আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৩২

🟢

(কিছুক্ষণ পরে আদ্র ফিরে এলো হাতে কিছু প্যাকেট নিয়ে।সেগুলো থেকে অদ্ভুত একটা স্মেল বের হচ্ছিলো)

রাহুল-এগুলা কি আনলে ভাইয়া??

আদ্র-ব্যাম্বো বিরিয়ানি।

সায়মান-ব্যাম্বো বিরিয়ানি???এটা আবার কি??চিকেন বিরিয়ানি শুনেছি,বিপ বিরিয়ানি শুনেছি।ভেজিটেবল বিরিয়ানি শুনেছি কিন্তু ব্যাম্বো বিরিয়ানিটা আবার কোন জিনিস??

রুসা-হ্যারে ভাইয়া।কি এগুলো??আর এসব দিয়ে তুই কি করবি??

শারমায়া-এই খেলনা নাকি এগুলো??কিন্তু কার জন্য,,আমাদের বাড়িতে তো বাচ্চা কেউ নেই??

রিসব-আরে বুঝিস না কেন,,,আমাদের অন্তির অনাগত বেবির জন্য।বাহ ভাই বাহ।এত তারাতারি মামুর দায়িত্ব পালন করছিস??আমিতো আজও রায়াতের মামা হয়ে কিছু করতে পারলাম না।কিরে রুসা তুই কিছু পেরেছিস??আন্টি হয়ে??

রুসা-কই না তো।এমন ইউনিক আইডিয়া আমার মাথায় কখনো আসেনি।

আয়ন্তি-এই,,,তোরা থামবি??কি শুরু করেছিস বলতো??কি সব বলে যাচ্ছে।ছি,,(লজ্জা পেয়ে)

শারমায়া-হইছে হইছে।আর লজ্জা পেতে হবে না।এখন তো এসব এবেইলেভেল।আজ বিয়ে দিলে কাল ওয়া ওয়া নিয়ে হাটে।হুহ।,,,,

রাহিল-আচ্ছা,,এখন খেলনা গুলো কার জন্য এটাতো জানলাম না।

রিসব-হ্যা রে ভাই।কার জন্য এসব??

(আদ্র আর সোহা অবাক হয়ে এদের সবার কান্ড দেখে যাচ্ছিলো।কিছুক্ষণ থেমে আদ্র বলে উঠলো....)

আদ্র-তোদের হলো?? নাকি আরো বাকি আছে??তাহলে তারাতাড়ি শেষ করে নে।

সায়মান-ইয়ারকি মারছিস কেন ব্রো??বলনা খেলনা গুলো কার জন্য??এক মিনিট এক মিনিট।এই তুই আবার এত কম বয়সে বেবি আনার প্ল্যান করছিস নাতো??

আদ্র-আহম্মকের দল। লাইক সিরিয়াসলি??তোদের এগুলো দেখে খেলনা মনে হচ্ছে??এগুলো ব্যাম্বো বিরিয়ানি।শুনেছিস ব্যাম্বো বিরিয়ানি।

রাহুল-আরে এটা কি তা তো বলুন।কি করবো এগুলো দিয়ে??

আদ্র-আরে......

সোহা-তোমরা কেউই ব্যাম্বো বিরিয়ানি চিনো না??(অবাক হয়েই)

সবাই একসাথে --নাআআআ

আদ্র-এবার তোদের কেমনে বুঝাই

সোহা-আমি বলছি দারান।।।এটা হলো ব্যাম্বো বিরিয়ানি। মানে বিরিয়ানিটা বাশের ভেতরে ফাপা স্থানে থাকে। এই আর কি।

সায়মান-ওওও,,এই ব্যাপার।সেটা আগে বলবে তো।

আদ্র-হুম,আর এর টেস্টও অন্যরকম।বাড়িতে সবার জন্য নিয়েছি।

রিসব-তো এখন আর কি।চলো গাড়িতে উঠি।ফিরতে হবে তো নাকি।

(আদ্র সোহার হাত ধরে বললো...)

আদ্র-তোরা চলে যা।আমি ডলকে নিয়ে আসছি।

রাহিল-সেকি আপনারা আলাদা যাবেন কেন??

শারমায়া-আহ,থাক না ওরা আসুক পরে।আমরা বরং যাই।

রিসব-হ্যা,,হ্যা,তাই ভালো।চলো সবাই।

(এরপর সোহা আর আদ্র ছাড়া বাকি সবাই গাড়ি নিয়ে চলে গেলো।,,)

সোহা-আমরা আলাদা যাবো কেন??

