আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৩৩

🟢

সোহা-এত্তো চুড়ি আমার জন্য??

আদ্র-উহুম,,,আমার ডলের জন্য।

(সোহা আদ্রের দিকে তাকিয়ে হাসলো।)

সোহা-এতো চুড়ি আনার কারন কি??

আদ্র-আমার ডলের চুড়ির দোকান পছন্দ হয়েছে।আমি কি করে আবার সেই দোকানটা অন্যের চোখে পরতে দিই বলো??

সোহা-ঐ দোকানের সব এখানে!!!

আদ্র-হুম।কিচ্ছু বাকি নেই আর।

সোহা-আল্লাহ,,,এত খরচ করার কি দরকার ছিলো??

আদ্র-মাত্র ৪৭ হাজার গেলো।আমার ডল চাইলে তো আমি তাকে হিমালয়ও এনে দিতে পারি।

সোহা-ধুর,,,এটা সম্ভব নাকি।

আদ্র-হয়তো সম্ভব না।কিন্তু চেষ্টা তো করতেই পারি।,,

সোহা-হয়েছে।আর বলতে হবে না।

আদ্র-(এখনই আটকে দিচ্ছো।এখনো তো ভালোবাসি কথাটাই বলার বাকি তোমাকে)(মনে মনে)

সোহা-এবার বলুন তো দেখি।এত চুড়ি আমি এই রুমে রাখবোটা কোথায়??

আদ্র-এখন যেভাবে আছে সেভাবেই থাক।আমি কালকে এগুলো আমার রুমে নেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

সোহা-আপনার রুমে কেন??

আদ্র-তুমি যখন চুড়ি পরবে সবার প্রথমে আমিই তোমায় দেখবো।নাও,,এবার শুয়ে পরো তো দেখি।কাল সকালে তো আবার স্কুল আছে নাকি।

সোহা-হুম।বাট কাল তো হাফ ক্লাস।

আদ্র-তো কি হয়েছে।যাবে তুমি।একটা ক্লাসও মিস দেওয়া চলবে না।

সোহা-ওকেয়।

আদ্র-শুয়ে পরো হুম।আমি গেলাম।গুড নাইট মাই ডল।

সোহা-গুড নাইট।

*****পরদিন সকাল******

(সোহা আদ্র যথারীতি নিজেদের স্কুলে চলে গেলো।রিসব, রফিক,সফিক ও সেলিমও চলে গেলো অফিসে।রুসা গেলো তার কলেজে আর শারমায়া বাড়িতেই আছে।সায়মান গেলো সেই নিডোর পেছনে লাগতে।,,,,আয়ন্তিরা বিকালে চলে যাবে।,,,,,)

(সোহারা স্কুলে আসতেই তানিশার সাথে দেখা।)

তানিশা-গুড মর্নিং সম্মোহীনি সিনহা।গুড মর্নিং মিঃ আদ্রিয়ান।

সোহা-গুড মর্নিং ম্যাম।(হালকা হেসে)

আদ্র-ডল,,, ক্লাসে যাও।নিডো তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।

সোহা-আচ্ছা।বাই ম্যাম।

(বলেই সোহা নিজের ক্লাসে চলে গেলো নিডোর কাছে।এদিকে আদ্র তানিশাকে পাশ কাটিয়ে আসতে গেলেই তানিশা বলে উঠে...)

তানিশা-আজ কাল।দেখছি সম্মোহীনিকে স্কুলেও নিয়ে আসা হয়।তা মিঃ আদ্রিয়ান,আমি তো এখন আপনাদের বাড়ির পাশেই,,কাল থেকে একসাথে আসি না হয়??

(আদ্র রাগি চোখে বললো...)

