আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৩৯

🟢

আদ্র-আহ্ আরে পুতুল,,তুমি তো সবে একটা এক্সাম দিয়েছো।এখনো তো আরো অনেকগুলো এক্সাম বাকি আছে।সবগুলো এক্সাম দেওয়ার পরেই তো আম্মু আসবে ননাকি??

(সোহার যেন মন খারাপ হয়ে গেলো। সে বললো....)

সোহা-তার মানে আজও আম্মু আমার সাথে দেখা করবে না??

(আদ্র আলতো করে দুহাত দিয়ে সোহার মুখ তুলে ধরলো।তার সামনে হাটু গেড়ে বসে আদুরে স্বরে বললো...)

আদ্র-আমার পুতুল কি খুব কষ্ট পাচ্ছে তার আম্মুকে ছাড়া??

(সোহা বাচ্চাদের মতো উপর নিচ মাথা নাড়লো।মানে হ্যা।)

আদ্র-তুমি কি তোমার আম্মুর সাথে যেতে চাও??

(সোহা আবারও একইভাবে মাথা নাড়লো।)

আদ্র-তোমার এই প্রিন্সকেও ছেড়ে চলে যাবে??

(সোহা এবার বলে উঠল...)

সোহা-আরে না তো।তুমি তো আমার সাথেই থাকবে।তবে আম্মুর থাকবে।এরপর্ আআআ মামনি,,বাবাই,,সাম ভাই,, শামু আপ্পে,, রুসা আপ্পি,, এরা সবাই থাকবে।তুমিও থাকবে।তুমি না থাকলে হবে নাকি।না,,না,,হবে নাতো।তাহলে তো আমি আমার টিভির প্রিন্সকে হারিয়ে ফেলবো।,,,তুমি যাবেনা,,,যাবেনা তুমি।

আদ্র-ওকে,,,ওকে,,,রিলাক্স পুতুল।শান্ত হও।আমি আছিতো আমার এই পিচ্চি পুতুলটার কাছে।,,,,

সোহা - আর কখনো চলে যাওয়ার কথা বলবে না তো??(অভিমানিনী সুরে)

আদ্র-না বাবা৷ ,, এই কান ধরছি,,,আর কখনো

বলবো না।এবার বলোতো,,,কি খাবে আমার পুতুলটা???খুব খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই??

ইমু-পাওয়ারই কথা।তিন ঘন্টা ধরে এক্সাম হলে আছে ও।খিদেতো পাবেই।

আদ্র-হুমমমম,,,এবার বলো তো কি খাবে আমার পুতুল???

সোহা-আমিইইইই???

আদ্র-হুমম,,,তুমি??

সোহা-আমি আইসক্রিম খাবো।স্ট্রবেরি আইসক্রিম।

আদ্র-উপপপহ,,,তোমাকে নিয়ে আর পারিনা।এই সময় কেউ আইসক্রিম খায় বলো??আর আমি তো প্রতিদিন সন্ধ্যায় তোমার জন্য স্ট্রবেরি ফ্লেভারের চকলেট আর আইসক্রিম নিই-ই।আজও নেবো।তখন না হয় আইসক্রিম খেও।এখন অন্য কিছু খেতে হবে তো??

সোহা-আচ্ছা,,তুমি যা বলবে তাই খাবো আমি।

(আদ্র হাসলো।তারপর বললো...)

আদ্র-আচ্ছা,,,তুমি বসো,,আমি আসছি।

(একথা বলেই আদ্র উঠতে নিলে সোহা তার হাত চেপে ধরে বলে...)

সোহা-এই না না,,তুমি যেও না,,,আমার কাছেই থাকো।

আদ্র-আহ্ আ পুতুলটা আমার।আমি না গেলে খাবার কি করে আনবো??

সোহা-না,না,না,তুমি যাবে না,,, ননননা হলে আমি খাবো না।লাগবে না আমার খাওয়া।তুমি আমার সাথেই থাকো।

আদ্র-আচ্ছা বাবা,,,ঠিক আছে।আমি এখানেই আছি।

রিসব-ভাই,,তুই বস।আমি সবার জন্য খাবার নিয়ে আসছি।

আদ্র-আচ্ছা,,যা।আর হ্যা,, আমার পুতুলের জন্য স্পেশাল ক্ষীর মোহন আনবি।ওকেয়??

