"মস্তিষ্ক চাইলেও আপনার মন সায় দেয়না ওকে মারতে। তবুও কেন বারবার প্রচ্ছেদ বাসুকে খু*ন করার প্রয়াশ চালান আপনি?"
জনবহুল রাস্তা দিয়ে হাটার সময় হাজার মানুষের গঞ্জনা শোনা গেলেও, এই অপরিচিত কন্ঠের একটা কথায় পা থমকে যায় অভ্রার।
চোখে বিষাদের পানি আর বুক ভরা ব্যর্থতার যন্ত্রণা নিয়েও মিষ্টি সুরে পেছনে না ফিরেই বললো...
"প্রচ্ছেদ,,,,আমার ভালোবাসা।"
_------_
ভরা মানুষের এক রঙ্গ বাজারে ভীড়ের মাঝেই হাতে ধারালো ছুরি নিয়ে একটা ছেলে হাটছে এলাকারই পরিচিত এক স্বল্প বয়সী ব্যবসায়ী প্রচ্ছেদ বাসুর পেছনে।
এতো মানুষের ভীড়ে একেক জনের পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে ব্যস্ত প্রচ্ছেদ।পেছনে যে তার মৃত্যু এগিয়ে আসছে তা মস্তিষ্কের নিউরন পর্যন্ত জানতে পারলো না।
একটু দুরে মুখে ওরনা পেঁচিয়ে কাজ খানা পর্যবেক্ষণ করছে এক বিকট বিদ্ধস্ত নারী।যে আপাত দৃষ্টিতে না হলেও হৃদয়টা তার সত্যিই বিদ্ধস্ত। প্রচ্ছেদ বাসুকে ছুরিকাঘাতে শিক্ত করা তারই নিখুঁত মাথার পরিকল্পনা। তার আদেশেই প্রচ্ছেদকে মারতে যাচ্ছে লোকটি।
বুক কাপছে নারীটির।চেষ্টাটা তার এই নিয়ে তৃতীয় বার।খুব করে চাইছে নিজেকে এক জায়গায় স্থির রাখতে।আগের দু বারের মতো যেন না হয়।,,,তবে এবারও ব্যর্থ হলো বিদ্ধস্ত হৃদয়ের সেই নারী।
নিজের মনের কথা শুনে দ্রুত এগিয়ে গেলো প্রচ্ছেদের কাছে।যেই না পেছন থেকে লোকটা প্রচ্ছেদের পেটে ছুরিটা ঢুকাতে যাবে,,ওমনি সেই নারী এসে ধাক্কা দিয়ে নিশানা নড়িয়ে দিলো তার।ছুরিটা সরে গেলো,,প্রচ্ছেদের হাতের কব্জি প্রায় ছুঁই ছুঁই করেই সরে গেলো।চিকন করে একটা পোঁচ পরেছেও প্রচ্ছেদের হাতের কব্জিতে। যা সাথে সাথে টের পেলো না প্রচ্ছেদ।নিজের মতোই এগিয়ে চলে গেলো সামনে।
লোকটি সরে এলো,কারনটা সহজ,,যে মারতে বলে নিজেই বাঁধা দিয়েছে,সে নিশ্চয়ই চায়না এই মুহুর্তে প্রচ্ছেদকে মারুক।,,,
একটু দুরে এসে চাপা স্বরে লোকটি বিরক্তিতে মুখ কুচকে বললো...
"তোর সমস্যাটা কোথায় অভ্রা?,,নিজেই মারতে বলে বারবার নিজেই বাচিয়ে দিস ওকে?,,,"
অভ্রা ঢেকে রাখা ওড়নার আড়ালে বেশ কয়েকটা শ্বাস ছেড়ে বললো...