আদ্র- নো ইন্টারেস্টেড।

(বলেই চলে গেলো।তানিশার মুখে ফুটলো বাকা হাসি।)

তানিশা-আসবে আসবে,,শেষমেষ এই আমার প্রতিই ইন্টারেস্ট আসবে মিঃআদ্রিয়ান। শুধু মাঝখান থেকেএই মেয়েটাকে সরানোর বাকি।দেখতে থাকো কি হয় তোমার সাথে মিস সম্মোহীনি সিনহা।,,,(মনে মনে)

★★★★★★★★★

(দিন চলছে নিজ গতিতে।পুরো পরিবারের থেকে পাওয়া খুনশুটি, মামনির আদর,বাবাইয়ের দায়ীত্বশীলতা,আর আদ্রের অতিরিক্ত কেয়ার গুলো নিয়েই কেটে গেলো সোহার ৯ মাস।আজ সোহার টেস্ট পরিক্ষার রেজাল্ট জানানো হয়েছে।অনেক ভালো ফলাফল করেছে সে।আর সেই কারনেই আজ আদ্র রাতে একটা,ছোটখাটো অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।স্থানটাও সোহার পছন্দ মতো।বাড়ির ছাদ।এই অনুষ্ঠানের ব্যপারে সোহা এখনো কিছুই জানেনা।আদ্র সবাইকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে সোহার রুমে এসে বসে আছে।যাতে সোহা কোনো ভাবেই ছাদে না পৌছাতে পারে।,,)

সোহা-এই,,সত্যি করে বলুনতো কেন আমাকে রুমে আটকে রেখেছেন??,,,

আদ্র-বাহ,,আমার ডলতো দেখি এই কয়েক মাসে ইনটেলিজেন্ট হয়ে গেছে।,,কত কিছু আন্দাজ করতে পারে।

সোহা-হুম,,হবোই তো।আপনার সাথে থাকছি,তাই না??

আদ্র-হাহাহা,,,আমার কথায় আমাকেই ফাসাচ্ছো??গুড গুড।কিন্তু,,,,,

(বলেই আদ্র সোহার দিকে ঝুকে তার দুকাধে হাত রাখলো।,,)

সোহা-কিন্তু??

আদ্র-মাই ডল,,তুমি ভুলে যেওনা আমি তোমার থেকে ৯ কি ১০ বছরের বড়।তাই আমার বুদ্ধিটাও তোমার থেকে একটু বেশিই থাকবে ইউ নো??

সোহা-ইয়েস ইয়েস,,,আই নো।আর ঘটা করে বলতে হবে না।হুহ।

(বলেই অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো।,,,,এটা দেখে আদ্র হোহো করে হেসে দিলো।,,, তখনই আদ্রের ফোনে একটা মেসেজ এলো।তা সিন করেই আদ্র বলে উঠলো...)

আদ্র-চলো,,এবার রেডি হওয়ার পালা।

(বলেই কাবার্ড থেকে একটা জিন্স, একটা ফুলহাতা টিশার্ট আর স্কাপ নিয়ে সোহার হাতে দিয়ে তার কাধ ধরে ঠেলটে ঠেলতে ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে দিলো।আর বললো...)

আদ্র-৫ মিনিটের মধ্যে চেঞ্জ করে এসো।একদম লেট নয়।

সোহা-আরে,,কি হচ্ছে এসব।এখন কেন রেডি হবো।আরে..

আদ্র-পরে জানবে।যা বলেছি তাই করো।

সোহা-না,,আমাকে না বললে আমি চেঞ্জ করবো না।

আদ্র-কথা বাড়িওনা ডল।তুমি যদি চেঞ্জ না করো তাহলে আমি এসে তোমাকে চেঞ্জ করিয়ে দেবো,তাও আমার স্টাইলে।

সোহা-এই না না,,আমি চেঞ্জ করে নিচ্ছি।

(বলেই টুক করে ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করে দিলো।আর আদ্র বাকা হাসি দিয়ে ভাবলো..)

আদ্র-লাইনে এসো মাই ডল।(মনে মনে)

(৫ মিনিট পর সোহা চেঞ্জ করে বেরিয়ে এলো।,,,,আদ্র এবার সোহার চুল বেধে দিলো উচু করে রাবার ব্যান্ড দিয়ে।তারপর পকেট থেকে একটা ব্যান্ড বের করে সোহার বা হাতে বেধে দিলো।,,)

সোহা-এটা কেন,,,চুড়িই পরিনা??

