"আমি আমার পুতুলের প্রেমে পরিনি,,, একদম প্রেমে পরিনি,,, প্রেমে পড়লে আমি আমার পুতুলকে এতো দিনে ঠিকই ভুলে যেতাম। আমি যে ভালোবেসেছি পুতুলটাকে। ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি।ভালোবেসেছি বলেই আজও পুতুলটার শূন্যতা আমায় কুড়ে কুড়ে খায়,,, তাকে আজও আমি চাই,,,ভীষণ ভাবে তাকে চাই।নিজের করে চাই,।"
সোহার চোখের জলের বাধ ভেঙেছে,,,,এতটা ভালোবাসে উনি আমায়?,,এতটা?,,,,
এদিকে রাফিন যেন স্তব্ধ হয়ে গেলো। আশার আলো টুকুও নিভে গেলো,,, শূন্য দৃষ্টিতে তাকালো সোহার দিকে। মেয়েটা কত্তো খুশি,,,আমি কি করে পারবো,,ওকে নিজের কাছে বেধে রেখে এমন খুশি ছিনিয়ে নিতে?এটা আমি কখনোই পারবো না।,,,
আদ্র বলছে...
"I need my doll,,,,anyone return me her,,,,plz,,, I really need my doll"
বলতে বলতেই আদ্র স্টেজেই হাটু গেড়ে বসে গেলো,,,নিচের দিকে মুখ করে ডুকড়ে কেদে উঠলো,,,,
দর্শকেরও যেন হৃদয় কাদছে,,,কেউ ভাবে নি,, এত বড় মাপের একজন শিল্পীর জীবনে এমন একটা ঘটনা ঘটে গেলো,,,,,,
বিহান দৌড়ে এসে আদ্রকে উঠালো,,,অনেক কষ্টে সামলে নিলো তাকে।আদ্র আর কিছুই বললো নাহ,,,,বিহানকে গিটার টা ইশারায় নিতে বলে নিজেও পিছু ঘুরলো স্টেজ থেকে নামার জন্য। চারদিকে হই হল্লা আবার শুরু হয়ে গেলো,,,সোহার সম্মতি ফিরলো,,,,,বলে উঠলো...
"আমার প্রিন্স চলে যাচ্ছে,,,"
উঠে দাড়িয়ে এদিক ওদিত পাগলের মতো তাকালো,,,,কি করবে এখন সে,,,কি করে যাবে তার প্রিন্সের কাছে?,,,কিচ্ছু বুঝতে পারছে না সোহা।,,,,,
রাফিন সোহাকে সামলানোর চেষ্টা করছে,,, তবে কোনো লাভ হচ্ছে না,,,,
হঠাৎ সোহার চোখ পড়লো একটু দুরে থাকা একটা লোকের উপর,,,,হাতে তার ফোন,,,উহুম,,ফোন না ঠিক,,,এটার নাম সোহা ঠিক জানে না,,,তবে এটা জানে এটায় কথা বললে স্টেজ থেকে কেউ না কেউ শুনবে,,আগে দেখেছে সে।আদ্রিয়ানের শো তেই দেখেছে।,,,,,,,,সোহা পাগলের মতো দৌড়ে গিয়ে লোকটার থেকে যন্ত্রটা কেড়ে নিলো,,মুখের সামনে ধরে বলতে লাগলো...
"আ্ আদ্র স্যার,,,,,আদ্র স্যার শুনতে পারছেন?",,,
চোখ তার বড় পর্দায়,,,,কই কারোর কোনো পরিবর্তন হলো না তো,,,মন বিষিয়ে যেতে থাকলো সোহার,,,,তবে কি সে আবার হারিয়ে ফেলবে তার প্রিন্সকে?,,,
এদিকে পাশে থাকা গার্ডটা বারবার সোহাকে বলছে..
" হেই গার্ল,,,আর ইউ ক্রেজি,,,রিটার্ন মি দিস,,,"
সোহা শুনছে না,,,,,কান্নার বেগ বেরেই যাচ্ছে। নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে চেচিয়ে বললো...
"প্রিন্স,,,,প্রিন্স,,,,,যাবেন না আপনি,৷ আমায় ছেড়ে যাবেন না প্লিজ,,,,প্রিন্স.."
()()()
স্টেজ থেকে নামছিলো আদ্রের সাথেই বিহান।,,,,হঠাৎ সে থমকে গেলো। কি শুনলো সে?,,,তড়িৎ গতিতে পেছন থেকে আদ্রের হাত চেপে ধরলো,,,আদ্রও থামলো,,,ভেজা চোখ নিয়ে ফিরলো বিহানের দিকে,,,,,বিহানের চোখে মুখে বিস্ময়,,, দ্রুত বলে উঠলো..
"আদ্র,,,,,পিচ্চি ইজ স্পিকিং,,,"
আদ্র থমকালো,,,,,হৃদয় স্পন্দন বেরে গেলো হঠাৎ,,,,
"আমার পুতুল?"
বিহান দ্রুত কান থেকে ব্লুটুথটা খুলে আদ্রের কানে লাগিয়ে বললো...
