আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ২৩

🟢

(রিসব দৌড়ে গিয়ে দরজার লক খুলে দিলো।আর সাথে সাথেই পানি গরগর করে বেরিয়ে এলো।আর সানিও নিচে পরে গেলো।পানির আওয়াজে আদ্রের হুস আসে।সে দৌড়ে গিয়ে সানিকে নিজের হাটুতে শুইয়ে পাগলের মতো তাকে ডাকতে থাকে...)

আদ্র-পুতুল,,,এই পুতুল,,,উঠো না।ত্ তুমি এমন করে আছো কেন??র্ রা রাগ করেছো তাই না??হুহ,,,রাগ,,আমার উপর রাগ করেছো।এই,,,দেখ,,দেখ তোরা,,আমার পুতুলটা আমার উপর রাগ করে এরকম চোখ বন্ধ করে আছে।আ্ আমি সরি বলছি পুতুল।এবার উঠো,,আমার যে আর সহ্য হচ্ছে না।এই,,, এই,,, আমার পুতুল,,তুমি এখনো।এভাবে আছো??বলেছিনা চোখ খুলতে??এব্ এবার কিন্তু আমি সত্যিই বকবো।উঠো,,চোখ খুলো বলছি।এ্ এভাবে কেউ থাকে নাকি??এই পুতুল।উঠো না কলিজা??

(আদ্রের এমন পাগলামো দেখে সবার চোখে পানি চলে এলো।কিন্তু আদ্র কাদছে না।তাকে দেখে মনেই হচ্ছে না যে সানির এমন কিছু হয়েছে।সেতো তার পিচ্চি পুতুলটার রাগ ভাঙাতে ব্যস্ত।,,,,,,শারমায়া খেয়াল করলো সানির চোখ মুখ কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।এতে সবাই ধরেই নিলো যে সানি মৃত।,,,বিহান গিয়ে আদ্রের কাধে হাত দিয়ে বললো...)

বিহান-আদ্র,,আদ্র,,শান্ত হ তুই।এমন পাগলামো করিস না।উঠ।,,করিস না এমন।

আদ্র-এ এই বিহান,,,দেখনা,, আমার পুতুলটা চোখ খুলছে না।এত রাগ কেন ওর??হ্যা??এত রাগ কেন??ওকি বুঝতে পারছে না??আ্ আমি,, আমি কতটা কষ্ট পাচ্ছি?,,,এই,,, তোরা,,তোরা বলনা,,,তোরা ওকে বলনা চোখ খুলতে।আমি জানি,,ও শুনবে।

বিহান-পিচ্চি আর চোখ খুলবে না আদ্র।

আদ্র-ম্ মানে??ক্ কি বলছিস তুই??না,,,এতটা রাগ করেনি ও।আমি জানিতো,,আমার পুতুল এই এক্ষুনি চোখ খুলবে।দেখ,,,এই খুলবে চোখ।আমি বলছি তো।

(বিহান এবার জোরে চেচিয়ে বললো,,)

বিহান-পাগলামো করিস না আদ্র,,,পিচ্চি আর চোখ খুলবে না।ও মরে গেছে।

(আদ্র এই কথা শুনে বিহানের থেকেও জোরে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো...)

আদ্র-না,,,এটা হতে পারেনা।আমার পুতুল কখনোই আমাকে একা ছেড়ে যাবেনা।আর একদম এসব বাজে কথা মুখে আনবি না বিহান।আমার কলিজার কিচ্ছু হবে না।কিচ্ছু না।

(বলেই আদ্র সানিকে উঠিয়ে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।যেন ছেড়ে দিলেই পালিয়ে যাবে।,,,,,,,)

শারমায়া-ভাইয়া,,নিজেকে সামলা।সত্যিটা তোকে মানতেই হবে।

আদ্র-এ হতে পারে না,,,(ক্ষীন শুরে কথাটা বলেই আদ্র সানির কাধে মাথা গুজে দিলো।,,,)

রিসব-আমরা এবার ভাইকে কিকরে সামলাবো??(কাদতে কাদতে)

শারমায়া-আ্ আমি আসছি,,,চাচি,,চাচিকে ডাকতে হবে।

(বলেই শারমায়া চলে গেলো।,,,,হঠাৎ আদ্র সানির কাধ থেকে মাথা তুলে বললো...)

আদ্র-আমার পুতুল বেচে আছে।হ্যা,,,কিচ্ছু হয়নি ওর।

রিসব-কি বলছিস এসব তুই।

আদ্র-আ্ আমি ঠিকই বলছি।আমি শুনতে পাচ্ছি,, আ আ আমার পুতুলের হার্টবিট আমি শুনতে পাচ্ছি।

বিহান-ওয়াট,,ওর হার্টবিট চলছে???

আদ্র-হ্যা,হ্যা,হ্যা,,আ্ আমার পুতুলের কিছু হয়নি।

(সায়মান দৌরে এসে সানির পালস চেক করলো।)

সায়মান-ভাই,,,ওর পেটে অনেক পানি চলে গেছে।পানি বের করতে হবে।

বিহান-ওর পেটে প্রেস করতে হবে।

(বলেই বিহান এগোতে গেলে আদ্র বাধা দেয়।)

আদ্র-আ্ আমি দিচ্ছি।তোরা ছুবিনা আমার পুতুলকে।আমি পারবো।

(এরপর আদ্র কাপা কাপা হাতে সানির পেটে প্রেস করলো।কিছুক্ষণ পরেই সানির মুখ দিয়ে পানি বের হতে লাগলো।এরপরেই পিটপিট করে চোখ খুললো সানি আর নিজেকে আবিষ্কার করে আদ্রের কোলে।আদ্র যেন নিজের প্রাণ ফিরে পেলো।খুশি হয়ে পাগলের মতো বলতে লাগলো...)

