আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৩৬

🟢

আদ্র-পুতুল,,,তোমার তো খিদে পেয়েছে। আমি খাবার নিয়ে আসছি কেমন???

সোহা-খিদে তো পেয়েছে ঠিক।কিন্তু তুমি যাবেনা।সবাই আমার কাছ থেকে চলে যায়। আর ফিরে আসেনা।তুমি চলে গেলে তুমিও আর আসবে না।

আদ্র-আচ্ছা,,আমি যাবো না তোমাকে ছেড়ে।তুমি বসো।আমি খাবার আনতে বলে দিচ্ছি।

(বলেই আদ্র ফোন করলো বিহান কে...)

বিহান-হুম,বল।পিচ্চি ঠিক আছে তো??

আদ্র-হুম।শোন,,ওর জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা কর।

বিহান-আচ্ছা ঠিক আছে।আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ে আসছি।

(কল রেখে দিলো।,,,,,সোহা শুয়ে আছে আদ্রের কোলে মাথা দিয়ে। আর আদ্র পরম যত্নে সোহাকে আগলে রেখেছে।,,,,,)

সোহা-আচ্ছা প্রিন্স।তখন এরা কারা ছিলো??আমার কাছে আসতে চাইছিলো বারবার??ওরা কি আমাকে চিনে??

আদ্র-চিনবেই তো পুতুলরানি।ওরা হলো তোমার প্রিন্সের পরিবারের লোকজন।আর ওরাতো তোমাকে প্রচুর আদর করবে।

সোহা-ও তাই??,,, তাহলে আসতে বলো না ওদের??আমি সবার আদর নেবো।

(আদ্র হালকা হাসলো।তারপর আবার বিহানকে ফোন করে বললো...)

আদ্র-আসার সময় সবাইকে নিয়ে আসিস।পুতুল দেখতে চাইছে।

বিহান- ওয়াট!!!পিচ্চি সবাইকে দেখতে চাইছে??এটা কি করে সম্ভব হলো,?

আদ্র-চলে আয় তারাতাড়ি।

(কল কেটে দিলো।,,,কিছুক্ষণ পরে বিহান সহ আরিফা,সফিক,রফিক,রুসা,শারমায়া, সায়মান রিসব ঢুকলো কেবিনে।,,,,আরিফার চোখে জল মুখে হাসি। সে এসে সোহার পাশে আলতো করে বসলো।,,,সোহা অবাক চোখে সবাইকে দেখতে লাগলো।,,,,)

আরিফা-তুই আমাদের দেখতে চেয়েছিস মামনি??

(সোহা নরমালি বললো....)

সোহা-আমার প্রিন্স বলেছে তোমরা নাকি ওর পরিবারের লোক।তাই তোমরা আমাকে এত্ত এত্ত এত্তগুলা আদর করবে।কিন্তু তুমি তো এখন কাদছো।তোমাকে কি কেউ মেরেছে/?আমাকে বলো,??'আমি তাকে ডিসুম ডিসুম দিয়ে আসবো।কেমন??

(বলেই আরিফার চোখের জল মুছে দিলো দুহাত দিয়ে। এরপর হেসে দিয়ে বললো....)

সোহা-এই দেখো,,,,এরা কোথায় আমাকে আদর করবে??বরং, আমিইতো আদর করছি এদের।দেখো প্রিন্স,তোমার পরিবারের এই লোকজনটা কাদছে।(আরিফাকে দেখিয়ে দিয়ে)

আদ্র-এটা আমার মাম্মাম পুতুল।আর তোমার..... কি বলো তো??.

সোহা-আমার???উমম,,হ্যাঁ,,, আমার প্রিন্সের মাম্মাম।

আদ্র-তোমার প্রিন্সের মাম্মাম??

সোহা-হুম।উনি তো তোমার মাম্মামই।তাই না??

আদ্র-কিন্তু পুতুল??এটা একটু বড় হয়ে গেলো না??এই এত্ত বড় নামে তুমি ডাকবে কি করে??

সোহা-তাই তো??কি করে ডাকবো আমি তোমার মাম্মামকে??(চিন্তিত হয়ে)

আদ্র-এক কাজ করো পুতুল।তুমি বরং আমার মাম্মামকে মামনি বলে ডাকো।

সোহা-মামনি ডাকবো??ঠিক আছে।আমার প্রিন্স যখন বলেছে আমি এই নামেই ডাকবো।ও প্রিন্সের মাম্মাম।আমি তোমাকে মামনি বলে ডাকবো কেমন??আমার প্রিন্স বলে দিয়েছে।হুম

(আরিফা অশ্রু চোখেও হেসে বললো...)