"এখন চলে যা তুহিন। আমি পরে তোর সাথে কথা বলবো। "
তুহিন নামের ছেলেটি বেশ চেনে এই অভ্রাকে।একবার যখন বলেছে এখন কিছু বলবে না, তার মানে ঘন্টা কাটিয়ে দিলেও বলবে না।,,,হার মেনে আর একটি বাক্যও ব্যয় করলো না তুহিন।সন্তর্পণে ছুড়িটা নিজের কোমরের দিকে শার্টের ভাজে লুকিয়ে হাটা ধরলো নিজ গন্তব্যে।,,,অভ্রাও হাটা ধরলো বিপরীত রাস্তায়,,,।তখনই পেছন থেকে ঐ ভারি কন্ঠের কথা খানা।,,,,
------
মৃদু বাতাসে মুখে ঢেকে রাখা ওড়নাটা বারবার দিগন্ত ছুঁতে চায়।কিন্তু পারে না,অভ্রা যে তাকে মুক্তি দেয় না,বরং আরেকটু পেঁচিয়ে নেয় নিজের মুখাংশে,পেছনে ঘুরে তাকায় সেই ভারি কন্ঠের মালিককে দেখার জন্য।
নির্মল এক চাহনি নিয়ে তাকিয়ে আছে কেমন লোকটি।সে কি শুনতে পায় নি অভ্রা কি বলেছে?,,
কন্ঠে জোর আনলো অভ্রা।ভয় পেলেও প্রকাশ্যে আনতে নারাজ।লোকটি জেনে গেছে প্রচ্ছেদের ইতি টানতে চাইছে স্বয়ং অভ্রা-ই।তাহলে কি এবার পুরো দুনিয়া জানার পালা?
"কে আপনি?"
সামনে থাকা লোকটির উদ্দেশ্যে কথাটা বললেও নড়চড় দেখা গেলো না তার।কিয়াৎক্ষন পর অভ্রার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আশপাশ তাকিয়ে দু কদম এগিয়ে এলো।নম্রতায় ভরপুর কন্ঠ,যেন স্বাভাবিক কিছুই জিজ্ঞেস করছে..
"আপনার ভালোবাসা?তাহলে তাকে চোখের নজরে দেখার অভিলাষ জাগার কথা,তা না করে আপনি নিজের ভালোবাসাকে চিরতরে বিদায় দিতে চান?এ কেমন ভালোবাসা?সত্যিই কি ভালোবাসেন?''
অভ্রার কন্ঠ বিন্দু পরিমানও ক্ষিন হলো না।আগের মতোই রক্তধারার মতো শক্ত কন্ঠে বলে উঠলো ছোট্ট একটা কথা..
" ভালোবাসি বলেই মেরে ফেলতে চাই।"
চুপ রইলো সামনের লোকটি,চুপ রইলো অভ্রাও।সামনাসামনি দাঁড়িয়ে থাকা এই দুটো প্রাণের পাশ দিয়ে জীবনের তাড়নায় আসছে যাচ্ছে কত কত মানুষ।তবে নড়চড় নেই তাদের।একে অপরের দিকে দৃষ্টিপাতে নিবদ্ধ। লোকটির দৃষ্টি নির্মল,মৃদু কোমল।আর অভ্রার দৃষ্টি পাথুরে এবং কঠিন থেকেও কঠিনতর,নমনীয়তার ছাপ মাত্রও নেই।,,
"আপনি আমার নাম জানলেন কি করে?"
প্রশ্নের উত্তরে মৃদু হাসলো লোকটি..
"আপনি যেমন প্রচ্ছেদ বাসুর প্রতিটা পদক্ষেপের খবর রাখেন?তেমনি আমি প্রিয়দের নামটুকু হলেও জেনে নিই।"
ঘোরানো কথা বুঝলো না অভ্রা।তবে বুঝলো এই লোকটা এই প্রথম নয়,আগে থেকেই চেনে তাকে।,,
হাতে থাকা ফোনটা বায়োব্রেট হতেই মুখের সামনে তুলে ধরলো অভ্রা।স্ক্রীনে জ্বলজ্বল করছে "টুটুল " নামটি।,,চোখের মনি উঁচিয়ে একবার সামনের লোকটির দিকে তাকালো অভ্রা। লোকটি যেন নীরবে তার প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ্য করছে।কিছু একটা ভেবে কলটা কেটে দিলো অভ্রা।
এবার একটু চওড়া করেই হাসলো লোকটি।বললো...
"আপনার দেরি হচ্ছে অভ্রায়ীনি মজুমদার।যেতে পারেন আপনি।আমাদের ফের নিশ্চয়ই দেখা হবে।"
"দেখা হওয়ার কারন?"
