আধফোটা প্রেমের ফুল

পর্ব - ৪

🟢

-"কি করিস নি তুই সেটা বল, কেনো সব সময় সবাই শুধু তোকেই পছন্দ করবে? কেনো সব সময় তুই সবার প্রথম চয়েস হবি? এত ভালো হওয়ার নাটক কেনো করিস তুই?"

বিস্ময়ে হতভম্ব চোখে স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে উমাইরা। কি বলছে প্রীতি এইসব? অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে কাঁপা কণ্ঠে প্রশ্ন করল—

-"কি বলছিস প্রীতি, আমি কবে এইসব করেছি? আমি কবে থেকে ভালো সাজার নাটক করি? তোদের সাথে আমার বন্ধুত্ব তো আজকের নয়। বহু বছরের বন্ধুত্ব আমাদের, এত বছরে এই চিনলি তোরা আমাকে? মানুষ কি আদতে সারাজীবন ভালো হওয়ার নাটক করতে পারে?"

রাগ, হিংসা ও ঘৃনা মিশ্রিত কন্ঠে বলল প্রীতি —

-"হ্যাঁ! তুই পারিস। সব সময় কেনো সব ভালো তোর সাথেই হয়? স্কুল কলেজে সবাই তোকে কেন স্নেহ করে ভালোবাসে?"

উমাইর হতভম্ব। কি বলবে উমাইরা?

-"এতে আমার দোষ কোথায়? আমি তো তাদের বলিনি আমাকে ভালবাসতে স্নেহ করতে।"

-"হ্যাঁ, তুই বলিস নি! কিন্তু তুই এমন সব কাজই করতি যাতে সবাই তোকে ভালবাসতে স্নেহ করতে বাধ্য হয়। তোর জন্য রাইসা, লামিয়ার বয়ফ্রেন্ডদের সাথে ব্রেকআপ হয়েছে জানিস তুই?"

বিস্ময়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল। উমাইরার মুহূর্তের হতবাকতায় গলাটি কেঁপে উঠল —

-"কি বলছিস প্রীতি তুই? মাথা ঠিক আছে তোর? যা বলছিস ভেবে বলছিস তো, কোনো প্রমাণ আছে? আমি কিভাবে ওদের সম্পর্ক নষ্ট করলাম?"

রাগান্বিত হয়ে, চোয়াল শক্ত করে রাইসা ও লামিয়া এবার বলতে লাগলো—

-"তুই আমাদের বয়ফ্রেন্ডদের সাথে কথা বলিস নি? তুই নিয়মিত আমাদের বয়ফ্রেন্ডদের সাথে যোগাযোগ রাখতি। একটা সময় পর দুজনেরই তোর প্রতি অনুভূতি জাগ্রত হলো। তারপর আমদের সাথে সম্পর্ক শেষ করেছে। আমরা যখন জানতে চাইলাম কারণ কি? তখন ওরা আমাদের বলছে, তারা এখন তোকে ভালোবাসে আর ঠিক সেই কারণেই আমদের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারবে না।"

হতবাক উমাইরা! চোখে চরম বিস্ময়ের ছাপ, মুখে শব্দ হারিয়ে গেছে। ধাতস্থ হলো ধীরে ধীরে, তাকে দুর্বল হলে চলবে না। আজকেই তার ফ্লাইট, এরপর আর কিছুই জানা যাবে না।

বন্ধুদের ভুল ভাঙাতে হবে। সবাই তাকে ভুল বুঝে দূরে সরে গেছে, অথচ তার কোনো দোষ ছিল না। তবু শাস্তি যেন তাকেই পেতে হচ্ছে—বন্ধুদের হারানোর শাস্তি!

এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। নিজেকে সামলে নিলো উমাইরা। নিষ্প্রাণ কণ্ঠে বলল—

-"কি বলছিস তোরা? সায়মন ও রুবেলের সাথে তো আমি তোদের জন্য কথা বলতাম। তোদের যখন ঝামেলা হতো আমকেই তো বলটি সমাধান করে দিতে। আর সেই জন্যই তো তাদের সাথে আমার কথা হতো। কিন্তু রেগুলার তো যোগাযোগ ছিল না। আর তারা যে আমাকে ভালোবাসে এই কথাটাও তো আমাকে কখনো বল নি।"

উত্তেজিত হয়ে পড়ল তিনজন। এটা কি করে সম্ভব? ভালো যদি বাসে তবে কেনো বলে নি? প্রীতির রাগে ফর্সা মুখশ্রী লাল বর্ণ ধারণ করেছে। চিবিয়ে চিবিয়ে উমাইরার উদ্দেশে তিক্ত কথার বান ছুড়লো—

-"মিথ্যে! মিথ্যে বলছিস তুই। এখন আমাদের সামনে সাধু সাজার ভান করছিস তাই না? লাভ হবে না। আমরা সব কিছু জানি। তুই হয়তো ওদের ভালবাসিস না কিন্তু ওরাতো বেশেছে। আর তুই ওদের ভুল ভাল ইঙ্গিত দিয়েছিস। সেজন্যই তো ওরা তোকে ভালবেসেছে। নাহলে কেনো ওদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করবে আর কেনই বা মিথ্যে বলবে বল?"

