তুমি কোন কাননের ফুল

পর্ব - ৪

🟢

"আমাকে মানিয়ে নিতে পারবে আপনার পরিবার??"

নীরবতা ছাড়িয়ে অভ্রার কথাটি যেন রিনিঝিনি আওয়াজ তুললো উষ্ণের কানে,,অথচ কথাটি একদম শক্ত কন্ঠেই বলা হয়েছে।

"পরিবার বলতে মা,ছোট বোন উর্মি আর আমি।উর্মির তো আর কিছুদিন পরেই বিয়ে।আর মা...."

আর বলতে পারলো না উষ্ণ। তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো অভ্রা।

"কালো মেয়েকে ছেলের বউ হিসেবে পছন্দ হয়নি, তাই না?"

উষ্ণ ঢোক গিললো। কথা খানা বিষাদময় হলেও সত্য।তার মা যে রাজি নয় এই সম্মন্ধে। সেদিন অভ্রাকে সামাজিক ভাবে দেখে আসার পরই সবার মুখে একটাই কথা শুনেছে উষ্ণের মা প্রনতি দেবী,,,কথাটা খুব একটা মধুর নয়,,,যাকেই জিজ্ঞেস করলো সেই বললো...

"পরিবার ভালো।বাড়ির পরিবেশও ঠিকঠাক। শুধু মেয়ের গায়ের রং টা একটু চাপা আরকি।"

এই কথাটাই যেন প্রনতী দেবীর মতে বাঁধ সাধলো।তিনি জেনে শুনে কখনোই চায়না তার রাজপুত্রের মতো ছেলে একটা কালো মেয়ে বিয়ে করুক।

"কি হলো,কিছু বলছেন না যে?"

অভ্রার কথায় ভাবনা ত্যাগ করলো উষ্ণ। বললো...

"ও নিয়ে তুমি ভাবার দরকার নেই।মা ঠিক তোমায় মেনে নেবে।"

ভেতর থেকে একটা তপ্ত নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো অভ্রার।আনমনেই দিঘির কলকল পানির দিকে তাকিয়ে বললো...

"আমার প্রচ্ছেদের বিষয়ে জানার পরেও আমায় বিয়ে করতে চান?"

"চাই।যতদিন তুমি রাজি না হবে,,ঠিক ততদিন চাইবো।"

"আমাকে চাওয়ার কারন??"

উষ্ণ শীতল দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো অভ্রার শান্ত মুখশ্রীর দিকে।মুচকি হেসে বললো...

"ভালোবাসার ব্যকরনে কারনের ঠাই নেই শ্যামা ফুল।"

অভ্রা মাথা ঘুরিয়ে তাকালো উষ্ণের দিকে।লোকটা ভিষণ অদ্ভুত ভাবেই কথা বলে।বোঝা গিয়েও যেন যায় না।অভ্রার দ্বিধা বাড়ছে বই কমছে না।গত তে এতোগুলো সম্মন্ধ নির্দ্বিধায় ভেঙে দিতে পারলেও এই লোকটাকে ফেরাতে পারছে না।কি করবে অভ্রা,,রাজি হবে??নাকি না??

উষ্ণ নিচু হয়ে কয়েকটা নুড়ি কুড়িয়ে নিলো।ধীরে ধীরে একটা একটা করে দিঘির পানিতে ফেলতে ফেলতে বললো...

"এখানে আগে এসেছো??"

"হুম,অনেক বার।"

"জায়গাটা নর্মালের মধ্যে হলেও সুন্দর তাই না?"

"হুম"

"কি যেন নাম এই জায়গাটার??"

"বিজয়সিংহ দিঘির পাড়।ফেনীতে আরো একটা দিঘি আছে,,রাজাঝির দিঘি বলে ওটাকে,,ট্রাংরোডের ঐদিকে।"

"ওহ,,,জায়গাটা কাপলদের জন্য পার্ফেক্ট।"

"একা একাও সময় কাটানো যায়।"

উষ্ণ কোনা চোখে তাকালো অভ্রার দিকে।হঠাৎই ফিক করে হেঁসে দিলো সে।

"এভাবে বলার কি আছে??আমি জানি প্রচ্ছেদকে নিয়ে এখানে আসা হয়নি তোমার।"

অভ্রা উত্তর দিলো না।আনমনেই তাকিয়ে রইলো দিঘির পানির দিকে।উষ্ণও হাসি থামালো।দিঘির পানিতে নুড়ি ফেলতে ফেলতে বললো....