রিসব-আচ্ছা,,ঠিক আছে।

(রিসব চলে গেলো।সোহা, ইমু আর আদ্রের সাথে নানারকম গল্প জুরে দিলো।,,,,কিছুক্ষন পর খাবার আসতেই আদ্র সোহাকে খাইয়ে দিলো।,,,তারপর তারা রওয়ানা দিলো বাড়ির দিকে।ইমুকেও তার বাড়িতে ড্রপ করে দিলো।,,,)

*সন্ধ্যা ৭টা***

(সোহা টেবিলে বসে পরছে।আর পাশেই আদ্র খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে।,,অনেকক্ষন পড়ার পর সোহা বিরক্ত হয়ে বললো...)

সোহা-প্রিন্স,,,আমার ভালো লাগছে না তো?

(আদ্র মোবাইল টিপতে টিপতে বললো.....)

আদ্র- কাল তোমার ইংলিশ সেকেন্ড পেপার এক্সাম পুতুল।না পরলে কি করে হবে??

সোহা-তুমি দেখো আমি সব পরেছিতো।এ-ই যে ন্যারেইশন,,, ডিগ্রি,, রাইট ফর্ম ভার্ব।সবই তো পরেছি।

আদ্র-তোমার এক্সামে তো আরো অনেক কিছু আসবে পুতুল।ওগুলোও তো পরতে হবে তাই না?? নাও,,তারাতাড়ি সব পড়া একবার কমপ্লিট করে ফেলো তো।

(সোহা যেন একটু বেশিই বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে।তখন সোহা চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালো।তারপর বইটা খাটের উপর রাখল।আদ্র তার দিকে তাকিয়ে চুপচাপ বোঝার চেষ্টা করছে যে, কি করতে চাইছে তার অবুজ পুতুলটা.....।সোহা এসে সোজা আদ্রকে জড়িয়ে তার কোলে চড়ে বসল।আদ্রও দুহাত দিয়ে তাকে সবসময়ের মতো জড়িয়ে ধরলো।আদ্র মিষ্টি করে বললো...)

আদ্র-আমার পুতুলটার কি খুব বেশি বোর লাগছে পরতে??

সোহা-কই,,নাতো,,,বেশি তো না।একটু আরকি।আমার ঐখানে একা বসে থাকতে ভালো লাগছে না।আমি এখানে,, আমার প্রিন্সের কোলে থেকেই পরবো।

আদ্র- কোলে বসে পরবে আমার পুতুলটা??ঠিক আছে।তাহলে তাই হবে।নাও তো পুতুল৷,, এইবার বইটা নিয়ে নাও।

(সোহা তার কথা মতো বই নিয়ে পরতে লাগলো আদ্রের কোলে বসেই।)

(কিছুক্ষণ পরেই সায়মান এলো হাতে একটা কার্ড নিয়ে।,,,সে ঢুকেই আদ্রের দিকে তাকিয়ে বললো...)

সায়মান-ব্রো,,এই নে।

আদ্র-কি এটা??কিসের কার্ড??

(সোহা কার্ডটি দেখে খুশি হয়ে বললো...)

সোহা-ওয়াও,,এটা কি সামান ভাইয়া??কি সুন্দর!! আমাকে দাও না??

(বলেই হাত বাড়িয়ে দিলো।,,,সায়মান আদ্রের দিকে একবার তাকালো।তারপর হেসে দিয়ে সোহার পাশে বসে তাকে কার্ডটি দিয়ে বললো...)

সায়মান-এটা নিবি তুই পিচ্চি??এ-ই নে।

আদ্র-পুতুল,,তোমার না কালকে এক্সাম আছে??এখন কি দুষ্টুমি করলে চলে বলো??

