"আমার পুতুল,,,,"
বলেই নিজ মনে সোহার সারা মুখে নিজের ঠোঁটের স্পর্শ দিতে লাগলো আদ্র,,,সোহাও পাগলের মতো কাদছে,,,খুশির কান্না,,,অতিরিক্ত কিছু পাওয়ার কারনে মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে তার।নিজেকে কেমন যেন হাওয়ায় ভাসছে ভাসছে মনে হলো,,, ধীরে ধীরে চোখে মুখে নেমে এলে নির্জীবতা,,,,
সোহাকে চুপ থাকতে দেখে আদ্র চিন্তিত হলো,,, পুতুল,৷ বলেই সোহার মুখটা তুলে ধরলো,,,একি সোহার চোখ যে বন্ধ,,, অস্থির লাগছে আদ্রের,,,অনবরত ডাকতে লাগলো..
"হেই ডল,,, শুনছো,,,এই পুতুল,,,চোখ খোলো, "
তখনই বিহান দৌরে এসে আদ্রকে সামলে বললো..
"আদ্র,,আদ্র,,অস্থির হোস না,,,,সকডের কারনে জ্ঞান হারিয়েছে পিচ্চি,,,, একটু পরেই ঠিক হয়ে যাবে,,,ওকে এই কোলাহল থেকে নিয়ে চল আগে,,,"..
আদ্র মানলো,,,পাজা কোলে তুলে নিলো সোহাকে,,,,বিহান মাইক্রোফোন নিয়ে বললো...
" এভরিওয়ান,,,লিসেন টু মি,,,,আদ্র এখন কথা বলার অবস্থায় নেই৷৷ তাই অত্যন্ত দুঃখিত,,,,তবে আমরা কথা দিচ্ছি,,, শীঘ্রই আমরা আবার ফিরবো,,,,থ্যাংকস অল ফর কোঅপারেইট।,,,"
মাইক্রোফোন রেখে আদ্রদের নিয়ে নামলো স্টেজ থেকে।,,৷ আজকের শো ওখানেই শেষ হলো,,,তবে এক নতুন শুরু হলো আদ্রের সম্মোহীনির জিবনের।,,,,
""""""""
পিটপিট করে চোখ খুলতেই নিজেকে এক ভিন্ন জায়গায় আবিষ্কার করলো সোহা,,,,সে কারোর বাহুডোরে আবদ্ধ আছে।মাথাটা উচু করতেই ভেসে উঠলে আদ্রের হাস্যজ্জল মুখটা।,,,,,যত্ন করে সোহার মাথায় বিলি কেটে দিচ্ছে।,,,,সেই আগের মতো,,,সোহা নি:পলক তাকিয়ে আছে আদ্রের দিকে।
"এখন কেমন লাগছে ডল?"
ঘোর কাটলো সোহার,, নিজেকে সামলে বললো..
"ভ্ ভালো,,,,"
আদ্র আর কিছু বললো নাহ,,,ঠোটের কোনে মৃদু হাসি নিয়েই তাকিয়ে রইলো তার পিচ্চি পুতুলটার দিকে।,,,উহুম,,,একটু খানি বড় হয়েছে তার পুতুলটা।,,,
রিসবের কন্ঠে ঘোর কাটলো দুজনেরই,,,
"ও গড,৷ কত দিন পর পিচ্চি বোনু আবার আমাদের কাছে ফিরে এলো,,,"
সোহা তাকালো তার দিকে।,,শোয়া থেকে আস্তে করে উঠে বসলো,,,,,রুসা আর শারমাশা সেই খুশি,,,,খুশিতে গিয়ে সোহাকে জরিয়ে ধরলে,,,সোহাও খুশিতে তাদের ধরে বললো..
"রুসা আপি,,,শামু আপি,,,আমি খুব খুশি আজ,৷ বিশ্বাস করো খুব খুশি৷ "
তখনই ইমু বললো..
"আমায় লাগবে না তোর?"
সোহা তাকালো,,,,হেসে আরেক হাত বাড়িয়ে দিতেই ইমুও এসে জরিয়ে ধরলো তাকে।,,,,,সায়মান দুষ্টুমি করে বললো...
"আজ মেয়ে জাতির মধ্যে জায়গা নেই বলে,,,, "
তার কথা শুনে সবাই হেসে দিলো।,,,,তখনই রিসব আর বিহান এসে বললো...
