আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৪১

🟢

,,,,

এই গাং দিয়া কত নাইয়া,,

আসে আর যায়,,,

বন্ধু তাহার আসে না রে,,,

কুলে না নাবিহায়,,,

বুকের ভিতর চিতা জ্বলে,

রক্ত ঝরে কলিজায়,,,,,

কান্দে রে কান্দে কন্যা

নদীর কিনারায়,,,

কান্দে রে কান্দে কন্যা

নদীর কিনারায়।।

,,,গঙ্গার বুকে চলন্ত নৌকায় বাউলদের এই গানটা যেন অন্তর নাড়িয়ে দিলো নদীর পাড়ের কন্যাটির।অজান্তেই পানি পড়ছে চোখ থেকে।মনে পড়ছে প্রিন্সের কথা,,,কেমন আছে আমার প্রিন্স?আমায় ছাড়া ভালো আছে তো?,,,থাকতে পারছে তার পুতুলকে ছাড়া?"

এমন হাজারো প্রশ্ন উকি দিচ্ছে মনের কোনে।আজ নয় এই অভ্যাসটা গত ৭ মাস ধরেই চলে আসছে।কিন্তু উত্তর যে মেলে না।,,,,,

,,,হঠাৎ কাধে কারো হাতের স্পর্শ অনুভব করে পেছনে ফিরলো কন্যাটি.

"সোহা?তু ফিরভি ইহা আকার ব্যাঠি রাহি হে?,,,ঢুন্ড ঢুন্ড কার পেরেশান হোগায় হু মে।(সোহা,,তুই আবার এখানে এসে বসে আছিস?খুজতে খুজতে হয়রান হয়ে গেলাম আমি)

বলতে বলতেই সোহার পাশে বসলো ছেলেটি।,,,সোহা তাকালো,,,এই ছেলেটাই তো গত ৭ মাস ধরে তার সঙ্গ দিচ্ছে। এই- ই তো সেই ছেলে,, যে তার সাথে রেগে কথা বলে না,,ভয় দেখায় না৷ হুমকি দেয় না,,,শুধু সঙ্গ দেয়,,,হাসানোর চেষ্টা করে,,,,

" ফির কেয়া সোচ রাহি হে তু?(আবার কি ভাবছিস তুই?)"

সোহা সামনে তাকালো,,,বিস্তৃির্ন গঙ্গা নদী।যথেষ্ট সুন্দর। ঋষিকেশের এই জায়গাটাই সোহার ভালো লাগে,,ভাগ্যিস বাড়িটার ভেতর দিয়ে একটা ছোট্ট গলি করা হয়েছে এখানে আসার জন্য।। নাহলে তো এখানেও আসা বারন হয়ে যেত।,,,,

"কুচ তো বোল মেরি জান?(কিছু তো বল আমার জান?)"

"এখানে বাংলা গান কিভাবে গাইছে এরা?"

সোহার কথায় সামনে তাকালো ছেলেটি...

"ওহ,,,ইয়ে বাত হ্যা,,, ওওওউ কাভি কাভি গঙ্গা নাদ হোকার ইয়া বাংলা দেশ সে ইয়ে লোগ আতি হেয়।(ওহ,, এই কতা,,ঐ মাঝে মাঝে গঙ্গা নদী হয়ে বাংলাদেশ থেকে আসে এরা।)"

"ওহ,,,আচ্ছা,,,আমার প্রিন্স আসতে পারে না এভাবে?"

ছেলেটি বিরক্ত হলো

"ফির ওও বাতে,,,তু চাল ইহা সে(আবার ঐ কথা,,,তুই চল এখাম থেকে)"

সোহা তাকালো ছেলেটির দিকে,,,,

"আরো কিছুক্ষণ থাকিনা রাফিন ভাই?"

ছেলেটির নাম রাফিন সিং,,,পাক্কা পাঞ্জাব,,,পড়নেও পাজামা, পাঞ্জাবি। দেখতে খারাপ না,,,সোহার থেকে বয়সে ৫ বছরের বড়।,,,,,রাফিন সোহাকে হাত দিয়ে উঠতে ইশারা করে বললো...