"তুই শোন আদ্র,,,,আমি দেখছি,,"
বলেই আবার স্টেজের সামনের দিকে দৌরালো,,,,
এদিকে সোহা অনবরত বলছে...
"প্রিন্স,,,,দয়া করে আমায় ছেরে যাবেন না,,, প্রিন্স,,,,"
চোখ বুঝে কাদছে সোহা,,,পর্দায় আর খেয়াল নেই।আদ্র নিজে নিজেই বলে উঠলো...
"পুতুল,,,আমার পুতুল?"
আপসোস,,,কথাটা তার পুতুল অবদি পৌছালো নাহ।,,,বিহান মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বললো...
"এভরি ওয়ান,,,,, লিসেন টু মি,,,,পিচ্চি,,, আই মিন আদ্রস ডল ইস স্পিকিং,,,,"
সবাই যেন অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু একটা শুনলো,,,,নিজেদের মধ্যেই কথা বলতে শুরু করলো।,,,,,সোহার সম্মতি ফিরলো,,,তাকালো আবার পর্দায়,,,,ঐ তো,,ঐ তোহ বিহান ভাই শুনেছে,,,,আদ্রও দাড়িয়েছে,,,সোহা পাগলের মতো বলতে লাগলো...
"আদ্র স্যার,,,,আদ্র স্যার,,,শুনতে পাচ্ছেন আপনি?,,,"
আদ্র শুনছে,,,দ্রুত মাথা উপর নিচ ঝাকালো,,,,পর্দায় স্পষ্ট দেখলো সোহা,,আদ্রের ঠোট নড়ছে,, কিছু হয়তো বলছে সে,,,,তবে সেটা আর সোহা শুনতে পেলো নাহ,, ,,,
সোহা কাদছে,,,,কি করবে এখন সে,,,চারদিকে মানুষের গিজগিজ করছে ,,, কোন দিক দিয়ে পৌছাবে সে আদ্রের কাছে।,,,,,
বিহান মাইক্রোফোন হাতেই পেছনে তাকিয়ে বললো...
"জিমান,,সিমান,, লাইটিং জোনটা দেখ,,,,আর গার্ডটার সাথে কন্টাক কর,,,যার থেকে সোহা কথা বলছে.."
জিমান জিজ্ঞেস করলো..
"গার্ড নং কতো?"
বিহান একটু ভেবে দ্রুত বললো..
"৮,,,,৮ নং গার্ডই আমার কন্টাকে ছিলো,,,,দ্রুত কর,,,পিচ্চি এখানেই আছে,, ওকে খুজতে হবে,,,,আ্ আর স্ক্রিনে ওর পিকচার সেট করা,,,,যাতে খুজতে সুবিধা হয়,,,"
দৌড়ে গেলো জিমান, সিমান সহ আরো কয়েকজন,,,,নিচ থেকে রিসব আর সায়মানও কন্ট্রোল রুমে গিয়ে ক্যামেরা জুম করে সোহাকে খোজার চেষ্টা করছে।,,,বড় পর্দাটায় এবার সোহার একটা হাস্যজ্জল ছবি ভেসে উঠল,,,, বিহান মাইক্রোফোন হাতে বলে উঠলো..
"এভরিওয়ান প্লিজ হেল্প আজ,,,সি ইস সম্মোহীনি,,,আদ্রিয়ানস ডল,,,ইফ এনি বডি সিইং হার,,,ইনফর্ম আজ কুইললি,,,প্লিজ।"
সোহার আসপাশের লোকগুলো তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকায়,,, কেউ কেউ বলে উঠলো..
"ইয়ে হি ওহ লারকি,,,আদ্রিয়ান কি ডল?"
রাফিন এবার সব আশাই ছেড়ে দিলো,,,আর সোহা তার নেই৷ মন জানান দিচ্ছে তার,,,আর সে আটকাতে পারবে না সোহাকে।
,,,এদিকে সামনের দিকে সীটে বসে এতক্ষণ বাকি দর্শকদের মতোই বিহেভিয়ার করলেও পর্দায় সোহার ছবি ভেসে উঠতেই টনক নড়লো রেগান সিং এর,,,,আসতিয়া ও অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।,,,,সে জানে তার স্বামী কখনোই সোহাকে যেতে দিবে নাহ,,,,,,, সোহা তাহলে এতদিন আদ্রিয়ান জুনায়েদের কথাই বলতো,,,?...