আদ্র-আমার পুতুল,,,আমার পুতুল ঠিক হয়ে গেছে।কিছু হয়নি আমার পুতুলের।পুতুল,,,পুতুল,,,তুমি ঠিক আছো তো??

(তখনই সানি আদ্রের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।অনেক কষ্ট উঠে বসলো আদ্রের কোল থেকে।সানির এমন ব্যবহারে আদ্র যেন হতভম্ব।,,তখনই শারমায়া,রুসা,আরিফা সহ বাকিরা এলো।...)

আরিফা-কোথায়!!কি হয়েছে আমার মামনির??আমার মামনি.....

(বলেই সানির দিকে তাকালো।সানিকে এই অবস্থায় দেখে নিজেকে ধাতস্থ করলো যে তার মেয়ে ঠিক আছে।দৌড়ে গিয়ে সানিকে বুকের মাঝে ঝরিয়ে ধরলো।আর কাদতে কাদতে বললো....)

আরিফা-মামনি,,আমার মামনি,,,তুই ঠিক আছিস তো??কিছু হয়নিতো তোর??কথা বলনা মামনি।আমার যে চিন্তা হচ্ছে।

সানি-আ্ আমি ঠিক আছি মামনি।তুমি কাদছো কেন??দেখো আমি ঠিক আছি তো।

শারমায়া-থ্যাং গড,, পিচ্চি ঠিক আছে।আমি তো ভেবেছিলাম ও আর....

আদ্র-চুপ কর শামু।এই কথা আর মুখেও আনবি না।

(শারমায়া খেয়াল করলো একটু আগে আদ্র যে রকম পাগলামো করছিলো,এখন আর তা নেই।এখন তাকে দেখে মনে হচ্ছে যেন কিছুই হয়নি।আগে যেরকম রাগ করতো ঠিক সেরম রাগী ফেস করে আছে।)

আদ্র-মাম্মাম,,তোমরা ওকে চেঞ্জ করিয়ে দাও।আমরা এখন আসছি।

(বলেই আদ্র সহ সব ছেলেরা বাইরে চলে গেলো।আদ্র তার রুমে এসে রাগে সব জিনিসপত্র ভাংচুর করতে শুরু করলো।আর নিজেই নিজেকে বকতে লাগলো....)

আদ্র-কিভাবে পারলি তুই তোর পুতুলকে অবিশ্বাস করতে।কিভাবে তুই ওকে এরকম শাস্তি দিতে গেলি?কেন করলি এমন,, কেন,,কেন,,কেন।আমার পুতুলতো একটা মাসুম পরী।আর আমি কিনা ওর উপর এমন দোষের ভার দিলাম যা কিনা ও জানেই না।কেন করলাম আমি এমনটা,,,কেন আমি নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে পারিনা,,,কেন কেন কেন??আমার পুতুলটা এত কষ্ট পেল,।সব আমার জন্য,,,সব সব সব আমার জন্য হয়েছে।

(এসব বলতে বলতে কাচের গ্লাস হাতে নিয়ে চেপে গুরিয়ে ফেললো।যার দরুন হাত থেকে রক্ত ঝরতে লাগলো।উঠে গিয়ে তার গিটারটা হাতে নিলো।তারপর পাগলের মতো জোরে জোরে বাজাতে লাগলো।যেন সব রাগ এই গিটারের উপরেই ছারছে সে।হাতে প্রচুর জলছে,তবুও সে থামছে না।প্রায় ৫মিনিট পর আদ্র বাজানো বন্ধ করলো।তারপর আবার সে নরমালভাবে গানের সুর তুললো গিটারে।আর চোখ বন্ধ করে গাইতে লাগলো....)

♪♪♪♪

আদ্র-

দিল মেরা টুট গেয়া,,

ইয়াদোমে ডুব গেয়া,,।।

তুনে কেয়সি ইএ সাজাদি,

মে খুদছে রুঠ গেয়া,

বে সোনেয়া ইস ডিলকো জারা,

তু সামহাল লে,,।।

না আউঙ্গা দুবারা,

তেরে ইস জাহান মে।

তেরি ও বাতে,উন বাতোকা দিওয়ানা

তেরি ও বাতে,উন বাতোকা দিওয়ানা,,

ও রাতো মে জাগানা,,,

ইয়াদাতো মো জামানা।।

ও তেরা রুঠ যানা,ফির মেরা ইউ মানানা

ও তেরা রুঠ যানা, ফির মেরা ইউ মামানা,

ফির তেরা মুসকুরাকে,

ইউ মুঝকো হি সাতানা।।

বে সোনেয়া উস রাবসে তেরা আস্ক মাঙ্গলু,

পার তুহি নাহি রাজি,

উসমে রাব কেয়া কারে।

♪♪♪আমার প্রিয় একটি গান।যারা স্যাডসং লাভ করে তাদের জন্য এটা বেষ্ট।♪♪♪

♪♪♪♪♪♪♪♪♪

(হঠাৎ আদ্রের মাথা ঘুরতে থাকে।সব শক্তি হারিয়ে কোনো রকমে হাতের গিটারটা পাশে রেখে,লুটিয়ে পরে ফ্লোরে।,,,, )

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ২৩