"ওর নেহি সোহা,,,ভাইয়া কো আনে কি ওয়াক্ত হোগেয়া,,,তুজে ইহা দেখেগি তো,, বাচ নেহি পায়েগি তু।(বর না সোহা,,ভাইয়ার আসার সময় হয়ে গেছে।তোকে এখানে দেখলে বাচতে পারবি না তুই।)"

সোহা উঠলো,,,হাটা ধরলো বাড়িটার ভেতরে।আর পেছন পেছন রাফিনও এগিয়ে গেলো।।

""'"''""'""'"""""""""""""

অন্য দিকে দোতলার একটা রুমে খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে আদ্র,,,চোখদুটো লাল টকটকে,,,হাতে জ্বলন্ত সিগারেট,,একটু পরপর হুক দিচ্ছে তাতে। এলো মেলো চুল,,,দাড়ির অবস্থাও ভালো ছিলো না,,,সকালেই রিসব আর বিহান মিলে সেভ করিয়েছে,,তাই এখন তা আপাতত পরিপাটি।,,,ভেড়ানো দরজাটা খুললো কেউ,,,,আদ্র তাকালো না,,,,,বিহান এসেই আদ্রের সামনাসামনি বসলো,,,

"এভাবে আর কত আদ্র?আজ আমার বিয়ে,,, আজ তো একটু ফ্রী হ,,,আমার আর ভালো লাগছে না ইয়ার,,,,"

আদ্র কিছু বলছে না,,,আবার সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়লো।

"প্লিজ ইয়ার,,,,রুসাও কাদছে,,,ও কি চাইবে,,ওর বিয়েতে তুই এভাবে থাকিস?,,,"

আদ্র কাতর কন্ঠে বলে উঠলো...

"আমার পুতুলও তো নেই,,,ওকে ছাড়া বিয়েটা কি হচ্ছে না?"

"আদ্র,,,যে নেই তাকে নিয়ে এতো কেন ভাবছিস,,,পিচ্চি আমাদের ছেড়ে চলে গেছে সেই ৭ মাস আগেই,,,,তোকে সেটা মানতে হবে,,,আদেও পিচ্চি বেচে আছে কিনা..."

কথা শেষ করতে পারলো না বিহান,,,তার আগেই আদ্র রক্তচক্ষু নিয়ে সেরোয়ানির কলার চেপে ধরলো তার।ঝাজালো কন্ঠে বললো...

"আমার পুতুল বেচে আছে,,,বুঝেছিস,,,আমার পুতুল কোথাও যায় নি,,,ও আমার কাছেই আছে।"

বিহান আদ্রের হাত ছাড়াতে লাগলো,,,তা দেখে আদ্র নিজেই ঝামটি মেরে হাতটা ছাড়িয়ে নিলো,,,তারপর আবার আগের মতো একবার সিগারেটে টান মারলো।,,,,চোখ বন্ধ করে খাটের কোনে হেলান দিলো সে।কাতর কন্ঠে বললো..

"আমার পুতুল আমায় বলেছিলো,,,ও যদি হারিয়ে যায়,, তাহলে আমি যেন ওকে খুজে নিই।ও হারিয়ে গেছে,,,,আমার তাকে খুজতে হবে।,,,ব্যাস এটুকুই,,,,"

বিহান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো..

'"রেডি হয়ে নে ইয়ার,,,,কিছুক্ষণের জন্য? প্লিজ,,,,আমাদের বন্ধুত্বের কি কোনো মূল্য নেই তোর কাছে?"

আদ্র কিছুক্ষণ চুপ থাকলো,,,তারপর বললো..

"আসছি,,,তুই যা।"

বিহানের মুখে আলতো হাসি ফুটলো,,,, আদ্র একবার যখন বলেছে তার মানে নিশ্চই আসবে।,,,উঠে দাড়ালো বিহান,,,

"খাটে তোর পাঞ্জাবি রাখা আছে,,,রেডি হয়ে আয়।"

বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেলো বিহান,,,,,আদ্র আবার মাথাটা এলিয়ে দিলো খাটের কিনারায়,,,নিজে নিজেই বলতে লাগলো...

"কেন চলে গেলে পুতুল,,,আমায় কষ্ট দিতে বুঝি এতটাই ভালো লাগে তোমার?,,,আমি প্রকাশ করিনি আমার অন্তরের অনুভূতি গুলো,,,,তাই বলে এমনটা করলে,,?, আচ্ছা,,তুমি বুঝি খুব ভালো আছো আমায় ছাড়া??"

দরজায় আবার কড়াঘাত,,,সাথে রিসবের কন্ঠ..

"আদ্র ভাই,,,দ্রুত রেডি হয়ে নে।"

উঠে দাড়ালো আদ্র,,,খাটে রাখা পাঞ্জাবিটা হাতে নিয়ে রেডি হতে লাগলো,,,,কেমন দেখতে সেটিও দেখার প্রয়োজন বোধ করলো না।,,,,রেডি হয়ে একবার আয়নার সামনে দাড়ালো,,, মুহুর্তেই আয়নায় ভেসে উঠলো সোহার খিলখিলিয়ে হাসতে থাকা ছবি।হাসছে সে,,,প্রান খুলে হাসছে,,সাথে ব্যাকুল করে তুলছে আদ্রের তপ্ত পোড়া হৃদয়খানা।আদ্র আলতো হাসলো,,,হাত ছোয়ালো আয়নায়,,,সাথে সাথেই বিলীন হয়ে গেলো সোহা,,,,তার সম্মোহীনি,,,হাসতে হাসতেই আদ্র বললো...

