আধফোটা প্রেমের ফুল

পর্ব - ৯

🟢

-"তোকে নারী পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করেছি। এখন তাদের কাছে তোকে পৌঁছে দিয়ে টাকাগুলো নিয়ে আসব।" সামনে তাকিয়ে থেকেই কথাগুলো বলল ওয়াসিফ।

উমাইরা কপাল কুঁচকে তাকাল ওয়াসিফের দিকে। বজ্জাত লোকটা ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। মুখে ভেংচি কেটে অন্যদিকে তাকাল। হঠাৎ মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি এল। ঠিকঠাক হয়ে বসে ওয়াসিফের দিকে তাকিয়ে বলল—

-"ওহ আচ্ছা! চলুন তবে। আপনার তো কিডনি, লিভার, ফুসফুস সবই ভালো-হেলদি আছে। ওদের বলে দেব, আপনাকে কেটে-ছেঁটে সেগুলো বের করে নিতে। মজাই হবে!" বলেই হেসে উঠল উমাইরা।

ওয়াসিফ নির্লিপ্ত। কথাগুলো শুনেছে কিনা বোঝা গেল না, পুরো মনোযোগ ড্রাইভিংয়ে। বেশ কিছুক্ষণ পর তারা গন্তব্যে পৌঁছায়। গাড়ি পার্ক করে নামল ওয়াসিফ। তাকে অনুসরণ করে উমাইরাও নামল।

-"এখানেই কি নারী পাচারকারীরা আসবে?" কৌতূহলী চোখে চারপাশে তাকিয়ে প্রশ্ন করল সে।

-"চুপ! এই জায়গাটা দেখে কি মনে হচ্ছে এখানে নারী পাচারকারীরা আসবে? এত খোলামেলা জায়গায় এসব কেউ করে নাকি? গাধা একটা!" বিরক্তির সুরে বলে হাঁটা ধরল ওয়াসিফ।

ওর পেছনে পেছনে উমাইরা দৌড়ে যাচ্ছে পায়ে পেরে উঠছে না।

-"আরে দাঁড়ান! আস্তে হাঁটুন। এটা কোথায় এনেছেন তা তো বলুন!"

ওয়াসিফ নির্লিপ্ত কোনো উত্তর করে নি। দুজন একসাথে ভেতরে প্রবেশ করল। ভেতরে ঢুকেই উমাইরার মুখ হা হয়ে যায়। পাশ থেকে ওয়াসিফ বলে ওঠে—

-"মুখটা বন্ধ করো। সবকিছু দেখেই মুখ হা করে তাকিয়ে থাকবে? এই অভ্যেসটা বদলা।" বলে সে এগিয়ে যায়।

সম্মুখে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে উমাইরা। মুখে কোনো শব্দ নেই, চোখে বিস্ময়ের ছায়া। যেনো তার চারপাশের সৌন্দর্য তাকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। তার সামনে এক বিস্তীর্ণ ফুলের বাগান, যার শেষ নেই চোখে। হরেক রকম ফুলে মোড়ানো পুরো মাঠ, যেন কোনো রূপকথার রাজ্য। খোলা মাঠটিকে এতটা অপরূপভাবে সাজানো যায়, উমাইরার কল্পনার বাইরে ছিল সেটা। সে মুগ্ধ নয়নে চারদিক অবলোকন করে। হঠাৎই, নিচ থেকে আকাশের দিকে উঠে যেতে থাকে এক ঝাঁক বেলুন। শত শত রঙিন বেলুন একত্রে আকাশে মিলিয়ে যেতে থাকে। তাদের সাথে বাঁধা একটি ব্যানার, তাতে লেখা: "Sorry"।

উমাইরা ধীরে দৃষ্টি ঘুরিয়ে পাশে দাঁড়ানো ওয়াসিফের দিকে তাকায়। এতক্ষণ ওয়াসিফ তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছিল, অবাক হয়ে তার চাহনি পড়ার চেষ্টা করছিল। সে জানত, এই মুহূর্তে উমাইরা কোনো কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলবে।

ওয়াসিফের চোখে ছিল প্রশান্তি, অনুশোচনা, আর এক টুকরো আশাবাদ। কিন্তু যখনই উমাইরার দৃষ্টি তার দিকে ঘুরল, ওয়াসিফ দৃষ্টি ঘুরিয়ে নেয়। উমাইরা জানতেও পারলো না, ওয়াসিফ এতক্ষণ মুগ্ধ হয়ে তার দিকেই তাকিয়ে ছিল।

