আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৩৫

🟢

সোহা-আচ্ছা নিডো,,,তুই এত লম্বা,,মোটা,,হয়ে গেলি কি করে??তোকে একদম বড় বড় লাগছে এখন হিহিহি।আর অনুজ ভাইয়া,,তুমিও তো এই এতটুকু ছিলে কালকে।তাহলে আজ এত বড় কি করে হলে??

(বাচ্চাদের মতো করে সোহা কথাটি বললো নিডোকে।তার মতে নিডো আর অনুজতো গতকালও ওর সমান ছিলো।তাহলে আজ ওদের এত বড় বড় লাগছে কেন??,,,নিডো আর সইতে পারছে না বেষ্টির এমন করুন অবস্থা। তবুও কান্না আটকে মুখে হাসি নিয়ে বললো...)

নিডো-ওমা,জানু,,,তুই জানিস না??আমরা তো আজ সকালেই একটা সুফার পাওয়ার পেলাম।তাইতো আমরা সবাই বড় হয়ে গেছি।তুইও তো বড় হয়েছিস।

সোহা-তাই??আমিও বড় হয়ে গেছি??কি মজা কি মজা,,আমি বড় হয়ে গেছি,, বড় হয়ে গেছি। এই এই জানু,,,আমি দেখবো,,আমি কেমন বড় হয়েছি আমি দেখবো।

নিডো-হুম জানু,,,দেখবি তো।কিন্তু এখানে তো এত বড় আয়না নেই।আমরা যখন বাড়ি যাবো তখন দেখিস।কেমন?,,,

সোহা-এই জানু,,আমরা এখন কোথায় রে??এটা তো বাড়ি না??তাহলে??

অনুজ-বোন,, এটা তো হসপিটাল। তোর মনে নেই তুই কিছুদিন আগে এসেছিলি??

সোহা-কিছু দিন আগে??

(সোহা মাথা চুলকাতে চুলকাতে ভাবতে লাগলো।কিছুক্ষণ পরে উৎফুল্ল হয়ে বললো...)

সোহা-ও হ্যাঁ তো।মনে পরেছে মনে পরেছ।আমাকে তো আম্মু নিয়ে এসেছিলো।কিছুক্ষণ পরে আব্বুও তো এলো।তখন তো ঐ কি যেন,,,হুম,,ডাক্তার আঙ্কেল আমকে ইতনা বড় একটা সুই মেরে দিয়েছিলো।এই এখানে।

(সোহা নিজের বা হাতের বাহু দেখিয়ে বললো...।এরপর কাদো কাদো ফেস করে বললো...)

সোহা-জানিস জানু??আমার না খুব কষ্ট লেগেছিলো।এত্ত এত্ত এত্ত গুলা কষ্ট লেগেছে।

(নিডো সোহার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললো...)

নিতো-তাই??আহারে আমার জানুটা বুঝি খুব কষ্ট পেলো তখন??

সোহা-হুম।আচ্ছা,,এখন আবার দেবে নাতো??আমি বাবা আর ঐ সুই দেবো না।আমার আম্মুকে বলে দেবো একদম।ডাক্তার আঙ্কেল পচা।শুধু সুই দেয় আমাকে।কিন্তু আমার আম্মু কোথায়?? এখনো আসেনি যে??এই অনুজ ভাইয়া,,,তুমি আম্মুকে তারাতাড়ি আসতে বলো না?এখনো আসছে না কেন??

অনুজ-এই তো বোনু,,চাচি এই এলো বলে।

(বলতে বলতেই অনুজের ফোন বেজে উঠলো।হাতে নিয়ে দেখলো তার মা মানে সোহার চাচি নুর কল করেছে।অনুজ কোনোরকমে ফোনটা কানে তুললো....)