-"আশ্চর্য! আমি কি করে বলবো, ওদেরকেই জিজ্ঞাসা কর তোরা। আমকে কেনো বলছিস। যেখানে আমার কোনো দোষ নেই সেখানে আমাকে কেনো দোষী করছিস তোরা। এখন আমি জাই বলি তোদের কোনো কিছুই বিশ্বাস হবে না সেটা আমি বেশ বুঝতে পারছি।"

-"কেন করবো তোকে বিশ্বাস? এটা তো নতুন নয়। তোর এই স্বভাব তো আর আগে থেকেই আছে। এতদিন শুধু আমি জানতাম ওরা এইবার জেনেছে। মনে আছে তোর, ক্লাস নাইন থাকতে আমি এক ছেলেকে পছন্দ করতাম আমাদের কলেজেই পড়ত আমাদের সিনিয়র। সেই ছেলেকেও তুই কেড়ে নিয়েছিস আমার কাছ থেকে।"

অবাক হয়ে এমন এক স্তব্ধতায় পৌঁছালো উমাইরা, নিঃশ্বাসটাও যেন থমকে গেল। মাথা যেন কিছুই বুঝতে পারছিল না। প্রীতির কথা শুনে উমাইরার বুকটা ধক করে উঠলো। কাঁপা কন্ঠে বলল—

-"কি বলছিস প্রীতি। আমি কেনো আরিফিন ভাইকে তোর থেকে কেড়ে নিবো? আর আমি কোন যোগ্যতায় কেড়ে নিবো? ভেবে চিন্তে কথা বল প্রীতি। আমার না তোর মতন রূপ আছে আর না তোর মতন গুণ। কি দেখিয়ে আমি তাকে কেড়ে নিবো বল?"

উচ্চস্বরে গর্জে উঠলো প্রীতি। টেবিলের উপর সজোড়ে দুই হাত রেখে উঠে দাড়িয়ে পড়লো। এত জোড়েই আঘাত হানে যে টেবিলে উপস্থিত বাকি তিনজনও কেঁপে উঠে। রাগান্বিত হয়ে একটু উঁচু সুরেই কথা গুলো বললো প্রীতি—

-"হ্যাঁ তুই ঠিক বলেছিস। আমার মতন রূপ গুণ তোর নেই। কিন্তু মেয়েলি শরীর তো তোর আছে উমাইরা। আর ওই শরীরের লোভ-লালসা দেখিয়েই তুই আমার ভালোবাসকে কেড়ে নিয়েছিল। তুই একটা চরিত্রহীন মেয়ে উমাইরা। ছেলেদের বশীকরণ করতে তুই খুব ভালো ভাবেই জানিস। একটা ছেলেকে বিছানায় নেওয়া তোর বা হাতের খেল, সেটা কি আমি জানি না মনে করেছিস তুই?"

মুহূর্তেই বিগড়ে গেলো উমাইরার ঠান্ডা মেজাজ। চক্ষুদ্বয় লাল বর্ণ ধারণ করেছে। রাগে শ্যামলা মুখশ্রী ও লাল হয়ে গেছে। নিজেও টেবিলে সজোড়ে আঘাত হেনে উঠে দাঁড়ালো। প্রীতিকে থাপ্পড় দেওয়ার উদ্দেশে হাত উঠিয়েছে। প্রীতি চোখ-মুখ খিঁচে বন্ধ করে রেখেছে। হঠাৎই দু’বার ঠাসসস, ঠাসসস! শব্দ তুলে বাতাসে প্রতিধ্বনি বেজে উঠল।

কিন্তু কই প্রীতি তো কোনো আঘাত অনুভব করলো না। তবে কি তার গালে চোরটি পড়ে নি? চোখ খুলে মুখ তুলে তাকালো প্রীতি, পাশেই অয়ন দাঁড়িয়ে। উমাইরার হাত ধরে উমাইরাকে পর পর দুটো থাপ্পড় লাগিয়েছে। রাগে ফুঁসছে অয়ন। প্রীতি বুঝতে পড়ল তার দিকে এগিয়ে আসা হাত প্রতিহত করেছে অয়ন। সম্মুখে তাকিয়ে দেখলো উমাইরা থাপ্পড় খেয়ে মুখটা এক সাইডে বেঁকে গেছে। গেলে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