আদ্র-চলো। রোডে উঠি।

সোহা-বাহ,,আমার কথার কোনো দামই নেই দেখছি।

(আদ্র এবার সোহার চোখে চোখ রেখে আদুরে গলায় বললো...)

আদ্র-যেখানে তুমি নিজেই আমার কাছে অমূল্য সম্পদ সেখানে সামান্য কথা তো তুচ্ছ।

সোহা-তাহলে উত্তর দিলেন না যে???

আদ্র-তুমি চাওনা আজ অন্যরকম কিছু হোক??

সোহা-মানে??

আদ্র-চলোই না।তোমার উত্তর তুমি নিজেই পেয়ে যাবে।তখন আমার মুখের কথাকে তোমার তুচ্ছ মনে হবে।লেটস গো উইথ মি।

(আদ্র সোহার হাত ধরে মেইনরোডে উঠলো।এরপর একটা ফুলের দোকানে গিয়ে দশটা হলুদগোলাপ নিলো।তারপর একটা রিক্সা ডেকে নিলো।তারপর সোহাকে সেখানে তুলে তারপর নিজেও উঠে বসলো।,,,,,,)

আদ্র-আর ইউ ফিলিং বেটার মাই ডল??

সোহা-নট অনলি বেটার।আম ফিলিং বেস্ট বেস্ট এন্ড বেস্ট(খুশি হয়ে)

(আদ্র হালকা হাসলো।কারন তার দেওয়া ছোট্ট অনুভুতি তার পুতুলের পছন্দ হয়েছে।,,,,,)

সোহা-আমাকে একটা ফুল দিবেন???

(আদ্র হাসলো।তারপর সোহার হাতে পুরো বুকেটা দিয়ে হালকা ঝুকে ফিসফিসিয়ে বললো...)

আদ্র-তোমার জন্যই ছিলো সব।

(সোহাও হালকা হাসলো।,,,,,তারপর নেমে এলো নিরবতা।রিকশা তার নিজ গতিতে চলছে।সোহা ফুলগুলো দেখতে ব্যস্ত আর আদ্র তার পুতুলটাকে দেখতে ব্যস্ত।,,,কিছুক্ষণ পরে সোহা আদ্রের কাধে মাথা রাখলো।এরপর খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে আনমনেই বললো....)

সোহা-আচ্ছা,,,যদি কখনো আমি হারিয়ে যাই। কেমন হবে বলুনতো???

(আদ্র আহত দৃষ্টিতে সোহার দিকে তাকালো।সোহা তার দিকে একবার তার দিকে তাকিয়ে আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো...)

সোহা-ভাবুনই না।আমি আপনার থেকে দুরে,অনেক দুরে চলে গেলাম।কেমন হবে??,,,,আচ্ছা,,আপনি কি আমাকে আবার পাশে চাইবেন??

আদ্র-এমন কথা কেন বলছো ডল??আমি তো তখনই মরে যাবো।

সোহা-কেন??মরার কি আছে??আপনি খুজবেন আমাকে।দেখবেন একদিন ঠিক আবার দেখা হবে আমাদের।এমন একটা জায়গায়।যেখানে থাকবে লাখ লাখ মানুষের সমাগম।থাকবে অনেক অনেক আলো।আর আপনি থাকবেন তাদের সবার মধ্যমনি।আমি সেই লাখ মানুষের সমাগমের ভীর থেকে আপনাকে ডাকবো,,আমার ভাষায়,,অন্যরকম ভাবে।স্পটলাইট পরবে আমাদের উপর।আর বাকি সব অন্ধকার। কেমন হবে???

আদ্র-এমন কিছুই হবে না। কারন আমি তোমাকে কখনো হারাতে দেবোই না মাই ডল।সারাজীবন আগলে রাখবো এই আদ্রের মাঝে।

সোহা-যদি সত্যিই হারিয়ে যাই??

আদ্র -তাহলে আমি বাচবো।তোমাকে পাওয়ার আশায় বাচবো।তোমার বলা ঐ স্থানেই খুজবো তোমায়।হবো তোমার জন্য লাখ লাখ মানুষের মধ্যমনি আমি।হুম।তবুও খুজবো তোমায়।

(সোহা আবার সেই মন মাতানো হাসি দিলো।,,,,কিছুক্ষণ পরে রিকশার ড্রাইভার বললো...)

