আদ্র-তুমি রুমে আসার আগেই এসেছি আমি।
সোহা-এ্যা,,,আমি তো দেখলাম না??
আদ্র-আমি বারান্দায় ছিলাম
জানতাম তুমি ফ্রেশ হবে।তাই তখন আসিনি।
সোহা-ও আচ্ছা।
আদ্র-ঘুম পাচ্ছে তোমার??
সোহা-না,,কেন??
আদ্র-এসো,,বারান্দায় বসি একটু।
(বলেই সোহার হাত ধরে বারান্দায় নিয়ে গেলো।তারপর নিজে দোলনায় বসলো আর সোহাকে টেনে নিজের কোলে বসালো।)
সোহা-পাশেই বসি না।..
(আদ্র সোহাকে হালকা জরিয়ে ধরে দোল খেতে খেতে বললো...)
আদ্র-উহুম,,,,এই পরিবেশে ওভাবে ফিল করা যায়না।
(আদ্রের কথার কিছুই বুঝলো না সোহা।সে জানে আদ্র মাঝে মাঝেই এমন কথা বলে।যার আরেকবার জিজ্ঞেস করলে একটা উত্তরই আসে""""তুমি বুঝবে না।থাক""""।তাই আর কিছু না বলে সোহা বাইরের পরিবেশটা দেখতে লাগলো।,,,,,,)
(ফেব্রুয়ারীর প্রথম দিক।তাই শীত পরছে একটু আকটু।এটাই স্বাভাবিক। গ্রামাঞ্চলে খুব বেশি শীত পরলেও শহরে তেমন প্রভাব ফেলে না এটি।হালকা বাতাস বইছে।বারান্দায় থাকা ছোট ছোট ফুল গাছ গুলো মনের আনন্দে দোল খাচ্ছে।,,,দুরের বিল্ডিংগুলোর থেকে ছোট ছোট আলো আসছে।সাথে চাদের ঐ মাতাল করা আলো তো আছেই।যা খুব করে বিমোহিত করছে এই একজোড়া লাভবার্ডকে।যাদের একজনের মনে অগাদ ভালোবাসা থাকলেও আরেকজন এখনো তা উপলব্ধি করে উঠতে পারেনি।আর পারবেই বা কি করে??সোহার ঐ ছোট্ট মস্তিষ্কে এতটা ভাবার এখনো সময়ই হয়নি।,,,,,,,,সোহা পরিবেশটার সাথে এক অন্যরকম মায়ায় জরিয়ে যাচ্ছে। ঘোরের মধ্যে থেকে বলে উঠলো...)
সোহা-কি মন মুগ্ধকর পরিবেশ তাই না??
আদ্র-হুম।কিন্তু আমার কাছে তো অন্য কিছু আরো মন মুগ্ধকর লাগছে।তোমার ভালো।লাগছে??
সোহা-অনেক।আচ্ছা,,,একটু ইমাজিন করুন তো।এই রকম একটা পরিবেশ,আরো একটু গভীর রাত,সেই সময় নির্জন রাস্তা দিয়ে প্রিয় জনের কাঠে মাথা রেখে হাটার এক অন্যরকম অনুভুতি হবে তাই না??দুজনেরই পরনে থাকবে,, সাদা শারী,আর সাদা পাঞ্জাবি। ঐ রাস্তায় পায়ের নিচে পরে থাকবে অজস্র সেফালি ফুল।যার উপর দিয়ে ঐ দুজন হেটে যাবে খালি পায়ে।,,,যখন থাকবে না কোনো অন্য চিন্তা।থাকবে না আধুনিক যুগের কোনো প্রযুক্তি। কেমন হবে বলুন তো??এরপর কিছুদুরে থাকবে একটা আইসক্রিম পার্লার।যেটা পুরোটাই থাকবে ছোট ছোট রঙিন বাতি দিয়ে সাজানো।আইসক্রিমওয়ালা থাকবে ঐযে সার্কাসের জোকারের মতো।অদ্ভুত সাজ তার।সে তার স্ট্রবেরি ফ্লেভারের আইসক্রিম দিয়ে খুশি করবে ঐ দুজনকে।আর হ্যা,,,তখন যায়গাটা লেম্প পোস্ট হলে আরো সুন্দর হবে।
আবার কিছুদুর গিয়ে একটা শিউলি গাছের নিচে বসবে তারা।প্রিয়জনের কোলে মাথা দিয়ে ফুলের উপর শুয়ে পরবে সেই রমনিটি।আর আকাশ থেকে ঝরে পরবে হাজারো সুগন্ধি যুক্ত ফুল।কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে মনবিনিময় করে আবার সেই সেফালি ফুলের পথ দিয়ে খালি পায়ে হেটে ফিরে যাবে তারা নিজেদের নীড়ে।
(আদ্র এতক্ষণ খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে যাচ্ছিলো সোহার কথাগুলো।আর মনে মনে ভাবছে...)