সোহা-আমি তো দুষ্টুমি করছি না প্রিন্স??আ্ আমি তো শুধু এই জিনিসটা একটু দেখছিলাম।

আদ্র-উপহ,,তোমায় নিয়ে আর পারিনা।সায়মান, তুই কি যেন বলছিলি??

সায়মান-ওহ,হ্যাঁ। এটা সৌরভ ভাই পাঠিয়েছে। ওদের বিয়ের ফাস্ট ইয়ার এনিভার্সেরি তাই ইনভিটিশন কার্ড পাঠিয়েছে। নেক্স টুয়েন্টি ফাইভ ফেব্রুয়ারী।

আদ্র-হুমম,,,আমি জানি।বাট!!আম শিওর,, যদি আমি বা আমরা কেউই ঐখানে যাবোনা।তবে বড়রা চাইলে যেতে পারে।

সায়মান-সেকিরে,,,তুই যাবিনা??সৌরভভাই বার বার বলেছে তোকে যেন নিয়ে যাই।আর তুই বলছিস যাবিনা??

আদ্র-ওহ সাথে আমি কথা বলে নিবো।তুই এত ভাবিস না।আর তার দুইদিন আগে আমার পুতুলের এক্সাম মেইবি শেষ।তাই আমি যা ভাবছি,তা ঠিক ভাবে হতেই হবে।

সায়মান-ওকেয়,,এজ ইউর উইশ।আমি তাহলে এখন সবাইকে বলে দিই যে ঐদিন যাওয়া হবে না।

আদ্র-আচ্ছা,,কারন জিগ্যেস করলে বলবি আমি পরে কথা বলবো।

সায়মান-আচ্ছা,,আমি তাহলে গেলাম।

সোহা-সামান ভাইয়া,,সামান ভাইয়া,,,উমম,শামু আপি আর রুসা আপি কে ডাকো না??আমরা সবাই মিলে খেলবো।

আদ্র-একদম না।পুতুল,,তোমার তো পরিক্ষা। এখন কেউ খেলে নাকি??

সোহা-ও প্রিন্স,,আমার ভালো লাগছে নাতো পরতে।

আদ্র- সায়মান,তুই যা তো।ওকে আমি সামলাচ্ছি। আর একদম এখন কাউকে ডাকবি না।

(সায়মান চলে গেলো।আর সোহা মন খারাপ করে আদ্রের থেকে দুরে গিয়ে বসলো।)

আদ্র-কি হলো তুমি ওখানে কেন গেলে???

সোহা-হুহ

(বলেই উলটো দিক করে বসে রইলো।আদ্র হালকা হাসলো।কারন সে বুঝেছে যে তার পিচ্চি পুতুলটার রাগ হয়েছে।আদ্র উঠে সোহার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো...)

আদ্র-আমার পুতুলটাকি খুব বেশি রাগ করেছে??

(সোহা কোনো কথা বললো না।)

আদ্র-ওহ,আমার সাথেও কথা বলবে না??

(এবারও সোহা কিছু বললো না)

আদ্র-আচ্ছা,,তাহলে আর কি করার।স্ট্রবেরি চকলেটটা তাহলে রুসাকেই দিয়ে দিই।রুসা...রুসা....

(এটুকু বলতেই সোহা ঘুড়ে আদ্রের মুখ চেপে ধরলো।কিন্তু ততক্ষণে রুসা এসে হাজির।)

রুসা-কি হলো ভাইয়া,,তুই ডেকেছিস??

আদ্র-উমম,,উমম

সোহা-হুম,,,ডাকেনি।

রুসা-কিন্তু আমি যে শুনলাম??

সোহা-তুমি শুনেছো??তাহলে মনে হয় ঐ শেরা গাছের পেতনিটা তোমার ভাইয়ার মতো করে তোমাকে ডেকেছে।আপি,,তোমার ভয় করবে তো।তুমি এখন তোমার ঘরে চলে যাও।নাহলে ঐ পেতনিটা তোমাকে খপাত করে খেয়ে ফেলবে।

(সোহার কথা শুনে আদ্র আর রুসা মিটিমিটি হাসতে শুরু করলো।আদ্র ভাবছে...)

