তুমি কোন কাননের ফুল

পর্ব - ১১

🟢

প্রনব বাসুর বাড়িটায় অভ্রার আগমনটা বেশ অদ্ভুত সুন্দর ভাবেই হয়েছে।বাড়ির পুজোর ঘরে তখন সন্ধ্যা আরতির বন্দোবস্ত চলছিলো।বাড়ির কর্তী মানে প্রনব বাসুর স্ত্রী নয়না তখন সেখানেই ছিলো।সাথে ছিলো প্রীতি আর রজনীও।বাড়ির সদর দরজায় সবে মাত্র অভ্রার ডান পা খানা পড়েছে, কাকতালীয় ভাবে তখনই পুজোর ঘর থেকে সুরান্বিত হলো উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনি। ঢং ঢং করে বেজে উঠলো ঠাকুরঘরের বড় মঙ্গলধ্বনির ঘন্টাটাও।অথচ ঠাকুর ঘরে উপস্থিত কেউই জানতো না সেই মুহুর্তে অভ্রা সহ বাকিদের আগমনের কথা।

প্রভাতি বাসু তখন ড্রয়িংয়ে বসে মালা জপ করছিলেন।তার সাথে রজনীর ছোট্ট মেয়ে রাজভী, বেলি আর বৃক্ষও ছিলো।অভ্রাকে দেখে বিস্তর হেসে এগিয়ে এলেন তারা।প্রভাতি তো সকলকে স্ব উচ্চস্বরে ডেকে ডেকে বলতে লাগলো..

"ওমা,এ কি মঙ্গলকান্ড দেখো। বাড়িতে মেয়েটার পা পড়তে না পড়তেই কেমন ঈশ্বর সাড়া দিয়ে উঠলেন।বড় লক্ষীমতি বউ তো।"

অভ্রা দৃষ্টি নিচু করে পা ছুঁয়ে প্রণাম করলো প্রভাতিকে।প্রভাতিও খুব আদরে হাত বোলালেন অভ্রার মাথায়।একে একে সবাই এলো।অভ্রাও তাদের প্রনাম করে নিলো নিজ মতো।শুধু এলো না উষ্ণের মা আর প্রীথুলা।প্রীথুলাকে নিয়ে কেউ তেমন কথাও তুললো না, কিন্তু সবার সাথে পরিচয় হওয়ার পর অভ্রা নিজেই প্রনবের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল...

"মা কোথায়?"

সকলের হাসিমাখা মুখে যেন এক ঘন কালো মেঘ জমা হলো।বাড়ির সকলেই অবগত যে অভ্রাকে আনবে বলেই প্রনতির নারাজি।ছেলে তার বারণ না শুনেই ঐ মেয়েকে আনতে ছুটলো।কি দরকার ঐ কালো মেয়েকে এই গ্রাম্য দিকের বাড়িতে এনে আশপাশের মানুষদের কাছে হেয় হওয়ার।তাই তো বিকেল থেকেই নিজ কক্ষে দোর এঁটে বসেছেন।

কথাখানা কেউ অভ্রাকে বুঝতে দিতে না চাইলেও প্রীতি বাসু সময় বুঝে বেশ ফোরন কেটে বলেই দিলো..

"মাসিমণির তোমাকে নিজের ছেলের বউ হিসেবে পছন্দ না।তাই তোমার মুখদর্শন করবে না বলেই নিজের ঘরে বসে আছে।"

প্রভাতি কাধে হাত দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলো প্রীতিকে।কিন্তু কাজ আর হলো কই,সেতো বলেই দিলো অভ্রাকে কিছু তিক্ত কথা।