প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি করলো না লোকটি..
"জানা নেই এই মুহুর্তে।,,, "
অভ্রা কথা বাড়াতে চাইলো না।পেছনে ঘুরে চলে যাওয়ার জন্য উদ্ধত হলো।তবে আবার থেমে গেলো লোকটির একটা কথা শুনে...
"মানুষ উঠে দাঁড়াতে একটি হাত প্রয়োজন, আর ঘুরে দাঁড়াতে একটি আঘাত।
মনে হচ্ছে আপনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।"
অবাক হয়ে মাথাটা পেছনে ঘোরালো অভ্রা।লোকটি সেই নির্মল হেসে বললো..
"এবার যান, আপনার অপেক্ষায় আছে বন্ধুটা।"
অভ্রাকে যেতে বলে নিজেই পেছন ফিরে হাটা ধরলো লোকটি।অভ্রা তাকিয়ে রইলো এই অচেনা লোকটির দিকে।কথা গুলো ভাবারই মতো।কি অদ্ভুত।,,,, বেশি ভাবতে পারলো না অভ্রা।টুটুলের কল আবার আসতেই,,দ্রুত পা বাড়ালো গন্তব্যে।
------
ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরে টিফিনবাক্সটা টেবিলে রাখতেই চোখে পড়লো হাতের কব্জিতে এক চিকন ক্ষত।বেশ কিছুক্ষণ ধরেই জ্বলছিলো,তবে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বললেই চলে।এখন বুঝলো এমন জ্বলনের কারন টা।
ভাড়া বাসার ড্রয়িংরুমটা ছোট্ট বললেই চলে।সেখানেই জায়গা নিয়েছে একসেট সোফা,কোনায় পূজার আসন,এরপর এক পাশে কিচেনরুম সংলগ্ন জায়গায় আট জন অনুযায়ী একটা মাঝারো সাইজের ডায়নিং টেবিল।
সোফায় বসে নিজের রুমে চোখ নিতেই দেখলো আয়েশি ভঙ্গিতে খাটে বসে ফোন টিপছে এক রমনী।তার উদ্দেশ্যেই গলাটা একটু উঁচু করে ডাকলো প্রচ্ছেদ...
"পীতু?ড্রয়ার থেকে ফাস্ট এইড বক্সটা একটু আনো তো?"
সাথে সাথেই কর্কশ কন্ঠে রমনীটি জবাব দিলো...
"পারবো না।দরকার হলে নিজে এসে নিয়ে যাও।"
শূন্য দৃষ্টিতে ফ্লোরের দিকে তাকালো প্রচ্ছেদ।এমন কিছুই আশা করেছিলো। এটা তো তেমন কিছুই না।প্রতিদিনের নৃত্যকর্ম।
সন্ধ্যাআরতি করতে ব্যস্ত প্রীতি বাসু।সম্পর্কে প্রচ্ছেদের বড় বোন।কথোপকথন তার কানে ঠিকই গেলো। ঠাকুর ছেড়ে উঠলো না,তবে তারই মেয়ে বেলিকে ডেকে বললো...
"বেলি?,,তোর মামাকে ফাস্ট এইড বক্সটা এনে দিয়ে দেখতো কোথায় আঘাত লেগেছে?"
প্রচ্ছেদ উঠতে নিয়েও উঠলো না।জানে,তার ভাগ্নি বেলি ঠিক এখন ফাস্ট এইড বক্সটা আনবে।আর হাতে মলমও লাগিয়ে দেবে।
হলোও তাই।প্রচ্ছেদের পাশে বসলো বেলি।হাতে ক্ষত দেখে হাতটা টেনে নিলো নিজের কাছে।তুলায় ডেটল নিয়ে লাগাতে লাগাতে বললো...
''হাত কাটলে কি করে বলোতো মামা??,,তাও এমন জায়গায়?"
প্রচ্ছেদ সাবলীল ভাবে উত্তর দিলো..