আদ্র-আমার পুতুলটা এতটাই চকলেট পাগলি যে,চকলেটের জন্য কি সুন্দর রুসাকে পটানোর চেষ্টা করছে।হাহাহা,,,(মনে মনে)

(আদ্রের ইশারায় রুসা কিছুটা আন্দাজ করতে পারলো।তারপর ভয় পাওয়ার অভিনয় করে বললো.....)

রুসা-,,,এই যা,,আমি তো খুব ভয় পাচ্ছি।আমি যাই বাবা,,নাহলে আমাকে খেয়ে ফেলবে।

সোহা-হ্যা,,হ্যা,,যাও,,,যাও।

(রুসা একপ্রকার হাসি চেপে রেখে বেরিয়ে যায়।

এবার সোহা আদ্রের মুখের থেকে হাত সরিয়ে তিক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকায়।আদ্রও ভ্রু কুঁচকে সোহার সমস্ত কাজ লক্ষ করছে।কিছুক্ষণ পরে সোহা বলে উঠে....)

সোহা-এভাবে কেউ চেঁচায়???এক্ষুনি তো রুসা আপি আমার চকলেটগুলো নিয়ে যেতো।তখন তুমি আমার রাগ কি করে ভাঙাতে??বলো...

(আদ্রও সোহাকে বুঝ দেওয়ার জন্য কানে ধরে টেনে টেনে বলে উঠে...)

আদ্র-স্...রি।আর করবো না। ওকেয়??

সোহা-হুম,,নাও,,এবার আমার রাগ ভাঙাও দেখি।যেভাবে আম্মু আমার রাগ ভাঙায়?

(বলেই আবার উল্টোদিকে ফিরে বসলো।আদ্র এই কয়েকদিনে সোহার সবরকম ইচ্ছে, অনিচ্ছা, ভালোলাগা,,প্রায় সবই জেনে গেছে।তাই সে এখন ভালো করেই জানে তার কি করা উচিৎ।)আদ্র পেছন থেকে সোহার কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের কাছে টেনে নিলো।তারপর সোহার কাধে নিজের থুতনি রেখে বললো...)

আদ্র- সরি মাই পুতুল রানি।তোমার প্রিন্সের ভুল হয়ে গেছে।তাকে মাফ করে দাও।

সোহা-হুহ(মুখ বাকিয়ে)

আদ্র-হায় আল্লাহ,,,এখনো রাগ কমেনি??,,ওকে ফাইন।

(বলেই সোহাকে নিজের দিকে ঘুড়ালো।তারপর এক-এক করে সোহার দু গালে, কপালে,নাকে আলতো করে কিস করলো।তারপর তাকে নিজের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো...)

আদ্র- কাল ঘুরতে যাবে আমার পুতুলটা??

(সোহা খুশি হয়ে বললো..)

সোহা-সত্যিই??কালকে আমাকে ঘুরাইতে নিয়ে যাবে?

আদ্র-আমার পুতুল যেতে চাইলে না করি কিকরে??

সোহা-আমি যাবো।।

আদ্র- ঠিক আছে।কাল এক্সামের পরে আমি আর তুমি ঘুরতে যাবো।ওকে??

সোহা-ইএএএএএ।!!!

আদ্র- হয়েছে বাবাআআ,।এবার একটু পরো তো।নাহলে কালকে কি লিখবে খাতায়??

সোহা-কেন??যা যা প্রশ্ন আসবে তার তার উত্তর লিখবো??তুমিতো শিখিয়ে দিয়েছো,,তাই না?

আদ্র- তোমায় নিয়ে পারি না।

সোহা-চকলেট দাও।

আদ্র-এই নাও।এখন একটা খাবে।আর বাকিগুলো ডিনারের পরে।রাজি??

সোহা-তুমিএমন কেন প্রিন্স??আমি রাজি তো।দাও না??

আদ্র-এই নাও

(বলেই সোহার হাতে একটা চকলেট দিলো।আর সোহা-ও মনের আনন্দে তা খেতে লাগলো।)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৩৯