হঠাৎ শোরগোলে থমকে গেল রেস্টুরেন্টের কোলাহল।উপস্থিত সবাই তাকিয়ে আছে কর্ণারের টেবিলের দিকে, হতভম্ব দৃষ্টিতে। যেখানে উপস্থিত উমাইরা, প্রীতি, অয়ন, রাইসা ও লামিয়া। আকস্মিক অয়নের আগমনে অবাক হয়েছে প্রীতিরা। তার চেয়েও বেশি অবাক হয়েছে অয়নের করা কাজে।

পুরুষালি হাতের শক্ত দুটি চোর খেয়ে বিস্ময়ের প্রচণ্ড প্রভাবে সম্পূর্ণরূপে স্তম্ভিত উমাইরা। নির্বাক ও নিশ্চেতন হয়ে গালে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রইল। নয়নপটে প্রতিফলিত এক অতীন্দ্রিয় হতবাক। হৃদয়ে উদ্গত অপ্রতিহত আবেগের উচ্ছ্বাস, যা তাকে স্থাণুর ন্যায় অচল করে দিয়েছে।

বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে, কেবল নিস্তব্ধতায় নিমজ্জিত চারি পাশ। নিজের গাল থেকে হাত সরিয়ে সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা মানবটির পানে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো উমাইরা। বিস্ময় কাটিয়ে উঠে, নিজেকে ধাতস্থ করল উমাইরা। না চাইতেও অক্ষিকুটুর থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। ভাইয়ের উদ্দেশে প্রশ্ন করলো—

-"কেনো মারলে আমায়?"

রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে অয়ন। রাগে সারা শরীর কাঁপছে অয়ন। চিৎকার করে বলতে লাগলো—

-"অভদ্র মেয়ে, এই শিক্ষা দিয়েছি তোকে আমরা? কোন সাহসে তুই প্রীতির গায়ে হাত তুলিস? কে দিয়েছে তোকে সেই অধিকার?"

অশ্রুসিক্ত নয়নে, কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে উমাইরা উচ্চারিত করছে প্রতিটি শব্দ—

-"ভাইয়া... আ..আমি..."

-"চুপ, একদম চুপ! আর একটা শব্দ উচ্চারণ করবি না তুই। তোকে আমার মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছে। এত আদর ভালবাসা দিয়ে তোকে লালন পালন করেছি এই দিন দেখার জন্য? হতে পারে প্রীতি তোর বান্ধবী, কিন্তু প্রীতি আমার হবু বউ। কোন সাহসে তুই নিজের বড় ভাইয়ের বউয়ের গায়ে হাত তুলতে যাস। বেয়াদব, বাড়ি চল তুই তোর পিঠের ছাল আমি তুলে ফেলব। প্রচণ্ড শিক্ষার অভাব হয় গেছে তোর। এখনো সময় আছে নিজেকে শুধরে নে, নিজের চরিত্রও শুধরে নে। জীবনে পস্তাতে হবে না হলে।"

প্রচণ্ড রাগে ক্ষুব্ধ হয়ে কথা গুলো বললো অয়ন। কথা গুলো বলে থেমে জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে। মাত্রতিক রেগে গিয়েছে অয়ন। গতকাল রাতেই প্রীতি তাকে বলেছিল ক্লাস নাইনের ঘটনাটা। সেই থেকে রেগে আছে উমাইরার ওপর।

ভয়ে জেঁকে ধরেছিল অয়নকে, একবার যদি ওয়াসিফ ভাই জানে খেয়ে ফেলবে উমাইরাকে। আজ বার ভার্সিটিতে গেঞ্জাম হয়েছে। সব মিলে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত মেজাজে ছিল অয়ন। বন্ধুদের নিয়ে একটু ফ্রেস এয়ার নেওয়ার জন্য এইদিকে এসেছিল। ক্ষুধা লাগায় রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে।

আর প্রবেশ করেই চোখের সামনে দৃশ্যপট দেখে থমকে যায়। প্রীতি ও উমাইরা তর্কাতর্কি করছিল, এক পর্যায়ে উমাইরা হাত উঠিয়ে ফেলে, সেটা দেখে নিজেকে আর সংযত করতে পারেনি অয়ন। সব রাগ ঝেড়ে ফেলেছে ছোট বোনের ওপর।

আপন বড় ভাইয়ের মুখে নিজের চরিত্র নিয়ে কথা শুনে দৃষ্টি ঘুরিয়ে তাকালো প্রীতির দিকে। যে এখন অয়নের বহু আঁকড়ে ধরে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। পুরো রেস্টুরেন্টে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে নিলো উমাইরা, সবাই তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।