আরিফা-ঠিক আছে মামনি,,তুই আমাকে মামনি বলেই ডাকিস।

সোহা-ও প্রিন্স,,,আর বাকি লোকজনরা কারা বলো না??আমি চিনবো তো সবাই কে।

(আদ্র একে একে সবার সাথে সোহার পরিচয় করিয়ে দিলো।সোহাও খুশি হলো এদের দেখে।)

আদ্র-তোমার তো খিদে পেয়েছে পুতুল।এই নাও,,খেয়ে নাও দেখি।

সোহা-আমিতো হাতে খাইনা,,,আম্মুইতো খাইয়ে দেয় আমাকে।আম্মুকে ডাকোনা??,আমাকে খাইয়ে দিবে??

(আদ্র কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সোহার দিকে।ভাবছে,,,মেয়েটা মা বলতে পাগল।কি করে সহ্য করেছিলো,,যখন ওর মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছিলো??)

সোহা-ও প্রিন্স, কি ভাবছো।।ডাকো না আম্মুকে??

আদ্র-পুতুল,,তোমার আম্মুতো একটু বিজি আছে??আজ বরং আমিই তোমাকে খাইয়ে দিই।কি বলো???

সোহা-তুমি আমায় খাইয়ে দেবে??কি মজা,, কি মজা,,,প্রিন্সের হাতে খাবো আমি।

(বলেই হাততালি দিয়ে হাসতে লাগলো সোহা।কিছুক্ষণ পরে আদ্রের দিকে তাকিয়ে হা করলো।আর আদ্রও হাসি মুখে সোহাকে খাইয়ে দিতে লাগলো।)

***বিকেল ৫ টা ***

সোহাকে রিলিজ করতেই আদ্র তাকে বুঝিয়ে সবার সাথে বাড়ি নিয়ে এলো।এসেই সোহা অবাক।

সোহা-এই প্রিন্স।এটাতো আমাদের বাড়ি না??তাহলে তুমি আমাকে কোথায় নিয়ে এলে??

আদ্র-এটা তোমার প্রিন্সের বাড়।মানে তোমারও বাড়ি।

সোহা- ওয়াও।এত্ত সুন্দর বাড়িটা আমার??

আদ্র-হুম পুতুল।তোমার...

সোহা-এই প্রিন্স।আমি এই বাড়িটা দিয়ে খেলবো।তুমিও এসো কেমন?

আদ্র-এই বাড়ি দিয়ে কি করে খেলবে তুমি??

সোহা-আরে,,,আমি খেলবো তো??,,,তুমি দেখো,,আমি ঠিক খেলবো।

(সোহাকে তার আগের রুমেই দিয়ে এসেছে আদ্র।সে এখন শারমায়া আর রুসার সাথে খেলছে।তারাও সোহার সাথে বাচ্চাদের মতোই আচরন করছে।যেন,সোহার সাথে ফ্রী হতে পারে।,,,,;)

(আদ্র দাড়িয়ে আছে ছাদের দোলনার সামনে। যেখানে সোহার সাথে সেই ঘটনাটি ঘটলো।কিছু একটা নিয়ে ভাবছে সে এক মনে দাড়িয়ে। পেছন থেকে বিহান এসে কাধে হাত রাখলো তার।আদ্রও পেছনে ঘুরে দাড়ালো।,)

বিহান-কিছু ভাবছিস??

আদ্র-তেমন কিছু না।ভাবছিলাম,,,,, আমার পুতুলটার কথা।কি থেকে কি হয়ে গেলো।

বিহান-সবই ঐই উপরওয়ালার ইচ্ছা।তুই তো খুশি হওয়ার কথা।পিচ্চি হয়তো তোকে আগের রুপে না,,নতুন এক রুপে চিনছে।দেখ।তোর ভালোবাসার জোর কতটা গভীর। পিচ্চি সব ভুলেও তোকে আপন করে নিলো।

আদ্র-আমি যে এই টুকু পেয়েছি এতেই অনেক।তা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।আমি আমার পুতুলকে এখন থেকে আগলে রাখবো।ওকে আমার চোখের মনি করে রাখবো।আর কোনো বিপদ আসতে দেবো না।

(তখনই রিসব এসে দাড়ালো তাদের পাশে।)

রিসব-ভাই,,,,পিচ্চির আর মাত্র তেইশ দিন পরে এস এস সি এক্সাম।এই বছরতো ওর আর এক্সাম দেওয়া হবে না।

আদ্র-আমি এখন এটা নিয়ে ভাবছি না।আমার পুতুল যে আমার কাছে আছে এটাই অনেক।,,,

বিহান-তা,,,,পিচ্চির যে এতবড় ক্ষতি করেছে।তার কি হবে??

