তুমি কোন কাননের ফুল

পর্ব - ৭

🟢

হাত নাড়াতে গিয়েই খাটের উপর খচখচে কিছুর আভাস পেলো প্রচ্ছদ। মাথাটা হালকা উচু করে তাকিয়ে দেখলো কয়েকখানা শপিংব্যাগ।আজ সকালেই প্রীথুলা, বেলি আর প্রচ্ছদ নিজে গিয়ে এসব কিনে এনেছে।মাসতুতো ভাই,বোন,বোনের হবু বর আর উষ্ণের হবু বউয়ের জন্য।

ব্যাগ থেকে টকটকে লাল রঙের শাড়িটি ধীরেসুস্থে বের করলো।এই শাড়ীটাই আজ সে নিজে নিজে পছন্দ করে কিনেছে।বাকি সব কিছু বেলি আর প্রীথুলা মিলে কিনলেও উষ্ণের বউয়ের ক্ষেত্রে তারা পছন্দ করে উঠতে পারেনি।কারন,শুনেছে উষ্ণের হবু বউয়ের গায়ের রঙ নাকি চাপা। তাই ঐ শ্যাম বর্ণের মেয়েকে কোন রঙের শাড়ীটা মানাবে তা নিয়েই দ্বিধায় ছিল তারা।শেষমেশ প্রচ্ছদই এই শাড়ীটা কিনেছে,মানালে মানাবে, না হলে নেই।

কি ভাগ্য দেখো,প্রচ্ছদ নিজ হস্তেই কিনলো সেই অভ্রার জন্য শাড়ী।শাড়ীটায় হাত বুলিয়ে চোখ বুজলো প্রচ্ছদ। চোখের সামনে ভেসে উঠলো অভ্রার প্রতিচ্ছবি, যেখানে অভ্রা এই টকটকা লাল রঙা শাড়ীটা পড়ে আছে।

ইশশ,,কি মানিয়েছে মেয়েটাকে,,সত্যিই এতোটা মানাবে??শাড়ীটা বোধহয় ওর জন্যই তৈরি।

হঠাৎ একটা কথা মাথায় আসতেই চোখে খুলে ফেললো প্রচ্ছদ। অভ্রা কি লাল শাড়ী পড়বে??

অভ্রা সাদা ব্যতীত অন্য কোনো রঙেই নিজেকে সজ্জিত করে না।আজও তো সাদা জামা পড়েছিলো।প্রচ্ছদের প্রথম পরিচয় থেকেই অভ্রার এই বিষয়টি জানে সে।

অভ্রার অভ্যাসটা আজ কালকের নয়,বহুবছর পূর্বের,।সাদা ছাড়া তেমন একটা রংচটা পোশাক সে পড়ে না কখনোই।যদিও জামায় অন্যান্য রঙ বিদ্যমান থাকে,তাও সেই জামাটির বেশিরভাগ অংশ জুড়েই থাকবে সাদা।এই যেমন অভ্রা নীল রঙের পাজামা, ওড়না পড়তো,তবে জামাটা থাকতো ধবধবে সাদা।কিন্তু এই শাড়ীটায় তো সাদার কোনো অংশই নেই।অভ্রা কি পড়বে এটা??

বুঝে পেলো না প্রচ্ছদ। অনেক ভেবে দেখলো,তবে পারলো না ঠিক করতে।আগের অভ্রা হলে এক নিমেষেই বলে দিতে পারতো প্রচ্ছদ, যে অভ্রার মত কি হবে।তখন অভ্রা নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও পড়তো,যদি প্রচ্ছদ একটি বার বলতো..

"অভ্রা গো?আমি কত শখ করে তোমার জন্য শাড়ীটা কিনে এনেছি।তুমি পড়বা না?"

কিন্তু সেই আগের অভ্রা এখন আর নেই।এখন চাইলেও প্রচ্ছদ তার কথার মায়ায় অভ্রাকে ঘায়েল করতে পারবে না,চাইলেই সেই অভ্রা আর প্রচ্ছদ একবার বলাতে সব কিছু করবে না।সেই রাস্তাটা যে প্রচ্ছদ নিজ হস্তে বন্ধ করে দিয়েছে।

-------

আশীর্বাদের দিন ঘনিয়ে এলো।আশির্বাদ বা এঙ্গেজম্যান্ট যাই বলা হোক না কেন,চলবে।বড়রা বড়দের মতো আশির্বাদ করবে আর আংটি বদলের মাধ্যমে এঙ্গেজম্যান্টটাও হয়ে যাবে।