মাথা নিচু করে নেয় সে, তারপর কাঁধে বাগ টা নিয়ে মাথা তুলে তাকায় নিজের বড় ভাইয়ের পানে। লামিয়া, রাইসা ও প্রীতির পানেও একবার টাকায়। তার দৃষ্টিতে শূন্যতা ছিল, অভিমান, কষ্ট।

বাকরুদ্ধ উমাইরা, প্রতিটি অপবাদ ছিল মিথ্যা, প্রতিটি অপমান ছিল অন্যায়। কাউকে আর কিছু বলার নেই উমাইরার। নিজের ক্ষতবিক্ষত হৃদয়টা নিয়ে শেষ বারের মতন সবাইকে একবার দেখে মাথা নিচু করে বেরিয়ে আসলো রেস্টুরেন্ট থেকে।

সবার দৃষ্টি স্থির হয়ে রয়েছে উমাইরার চলে যাওয়ার পানে। শুধু তাকায় না অয়ন, রাগে এখনো তার শরীর জ্বলছে। কোনো দিকে না তাকিয়েই বেরিয়ে পড়ল রেস্টুরেন্ট থেকে। বার কয়েক ডেকেছে প্রীতি কিন্তু অয়ন শোনে নি, ফিরে তাকায় নি, চলে গেছে নিজের বাইকটা নিয়ে।

ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়ল প্রীতি। লামিয়া রাইসা নিজেদের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে বসে পড়ল। তাদের সবার দৃষ্টি শূন্য, কি থেকে কি হয়ে গেলো! এমনটা তো কেও চায় নি। এত ক্ষোভ জমা ছিল প্রীতির মনে কেউ বুঝতেই পারে নি। এক বান্ধবীর কথা শুনে অন্য বান্ধবীকে এত ভুল বুঝল? শুধু কি ভুল বোঝা, এত অপমান এত অবহেলা করলো।

----------------------------

উমাইরা বাসায় এসে সোজা নিজের রুমে চলে গেল। কিছুক্ষণ থম ধরে বসে রইলো, দৃষ্টি তার মেঝেতে নিবদ্ধ। মনে মনে একটি পরিকল্পনা কষে নিলো। হঠাৎ ফ্লাইটের কথা মনে পড়লে ঘড়িতে সময় দেখে নিলো। সময় হয়ে গেছে, আর তিন ঘণ্টা পর ফ্লাইট। উমাইরা উঠে চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে এসে, ল্যাগেজটা নিয়ে বেরিয়ে পরলো বাবা-মায়ের রুমের উদ্দেশে।

আজাদ রহমান ও রুমানা বেগম মন খারাপ করে বসে আছেন। আজকে মেয়ের চলে যাবার দিন, মেয়েকে ছাড়া কিভাবে থাকবেন তারা? বড়ো আদরের মেয়ে তাদের।

দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ দুজনের হুস ফেরে। চোখের পানি মুছে নিজেদের ঠিক থাক করে ভেতরে আসার অনুমতি দেন।

উমাইরা এসে দরজায় নক করলে, ভেতর থেকে তাকে আসতে বলার অনুমতি দেন। উমাইরা ভেতরে প্রবেশ করে বুঝতে পারে বাবা-মায়ের মনোভাব। তারা যে এতক্ষণ কাদছিল বেশ বুঝতে পারল।

বাবা-মাকে পাশাপাশি বসিয়ে, উমাইরা হাঁটু গেড়ে মেঝেতে বসলো। অতঃপর বাবা-মা দুজনের দুটো হাত নিজের হাতের মধ্যে পুড়ে দৃষ্টি-পাত করলো তাদের পানে। মায়ের চোখে অশ্রু চিকচিক করছে। বাবা সঙ্গোপনে অশ্রু মুছে ফেলেছেন। নিজেকে সামলে লম্বা একটা শাস নিলো উমাইরা তারপর বলতে লাগলো—

-"আমি তোমাদের অনেক ভালোবাসি। আমি তোমাদের যোগ্য মেয়ে হয়ে উঠতে পারি নি, আমকে ক্ষমা করো। আমি খুব স্বার্থপর, নিজের শখ পূরণের জন্য তোমাদের কষ্ট দিচ্ছি। আমার জন্য আজকে তোমাদের চোখে অশ্রু। আমি নিজেকে হয়তো কখনো ক্ষমা করতে পারবো না, তোমাদের আঘাত করার জন্য। তোমরা পারলে আমাকে মাফ করে দিও।"

বাবা-মায়ের দিকে দৃষ্টি রেখে কথা গুলো বলছে উমাইরা। অবাধ্য অশ্রু কথা শোনে না, গড়িয়ে পড়ছে সমান তালে। মেয়ের কথা শুনে রুমানা বেগম উচ্চশব্দে কেঁদে দিলেন। মাথা নাড়িয়ে না বোঝাচ্ছেন "তুই অযোগ্য নোস মা। তুই আমদের গর্ব, আমদের স্বপ্ন, আমদের লক্ষী মেয়ে।"

মাথা ঝাড়া দিয়ে নিজের চোখের পানি মুছলো উমাইরা, মায়ের চোখের পানি মুছে দিলো দুহাত দিয়ে। কপালে এঁকে দিলো ছোট্ট একটি চুমো। তারপর আবার ও বলতে লাগলো—

-"চোখের পানি ফেলো না মা, অনেক মূল্যবান চোখের পানি অপাত্রে দান করো না।"

একটু দম নিয়ে আবারও বলতে লাগলো—

-"তোমাদের দুজনের কাছে আমার একটা আবদার আছে তোমরা কি সেই আবদার রাখবে?"

