তুমি থাকো সিন্ধুপারে

পর্ব - ৩৩

🟢

সবার সাথে তাল মিলিয়ে বিয়েতে সম্মতি দিয়েই দিল ঝুমু। যদিও গাইগুই করেছে অনেক, বুটিক হাউজটা না দাঁড় করিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে কিছুতেই বসবে না। কিন্তু সেটা ধোপে টেকেনি। মৃদুল অবশ্য খুব খুশি। ঝুমুর ভাইয়েরাও এবার ঝুমুকে খুব করে বোঝালো, এতেই পণ ভাঙল মেয়েটা।

রুমু বিশেষ ভূমিকা পালন করল,

"দেখ ঝুমু, তোরা দুজনেই দুজনকে ভালোবাসিস। শুধু শুধু নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে কী লাভ? যেটুকুই হোক ব্যবসাটা শুরু করেছি আমরা, অল্প হলেও এটা চলছে তো। তুই রাজি হয়ে যা।"

"আপা, কী বলিস এসব! আমি বিয়ে করে ফেললে তুই একা কী করে সব সামলাবি?"

"শোন ঝুমু, তোকে একটা কথা বলি, আমরা পৃথিবীতে খুব অল্প সময় নিয়ে আসি। এত অল্প যে চোখের পলকে কখন যে আমাদের সময় ফুরিয়ে যায় তাই ঠাহর করে উঠা যায় না! তাই একফোঁটা ভালোবাসার মুহূর্ত অপচয় করার মতো বিলাসিতা কী আমাদের মানায় বল?"

বলতে বলতে কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে গেল রুমু। এরপর আবার বলল,

"এরমধ্যে ভুল মানুষের মোহে অন্ধ হয়েই অর্ধেক জীবন কাটায় অনেকে। তুই আর আমিও এর বাইরে নই রে! একেবারে সত্যিকারের ভালোবাসা যখন দরজায় কড়া নাড়ে সেটাকে চিনে নিতে হয়, লুফে নিতে হয়! রাজি হয়ে যা বোন!"

রুমুর মনে হলো পৃথিবীতে শাফায়াতের মতো কুটিল মানুষ যেমন আছে, যারা উপরে ভালোবাসার মুখোশ এঁটে নিজের কপটতা ঢেকে রাখতে চায়, আবার অন্যদিকে মৃদুলের মতো মানুষও আছে যারা এক পৃথিবী ভালোবাসা বুকে বয়ে ঘুরে বেড়ায়। যাদের ভেতরে আর বাইরে আলাদা কোনো আবরণ থাকে না, ভেতরে আর বাইরে সমান পূর্ণতায় ঘেরা থাকে!

রুমুর কথায় ঝুমু নিজের প্রতিজ্ঞা অনেকটা শিথিল করে, রাতে যখন ফোনে মৃদুলের সাথে কথা হয় তখন মৃদুল ওকে অভয় দেয়,

"ঝুমু, আমি তোমাকে কোনোদিনও কিছু চাপিয়ে দেব না। তোমার যেকোনো ডিসিশনকে আমি সম্মান করি। সাথে তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়টাও আছে। বিয়েটা যদি হয় হোক, তুমি তোমার মতো করে যখন চাও আমার ঘরে আসবে, তুমি পরিবারকে সময় দিতে চাও, দেবে। আমিও সাথে থাকলাম নাহয়। কিন্তু আমার একটা পরিবারের খুব লোভ হয় ঝুমু, খুব! তোমার মাকে আমি মা ডেকে নিজের অপূর্ণতা ঘোচাতে চাই!"

মৃদুলের শেষের কথাটাই যেন ঝুমুকে নাড়িয়ে দিল, রাজি হয়ে গেল বিয়েতে। নতুন জীবন শুরু করার পথে কিছু স্বপ্ন, কিছু আশা আর কিছুটা বুক ধুকপুক অনুভূতি ওকে ঘিরে ধরছে। আশ্চর্য! কিশোরী মেয়ের আবেগ ওর মধ্যে কী করে এলো!