----বাবা,,পৌছে গেছি।

(আদ্র আর সোহা খেয়াল করলো তারা তাদের বাড়িতে পৌছে গেছে।আদ্র নেমে ভাড়া মিটিয়ে সোহাকে নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো।,,,,,এরপর দুজনেই ফ্রেশ হয়ে নিয়ে ড্রয়িংরুমে সবার সাথে আড্ডায় যোগ দিলো।)

সায়মান-ব্রো,,তুই পিচ্চিকে নিয়ে রিকসায় আসবি সেটা আগে বললেই তো হতো।

আদ্র-তুই কিভাবে জানলি??

রুসা-ভাইয়া,আমাদের বাড়ির সিসিটিভি গুলা কবে কাজে আসবে বলতো।

সোহা-তোমরা কিভাবে দেখলে??

শারমায়া-মনিটরিং রুমে বসে ছিলাম।হিহিহি।

রিসব-এই,,ভাই রিকসায় আসছে তো কি হইছে??

সায়মান-রিসবের বাচ্চা। তোর কাছে এটা নরমাল লাগছে??আরে,, ব্রো কখনো রিকসায় উঠেছে??আরে কার ছাড়া আর কোনো যানবাহনেই তো ব্রোএর উঠা হয় না।ইভেন একদিন আমরা বলেছিলাম।কিন্তু সে উঠলোই না।মনে নেই??

রুসা-আছে আছে।সব মনে আছে।এখনতো সে নতুন নতুন প্রে.....

আদ্র-রুসাআআআ,,,মার খাবি তোরা এবার।

সায়মান-আচ্ছা আচ্ছা,,বলছি না আর কিছু।,,,,তো ব্যাম্বো বিরিয়ানি কি খাবো নাকি শুধু নামই শুনে যাবো।

আরিফা-আমি সবার জন্য ডায়নিং টেবিলে রেডি করছি।,,,,

রুসা-আচ্ছা,, আসছি।,,,

(তখনই দরজায় বেল পরলো।একজন সার্ভেনট গিয়ে দরজা খুলতেই দেখলো ৪জন লোক ৪টা বড় বড় কার্টুন নিয়ে দাড়িয়ে আছে।,সবাই তাদের দেখে অবাক।)

আয়শা-এগুলো কি??

(ঐ চারজনথেকে একজন বলে উঠলো...)

-----এই এড্রেসে প্রোডাক্ট গুলো সেল করার অর্ডার পরেছে ম্যাম।

শিরিন-আরে,,কে আবার এসব অর্ডার করছে।আরে,হয়তো ভুল করে....

(আদ্র দরজার সামনে এসে বললো....)

আদ্র-আমি অর্ডার দিয়েছি।

(তারপর সাইন করে দিলো।সার্ভেন্টরা কার্টুনগুলো হাতে নিলো।,,)

আদ্র-এগুলো সব আমার ডলের রুমে রেখে এসো।

সার্ভেন্ট-ওকেয় স্যার।,

(সার্ভেনটরা সোহার রুমে কার্টুন গুলো রেখে এলো।)

সোহা-আমার রুমে??এগুলো কি,আর আমার রুমে কেন??

আদ্র-পরেই জানতে পারবে ডল।

রুসা-ভাইয়া,কি এমন জিনিস,যা শুধু পিচ্চির জন্যই হয়??

আদ্র-তোর না জানলেও চলবে।এখন খেতে চল।

(বলেই সোহার হাত ধরে টেবিলে চলে গেলো।এরপর পিছু পিছু সবাই গেলো।এরপর সবাই মিলে ব্যাম্বো বিরিয়ানি খেলো।তারপর যে যার,যার রুমে চলে গেলো।সোহার সাথে আদ্রও এলো।,,,,)

সোহা-বলুন না কি আছে এগুলোয়??

আদ্র-নিজেই খুলে দেখো না।

সোহা-সত্যিই খুলবো???

আদ্র-হুম।খুলো।

(সোহা খুশি হয়ে একটা কার্টুন খাটের উপর রেখে খুলতে শুরু করলো।ঢাকনা খুলতেই সোহা অবাক।সে একবার আদ্রের দিকে তো একবার বক্সে থাকা জিনিসের দিকে তাকাচ্ছে।আদ্র সোহার পাশে এসে বসে বললো..)

আদ্র-পছন্দ হয় নি তোমার???

সোহা-এত্তগুলো চুড়ি???

আদ্র-হুম,,তোমার জন্য

(সোহা এবার বাকি গুলোও খুললো।দেখলো সব গুলোতেই চুড়ি।নানারকম চুড়ি।,,,)

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৩২