নিজেদের চোখের পানি মুছে নিলো আজাদ রহমান ও রুমানা বেগম। তারপর মেয়েকে আদর করে মাথায় হাত রাখলেন আজাদ রহমান। দুজনেই একসাথে বললেন—

-"বল মা, কি আবদার তো বল আমরা সব রাখবো সব।"

বাবার স্নেহের হাত মাথার ওপর পেয়ে মলিন হালসো উমাইরা। তারপর মাথা থেকে হাত নামিয়ে নিজের হতে রাখলো। বাবার দিকে তাকিয়ে বলল—

-"আমি কোথায় যাচ্ছি, কেনো যাচ্ছি, কবে ফিরব, এইসব কথা তোমরা কাউকে বলবে না। তোমরা দুজন ছাড়া কেউ জানে না আমি আজ চলে যাচ্ছি। আমাকে যদি তোমরা ভালোবাসো তাহলে এই কথা তোমরা দুজন ছাড়া কোনো কাক-পক্ষী ও যেনো জানতে না পারে। কথা দাও আমায়।"

মেয়ের কথা শুনে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই প্রচণ্ড রকমের অবাক হয়েছেন। মেয়ে তাদের এইসব কি বলছে? কেনো বিষয় টা গোপন রাখতে বলছে? আজাদ রহমান ও রুমানা বেগম একে অন্যের দিকে অজ্ঞতার ধোঁয়াশায় ঢেকে থাকা মনে কৌতূহলের আলো নিয়ে তাকিয়ে ছিল। আজাদ রহমান গলা খানিকটা খাঁকারি দিয়ে স্পষ্ট স্বরে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলেন—

-"কেন এমন বলছ তুমি? বিষয়টা কেন গোপন রাখতে চাইছো? এমন কিছু কি হয়েছে যা আমরা জানি না? কি হয়েছে? তুমি আমাদের বলতে পারো উমাইরা। আমরা সব সময় তোমার পাশে আছি। তুমি নির্দ্ধিধায় আমাদেরকে সবটা বলো।"

-"কিছু হয় নি আব্বু! আমি শুধু চাই কেউ না জানুক আমি কোথায় ও কেনো গিয়েছি। এটুকুই তো চেয়েছি তোমাদের কাছে। প্লিজ আব্বু আমকে আর কিছু জিজ্ঞাসা করো না। আমি শুধু চাই বিষয়টা গোপন থাক।"

-"বেশ ঠিক আছে! তুমি যেহেতু বলতে চাইছো না, আমরা আর তোমাকে জোর করবো না। তুমি যেমনটা চাইছো তেমনটাই হবে কথা দিলাম তোমায়।"

আজাদ রহমান ও রুমানা বেগম উমাইরাকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিতে এসেছেন। উমাইরা পথি-মধ্যে একটি শপিং মলে গাড়ি থামিয়েছিল। তারপর নেমে গিয়ে নতুন একটি ফোন কিনছে। পুরোনো কোনো স্মৃতিই সে আর রাখবে না।

এয়ারপোর্টে এসে ইমিগ্রেশন কমপ্লিট করে বসে আছে। নিজের নতুন ফোনে পরিবারের সকলের কিছু ছবি ও জরুরি ডকুমেন্টস এড করে পুরাতন ফোনটি ফ্লাস মেরে দিয়েছে। মাইকে ঘোষণা হচ্ছে, কানাডা যাওয়ার ফ্লাইটটি কিছু ক্ষণের মধ্যেই আকাশ পথে যাত্রা শুরু করবে। উমাইরা ল্যাগেজ হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো, পথি-মধ্যে একটি ডাস্টবিনে পূরতন ফোনটা ফেলে দিলো।

পিছনে একবার তাকিয়ে আবারও হাটা ধরলো উমাইরা। আপন মনে বিড়বিড় করছে, আর ফিরে আসব না আমি। ক্ষমা করো আব্বু-আম্মু তোমাদের অযোগ্য সন্তানকে। নতুন করে গড়ে তুলব আমি নিজেকে। আমিরা রহমান উমাইরার জীবনে বন্ধু প্রবেশ নিষেধ।