উমাইরা বুঝতে পারল, এই সবকিছুই ওয়াসিফের পরিকল্পনা। সেইদিন ফোনে বলা কথাগুলো, যার কারণে অভিমান জমেছিল তার মনে, আজ সেসব ভাঙতেই এতো বড় আয়োজন। আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না সে। আবেগে ভেসে এক দৌড়ে ছুটে গেল ফুলের মাঝখানে, যেন নিজের ভালোবাসা আর অভিমান সব মিলিয়ে হারিয়ে যেতে চায় সে সেই সৌন্দর্যে। ফুলের বাগানে এসে উমাইরা খুবই উচ্ছ্বাসিত। খিলখিলিয়ে হেসে উঠল সে, দুই হাত মেলে গোল গোল ঘুরতে শুরু করল। রোদুরের ঝিলকের মতন তার চোখেও আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠল, চুলে লাগল হালকা হাওয়া।

চারপাশের ফুলগুলোর যেন লজ্জায় মাথা নুয়িয়ে পড়ল তার হাসির সামনে। কি অপূর্ব মায়া মাখা সেই হাস্যজ্জল চেহারা!!

সেই দৃশ্য দেখে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়াসিফের মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে এলো। চোখে বিস্ময়, মুখে নরম এক হাসি। আপন মনে বলতে লাগল সে—

-"আমার মোহনমল্লিকা,

তুই রাত্রির চুপিসারে ফুটে ওঠা জুঁই ফুলের সুবাস— যার ঘ্রাণে আমার সমস্ত সত্তা ভরে ওঠে এক অতল মুগ্ধতায়। এক অসম্ভব মাদকাসক্ত নেশা আছে তোর ভেতর।

তুই আমার হৃদয়ের সুপ্ত গোপন প্রেম,

ভালোবাসার সুগন্ধি ফুল।

তোর নামে নিঃশব্দ কবিতা লিখি,

শুধু তুই জানিস না — কতটা ভালোবাসি।"

অনেকটা সময় ওভাবে তাকিয়ে ছিল ওয়াসিফ। মনে হচ্ছিল, এই হাসিটুকু দেখতেই তো আজ এখানে আসা। মনে হল, আসাটা সফল হয়েছে।

ফুলের বাগান থেকে বেরিয়ে আরও কয়েকটি জায়গা ঘুরেছে তারা। উমাইরার বায়নায় ওয়াসিফ তাকে ফুলের মালা আর ফুলের মুকুট কিনে দিয়েছে। রাত প্রায় দশটা বাজে, তখন তারা বাসায় ফিরে আসে। বাইরে খেয়ে এসেছে, তাই আর আলাদা করে খাওয়া হয়নি। দুজনেই চলে যায় নিজেদের কক্ষে।

উমাইরা নিজের রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। কিছু ভেবে ওয়াসিফকে ডাক দেয়। ওয়াসিফ থেমে যায়।

হঠাৎ করেই উমাইরা ছুটে এসে ওয়াসিফকে জড়িয়ে ধরে। ওয়াসিফ স্তব্ধ। বুকের বাম পাশটা যেন অস্বাভাবিকভাবে ধকধক করছে। সে নড়াচড়া করল না, চোখে বিস্ময়, এক হাত দরজার হাতলে, অন্য হাত স্থির শূন্যে।

উমাইরা জড়িয়েই বলল—

-"আজকের দিনটা আমি কোনোদিন ভুলবো না। আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ভাইজান।"

"ভাইজান"শব্দটা বারবার কানে বাজছে ওয়াসিফের। ডাকে বিরক্তি ভর করলেও, উমাইরার মুখের প্রাণখোলা হাসি দেখেই সেই বিরক্তি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।এত বছর পর এমন হাসিমুখে, এতটা প্রাণবন্ত উমাইরাকে নিজের এতটা কাছে পেয়ে যেন এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করছে ওয়াসিফ। সে ধীরে বিড়বিড় করে বলল,"অভিমানীর অভিমান ভাঙলো তবে।" ওয়াসিফ আলতো করে উমাইরার ছাড়িয়ে নিয়ে বললো—

-"যা গিয়ে ঘুমিয়ে পর।"

উমাইরাও বাধ্য মেয়ের মতো নিজের কক্ষে চলে গেল। ফুলগুলো টেবিলের ওপর রেখে ফ্রেশ হতে গেল। ফ্রেশ হয়ে এসে ফোনটা নিয়ে শুয়ে পড়ল। আজকের তোলা সব ছবি দেখতে শুরু করল। বহু বছর পর সে আজ খুব খুশি। ওয়াসিফের অজান্তেই কিছু ছবি তুলেছে উমাইরা। সেই ছবিগুলোতে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। ফোনটা মুখের কাছে এনে একের পর এক চুমুতে ভরিয়ে দিল। তারপর বুকে ফোনটা শক্ত করে চেপে ধরে ঘুমের দেশে পাড়ি জমাল।

