(রাত প্রায় ৯ঃ৩০,।বাড়ির সবাই ড্রয়িং রুমে।শুধু সেলিম আর আদ্র ছাড়া।সেলিম তার এক কাজে ঢাকার বাইরে গেছে।আজ আর সে ফিরবে না। আর আদ্রের হঠাৎ বিকেলে কলএলো রযে তার কনসার্ট পরে গেছে।অনেক রিকুয়েষ্ট করায় সে আর না করতে পারেনি।তখন সানি ঘুমে ছিলো।তাই আদ্র আর তাকে ডাকলো না।,,,,,,)
(সবাই মিলে বসে বসে টিভিতে আমির খানের PK মুভিটা দেখছে,আর হেসে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে।সায়মানতো এতোটাই মনোযোগ দিয়ে দেখছে যে সে খাট থেকে কখন নিচে নেমে ফ্লোরে শুয়ে পরলো তারই খেয়াল নেই।এদিকে শারমায়া দেখছে আর খালি পপকনের প্যাকেটে হাত বোলাচ্ছে।এই পপকন যে কখন শেষ হলো সেই দিকে তার আর খেয়াল নেই।,,,,)
(প্রায় ১ঃ০০ টার দিকে আর তার কাছে থাকা চাবি দিয়ে ঘরে ঢুকলো।এটা তার নিত্যদিনের অভ্যাস।নিজের চাবি দিয়েই বেশিরভাগ সময় দরজা খুলে সে।ড্রয়িং রুমে আসতেই সিন দেখে তার চোখ চরকগাছ।,,,সোফার কুসুম গুলো এদিক ওদিক ছড়ালো।পুরো রুমে পপকনের প্যাকেট ছড়িয়ে আছে।এককোনায় কোল্ডড্রিংকসের বোতল অনেক গুলো খালি পরে আছে।অবাক হয়ে বলে উঠলো সে...)
আদ্র-আল্লাহ,,,ঘরের একি অবস্থা??
(কারোর সেদিকে কোনো হুস নেই।আদ্র এবার গিয়ে টিভিটা অফ করে দিলো।এতেই যেন সবার হার্ট ব্রেক।)
রিসব-আরে ব্রো।।।কি করলি এটা??
আরিফা-ধুর।
সফিক-মুডটাই নষ্ট করে দিলি।
আদ্র-আমি এখানে কখন এসেছি কারোর খবর আছে কি??
আয়শা-কেন,,,কখন এলি তুই??
আদ্র-সেই ১০ মিনিট আগে।
সায়মান-আরে!!!আমি খাট থেকে নামলাম কখন??
রুসা-আমরা কিকরে জানবো//???
শারমায়া-ইশশ,,সব পপকন শেষ।
আদ্র-মাম্মাম।আমার খুব খিদে পেয়েছে।ডিনারতো রেডি করো।
আরিফা-আচ্ছা,,,সবার জন্য একসাথে নিচ্ছি।তুইও ফ্রেশ হয়ে আয়।
আদ্র-হুম,, এটা ফ্ীজে রেখে দিও এখন।
(বলেই হাতে থাকা একটা প্যাকেট আরিফার দিকে এগিয়ে দিলো।আরিফা তা নিয়ে চলে গেলো।এবার আদ্র সানির দিকে তাকালো।দেখলো সে সোফার এককোনো শিরিনের কাধে মাথা দিয়ে বসে আছে।আদ্র গিয়ে তার পাশে বসলো...)
আদ্র-কখন উঠলে ডল??
সানি,-ঐতো বিকেলের দিকে।
আদ্র-আচ্ছা,,, তা পড়া কমপ্লিট করেছোতো??সামনে কিন্তু এক্সাম আছে তোমার।
সানি-হুম,,,পরেছি আমি। আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন না।খিদে পেয়েছে না??
আদ্র-হুম,, যাচ্ছি।তোমরা ডাইনিংয়ে যাও।আমি আসছি।
সানি-হুম।
(হালকা হেসে আদ্র চলে গেলো ফ্রেশ হতে। আর সবাই টেবিলে গেলো।কিছুক্ষণ পরে আদ্রও এসে সানির পাশে বসে খাওয়া শুরু করলো।সবাই মিলে টুকটাক কথা বলছে।তার মাঝে আদ্র বলে উঠলো.....)
আদ্র-সবাইকে একটা কথা বলার ছিলো।
সফিক-কি বলবি??
আদ্র-ডলের নিকনেমটা তার ন্যশনার কার্ডে নেই।আমি সেটা সেট করতে চাই
রফিক-হুম তো কর।এতে জিজ্ঞেস করার কি আছে??
সায়মান-ব্রো। তুই শিউর তো??না মানে সানি নামটা কেমন...
আদ্র-উহুম,,,সানি নয়।আমি ওর নিকনেম চেঞ্জ করতে চাই।
আরিফা-ওমা তাই নাকি??
সফিক-মামনির না চেন্জ করলে কোনো প্রবলেমতো নেই।আমরা কেউই ওকে ঐ নামে ডাকি না।তা মামনি,,তোর কোনো কথা আছে এই নিয়ে??
সানি-না বাবাই।
আদ্র-বাবাই।আমি ওর থেকে ডিসিশন নিয়েই বলছি।
আরিফা-তাহলে আর কি।
রুসা-তা কি নাম দেওয়া যায়??
সায়মান-হুম,,কি নাম ঠিক করেছিস বল??
