আদ্রের সম্মোহীনি

পর্ব - ৪২

🟢

বিহান আর রুসার বিয়ে সম্পন্ন হলো।সোহার চলে যাওয়ার পর নির্জনীরি প্যালেসে সুখ নেই,,,সোহা যে একা যায় নি।এই বাড়ির সবার চোখের মনি আদ্রের আনন্দ কেরে নিয়ে গেছে।এসব চিন্তা করেই খুবই সামান্য ভাবে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।লোকজনও একদম কম,, প্রেস মিডিয়া জানলে হুরমুরিয়ে আসবে,,,তাই ক্যারিয়ার সাইডের কাউকেই জানানো হয়নি।,,,,সারা বিয়েতে আদ্র একটা চেয়ারে বসে ছিলো।বিদায়ের সময় রুসা যখন তাকে জড়িয়ে ধরে কাদছিলো,,তখন শুধু একটা কথাই বলেছিলো...

"বোকা মেয়ে,,,এইখান থেকে এখানে,,,দিনে বেলা করে দশবার আসতে পারবি হেটে হেটে,,,আর কাদিস না,,,বিহান তোকে সর্বোচ্চ সুখ দেবে।"

আর টুকটাক হু হা ছাড়া তেমন কোনো কথাই বলেনি আদ্র।,,,,

কেটে গেলো আরো ৪-৫ দিন,,,,,,,রুসা আর বিহান গতকালই এই বাড়িতে এসেছে।খাওয়ার সময় টেনে টুনে আদ্রকে ডায়নিংয়ে নিয়ে এসেছে,,,,আরিফা নিরবে চোখের জল ফেলছে,,,,কি থেকে কি হয়ে গেলো তার ছেলেটা,,,সবারই মন বিষন্ন,,,, এই অবস্থায় বিহান বলে উঠলো...

"আদ্র,,,,১ সপ্তাহ পর একটা প্রোগ্রাম আছে।তোকে স্পেশালই ইনভিটেশন দেওয়া হয়েছে।"

আদ্র সরাসরি বললো....

"তুই জানিস,আমি এখন আর এসব গান গাই না,,,ভালো লাগে না আমার।"

রিসব একবার সবার দিকে তাকালো,,,তারপর বললো...

"কনসার্টটা ইন্ডিয়ার প্রোস্টিটিউশন থেকে,,,এই বছরই প্রথম বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গার সিলেক্ট করেছে,তাও স্পেশাল ভাবে।তুই এই অফার টা মিস করবি?,,,"

আদ্র উত্তর দিলো ...

"আমার আর এসব ভালো লাগে না,,"

সফিক বললো...

"মামনি চলে যাওয়ার পর থেকেই এভাবে থাকছিস তুই,,,,গান তো তোর মন ছিলো? "

আদ্র আনমনা হলো,,,,

"কিন্তু আমার পুতুলতো সবটা জুড়ে ছিলো বাবা?"

সফিক বাক হারালো।এই কথার প্ররিপ্রেক্ষিতে কি বলা যায় তা মাথায় এলো না।,,,একটু সময় নিয়ে বিহান বললো...

"তুই পিচ্চিকে খুজবি বলে এভাবে বসে থাকছিস,,,এটা কি ঠিক আদ্র?"

আদ্রের টনক নড়লো,,,,সত্যিই তো সে তো কিছুই করছে না।ডিটেক্টিভ,পুলিশ,সব লাগিয়েছে,,,প্রথম কয়েকদিন নিজেও পাগলের মতো খোজ লাগিয়েছে,,কিন্তু তারপর?সেই যে বন্ধ ঘরে আটকালো,,আর তো খুজলো না তার পুতুলকে?তবে কি সে ভুল করছে?,,,,

আর ভাবতে পারলো না আদ্র।মাথাটা হ্যাং হয়ে আসছে।,,,, দ্রুত টেবিল ছাড়লো।পেছন থেকে আরিফা বারবার চেচামেচি করছে বাকি টুকু খেয়ে যেতে।তবে শুনলো না আদ্র।দ্রুত গিয়ে নিজের রুমের দরজায় খিল দিলো।।

"-ভাবুনই না।আমি আপনার থেকে দুরে,অনেক দুরে চলে গেলাম।কেমন হবে??,,,,আচ্ছা,,আপনি কি আমাকে আবার পাশে চাইবেন??