***

দুপুরের দিকে নবনী ওর লাইব্রেরিতে সব বই নামিয়ে নামিয়ে পরিষ্কার করে আবার গুছিয়ে রাখছিল, চন্দ্রও সাহায্য করছে ওকে। আজ ওর স্কুল ছুটি। বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়াশোনা করছে মেয়েটা। এরমধ্যেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে এই পরিবারের সাথে। প্রথম দিকে রায়ান আর নবনী ওকে তুমি বলেছিল কিন্তু চন্দ্রর ভালো লাগেনি। বলেছিল,

"খালামনি, মা আমারে যেমনে তুই কইরা কয়, আফনেরাও আমারে তাই কইবেন। নাইলে আপন আপন লাগে না।"

ওরা এই কথা ফেলতে পারেনি।

আফজাল সাহেবও খুব ভালোবেসে ফেলেছেন ছোট্ট ফুটফুটে প্রাণোচ্ছল মেয়েটিকে।

'নানু, নানু' বলে যখন ডাকে তখন যেন মন ভরে যায়। নবনীর ছেলেমেয়েরা কবে তাকে এভাবে ডাকবে তারই প্রহর গুনে চলছেন তিনি!

সন্ধ্যার পরে নবনীর ঘরের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হয়। দরজা খুলে বিস্ময়ে অভিভূত হয় ও, স্বয়ং রায়ান দাঁড়িয়ে আছে!

"আর দু'দিন আছি শুধু, ভাবলাম তোমার রুমটা একটু দেখি। বাসার সব ঘরই প্রায় দেখা শেষ। চন্দ্র বলল তোমার ঘরটা নাকি সবচেয়ে সুন্দর! তাই দেখতে এলাম। আপত্তি আছে তোমার?"

রায়ানের চোখে কীসের যেন আকুতি, না বলা ভাষাটা যেন কীসের ইশারা করছে!

নবনী চোখে অবিশ্বাস নিয়ে সরে দাঁড়িয়ে জায়গা করে দিল রায়ানকে।

"এসো, সত্যি করে বলো তো কেন এসেছ?"

রায়ান কিছু বলল না সহসা, ঘরে ঢুকে অস্থিরতা যেন কমে গেল। আজ যেভাবেই হোক বলতেই হবে। নয়তো আর বলা হবে না। গত কয়েকদিন থেকে কী অদ্ভুত এক দোলাচালে দুলেছে ও। পুরো বাসার মতো এই রুমটাও দারুণ পরিপাটি করে গোছানো, প্রতিটি কোণায় রুচিবোধের ছাপ স্পষ্ট। দেয়ালের বিশাল ফ্যামিলি ফটোতে চোখ আটকে গেল রায়ানের। চমৎকার এক সুখী পরিবারের ছবি, এটা দেখেই মেয়েটা কিছুটা হলেও মায়ের উত্তাপ পেয়েছে হয়তো! ওর এমন কোনো ছবি নেই, নিজের ভুলে বঞ্চিত হয়েছে বাবার ভালোবাসা থেকেও। কী এক আক্ষেপে বিদ্ধ হয় বারবার!

বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল রায়ান, পিছু নেয় নবনী। রায়ান সহসা বলে উঠল,

"নবনী, আমার ভীষণ কঠিন একটা অসুখ করেছে।"

নবনী প্রায় আঁতকে উঠল,

"সে কী! কী হয়েছে? ডাক্তার দেখাওনি এখনো?তোমার..."

"পৃথিবীর কোনো ডাক্তার এই অসুখ ভালো করতে পারবে না, সৃষ্টিকর্তা সেই ক্ষমতা তাঁদের দেননি!"

"মানে?"

রায়ান স্মিত হেসে বলল,

"তোমাকে আমার এই অদ্ভুত ব্যামোর সিম্পটমগুলো বলি নাহয়, তাহলে বুঝতে পারবে হয়তো!"

