তুমি কোন কাননের ফুল

পর্ব - ৯

🟢

গান,,এমন এক অনুভূতির নাম যার দ্বারা রন্ধ্রে রন্ধ্রে মানুষ নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে পারে।গানের প্রতিটি লাইন দিয়ে নিজেদের অনুভুতিও জানান দিতে পারে।

সেই রকমই এক গান নিয়ে মঞ্চ কাঁপাচ্ছে মাহবুব সাফেদ।কত শত হাত দুলছে তার গানের তালে।কত কত প্রেমিক যুগল নিজেদের প্রেমময় অনুভুতির জানান দিচ্ছে সেই গানেরই তালে।

চার ধরনের মনোভাব নিয়ে দুই জোড়া কপোত-কপোতী দাড়িয়ে আছে স্টেজের সামনের দিকটাতেই।মাঝখানে উষ্ণ আর প্রচ্ছদ,তাদের দু পাশে অভ্রা আর প্রীথুলা।

অন্তর কাপে অভ্রার।অনেকটাই বেশি ব্যথা অনুভুত হয় প্রচ্ছদকে দেখলে।কিন্তু বেহায়য়া দৃষ্টি দিয়ে প্রচ্ছদের দিকে বার বার তাকানোটা সহ্য হলো না প্রীথুলার।অভিনব পদ্ধতিতে অভ্রাকে কাবু করার কায়দা করলো।

ভরা মাঠে চুম্বনে লিপ্ত হলো প্রচ্ছদের সাথে।প্রচ্ছদও যেন বুঝতে পেলো, এটা ভালোবাসা নয়,শুধুই অভ্রাকে ঘায়েল করার কায়দা।তাই নিজেও বাঁকা হেসে সায় জানালো প্রীথুলার ডাকে।আড় চোখে অভ্রার দিকে তাকালোও দুজনে।মেয়েটা কি এই মুহুর্তেই চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরাবে??

নাহ,,ধারনা ভুল হলো প্রচ্ছদের।মেয়েটা কাদলো না।বরং মুখে ফুটিয়ে তুললো এক আরঙ্গন হাসি।নির্লিপ্ত হেসে দৃষ্টি দিলো সামনে।মনের ভেতরটা তার লঙ্কাগুড়ো ডলছে যেন কেউ।তবুও হাসি খানা আড়াল করলো না মুখ থেকে,গোপনেই অনুভব করলো নিজের কষ্টগুলো।

দৃষ্টি সামনে থাকলেও সবটাই অক্ষিকোটরে নিবদ্ধ হলো উষ্ণের।তার দু পাশের দুটো মানুষের মনোভাবও টের পেলো খুব।তবে ঠোঁটের কোনে একটুখানি হাসির রেখা তারও ফুটলো যখন অভ্রা সামনে তাকিয়ে নীরবে হাসছিলো।

কিয়াৎক্ষন সময় অতিবাহিত হলো।গানের মাঝে হঠাৎই স্টেজে থাকা একজনের ইলেকট্রনিক গিটারটার আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেলো।শব্দ কটু হওয়ার কারনে মাহবুব সাফেদ গান গাওয়া বন্ধ করলো।ছোট খাটো ইলেকট্রনিক সর্ট সার্কিট হয়েছে সকেটে স্টেজের কোনে।স্টেজ থেকে বারবার ইলেকট্রিকের লোককল ডাকা হচ্ছে, কিন্তু একি,,আশেপাশে কেউই নেই তেমন।

অভ্রা খেয়াল করলো বিষয়টি।দ্রুত ফোন করলো টুটুলের নম্বরে,দু বার,তিন বার,চারবার।টুটুল কলই ধরলো না।উষ্ণের দিকে তাকালো অভ্রা।

"আমি আসছি একটু...."

বলেই দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলো স্টেজের দিকে।স্টেজের কোনায় উঠল ইলেকট্রিক জিনিস পত্রের সামনে বসে কিছু একটা করতে লাগলো।একটুপর একজন ইলেকট্রিকের লোকও ছুটে গেলো সেখানটায়।তার দিকে তাকিয়ে অভ্রা বললো...

"গিটার চেক করতে বলুন।'

লোকটি তাই করলো।ঠিকঠাকই বাজছে গিটারটা।ঠোঁট গোল করে নিঃশ্বাস ফেলে হাত ঝাড়া দিয়ে উঠে দাড়ালো অভ্রা।নামতে নিলেই স্টেজ থেকে কারোর ডাকে থেমে গেলো তার পা...