মানুষ পৃথিবীতে একাই আসে আবার একাই চলে যায়, সঙ্গে করে কিছু নিয়ে যেতে পারে না। আমিও এখন থেকে একা বাঁচবো। মানুষের প্রয়োজন নেই আমার। আর না আছে কোনো বন্ধুর প্রয়োজন না কোনো ভালোবাসার। মিথ্যে অপবাদ জনসম্মুখে করা অপমান সারাজীবন মনে রাখব। ক্ষতবিক্ষত হৃদয় নিয়ে চললাম আমি। আর দেখা পাবে না কেউ আমার।

------------------------------

রাত ১১ টায় বিধ্বস্ত অবস্থায় বাসায় ফিরেছে অয়ন। ডাইনিং রুমে রুমানা বেগম খাবার নিয়ে বসে আছেন। উমাইরা চলে গেছে, সেই শোকে রুমানা বেগমকে বিধ্বস্ত লাগছে। তারপরও ছেলের জন্য বসে আছেন।

অনেক রাত করে বাড়ি ফিরেছে অয়ন, সচরাচর এত রাত করে না, তাই রুমানা রহমান অনেক টেনশন করছিলেন। ছেলেকে আসতে দেখে উঠে এগিয়ে আসলেন। ছেলের বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখে চিন্তিত বদনে ছেলের মাথায় ও মুখে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন—

-"কি হয়েছে বাবা? তোকে এমন লাগছে কেনো? কোথায় ছিলি এত রাত অব্দি?"

-"কিছু হয় নি মা! তুমি এত রাগ অব্দি জেগে আছো কেনো অসুস্থ হয়ে যাবে তো। মায়ের হাত মাথার থেকে নামিয়ে নিজের হাতে রেখে বলল অয়ন।"

-"তুই বাহিরে আর আমি ঘুমাবো কি করে বল? চিন্তা হয় তো। তারওপর উমাইরাটাও...।" আর বলতে পারলেন না রুমানা বেগম। মেয়েকে দেওয়া কথার বরখেলাপ হয়ে যাচ্ছিল প্রায়। তাই নিজেকে সংযত করে ছেলেকে খাবার খাওয়ার জন্য তাগাদা দিলেন।

অয়ন ও আর বেশি কথা বাড়ালো না। বোন যে তার কেঁদে ভাসিয়েছে বেশ বুঝতে পারল। সেই জন্যই মা ওই ভাবে বোনের কথা বলতে গিয়েও বলল না। তবে মাকে কিছু বলে নি সেটাও বুঝল। তাই চুপচাপ অল্প খেয়ে মাকে ঘুমতে পাঠিয়ে চলে আসলো ওপরে।

একবার ভাবলো বোনকে দেখে যাবে, তাই উমাইরার রুমে টোকা দিলো। টোকা দিতে গিয়ে খেয়াল হলো দরজাটা খোলা। দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করে কাউকে পেলো না, পুরো রুম অন্ধকারাচ্ছন্ন। ভাবলো হয়তো বারান্দায় আছে, কিন্তু বারান্দায় নেই। পড়ে ভাবলো হয়তো মনির বাসায় গেছে রাগ করে।

ব্যাপার না! কালকে কিছু চকলেট নিয়ে বোনের সামনে দাড়িয়ে সরি বললেই বোনের রাগ গোলে জল হয়ে যাবে। তাই আর অপেক্ষা না করে নিজের রুমে এসে শুয়ে পড়ল অয়ন।

---------------------------

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই অয়ন হাতে চকলেট নিয়ে হাজির হয়েছে মনির দুয়ারে। রাহেলা বেগম এতো সকালে ভাইপোকে দেখে অবাক হলেন কিছুটা। ভিতরে আসতে বললেন অয়নকে। তারপর দুজনেই সোফায় বসলেন। রাহেলা বেগম কিছুটা কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন—

-"কিরে অয়ন, সাতসকালে হাজির হয়েছিস? কি ব্যাপার হ্যাঁ? আজকে সকল সকাল মনির কথা মনে পড়ল নাকি?"

অয়ন হাসি মুখে উত্তর করলো—

-"হ্যাঁ মনি! মনে তো সব সময়ই পরে, ভার্সিটির পড়ার চাপের কারণে আসতে পারি না গো। আচ্ছা মনি উমাইরাকে ডেকে দাও ওর জন্য চকলেট নিয়ে এসেছি।"

রাহেলা বেগম চমকে উঠে বলল—

-"উমাইরা তো আসে নি বাপ। ও তো নেই এখানে। কিছু হয়েছে অয়ন? উমাইর বাসায়া নেই?"