"বলো।"

কীসের যেন একটা উৎকন্ঠা ঘিরে ধরছে দু'জনকেই।

"তুমি যখনই আমার আশেপাশে থাক, আমি যেন আমার মধ্যে থাকি না। কোথাও, কোন সুদূরে যেন ভেসে যাই! আমার এতদিনের চেনা হৃদয় আমার কাছে বড্ড অচেনা লাগে। চিনচিনে অথচ কী যে প্রগাঢ় একটা ব্যাথা আমার হৃদপিণ্ডটাকে সারাক্ষণ খোঁচাতে থাকে! কিন্তু কী আশ্চর্য জানো? এই ব্যাথাটাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি। সমস্ত হৃদয় দিয়ে গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলেছি। কিছু কিছু ব্যাথাও যে এতটা মধুর হতে পারে আমি জানতামই না! এই প্রগাঢ় মধুর ব্যাথাটা আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস অব্দি বয়ে বেড়াতে চাই। এই অসুখেই যেন আমার সব সুখ মিশে আছে! কিন্তু এরজন্য তোমাকে সারাজীবন আমার পাশে থাকতে হবে! এই অসুখের প্রতিষেধক বলি কিংবা চিকিৎসক সব কেবল আর কেবল তুমি। তোমার হৃদয়ের ওই বদ্ধ দরজাটা আমার জন্য খোলা যায় না? আমি কথা দিচ্ছি তোমার মনের একটা কোণায় ঘাপটি মেরে বসে থাকব, একফোঁটাও বিরক্ত করব না! প্লিজ নবনী, আমাকে ফিরিয়ে দিও না!" কী যে কাতরতা মিশে আছে রায়ানের গলায়!

সমস্ত দ্বিধা আর সংকোচ কাটিয়ে এক নিমিষেই নিজেকে মেলে ধরল নবনীর সামনে, নিজের ভালোবাসা মুঠোয় ভরে বাড়িয়ে দিল নবনীর পানে। বুকের রক্ত ছলকে ছলকে বেরিয়ে আসতে চাইছে, হৃদয় যন্ত্রের গতি বিপদ সীমা পেরিয়ে গেছে সেই কখন, এখন মনে হচ্ছে যেকোনো সময় সেটা বন্ধ না হয়ে যায়!

আর নবনীর মনে হচ্ছে এটা একটা সুখ স্বপ্ন, স্বপ্ন বুঝি এতটা সুন্দর হয়! এতটা জীবন্ত! সামনে দাঁড়ানো এই অদ্ভুত সুন্দর ছেলেটা ওকে সমস্ত হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে!

নবনীর বারবার মনে হচ্ছিল, এই মুহূর্ত যেন থেমে যায়, আটকে যায়! পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র সব থেমে যাক! পুরো পৃথিবীর সব থেমে গিয়ে কেবল এই মুহূর্তটা সত্যি হয়ে যাক! আকাশ ভর্তি ভরা জোছনা, তাকে কেন্দ্র করে ছড়ানো ছিটানো তারা, নবনীর বাগানের শ’খানেক প্রজাতির ফুলের মাতাল করা সৌরভ সব যদি স্থির হয়ে যেত! এই একটা মুহূর্ত যদি জীবনে চিরস্থায়ী হতো, তবে খুব কী ক্ষতি হতো!

এমন আরাধ্য ক্ষণ সহস্র বছরে হয়তো একবার আসে। কিন্তু সেটা ধরে রাখতে, আগলে রাখতে ক'জন পারে! যারা পারে তাদের কাছে পৃথিবীর সব সুখ ধরা দেয়, আর যারা পারে না তারা চির দূর্ভাগা!