অনুজ-হ্যাঁ আম্মু??,,

নুর-কোথায় রে তুই??এত ভোরে কোথায় বেড়িয়ে গেলি/???কি না কি ফোন এলো।কাজ আছে বলে ভোর চারটা বাজে বের হলি।এখন তো বেলা ১০ টা বাজতে চললো।এখনো বাড়ি ফিরা হলো না তোর??

অনুজ-আম্মু,,আমি আমার এক বন্ধুর বাসায় আছি।একটু দরকার ছিলো তো তাই।

নুর- এখন তারাতাড়ি বাড়ি ফিরতো বাপু।সারাদিন বাইরে বাইরে থাকার কি দরকার শুনি??তুই এক্ষুনি বাড়ি আসবি নাহলে আমিই তোর বন্ধুর বাড়ি পৌঁছে যাবো। এই বলে রাখলাম।

অনুজ- না না আম্মু।ত্ তুমি কষ্ট করে কেন আসতে যাবে??আমিই চ্ চলে আসছি তো।

নুর-আসতো দেখি।তারাতাড়ি আসবি কিন্তু।

অনুজ-আসছি তো।

(বলেই ফোনটা কেটে দিলো অনুজ।নিডোর দিকে তাকিয়ে চিন্তিত স্বরে বললো...)

অনুজ-আমাকে যেতে হবে নিডো।তুই একা পারবি তো ওকে সামলাতে??

নিডো-তুই যা অনুজ।আমি আছি।আর স্যারের বাড়ির লোকও তো আছে।

অনুজ-আচ্ছা,,আমি বেরোই তাহলে।

(এবার সোহার দিকে তাকিয়ে বললো..)

অনুজ-বোন,,,আমি আসছি।কেমন?

সোহা-এই,,, তুমি কোথাও যাবে না।কেন চলে যাবে তুমি??

অনুজ-বোন,,আ্ আমি তোর আ্ আম্মুকে আনতে যাচ্ছি কেমন??এইতো কিছুক্ষণ পরে চ্ চলে আসবো তো।

সোহা-সত্যি?? তুমি আম্মুকে আনতে যাচ্ছো??যাও যাও,,তারাতাড়ি নিয়ে এসো কেমন??আমি অপেক্ষা করছি।

অনুজ-হুম।

(বলেই সে চলে গেলো সেখান থেকে।যাওয়ার আগে আদ্রের বাড়ির মানুষের সাথে দেখা করে গেলো।,,,)

নিডো-জানু,,,তুই একটু ঘুমিয়ে নে।দেখবি আন্টি চলে আসবে।

সোহা- সত্যি??? আমি ঘুমালে আম্মু আসবে??আমি তাহলে ঘুমাবো।ঘুমাবো।

(বলেই নিডোর সাহায্যে শুয়ে পরলো সে।কিছুক্ষণ পরেই চোখের পাতায় ঘুম নেমে এলো তার)

********

(সেই যে বাড়ি এসে রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করলো আদ্র এখনো বের হয়নি।,,,খাটের কার্নিসে হেলান দিয়ে বসে আছে আদ্র।চোখে অজস্র জল।আজ যেন এই জল তার চোখ থেকে যাচ্ছেই না।হাতে সোহার কিছু চুড়ি।যেগুলো সোহার পছন্দের রঙের মধ্যে পরে।,)

আদ্র-(কি করে পাবো আমি আমার পুতুলকে??আমার ছোট্ট পুতুলটা যে আমাক ভুলে গেছে।তবে কি আর কোনোদিন সে আমার হবে না??)(মনে মনে)

(এসব ভাবতে ভাবতে আদ্র চোখ বন্ধ করলো।তখনই ভেসে উঠলো সেই দৃশ্য যেখানে সোহার চিৎকার আর সাথে মাথার পেছন দিক থেকে রক্ত গড়িয়ে পরছে।,,,,,,হঠাৎ আদ্র এক ঝটকায় চোখ খুলে ফেললো।উঠে গিয়ে দরজা খুলে বাইরে বেড়িয়ে এলো।সিড়ি বেয়ে ছাদে উঠলো।সেখানে গিয়েই সে স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে গেলো।কাল রাতে সোহাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারনে এখানে আর কারোরই আসা হয়নি।আদ্র ধীরে ধীরে সেই দোলনাটার সামনে গেলো।নিচে ফ্লোরে সোহার রক্ত পরে শুকিয়ে আছে।)

