আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৩৮

🟢

আদ্র- গার্ড!!!গার্ড!!

(বলতেই বাইরে থেকে দুজন লোক এসে বললো...)

গার্ড-ইয়েস বস??

আদ্র-তোমাদের যে কাজটা দিয়েছিলাম তা হয়েছে??

গার্ড-সব কমপ্লিট বস।

আদ্র-ওকেয় গুড। ওগুলো সব এ-ই রুমে ছেড়ে দাও।আর আমরা চলে যাচ্ছি।এই রাসকেলটার দিকে নজর রাখবে।

গার্ড -ওকেই বস।

তানিশা-আ্ আ্ আমাকে এখানে আটকে রাখবেন না প্লিজ। আমি তো সব সত্যি ব্ বলে দিয়েছি।তাহলে...

মেয়েটি-তোকে এখানে সত্যি বলার জন্য না।তোর কাজের শাস্তি দিতে এনেছে।

(আদ্র ঘৃণা নিয়ে একবার তানিশার দিকে তাকালো।তারপর মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বললো...)

আদ্র- তোর শাস্তি সেই দেবে।মনে রাখিস,,,,,চল তোরা।

(বলেই গদগদ করে হেটে বাইরে চলে এলো ওরা তিনজনই।কিছুক্ষণ পরে তানিশার রুমটায় গার্ডগুলো ৫০টা ইদুর এনে ছেড়ে দিলো।আর তানিশা ভয়ে কেঁদেই দিলো।)

********

সোহাদের এক্সাম প্রায় শেষের দিকে।আদ্র আর বাকি দুজন স্কুলেই পৌছালো।গাড়ি থেকে নেমেই আদ্র তারাহুরো করে ভেতরের দিকে এগিয়ে গেলো।মনে মনে বললো....)

আদ্র-(জানিনা আমার পুতুলটা কি করছে।এক্সামের হলে ঘাবড়ে যায়নি তো আবার।আমাকে তারাতারি যেতে হবে আমার পুতুলটার কাছে।)(মনে মনে)বিহান-বোনু, তুই কি এখন বাড়ি যাবি??

মেয়েটি-আমি একটু কলেজে যাবো ভাইয়া।তুই যা।

বিহান-আচ্ছা।আমি রুসার সাথে দেখা করতে যাবো।তুই সময় মতো চলে আসিস।

মেয়ে টি-আচ্ছা,,তা শুনলাম ভাবি নাকি তোর উপর রেগে আছে??

বিহান-তুই কি করে জানলি??

মেয়েটি-আমাকে তুই চিনিসই ব্রো।দেখতে হবে না??তুই কার ভাই।দা গ্রেট ই...

বিহান-হইছে,হইছে।আর জোর গলায় নিজের নাম বলা লাগবে না।আমি জানি তোর সফটওয়্যার মার্কা নাম টা।

মেয়েটি-ভাইয়া,,তুই আবার আমাকে খেপাচ্ছিস।আমি কিন্তু ভাবিকে বলে দেবো যে তুইঅন্য মেয়ের সাথে লাইন মারিস।

বিহান-তবেরে সফটওয়্যার..

(বলতেই মেয়েটি দৌরে কলেজের ভেতরে ঢুকে গেলো।,,আর বিধানও চলে গেলো নিজ গন্তব্যে।)(অনেকক্ষন ধরে সোহার এক্সাম হলের সামনে দাড়িয়ে আছে রিসব।হঠাৎ সেই মেয়েটি এসে পেছন থেকে তার হাত টানতে লাগলো।রিসব ঘাবড়ে গিয়ে বললো...)

রিসব-আরে,,আরে,,কে আপনি।এভাবে টানছেন কেন??আরে,,আমার বোন একা ওখানে।

(মেয়েটি দাড়িয়ে পড়ে।পেছনে ঘুরে রিসবের একদম মুখোমুখি হয়ে বললো...)

মেয়েটি-আপনার বোনকে দেখার জন্য তার উডবি আছে।

রিসব-ইমু,,,তুমি!!"""

মেয়েটি-হুম,,আমি।পেছনে ঘুরে দেখে নিন।

(এতক্ষণের মেয়েটি আর কেউ না,,এটা ইমু।ইমুর কথা মতো রিসব পেছনে ফিরে দেখলো,,, সত্যিই আদ্র দাড়িয়ে আছে সোহার হলের সামনে।তারপর ইমুর দিকে তাকিয়ে বললো...)

রিসব-ইমু,,, তুমি এই ভাবে??

ইমু-ক্যন্টিনে চলুন।

(এরপর তারা দুজন ক্যান্টিনের দিকে হাটািকে হাটা ধরলো।ক্যান্টিন প্রায় ফাকা এই সময়।ওরা গিয়ে কর্নারে একটা টেবিলে বসলো।,,,)

রিসব-এবার বলোতো,,,হঠাৎ এই লুকে কেন??

(ইমু এক হাতে মুখের মাস্ক খুলতে খুলতে বললো...)

ইমু- আপনার পিচ্চি বোনের শত্রুকে শাস্তি দিতে।

রিসব-মানে!!কি বলছো,,আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।ইমু-আমি ঠিকই বলছি।

রিসব-পিচ্চির শত্রু মানে....,,কে হতে পারে??আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না ইমু।প্লিজ ক্লিয়ার করে বলো।

ইমু-এই স্কুলের টিচার,, মিস তানিশাই আমাদের সোহার শত্রু।

রিসব-তানিশা!!!নামটা খুব চেনা চেনা লাগছে।কোথাও শুনেছি আমি,,, ও হ্যা,,,আমাদের পাশের বাড়িতে ভাড়া করা মেয়েটার নাম তো তানিয়া মনেহয়।আর,, আদ্রভাই ও একবার বলেছিলো।ঐ তানিয়া নাকি ওর কলিগ হয়।তাহলে কি এই তোমাদের টিচার??

