দু সপ্তাহ পর।,,,,
(আজ সোহার এস এস সি এক্সামের প্রথম দিন।আদ্র সোহাকে এই কয়েক দিনে অনেক ভালো ভাবে পড়া বুঝিয়েছে।অবশ্য এতে সোহার অবদান ছিলো।কারন সোহাকে যাই একবার পড়ানো হতো তাই সে মাথায় পুরে নিতো।আদ্র এখন সোহাকে নিয়ে মোটামুটি নিশ্চিন্ত। কারন সে জানে সোহা এবার টপ রেজাল্ট না করতে পারলেও অন্তত পাশ মার্ক উঠবে নিশ্চিত।সুধু একটাই ভয় আদ্রের।পরিক্ষার হলে গিয়ে সোহা আবার ভয় পেয়ে যাবে নাতো???)
আদ্র-এই নাও পুতুল।তুমি এখন অল রেডি।এখন চলো।আজ তো স্কুলে যাবে তুমি।
সোহা-এই প্রিন্স,, আমরা কখন যাবো বলনা??আমি আমার আম্মুর সাথে দেখা করবো তো।তুমি না বললে আমি ভালো করে পরিক্ষা দিলে আম্মু আসবে আমার কাছে??
আদ্র-হুম পুতুল।আসবে তো।আমরা আগে যাই।।।তারপরই তো।দেখবে।,,,
সোহা-হুম,,হুম,,,চলো।(খুশি হয়ে)
(আদ্র সোহার হাত ধরে নিচে ড্রয়িং রুমে চলে এলো।সেখানে প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলো।সোহা খুশি হয়ে গিয়ে আরিফকে জড়িয়ে ধরলো।)
সোহা-ও মামনি,,,দেখো,প্রিন্স আমাকে আম্মুর কাছে নিয়ে যাচ্ছে।
আরিফা-আম্মুর কাছে যাবে আমার মামনিটা??
সোহা-হুম।প্রিন্স বললো তো।আমি ভালো করে পরিক্ষা দিলে আম্মুর কাছে নিয়ে যাবে।
সফিক-তাহলে তো আমার মামনিকে ভালো করে পরিক্ষা দিতে হবে।
সোহা-হুম,,আমি ভালো করে পরিক্ষা দেবোতো বাবাই।
আদ্র-মাম্মাম,,আমরা এবার বেরোই।নাহলে দেরি হয়ে যাবে।এমনিতেই পুতুলের কাছে স্কুলটা আজ নতুন।তাই চাইছিলাম একটু তারাতাড়ি বের হতে।
আরিফা-হুম বাবা,,তোরা এবার বেরো।আর আমার মামনিটাকে দেখে রাখবি একটু।দেখিস ও যেন ঠিক থাকে।
আদ্র-হুম মাম্মাম।রিসব,তুই আমাদের সাথে চল আজ।
রিসব-আমি কেন??তুইতো আছিসই।
আদ্র-আমার একটু কাজ আছে।তুই গেলে ভালো হতো।
রিসব-আচ্ছা।
(এরপর ওরা তিনজন মিলে সোহাগের স্কুলের দিকে রওয়ানা দিলো।,,,,,স্কুলে পৌছাতেই সোহা অবাক।কারন সে এই স্কুলে আগে আসেনি।আর স্কুলের সৌন্দর্য দেখে সোজা খুশিতে হাততালি দিয়ে লাফাতে শুরু করলো।যা দেখে আশেপাশের অনেকেই সোহার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আর অনেকে সোহার ব্যব্যবহার দেখে হাসছেও।এসব দেখে আদ্র বললো...)
আদ্র -পুতুল,,এবার চলো।তোমার জন্য নিডো অপেক্ষা করছে তো।
সোহা-ও হুম তো।নিডো জানার কাছে যাবো তো।চলো,, চলো,চলো।আমি জানার কাছে যাবো।
(বলেই আদ্রের হাত ধরে ক্লাসের দিকে এগিয়ে গেলো।সোহার হল খুজে আদ্র তার সীটে বসিয়ে দিলো।নিডো সোহার ৪ সীট পরেই আছে।,,,সোহাকে আসতে দেখে নিডো তার কাছে গিয়ে বসলো।আর দুজন মিলে গল্প জুড়ে দিলো।,,,,আদ্র নিডোকে বললো...)
