আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৪০

🟢

(পরদিন সোহার এক্সাম শেষে আদ্র তাকে নিয়ে একটা দিঘির পাড়ে ঘুরতে যায়।এরপর সেখান থেকে তাকে নিয়ে যায় গোডাউনে।যেখানে আছে তানিশা।)

সোহা-প্রিন্স??এটা কোথায়?? আমরা এখানে এলাম কেন??

আদ্র-আরেকটু পুতুল।তারপর সব বলছি।

(কৌতূহল নিয়ে সোহা আদ্রের সাথে এগোতে থাকে।একটা দরজার সামনে আসতেই আদ্র সামনে থাকা গার্ডগুলো কে বললো...)

আদ্র-ইজ ইট ওকে??

গার্ড -ইয়াহ স্যার।

(এরপর আদ্রের চোখের ইশারায় একটা গার্ড দরজাটা খুলে দেয়। সাথে সাথেই সামনে থাকা তানিশার মুখ ভেসে উঠে।দেখেই বোঝা যাচ্ছে, সে তার কর্মের ফল যে হারে হারে ভোগ করছে।,,,চেয়ারের সাথে বাধা অবস্থায় মাথাটা একপাশে ঠেকে পরে আছে।হয়তো ঘুমাচ্ছে।,,,,)

সোহা-এটা কে প্রিন্স?? এভাবে বাধা আছে কেন??ওকি খেলছে এভাবে??

আদ্র-হুম পুতুল।এই মেয়েটা খেলছে।অনেক বড় একটা গেম খেলছে।(সোহা ধীরে ধীরে তানিশার কাছে এগিয়ে গেলো। তারপর তানিশাকে বললো..)

সোহা-তুমি এভাবে কি খেলছো??আন্টি???

(সোহার কথা শুনে তানিশার ঘুম নড়ে চরে উঠলো।সে চোখ খুলে সোহাকে দেখে তার দিকে তাকিয়ে রইলো।,,,এদিকে তখন ইমু আর বিহান চলে এসেছে।তারাতো সোহার কথা শুনে মিটিমিটি হাসছে।,,,,বিহান আস্তে করে আদ্রকে বললো...)

বিহান-,If Soha call you uncle??like Tanisa,, how will it??

আদ্র-একটা থাপ্পর মারবো।(হালকা রেগে গিয়ে)

বিহান-সেকি, তুই পিচ্চিকে থাপ্পর মারবি?ছি,ছি,ছি,,এই তোর ভালোবাসা??

আদ্র-বিহান!!আমি ওকেনয়,তোকে থাপ্পর মারবো বললাম।

বিহান-এই যা,আমি আবার কি করলাম??

আদ্র-কিছুকরিস নি??,এই যে বললি পুতুল আমাকে আঙ্কেল ডাকবে?

বিহান-আরে,,,তুই দেখলি না??ও তানিশাকে কি ডাকলো?

ইমু-ভাইয়া,চুপ করনা,,স্যার রেগে যাচ্ছে,,,আর ঐদিকে দেখনা,,সোহাকে দেখে তানিশার মুখটা কেমন পাংসুটে সিংহির মতো হয়ে গেছে??মনে হচ্ছে এক্ষুনি গর্জন করে উঠবে।,

বিহান-দেখছি তো।আর মজাও হচ্ছে কিন্তু।

আদ্র-ইমু,,আমার পুতুলকে যেন ও কোনো কারনে হার্ট না করে।সেই দিকে খেয়াল রাখো।

ইমু-ইয়াহ,,শিওর স্যার।

(সোহা ভ্র কুচকে তানিশার দিকে হালকা ঝুকলো। তারপর একহাতের দু আঙ্গুলের মাথায় তানিশার মাথা থেকে কিছুটা চুল হাতে নিলো।তারপর তা আবার ছিটকে ফেলে বললো...)

সোহা-উমমহ,,,আন্টি গো,,তোমার চুল থেকে তো পচা মাউসের গন্ধ আসছে।তুমি কি ইদুর নাকি??

(তানিশার গর্জে উঠে বললো...)

তানিশা-এই মেয়ে,,তুমি আমার সাথে ইয়ার্কি করছো...

(তানিশার ধমকে সোহা ছুটে গিয়ে আদ্রের পেছনে লুকালো। আর ইমু গিয়ে তানিশার চুলের মুষ্টি চেপে ধরলো...)

ইমু-এই,,,তোর সাহস তো কম না??তুই ওকে ধমক দিচ্ছিস??

আদ্র- মিস তানিশার,আপনি মনে হয় ভুলে গেছেন যে আপনার বাচা- মরা সম্পূর্নই এখন আমার হাতে।মানে যাকে আপনি ধমক দিচ্ছেন তার উড বি হাসবেন্ডের হাতে।

(এবার তানিশা একটু ভয় পেলো।)আদ্র-গার্ড!!,,,গার্ড?

(সাথে সাথেই দুজন গার্ড এসে বললো....)

গার্ড-ইয়েস স্যার?

আদ্র-অল রেডি??