" হেই অভ্রায়ীনি মজুমদার?? "

স্বয়ং মাহবুব সাফেদ অভ্রার নাম ধরে ডাকছে, তাও মাইক্রোফোন হাতে।বিষয়টায় অবাক না হয়ে পারলো না প্রচ্ছদ।উনি অভ্রাকে চেনে?কিভাবে?

উষ্ণও কিন্চিৎ অবাক।তবে খুশিও হলো সে।তার হবু বউ অভ্রা,পরিচিত হওয়ায় বেশ প্রাউড ফিল করলো উষ্ণ নিজেও।

অভ্রা ফিরলো মাহবুব সাফেদের দিকে।লোকটি হাতের ইশারায় সামনে ডাকলো অভ্রাকে।অভ্রাও ভদ্রতার খাতিরে এগিয়ে গেলো হালকা হেসে।তা দেখে মাহবুব সাফেদ লোকটি চওড়া হেঁসে হাত বাড়িয়ে দিলো অভ্রার দিকে। অভ্রাও সন্তর্পণে হাত মেলালো।

মাহবুব সাফেদ লোকটি সামনে ফিরলো দর্শকদের দিকে।চওড়া কন্ঠে মাইক্রোফোন হাতে বলে উঠলো...

''সি ইস অভ্রায়ীনি মজুমদার।এনি ওয়ান নো হার?"

হাজার হাজার লোকের ভীরে গুটি কয়েক হাত উঠলো উপরে।তারা কোনো না কোনো ভাবে চেনে অভ্রাকে।একই এলাকার মানুষ এটুকু তো চিনতেই পারে।মাহবুব সাফেদ লোকটি আবার বলে উঠলো...

"ওকেয়।,,,অভ্রায়ীনি মজুমদার।প্রায় এক বছর আগের রাঙামাটির একটা কনসার্টে দেখা হয় ওর সাথে আমার।অনেক ভালো গান গায় ও।তখন ওকে আমি বলেছিলাম আমাদের ব্যান্ডে জয়েন করার জন্য। ম্যাডাম মানা করে দিয়েছিলেন।"

অবাকতার রেশ যেন ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো প্রচ্ছদের।মনে পড়ে গেলো দু বছর আগের এক টুকরো স্মৃতি।

প্রচ্ছদ জানতো অভ্রা গিটার খুব পছন্দ করে।প্রচ্ছদ নিজেও তাই।এই অভ্রার সাথেই একদিন মজার ছলে পরিকল্পনা করলো তারা দুজন একসাথে গিটার বাজানো শিখবে।ছোট্ট অভ্রাও বিষয়টি নিয়ে খুব উৎফুল্ল ছিলো।সেই থেকে গুটি গুটি হাতে গিটার কেনার জন্য টাকা জমাতেও শুরু করলো।তবে কত হলো জানা নেই প্রচ্ছদের।শুধু এই টুকুই জানে দু হাজার টাকা জমা হওয়ার কিছুদিন পরেই এই অভ্রাকে ছুড়ে ফেলে দিলো প্রচ্ছদ।

মনে প্রশ্ন জাগলো.."আচ্ছা, অভ্রা কি আজও তার জন্য অপেক্ষা করে গিটার কেনে নি?শিখেনি এখনো?প্রচ্ছদের সাথে শিখবে বলে?,,,

"আমি অভ্রায়ীনিকে আজ আবারও একই রিকুয়েষ্ট করবো।তুমি জয়েন করবে??"

এতোক্ষণে একজন লোক এসে অভ্রার হাতে একটা মাইক্রোফোন ধরিয়েও দিয়ে গেলো।মাহবুব সাফেদের কথায় অভ্রা হাসলো একটু।সালীন ভাষায় উত্তর দিলো...

"সরি সাফেদ ভাই, আ্ আমি আসলে ইন্টারেস্টেড নই।আপনারাই অনেক ভালো ভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন তো,,,"

মাহবুব সাফেদ হালকা ব্যথাহত ভাব প্রকাশ করলেন।তারপর আবার ঠিক হয়ে বলে উঠলো...

"ওকেয়,জয়েন কোরো না,,বাট,আজ তো একটা গান গাইতেই পারো।"

অভ্রার উত্তরের আশা করলো না। অডিয়েন্সদের দিকে তাকিয়ে বললো....

"এভরিওয়ান,,,আর ইউ গায়েজ ইন্টারেস্টেড??"

সাথে সাথেই সবাই সম্মতির সুরু চেচিয়ে উঠলো।অভ্রা দ্রুত হাত নাড়িয়ে বাধা দিলো...