আদ্র-(আমার পুতুলটা এতটা কষ্ট পেলো। আর আমি তখন তার কাছে না থেকে নিজের মতো আনন্দ করছিলাম??সব দোষ আমার।আমার জন্যই আমার পুতুলের এই অবস্থা।) (মনে মনে)

(হঠাৎ আদ্রের চোখ গেলো সেই বল আকৃতির লোহাটার উপর।ভ্রুকুচকে হাতে নিলো এটা।এতেই কিছুটা রক্ত লেগে আছে।আদ্র এবার শান্ত হয়ে ভাবতে লাগলো...)

আদ্র-তারমানে এটাই আমার পুতুলকে আঘাত করেছে।পুতুল তো সামনের দিকে ফিরে ছিলো।আর আঘাত পেলো মাথার পেছনে।তারমানে কেউ পেছন থেকে এটা মেরেছে।কিন্তু এমনটা কে করবে??.

(ভাবতে ভাবতেই সামনের বিল্ডিংয়ের দিকে তাকালো।ওভাবেই প্রায় দুমিনিট তাকিয়ে থেকে জোড়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো....)

আদ্র-তানিশা,,,আমি তোকে ছাড়বো না।তুই আমার কলিজায় আঘাত করেছিস।এবার দেখবি এই আদ্রিয়ান জুনায়েদ তার পুতুলের জন্য কি কি করতে পারে।

(পেছন থেকে বিহান কাধে হাত দিয়ে বললো...)

বিহান-আদ্র??রাত পেরিয়ে সকাল হলো।তুই কি এখনো পিচ্চির কাছে যাবিনা??

(আদ্র কি বলবে বুঝতে পারছে না।বিহানের দিকে ঘুরে দাড়িয়ে বললো...)

আদ্র-আমার পুতুল তো আমাকে চিনবেই না।কি করবো আমি ওর কাছে গিয়ে??

বিহান-পারবি তো তুই??পিচ্চিকে ছারা থাকতে??কখনো যদি পিচ্চির সৃতি নাও ফিরে আসে।তাহলে??পারবি তুই?অন্য কারোর সাথে সংসার করতে??

আদ্র-নাহ,,একথা কখনো বলিস না।পুতুল আমার, আর আমি শুধু তার।সে যাই হোক না কেন।আমি আমার পুতুলকে কখনো দুরে সরাতে পারবো না।

বিহান-তাহলে যা গিয়ে দেখে আয় পিচ্চিকে।হয়তো তোকে ও চিনতেও পারে??

আদ্র-এই আশাটা আমি ছেরে দিয়েছি বিহান।

বিহান-চল না ভাই,,,,তুই ঠিক নেই তো ওকে ছাড়া।তুই তো এমন ছিলি না??এই একটা রাতে কেন এত পরিবর্তন হয়ে গেলি তুই???

আদ্র-তুইতো পুতুলের কাছে ছিলি।তাহলে চলে এলি কেন?

বিহান-তোদের নিতে এলাম।

আদ্র-কেমন আছে রে আমার পুতুলটা???আমাকে ছাড়াও হাসছে তাই না?.

বিহান-নিজেই গিয়ে দেখে আয় না।মনের শান্তিটা তো পাবি।

আদ্র-তুই চলে যা বিহান।

বিহান-এখনো যাবি না তুই?

(আদ্র কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।তারপর বলে উঠলো...)

আদ্র-আমি আসছি।

(বিহান একটা সস্থির নিঃশ্বাস ফেলে চলে গেলো।এরপর বিহান,আরিফা,সফিক আর রফিক গেলো হসপিটালে।)

সফিক-বিহান,,আদ্র কি আজও আসবে না??