"ওহে মোর সম্মোহীনি,,,এতো কেন সম্মোহন করো আমায়,,,খুব ভালো লাগে তাই না?একবার খুজে পেতে দাও,,,দেখবে এর ফল কি হয়,,,আমার সম্মোহন দেখবে তুমি,,,,তোমার সম্মোহন আমায় মুহুর্ত আনন্দ দেয়,,,এর পর যে বড্ড পোড়ায়,,,এটা কেমন কাজ,,বলোতো সম্মোহীনি,,,,খুব বাজে,,,বুঝলে,,,খুবই বাজে।"

*******

"সোহা তু ভাবিজি কি ঘার যা,,,মে দেখকে আতি হু ভাইয়া আয়য়া হে কি নেহি(সোহা,, তুই ভাবির ঘরে যা।আমি দেখে আসি ভাইয়া আসছে কিনা।)"

সোহা কিছু বললো না,,, মাথার ওড়নাটা আরেকটু টানলো।এগিয়ে গেলো রেগান সিং এর বউ আসতিয়া সিং এর ঘরে,,৷

"আসবো ভাবিজি?"

আসতিয়া সিং তাকালো দরজায়। শান্ত কন্ঠে বললো..

"আও(আসো)"

ভেতরে ঢুকলো সোহা,,,এই কয়দিনে এই মহিলাটিকে বেশ চিনেছে সে,,,বয়স তেমন না৷ হবে হয়তো ২৬-২৭,,,,,সবসময়ই মুখে গম্ভীর্য থাকে।থাকবে না কেন দিনে বেলা করে যে রেগান সিংয়ের সাথে ঝগড়া হয়।সোহা মাঝে মাঝে ভাবে রাফিন আর রেগান আপন ভাই,,কিন্তু দুজনের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত।রাফিন কতটা মিশুকে,,কিন্তু তারই বড় ভাই রেগান সবসময় একটা পাথরের মতো থাকে।,,,,আসতিয়া কাপর ভাজ করতে করতে বললো...

"কুছ বোলোগি তুম?(কিছু বলবে তুমি?) "

সোহা উত্তর দিলো..

"রাফিন ভাই আসতে বলেছে,,"

আসতিয়া এবার সরাসরি তাকালো সোহার দিকে।

"দেখো সোহা,,,,কুচ দিন বাদ তুম ইস ঘারকি ছোটি বহু হো যায়োগি(দেখো সোহা,,,কিছুদিন পরে তুমি এই ঘরের ছোট বউ হয়ে যাবে)"

কথাটা যেন তীরের মতো বিধলো সোহার বুকে,,,এ প্রথম নয়,,,কথাটা আগেও অনেকবার শুনেছে সোহা,,ততবারই বুকে অসম্ভব যন্ত্রণা অনুভব করে,৷ আদ্রের মুখটা ভেসে উঠে চোখের পাতায়,,,, তবে সোহা যে কিছু বলতে পারে না,,, তার যে সে পথ নেই৷, মনে পড়লো কিছুদিন আগেও রাফিন আর তার বিয়ের কথা উঠায় সোহা সাহস সন্চয় করে রেগানকে বললো..

'আমি এই বিয়ে করবো না,,,,আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি,,,সে ঠিক আমায় নিতে আসবে।"

তখনই রেগান রেগে বললো..

"নাম বোল উস লারকা কা,,,আভি যাকার খাতাম কারকে আরাহা হু,,,,শুন লারকি,,,মেরে ভাইনে যাব ইকবার বোলা ও তুজে পাসান্দ কারতি হে,,তো আব তু উসেই হি সাদি কারেগি। (নাম বল ঐ ছেলের,,এখনি গিয়ে মেরে আসছি।শোন মেয়ে,,আমার ভাই যখন একবার বলেছে ও তোকে পছন্দ করে,,তখন তোকে ওকেই বিয়ে করতে হবে)"

এরপর আর ভুলেও সোহা আদ্রের কথা উঠায়নি এই বাড়িতে।চায় না সে,,,তার জন্য তার প্রিন্সের কিছু হোক।তবে সে মন থেকে চায় আবার তার প্রিন্সকে পেতে,,,,,,মনকে শক্ত করলো সোহা,,,,অপেক্ষা করবে সে,, রাফিনের সাথে তার বিয়ের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত,, যদি তখনও আদ্রের দেখা না মিলে,,সেই মুহুর্তেই নিজেকে শেষ করবে সোহা,,তবুও আদ্র ছাড়া আর কারোর নামে কবুল করবে নাহ।,,,

"কেয়া হো গেয়া?"