ফেনী শহরের পরিচিত একটা কনভেনশন হলে আয়োজন করা হলো সেই কাঙ্খিত অনুষ্ঠানের।যেহেতু সেটি একটি কনভেনশন হল,তাই সব আয়োজন সেখানকার কর্তৃপক্ষেরই,অভ্রার ইভেন্টের আর কাজ করতে হয়নি।তবে অতিথির তালিকায় নাম লিখিয়েছে তমা,তুহিন,টুটুল সহ আরো অনেকেই।

কনভেনশন হলের দরজা ঠেলে প্রবেশ করতে দেখলো অভ্রাকে।মেয়েটা আজও একটা শাড়ী পড়েনি।সাদার মধ্যে হালকা গ্লিটার কাজের একটা লেহেঙ্গা পড়েছে।সাথে কিছু স্টোনের হালকা জুয়েলারি।

বন্ধ থাকা ঠোঁট দুটো কেমন যেন আপনা আপনিই ফাক হয়ে গেলো প্রচ্ছদের।কারনটা কি? অভ্রার আগমন?কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা নয়,,,অভ্রা তো শুধু তার স্বল্প ব্যবহৃত একটা জিনিস মাত্র, যেটা সে দু বছর আগেই ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলো।

একটু দুরে থাকা প্রীথুলার দিকে ফিরলো প্রচ্ছদ। যে তখন বিভিন্ন সেলফি জোনে সেলফি তুলতেই ব্যাস্ত।পড়নে তার ভারী কারুকাজের একটা জামদানী শাড়ী।গলায় মোটা একটা চকার,আর একটা ঝুলন্ত গয়না,।কানেও বড় বড় দুল।হাত দুটোয় তো ভরতি মোটা মোটা সোনার বালাতে।একটু ফাক ফুকুরও নেই।

অথচ অভ্রার হাতে গুটি কয়েক সাদা কাচের চুড়ি।কালো হাতটায় কি একটু বেশিই মানিয়ে গেলো না চুড়িগুলো?হুম তো,,এতোটা কি করে মানায় কাউকে?ভেবে পেলো না প্রচ্ছদ।

দুর পানে চোখ যেতেই দেখলো উষ্ণ একগাল হাসি নিয়ে এগিয়ে গেলো অভ্রার পানে।পাশে থাকা অভ্রার বাবার পা ছুঁয়ে প্রনাম করলো।তারপর অভ্রার আরেক পাশে থাকা লিটেল প্রিন্সেস অঙ্গের সাথে হাত মেলালো।কিছু কিছু কথোপকথনও হলো তাদের।এরপর অভ্রার ছোট্ট ভাইয়ের গোছানো চুল গুলোতে হাত দিয়ে হালকা এলোমেলো করে গাল দুটো টেনে দিলো উষ্ণ।

সবাই হাসি হাসি মুখ করে উষ্ণের সব কাজে সায় দিচ্ছে। অবশেষে উষ্ণ সরাসরি দাড়ালো অভ্রার সামনে।মুখে তার অমায়িক এক হাসি।চোখের পলক ফেলে একবার পরখ করে নিলো অভ্রাকে।উচ্চারণ করলো...

"সুন্দর লাগছে তোমাকে।"

ব্যাস, উষ্ণের এই ছোট্ট একটা কথাতেই যেন হইহই ফেলে দিলো পুরো হলটায়।ভাই বোনেরা সবাই হোওও করে একত্রে চেচিয়ে উঠলো।

লজ্জারাঙা মুখটি দুর থেকেই দেখে গেলো প্রচ্ছদ,কাছে যাওয়ার মনই করলো না।অপ্রস্তুত হলো উষ্ণ নিজেও।তবুও মুখে হাসি বজায় রেখে পাশে থাকা উর্মিকে বললো...

"অভ্রাকে নিয়ে যা তুই।"

বৌদি বেশ পছন্দ হয়েছে উর্মির।যদিও অভ্রা উর্মির থেকে বছর দুইয়ের ছোট,তবুও বড় ভাইয়ের বউ যেহেতু,বৌদি বলেই তো ডাকতে হবে তাই না?...

অভ্রার সাথে গিয়ে কথাও বললো টুকটাক।অভ্রাও এই এতক্ষণে একটু হাসলো বোধহয়।

স্টেজের দিকে অভ্রাকে নিয়ে যেতে লাগলো উর্মি।হাটা পথেই হঠাৎ প্রচ্ছদের মুখোমুখি হলো অভ্রা।পা দুটো মুহুর্তের জন্য থামলো বোধ হয়।দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিললো,তবে মুখ ফুটে বলা হলো না একটি শব্দও।

অভ্রাকে দাড়াতে দেখেই পাশ থেকে উর্মি বলে উঠলো..