আদ্র-কাল সকালে মিশন কমপ্লিট হবে।থাকিস,,,আর দেখিস কি হয়।

বিহান-তার মানে মিস তানিসার আজকেই শান্তির শেষ ঘুম হচ্ছে??

রিসব-তা তো নিশ্চিত।

(শারমায়া এসে বললো...)

শারমায়া -আদ্র ভাই,,,তোকে পিচ্চি ডাকছে।

আদ্র-পুতুল ডাকছে??আমি এক্ষুনি আসছি।

(বলেই ছুট লাগালো সোহার রুমে।গিয়ে দেখলো সোহা তার টেবিলের উপর বইগুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি করছে।,,,আদ্র মুখে হালকা হাসি এনে সোহার কাছে এগিয়ে গেলো। আর বললো...)

আদ্র-কি করছে আমার পুতুলটা??

সোহা-ও প্রিন্স। তুমি এসে গেছো??এই বইগুলো কার গো??

(আদ্র নাম খারাপ করে আস্তে করে বললো..)

আদ্র-তোমার।

(সোহা যেন কোনো খুশির সংবাদ শুনলো।খুশি হয়ে লাফাতে লাফাতে হাততালি দিয়ে বলে..)

সোহা-কি!"এই সবগুলো বই আমার??কি মজা,,,কি মজা,,আমি এত্তো গুলো বই পরবো।

আদ্র -বললেই হলো??তুমি পারবে নাতো পুতুল।এগুলো তো বড়দের বই।

সোহা-তাহলে তুমি বললে যে এগুলো আমার??

আদ্র-হুম,,তোমার ঠিক।কিন্তু তুমি তো এগুলো পরতে পারবে না।

সোহা-পরতে পারবো না??(মন খারাপ করে)

আদ্র -এখন পারবে না ঠিক।কিন্তু তুমি বড় হলে তখন পারবে।

সোহা-না,,,আমি এগুলো এখন পরবো।।।তুমি আছো তো।তুমি পড়িয়ে দাও।ঐ যেমন আম্মু আমাকে পড়িয়ে দেয়।

আদ্র- বলছিতো তুমি পারবে না।

সোহা-আমি পারবো,পারবো,পারবো।তুমি আমাকে পড়াতে চাইছো না তাইতো??তুমি চাইছো না,আমি পড়ি।।।

(অভিমানের সুরে আদ্রের দিকে আঙ্গুল তুলে কথাটি বললো সোহা।,,,,)

সোহা-দেখো প্রিন্স। তুমি পড়াবে মাধমে পড়াবে।নাহলে আমি কিন্তু কান্না করে দেবো।আর,,,আর তোমার মাম্মাম মানে আমার মামনিকে ডাকবো।সে এসে তোমাকে একদম বকে দেবে।তখন দেখো, কেমন মজা।

(আদ্র কি বলবে বুঝতে পারছে না।সে চাইছে না সোহা কোনো ভাবে কান্না করুক।তাই সে বললো...)

আদ্র-ঠিক আছে,,, ঠিক আছে। আমি পড়িয়ে দেবো পড়ে।কেমন??

সোহা-না, না,না,,,পড়ে না।চড়ে তো আমি আম্মুর কাছে চলে যাবো।তখন কি করে পড়াবে বলো?এখন পরবো আমি।এক্ষুনি পড়াবে তুমি

আদ্র- ঠিক আছে বাবা।এখনই পড়াচ্ছি।তুমি এসো,,, বসবে এসো।

(বলেই টেবিল থেকে চারুকলা বইটা নিয়ে সোহাকে খাটে বসতে বললো।কিন্তু সোহা আদ্রের হাত থেকে বইটা কেড়ে নিয়ে বললো....)

সোহা-নাহ,,একটানা।আমি যেটা বলবো, সেটাই পড়াবে তুমি।

(বলেই টেবিল থেকে খুজে রসায়ন বইটা বের করে বললো....)

সোহা-এই তো,,এটা পরবো আমি

(বলেই খাটে গিয়ে বাচ্চাদের মতো বসে গেছে।আদ্র মনে মনে ভাবছে,,,এই নাকি এখন রসায়ন পরবে।কি বুঝাবো আমি তাকে??)

(আদ্রও গিয়ে সোহাকে পড়াতে লাগলো।সোহা-ও খুব মনোযোগ দিয়ে সব শুনছে।আদ্রের খুব ভালো লাগছে,কারন সোহা সব পড়াই একবারে ক্লমপ্লিট করে দিচ্ছে।।।)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৩৬