বিহান-কিছুক্ষন পরে আসবে বলেছে ও।

সফিক-আচ্ছা।

আরিফা-আমার ছেলেটার এই একটা দিনে কি বেহাল অবস্থা হয়ে গেলো।

রফিক-তোমা ছেলে আমাদের পিচ্চিকে মন প্রাণ সব অর্পন করে দিয়েছে ভাবি।এটাই যে সত্যিকারের মনের টান।যা আদ্র খুব ভালো।ভাবে অনুভব করছে।

(হসপিটালে পৌছাতেই নিডো এলো তাদের সামনে।আরিফাকে বললো...)

নিডো-বলছিলাম যে আন্টি।জানু এখন ঘুমাচ্ছে।আমি তো আমার ড্রেস অন্যকিছুই আনিনি তখন।তারাহুরো করে চলে এসেছি।আম্মুও কল করেছে।বলেছে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে আবার আসতে।তাই এখন আমি একটু বাসায় যাই??ওর ঘুম ভাঙার আগেই চলে আসবো।

(আরিফা কান্নাজরিত আবেগ নিয়ে নিডোকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলো।)

আরিফা-তুমি যে আমাদের কতটা উপকার করেছো মা,,,আমি বলে বুঝাতে পারবো না।আমার মেয়েটাকে যে কি করে সামলাতাম তখন।

(আরিফার কথায় নিডোও এবার কেদে দিলো।)

নিডো-আন্টি,,,ও আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড। আমি যদি এইটুকু ওর জন্য করতে না পারতাম,তাহলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না কখনো।,,,,

(আরিফা নিডোকে ছেড়ে দাড়ালো।)

আরিফা-তুমিও ঠিক আমার মেয়েটার মতোই ভালো।

(বিহান এসে নিডোর মাথায় হাত রেখে বললো...)

বিহান-সত্যি। তোমার মতো বেষ্ট ফ্রেন্ড পেয়ে আমাদের পিচ্চি ধন্য।

নিডো-না ভাইয়া,,,বরং আমি ধন্য, ওর মতো বেষ্ট ফ্রেন্ড পেয়ে। ও যা আমার জন্য করে তার কাছে এই উপকারটা তুচ্ছ

রফিক-তুমি যে মামনির কথা শুনেই সেই ভোরে চলে আসবে তা আমরা ভাবিওনি।দোয়া করি।আল্লাহ তোমার ভালো করুক।

নিডো-এখন আমার জন্য নাহ।জানুর জন্য দোয়া দরকার।

আরিফা-তুমি যাও মা।

সফিক-ওকে কে দিয়ে আসবে।তখন তো সায়মান নিয়ে এসেছিলো।

(তখনই দুর থেকে সায়মান বলে উঠলো....)

সায়মান-আমিই দিয়ে আসবো।

(সবাই সায়মানের দিকে তাকালো।দেখলো সে আর আদ্র একসাথে দাড়িয়ে আছে। সায়মান এগিয়ে এসে বললো...)

সায়মান-চাচা,,আমি ওর আম্মুর সাথে কথা বলে নিয়েছি।ওকে আমি দিয়ে আসছি।

সফিক-তাহলে যাও তোমরা বেরিয়ে পরো মা।পরে আবার মামনি ঘুম থেকে উঠে গেলে ওকে সামলানো মুসকিল হবে।

নিডো-হুম আঙ্কেল।

(বলেই সায়মানের সাথে বেড়িয়ে এলো হসপিটাল থেকে।,,,নিডো খেয়াল করলো সায়মান আজ আর আগের মতো দুষ্টুমির মুডে নেই।কেমন যেন গম্ভীর হয়ে গেছে। নিডো কোনো রকমে শক্ত কন্ঠে বললো...)