"বৌদিদি,,এটা হলো তোমার মাসতুতো ভাসুর।দাভাইয়ের থেকে মাত্র দু মাসের বড় প্রচ্ছদ দাদা।বুঝলে?,,,প্রচ্ছদ দাদা,আমার বৌদিদি কে কেমন লেগেছে হুম?"

প্রচ্ছদ এলোমেলো ভাবে উত্তর দিলো...

"স্ সুন্দর।"

অভ্রা কথা বলেনি,তার বদলে উর্মিই মুচকি হেঁসে "থ্যাংক ইউ" বলে তাড়া দিয়ে অভ্রাকে নিয়ে গেলো।দুর থেকে সবটাই লক্ষ্য করলো উষ্ণ। বুকের ভেতরটায় কেমন খচখচ করছে তার।মনে হচ্ছে সে হারিয়ে ফেলবে তার শ্যামা ফুলটিকে।ঐ ফুলটি তার হবে না।মন বলছে,ফুলটি স্বইচ্ছায় ধরা দেবে প্রচ্ছদের কাননে।

স্টেজে অবস্থানরত শুভ্রতায় ঘেরা অভ্রার দিয়ে পলকহীন দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে ভিন্নাত্মক মনোভাবের দুটি চোখ।অন্তর পুড়ে ছাই হচ্ছে তারও।প্রচ্ছদ হয়তো দ্বিধায় আছে,কিন্তু সে তো নেই।সে তো নিজের সাথে যুদ্ধ করলেও তার আত্মা চিৎকার করে বলবে,,"অভ্রাকে তুই ভালোবাসিস।হিন্দু ধর্মাবলম্বী ঐ অভ্রাকেই তুই ভালোবাসিস।"

কাঁধে কারোর ধাক্কায় স্তম্ভিত ফিরলো টুটুলের।তাকিয়ে দেখলো তুহিন আর তমা দাড়িয়ে।ওহ,তমার বরও আছে।ছেলেটা যথেষ্ট মিশুক,যখন যা মনে আসে তাই বলে দেয়,,।এই যে এখন বলে বসলো....

"কি, টুটুল ভাইয়া?উদাস হয়ে কি দেখছো?অভ্রার হবু বরের জায়গায় নিজেকে?"

টুটুল ছেলেটি একটু অন্যরকম।অন্য সকলের এই মুহুর্তের অভিব্যাক্তি অন্যরকম হলেও টুটুল হো হা করে হেসে এক হাতে তমার বরের গলা জড়িয়ে ধরে বললো...

"আরে দুলাভাই?,,,কি আর বলবার পারি বলো?সালার ভালোবাসছিই ভুল মানুষরে।"

ছেলেটা হাসছে,অথচ তমা, তুহিন ওর অন্তকরনের রন্ধ্রের খবর পাচ্ছে। বেশ বুঝতে পারছে তারা, টুটুল এখন যেই কষ্টটা পাচ্ছে তা বুকে ছুরি চালানোর থেকে কোনো অংশে কম নয়।

"অভ্রা কিন্তু তোকে ঠকায়নি টুটুল।"

তমার কথায় টুটুল কেমন যেন শান্ত হয়ে গেলো।থামিয়ে নিলো উচ্চ হাসিটাও।দৃষ্টিতে এখন শুধুই অভ্রা।বললো...

"জানি আমি।আমার অভ্রা ঠকায়নি আমায়।আমি নিজেই নিজেকে ঠকিয়েছি।তবে এতো কিছু বুঝার পরও আমি ওকে ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করতে পারবো না।কখনোই বলতে পারবো না যে আমি ওকে ভালোবাসি না।আমি আজীবন ভালোবাসবো ঐ ভিনধর্মী মেয়েটাকে।সে তাকে আমি পাই বা না পাই।"

ছোট্ট বন্ধুমহলটায় কেমন গুমোট ভাব সৃষ্টি হলো।অভ্রা চোখের ইশারায় ডাকলো তাদের।তা দেখে টুটুল আবারো মুখে হাসি এনে বললো...

"চল সবাই,,,বহুরানী ডাকছে।"

----

উষ্ণের হবু বউ রূপে অভ্রাকে দেখেই নাক মুখ কুচকে ফেললো প্রীথুলা আর প্রীতি বাসু।তবে দু জনের মনোভাব কিন্তু দু রকম।

দুর হতেই প্রীতি এক রাশ ঘৃণা প্রকাশ করলো অভ্রার প্রতি।মনে পড়ে গেলো দুটো বছর আগের কথা।মেয়েটাকে কত ভালো ভাবতো সে।আর এই মেয়েই কিনা...