নবনীর ভীষণ ইচ্ছে করছিল ওর সামনে দাঁড়ানো নিষ্পাপ আর ধারালো চেহারার বিষাদ মাখা ছেলেটার ভালোবাসাময় নিবেদন গ্রহণ করে নিজের হৃদয়ে মাখতে, নিজের সাদা-কালো হৃদয়ে এই ভালোবাসার রঙ ঢেলে রঙিন করতে। এই ভরা শীতেও বসন্তকে ডেকে পৃথিবীতে টেনে নামাতে ইচ্ছে করছিল খুব করে! কিন্তু চাইলেই কি আর সুখ ধরা দেয়? সহসা হাত বাড়ালেই তো আর সব পাওয়া যায় না। কিছু কিছু মানুষের কাছে ভালোবাসাটা অধরাই থেকে যায়।

রায়ানের দিকে আরেকবার তাকালো নবনী, কী ভীষণ মায়া মেখে ছেলেটা ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে! অবয়বে কী যে অদ্ভুত কাতরতা, ব্যাকুলতা ফুটে আছে! ভারি মায়া হলো নবনীর! ভালোবাসা কাতর ছেলেটা নিজেকে নিঃস্ব করে সব ভালোবাসা ওকে নিংড়ে দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে রায়ানকে দেবার জন্য নবনীর কাছে একরাশ হতাশা ছাড়া আর কিছুই নেই।

"তোমাকে দেবার মতো আমার কাছে কোনো ভালোবাসা জমানো নেই রায়ান। পাথর ভাঙলে সেখানে পাথরের টুকরোই পাওয়া যায়, ভেতরে কোথাও ফাঁপা থাকে না, যেখানে ভালোবাসা জমে থাকে। আমার মনটাও এখন পাথর। ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেললেও সেখানে অন্যকিছু পাওয়া যাবে না।"

কথাটা নিজেকে সামলে নিয়ে ভীষণ দৃঢ় গলায় বললেও একবারও রায়ানের চোখের দিকে তাকাতে পারল না। রায়ান কী বুঝল নবনী জানে না, তবে রায়ানের শান্ত, সৌম্য অবয়বে ফুটে উঠা প্রগাঢ় বিষাদের ছাপ চোখ এড়ালো না ওর। স্থির দৃষ্টিতে রায়ানের প্রস্থান দেখল কেবল!

***

যে দু'দিন রায়ান থাকল নবনী ইচ্ছে করেই ওকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলল। এমনভাবে এড়ালো যে মনে হলো ওরা বুঝি একেবারে অপরিচিত, কোনোদিন ওদের বন্ধুত্ব তো দূর কথাও যেন হয়নি! এই জিনিসটা রায়ানকে খুব পীড়া দিচ্ছিল ভীষণভাবে, তাই নিজে থেকে আর চেষ্টা করেনি। ভালোবাসা পাবার অসম্ভব এক আবদারের জন্য বন্ধুত্বটা খুইয়ে বসেছে ভেবেই তীব্র আক্ষেপ গ্রাস করল ওকে। তবুও একেবারে ফেরার দিন শেষবারের মতো নবনীকে দেখার লোভ সামলাতে পারল না।

সবার কাছ থেকে বিদায় নিল রায়ান, চামেলি আর চন্দ্র তো কেঁদে বুক ভাসালো, আফজাল সাহেব ভেবেছিলেন এই বুঝি ছেলে-মেয়ে দুটোর একটা গতি হলো! কিন্তু তেমন কিছু না হওয়ায় ভেতরে ভেতরে মুষড়ে পড়লেন। যদিও বাইরে থেকে বুঝতে দিলেন না। আশীর্বাদের হাত মাথায় রেখে প্রাণ ভরে দোয়া করলেন রায়ানকে। এই কয়েকমাসে ছেলেটাকে নিজের খুব কাছের একজন ভেবে নিয়েছিলেন কিনা!

সবাই ওকে বিদায় দিলেও নবনীকে কোথাও দেখল না। শেষমেশ জিজ্ঞেস করেই বসল,

"আঙ্কেল, নবনীকে কোথাও দেখছি না যে? আসলে এতদিন ওকে খুব বিরক্ত করেছি কিনা! শেষবার স্যরি বলে যেতে চাইছিলাম।"

দৃষ্টি নিবন্ধ ফ্লোরে, এই স্নেহপরায়ণ লোকটাকেও খুব মিস করবে ও।

"নবনী ছাদে আছে হয়তো!"