"আদ্র,,,,পিচ্চির সাথে যারা ছিলো তাদের নিয়ে এসেছি।,,,"
সবাই সিরিয়াস হলো,,,,সোহার ভয় কাজ করছে,,,যদি রেগান সিং আবার তাকে নিয়ে যায়,,,,রুসার জামা খামছে ধরলো সোহা,,,সেদিকে তাকিয়ে রুসা তাকে আগলে নিয়ে বললো..
"তুই ভয় পাচ্ছিস পিচ্চি?,, কেন?"
সোহা তাকালো,,,ভয় মিশ্রিত কন্ঠে বললো..
"ওরা আমায় আবার নিয়ে যাবে আপু,,"
আদ্র এগিয়ে এলো,,,দু হাতে সোহার মুখটা আকড়ে ধরলো,,,
"কেউ নিবে না তোমায় ডল,,,অনেক কষ্টে তোমায় পেয়েছি,,,আর হারাতে দেবো না তোমায়।,,,ভয় পেও না,,,, "
ভেতরে এলো রেগান সিং, রাফিন আর আসতিয়া,,,বিহান তাদের বসতে বললো,,,,তারা বসলোও,,,,আদ্রও সোহার একহাত মুঠো বন্ধি করে সরাসরি রেগানের দিকে তাকালো।,,,,
"কারা আপনারা?,,,, আমার পুতুলকে কোথায় পেয়েছেন,,,,সবটা জানতে চাই,,,"
রেগান একবার সোহার দিকে তাকালো,,, তারপর রাফিনের দিকে তাকাতেই চোখে পড়লো রাফিনের ছলছল দৃষ্টি,,, যা সোহার দিকেই নিবন্ধ ছিলো।রেগান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করলো,,,
"প্রায় সাত মাস আগে আমি কনটাক্ট পেয়েছিলাম ওকে মারার জন্য ,,,,, তিয়াশ মাহমুদ দিয়েছিলো আমায়,,,, "(আপনাদের সুবিধার জন্য বাংলাতেই লিখেছি, তবে রেগানের আসল ভাষা হিন্দিই)
বিহান অবাক হয়ে বললো...
"তিয়াশ মাহমুদ?"
ইমু বললো..
"ইট মিনস,,,ঐ তানিশার ভাই।,,,ও মাই গড,,"
আদ্র দাতে দাত চেপে ধরলো...
"ঐ তানিশা কোথায় বিহান?"
"আমাদের কাছেই বন্ধি আছে এখনো।তোর মনে আছে?তোদের এক্সিডেন্টের দু দিন আগে তানিশা পালিয়ে যায়,,,''
ইমু বললো...
" তার মানে,, আমরা ওকে আবার ধরার আগে ও ওর ভাইয়ের সাথে মিট করে,,আর এই সব প্ল্যান করে,,,,''
আদ্রের চোখ লাল হয়ে গেছে।রেগে বললো...
"ঐ রাসকেল তিয়াশকে আমার চাই।,,,,"
রিসব রেগানের দিকে তাকিয়ে বললো..
"তারপর?,,,আপনি ওকে না মেরে..."
"সেদিন ওকে খুন করার জন্য আমি সাথে করে আমার ভাই,,,এই রাফিনকে নিয়ে যাই,,,,তবে সোহাকে দেখেই রাফিন ওকে ভালোবেসে ফেলে,, যার কারনে আমরা ওকে মারতে পারিনি,,,তবে তিয়াশের কাছে খবর পাঠিয়েছি,,,কাজ হয়ে গেছে।,,, আমি চেয়েছিলাম,,,,ও আমাদের সাথেই থাকবে,,,,তেমনটাই হলো,,,এতদিন ও আমাদের সাথেই সেইফ ছিলো,,,,তিয়াশ যাতে জানতে না পারে,,,তাই ওকে আমার বাড়ি থেকল বাইরে পা রাখতেও দিই নি,,,,আজই ৭ মাস পর ও বেরিয়েছে,,,ঋষিকেশ হলে ওকে আজও বের হতে দিতাম না,,,মুম্বাই বলেই আমি নিয়ে এসেছি।,,''
আদ্রের যেন মাথা ফেটে যাচ্ছে।তার আড়ালে এতো কিছু হয়ে গেলো,,অথচ সে কিছুই জানে না।,,,,নিজের চুল খামছে ধরলো,,,, পারছে না রাগ সামলাতে।,,,,হঠাৎ খেয়াল হলো কেউ তার কাধে হাত রেখেছে,,, পেছনে ফিরতেই দেখলো সোহা,,,করুন মুখে চেয়ে আছো।,,,আদ্র সামলে নিলো নিজেকে।উঠে দাড়িয়ে সোহার হাত শক্ত করে ধরে রাফিনের সামনে এগিয়ে গেলো,,,,রাফিনও উঠে দাড়ালো।,,,আদ্র তাকে বললো...