নিডো-আমার জানু তো আপনাদের কেউ হয়না।তারপরেও আপনারা সবাই কেন ওর জন্য এত ডেসপারেট হচ্ছেন??

সায়মান-কে বলেছে ও আমাদের কেউ হয় না??শামু যেমন আমার বোন,, পিচ্চিও তেমন আমার বোন।ইভেন আমাদের সবারই বোন।শুধু আদ্র ব্রো.....

(এটুকু বলেই থেমে গেলো সায়মান।গাড়ির ড্রাইভার সীটে বসলো।নিডোও তার পাশে উঠে বসলো।)

নিডো-আর আদ্র স্যার??তার বোন না??

(সায়মান এবার নিডোর চোখে চোখ রাখলো।)

সায়মান-উহুম।পিচ্চি ভাইয়ের বোন না।ও ভাইয়ের জীবন।ভালোবাসা ও ভাইয়ের।

(নিডো অবাক হয়ে বললো...)

নিডো-কি??স্যার জানুকে ভালোবাসে??এটা কি করে সম্ভব??উনি একজন ফেমাস সিঙ্গার।আর কোথায় আমার জানু।এটা কি করে হতে পারে??

(সায়মান এবার হালকা চেচিয়ে বললো...)

সায়মান-হ্যাঁ হ্যাঁ। এটাই হয়েছে।দা গ্রেট আদ্রিয়ান জুনায়েদ একটা পিচ্চির মেয়ের জন্য পাগল হয়ে গেছে। বাচতে পারবে না ও পিচ্চিকে ছাড়া।শেষ করে ফেলবে নিজেকে।,,,ও এতটাই ভালোবাসে পিচ্চিকে যে কাল থেকে পিচ্চির সামনে পর্যন্ত যায় নি।এই ভয়ে যে পিচ্চি ওকে যখন চিনতে পারবে না তখন ও নিজেকে সামলাতে পারবে না।এটাই হলো রিয়েল লাভ।

(সায়মান এবার কাতর কন্ঠে বলে উঠলো...)

সায়মান-তোমার কষ্ট হচ্ছে না নিডো??পিচ্চিকে ঐ অবস্থায় সহ্য হচ্ছে তোমার???

(ব্যাস।এটাই যেন বাকি ছিলো।এতক্ষনের আটকে রাখা কান্না টা যেন এবার বাদ ভেঙে গড়িয়ে পরবে।নিডো আর নিজেকে সামলাতে না পেরে ঝাপিয়ে পরলো সায়মানের বুকে।এতে সায়মান অবাক হয়ে রইলো।নিডো কান্না করতে করতে বললো....)

নিডো-আমি পারছি না ওকে ওভাবে দেখতে।কষ্ট হচ্ছে আমার খুব।আমি না পারতে ওর সামনে হাসি মুখে ছিলাম।আমি কখনো বাবিনি এমন একটা দিনও দেখতে হবে আমাকে।খুব কষ্ট হচ্ছে আমার,,জানেন??খুব খুব খুব কষ্ট হচ্ছে।

(নিডো কান্না করতে লাগলো।সায়নাম নরমাল হয়ে নিডোর মাথায় হাত রেখে বললো.....)

সায়মান-কাদেনা নিডো।আল্লাহর কাছে দোয়া করো।দেখবে তিনি সব ঠিক করে দেবে।এখন শান্ত হও প্লিজ।তোমাকে তো আবার আসতে হবে।পিচ্চিকে যে এখন তুমিই সামলাবে।