"জানি না,,মাত্রই তো খেয়াল করলাম।"
আর কথা বাড়ালো না বেলি।প্রচ্ছেদ আবারো তাকালো নিজের রুমের দিকে।ড্রয়িংরুম থেকে দরজা খোলা থাকলে প্রায় সবই দেখা যায় সবগুলো রুমের।,,রমনীটি সেই এখনো আগের মতোই বসে।কোনো হেলদোল নেই,,,তার কানে কি যায় নি যে প্রচ্ছেদের হাত কেটেছে?,,নিশ্চয়ই গিয়েছে,তবে এই সামান্য বিষয়ে মাথা ঘামানোর মতো কু-রুচি হয়তো হয়নি তার।
বাসায় ফিরলো বেলির বাবা রঞ্জন বাসুও।প্রথমেই এগিয়ে এসে বেলির হাতে একটা ব্যাগ ধরিয়ে দিলো।প্রচ্ছেদের হাতে মলম লাগানো শেষে বেলি ব্যাগটা খুলে চেক করতে লাগলো,,,একটা মেকআপ পাউচ।,,
এটা দেখেই প্রচ্ছেদ বেলিকে বললো...
"নতুন মেকআপ?,,,তোর মামির কাছেই তো সেইম একটা ছিলো।লাগলে ওর থেকে নিতে পারতি?"
বেলির মুখটা শুকনো। পাউচটা আবার ব্যাগে ভরতে ভরতে শক্ত কন্ঠে বললো...
"সকালে মামির থেকে নিতে গিয়ে একটা আইব্রাশ হারিয়ে ফেলেছি।"
হাতের ব্যাগটা প্রচ্ছেদের হাতে দিয়ে উঠে দাড়ালো বেলি,,বললো..
"রুমে যাওয়ার সময় নিয়ে যেও এটা।"
প্রচ্ছেদ শুধু তাকিয়ে দেখলো তার ভাগ্নিটার অভিমান।বেলি নিজের রুমে চলে গেলো।
"আমরা না হয় ওর সব কিছু সহ্য করি।কিন্তু বেলি ছোট।,,সামান্য একটা জিনিস নিয়ে বেলির সাথে চিল্লাচিল্লি না করলেই পারতো তোর বউ।মেয়েটা আজ সারাদিন মনমরা হয়ে বসে আছে।"
নিজের মায়ের মুখে এমন কথায় হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো প্রচ্ছেদ।অবাক হয়ে বললো...
" পিতু বেলিকে বকেছে?"
প্রভাতী বাসু ওরফে প্রচ্ছেদ আর প্রীতির মা কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে,তখনই প্রীতি পুজোর আসন গুছিয়ে উঠতে উঠতে বললো..
''থাক না মা,,ওকে এসব বলে লাভ নেই।,,ওমন খুঁটিনাটি মেকআপ চাইলেই আমি আমার মেয়েকে ১০-১২ খানা এনে দিতে পারি।,,সেটা তো আর ওর বউ জানবে না৷ পারিবারিক শিক্ষার অভাব আছে বইকি।"
রুম থেকে এতোক্ষণ কান খাড়া করে সবই শুনছে রমনীটি।প্রচ্ছেদ ড্রয়িংরুম ছেড়ে নিজের রুমে ঢুকতেই রমনীটি বললো..
"আসতে না আসতেই কানে বিষ ঢালা শুরু করেছে না তোমার মা আর বোন মিলে?"
প্রচ্ছেদ অভ্যস্ত, ক্লান্ত হাতে শার্টের বোতাম খুলে ঝুড়িতে রাখতে রাখতে বললো...
"বেলি কে না বকলেই পারতে।কষ্ট পায়নি?"
"বেশ করেছি।ও মেয়ে আমার জিনিস ধরবে কেন?,তোমার ভাগ্নি বলে সব মেনে নেবো?ক-জন ভাগ্নি এমন হয় শুনি?"
প্রচ্ছেদ তাকালো রমনীটির দিকে।বললো..
"ক-জন ভাই, ভাইয়ের বউ এমন বোনের সংসারে এসে থাকে শুনি?আমরা তো তাই থাকছি।"
রমনীটি ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকালো প্রচ্ছেদের দিকে।প্রচ্ছেদ গা ছাড়া ভাবে তোয়ালে কাধে জড়াতে জড়াতে বললো...