প্রচ্ছদের মস্তিষ্ক বললো কাজটা দিদি ভালোই করেছে।কিন্তু বুকের ভেতর কোনো এক স্থান যেন দমকা হাওয়ার মতো ছিন্ন ব্যথা নিয়ে আসলো।আঁড়চোখে তাকিয়ে অভ্রার প্রতিক্রিয়া পরখ করার চেষ্টা করলো।মেয়েটা কেমন শান্ত ভাবেই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।কেউ বোঝার সাধ্য নেই যে সে কথাখানায় কষ্ট পেয়েছে কিনা।অথচ প্রচ্ছদ স্পষ্ট ভাবে লক্ষ্য করলো অভ্রার সন্তর্পণে ঢোক গিলে নেওয়ার দৃশ্যটা।হয়তো অন্তরের কষ্টগুলোও এভাবেই গিলতে চাইছে সে।বুকটা হুহু করে উঠলো প্রচ্ছদের।তাকিয়ে থাকতে পারলো না মেয়েটার ঐ মলিন মুখশ্রীর দিকে।সরিয়ে নিলো নিজের দৃষ্টি। অথচ তার উচিত ছিলো তাকিয়ে তাকিয়ে অভ্রার আধাঁর কালো মুখটি দেখে খুশি হওয়া।

অভ্রাকে স্বাভাবিক করতে উর্মি হেসে এগিয়ে এলো।অভ্রাকে একপেশে জড়িয়ে নিয়ে বললো..

"এমন কিছুই না বউ। তুমি একবার মায়ের সামনে গিয়ে দাড়ালেই দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে।মন খারাপ করো না।"

অভ্রা কিচ্ছুটি বললো না।নিজের মায়ের কথা কেন যেন খুব করে মনে পড়ছে।একটু কথা বলতে ইচ্ছে করছে খুব।নিজের সামনে একজোড়া পায়ের আবিষ্কার করে চোখ তুলে তাকালো সে।উষ্ণ তার বরাবর দাড়িয়ে আছে।লোকটার মুখে কেমন মলিন হাসি।বললো...

"আমার মায়ের একটা বদ্ধমূল ধারণা আছে অভ্রা।মা মনে করেন কালো মানেই বিষে ভরা মানব।গায়ের রঙ কালো মানেই কুৎসিত হৃদয়ের অধিকারী।মায়ের এই ধারনাটা এমনি এমনি হয়নি অভ্রা।আমার ঠাম্মি,পিসিমনি,জেঠিমনি এরা সবাই মায়ের এই ধারনাটার জন্ম দিয়েছে।নিজ সংসারে মা এদের থেকে বিষাক্ত আচরন পেতে পেতে প্রবীণ বয়সে এসে থেমেছে।এদের সাথে লড়াই করতে করতে কখন যে সময়টা পেরিয়ে গেলো, কখন বাবা হারিয়ে গেলো মা বুঝেই উঠতে পারেনি।তাই তার খুব ভয় হয়,এই যে এখন একটু শান্তির আভাস পাচ্ছে,আবার যেন আমার ঠাম্মি, পিসিদের মতো একটা কালো বউমা এসে তাকে আগের মতো না আবার যুদ্ধে ঠেলে দেয়,এই ভয়।"

উষ্ণ একটু থামলো।তাকালো অভ্রার মুখপানে। মলিন মুখের আগ্রহীভাবটা যেন বেশ পোড়াচ্ছে উষ্ণকে।ইচ্ছে করছে সারা রাজ্যের সুখ এনে দেয় তার শ্যামা ফুলটার সামনে।

"তুমি পারবে না ফুল?মায়ের এই ভুল ধারনাটা বদলে দিতে?পারবে না বোঝাতে?কালো মানেই কুৎসিত নয়,কিছু কিছু কালো শ্যামাও হয়।কোমল হয়,তাদের মধ্যে গোটা একটা পরিবারের মুখে ক্লান্তি ছাড়িয়েও হাসি ফোটানোর ক্ষমতা থাকে।এই যে, ঠিক যেমন তুমি?আমার শ্যামাফুল?"

কথাগুলো অভ্রার উপর কেমন প্রভাব ফেললো বোঝা গেলো না ঠিক।মেয়েটি কেমন রুক্ষ এক হাসি দিলো নিচের দিকে তাকিয়ে।উর্মি নয়নার দিকে তাকিয়ে বললো..