ছবি তোলার নাম দিয়ে বেশ সময় নিয়ে অভ্রার কাছে স্টেজে পৌছালো প্রীথুলা।প্রথমে কয়েকটা ছবি তুলেও নিলো সে।তারপরই ধীর কন্ঠে সুধালো.....

"এতোকিছুর পরেও আমাদের পিছু ছাড়ো নি?সেই এসেই ঝুলে পড়লে আবারো???"

অভ্রার দৃষ্টি সামনে নিবদ্ধ, তবুও দৃঢ় কন্ঠে বললো....

"আমি তোমাদের নিয়ে কোনো প্রকার আগ্রহ প্রকাশ করছিনা এই মুহুর্তে। "

ভ্রু কুচকে ফেললো প্রীথুলা,

"সেই আগের মতোই তো দেখি তেজটা রয়ে গেছে?"

"সব কিছুই আগের মতোই আছে।"

বেশ সুযোগ পেলো যেন প্রীথুলা। কুটিল হেসে বললো...

"ছেঁচড়ামিটাও রয়েছে তাহলে?,,,এই জন্যই তো বলি,মাসি কেন ছেলের বউকে আশির্বাদ করতে এলো না।"

মনটা কেমন যেন বিষিয়ে গেলো অভ্রার।উষ্ণের মা আজ আসেনি।কারনটা কানাঘুষোয় ঠিকই শুনেছে,তিনি অভ্রার মতো শ্যামবর্ণীয় নারীকে বৌমা হিসেবে মানতে নারাজ,তাই তো আসেনি তিনি।

আংটিবদলের সময় কেন যেন প্রচ্ছদের বুকের ভেতর থেকে কেউ একজন চিৎকার করে বলে উঠলো... "অভ্রা কখনো উষ্ণের হতে পারে না।ওদের বাঁধা দে তুই।"

কিন্তু প্রচ্ছদের দ্বিধাযুক্ত মন সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আর বাধা দিতে পারলো না তাদের।

আংটিটা হাতে নিয়েই আস্তে ধীরে বেশ কয়েকবার অভ্রাকে ডাকলো উষ্ণ। কিন্তু মেয়েটার মনের ভেতর তখন তোলপাড় অবস্থা। একটু দুরে অবস্থানরত প্রচ্ছদের দিক থেকে দৃষ্টি সরানোই দায় হয়ে পড়েছে তার।উষ্ণের কথা তার কান অবদি পৌঁছাতে পেরেছে কিনা কে জানে?,,

উষ্ণ তপ্ত হৃদয়ে লক্ষ্য করলো সবটাই।শেষে একটা ঢোক গিলে নিজেই হস্ত দ্বারা উঠিয়ে নিলো অভ্রার বাম হাত।অনামিকায় পড়িয়ে দিলো অভ্রার পছন্দ করা সেই রূপার আংটিই।

প্রচ্ছদকে আড়াল করে প্রীথুলা দাড়াতেই চোখ ফিরিয়ে নিলো অভ্রা। কম্পিত হস্তে উষ্ণের আঙুলে পড়িয়ে দিলো আংটি।

সবাই হাততালি দিলো।ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দিলো তাদের উপর।উষ্ণ আলতো একটু হাসলো।যদিও সে জানে অভ্রা মন থেকে তাকে চায়নি।

টুটুল চলে গেছে।কথাটা অভ্রার কানে পৌঁছে দিলো তমা।উষ্ণও আছে এখানটায়।তমার কথার ধরন দেখে বুঝে নিলো তার এখানে থাকাটা ঠিক হবে না।তাই সন্তর্পনে নেমে পড়লো স্টেজ থেকে।তুহিনের থেকে কৌশলে টুটুলের নম্বর জোগার করে কল করলো তাকে।

"হ্যালো,,, আসসালামু আলাইকুম। কে বলছেন?"

"উষ্ণায়ন সেনসিংহ"

টুটুলের চিনতে দেরি হয়নি এই লোকটাকে।ফোনের অপর প্রান্ত হতেই হাসার চেষ্টা করে বললো...

"ওহ,,ন্ নতুন দুলাভাই??জ্বী বলুন?বমায় হঠাৎ কল করলেন?"

"না বলে চলে গিয়েছেন কেন ভাই?"