"না না না,,,আ্ আমি এখন গাইতে পারবো নাহ।"

বেশ জোর করলো মাহবুব সাফেদ সহ দলের অন্যান্য লোকেরাও।কিন্তু অভ্রা মানতে নারাজ।চোখ গেলো উষ্মের পানে।ছেলেটার চোখে মুখে খুশি আছড়ে পড়ছে।অগোচরে চোখের ইশারায় যেন আবদার ছুড়লো সে...

"গাও না একটা গান?"

অভ্রা বুঝে নিলে লোকটির চোখের ভাষা।ঐ ভাষাকে কেন যেন না করতে পারলো না অভ্রা।সম্মোহনী দৃষ্টি তার উপর রেখেই আস্তে করে বললো..

"গাইছি।"

খুশি হলো মাহবুব সাফেদ।হুউউ করে এক চিৎকার দিয়ে গিটার খানা এগিয়ে দিলো অভ্রার দিকে।কিন্তু অভ্রা নিলো না তা।সম্মানের সহিত মানা করলো।সমস্ত স্টেজ নীরবতায় ছুয়ে যেতেই ভারি কন্ঠে গেয়ে উঠলো অভ্রা....

"আসবার কালে কি জাত ছিলে,,,,,

এসে তুমি কি জাত নিলে??(।।)

কি জাত হবা যাবার কালে?

সে কথা ভেবে বলো না??

জাত গেলো, জাত গেলো বলে...

একি আজব কারখানা...(।।)

অন্তরখানা অজান্তেই লাফিয়ে উঠলো প্রচ্ছদের।অভ্রা কি তাকেই উদ্দেশ্য করে শব্দচয়নে ঘেরা গানটা গাইছে??

অভ্রার দৃষ্টি জোড়া যে তার দিকেই নিবদ্ধ।সত্যিই তো প্রচ্ছদের জাত গেলো।নিজ হাতেই তো জাত খুইয়েছে।

তার ব্যথিত হৃদয় আরো একটু ভাঙলো অভ্রার গানের পরবর্তী কলিতে...

" গোপনে যে বে*শ্যার ভাত খায়.

তাতে ধর্মের কি ক্ষতি হয়....(।।)

ইশশ,কি গৌড়মিলতম গানের কলি।যেন সরাসরি প্রচ্ছদকেই বলা হয়েছে।স্ফূর্তিতে জীবনের কোনো এক কালে তো সে সত্যিই গোপনের বে*শ্যা নামক জাতির কাছে গিয়েছে।তাদের মাধ্যমে নিজের পৌরুষরচিত উন্মাদনা প্রকাশ করেছে।

এ কেমন গান ধরলো মেয়েটা?আর কি গান খুঁজে পেলো না?প্রচ্ছদকে ইঙ্গিতকৃত গানটিই গাইতে হলো?তাচ্ছিল্য করলো প্রচ্ছদকে?পরোক্ষভাবে কি অভ্রা প্রচ্ছদের স্থানটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো??

গান শেষ হতেই মুহুর্তে পুরো মাঠখানা হাততালির আওয়াজে ভেষে পড়লো।ঠোঁটের কোনে বিশ্বজয়ের হাসি উষ্ণের।অন্য পুরুষ হলেও কি এভাবেই হাসতো?কখনোই না,কোন পুরুষ চাইবে তার থেকে তার স্ত্রী উঁচু পর্যায়ে যাক?কেউই চাইবে না।কিন্তু উষ্ণের মধ্যে তেমন কোনো মনোভাব লক্ষিত হলো না।উষ্ণ কি আমার থেকেও অভ্রাকে বেশি চেনে??ভেবে পেলো না প্রচ্ছদ।

দৃষ্টি দিলো সামনে স্টেজে।ঐ যে সুতো কাপড়ের সাদা রঙের একটি গোল জামা পড়া মেয়ে,উপরে হালকা কারুকাজের একটি কোটি পড়া অভ্রা,তার দিকেই।

প্রচ্ছদ মেনে নিলো,সত্যিই অভ্রা অসাধারণ গায়।অঙ্গভঙ্গিও প্রফেশনাল সিঙ্গারদের মতোই।কে বলবে?এটা তার প্রথম স্টেজ প্রোগ্রাম? সাধ্য নেই।

-----

রাত বাজে সাড়ে বারোটা।কনসার্ট চলবে দুটো,তিনটে পর্যন্ত। চাইলেই থাকতে পারতো অভ্রা।কিন্তু ইচ্ছে হলো না।টুটুলদের কেউ কেউ থাকবে,তাদের বলেই উষ্ণের সাথে বেরিয়ে এলো মাঠ প্রাঙ্গন থেকে।গাড়ি পার্ক করা একটু দুরেই,হেটে যেতে হবে।