অন্যদিকে, ওয়াসিফ এখনো বিস্ময় কাটিয়ে উঠতে পারছে না। তার মোহনমল্লিকা আজ বহু বছর পর তাকে ছুঁয়েছে না, ছোঁয়া না, জড়িয়ে ধরেছে! বুকের ভেতর অস্থিরতা তুঙ্গে। ভিতরে ভিতরে সব ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। আর একটু দেরি হলেই হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলত ওয়াসিফ।

ফোনটা বের করে আজকের তোলা ছবি দেখছে ওয়াসিফ। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ছবিগুলো সে তুলেছে উমাইরার অজান্তেই।

উমাইরা কতবার অনুরোধ করেছিল তাকে কয়েকটা ছবি তুলে দিতে, কিন্তু পাষণ্ড ওয়াসিফ বিরক্তি দেখিয়ে তা তোলেনি। অথচ গোপনে সে অসংখ্য ছবি তুলে রেখেছে, যেগুলোর কিছুই উমাইরার জানা নেই।

---------------------

স্নিগ্ধা এসেছে এহসান ও মেহরাবের জন্য কফি নিয়ে। বেশ কয়েকদিনের ছুটি নিতে হবে বলে অফিসের সব কাজ গুছিয়ে নিচ্ছে। মেয়েরা ব্যস্ত বিয়ের কেনাকাটায়, আর ছেলেরা অফিসের কাজে ডুবে আছে। স্নিগ্ধার সঙ্গে এসেছে নিধী, দু’জনেই নাস্তার ট্রে হাতে। তবে নাস্তা শুধু বাহানা, স্নিগ্ধার মূল উদ্দেশ্য একবার এহসানকে দেখা। সারাদিন বাড়ির পুরুষেরা বাসায় থাকে না, সবাই কাজে ব্যস্ত। তাই এই মুহূর্তটাই সুযোগ।

দরজার সামনে এসে দু’জন টোকা দিতেই ভেতর থেকে মেহরাব দরজা খুলে দেয়।

স্নিগ্ধাকে দেখে মেহরাব থমকে যায়। আজ সারাদিন তাকে দেখার সুযোগ হয়নি, সেই চেনা মুখটা যেন চোখে প্রশান্তি এনে দেয়। আর স্নিগ্ধা বিব্রত; মেহরাবের এই অপলক দৃষ্টি নিতে পারে না, মনে হয় যেন বুকের ভেতর কিছু কেঁপে উঠছে। নিধী অবাক হয়ে দেখে ভাইয়ের এই অপলক তাকিয়ে থাকা। একবার স্নিগ্ধা, একবার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে, কিছু একটা আন্দাজ করে সে নিজেই মুচকি হেসে ফেলে।

এতক্ষণ দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে এবার এহসান এগিয়ে আসে, মেহরাবকে কাঁধে চাপড়ে

বলে—

-"কীরে! বাসর করতে গেছিস নাকি? সামান্য দরজা খুলতে এত দেরি কেন রে?"

এহসানের কথায় মেহরাব চমকে ওঠে, হাসি চেপে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করে—

-"এইসব কী বলিস ছোট বোনদের সামনে! খুলতেই তো যাচ্ছিলাম।"

বলেই সে ভেতরে ঘুরে যায়। এহসান দরজায় দাঁড়িয়ে দেখে স্নিগ্ধা আর নিধী ট্রে হাতে। বলল—

-"ভেতরে রেখে যা এগুলো।"

দু’জন ভেতরে গিয়ে ট্রে নামিয়ে রেখে বেরিয়ে আসে। রুমে এসে নিধী মুখে দুষ্টু হাসি নিয়ে বলে—

-"স্নিগ্ধা, আমার মনে হচ্ছে মেহরাব ভাইয়া তোকে পছন্দ করে।"

-"এইসব আজব কথা মাথায় আনিস না। তোর মাথায় সারাক্ষণ এইসবই চলে?"

-"আরে না, সত্যি বলছি! দেখলি না, ভাইয়া তোকে দেখেই থেমে গেলো? একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল তোর দিকে, যেন চোখের পলক পড়লেই তুই উবে যাবি! তুই তো মাথা নিচু করে ছিলি, দেখতে পাওনি, আমি কিন্তু সব খেয়াল করেছি!"