আদ্র-আমি তোমাকে সব কিছুর মাঝে দেখতে চাই।শুধু চুড়ি নয়।আর এই ড্রেসআপের সাথে চুড়ি মানাবেনা তো মাই পিচ্চি ডল।

সোহা-এই যে,,আমি এখন পিচ্চি নই।১৭ বছর হয়ে গেছে আমার।

(আদ্র এবার সোহার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো...)

আদ্র-তাই নাকি,,খুবতো বড় হয়ে গেছে দেখছি আমার ডলটা।এবার তাহলে বিয়ের ব্যবস্থা করি??কি বলো??

সোহা-এই,,আমার এখনো ১৮ বছর হয়নি।আমিতো এখনো শিশু,, কিভাবে বিয়ে দিবেন??

আদ্র-একটু আগে না তুমি বললে তুমি পিচ্চি নেই আর??তাহলে??

সোহা-আরে তা নয়,,আমি তো??

আদ্র-আমি তো কি??বিয়ে করতে ইচ্ছে হচ্ছে?

সোহা-ধুর,আপনার সাথে কথায় আমি জিবনেও পারবো না।

আদ্র-হয়েছে।এখন আর এসব নয়।এবার যেতে হবে তো।চলো

(বলেই সোহার হাত ধরে ছাদের দিকে যেতে লাগলো।)

সোহা-আমরা ছাদে কেন যাচ্ছি এই সময়??

আদ্র-চলোই না।

(ছাদের দরজায় পৌছাতেই সোহা দেখলো পুরো ছাদ অন্ধকার।)

সোহা-এত অন্ধকার কেন??হালকা আলো তো থাকার কথা

(হঠাৎ আদ্র সোহার হাত ছেড়ে পাশ কটিয়ে চলে গেলো।)

সোহা-একি,,কোথায় গেলেন আপনি??শুনছেন?আমাকে একা রেখে কোথায়,গেলেন?? আরে আমার ভয় করছে তো।

(তখনই হঠাৎ ছাদে প্রচুর পরিমানে রঙ বেরঙের আলো জলে উঠলো।আর সোহা খেয়াল করলো ছাদটা পুরো ডেকোরেট করা।সোাহ খুটিয়ে খুটিয়ে সব দেখছে আর হাসছে।তখনই আদ্র পেছন থেকে ফিসফিসিয়ে বললো...)

আদ্র-সারফ্রাইজ,,,,

(সোহা আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেললো।কন্ঠটা যে মন মাতানো,।)

আদ্র-পছন্দ হয়েছে মাই ডল??

(সোহা চোখ খুলে আদ্রের দিকে ফিরে তাকালো।খুশিতে সে আদ্রের বুকে ঝাপিয়ে পরলো।,,মুখ গুজে বলে উঠলো...)

সোহা-আম সো হ্যাপি মাই পঁচালোকটা।

(আদ্র হেসে দিলো।)

আদ্র-আমি কি সত্যিই খুব পচা??

সোহা-হুম।ওনলি ফর মাই।বুঝেছেন??শুধু আমার জন্য আপনি পচা,বাজে,দুষ্টু সব।আর কারোর জন্য না।

আদ্র-(আমার পুতুলটা আজ আমার উপর অধিকার দেখাচ্ছে। আম সো হ্যাপি।)(মনে মনে)

বিহান-উহুম,,উহুম,,,আমরাও এখানে আছি।

(সোহা আদ্রকে ছেড়ে দাড়ালো।সে দেখলো এখানে রুসা,শারমায়া,রিসব,সায়মান বিহান,।এরা সবাই আছে।)

সোহা-তোমরা সবাই আছো??ওয়াও,,

শারমায়া-হুম,,,এবার বলতো কেমন লাগলো সারপ্রাইজ টা??

সোহা-অনেক ভালো।কিন্তু এতকিছু কি উপলক্ষে??

সায়মান-আজ তো তোর টেষ্ট রেজাল্ট দিয়েছে।তাই,,,তুই যাতে ফাইনালে জি পি এ ফাইভ এনে দিতে পারিস তার জন্য হালকা আয়োজন আমাদের ব্রোএর পক্ষ থেকে।

সোহা-স্যার করেছে এসব??