" আমার পুতুলকে অন্যভাবে ভালোবাসার অধিকার কাউকে দিই নি।যদি ভুল করেও কেউ ওকে ভালোবাসার ভুল করে,,,তাহলে আমি তাকে পৃথিবীর আলো দেখানোই বন্ধ করে দিয়েছি।,,,,এখানে থাকা সবার আড়ালে আমি যে কতগুলো ছেলে খুন করেছি তা আমি নিজেও জানি না,,,,তাদের সবার একটাই দোষ ছিলো,,,,আমার পুতুলের দিকে নজর দেওয়া,,,,"
সোহা যেন অবাক হলো,,,,তার জন্য আদ্র মানুষও খুন করেছে?,,আর সে কিছুই জানে না।,,,,আদ্র বলতে লাগলো..
"কিন্তু তোমায় আমি সেই শাস্তি দিতে পারবো না।,,একটাই কারন,,তোমার ভালোবাসার জন্যই আমি আমার পুতুলকে ফিরে পেয়েছি।,,,তবে এটা ভেবোনা যে এসব বলছি মানে আমি আমার পুতুলের অধিকার তোমায় দেবো,,,,সেটা কখনোই হবে না,,, কারন ও একমাত্র আমার।এই আদ্রের সম্মোহীনি।"
রাফিন তাকালো সোহার দিকে,,,,মৃদু হেসে বললো...
"আপ সোচনা মাত,,,মে কাভি সোহা কি আস পাস নেহি যাউঙ্গি।,, মে উসকে লিয়ে লার সাকতা থা,,,আগার ওহ মুঝে চাতা,,,পার ওহ আপকো চাতি হেয়,,,(আপনি ভাববেন না।আমি কখনো সোহার আসপাসেই যাবো না।আমি ওর জন্য লড়তে পারতাম।যদি ও আমায় চাইতো।,,,,কিন্তু ও আপনাকে চায়।)"
সোহা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকালো রাফিনের দিকে।ছেলেটা যে সত্যিই তাকে ভালো বেসেছিলো.।।।রাফিন নিচের দিকে তাকিয়ে বললো...
"তু খুশ রেহ সোহা,,,,"
বলেই আদ্রের দিকে তাকালো..
"আদ্রিয়ান কে সাথ,,,,,,"
বলেই হাতের উলটো পিঠে চোখের জল মুছতে মুছতে বেরিয়ে গেলো রাফিন।,,,,রেগান সেদিকে তাকিয়ে বললো..
"মেরে ভাই নে সাচমে সোহা কো পাসান্দ কিয়া থা,,,,"
তারপর আদ্রের দিকে তাকিয়ে বললো..
"আজ হামকো জানা হোগা আদ্রেয়ান জি।"
আদ্রিয়ান অনুমতি দিলো,,,,আসতিয়া যাওয়ার আগে সোহাকে জড়িয়ে ধরলো একবার,,,,,,
()()()()
ফ্লাইটে বসেই কিছুক্ষন আগের কথা ভাবছে সোহা,,,কি থেকে কি হয়ে গেলো,,,,আবার সে তার প্রিন্সের কাছে ফিরে এলো,, এই তো এখন সুন্দর তার প্রিন্সকে জরিয়ে ধরে আছে।,,,,,,সোহা হঠাৎ আনমনেই বলে উঠলো...
"আমাকে আর ছেড়ে যাবেন না তো?"
আদ্রের হাত থেমে গেলো। এতক্ষণ সোহার মাথায় বিলি কাটছিলো সে।আরেকটু শক্ত করে জরিয়ে ধরলো সে সোহাকে।
"তখন প্রানটাই থাকবে না পুতুল,,,"
সোহা কিছু বললো না,,,মুখটা গুজে দিলো আদ্রের বুকে।,,,,,