চারজন একসাথেই হাটছিলো।কিন্তু অভ্রার সাথে প্রচ্ছদের পায়ে পা মিলিয়ে হাটাটা সহ্য হলো না প্রীথুলার।তাইতো প্রচ্ছদকে টেনে একটু পেছনে নিয়ে গেলো।তবুও যেন প্রচ্ছদের দৃষ্টি অভ্রার দিকেই।

"দেখলে,আজ আমাদের ম্যাচিং ম্যাচিং হয়ে গেছে?"

উষ্ণের কথায় তার দিকে তাকালো অভ্রা।খেয়াল করলো উষ্ণ আজ সাদা রঙের একটা ঢিলাঢালা গেঞ্জি পড়ে রয়েছে,যার হাতাও ঢিলা কনুইয়ের একটু উপর পর্যন্ত, টু কোয়াটার বলা যায়।,,হালকা ভ্রু কুচকে অভ্রা জিজ্ঞেস করলো...

"আপনি সত্যিই বিবাহ উপযুক্ত লোক?"

"কেন?"

"কি পড়েছেন এটা?কোনো বিয়ে করার পাত্রকে এসব পড়তে দেখিনি আমি।"

হেসে ফেললো উষ্ণ। বললো...

"সুন্দর লাগছে না?"

অভ্রা আড়চোখে আবারো তাকালো উষ্ণের পানে।নাহ খারাপ লাগছে না।লোকটা ধবধবে ফর্সা। কপাল,গলা,ঘার সবই ফর্সা।চুলগুলোও কেমন এলোমেলো করে রেখেছে,ভালোই লাগছে দেখতে।যে কোনো মেয়ে এখন উষ্ণকে দেখে একটাই উপাধি দেবে,,"চকলেট বয়"

মুখ ফিরিয়ে নিলো অভ্রা।লোকটা প্রচ্ছদের মতো এতো ফর্সা হতে গেলো কেন?অভ্রার সাথে তো একদম বেমানান।অভ্রার মতো কালো হলে কি খুব ক্ষতি হতো?আচ্ছা, বিয়ের পর যদি কখনো এই লোকটা অভ্রার গায়ের রঙ নিয়ে খোঁটা দেয়,তখন কি করবে অভ্রা?প্রচ্ছদ,প্রীথুলা কি আরো একটা সুযোগ পাবে,তাকে নিয়ে রঙ্গ তামাসা করার?,,,

"প্রচ্ছদ ভাইয়ের মতো একটা ভুড়ি হলে মানাতো মনে হয়?"

অভ্রার উত্তর না দেওয়ায় উষ্ণ নিজে থেকেই কথাটা বললো।পরে আবার একটু পেছনে তাকিয়ে প্রচ্ছদকেও জিজ্ঞেস করলো...

"তাই না প্রচ্ছদ ভাই?"

দূরত্ব বেশি নয়।তাই অভ্রা, উষ্ণের সকল কথাই শুনছিলো প্রচ্ছদ।শুধু শুনছিলো নয়,বরং মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো।উষ্ণের প্রশ্নে শুধু ঠোঁট এলিয়ে হাসলো একটু।অভ্রা তাকালো না তার দিকে।উষ্ণকে বললো...

"উনার মতো বিয়ের আগেই ভুড়ি বাড়াতে চান?"

ঠোঁট টিপে হাসলো উষ্ণ। কিচ্ছুটি বললো না..

"উনার থেকে টিপস নিতে পারেন।কোথায় কোথায় ভুড়ি বাড়ানোর খোদ্দের আছে।"

সুন্দর কথায় অভ্রা সুন্দর ভাবেই প্রচ্ছদের অতীত নিয়ে টান দিলো,বুঝতে পারলো এখন প্রচ্ছদ নিজেই।কিচ্ছুটি বললো না,বলার মতো মুখ যে তার নেই।

"এটা কখন জানলে?"

উষ্ণের প্রশ্নে সরাসরি উত্তর দিলো অভ্রা...