আদ্র-(আমার পুতুলরানির মনে এমন একটা ইচ্ছে জাগ্রত হলো।যাস্ট অওসাম।,,,,কিভাবে পারলো ও,,এত নিখুঁত ভাবে সবটা কল্পনা করতে??)(মনে মনে)
(অনেকক্ষণ আদ্রের কোনো কথা না শুনে সোহা এবার ঘোর কাটেয়ে আদ্রের দিকে তাকিয়ে বললো...)
আদ্র-আপনি কি রাগ করেছেন আমার কথাগুলোয়??আসলে আমি শুধু নিজের ইচ্ছাটাই বলেছি।ব্যাস,,আর কিছুই না।প্লিজ রাগ করবেন না আপনি।
(সোহার কথায় আদ্র ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো।তাকে আরেকটু নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বললো...)
আদ্র-আমি একটুও রাগ করিনি মাই ডল।আর এখানে রাগ করার কিছুই বলোনি।আমিতো তোমার কথায় নিজেকে খুজতে লেগেছি।
সোহা-মানে?
আদ্র-উহুম,,,কিছুনা।অনেক রাত হয়েছে এবার চলো ঘুমাবে।
সোহা-আরেকটু বসিনা।ভালোই তো লাগছে।
আদ্র-উহুম,,,কাল আবার স্কুল আছে তো।চলো সকালে উঠতে হবে।
সোহা-আর একটু থাকিনা।প্লিজ।
(আদ্র দেখলো সোহা মন খারাপ করে আছে।তাই সে বললো...)
আদ্র-আচ্ছা ঠিক আছে।থাকবো যদি তুমি এখন লক্ষী মেয়ের মতো আমার বুকে মাথা দিয়ে শোও।
(সোহা রাজি হয়ে গেলো।কারন সে এখন যেই ভাবেই হোক এই পরিবেশে থাকতে চায়।আর সে জানে আদ্র এখন তার মাথায় বিলি কেটে দেবে।এতে করে আরামই পাবে।)
আদ্র-শোন??
সোহা-হুম???
আদ্র-কাল যদি ঐ রাহিল আসে তাহলে তুমি ওর সাথে তেমন কথা বলবে না ওকেয়??
সোহা-হুম।এমনিতেই ছেলেটা কেমন জানি।আমার একটুও ভালো লাগে না।
আদ্র-হুম।ওর জন্য আমি ঐ দিন তোমাকে ওমন ভাবে.....
(বলতেই সোহা আদ্রের মুখ চেপে ধরলো তার ডান হাত দিয়ে।)
সোহা-বলছিনা ঐটা আমার ভুল ছিলো।আবার কেন কথাটা তুলছেন বলুনতো??আর ঐ কথাটা বললে আমি কিন্তু আর কথা বলবো না।
(আদ্র হালকা হাসলো।এরপর নিজের মুখ থেকে সোহার হাতটা নামিয়ে নিজের হাতের আঙুল দিয়ে সোহার হাতটা স্লাইড করতে লাগলো।,,)
আদ্র-তোমার হাত এমন কেন ডল??