আদ্র-আমি একা না ডল।এরা সবাই ছিলো।

বিহান-বাট ফুল প্ল্যানটা আদ্রেরই।

রুসা-আজ রাতে প্রচুর মজা হবে উইথ পিচ্চি।

শারমায়া-মিউজিক প্লে করো

(গান শুরু হতেই সায়মান, বিহান,রুসা,শারমায়া আনলিমিটেড নাচতে শুরু করলো।আদ্র দেওয়ালে হেলান দিয়ে কখনো নাচ তো কখনো তার পুতুলকে দেখছে।,,সোহা গিয়ে দোলনায় বসলো।আর সবার নাচ দেখতে লাগলো।,,,,নাচ শেষ হতেই সোহা দাড়িয়ে হাত তালি দিতে লাগলো খুশিতে।আদ্রও তাদের সবার সাথে ছাদের মাঝখানে যোগ হলো।হাসি ঠাট্টার মাঝেই হঠাৎ সবাই শুনতে পেলো এক অদ্ভুত শব্দ। যেমনটা কোনো শক্ত জিনিসের সাথে লোহার জোড়ে বারি লাগলে হয়, ঠিক তেমন।আর সাথে ভেসে এলো সোহার জোরে চিৎকার...)

সোহা-আআআহ,,,

(শুনেই আদ্র সহ সবাই সোহার দিকে তাকালো।দেখলো সোহা মাথার পেছন দিকে হাত চেপে ধরে আছে।তার ঘাড় বেয়ে গড়িয়ে পরছে অজস্র রক্তস্রোত।এটা দেখে আদ্র চিৎকার করে উঠলো....)

আদ্র-পুতুল,,,,,,,,,,,

(বলেই দৌড়ে গিয়ে সোহাকে আগলে ধরলো।ধীরে ধীরে সোহার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে।কিছু একটা বলতে চাইছে সে।কিন্তু শরীরের অবস্থার সাথে যুদ্ধ করে হেরে গেলো সে।বন্ধ হয়ে গেলো তার চোখ।আর অসার শরীর নিস্তেজ হয়ে ঢলে পরলো আদ্রের বুকে।,,,,,,,,)

আদ্র-পুতুল,,,পুতুল চোখ খোলো।দ্ দেখো,,আআআআমি,,,, এই পুতুল,,কিকরে হলো এ্ এসব।

(আদ্র যেন ধীরে ধীরে হাইপার হয়ে যাচ্ছে।কথার আওয়াজ বেড়ে চিৎকারে পরিনত হয়েছে।সে চিৎকার করে বলছে...)

আদ্র-কে করেছে আমার কলিজার এই অবস্থা। ছাড়বো না আমি তোকে রাসকেল।সামনে আয় আমার।কে তুই,,,আমার কলিজায় আঘাত করার সাহস কি করে হলো।,,,আমার পুতুল,,,চোখ খোলো পুতুল।দেখ আমার দিকে।তাকাও না,,,।

(বিহান খেয়াল করলো নিচে একটা গোল লোহা পরে আছে।দেখতে অনেকটা ক্রিকেট বলের মতো।সেদিকে খুব একটা খেয়াল না করে আদ্রকে সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পরলো.....এদিকে আদ্রের এমন চিৎকার শুনে বাড়ির সবাই ছাদে এসে উপস্থিত হলো।আরিফাও হাইপার হয়ে যাচ্ছে সোহাকে এই অবস্থায় দেখে আর সাথে আদ্রের এমন পাগল করা কাজ আর চিৎকারে।কেউ বুঝতে পারছে না কি করবে।রুসা আর শারমায়া কেদেই ফেললো এমন অবস্থা দেখে।বিহান এম্বুলেন্স কল করে আদ্রকে কোনো রকম সামলানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু আদ্রতো যেন তার প্রাণ হারিয়ে ফেলছে।তার পুতুলের এই অবস্থা সে কোনো মতেই সহ্য করতে পারছে না।সে যে আর নিজের মধ্যেই নেই।আসেপাশের কোনো কিছুই তার মাথায় নেই।এখন তার শুধু একটাই চিন্তা।তার পুতুলকে সুস্থ করে তুলা।)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৩৩