ঠিক থাকে তাহলে তুমিও থাকো।আমি মাকে আর কাকাই কাকিয়াদের নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।ভোর হতে চললো।পরে আবার না হয় আসবে সবাই।আর আমি এখানে থাকতে পারবো না।
আরিফা-কিন্তু আদ্র,,আমার মামনি...
আদ্র-মাম্মাম।কাল আসবে তো তুমি।রেস্ট নেওয়া উচিৎ তোমার।চলো এখন।
রিসব-ভাই,,তুই শিওর তো,,তুই এখন চলে যাবি??
আদ্র-হুম।আমার এখন আর কিছুই করার নেই।
বিহান-আদ্র,,,,বাড়ি গিয়ে থাকতে পারবি??পিচ্চিকে ছাড়া??
(আদ্র থমকে গেলো। কারন তার কাছে এই প্রশ্নটার উত্তর নেই।আসলেই তো,,,সে তো পারবে না থাকতে সোহাকে ছাড়া।কিন্তু সে এখন এটা ছাড়া আর কোনো উপায় পেলো না।তাই বললো....)
আদ্র-চেষ্টা করবো।আর না পারলে,, পুতুলের থেকে আরো অনেক দুরে চলে যাবো।এতটাই দুরে, সেখান থেকে আর কেউ ফিরিয়ে আনতে পারবে না।
(বলেই হনহন করে বেরিয়ে গেলো হসপিটাল থেকে। চলে যাওয়ার আগে সোহার দিকে এক পলক নজর দিয়ে গেলো)
বিহান-তোমরা সবাই যাও।এখানে আমি, সায়মান,রুসা আর শারমায়া আছি।আর পিচ্চিকে সামলানোর জন্য অনুজ আর নিডো তো আছেই।আমি নিডোর মা,বাবাকেও আসতে বলছি।
(সবাই বিহানের কথায় রাজি হয়ে চলে গেলো। আর এদিকে সোহা শুধু নিডো আর অনুজের সাথেই শান্ত ভাবে কথা বলছে।এছাড়া আর করোর সাথেই না।রুসা শারমায়া ওর সামনে গেলেই ভয় পেয়ে বাচ্চাদের মতো কাদতে শুরু করে দেয়।)