"ভালোবাসলে জোর করে হলেও রেখে দিতে হয়।আমি তা-ই করার চেষ্টা করছি।ফুলের মতো প্রিয় মানুষটাকে ভুল করে হারিয়ে ফেলা মানে নিজেকেই ঠকানো।আমি তা কখনোই করবো না।"

অভ্রা চকিত দৃষ্টিতে তাকালে উষ্ণের দিকে।উষ্ণও শান্ত দৃষ্টি দিলো অভ্রার পানে।বললো...

"হুম,,যেটা তুমি পারো নি।দয়া দেখিয়ে সহজেই সবার সামনে মেনে নিলে যে তুমি ভালোবাসোনি প্রচ্ছেদকে।কেন করলে এমনটা?প্রচ্ছেদ চেয়েছিলো বলে??,,অবশেষে কি হলো??দুটো বছর নিজেই পুড়েছো।"

পুরোনো স্মৃতি গুলো যেন চোখের পাতায় হানা দিয়ে উঠলো অভ্রার।একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো ..

"ভাগ্য ভালো জোর করে তাকে আটকে রাখিনি।যদি রাখতাম,,তাহলে আজ হয়তো প্রচ্ছেদ দাভাইয়ের আসল চেহারাটা চিনতে পারতাম না।"

"তা ঠিক বলেছো।আর আমিও তোমায় পেতাম না।শেষে বৌদি ডাকা লাগতো তোমাকে।"

অভ্রা ভ্রু কুচকে তাকালো উষ্ণের দিকে।জিজ্ঞেস করলো....

"মানে??"

উষ্ণ চুপ করে তাকিয়ে রইলো অভ্রার দিকে।কিচ্ছুটি বললো না।অভ্রা বুঝলো,,এই লোকটি প্রশ্নটার উত্তর দিবে না।অভ্রাও আর জোর করলো না।দৃষ্টি সরিয়ে আবারও সামনে তাকালো।বেশ কিছুক্ষণ নীরবতা ছাড়িয়ে উষ্ণ বলে উঠলো...

"সাইলেন্স হলো সব ষ্টুপিড প্রশ্নের সঠিক জবাব।আর সাকসেস হলো সব থেকে সুন্দর প্রতিশোধ।"

কথাটার মানে বোধগম্য হলো না অভ্রার।জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো উষ্ণের দিকে।উষ্ণ বললো...

"তুমি চাও প্রতিশোধ নিতে।আর সেই প্রতিশোধের উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছো খুন।কিন্তু তুমি চাইলেও প্রচ্ছেদকে খুন করতে পারবে না।একটু ভালোভাবে ভেবে দেখেছো অভ্রা? প্রচ্ছেদকে তুমি খুন করার পরে ও চিরতরে হারিয়ে যাবে।কোনো প্রকার কষ্ট থাকবে না তার।তবে কষ্ট পাবে তুমি।আর কখনো দেখতে পারবে না তাকে চোখের আক্ষেপ মেটাতে পারবে না।নিজেকেই নিজে তিলে তিলে কষ্ট দেবে।

কিন্তু প্রচ্ছেদ কখনোই জানবে না তুমি তাকে ভালোবেসে কাঙাল হয়েছো। কখনো তোমার হয়ে অনুভব করবে না কষ্টগুলো।ওর তো বোঝা উচিৎ তোমার ভেতরের যন্ত্রণা গুলো। যখনই ও নিজেও তোমার মতো পুড়ে ছাই হবে,,তখনই তোমার প্রতিশোধ নেওয়া পুর্ণ হবে।আর এর জন্য তোমার সাকসেস ওর সামনে ফুটিয়ে তুলতে হবে।যখনই ও তোমার সফলতা দেখবে,তখনই ওর কলিজা কেঁপে উঠবে।বুঝেছো? "

অভ্রার দিক থেকে কোনো প্রকার উত্তর এলো না।উষ্ণ তার সম্মতি জানার জন্য আগ্রহী হয়ে বসে থাকলেও অভ্রা বিরস করলো উষ্ণকে।কাঁধের ব্যাগটা পাশ থেকে তুলে উঠে দাড়ালো সিমেন্টে বাধানো সিঁড়ি থেকে।উষ্ণের দিকে তাকিয়ে বললো...