(কিছুক্ষণ পরে নিডো শান্ত হলো। ঠিক হয়ে বসতেই সায়মান গাড়ি চালাতে শুরু করলো।

*****

(সোহা ঘুমাচ্ছে। আর শারমায়া, রুসা, আরিফা বসে আছে তার কেবিনের ভেতরে।আর আদ্র সহ বাকিরা বাইরে।হসপিটালের সেকেন্ড ফ্লোরটা শুধু আদ্রদের জন্যই বুক করা আছে।কারন,, আদ্রিয়ানের অবস্থা ভালো না।সে এখন নিজের ক্যারিয়ার লাইফের কথা ভুলেই গেছে।তাই ওকে দেখে যাতে কেউ ভীর না করে তাি হসপিটার কতৃপক্ষ এই ফ্লোর থেকে আলাদা রোগীদের সিপট করে দিয়েছে।।।,,,,,ধীরে ধীরে সোহা চোখ খুললো।তা দেখে আরিফা এগিয়ে গেলো।সাথে রুসা আর শারমায়াও।সোহা নিডো বা অনুজ কাউকে না দেখে কেদে উঠলো।আর হাতপা ছোড়াছুরি করে বলতে লাগলো...)

সোহা-এই এই,,তোমরা কারা??আমার আম্মু কোথায়?? আমি আম্মুর কাছে যাবোওও,,,আম্মুউউউ,,কোথায় তুমি??অনুজ ভাইয়া,,,জানু??দেখো না এরা কারা??আমি এদের কে চিনি না,,,আআআআ,,,,আমি আম্মুর কাছে যাবো।আমি আম্মুর কাছে যাবো।

(আরিফারা কি করবে বুঝতে পারছিলো না।,,,,এদিকে বাইরে থেকে সোহার এমন কান্না শুনে আদ্র উতলা হয়ে উঠে...)

আদ্র-আমার পুতুল??,,আমার পুতুল কাদছে কেন??কি হলো আমার পুতুলের???

(বলেই দৌড়ে কেবিনে ঢুকলো।সে ভুলেই গেছে সোহা তাকে চিনতে পারবে না।উতলা হয়ে সোহার কাছে দৌড়ে গেলো।দেখলো সোহা বেড থেকে নেমে এদিক ওদিক জিনিস পত্র ছোরাছুরি করছে আর কাদছে।,,আদ্র সব ভুলে সোহাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।চোখ বন্ধ করে বলতে লাগলো...)

আদ্র-কি হলো আমার পুতুলের?? কাদছো কেন তুমি??কষ্ট হচ্ছে তোমার??কোথায় কষ্ট হচ্ছে তোমার??বলো আমাকে???

(সোহা কেমন জানি মোহে ডুবে গেলো।আদ্রের স্পর্শ যেন তাকে শান্ত করে দিলো।সে চুপ করে আদ্রের বুকে গুটিসুটি হয়ে আছে।আগের মতো নড়াচড়াও করছে না।,,,,সবাই অবাক হয়ে দেখছে যে সোহা আদ্রের কাছে যেতেই শান্ত হয়ে গেলো।হঠাৎ সোহা আদ্রের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে আদ্রকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো।তারপর আদ্রের মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক কন্ঠে বলে উঠলো....)

সোহা-ওয়াও,,,,কে তুমি???তুমি কি সেই প্রিন্স??,,,ঐ,টিভিতে যাকে দেখি আমি???

(এই কথা শুনে আদ্রের মাথায় এলো,,,,সোহার তো তাকে চেনার কথা না।তাহলে সে এতো শান্ত কি করে হলো??আদ্র নিজেকে সামলে নিলো।সে দুহাতে সোহার মুখটা আলতো করে তুলে ধরলো।)

আদ্র-আমার পুতুল??

সোহা-কে পুতুল??

আদ্র-তুমিই তো আমার ছোট্ট পুতুল।

সোহা-আমি তোমার পুতুল??কবে থেকে??

আদ্র-তুমি তো সেই কবে থেকেই আমার পুতুল।

সোহা-আমি কি টিভিতে ছিলাম নাকি??তুমি তো দেখতে প্রিন্সের মতো।আমাকে দেখতে কি সেই প্রিন্সেসের মতো লাগছে??

আদ্র-হুম।তুমি তো শুধু আমার প্রিন্সেস।

সোহা-তাহলে তুমি আমার প্রিন্স??,,,আমার সেই ড্রীম প্রিন্স তুমি??