আদ্র-এমন কথা কেন বলছো ডল??আমি তো তখনই মরে যাবো।

সোহা-কেন??মরার কি আছে??আপনি খুজবেন আমাকে।দেখবেন একদিন ঠিক আবার দেখা হবে আমাদের।এমন একটা জায়গায়।যেখানে থাকবে লাখ লাখ মানুষের সমাগম।থাকবে অনেক অনেক আলো।আর আপনি থাকবেন তাদের সবার মধ্যমনি।আমি সেই লাখ মানুষের সমাগমের ভীর থেকে আপনাকে ডাকবো,,আমার ভাষায়,,অন্যরকম ভাবে।স্পটলাইট পরবে আমাদের উপর।আর বাকি সব অন্ধকার। কেমন হবে???

আদ্র-এমন কিছুই হবে না। কারন আমি তোমাকে কখনো হারাতে দেবোই না মাই ডল।সারাজীবন আগলে রাখবো এই আদ্রের মাঝে।

সোহা-যদি সত্যিই হারিয়ে যাই??

আদ্র -তাহলে আমি বাচবো।তোমাকে পাওয়ার আশায় বাচবো।তোমার বলা ঐ স্থানেই খুজবো তোমায়।হবো তোমার জন্য লাখ লাখ মানুষের মধ্যমনি আমি।হুম।তবুও খুজবো তোমায়।'""""

তড়িৎ বেগে উঠে বসলো আদ্র,,,,এটা কেমন স্বপ্ন ছিলো?,৷ না না, এটা স্বপ্ন নয়,,,বাস্তব,,,আমি আমার পুতুলকে কথা দিয়েছি,,,তার জন্য আমি লাখ মানুষের মধ্য মনি হবো।তবেই তো পুতুল ধরা দেবে আমায়।,,,,,,,,

দ্রুত খাট থেকে নেমে দরজা খুলে বেরিয়ে এলো আদ্র।ড্রয়িংয়ে সবাইকে দেখে এগিয়ে গেলো সেদিকে।

"কবে কনসার্টটা?"

হঠাৎ এমন প্রশ্নে অবাক হলো উপস্থিত সবাই।বিহান সোফা ছেড়ে উঠে দাড়ালো।অবাক হয়েই বললো..

"১ সপ্তাহ পর।,,,"

'"ঠিক আছে,,,,ইনভিটেশন একসেপ্ট কর।"

সবাই যেন অবিশ্বাস্য কিছু শুনলো।শায়মান বললো...

"ত্ তুই কনসার্ট করবি ভাই?"

আদ্র উত্তর দিলো...

"উহুম,,,,,আমার পুতুলকে খুজবো।"

বুঝলো না কেউই।আদ্র আবারও বলে উঠলো...

"আমার পুতুল এমন এক সমাগমে আমায় ধরা দেবে বলেছে।তাই আমি তার জন্য লাখ মানুষের মধ্য মনি হবো। এন্ড দ্যাটস ফাইনাল।"

বলেই আবার উপরে চলে গেলো।সবাই যেন খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলো।কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।,,,,বিহান দ্রুত জিমান সিমানদের কল করে সব রেডি করতে বললো।,, রিসবও পাসপোর্ট টিকিটের ব্যবস্থা করতে লাগলো।,,,,

*************

"ভাইয়া,,,ইসবার মুম্বাই মে বাংলাদেশ সে সিঙ্গার আরাহা হে,,,,হাম লোগ যা রাহা হে না?"

রাফিনের কথায় তার দিকে তাকালো রেগান সিং।

"হার বার হি যাতা হু।পুচনে কি জারুরাত নেহি।"

রাফিন এবার এদিক ওদিক তাকালো।কথাটা কি বলবে?আমতা আমতা করে বলেই ফেললো....