"আসছি।"

বলেই হাটা ধরলো। উষ্ণ উঠে পেছন পেছন আসতে আসতে বললো...

"আরেহ,,হঠাৎ উঠে গেলে যে।আচ্ছা চলো আমি পৌঁছে দিচ্ছি।"

"আমি একা চলতে জানি।"

"হুম জানি তো।পাশে কেউ না থাকলে যে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যায় তবে রাস্তা পাড় করতে জানো না,সেটাও আমি জানি।"

থেমে গেলো অভ্রা। পেছন ফিরে জিজ্ঞেস করলো...

'"এটা আবার আপনাকে কে জানালো??"

উষ্ণ হেসে বললো...

"বলেছি না??যাকে চিনি তার বিষয়ে এইটুকু খোঁজ তো রাখতেই হয়।,,,চলো।"

অভ্রা আর প্রতিত্তোর করলো না।হাটতে লাগলো উষ্ণের পাশেই।একটু পর নিজ থেকেই জিজ্ঞেস করলো...

"শুনলাম আপনার বাড়ি নাকি কুমিল্লায়।তা এখানে কোথায় থাকেন??"

"থাকার জায়গার অভাব নেই।আপাতত মামার বাড়িতেই আছি।দাগনভূইয়া নেমে নামার বাজারের ঐদিকেই।উর্মির বিয়েটা এখান থেকেই হবে।আর আমার মাসিমনিরাও দাগনভূইয়াতেই থাকে বাসা ভাড়া নিয়ে।তো চাইলে সেখানেও থাকা যায়।"

"আমারও এক মাসির বাসা দাগনভূইয়াতে।"

"হুম,,জানি তো।"

"এটাও জানেন??"

হাসলো উষ্ণ। তবে কিছুই বললো না।অভ্রাও আর প্রশ্ন করলো না।,,

-------

ক্লান্তিময় দিন শেষ করে কর্মজীবীরা সন্ধ্যায় নিজের স্ত্রী, সন্তান,পরিবারের কাছে ফিরে আসে এক চিলতে শান্তির খোঁজে। এই কথাটি আজকাল খুবই হাস্যকর ঠেকে প্রচ্ছেদের কাছে।

সে ফিরে তো আসে ঠিকই নীড়ে,কিন্তু পরিবারের কাছে তার শান্তির ছিটেফোঁটাও নেই।মনে হয় যেন বাসায় ফেরার চাইতে দোকানে থেকে যাওয়াটাই ঢের ভালো।সন্তান সে চায়,খুব করে চায় তার ঘরে একটা ফুটফুটে সন্তান আসুক।একটা কেন?একসাথে দশটা আসুক,প্রচ্ছেদের ক্লান্তিময়,হ-জ-ব-র-ল হয়ে যাওয়া জীবনটা গুছিয়ে দিক।কিন্তু প্রচ্ছেদ কি জানে?তার ক্লান্তিময় জীবন সবে মাত্র শুরু।আগামীদিন গুলো যে তার কাছে কতটা বিষের মতো হবে তা কি আদেও আচ করতে পারছে প্রচ্ছেদ?

প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী এসেই ছোট্ট ড্রয়িং রুমের সোফায় গা এলিয়ে দিলো সে।পাশেই বেলি বসে খাতাপত্রে কিছু একটার ফর্দ তৈরি করছিলো।প্রচ্ছেদকে বসতে দেখেই ডায়নিং টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি এনে দিলো।প্রচ্ছেদও তা স্বহস্তে গ্রহণ করে পান করলো।গ্লাসটা সামনের সেন্ট্রাল টেবিলের উপর রাখতে রাখতে বেলির দিকে তাকিয়ে বললো...