"যাই হোক,,ঠিক করো নি বিষয়টা।বেলি এখনো ছোট।"
মুখ বেকালো রমনীটি।
"আর ছোট,,স্কুল পেরিয়ে কলেজে উঠেছে।ওর মতো বয়সে আমার বিয়ে হয়েছিলো। "
প্রচ্ছেদ বিষন্ন নিঃশ্বাস ফেলে রুম থেকে বেরোতে বেরোতে আস্তে করে বললো..
"সেই থেকেই আমি আমার পাপের বোঝার ভার বয়ে যাচ্ছি। "
-----
"চৌমুহনীর কনসার্টের ইভেন্টের জন্য ফোন এসেছে অভ্রা।কি বলিস?নিবো সেটা?"
টুটুলের কথায় হাতে থাকা গ্লাসটা টেবিলে রেখে তার দিকে ফিরে তাকালো অভ্রা।শান্ত কন্ঠে বললো...
"এই জন্য তুই এতোবার কল দিয়েছিস আমাকে?"
টুটুলের হাতে ইলেকট্রিক ফেইরি লাইটের একটা লতা।যার একটা জায়গায় সামান্য লিক হয়ে আছে সেখানটায় কসটেপ প্যাচাতে প্যাচাতে বললো...
"আরে, হাতে সময় বেশি নেই।আগামী সোমবারেই কনসার্ট। যদি কাজ নিই,তাহলে আজকের মধ্যেই জানাতে হবে তাদের।আর আমরাও তো কাজ শুরু করতে হবে।স্টেজটা তো বড়,দেখে আসবি একবার?"
অভ্রা বসলো একটা চেয়ারে।
"সবাই একসাথে করবো না হয়।দু দিনেই হয়ে যাবে। তবে ওমরদের বলিস আগে গিয়ে ক্যাম্পাসটায় বাশ, ছানি টানিয়ে আসতে।"
"তাহলে জানিয়ে দিই, আমরা কাজটা নিচ্ছি.'"
চুপ রইলো অভ্রা।নীরবতা সম্মতির লক্ষন ধরে নিলো টুটুল।একটু পরই তুহিন এসে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়লো রঙ বেরঙের ছানির দলার উপর।পাশেই বসে টুকটাক কাজ করছিলো গৌরব।তুহিন এসে পড়ায় বিরক্তিতে মুখ কুঁচকালো...
"তুই আর জায়গা পাস না শোয়ার?"
তুহিন ক্লান্ত হয়ে বললো...
"বড় রকমের কাজ করতে গিয়াছিলাম।এই অভ্রার বাচ্চাটা বিগড়ে দিলো।"
টুটুল হাতের কাজ থামিয়ে শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো অভ্রার দিকে..
"আজও পারলি না তুই?"
অভ্রা বিষাদের হাসি দিয়ে মুখটা নিচু করে ফেললো।টুটুল বুঝলো, তাদের অভ্রার বুক পুড়ছে,,ভীষণ পুড়ছে,তাই তো এমন হাসি।
"কইছি আমারে বিয়া কইরা ফেল।তুই তো রাজি হইলি না।,,আরে কি আর হইবো,ধর্ম জাত দেইখা,,তোর ঐ ভালোবাসা যে বিছানায় যাইতো,তখন কি ধর্ম দেইখা যাইতো?,,"
অভ্রা মুখ তুলে ক্লান্ত দৃষ্টিতে তাকালো টুটুলের দিকে।এই ছেলেটা পারেও,,বিষাদেও হাসায়।
অভ্রার এমন তাকিয়ে থাকা দেখে টুটুল বললো...
"এমনে তাকায় আছোস কেন?,,এখনো টাইম আছে মাইরি,,আমি কিন্তু রাজি।বিয়ের পর আমি আমার মতো নামাজ পড়মু,তুই তোর মতো পূজা করবি,এইটাই তো?,,,তাও তোর ঐ ভালোবাসারে তো আর মারার প্ল্যান করা লাগবে না?"
অভ্রা উপরে শূন্যে তাকালো।আনমনেই বললো...
"প্রচ্ছেদ, প্রচ্ছেদ, প্রচ্ছেদ দাভাই।এই অভ্রায়ীনি মজুমদার চেষ্টা ছারবে না,আপনার থেকে প্রানের বিচ্ছেদ তো ঘটিয়েই ছাড়বে।"