বাহুতে হালকা ধাক্কায় ঘোর কাটলো সোহার,,,তাকালো আসতিয়ার দিকে।

"ক্ কিছু না ভাবিজি।"

আসতিয়া আবার তার কথা শুরু করলো..

"যাও,,,,কামড়ে মে যাও,,,রেগান সাব কি সামনে পারনে কি জারুরাত নেহি।(যাও,,,রুমে যাও,,রেগান সাহেবের সামনে পড়ার দরকার নেই।)"

সোহা সায় জানিয়ে হাটা ধরলো,,, এমনিতেই ঐ লোকটার সামনে পড়তে চায় না সে,,, পড়লেই তো কোনো না কোনো বিপদ।,,,,,,রুমে গিয়ে দরজা আটকে লাইট অফ করে শুয়ে পড়লো সে।ভেসে উঠলো সেই ৭ মাস আগের কথা।....

★ দিনটি ছিলো সোহার এস এস সির শেষ দিন।অনেক বায়না করছিলো সোহা,,আজ মায়ের কাছে নিতেই হবে,,,,,আদ্র তাকে কোনো রকম বুঝিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে বসালো,,,,একটু ঘুরাঘুরি করবে এই চিন্তায়,,,,,গাড়ি চলতেও শুরু করেছিলো।সোহাও তার পাগলামি কথা বলছে,,আর আদ্র তা মন দিয়ে শুনছে আর উত্তর দিচ্ছে।,,,,,হঠাৎ তড়িৎ বেগে একটা বড় ট্রাক এসে ছিন্নভিন্ন করে দিলো তাদের,,,,,সোহা দেখেই গেলো,,,আদ্রের মাথা থেকে গরগর করে রক্ত ঝরছে৷ তবুি সে বাম হাত এগিয়ে সোহার হাত ধরতে চাইলো,,,তবে পারলো না,,,,তার আগেই যে আখিযুগল বন্ধ করে ফেললো আদ্র।,,,,সাথে সাথেই সোহাকে কেউ একজন টেনে হিছড়ে বের করলো,,,,চেচালো সে,,,,প্রিন্স,,প্রিন্স করে অনেক চেচালো।কিন্তু আপসোস,, না আদ্র চোখ খুললো,, না তাকে টানতে থাকা লোকটা একটু দয়া দেখালো।ঐ অবস্থায়ই জ্ঞান হারালো সোহাও।,,,, এরপর যখন চোখ খুললো তখন সে হসপিটালের বেডে,,,পাশেই ছিলো এই রাফিন,রেগান আর আসতিয়া,,,,,উঠে বসলো সোহা,,,সবই মনে পড়লো,,,, তার অতীত,, চাচা চাচি,,,মামনি,বাবাই,,সবাইকে।এই কদিনে করা পাগলামি গুলোও মনে পড়লো,, মনে পড়লো আদ্রের কেয়ার গুলো,,,তার মুখটা,,,নির্মল চাহনি,৷ সব৷, সব মনে পড়লো তার।।।ডাকলো আদ্র কে

"আদ্র স্যার?,,,,আদ্র স্যার,,, আদ্র স্যার কোথায় আমি তার কাছে যাবো৷৷,, আদ্র স্যার,,,,"

তবে সেদিন আদ্র আসেনি,, বুকে টেনে নেয়নি তার পুতুলকে।শুধু তাই নয়,,,এই ৭ মাসেও মেলেনি তার দেখা,,,,অনেক চেষ্টা করেছে,,,টিভির কোনো চ্যানেলেও আদ্রের নতুন কোনো গান রিলিজ হয় নি,,,,ভয় পেলো সোহা,, তবে কি তার প্রিন্স আর... না না না,,,কি সব ভাবছি আমি৷ এমনটা কখনো হবে না,,,,সে আমায় কথা দিয়েছিলো, আমি হারিয়ে গেলে খুজবে সে,,,,,,,,,ঐ দিন হসপিটাল থেকেই এই তিনজনকে চেনে সোহা,,,ভাষাটা প্রথম প্রথম বোধগম্য হতো না সোহার,,,তবে ধীরে ধীরে তা বুঝতে শিখলো সোহা,,,তবে তার মনে একটা প্রশ্ন বারবারই ঘুর পাক খায়,,,

"এরা কেন আমার পরিচয় নিয়ে কোনো কথা বলে নি??রাফিনের সাথে বিয়ে দেবে বলে??কিন্তু,,তাও তো৷ একবার জানতে চাওয়ার কথা।?"

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৪১