সোহার পাশে থাকা ৮ নং গার্ডের সাথে জিমান কন্টাক্ট করে ফেলেছে,,,,গার্ডটাও জানিয়েছে যে সোহা তার পাশেই আছে।,,,,একটু পরেই স্পট লাইট পড়লো সোহার উপর,,,, অনেকগুলো গার্ড এগিয়ে এলো এই দিকটায়।,,,,মানুষজন সরিয়ে মাঝখান থেকে পথ তৈরি করতে ব্যস্ত হলো তারা,,,আদ্র এবার দৃষ্টি দিলো স্পট লাইট পড়া জায়গায়। ঐ তো,,, দেখছে তার পুতুলকে।স্পট লাইটের কারনে বেগুনি জামার স্টোনগুলো চকচক করছে।,,,,
আর অপেক্ষা করলো না সোহা,,,,রাফিনের হাতটা ঝারি মেরে ছাড়িয়ে দৌরে সামনে এগোতে লাগলো।,,,,অনেক দুর যাওয়ার পর হঠাৎ কেউ পেছন থেকে খপ করে সোহার বামহাত চেপে ধরলো।,,,,,,,, স্পটলাইটও থামলো,,,আদ্রের ভ্রু কুচকে এলো,,,,বিহানও কিছু আচ করে দৌরে স্টেজ থেকে নামতে লাগলো....
সোহা পেছনে তাকাতেই আত্মা শুকিয়ে এলো,,,,রেগান সিং।,,,,আবারও মনে শোকেরা হানা দিতে লাগলো,,,তবে কি সে পারবে না আদ্র স্যারের কাছে যেতে,,,,,,,মুহুর্তেই ভেষে এলো রেগানের কর্কশ কন্ঠ....
"তু কাহি নেহি যায়েগি লারকি,,,"
সোহা হাত মুছরাচ্ছে,,,,,বিহান নিচে নেমে এগিয়ে আসার আগেই রেগানের হাতটা সোহার থেকে ছাড়িয়ে নেয় রাফিন।,,,,
"উসে যানে দিজিয়ে ভাইয়া,,,"
রেগান অবাক নয়নে তাকালো রাফিনের দিকে..
"রাফিন,,,তু উসে পেয়ার কারতা হেয়,,,আব তুহি...."
"মুজছে জিয়াদা আদ্রিয়ান জুনায়েদ নে উসে পেয়ার কারতা হেয়,,,,ওর বারি বাত হেয় ইয়ে কি,,,,"
বলেই রাফিন সোহার দিকে তাকালো,,, শীতল কন্ঠে বললো...
"সোহা মুঝে নেহি,,,আদ্রিয়ান কো চাতি হেয়,, "
"রাফিন তু.."
"প্লিজ ভাইয়া....মেয় এসি রিসতা নেহি চাতি,,,,ইক তারফা পেয়ার কাভি নেহি চেন দেতা হেয়,,,,,,আপনে দে পায়া ভাবিজি কো চেন,,,নেহি,,,"
রেগান তাকালো পাশে থাকা আসতিয়ার দিকে,,,সত্যিই তো,,,আসতিয়াকে বিয়ে করলেও সে কখনো সুখ দিতে পারেনি তাকে,,,সেও তো সোহার মতোই বাধ্য হয়ে নিজের ভালোবাসা ছেরে আসতিয়াকে বিয়ে করেছে।,,,
"ইস তারাহ,,সোহা ভি নেহি দেঙ্গে মুঝে চেন,,,ওহ নেহি পারেগি,,,,,প্লিজ ভাইয়া,,,যানে দিজিয়ে উসে,,"
রেগান ছেড়ে দিলো সোহার হাত,,,, আর এই দিকে থামলো না সোহা,,,,আবার দৌড়,,,,গিয়ে থামলো একদম স্টেজের সামনে,,,,এই তো, সাক্ষাৎ আদ্রকে দেখা যাচ্ছে।,,, বুকে হাত দিয়ে হাঁপাচ্ছে সোহা।বিহান এসে তাকে সিড়ি দেখিয়ে বললো..
"এখান দিয়ে চল পিচ্চি।"
সোহা আবার সিড়ি বেয়ে দৌর লাগালো,,,আদ্রও সোহার কাছেই আসতে যাচ্ছিলো,,,তবে তাকে আর স্টেজ থেকে নামতে হয়নি,,,সোহাই আগে দৌড়ে উঠে এসে তার বুকে ঝাপিয়ে পড়লো,,,আদ্রও আগলো ধরলো সোহাকে,,, দুজনেই একসাথে হাটু ভেঙে বসে পড়লো।,,,,,,কাদছে দুজন,,,প্রাপ্তির সুখে কাদছে,,,, সাত সাতটা মাস পর দেখা,,এভাবে কাছে পাওয়া৷৷ ভাষা হারিয়ে গেছে কথা বলার।শুধুই কাদছে,,আর দুজন দুজনকে অনুভব করছে।,,,,
সকল বাতি নিভে গেছে,,,শুধু মাত্র একটা স্পট লাইট তাদের উপর পড়েছে,,,,দর্শকরা সবাই উৎকন্ঠা নিয়ে দেখছে।এই রকম ঘটনা যে বিরল।,,,বিহানরাও দেখছে,,,তাদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি,,,অনেকদিন পর,,, সেই পিচ্চিকে খুজে পাওয়ার হাসি।,,,,সুনিশ্চিত যে,,,,"আদ্রও আবার আগের মতো হয়ে যাবে,,,,আবার ঐ পরিবারে হাসি আনন্দ ফিরে আসবে।"