"মামি,আমার সাথে একটু মায়ের ঘরে যাবে??"

নয়না সম্মতি জানিয়ে প্রস্থান করলো উর্মির সাথে। ইতোমধ্যেই প্রীথুলাও উপস্থিত হলো ড্রয়িংয়ে।কোনায় দাঁড়িয়ে কাহিনী দেখছিলো ব্যস।প্রীতি তাকে লক্ষ্য করে অভ্রার দিকে আঁড়চোখে তাকিয়ে বললো...

"তা তোমারও কি আলাদা করে রুম লাগবে নাকি,প্রচ্ছদের বউয়ের মতো?।এ বাড়িতে খুব সীমিত ঘর,মিলেমিশে ঘুমালে আমাদের সুবিধা হতো আরকি।"

প্রীথুলা বেশ বুঝতে পারলো তাকে ফোড়ন কেটে বলা কথাখানা।তাইতো দেরি না করে উত্তর দিয়ে দিলো প্রীতির কথার সাপেক্ষে...

"আমি আলাদা রুম চেয়েছি বলে কি চাঁদ বেকে গেছে?আমি আমার স্বামীর সাথেই থাকতে চেয়েছি ব্যস।আর এক বিছানায় গাদাগাদি করে তিনচার জন একসাথে ঘুমানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।"

প্রভাতি অভ্রার পাশ থেকে ট্রলিব্যাগটা ধরতে ধরতে বললো...

"সময়ে -অসময়ে কিছুদিন আলাদা থাকলেও চাঁদ বেকে যায় না।তোমার সমস্যা স্বামীর সাথে থাকা নিয়ে নয়, তোমার সমস্যা সকলের থেকে আলাদা থাকা নিয়ে।নেহাত রীতি আছে বলে,নাহলে তো তুমি পারো না আমার ছেলেটাকেই ঘর থেকে বের করে দিতে।"

প্রচ্ছদ চাইলো না তার আর প্রীথুলার মনমালিন্যের ব্যপারখানা অভ্রা জানুক।তাই প্রভাতিকে শান্ত কন্ঠে বললো...

"মা,এ্ এখন থাক ওসব।বাদ দাও।"

প্রভাতিও ঐ কথার ইতি টানলো।অভ্রাকে জিজ্ঞেস করল..

"তোমারও কি আলাদা ঘর চাই বউমা??"

অভ্রা দুপাশে মাথা নাড়ালো।আস্তে করে বললো...

"আমি আপনাদের যে কারোর সাথেই থাকবো।একা থাকতে পারবো না।"

উষ্ণ নীরবে হাসলো।অঙ্গ বলেছিলো তখন,যে অভ্রা একা থাকতে ভয় পায়,পারবে না থাকতে।আস্তে আস্তে বিরবির করে বললো...

"ভীতু ফুল আমার।"

রজনী হেসে বললো...

"আমাদের সাথে থাকবে??আমি,আমার মেয়ে,বেলি, উর্মি আমরা সবাই রাতে একসাথেই ঘুমাই।আমাদের রুমের খাটটাও যথেষ্ট বড় আছে,তুমিও থাকতে পারবে।"

মিষ্টি হাসলো অভ্রাও। উত্তর দিলো...

"আচ্ছা।"

---------

দরজার সামনে উষ্ণকে দেখক মুখখানা মলিন করলো প্রনতি।নয়না আর উর্মি এবার যেন একটু সস্তি পেলো।এতোক্ষণ ধরে কত চেষ্টা করলো তার রাগ ভাঙানোর। কিন্তু কিছুই হলো না।

উষ্ণ বিস্তর হেসে এগিয়ে এসে ফট করে শুয়ে পড়লো প্রনতির কোলে মাথা দিয়ে।জিজ্ঞেস করলো...

"তোমার কালি বউমাকে দেখবে না মা??"