ইমু-হ্যা,,,এই-ই সেই।আর আজ সোহার এই অবস্থার জন্য এই-ই দায়ী।

রিসব-হোয়াট!!এ কিকরে শত্রু হবে পিচ্চির??এ তো টিচার হয় পিচ্চির।টিচার হয়ে স্টুডেন্টের সাথে কি এমন শত্রুতা থাকতে পারে??

(ইমু এবার নিজের একহাত দিয়ে রিসবের হাত চেপে ধরলো।,,তারপর শান্ত স্বরে বললো...)

ইমু-আপনি তো জানেনই আদ্র স্যার সোহার জন্য কতটা পাগল??আর ওর জন্যই তিনি এত বড় একজন সিঙ্গার হয়েও এই সামান্য স্কুলে টিচিং করছে।

রিসব-হ্যা,এসব তো আমরা সবাই জানি।কিন্তু...

ইমু-আপনি এটাও জানেন যে বাইরের দুনিয়ায় স্যার একজন অন্য ব্যাক্তি??রাস্তায় তাকে নর্মাল ভাবে ঘুরতে দেখলে কতশত মানুষের ভীড় জমে যাবে??

রিসব-হ্যা,,,ভাই তো একজন সেলিব্রিটি। আর সাধারনত সেলিব্রিটিদের সাথেএমনটাই হয়।

ইমু-হ্যা,,,আর এই ফেমাসিটির জন্যই স্যার সবার আইকন।দেশ বিদেশের বেশিরভাগ মেয়েরই ক্রাশ সে। আমাদের কলেজের তো প্রায় অনেক মেয়েই স্যারের উপর ফিদা।,,ঠিক তেমনি তানিশাও স্যারকে পাওয়া আর আপনাদের মতো সম্ভান্ত্র পরিবারের বউ হওয়ার লোভে তানিশা সোহাকে সরাতে চেয়েছিলো।কারন সে জানতে পেরেছে যে স্যারের লাইফে সোহা অলরেডি আছে।যে স্যারের মনে এক গভীর জায়গা জুড়ে বিরাজ করছে।তাই তানিশা ভেবেছিলো,,সোহাকে রাস্তা থেকে সরালে স্যারকে সে নিজের করে নিতে পারবে।(রিসব অবাক হয়ে ইমুর দিকে তাকিয়ে আছে।সে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না কথা গুলো।অবাক হয়েই বললো...)

রিসব-এত কিছু হয়ে গেলো।,,আর আমরা কেউ কিচ্ছু জানিনা??

ইমু-স্যার আর ভাইয়া,,মানে বিহান ভাইয়া আগে থেকেই জানতো সব।যেদিন সোহার ঐরকম অবস্থা হয়েছিলো সেদিনই তারা জেনে গিয়েছিলো।এতদিন তো শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছিলো ওরা।আর আমিও জানতাম না।ভাইয়াই আমাকে সব বলেছে।যদিও স্যার চায়নি আমি এই সবে জড়াই,,,কিন্তু স্যার এটাও চায়নি ব্যপারটা ভাইরাল হোক।তানিশাকে হেনস্তা করার জন্য একজন মেয়ের দরকার।যদি স্যার টাকা দিয়ে লেডি কিলার ধরাতো তাহলেও ব্যপারটা কিছুটা হলেও ভাইরাল হতো।আর তাই আমাকেই বলেছে তারা।আর আমি আগে থেকেই ক্যরাটে,শুটিং,,এই ধরনের নানা কাজে জড়িয়ে আছি।তাই তারা নির্ভয়ে আমাকে কাজটা দিলো।ব্যাস,,,এটুকুই।

রিসব-এই কয়েকটা মাস ধরে এতো কিছু চলছে।??আই কান্ট বিলিভ দিস।আমার মাথা হ্যাং করছে ইমু।সবটা কেমন ঘোলাটে লাগছে।

আদ্র- ঘোলাটে লাগলেও এটাই বাস্তবতা ভাই।আর নিয়তিও হয়তো এটাই চায়।

(পাশে তাকিয়ে রিসব দেখলো আদ্র আর সোহা দাড়িয়ে আছে।,,,,আদ্র সোহাকে ইমুর পাশে বসাতে বসাতে বললো...)

আদ্র- ওভাবে তাকাস না।আশা করি ইমু তোকে সবটাই বলেছে।তাই আমি চাইনা এখন এই পাবলিক প্লেসে এই নিয়ে আলোচনা হোক।,,,পুতুল,,তুমি ইমু আপুর সাথে বসো।আমি তোমার জন্য খাবার নিয়ে আসছি।

সোহা-এই প্রিন্স।।তুমি না বললেএক্সাম দিলে আম্মু আসবে??তাহলেকোথায় আম্মু??আমি তো দেখছিনা??

(আদ্র কি বলবে বুঝতে পারছে না।সোহাকে এতক্ষণ তার আম্মুর থেকে দমিয়ে রাখা গেলেও আর যে তাসম্ভব হবে না এটা সে ভালো ভাবেই টের পাচ্ছে।কারন কিছুদিন আগেও সোহা এমন আম্মু আম্মু করতে-করতে হাইপার হয়ে জিনিস পত্র ভাংচুর করেছিলো।কিছুক্ষণ পরে সেন্সর হারিয়েছিলো।তাই আদ্র কিছুটা ভয় পাচ্ছে।তার পুতুল যদি আবার অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে??)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৩৮