অনয়ের চোখে বিস্ময়, মনে দ্বিধা, সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় দাঁড়িয়ে পড়ল—

-"কি বলছ মনি! উমাইরা তো কালকে তোমাদের বাসায় আসলো।"

-"কি বলছিস! উমাইরার তো আসার কথা ছিল না। আমাকে তো ফোন করে কিছু বলল না। কি হয়েছে বলত অয়ন, উমাইরা বাড়িতে নেই? রুমানা তো আমকে কিছু জানালো না!" রাহেলা বেগম অনেকটা উদ্বিগ্ন হয়ে চিন্তিত সুরে কথা টি বললেন।

অয়ন কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। বোনতো বাসায় নেই। তাহলে গেলো কোথায়? বাবা-মা ও এত নিশ্চিন্ত কিভাবে তাহলে? নিশ্চয়ই তারা সব টা জানে। অয়ন আর কিছু ভাবতে পারলো না, উল্টো ঘুরে ছুটে গেলো বাড়ির উদ্দেশে। রাহেলা বেগম ও কিছু বুঝে উঠতে পারল না, তাই তিনিও উঠে ছুটলেন ভাইয়ের বাড়ির উদ্দেশে।

বাড়িতে এসেই অয়ন চিৎকার করে মাকে ডাকতে শুরু করলো। অয়নের পিছু পিছু রাহেলা বেগম ও চলে এসেছেন। ছেলে চিৎকার শুনে রুমানা বেগম রান্না ঘর থেকে ছুটে এসেছেন—

-"কি হয়েছে অয়ন, এইভাবে চিৎকার করছো কেনো?"

-"উমাইরা কোথায় মা? মনির বাড়িতে উমাইরা নেই। তোমারা সকলে এত শান্ত কিভাবে তোমাদের কি চিন্তা হচ্ছে না? চিন্তা যেহেতু হচ্ছে না তার মনে তোমরা জানি বোনু কোথায়। বলো মা উমাইরা কোথায়?"

-"চলে গেছে উমাইরা।" নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন রুমানা বেগম।

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লেন রাহেলা বেগমের ও অয়নের। কি বলছে কি তার মা? উমাইরা চলে গেছে? কোথায়? অধৈর্য হয়ে প্রশ্ন করল রাহেলা বেগম ও অয়ন—

-" চলে গেছে মানে? কোথায় চলে গেছে?"

মাথা নিচু করে নিলেন রুমানা বেগম। তারপর ঝাপসা চোখে তাকালেন সম্মুখে—

-"বলতে নিষেধ করছে উমাইরা। আমাদের থেকে ওয়াদা নিয়ে গেছে ও। কালকে রাতের ফ্লাইটে চলে গেছে।"

-"কিন্তু হঠাৎ কি এমন হলো যে ওর এইভাবে চলে যেতে হলো? তাও আবার কাউকে কিছু না জানিয়ে!" বিস্মিত হয়ে জানতে চাইলেন রাহেলা বেগম।

-"জানি না আপা! কিছু বলে নি আমাদের শুধু বলেছে কাউকে কিছু না বলতে। আপনার ভাইও ওয়াদা করেছেন, তাই আমরা কাউকে কিছু জানাই নি।"

অয়ন হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছে। মুখে হাত দিয়ে চিৎকার করে কাদঁছে। কি করে ফেলেছে সে? এত বড় অন্যায়! নিজের আপন বোনের সাথে করে ফেলেছে অয়ন।

সবার সামনে ওকে থাপ্পড় মারে উচিত হয়নি অয়নের। অন্যের রাগ বোনের ওপর ঝেরেছে অয়ন। নিজেকে বড্ড অপরাধী লাগছে তার।

রাগ কমার পরই বুঝেছিল অয়ন অন্যায় করেছে। তাই তো বোনের কাছে মাফ চাইতে গিয়েছিল। কিন্তু গিয়ে বোনকে আর পেলো না। চলে গেছে তার বোন! তারওপর অভিমান করে চলে গেছে।

অয়নের আহাজরির অর্থ বুঝলেন না রাহেলা বেগম ও রুমানা বেগম। বোনের চলে যাওয়ার কথা শুনেই কি এই অবস্থা নাকি অন্য কোনো রহস্য আছে এতে? রুমানা বেগম গিয়ে ছেলের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলেন। ছেলের মাথায় হাত রেখে শান্ত ভঙ্গিতে বললেন—

-"কি হয়েছে অয়ন? এইভাবে কাদছো কেনো তুমি? কি লুকাচ্ছো আমাদের থেকে বল?"