গার্ড -জ্বী স্যার,,,এই তো, রেডি।

আদ্র- গুড।,,,তো মিস তানিশা।তুমি ভাবতেও পারছো না।এখন তোমার সাথে কি হতে যাচ্ছে।এইবার তুমি বুঝবে, আমার পুতুলের সাথে রুড বিহেভ করার ফল।

(বলেই আদ্র হাত বাড়িয়ে দিতেই গার্ড তার হাতে একটি রিমোর্ড দিলো।আর সেটি অন করতেই তানিশার শরীরে লাগলো ১৩৫ বোল্ডের ঝটকা।বাধা অবস্থায় সে কাপছে আর মুখ দিয়ে অদ্ভুত শব্দ করছে।তানিশার এই অবস্থা দেখে সোহা ভয়ে আদ্রের পিঠের দিকের শার্ট খামছে ধরলো।আর চেচিয়ে বলে উঠলো...)

সোহা-আআ,,এএই আন্টিরা এমন করছে কেন??এমন করছে কেন??আমার খুব ভয় করছে,, আমি থাকবো না,,আ্ আ্ আমি থাকবো না এখানে।

(সোহার এমন অবস্থা দেখে আদ্র তারাতাড়ি রিমোর্ডটা অফ করে দিলো।আর সোহাকে নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরলো।)

আদ্র- পুতুল,,কি হলো তোমার? পুতুল,,এমন করছো কেন??এই পুতুল,,তু্ তুমি ঠিক আছো??

(সোহা আদ্রকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।আর প্রচুর পরিমাণে কাপছে সে।আদ্রও তাকে জড়িয়ে ধরলো।)

আদ্র-কি হলো পুতুল কথা বলো??তুমি ঠিক আছো তো??দেখো ও আর এমন করছে না।দেবোনা পুতুল?

সোহা-আ্ আমার, খ্ খুব ভয় করছে প্রথম প্রিন্স,আম্মু আমাকে বাচা্ আ্ ওহ।

(বলেই চোখ বন্ধ করে ঢলে পরলো আদ্রের কোলে।আদ্র যেন আরো অস্থির হয়ে পরেছে।)

আদ্র- পুতুল,,,পুতুল,,কি হলো তোমার??চোখ খুলো পুতুল,,,প্লিজ চোখ খুলো।এই পুতুল,,পুতুল??পুতুল?

বিহান-আদ্র, আদ্র, আদ্র,,,তুই অস্থির হোসনা,,পিচ্চির জ্ঞান হারিয়েছে।ওকে এক্ষুনি ডক্টরের কাছে নিয়ে চল।

আদ্র-হ্যা,,ত্ তুই ঠিক বলেছিস।আমার পুতুলের কিচ্ছু হবেনা।ও ঠিক হয়ে যাবে। চল,,তারাতাড়ি চল।

(বলেই সোহাকে পাজা কোলে তুলে নিলো।এরপর তারাহুরো করে বেরিয়ে গেলো গোডাউনের গেট খুলে।ইমুও পেছন পেছন উদ্বিগ্ন হয়ে ছুটলো।বিহান যাওয়ার সময় গার্ডগুলোকে বললো....)

বিহান-নজর রেখো।আর পানি ছাড়া কিচ্ছু যেন না পায় খাওয়ার জন্য।

গার্ড-ঠিক আছে ভাই।

(বিহানও তারাহুরো করে বেরিয়ে গেলো।,,,,)

***

(হসপিটালের করিডোরের চেয়ারে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে আদ্র।ডক্টর ভেতরে সোহার চেক-আপ করছে।ওদিকে বিহান আরও ইমু হিমসিম খাচ্ছে আদ্রের ফ্যান ফলোয়ারদের সামলাতে।কারন সোহাকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকার কারনে আদ্র মাস্ক বা ক্যাপ কোনোটাই পরেনি।যার ফলে হসপিটালে আসার সাথে সাথে লোকজন তাকে ঘিরে ধরলো।,,,,,,,,,,)

ডক্টর-মিঃআদ্রিয়ান,,,পেশেন্ট খুব হেজার্ড ফিল করছে।ভীষণ কান্না করছে।আর বারবার আম্মুকে ডাকছে।আপনি পারলে ওর আম্মুকে একবার খবর দিন।

আদ্র-ডল ডক্টর,,ওঠ্ ওর আম্মুকে আনাটা পসিবল না।বিকজ সি ইজ ডেইথ।

ডক্টর-ওহ,আম সরি।বাট,, প্রিন্সটা কে?পেশেন্ট উনার নামও নিচ্ছিলো।পারলে প্রিন্সকে একবার ডেকে দিন।

আদ্র-ইটস মি ডক্টর।প্লিজ লেট মি গো?

ডক্টর-ও ইয়াহ। শিওর।

(বলতেই আদ্র ছুটে গেলো সোহার কেবিনে।দরজা খুলতেই ভাসমান হলো,, সোহা কাদছে।আর কেবিনের জিনিস পত্র এদিক ওদিক ছোড়াছুড়ি করছে।দুজন নার্ স তাকে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে।একজন নার্স আদ্রকে দেখতেই বলে উঠলো,,,)

নার্স-স্যার,,, প্লিজ উনাকে একটু সামলান।এতটা হাইপার হওয়া উনার জন্য রিস্ক হয়ে যাবে।প্লিজ উনার প্রিন্সকে ডাকুন।

আদ্র-আই উইল হ্যান্ডেল ইট।ইউ ক্যান গো নাও।

নার্স -ওকেয়।

(আদ্র এবার আলতো স্বরে সোহাকে ডেকে উঠলো....)

আদ্র- পুতুল??

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৪০