"ভাইয়া,,,,ইস বার ভাবিজি কো ভি সাথ লে চালতি তো....."

আর বলতে পারলো না রাফিন,,,,,রেগানের তাকানোতেই আটকে গেলো সে।একটু পর রেগান আবার টেবিলে থাকা কাগজে মন দিয়ে উত্তর দিলো...

"সিঙ্গার কন হেয়?"

"আদ্রিয়ান জুনায়েদ,,, ভাইয়া,,,,,পিচলে কুচ দিন কোয়ি শো নেহি কিয়া,,,ইয়ে উসকি কাম ব্যাক শো হেয়।"

রেগান গম্ভীর কন্ঠে বললো...

"দেখা হু কোয়ি বার,,,,বহতি ফেইমাস হেয়,,,,"

রাফিন চুপ রইলো...

রেগান আবার বললো...

"লে হি যাতে হে তেরি ভাবি জি কো।"

রাফিনের মুখে হাসি ফুটলো,,,,

"ভাইয়া৷ ,,,, সোহা কো ভি....."

সাথে সাথেই উত্তর এলো...

"লে চাল উস লারকি কো ভি"

পেয়ে গেলো রাফিন,,,উত্তর পেয়ে গেলো।এতক্ষণ তো সোহার জন্যই এত কিছু করলো।,,,,সোহার ভালো লাগবে নিশ্চই,,,,,আচ্ছা,,আগে কখনো সোহা এই ধরনের কনসার্টে গেছে কি?,,,,

এইসব ভাবতে ভাবতেই সোহার রুমের দিকে এগিয়ে গেলো রাফিন,,

"ওয়ে মেরি সোহা রানি,,,,,তেরে লিয়ে এক খুশ খাবারি হেয়"..

সোহা শুধু তাকালো রাফিনের দিকে।।।রাফিন উৎসাহ নিয়ে বলতে শুরু করলো ..

" হামলোগ মুম্বাই যারাহাহু,৷ "

মন খারাপ হয়ে গেলো সোহার,,,আরো দুরে??তার প্রিন্সের থেকে আরো দুরে যেতে হবে তাকে?....

"কনসার্ট মে,,,,বাংলাদেশ সে সিঙ্গার আরাহা হে।"

উৎসাহ প্রকাশ করলো না সোহা,,,,,যত যাই হোক,,এদের কাছে সে বন্ধিই থাকবে।,,,,

"খুশ নেহি?,,,ওকেয় মেরি জান,,,তু যাব যায়েগি,,তাব মাজা আয়েগি,,আব ইয়ে ছোর,,,কেয়া বাত হেয় বোল মুঝে.."

সোহা আনমনা হলো,,,,

"আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না রাফিন ভাইয়া,,,আমি যে অন্য একজনকে ভালোবাসি। সে ঠিক আমায় খুজবে।"

রাফিনের এতক্ষণের হাসিখুশি মুখটা শক্ত হলো।সোহাকে নিজের দিকে ঘোরালো..

"ইয়ে ভাইয়া নেহি মানেগা সোহা,,,অর,,,মে সাচমে তুজে পাসান্দ কারতা হু,,,তু দেখেগি,,তুজে মেয় সারি খুশিয়া লেকে দুঙগা।"

সোহার চোখ বেয়ে জল পরলো।মিনতির সুরে রাফিন কে বললো...

"আমার লাগবে না খুশি,,আমি শুধু তাকে চাই,,,আমার প্রিন্সকে চাই,,,,আমি তাকে ছাড়া বাচবো না,,,,"

রাফিন উঠে দাড়ালো।এই মুহুর্তে এখান থেকে চলে যাওয়াই ভালো।তাই করলো।চলে গেলো সে।পেছনে ফেলে গেলো কান্নারত সোহাকে।,,,,,

আদ্রের সম্মোহীনি পর্ব ৪২