"কিসের লিস্ট বানাচ্ছিস?"

"সবার জন্য কেনাকাটা করতে যেতে হবে কাল।সামনে তো বিয়ে আসছে নাকি?"

হাত থেকে কলমটা খাতার উপর রেখে বেলি তাকালো প্রচ্ছেদের দিকে।বললো...

"কাল সকালে আমার সাথে ফেনীতে যেতে পারবে মামা?বাবা বলেছে তোমাকে নিয়ে যেতে,মার্কেটিং শেষ করেই দোকানে যেও।"

"ফেনীতে কেন?দাগনভূইয়া থেকেই নিয়ে নে।টুকটাক শপিংই তো।"

প্রীতি কিচেনরুম থেকে সবই শুনছিলো।এখন একটু হাক ছেরে প্রচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বললো...

"না, না,এখান থেকে নেওয়ার দরকার নেই।মেয়ের জন্যও শাড়ি, জুয়েলারী সব কিনতে হবে,সব কিছুর মানটাও তো ভালো হতে হবে তাই না?"

প্রচ্ছেদ রাজি হয়ে বললো....

"আচ্ছা,সকালে যাবো কাল।"

"আমিও যাবো?"

দরজার দিক থেকে প্রীথুলার কন্ঠ শুনে সেদিকে তাকালো প্রচ্ছেদ।হাতে গুটি কয়েক জামা কাপর।ছাদ থেকে নিয়ে নেমেছে নিশ্চই।প্রীথুলা আবারও উৎফুল্ল হয়ে বলে উঠলো...

"আমি যাবো তোমাদের সাথে।"

প্রীতি মুখ ঘুরিয়ে কড়াইয়ে মটরসুটি দিতে দিতে বললো...

"ওকেও নিয়ে যাস।"

------

"শ্যামা ফুল?"

ফোনের অপরপ্রান্ত হতে উষ্ণের টানটান ডাক শুনে হাতের কাজটা থেমে গেলো অভ্রার।কতক্ষণ কাটলো ওভাবে জানা নেই,পাশ থেকে অঙ্গের কথা শুনেই আবার স্বাভাবিক হলো সে।কন্ঠে প্রতিনিয়তের মতো শক্ত ভাব এনে বললো...

"অভ্রায়ীনি মজুমদার আমার নাম।"

নীরবে হাসলো উষ্ণ। সেই হাসি খানার কারন হয়তো কখনোই জানা হবে না এই প্রান্তের কঠোর নারীটির।,

"সু-খবরটা আপনার মুখ থেকে শুনলে বেশিই খুশি হতাম ম্যাডাম।"

অভ্রা কিছুই বললো না।এক হাতে ফোন কানে ধরে আরেক হাতে নিদারুন ছোট সাইজের ডায়নিং টেবিলটি পরিষ্কার করতে লাগলো।বিপরীত প্রান্ত হতে কোনো প্রতিত্তোর না পেয়ে উষ্ণ নিজেই আবার বললো....

"আমার মন রাজ্যের হবু রানী।আমি আমার জীবন কালের বাকিটুকু সময় আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো, আপনার জীবনের বাকীটুকু সময় আমার সাথে কাটানোর প্রস্তাবে রাজি হওয়ার জন্য। "

কথার ধরন শুনে একটু কি হাসলো অভ্রা? জানা নেই।তবে কন্ঠখানা আগে থেকে একটু খানি কোমল হলো বোধহয়।

"খুশির পরিমানটা কেমন যেন একটু বেশিই মনে হলো?"

বিছানায় এতোক্ষণ উপুর হয়ে শুয়ে ছিলো উষ্ণ। এবার একটু রয়ে সয়ে ঠিক করে শুয়ে মাথার নিচে বা হাতটা ভাজ করে রাখলো সে।বললো...

"আপনি রাজি হয়েছেন যে?ইচ্ছে পূর্ণ হলে মানবজাতির তো খুশি হওয়ারই কথা। আমার ইচ্ছে ছিলো আপনাকে পাওয়া,পূরন হলো তো?"

"আমায় চাওয়ার কারন?"

একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো উষ্ণ। হয়তো এটা মন গহীনের কথা গুলো সাজাতে সাহায্য করে...

"তুমি এক অবরুদ্ধ নিষিদ্ধ জিনিস।যেটায় হাত বাড়ানোর সাহসটুকু সবার থাকে না।আমি সেই সাহসটুকু সঞ্চয় করে তোমায় পাওয়ার পন করেছি,কারন তুমি ভঙ্গ হৃদয়ের বাসিন্দা। আমায় ফেলে গেলেও একা করে যাবে না।তাই আমি আজীবন চাইবো তোমাকে।তুমি আমার হয়ে যাওয়ার পরেও চাইবো তোমায়,বার বার,বহুবার। "

কথাখানার পরে মনে হলো কিছুক্ষণ নীরবতা রাখা উচিৎ।একটু পরেই অভ্রা বললো...

"সকালে এই একই প্রশ্নের উত্তরটা ভিন্ন ছিলো।আপনার মনটা যে সময়ের সাথে এমন করেই পরিবর্তন হবে না,তার নিশ্চয়তা কতটুকু?"

হাফ ছাড়লো উষ্ণ। চোখ বুজে নিয়ে বললো...

"যেদিন আমার মন পরিবর্তন হবে সেদিন না হয় তুমি প্রতিদিনের থেকে একটুু ভিন্ন ভাবে সেজে নিও?,,আমি প্রতিনিয়ত তোমার যেই রুপে মুগ্ধ হই,সেই তৈলাক্ত, ব্রণ যুক্ত মুখটায় সেদিন না হয় একটু প্রসাধনীই ব্যবহার করলে?,আমি আমার পরিবর্তীত মন নিয়ে তোমার নতুন রুপেই নাহয় নতুন করে মুগ্ধ হবো সেদিন।"

তাচ্ছিল্য হাসলো অভ্রা।বলবে না বলবে না করেও বলেই ফেললো একখানা আগ্নেয়াস্ত্রের ন্যয় কথা..

"নারী কিন্তু বহুরূপী, আবার ছলনাময়ীও।

আপনি নিজেকে সংযত করুন,।

কারন কি জানেন তো?,

নারীর ঠোঁটের লিপস্টিক সর্বদা রক্তজবার ন্যয় উজ্জ্বল লালই থাকে।কিন্তু আপনার হৃদপিণ্ড পুড়ে কালো হবে। "

কথার প্রেক্ষিতে উত্তর মূলক কথা গুলো যেন সাজানোই ছিলো উষ্ণের নীকট।মৃদু হেসে বললো...

"আমি আপনার শীত ঋতুর প্রভাবে ফেটে যাওয়া ঠোঁটের খষে পড়া চামড়ার টুকরোয় নিজেকে ছোঁয়াবো বলে অপেক্ষায় আছি।লাল রঙা লিপস্টিকটা না হয় যত্ন করে তুলেই রাখি।যেদিন বিশ্বাসের পরিক্ষায় টুকলি করা ছাড়াই একশতে একশ পাবো,সেদিনই নাহয় সেই লিপস্টিকটি পড়ে আমার সামনে এসো।আমি নিজেকে বিলেয়ে দেবো তোমার মাঝে।"

একটুখানি কষ্ট হানা দিলো বোধহয় অভ্রার অন্তরে।বললো...

"প্রচ্ছেদ দাভাইয়ের করা কাজের পর আর কাউকেই বিশ্বাস করে উঠতে পারিনা এখন।"

কষ্ট পাওয়ার কথা উষ্ণের। কিন্তু পেলো না।বললো....