আদ্র-হুম,,,।আমি তোমার প্রিন্স।আমার পুতুলের প্রিন্স,,,,

সোহা-আচ্ছা প্রিন্স।দেখোনা,,আমি না এদের কাউকেই চিনি না।আমার আম্মুও আসছে না।কালতো আম্মু আমার কাছেই ছিলো।আজ সেই কখন থেকে আম্মুকে খুজছি কিন্তু আম্মু আসছেই না।অনুজ ভাইয়া সেই কখন আম্মুকে আনতে গেলো।এখনো এলো না দেখেছো??আর আমার নিডো জানু,,,ও কোথায়,,,দেখেছো,আমি ঘুমিয়ে ছিলাম।আর জানুও চলে গেলো।,,এরা সবাই পচা।আমাকে একটুও ভালোবাসে না।নিডো পচা,অনুজ ভাইয়া পচা,,আর,,,আর আম্মু আম্মুও পচা,,একদম পচা।আমার সাথে একটুও দেখা করতে আসেনি।খুব,খুব খুব পচা সবাই।আমি এদের কারোর সাথে কথা বলবো না।এরা আমাকে একা রেখে চলে গেছে।

আদ্র-ঠিক আছে পুতুল।এরা সবাই পচা।তুমি একটু শান্ত হয়ে বসো তো এখানে।আসো,,আমার সাথে বসো।

(আদ্র সোহাকে নিয়ে বেডে বসলো।)

সোহা-প্রিন্স,,,তুমি আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো না??এখানে গন্ধটাও খুব পচা।আমার একদম ভালো লাগে না।

আদ্র-তোমার এই গন্ধটা ভালো লাগে না??আমি কি এই ঘরে সুগন্ধি ছড়িয়ে দেবো??

সোহা-হ্যাঁ হ্যাঁ,,, দাও তো।এই গন্ধটাকে ছু মন্তর করে দাও।,,,

আদ্র-আচ্ছা পুতুল।তুমি একটু বসো।আমি এক্ষুনি গন্ধটা চেন্জ করাচ্ছি।

(আদ্র বিহানকে ডাকলো,,,)

আদ্র-বিহান,,,রুম স্প্রে এর ব্যবস্থা কর তারাতাড়ি।আর হুম,,অবশ্যই ফ্লাওয়ার প্লেভার চাই।আমার পুতুল ফুল খুব পছন্দ করে।

বিহান-আমি এক্ষুনি আনছি।

(বলেই চলে গেলো।,,,)

সোহা-প্রিন্স,,তুমি জানো আমার ফুলের স্মেল খুব ফেভারিট??

আদ্র-হুম জানি তো।আমি তো প্রিন্স তাই না??তো প্রিন্স হয়ে তার পুতুলের পছন্দের কথা জানবো না,,তা কখনো হয় নাকি??

সোহা-হিহিহি,,,তুমি খুব ভালো প্রিন্স।

(আদ্র হালকা হাসলো।)

রুসা-চাচি,,আমরা বরং এখন এখান থেকে যাই।পিচ্চি যে ভাইয়ার কাছে থাকছে এটার চেয়ে বড় খুশি আর কি হতে পারে বলো??,,এখন চলো।ওরা একটু নিজেদের মধ্যে কথা বলুক।

(আরিফার মুখে একটা প্রশান্তির হাসি ফুটলো।এরপর আদ্র ছাড়া সোহার কাছ থেকে সবাই বেরিয়ে গেলো।কিছুক্ষণ পরে বিহান ফুলের গন্ধের রুমস্প্রে এনে সারা রুমে ছড়িয়ে দিলো।এতেই সোহা খুশি হয়ে হাততালি দিয়ে উঠলো।আর আদ্র চেচেয়ে রইলো তার অবুজ পুতুলের দিকে।,,,)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৩৫