আদ্র- নিডো,,ওকে একটু দেখে রেখো।আমি একটু আসছি।আর বাইরে রিসব আছে।কোনো দরকার হলে ওকে ডেকো।কেমন??
নিডো-আচ্ছা স্যার।,, স্যার,, বলছিলাম যে সায়মান ভাইয়া আসেনি??
(আদ্র হালকা হেসে বললো...)
আদ্র-উহুম।কেন বলোতো??
নিডো-ন না,,, এমনিই আরকি।তেমন কিছু নদীর।
আদ্র- আজকে এক্সাম শেষ হলে পুতুলের সাথে থেকো।কাজ আছে তোমার।আর বেস্ট অফ লাক,,ভালো করে পরিক্ষা দিও।মনে রেখো এই এক্সাম কিন্তু কোনো নর্মাল এক্সাম নয়।
নিডো-ওকে স্যার।
(আদ্র সোহার থেকে বিদায় নিয়ে বাইরে বেড়িয়ে এলো।রিসব কে বললো...)
আদ্র-আমার কলিজার দায়ীত্ব এখন তোর হাতে।ওকে দেখে রাখবি।কোনো প্রবলেম হলে আমাকে ইনফর্ম করবি সাথে সাথে।
রিসব-তুই চিন্তা করিস না ভাই।আমি আমার বোনের খেয়াল রাখবো।তএই কোথায় যাচ্ছিস সেটা বলতো??
আদ্র- অনেক বড় একটা মিশন আছে।আমাকে তো যেতেই হবে।তুই চিন্তা করিস না।সময় মতো চলে আসবো।
(বলেই আদ্র অফিসকক্ষের দিকে রওয়ানা দিলো।সে গিয়ে প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করলো।,,,)
প্রিন্সিপাল -আরে আদ্রিয়ান যে।কেমন আছো??আর সোহা কেমন আছে??
আদ্র-আম ওকে স্যার। আর আমার পুতুল??ঐ আর কি আছে মোটামুটি।
প্রিন্সিপাল-খুব খারাপ লাগছে সোহার কথাটা শুনে।তা এতদিন পরে তুমি এলে যে?
আদ্র-আজ তো ওর এক্সাম,, তাই।
প্রিন্সিপাল-হুম,,,কিন্তু সোহা তো এক্সাম দেবে না।তাহলে??
আদ্র-ওহ ওর হলে আছে।এক্সাম দেবে ও।
প্রিন্সিপাল-ওয়াট???সোহা এক্সামের বসেছে??ও কিভাবে পারবে??ওর তো সব মনে নেই।তাহলে??
আদ্র-আমি জানি,,ও সব ভুলে গেছে।তবে এই কয়েক সপ্তাহে ওকে আমি মোটামুটি রেডি করেছি।আই হোপ ও এখন এই এক্সামে বসার যোগ্য।শুধু একটু হেল্প চাই স্যার।
প্রিন্সিপাল-হুম বলো।
আদ্র-ওকে যেন কেউ হ্রাস না করে ওর অসুস্থতা নিয়ে। এই দিকে একটু খেয়াল রাখবেন।আরও,, এক্সামের সময় ওর রেজিষ্ট্রেশন নম্বরটা ঠিক মতো লিখছে কিনা তা নিয়ে টেনশন হচ্ছে।
প্রিন্সিপাল-তুমি চিন্তা করোনা।রেজিস্টেশন লেখে দেওয়াটা আইন বিরোধের না।তাই আমি ওটা করতে পারবো।আর আমি বলছি,আমি থাকতে ওকে কেউ মানসিক ভাবে হেরাজ করবে না।
আদ্র-থ্যাংক ইউ স্যার।,,,
প্রিন্সিপাল-এটা আমার কর্তব্য আদ্রিয়ান।ইউ ডোন্ট ওয়ারি।
(তখনই একজন টিচার এসে বললো..)
টিচার-স্যার,,, মিস তানিয়া এখনো পরেজেন্ট হয় নি স্কুলে।
(কথাটা শুনেই আদ্রের মুখে বাকা হাসি ফুটে উঠলো।আর মনে মনে বললো...)
আদ্র-ওয়েল ডান মাই দোস্ত বিহান।,,,(মনে মনে)
প্রিন্সিপাল -সেকি,,,এখনো আসেনি কেন??উনার কোনো সেন্স নেই নাকি,,এখনো এলো না??