সোহা-কেমন??
আদ্র-এই যে।এতো নরম কারোর হাত হয়???মনেতো হচ্ছে একটু টোকা দিলেই ভেঙে যাবে।
সোহা-আমি কি করবো।এটা কি আমি বানিয়েছি নাকি???ঐ উপরওয়ালাই তো এমন করেছে।
আদ্র-এইটা নিয়েই তো আমার ভয় হয় গো ডল।কেন যে তোমায় এমন বানালো??তোমার এই রুপের জন্যই তো তোমাকে নিয়ে ভয় হয় আমার।যদি কখনো কেউ আমার কাছ থেকে কেড়ে নেয় তোমায়??(বিরবির করে)
সোহা-কিছু বললেন??
আদ্র-উহুম,,,কিছু না।
সোহা-একটা কথা বলবো??
আদ্র-হুম??
সোহা-আমি না থাকলে আপনি এতরাত পর্যন্ত জেগে থাকেন??
আদ্র-হঠাৎ এই প্রশ্ন??
সোহা-ভাবছি আমি আবার আপনার ঘুমের ব্যঘাত করছি কি না??
(সোহার কথা শুনে আদ্র ফিক করে হেসে দিলো।,,,)
আদ্র-এটা তোমার মাথায় কি করে এলো??আচ্ছা,,শোন।এই সময় আমি বাড়ির বাইরেই থাকি।ঐ যে তোমার বিহান ভাইয়া।তার সাথে থাকি।
সোহা-তাহলে এখন থাকেন না যে???উনি রাগ করে না??
আদ্র-যাই তো।তুমি ঘুমিয়ে পরলেই আমরা চলে যাই।
সোহা-আমরা মানে?
আদ্র-আমি আর তোমার রিসব ভাইয়া।
সোহা-ওহ।
(আর কেউ কোনো কথা বললো না।পিনপিনে নীরবতা।কিছুক্ষণ পরে আদ্র অনুভব করলোসোহার ভারি নিঃশ্বাস তার বুকে আছড়ে পরছে।তার মানে সোহা ঘুমিয়ে পরেছে।আদ্র তাকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে শুইয়ে দিলো।তারপর কপালে একটা উষ্ণ স্পর্শ দিয়ে বেরিয়ে গেলো।,,,,,,)
%%%%%%%%%%%%
(পরদিন রোজকার মতো সোহা আর আদ্র স্কুলে চলে গেলো।একই ভাবে সায়মান আর রিসবও গেলো তাদের নিজ নিজ উদ্দেশ্যে।,,,,,১ঃ৩০ এর দিকে ফিরে এলো সবাই।আদ্র সোহাকে বললো....)
আদ্র-ডল,,তুমি ভেতরে যাও,। আমি গাড়ি পার্ক করে আসছি।
সোহা-আচ্ছা।
(বলেই সোহা দরজায় নক করলো।তখনই ভেতর থেকে আয়ন্তি দরজা খুলে দিলো।সোহাকে দেখেই খুশিতে দু হাত বাড়িয়ে বলে উঠলো......)
আয়ন্তি -পিচ্চিইই বোনু।
(এদিকে হঠাৎ আয়ন্তিকে দেখে সোহাও খুশি হয়ে তাকে জরিয়ে ধরলো।.....)
সোহা-আপুনিইইই।
(তখনই আদ্র সোহার স্কুল ব্যাগ হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকলো।সোহা আর আয়ন্তির এমন খুশি দেখে একটা প্রাপ্তির হাসি হাসলো সে।,,,)
(এদিকে আয়ন্তি আদ্রকে দেখলো। তাই সোহাকে ছেড়ে আদ্রকে গিয়ে জরিয়ে ধরলো
আদ্রও অতি স্নেহে মাথায় হাত বোলালো।)
আয়ন্তি-কেমন আছিস ভাইয়া???