"আজ না হয় আর আমায় বিশ্বাস নাই করলেন শ্যামা ফুল।আগামীকাল আমিও মনে হয় একটুখানি বিশ্বাসঘাতকতা করবো আপনার সাথে।এরপর থেকে আপনার জন্য আমার অবিশ্বাসের দেওয়াল উদাম হবে চিরকাল।"

"বুঝিনি।"

"জানি,কাল ক্লাস শেষে আমরা দেখা করছি।"

''না,"

"করছি বললাম তো?,,আমি যেথায় বলবো,সেথায় আসবে তুমি।"

"পারবো না।এভাবে হুটহাট দেখা করা আমার একদমই পছন্দ নয়।বিয়েতে রাজি হয়েছি বলে সুযোগ লুফে নিবেন না।"

"তুমি আসবে শ্যামা ফুল।আসবেই তুমি।মিলিয়ে নিও আমার কথা।"

বিদায় বানী না জানিয়েই কল কাটলো উষ্ণ। একটু খানি রাগের চিহ্ন দেখা গেলো অভ্রার মনে।উহুম,উষ্ণ না বলে কল কেটে দিলো বলে নয়,বরং জোর খাটিয়ে বলা কথা গুলোর ফলে।কি মনে করেছে লোকটা নিজেকে?বিয়েতে রাজি হয়েছি বলে কি যা বলবে তাই শুনতে হবে?, একদমই নয়,যাবো না কাল উনার সাথে দেখা করতে।সময় থাকলেও যাবো না।

------

"ফুল?"

"অভ্রা আমার নাম।"

"কতদুর তুমি?"

"কেন কল করেছেন?''

" এক্ষুনি বাস থেকে নামবে তুমি।"

লোকাল বাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলো বাসটা মাত্রই দাগনভূইয়া থেমেছে।ভ্রু কুচকে এলো অভ্রার।আশপাশে তাকিয়ে দেখলো উষ্ণকে কোথাও দেখা যায় কিনা।নাহ,,নেই তো,তাহলে নামতে বললো কেন?

"আজব, এখানে কেন নামবো?"

"প্লিজ,, প্লিজ,,ফুল,নেমে পড়ো?"

ইশশশ,,কোনো ছেলে এভাবেও কথা বলে?জানা ছিলো না তো অভ্রার।দেনামনা করেও নেমে পড়লো বাস থেকে।বাসের কন্ট্রাক্টর জিজ্ঞেস করলো...

"আপা?এইখানে নামেন কেন?,,আপনি তো সেবারহাটের ভাড়া দিলেন?"

"এখানেই নামবো ভাই।একটা কাজ মনে পড়ে গেছে।"

লোকটা হাতে থাকা টাকার দিকে তাকিয়ে বললো...

"এখন পাচ টাকা তো ভাংতি নাই আপা?কোত্তে দিমু?"

"আচ্ছা লাগবে না ভাই,রেখে দেন।"

নেমে পড়লো অভ্রা। কানে এখনো ফোন চাপানো,উষ্ণ লাইনে।অভ্রা জিজ্ঞেস করলো...

"কেন নামলাম?"

উষ্ণ হেসে বললো...

"আমি বললাম তাই?"

কিছুটা বিরক্ত হলো বটে অভ্রা।বসন্তের প্রথম মাস চলছে।রৌদ্রস্নাত রাস্তায় দাড়িয়ে থাকাটা খুবই অস্থিরতার সৃষ্টি করে।বিরক্ত নিয়েই বললো...

"ফাজলামি করেন আপনি??আমি চলে যাচ্ছি।"

"এই,এই,,শ্যামা ফুল,সরি সরি।রাগে না প্লিজ"

রাগ কন্ট্রোল করার অভাবনীয় প্রতিভা আছে অভ্রার।নিজেে সামলে বললো....

"কোথায় যাবো এবার?"

"ফাজিলেরঘাট রোড ধরে ডায়মন্ড স্যাক জুয়েলার্স।চলে আসো।"

কলটা কেটে দিলো উষ্ণ। কিন্তু সে কি বুঝতে পারছে,এই মধ্য রাস্তায় অভ্রা কতটা আঘাতে জর্জরিত হলো তার কথা শুনে।উষ্ণ তো বোঝার কথা সবটা।তারপরও কি করে এতো স্বাভাবিক ভাবেই ওখানে যেতে বললো তাকে?

দ্বিধাযুক্ত দৃষ্টি দিলো বা পাশের জটলা পূর্ণ রাস্তার দিকে।সে কি যাবে ঐ রাস্তা ধরে?দুটো বছর পর আবারো কি মুখোমুখি হবে প্রচ্ছেদ বাসুর সাথে?

তুমি কোন কাননের ফুল গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক রোমান্টিক গল্প