আদ্র-স্যার,, আমি এবার আসি।আর এক্সাম শেষ হওয়ার আগে ওকে নিতে আসবো
এমনিতে আমার ভাই আছে হলের বাইরে।
প্রিন্সিপাল-ওকে।
(আদ্র বেরিয়ে গেলো স্কুল থেকে।গাড়ির সামনে আসতেই বিহানের কল।..)
বিহান -ইয়ার,,,কাজ হয়ে গেছে।
আদ্র -গুড,,,আমি আসছি।
(বলেই কল কেটে দিলো।,,,)
-*******-
(লালে রঙের হালকা ড্রীমলাইটের
আলোয় চেয়ারে বাধা অবস্থায় বসে ছটফট করছে এক নারী।মুখে টেপ লাগানো।তাই কিছু বলতেও পারছে না,,শুধু উমম,,উমম,শব্দ করে যাচ্ছে।,,,সামনেই একটা চেয়ারে আরামদায়ক ভাবে বসে ফোনে রুসার সাথে দুষ্টুমিষ্টি চ্যাটিং করছে বিহান।আর পেছনেই একটু দুরে ফুটবল নিয়ে খেলছে জিমান আর সিমন।,,,,, অপেক্ষা আদ্রের।আসল খেলতো সে আসার পরেই শুরু হবে।,,,,,একটু পরেই গোডাউনে সাতটার ওপেন করে দিলো জিমান।আর সাথে সাথেই ভেতরে প্রবেশ করলো আদ্র।কিন্তু একি,,সে একা না।তার সাথে অন্য একজনও আছে।যার মুখটা ঠিক চেনা যাচ্ছে না।ব্লাক জিন্স,হালকা এশ কালারের টিশার্ট। তার উপর ব্লাক জ্যাকেট।মাথায় ক্যাপ,চোখে সানগ্লাস, আর মুখে পরে আছে এলেক্স লেখা মাস্ক।,,,,,,,আদ্র আসতেই বিহান উঠে দাড়ালো।আদ্রের দিকে চেয়ারটা ঠেলে দিয়ে বললো....)
বিহান-নে,,শুরু কর।খুব বোরিং লাগছে ইয়ার।একটু মজাদার চাই।
(আদ্র চেয়ারটা টেনে মেয়েটার একদম সামনাসামনি বসলো।মেয়েটার চোখেমুখে ভয়ের ছাপ ফুটে উঠেছে এতক্ষণে।আদ্র বাকা হাসি দিয়ে বললো...)
আদ্র-কি??মিস গেম কুইন।কেমন লাগছে?? আমার তৈরি গেম??,,,এতদিন তো নিজেই গেম খেলে এসেছো।তোওও,,,একা একা গেম খেলতে মজা লাগে নাকি??তাই তোমাকে জমজমাট মজা দেওয়ার জন্য আমার গেম নিয়ে হাজির হলাম, সাথে আমার প্লেয়াররা।,,,তা তোমার গেমে তুমি একাই প্লেয়ার ছিলে??নাকি গেম পার্টনার আছে??বলো তো শুনি।
মেমেটা-উমম,,উমমম,,
আদ্র-ওহ,,সরি,,সরি,,সরি।আমি তো ভুলেই গিয়েছি,,, তুমি এখন আমার গেইমের একটা রাউন্ড পার করছো।ওকেই,, এই রাউন্ডটা না হয়আমি তোমাক জিতিয়ে দিলাম।,,,এই নাও,,খুলে দিলাম তোমার মুখ।এবার সুন্দর করে উত্তর খাওতো দেখি।
(বলেই আদ্র মেয়েটার মুখের টেপ খুলে দিলো,,,।তখন মেয়েটি আদ্রের উপর কঠোর ভাবে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বললো....)
মেয়েটা-আমাকে এভাবে তুলে আনার কারন কি মিঃআদ্রিয়ান??
বিহান-ওহ আদ্র,,,কিরে,, তোর এনিমি তো দেখছি অনেক শক্তিশালী। দেখ কিভাবে চোখ রাঙাচ্ছে।আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম।
(অভিনয় করে কথাটি বললো বিহান।,,,,)
আদ্র-আআআ,,আ,,বিহান।।মিস গেম কুইন তো আমার না,,আমার পুতুলের এনিমি।কি মিস গেম কুইন।ঠিক বলছি না আমি??