লোকটা অমায়িক,, সেটা আজ প্রথম দেখদ হওয়ার পর পরই বুঝতে পারলো টুটুল।তাই উষ্ণের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে কিছুই বলার মতো পেলো না সে।উষ্ণ নিজেই আবার বলে উঠলো....

"অভ্রা ভয় পাচ্ছে টুটুল ভাই।ওর সাথে দেখাটা অন্তত করে যেতে পারতেন।"

"ওমাহ,,এতে ভয় পাওয়ার কি আছে?"

"কি আবার?আপনি যদি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এই মুহুর্তে? আমার অভ্রাকে খুব ভালবাসেন তাইনা ভাই?"

পিচ ঢালা রাস্তায় পা থামিয়ে নিলো টুটুল।উষ্ণ জানে বিষয়টা।অভ্রাকে খারাপ ভাববে না তো?,,,

"যদি বলি হ্যা,,তাহলে আপনি কি আপনার অভ্রার প্রতি অভিযোগ তুলবেন?"

মৃদু হাসলো উষ্ণ। তবে শান্ত কন্ঠে বললো...

"অভ্রা নিজেই যাকে দুটো বছরধরে পাগলের মতো ভালোবাসে সে আমার মাসতুতো ভাই।অভ্রা কাউকে ভালোবাসে৷ এটা যেনেও আমি অভ্রাকে নিজের করে চেয়েছি।তাহলে আপনি অভ্রাকে ভালোবাসেন এটা যেনে আমি ওকে ছেড়ে দেবো?,,আপনার মতো যদি পৃথিবীর হাজার পুরুষ এসেও বলে অভ্রাকে ভালোবাসে তাহলেও আমি অভ্রার প্রতি বিন্দু পরিমান অভিযোগ তুলবো না।"

টুটুল হাসলো।ঠোঁট জোড়া প্রসারিত করেই হাসলো সে। ব্যাস্ত নগরীর রাস্তায় দাড়িয়ে অসংখ্য মানুষের সামনেই এক প্রেমিক পুরুষ হিসেবে চোখের পানি ঝড়ালো।উৎকন্ঠা হয়ে উষ্ণকে বলতে লাগলো...

"আমার অভ্রাকে ছাড়বেন না ভাই।অভ্রার খুব অভাব,,অন্তরের ক্ষতের ছাপ অসংখ্য। আমি চাইলেও তা সারাতে পারিনি দুটো বছরে।ঐ প্রচ্ছদ বাসু অভ্রাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।ঐ কুলাঙ্গারটার জন্য অভ্রা আজও কাউকে দ্বিতীয়বারের মতো ভালোবাসায় বিশ্বাসী করে তুলতে পারেনি।অভ্রা অনেকেরই,,আমার,আপনার আরো অনেক পুরুষের,কিন্তু অভ্রার নিজস্ব কেউ নেই।ওর নিজের বলতে কেউ নেই।আপনি ওকে আগলে রাখবে ভাই।ও যত্নের কাঙাল,,একটু যত্ম নিলেই আপনার হয়ে উঠবে,,দয়া করে প্রচ্ছদ বাসুর মতো ওর কাঙালি স্বভাবের সুযোগ নেবেন না।আমার চার বছরের ভালোবাসাার দাবি নিয়ে আপনার কাছে এই টুুকুই চাই ভাই।আমার অভ্রাকে আগলে রাখবেন,,এতোটাই আগলে রাখবেন যেন ঐ প্রচ্ছদ বাসু আর কখনোই ওর হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি করতে না পারে।''

" আর আপনি??"

"আমি??আমি যা চাই তা দেবেন??আপনার থেকে অনুমতি চাই,,এতোগুলো দিন আমি সবাইকে প্রাণ খুলে বলে এসেছি,আমি অভ্রাকে ভালোবাসি।ও না বাসলেও আমি তো বাসি।প্রচারে আমার শান্তি মিলতো,,এখনো মিলবে।আমাকে এই কথাটা বলার অধিকার দিন।অভ্রা আপনার হোক,,আপনার বউ হোক,অর্ধাঙ্গিনী হোক,,আমার না হোক।আমি বাঁধা দেবো না কখনোই,,কিন্তু আজীবন সকলকে বলে যেত চাই,আমি এক ভিনধর্মীকে ভালোবাসি।সে অন্যের বউ জেনেও ভালোবাসি।সে অন্যের বাচ্চার মা হবে,এটা যেনেও ভালোবাসি,,অবশেষে সে আমায় কখনো ভালোবাসেনি,এটা যেনেও আমি তালে আজীবন ভালোবাসি।"

তুমি কোন কাননের ফুল গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক রোমান্টিক গল্প