-"হয়েছে, এখন ঘুমা।"

-"গরীবের কথা বাসি হলে সত্যি হয়। যখন তুই আমার ভাবী হবি, তখন আজকের কথাটা মনে করিয়ে দেবো,হুম।" বলে নিধী হেসে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।

অন্যদিকে স্নিগ্ধার মনেও প্রশ্ন জাগে, সত্যিই কি মেহরাব ভাই তাকে পছন্দ করেন?

না... না... উনি তো আমাকে সবসময় বোন বলেই ভাবেন। তখন এহসান ভাইকেও তো সেটাই বলছিলেন।

ধুর! এই নিধীও না! সবসময় এমন ফালতু চিন্তা করে আর এখন আমার মাথায়ও ঢুকিয়ে দিচ্ছে। সব ভাবনা সরিয়ে স্নিগ্ধা চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ে।

-------------------

সকালবেলা উমাইরা জানায়, প্রীতির জন্য কেনাকাটা করতে যাচ্ছে সে। অমনি স্নিগ্ধা আর নিধী এসে ধরলো, তাদের না নিয়ে গেলে চলবে না। অগত্যা, তাদের নিয়েই বের হলো উমাইরা।

শপিং মলের সামনে এসেই দেখা মিলল আরও তিন বান্ধবীর। ছয়জন মিলে সারা দিন কেনাকাটা করলো। গায়েহলুদ ও মেহেন্দির জন্য ছেলেদের জন্য একই রকম পাঞ্জাবি, আর মেয়েদের জন্য শাড়ি ও থ্রিপিস কেনা হলো। শুধু বর ও কনের পোশাক থাকবে ভিন্ন। সঙ্গে ম্যাচিং গহনা হিসেবে থাকবে কাঁচা ফুল, তাই আলাদা করে আর কিছু নেওয়া হয়নি।

এই দুই অনুষ্ঠানের পোশাক কিনতেই বিকেল গড়িয়ে যায়।

সবাই মিলে একটা রেস্টুরেন্টে এসেছে, কিছু না খেলে শরীর ঠিক থাকবে না, সবাই ক্লান্ত।

তখনই নিধী সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে—

-"জানো আপুই, মেহরাব ভাই স্নিগ্ধাকে পছন্দ করে?"

স্নিগ্ধা তখন জুসের গ্লাস হাতে নিয়ে এক চুমুক দিয়েছে মাত্র। নিধীর কথা শুনে বিষম খেয়ে খুকখুক করে কাশতে থাকে। বাকি চারজন হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। উমাইরা বিস্মিত গলায় বলে—

-"কি বলছিস নিধী? মেহরাব ভাই আর স্নিগ্ধা? কবে থেকে শুরু হলো এসব?"

-"সেটা তো জানি না! তবে কাল রাতে ভাইয়াদের রুমে নাস্তা দিতে গিয়েছিলাম, তখন দরজা খুলে মেহরাব ভাই যেভাবে স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে ছিল, মনে হচ্ছিল চোখের পলক ফেললেই স্নিগ্ধা গায়েব হয়ে যাবে!"

স্নিগ্ধা রাগে গর্জে উঠে বলে—

-"সালি, তোর ভাই কি তোর কানে কানে এসে বলেছে যে সে আমাকে পছন্দ করে?"

-"আর বলদ বেটি! আমার কোন ভাই তোর বউ হ্যাঁ?"

ভেবাচেকা খেয়ে গেলো স্নিগ্ধা। বিরক্ত গলায় বলে—

-"কি বলছিস এসব? তোর কোনো ভাই আমার বউ হবে কেন? তোর কোনো ভাই গে নাকি যে আমার বউ হবে! ‘স্বামী’ না বলে ‘বউ’ বানিয়ে দিল ভাইকে।"

-"তাহলে আমাকে ‘সালি’ কেন বলছিস? বল ‘ননদ’!"

-"আশ্চর্য! কোথাকার কথা কোথায় টেনে নিয়ে গেলি! যত্তসব… ভালোই লাগে না এসব!"

দুজনের এমন বাচ্চাদের মতো ঝগড়া দেখে বাকি চারজন বিরক্ত হয়ে যায়। প্রীতি হালকা ধমক দিয়ে বলে—

-"আহা! থামো তো তোমরা দুজন! এবার বলো কাহিনি কী, ‘ননদিনী’?"