মেয়েটি-কি তখন থেকে গেম কুইন গেম কুইন বলে যাচ্ছেন।আ্ আমি কি গেম খেলেছি??,,,
বিহান-ওওওউ,,,আদ্র,,,উনার এই নামটা মনে হয় পছন্দ হলো না।তুই বুঝিস না কেন,,সবাই তো আর তোর পুতুলের মতো নাহ,,যে তোর দেওয়া নিদম পছন্দ করবে।তুই বরং ওনাকে ওনার নামেই ডাক।
আদ্র-ওকেয়। তো মিস........."তানিশা "। এবার বলো,,, কেন আমার পুতুলকে শেষ করতে চাইছিলে??
(কথাটা আদ্র দাতে দাত চেপে বললো।,,,,হ্যাঁ,, এই মেয়েটি আর কেউ না,,তানিশাই।,,,।।।।তানিশা একটা শুকনো ঢোক গিলো।তারপর কাপাকাপা কন্ঠে বললো...)
তানিশা-কি যা তা বলছেন।আ্ আমি কেন আপনার পু্ পুতুলকে শেষ করতে যাবো।আর,,ক্ কে এই পুতুল???
আদ্র-আরে,,,,এ তো আমার পুতুলকেই চিনেনা।এবার কি করা দরকার??,,,।
বিহান-হেই বোনুজ। তুই কি তোর কাজ শুরু করবি??
(অচেনা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললো বিহান।মেয়েটি হালকা মাথা ঝাকিয়ে তানিশার চারপাশে গোলগোল ঘুরতে লাগলো।আর বলতে লাগলো..)
মেয়েটি-আউউউউউ,,,,ম্যাম,,,আপনি স্যারের পুতুলকে চিনেন না??আচ্ছা,,,সহজ করে দিই।
(এরপর মেয়েটি তানিশার সামনে এসে ওর থুতনি চেপে ধরে দাতে দাত চেপে বললো...)
মেয়েটি-সম্মোহীনি সিনহাকে তো চিনোই তাইনা??তানিশা।।।
তানিশা-আহ,,লাগছে।ছেড়ে দাও আমাকে।,,,আমি চ্ চিনি,,, চিনি সম্মোহীনিকে।
(মেয়েটি ঝটকা মেরে তানিশার মুখ ছেড়ে দিলো।)
তানিশা- কে তুমি,,ত্ ত্ তোমার গলা এমন চেনা চেনা লাগছে কেন??
বিহান-বাহ,আদ্র।মিস তানিশাতো দেখছি তোর পেছনে লাগা ছাড়াও আরেকটা কাজ করেছে।গুড পয়েন্ট মিস।তা স্টুডেন্টদের কন্ঠ চিনাটা খুবই ভালো কাজ।
তানিশা- স্টুডেন্ট!!(অবাক হয়ে)
মেয়েটি-হুম স্টুডেন্ট। তুমি আমার কোনো ক্ষতি করোনি ঠিক।কিন্তু আমার ছোট্ট বোন টাকে পৃথীবি থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো নিচু কাজ করার সাহস দেখিয়েছো তুমি।
তানিশা-ক্ কি যা তা ব্ বলছো তোমরা??আমি ক্ কেন এসব করবো।আ্ আ্ আমি কিছুই করিনি।,,,
বিহান-আউচ,,,মিস যে এতটা ভা লোক তাতো জানতাম না।
(এবার মেয়েটি তানিশার চুলের মুস্টি চেপে ধরলো আর শক্ত কন্ঠে বললো...)
মেয়েটি-নিজের মুখে স্বীকার করবি নাকি বিকল্প কিছু করবো।??বল সম্মোহীনিকে কেন মারতে চেয়েছিলি??বল,,কি ক্ষতি করেছিলো ও তোর??কেন মেয়েটাকে আজ এই বিপদের মুখে ফেললি??জানিস তুই??কি অবস্থা হয়েছে ওর??
তানিশা-আআআহ,,লাগছে খুব।ছেড়ে দাও আমাকে।বলছি,,বলছি আমি।
(আদ্রের চোখের ইশারায় মেয়েটি তানিশার চুল ছেড়ে দিলো।তারপর তানিশা হাঁপাতে হাঁপাতে বললো...)