"অনার্সে উঠার পর।ইন্টারে জানলে আর ভুল রাস্তায় পা পিছলে পড়তাম না।"

কিছুদুর এগোতেই একটা মেয়ে উৎফুল্ল চিত্তে এগিয়ে এলো উষ্ণের কাছে।অভ্রা লক্ষ্য করলো উষ্ণের মুখেও হাসি,,তারা চেনে একে অপরকে।মেয়েটি এসেই হাই বলে উষ্ণের সাথে হাত মেলালো।

অভ্রা একটু সরে দাড়ালো উষ্ণের থেকে।উষ্ণকে কি মেয়েটার সাথে একান্তে কথা বলার জন্য স্পেস দিলো?,,

মনে মনে বেশ খুশিই হলো প্রচ্ছদ।অভ্রার এখনো উষ্ণের প্রতি কোনো ফিলিংসই নেই।উষ্ণ থেকে অভ্রাকে আলাদা করার জন্য এটা একটা মোক্ষম অস্ত্র। আচ্ছা, অভ্রা উষ্ণের থেকে দুরে থাকলে প্রচ্ছদের এতো ভালো লাগে কেন?,,

উষ্ণের সাথে টুকটাক কথা শেষ করে মেয়েটি এগিয়ে এলো অভ্রার দিকে।চোখে মুখে হাসি ফুটিয়ে বললো....

'হেই,,তুমিই অভ্রায়ীনি মজুমদার না??একটু আগে গান গাইলে যে??দারুন গাও কিন্তু তুমি..."

অভ্রা কিচ্ছুটি বললো না,শুধু হাসলো একটু।মেয়েটি আবারও জিজ্ঞেস করলো...

"উষ্ণদের সাথে যে?উষ্ণের গার্লফ্রেন্ড তুমি?"

অভ্রা তড়িৎ গতিতে দুদিকে মাথা নেড়ে বললো..

"নাহ।"

যেন হ্যা বললেই মেয়েটি এখন তার গর্দান নেবে।ঠোঁটে মিটিমিটি হাসি রেখে ভ্রু কুচকে তাকালো উষ্ণ। অভ্রার মনের ভাব বুঝতে একটুও সময় লাগেনি তার।মেয়েটি ভাবছে,সে কালো বলে আমি কারোর সামনে তাকে নিজের বলে পরিচয় দেবো না।কিন্তু সে কি জানে?সে যে একটা আস্ত শ্যামা সুন্দরী?,,,

"হবু বউ আমার।"

উষ্ণের কথায় মেয়েটি অদ্ভুত এক চাহনি দিলো অভ্রার পানে।বললো..

"এটা বলছো না কেন??বরকে অন্য মেয়ের সাথে কথা বলতে দিচ্ছো?কোথায় এসে হাত পেচিয়ে দাঁড়াবে ওর সাথে।তা নাহ,,,আমার জায়গায় অন্য মেয়ে হলে তো তোমার সুন্দর বরটাকে নিয়ে পালাবে,তখন কি করবে হুম??"

অভ্রা উত্তর দিলো না। আশাও করলো না মেয়েটি।উষ্ণকে বললো...

"বাই দা ওয়ে উষ্ণ,,, তোর বউটা কিন্তু ভীষন মিষ্টি,,আর বাচ্চাও।এতো মিষ্টি একটা বউ কোথায় পেলি রে??দেখিস আবার খাবলে খেয়ে ফেলিস না এই মিষ্টিটাকে।আসছি আমি, বায়য়য়..."

বলেই লাফাতে লাফাতে চলে গেল মেয়েটি।উষ্ণ এসেই হুট করে অভ্রার নাক চেপে ধরে একটু নাড়িয়ে দিয়ে বললো...

"লোকের সামনে আমায় নিজের বর বলো না কেন হুম??মাইর দেবো একদম।"

হঠাৎ উষ্ণের কাজে অভ্রা চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে ফেললো।চোখ এড়ায়নি তা প্রচ্ছদের।সেই আগের মতোই মুখ কুচকায় মেয়েটি।মনে পড়লো দু বছর আগের কথা।

একদিন ছাদ থেকে নামার সময় পাঁচ তলার দরজায় দাড়িয়েছিলো অভ্রা।প্রচ্ছদকে নামতে দেখেই হাসলো।কিন্তু প্রচ্ছদ দুষ্টুমির ছলে হুট করেই অভ্রা থুতনি চেপে ধরে নাড়িয়ে দিলো একটু।তখনও ঠিক এভাবেই মেয়েটা মুখ কুঁচকেছিল। কই তখন তো এই সামান্য জিনিস এতোটাও ভালো লাগেনি প্রচ্ছদের,,তাহলে আজ কেন মনে ধরলো এটা?মন কেন বারবার করে দেখতে চাইলো অভ্রার সেই কুঁচকানো মুখখানি?,,,,

তুমি কোন কাননের ফুল গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক রোমান্টিক গল্প