স্নিগ্ধা এবার নিধীকে হাত উঁচিয়ে থামিয়ে দিলো। তারপর বলতে লাগলো—

-"কাহিনি আমি বলছি শোন! এই নিধীর বাচ্চা এহসান ভাইয়াকে ভালোবাসে, বুঝলে? তোমার বিয়ের মধ্যে যদি পারো, এদেরও বিয়ে দিয়ে উগান্ডা পাঠিয়ে দিও, আমি অন্তত একটু শান্তি পাবো।"

নিধী কিছু বলার আগেই স্নিগ্ধা ওর মুখ চেপে ধরে। আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই নিজে বলতে শুরু করে দেয়। বাকি তিনজন বিস্ময়ে বিমূঢ়! উমাইরা বেশ বিরক্ত হয়ে উঠলো এদের কাণ্ড দেখে। বিরক্তির সুরে বলল—

-"থামবি তোরা? ঢঙের চোটে এক একজন বাঁচে না! অয়ন ভাইয়ার বিয়েতেই তোদের দু’টাকে একসাথে রাস্তার দুই পাগল ধরে এনে বিয়ে দিয়ে উগান্ডা পাঠিয়ে দেবো আমি। চুপচাপ খা, খবিশের দল! পড়াশোনার খবর নাই, খালি প্রেম-পিরিতি!"

উমাইরার ধমকে চুপসে গেল নিধী আর স্নিগ্ধা।

প্রীতি, রাইসা আর লামিয়া হেসে কুটিকুটি,ওদের কাণ্ড দেখে আর হাসি আটকাতে পারছে না। হাসি-ঠাট্টা, মজা করতে করতেই খাওয়ার পর্ব শেষ হয়।রাত বাড়তেই সবাই যার যার বাসায় ফিরে যায়।

উমাইরা খুব ক্লান্ত, রুমে ঢুকেই ধপাস করে বিছানায় শুয়ে পড়ে। এদিকে নিচে বাকিরা এখনো নতুন কেনা জামাকাপড় নিয়ে ব্যস্ত, কি কি কিনেছে, কোনটা কোন ফাংশনের, কাদের জন্য কেনা বাকি আছে, এসব নিয়েই জমে উঠেছে আরেক দফা আলোচনা।

-------------------------------

ওয়াসিফ প্রচণ্ড বিরক্ত তার বন্ধু শান ও অন্তিকার ওপর। সে উপস্থিত না থাকলে কোনো কাজই ঠিকমতো হয় না। বিয়ের নানা ঝামেলার কারণে আগামী কয়েকদিন ল্যাবে আসা সম্ভব হবে না তার। সেই কারণেই এখন থেকেই সব কাজ এগিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

কিন্তু পরিস্থিতি যেন আরও জটিল। টিমের দু'জন সদস্য বিদেশে ঘুরতে গেছে। আর যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে,শান ও অন্তিকা,তাদের বারবার বুঝিয়েও কিছু ফল হচ্ছে না। ওয়াসিফ চেষ্টা করে যাচ্ছে, ধৈর্য ধরে প্রতিটি দিক ব্যাখ্যা করছে, কিন্তু তারা যেনো বুঝেও না বোঝার ভান করে। ওয়াসিফের মেজাজ তাতে আরও খারাপ হচ্ছে।

এভাবে চলতে থাকলে এই ফর্মুলা তো তারা কোনোভাবেই প্রকাশ করতে পারবে না। এরই মধ্যে বারবার ফর্মুলা চুরির চেষ্টা হচ্ছে—বিষয়টা বেশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। উপায়ান্তর না দেখে ওয়াসিফ তার বাকি দুই বন্ধুদের ডেকে পাঠায়, যারা বর্তমানে ট্রাভেলে আছে। বিয়ের আগে তারা যেনো ল্যাবে এসে উপস্থিত হয়, সে নির্দেশ দিয়েছে।

ল্যাবে এসে সবাইকে তীব্র ভর্ৎসনা করে, দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সে চলে যায় হাসপাতালে। সেখানে গিয়েও কর্মীদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়। বলে দেয়, কোনো সমস্যায় পড়লে যেনো বিনা দ্বিধায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানানো হয়।

সব কাজ মোটামুটি শেষ করে ওয়াসিফ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।

বাড়ির মেইন ফটকে পৌঁছাতেই দেখা মেলে মেহরাব, অয়ন ও এহসানের সঙ্গে। চারজন একসাথে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে প্রবেশ করেই চোখের পড়ে বাড়ির মহিলা সদস্যরা সবাই ড্রয়িং রুমে বসে বিয়ের কেনাকাটা নিয়ে জমিয়ে আলোচনা করছেন।চারজন একসাথে এসে ধপাস করে সোফায় বসে পড়লেন। রুমানা বেগম সঙ্গে সঙ্গেই পানি এনে দিলেন সবার জন্য।