আদ্র-এই দায়িত্বটা মাম্মাম নিক।মাম্মাম,,তুমি তো ওকে নিজের মেয়ের স্থান দিয়েছো।তো এবার মেয়ের নতুন করে নাম রাখো??
আরিফা-আমি???
সফিক-হ্যা আরিফা।দাওতো,, আমার মামনির একটা সুন্দর নাম দাও।যেন আমার মামনির সাথে মিলে যায়।।
আরিফা-উমমম,,আদ্র আর আয়ন্তির সাথে মিলিয়ে কিছু...
সফিক-না,,স দিয়ে কিছু দাও।যাতে তার আগের নামটার সাথে মিলে।
আরিফা-উমমম,,সোহা, নামটা কেমন??
রিসব-ওয়াও,,,,নাইচ নেম।
রুসা-হুম,,এটাই ফাইনাল।
আদ্র-ডল,,,
সানি-হুম??
আদ্র-আজ থেকে কেউ তোমার নাম জিজ্ঞাসা করলে বলবে তোমার নাম সোহা।সানি নয়।ওকেয়??
সানি-হুম।
±±±±<এখন থেকে তার নাম সানি নয়।সোহা।তাই এবার থেকে সোহা নামটাই ইউজ করবো সবসময়।,,,এই নিয়ে যদি কোনো প্রবলেম থাকে প্লিজ জানাবেন।,,,,লেখিকা অভ্রায়ীনি,,,,>±±±±
আয়শা-কালকে তো আবার অন্তি আসবে।
শিরিন-হুম,,,বলেছে সকালবেলা আসবে।
সফিক-আমি রাহুলবাবার সাথে কথা বলেছি।ও বলেছে ২-৩দিন থাকবে।
সায়মান-ওয়াও,,তাহলে তো ভালোই হয়।নানা রকম প্ল্যান করা যাবে।
রুসা-ঐ রাহিলটাও আসবে নাকি???
আরিফা-হুম,,মনে হয় আসবে।আসুক না।সমস্যা নেই।
আদ্র-আসবে আসুক।কিন্তু....
রফিক-কিন্তু কি আদ্র??
আদ্র-না কিছু না।আমার খাওয়া শেষ।আমি উঠলাম।আর হ্যা,,সবাইকে বলছি।অনেক রাত হয়েছে। তাই টিভি না দেখে সবাই রুমে যাবে।সবাই মানে সবাই।
(আদ্রের কথার মানে বুঝতে কারোর কোনো অসুবিধা হয়নি।সবাই চুক করে রাজি হয়ে যায়।রাজি না হয়েইবা কি হবে।আদ্র যে কি করতে পারে তা সবারই জানা আছে।,,,,,,,)
আদ্র-আমি গেলাম।
(বলেই আদ্র উঠে চলে গেলো।কিছুক্ষণ পরে যে যার রুমে চলে গেলো।,,,,,সোহাও তার রুমে গেলো।দরজাটা প্রায় অনেকটা ভেড়িয়ে দিলো।
তারপর কাবার্ড থেকে একটা স্কার্ট প্লাজু আর পাতলা একটা টিশার্ট বের করে ওয়াশরুমে গিয়ে চেঞ্জ করে নিলো।তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বাইরে বেরিয়ে এলো সে।,,,হঠাৎ সে শুনতে পেলো বারান্দা থেকে কারোর যেন কন্ঠ ভেসে আসছে।......
♪♪♪♪
O asma mila,,,
Jamii ko meri....
Adhe adhe pure he hum....
Tere nam pe,,,
Meri jindegi....
Likhdi meri humdam,,,,..
Ha sikha meine,
Jina jina keise jina,
Ha sikha meine,
Jina mere humdam.,,,
Ha sikha meine jina jina keise jina
Na shika meine,tere bina humdam.
♪♪♪♪
(কন্ঠটা শুনেই সোহা বুঝতে পারলো এটা আদ্র ছাড়া আর কেউ না।হালকা হাসলো সে।বারান্দার দিকে যেতে নিয়েও আবার থেমে গেলো।)
সোহা-(ইশশ,,,আমিতো ওরনাই পরিনি।এভাবে গেলেতো লজ্জায় পরে যেতাম)(মনে মনে)
(এসব ভেবেই আবার কাবার্ডের কাছে যেতে নিলেই হাত লেগে কাবার্ডের উপর থেকে একটা সোপিস পরে যায়।,,,,)
(কিছু একটার আওয়াজ শুনে আদ্র বারান্দা থেকে রুমে এলো।দেখলো সোহা সোপিসটা ঠিক করে রাখছে।আদ্র বলে উঠলো...)
আদ্র-কখন বেরোলে??
(আদ্রের কন্ঠ শুনে সোহা পেছনে ঘুরলো।দেখলো আদ্র তার সামনে দাড়িয়ে আছে।ঠোটের কোনে একটা মিষ্টি হাসি।,,,,সোহা পরে গেলো এক অসস্থিতে। এভাবে আদ্রের সামনে থাকতে তার ভীষন লজ্জা লাগছে।শেষমেষ তারাহুরো করে ওরনা নিয়ে পরে নিলো।)
সোহা-এ্ এইতো একটু আগেই।আপনি ক্ কখন এলেন??
আদ্র-প্রায় ২০মিনিট হচ্ছে।
সোহা-ওমা,,আমিতো ওয়াশরুমে গেলাম মাত্র ৫ মিনিট।তাহলে??
আদ্র-তুমি রুমে আসার আগেই আমি এসেছি।