আদ্র-মাস্ত।তুই??
আয়ন্তি-এখন তো ভালো থাকতেই হয়।
(আদ্র এবার আয়ন্তিকে ছাড়িয়ে তার দুকাধে হাত দিকে বললো.....)
আদ্র-দেখি দেখি।বাহ,, আমার পেতনিটাকে তো আজ একদম বউ বউ লাগছে।
আয়ন্তি-ভাইয়াআআআ।এবারও শুরু করলি??
(আদ্র ফিক করে হেসে দিলো।,,,তখন রাহুল এসে আদ্রকে বললো....)
রাহুল-কেমন আছো ভাইয়া??
(আদ্র হাসি মুখে রাহুলকে একপাশে জরিয়ে ধরে বললো....)
আদ্র-হুম,,, ভালো।তুমি???
রাহুল-ভালো।
(এবার রাহুল সোহাকে উদ্দেশ্য করে বললো....)
রাহুল-কেমন আছো বোন??
সোহা-একদম ভালো জিজু।কখন এলে তোমরা??
রাহুল-সেই সকালে।
------বাহ,,,সুপারস্টার আদ্রিয়ান জুনায়েদ আজকাল কারোর স্কুল ব্যাগও ক্যরি করে দেখছি।
(কথাটা বলতে বলতে একটা রুম থেকে বেরিয়ে এলো রাহিল।তাকে দেখেই আদ্র আর সোহার হাসি মুখখান মলিন হয়ে গেলো।।।রাহিল সোহার সামনে এসে বললো....)
রাহিল-কি ব্যপার সানি বিয়াইন।আমরা আসবো বলে এতো লেট এ ফিরলেন নাকি???
(সোহা কি বলবে বুঝতে পারছে না।কারন আদ্র তাকে রাহিলের সাথে কথা বলতে বারন করেছে।)
আদ্র-তোমার ভুল হচ্ছে রাহিল।ও সানি নয়,,সোহা,,,।এন্ড উড বি মিসেস.সোহা জুনায়েদ।
(আদ্রের কথা শুনে রাহিল অবাক হয়ে গেলো।আর সোহাও ভাবতে লাগলো...)
সোহা-(মিসেস.সোহা জুনায়েদ মানে??কি বলছেন এসব উনি???কিচ্ছু মাথায় ঢুকছে না।)(মনে মনে)
রাহিল-কি বলছেন ভাইয়া?কিছু বুঝতে পারছি না।
(আদ্র এবার মুখে হাসি টেনে এগিয়ে এসে রাহিলের কাধে হাত দিয়ে বললো....)
আদ্র-বলছিলাম যে,, ও কিছুদিন পর কারোর মিসেস হয়ে যাবে।তো অন্যের মিসেসের সাথে তেমন একটা ক্লোজ হতে চাওয়া,,খুব ভালো কিছু না।তাইনা???
(রাহিল ক্যাবলার মতো ভাবতে ভাবতে জবাব দিলো...)
রাহিল-হ্যা,,,,
আদ্র-বাহ,,, খুব তারাতারি বুঝে গেছো দেখছি।তোমার মাইন্ড অনেক সার্ফ। বুঝেছো??
রাহিল-হ্যা।
আদ্র-তো এখন মজা করো।আর ভাবতে থাকো।ওকেয়।
রাহিল-ওকেয়।
(সবাই রাহিলের এমন ক্যাবলা রুপ দেখেমিটিমিটি হাসছে।আর আদ্র সোহার কাছে গিয়ে তার হাত ধরে বললো......)
আদ্র-চলো ডল।ফ্রেশ হয়ে নেবে
(বলেই সোহাকে নিয়ে উপরে চলে গেলো।,,,,,)