মহিলা পার্টি আজকের কেনা সব জিনিসপত্র নিয়ে ব্যস্ত, কে কী পছন্দ করেছে, কী পরবে, কোনটা বেশি ভালো হলো, এসব নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।

তবে ছেলেদের এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তারা চুপচাপ এক পাশে বসে আছে, কিছু না বলে, যেন এই আলোচনার সঙ্গে তারা একেবারেই সংযুক্ত নয়।

নিধী আড়চোখ এহসানকে দেখেই চলেছে একনাগাড়ে। আলোচনায় মন বসছে না তার। এহসানের ক্লান্তিতে ভরা মুখশ্রীটা যেন নিধীর হৃদয়ে কাঁটা হয়ে বিঁধছে। ইশ্, যদি এখন সে তার স্ত্রী হতো, কত না যত্ন করত, মাথায় হাত বুলিয়ে বলত, "আর কতো পরিশ্রম করবে?"

এই চিন্তা করতে করতেই নিধীর মনটা হঠাৎ করেই ভার হয়ে গেল। একটা অজানা কষ্ট এসে ভর করল বুকে। চুপচাপ চোখ নামিয়ে নিল সে।

উমাইরা চারজনের কাছে এগিয়ে আসে, তারপর এক দুষ্টু হাসি দিয়ে সবার মনোযোগ কেড়ে নেয়। ওয়াসিফ, অয়ন, এহসান ও মেহরাব ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। তাদের এই বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে উমাইরার খারাপ লাগে। সে জিজ্ঞাসা করে—

—"সরবত খাবে তোমরা? নিয়ে আসি?"

চারজনই মাথা নেড়ে ‘না’ জানায়। অয়ন বলে—

—"এখন কিছু খাবো না। আগে ফ্রেশ হয়ে তারপর খাবো। কী বলতে এসেছিস, বল?"

—"বলছিলাম, তোমার আর প্রীতির বিয়ের পোশাক তো কিনতে হবে। তোমাদের একসাথে যেতে হবে। আর আমাদের ভাইবোনদেরও তো বিয়ের দিনের জন্য কিছুই কেনা হয়নি। ভাবছিলাম, সবাই একসাথে গেলে কেমন হয়?"

—"হুম, ভালোই হয়। তো কবে ঠিক করেছিস?"

—"আসলে কিছুই ঠিক করিনি। তোমরাই বলো, কবে ফ্রি আছো। আমরা ওইদিনই যাবো সবাই।"

সবার দৃষ্টি গেলো ওয়াসিফের দিকে। যেন সে যা বলবে, সেটাই হবে। ওদের চোখের ভাষা পড়ে ফেলল ওয়াসিফ। তারপর বলল—

—"আর তো মাত্র ১০ দিন হাতে। বিয়ের দশ দিন আগেই আমাদের যেতে হবে, কারণ সময় কম। পরশু যাওয়া যায়। যদি পোশাকে কোনো সমস্যা থাকে, সমাধান করার সময়ও থাকবে। কী বলিস তোরা?"

—"হ্যাঁ ভাইয়া, একদম ঠিক বলেছে। তাহলে পরশুই যাচ্ছি সবাই।"

সব কথাবার্তা শেষ হলে সবাই নিজের রুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে। মেয়েরা তখনই সব গোছগাছ করে, প্যাকিং শুরু করল। যাওয়ার দিন হুড়োহুড়িতে কিছু না কিছু ফেলে যাওয়া ঠিকই হয়, তাই এবার আগে থেকেই সাবধান। সবাই মিলে চেষ্টা করছে যেন সেই দিন কোনো ঝামেলা বাঁধে।

-----------------------------

আজ সবাই বের হবে বউ আর বরের জন্য বিয়ের পোশাক কিনতে। স্নিগ্ধা, নিধী আর উমাইরা আগেভাগেই রেডি হয়ে বসে আছে। কারণ তাদের নামতে যদি দেরি হয়, সঙ্গে সঙ্গে ছেলেরা বলবে—

"এদের জন্যই দেরি হলো, এত সাজগোজের কী দরকার!" তাই এবার তারা আগে থেকেই তৈরি।

কিন্তু মজার বিষয় হলো, এখন ছেলেদেরই কোনো খবর নেই! কে কোথায়, কে কতটুকু রেডি, কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তিন বোন একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে—