কিছুটা থেকে আফজাল আঙ্কেল আবার বললেন,

"বাবা, তুমি ভালো থেকো। আজ থেকে আমাকে একা একাই দাবা খেলতে হবে।"

চোখ দুটোতে রাজ্যের পানি এসে ভর করল, রায়ানের চোখও ভিজে গেছে ততক্ষণে,

"দাবায় আপনাকে একবারও হারাতে পারলাম না, এই আক্ষেপ আমার সবসময় থাকবে আঙ্কেল। আপনিও ভালো থাকবেন, নিজের যত্ন নেবেন।"

চন্দ্র আর চামেলির সামনে এসে হাসিমুখে বলল,

"চামেলি, ছবি পছন্দ হয়েছিল তো তোমার? না হলে কিন্তু রাগ রাখবে না। আর অবশ্যই তোমার এই ভাইকে ফোন করবে কিন্তু!"

চামেলি এবার হাউমাউ করে কেঁদে উঠল,

"ভাইজান, এত সুন্দর ছবি আমারে কেউ কুনু দিন তুইল্যা দেয় নাই। এই বোইনডারে ভুইল্যা যায়েন না গো ভাইজান।"

চন্দ্রর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

"পড়াশোনায় কিন্তু একদম ফাঁকিবাজি করবি না। তোর মায়ের ইচ্ছে কিন্তু পূরণ করতে হবে। নামের মতোই জ্বলজ্বল করতে হবে কিন্তু, যেন অনেকের মধ্যেও তোকে আলাদা করা যায়?"

চন্দ্র কান্নার দমকে কথাই বলতে পারল না। কেবল মাথাটা নাড়িয়ে গেল প্রবল বেগে। রায়ান আরেকবার মাথায় আর গালে হাত বুলিয়ে বেরিয়ে গেল ছাদের উদ্দেশ্যে। আরাধ্য মানুষটাকে একবার দেখতে।

***

নবনী কার্নিশের কাছটায় দাঁড়িয়ে রায়ানের চলে যাওয়া দেখছে কেবল, ও-ই তো গাড়িটা ওর দৃষ্টি সীমা ছাড়িয়ে চলে যাচ্ছে। একেবারে আড়াল হতেই ভেঙে পড়ল নবনী। পুরো পৃথিবীটা যেন এক নিমিষেই মিথ্যে হয়ে গেল ওর কাছে! ঘুরে দাঁড়িয়ে সেখানেই হেলান দিয়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ল ও৷ রায়ানের শেষ কথাগুলো কেবল ওর কানে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল,

"নবনী, আমি চলে যাচ্ছি একেবারে। যদি কখনো সিদ্ধান্ত নাও কাউকে ভালোবাসবে, তবে সেখানে আমাকেই রেখ। আমি তোমার জন্য আমার শেষ নিঃশ্বাস পড়া অব্দি অপেক্ষা করব। একবার শুধু ডেকো, আমি ছুটে চলে আসব। কারণ আমি সেই ডাকের জন্য মুখিয়ে থাকব। তবে কথা দিচ্ছি নিজে থেকে আর কখনো তোমাকে বিরক্ত করব না। তুমি না চাইলে এই আমাদের শেষ দেখা!"

উত্তর না পেয়ে নতুন উদ্যমে বলল,

"আমাদের তো খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়েছিল, সেই সুবাদে একবার ঘুরে তাকাবে না? আমি নাহয় এই শেষ দেখার স্মৃতিটাই হৃদয়ে বাঁধিয়ে রাখব।"

নবনী এরপরেও ঘুরে তাকায়নি, একবারের জন্যও না। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে এক পৃথিবী বিষাদ আর অপূর্ণতা নিয়ে রায়ান পা বাড়াবার আগে কেবল বলেছিল,

"আসছি আমি, ভালো থেকো। তোমার সব চাওয়া পূর্ণ হোক।"

ভালোবাসার জন্য এই কাঙালপনা এ জীবনে বুঝি ফুরাবে না রায়ানের!

..........

তুমি থাকো সিন্ধুপারে পর্ব ৩৩