অয়ন চোখ তুলে চাইলো মায়ের মুখের পানে। শক্ত করে মাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাদতে লাগলো অয়ন। অয়নের এই কান্নায় অবাক হলেন রাহেলা বেগম ও রুমানা বেগম।

অয়নের কানানর শব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো স্নিগ্ধা, স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছিল সে। আজাদ রহমান ও বেরিয়ে এসছেন। অয়নের এমন বিধস্ত অবস্থা দেখে বোনের মুখো পানে তাকালেন।

চোখের ইশারায় বোঝালেন "কি হয়েছে অয়নের? এইভাবে কাদঁছে কেনো?" রাহেলা বেগম মাথা নাড়িয়ে বুঝালেন তিনি জানেন না।

ঠিক সেই সময়ে বাড়িতে আগমন ঘটে রাইসা, লামিয়া ও প্রীতির। তারা অয়নের জর্জরিত ও শোচনীয় অবস্থা দেখে থমকে গেলো। সদর দরজায় উপস্থিত তিন রমণীর পানে কারো খেয়াল নেই।

অয়ন নিজেকে সামলে নিয়ে তার মাকে ও উপস্থিত সকলকে কালকের ঘটনাটা বিশ্লেষণ করলো। অয়নের কথা শুনে মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে গেলো। আজাদ রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে তেড়ে আসলেন ছেলের কাছে।

অয়নের কোলার ধরে উঠেই বসিয়ে দিলেন এক চোর। রুমানা বেগম হতবুদ্ধি, বিস্মিত ও কিংকর্তব্যহীন অবস্থায় দাঁড়িয়ে পড়লেন। রাহেলা বেগম কি বলবেন বুঝতে পারছেন না, স্তম্ভিত হয়ে দাড়িয়ে আছেন তিনিও।

-"কেন? কি করেছিল আমার মেয়ে কেন তুমি ওকে জনসমুখে আঘাত করলে? কেনো ওকে সবার সামনে অপদস্ত ও অপমান করলে? বল কোন সাহসে? আমার মেয়েটা এত কষ্ট ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে চলো গেলো আর আমি বুঝতেই পারলাম না? ব্যার্থ, আমি একজন ব্যার্থ পিতা।"

বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন। স্বামীর কান্না দেখে রুমানা বেগম ও আঁচলে মুখ লুকিয়ে কাদঁছে। রাহেলা বেগম এগিয়ে আসলেন। ভাইকে বোঝতে লাগলেন। ওপর দিকে অয়ন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে।

হঠাৎ স্নিগ্ধা প্রীতিকে দেখে বলে ফেলল "প্রীতি ভাবী"। স্নিগ্ধার কথায় সবাই সদর দরজার দৃষ্টিপাত করল। প্রীতি, লামিয়া, রাইসা দাঁড়িয়ে আছে। সবার চোখেই অশ্রু।

কালোমেঘে ঢেকে আছে তিনজনের মুখশ্রী। তিনজনেই ধীর পায়ে ভেতরে প্রবেশ করলো, অয়নের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। প্রীতি রাইসা ও লামিয়া তিনজনই আজাদ রহমান ও রুমনা বেগমের দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন—

-"আমাদেরকে ক্ষমা করুন আংকেল-আন্টি। আমরা না বুঝে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি।"

ওদের কথা শুনে সবাই স্থির হয়ে গেলেন। বিস্ময়ে ভরা চোখে তাকিয়ে আছেন। রাহেলা বেগম, আজাদ রহমান ও রুমানা বেগম একে অন্যের দিকে দৃষ্টি বিনিময় করলেন।

এদিকে অয়নও কিছু বুঝতে পারছে না। আজাদ রহমান কৌতূহল দমন করতে না পেরে চোখ মুছে প্রীতির উদ্দেশে বললেন —

-"কি হয়েছে মা, তোমরা সবাই ক্ষমা চাইছো কেনো?"

প্রীতি কান্নায় ভেঙে পড়ল। তারপর দুই হাতে চুখ-মুখ মুছে বলতে শুরু করল সব। ড্রইং রুমে উপস্থিত সকলেই কিংকর্তব্যবিমূঢ়, স্তম্ভিত হয়ে গেছেন সকলেই।

ড্রয়িং রুম জুড়ে এক স্তব্ধ নীরবতা বিরজমান করছে। প্রীতি ফুঁপিয়ে কেঁদেই চলেছে। সে বুঝতে পেরেছে সে ভুল করছে। হিংসা থেকে এত কিছু করে ফেলেছে। নিজের সব চেয়ে প্রিয় বান্ধবীর সাথে অন্যায় করেছে। নিরবতা ভেঙ্গে অয়ন প্রশ্ন করল—

-"কেনো করছ আমার বোনের সাথে এমন? কি ক্ষতি করেছিল আমার বোন তোমার? নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসতো তোমায়। তোমাদের জন্য কি না করেছে ও? সব সময় তোমাদের পাশে থেকেছে। আর তার সাথেই কি-না এমন করলে তোমরা?"

আধফোটা প্রেমের ফুল পর্ব ৪ গল্পের ছবি