-"এবার কারা বেশি সাজে, বুঝা যাচ্ছে ভালোই।"

অবশেষে ছেলেরা নামছে।

লম্বা, চওড়া গড়নের অয়ন নেমে এল সবার আগে। সুগঠিত, বলিষ্ঠ শরীর, উজ্জ্বল শ্যামলা ত্বকে মানিয়ে গেছে সাদা-কালো ছোপ ছোপ ডিজাইনের শার্ট আর ফরমাল প্যান্ট। কোঁকড়ানো চুলগুলো পরিপাটি করে সাজানো, চোখে কালো সানগ্লাস, সব মিলিয়ে বেশ হ্যান্ডসাম লাগছে তাকে।

অয়নের ঠিক পিছনেই নামছে এহসান। ফর্সা গায়ে পরেছে গাঢ় নীল টি-শার্ট ও জিন্স। তার শরীরের গঠন, পিঠ, বুক আর বাহু, একদম শক্ত আর সুঠাম, যেন নিয়মিত ব্যায়াম করে শরীর গড়ে তুলেছে। তার সেই পেশিবহুল শরীরটি টি-শার্টে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। হাতে ঘড়ি, মাথায় জেল দিয়ে আঁচড়ানো ঘন কালো চুল, চোখে সানগ্লাস, চেহারায় এক ঝকঝকে স্টার ভাব।

আর তার ঠিক পিছনে মেহরাব। ফর্সা, লম্বা আর সুগঠিত দেহের অধিকারী। হালকা স্কাই ব্লু রঙের ফিটিং শার্টে তার শরীরের প্রতিটি শেপ ফুটে উঠছে, যেমন মজবুত কাঁধ, পেশি আর শরীরের গড়ন। সাথে জিন্স, ঘড়ি আর সানগ্লাসও ছিল। একে একে তিনজন নামছে, যেন কোনো ফ্যাশন শো চলছে।

নিধী তো চোখ সরাতে পারছে না। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে এহসানের দিকে। মুখটা একেবারে হা হয়ে গেছে বেচারির। এত রূপে নিজেকে উপস্থাপন করে নিধীকে যে একেবারে ঘায়েল করে ফেলেছে, সেটা এহসান কি টের পায় না?

এহসান একবার তাকিয়েছিল নিধীর দিকে, কিন্তু সে দৃষ্টির মানে বুঝে উঠতে পারেনি। কেন এত মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে মেয়েটা?

অন্যদিকে মেহরাব সিঁড়ি বেয়ে নামছে আর স্নিগ্ধার মুখের দিকে চোরা চোখে তাকাচ্ছে। তার চোখে মিশে আছে দুষ্টুমি, ভালো লাগা, আর কিছু না বলা অনুভূতি। স্নিগ্ধাও তাকিয়েছিল ওদের দিকেই। হঠাৎ মেহরাবের সঙ্গে চোখে চোখ পড়তেই সে তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে নেয়। এরপর নিধীর দিকে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে মুচকি হাসে। ধীরে ধীরে থুতনিতে হাত রেখে নিধীর খোলা মুখটা বন্ধ করে দেয়। ফিসফিসিয়ে বলে—

-"মুখটা বন্ধ কর, মাছি ঢুকে যাবে। এমনভাবে তাকিয়ে আছিস আমার ভাইয়ের দিকে, মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই গিলে খাবে!"

নিধী লজ্জায় থতমত খেয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে ফেলে।

এদিকে উমাইরা এগিয়ে আসে অয়নের দিকে। শার্টের কলারটা ঠিক করতে করতে দুষ্টু ভঙ্গিতে বলে—

-"এই সাজে ভাইয়া, ভাবি আজকেই না অজ্ঞান হয়ে যায়! বিয়ের আগেই নিজের রূপ দেখিয়ে ঘায়েল করে ফেলতে চাচ্ছ নাকি, হুম?"

উমাইরার দুষ্টুমি বুঝে মাথায় একটা গাট্টা মারে অয়ন। তারপর বলে—

-"বড় ভাইয়ের সাথে দুষ্টুমি হুম! তোর কি মনে হয় এমনি এমনি তোর বান্ধবী পাগল আমার প্রেমে।"

অয়ন শার্টের কলারটা একটু উঁচু করে বেশ গর্বভরে বলল । তার কথা শুনে সবাই একসাথে উচ্চস্বরে হেসে উঠল। তাদের প্রাণখোলা হাসির শব্দে বাড়ির অন্য সদস্যরাও ড্রয়িং রুমে এসে ভিড় করলেন।

আজাদ রহমান ও আজান রহমান আজ অফিসে গেছেন, ছেলেরা আজ থাকছে না বাড়িতে, তাই দুজনই কাজে বের হয়েছেন সকালে।

ওসমান আয়মান আছেন হাসপাতালে, আর ইব্রাহিম চৌধুরী (ছোট ফুপুর স্বামী) তিনিও গেছেন তার অফিসে।

ড্রয়িং রুমে জড়ো হওয়া ছেলে-মেয়েদের এমন প্রাণবন্ত হাসি-ঠাট্টা দেখে উপস্থিত সবাই একরকম মুগ্ধ।

চোখে শান্তির ছায়া, মুখে প্রশান্তির হাসি।

এটাই তো তারা সবসময় চেয়েছেন, একটা হাসি-খুশি, একসঙ্গে থাকা, প্রাণবন্ত পরিবার।

হঠাৎ অয়নের কাঁধের ওপর দিয়ে চোখ পড়তেই উমাইরার দৃষ্টি আটকে গেল, ওয়াসিফ নিচে নামছে, হাতে ঘড়িটা পড়তে পড়তে। ফর্সা, পেশিবহুল শরীরটা যেন কালো পোশাকে মোড়ানো। স্লিক-ব্যাক করা চুল, চোখে চশমা, কালো শার্ট, কালো প্যান্ট আর ম্যাচিং জুতো, পুরো চেহারায় এক রাজকীয় মাধুর্য।

এতটাই মোহময় লাগছিল তাকে যে উমাইরার দৃষ্টি আটকে যায়। ওর তাকানো লক্ষ্য করে বাকিরাও ঘুরে তাকায় সিঁড়ির দিকে। মুহূর্তেই সবার দৃষ্টি আটকে যায় ওয়াসিফের উপর। যেন সিনেমা থেকে সদ্য নেমে আসা কোনো নায়ক! ওয়াসিফ ধীরে ধীরে নামছে, সবার দৃষ্টি টের পেয়ে ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত গলায় বলে ওঠে—

-"কি দেখছিস তোরা এভাবে? কখনো দেখিসনি আমাকে?"

অয়ন হাসতে হাসতে এগিয়ে গিয়ে ওর কাঁধে হাত রেখে বলে—

-"দেখছি ভাই, দেখছি। এত সৌন্দর্যের রহস্য কী বলো তো! তোমাকে দেখে তো মেয়েরা ফিদা হয়ে যাবে। রাস্তায় আবার আমাদের আক্রমণ না করে বসে, তোমাকে কিডন্যাপ করার জন্য!"

অয়নের কথা শুনে সবাই হেসে ওঠে, একে একে সবাই তাতে সায় দেয়। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বড়রাও হেসে ফেলে, ছোটরা কীভাবে বড় ভাইকে লজ্জায় ফেলছে তা উপভোগ করছিল। ওয়াসিফ অবশ্য পাত্তা দিল না। গম্ভীর কণ্ঠে বলল—

-"তোদের আজ যাওয়ার কোনো প্ল্যান আছে? না থাকলে আমি ল্যাবে যাচ্ছি।"

-"আরে ভাই, যাচ্ছি যাচ্ছি! চল, সবাই গাড়িতে উঠে পড়ি।"

সবাই বেরিয়ে আসে। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দুটো গাড়ি, এক গাড়িতে সবাই উঠবে না।

অয়ন, মেহরাব, স্নিগ্ধা, এহসান আর নিধী ওঠে এক গাড়িতে। তারা রাস্তায় প্রীতিকে তুলে নেবে। উমাইরা উঠে বসে ওয়াসিফের Jeep Wrangler Unlimited এ। পথিমধ্যে তারা লামিয়া আর রাইসাকেও তুলে নেবে।

ওয়াসিফের জিপ ছাড়তেই তার পেছন পেছন ছাড়ে অয়নের গাড়িটিও। সে অনুসরণ করছে ভাইয়ের জিপকে। পথে গাড়ি থামিয়ে প্রীতি, রাইসা ও লামিয়াকে তোলা হয়। এরপর ওয়াসিফের বেস্ট ফ্রেন্ড রাফসানকেও নেওয়া হয় সঙ্গে।

সবাই মিলে এসে পৌঁছায় একটি বিয়ের পোশাকের শোরুমে। গাড়ি পার্ক করে সবাই ভেতরে প্রবেশ করে।

আধফোটা প্রেমের ফুল পর্ব ৯ গল্পের ছবি