প্রনতি মুখ ফিরিয়ে নিলো অন্য দিকে।বুক ভরা অভিমান নিয়ে বললো...

"তোর বউ।তুই দেখ।আমার দেখার কি কোনো প্রয়োজন আছে.??আনার আগে কি আমায় জিজ্ঞেস করেছিস?এখন আমার কাছে কি? ঐ কালি থাক ওর মতো। আমার কাছে আসার দরকার নেই।"

উষ্ণ একটা শ্বাস ফেলে বললো...

"মা,,,শোনো না আমার কথাটা একবার।তুমি দুটো দিন নাহয় ঐ কালির সাথে কথা বলে দেখো।তখনও যদি তোমার পছন্দ না হয় তাহলে আমি এই বিয়ে করবো না।সত্যি বলছি,প্লিজ মা,,একবার... "

উষ্ণের কথার মাঝখানেই দরজার কাছ থেকে এক মেয়েলি কন্ঠের ডাক ভেসে এলো..

"মা?আ্ আসবো?"

প্রনতি তাকালো সেই দিকে।অপরিচিত চেহারা দেখে ভ্রুজোড়া কিঞ্চিৎ কুঁচকালো। উষ্ণও অভ্রাকে এখানে দেখে উঠে বসলো মায়ের কোল থেকে। প্রনতি দেবীর চোখমুখে কেমন যেন বিষ্ময়কর ছাপ পরিলক্ষিত হলো।তিনি কি এক্ষুনি অভ্রাকে দু চারটে কথা শুনিয়ে দেবেন?

পেছন থেকে প্রীতি ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলতে লাগলো...

"মাসিমনি, আমি একে বারবার মানা করেছিলাম তোমার কাছে আসতে।কিন্তু ও আমার কথা শুনলো না।তুমি ভুল বুঝো না মাসিমনি।"

প্রনতির দৃষ্টি অভ্রা হতে সরলো না।নিস্পৃহ ভাবে অভ্রার দিকেই তাকিয়ে বললো..

"উষ্ণবাবা?এই কি সেই মেয়ে?"

উষ্ণ আস্তে করে জবাব দিলো...

"হ্যা মা,ও অভ্রা।"

প্রনতি দেবী ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো অভ্রার কাছে। সামনে আসতেই অভ্রা তার পা ছুঁয়ে প্রণাম করলো।এই এতোটুকুতেই প্রনতি দেবীর মুখে এক অর্বাচীন হাসির রেখা ফুটে উঠলো।নিজের আলতো হাতখানা অভ্রার গালে ঠেকিয়ে বললো...

"এই কি আমার বউমা??"

প্রীতি বললো...

"হ্যা।"

প্রনতি দেবী ফের প্রশ্ন ছুড়লো...

"তোরা যে বললি আমার বউমা কালো??ও তো কালো নয়।শ্যামবর্নীয়।"

নয়না আস্তে করে বললো...

"অনেকেই তো কালো বলে,তাই..."

"ওমাহ,একি কথা?একে বুঝি কালো বলে?,,আর তোরা সবাই কিরে হ্যা??গায়ের রঙের কথা বারবার করে বললি। আর এতো সুন্দর,মায়াভরা চেহারার গড়নটার কথা একটিবারও বললি না আমায়??"

উষ্ণ আর উর্মি বুঝতে পারলো অভ্রার রূপখানা তার মায়ের পছন্দ হয়েছে বটে।তবে কাউকে আর কিছু বললো না তারা।নীরবে হাসলো।

অভ্রা তখন মাথা নিচু করে বললো...

"মা,আপনি আমার উপর রাগ করে আছেন?"

প্রনতি দেবী হাসলেন।অভ্রার মুখখানিতে হাত বুলিয়ে বললো...

"না মা,,আমি একটুও রাগ করে নেই তোমার উপর।আমি ভুল ছিলাম মা।আমাকে সবাই তোমার বর্ননা এমন ভাবে দিয়েছিলো, আমি তোমার প্রতি বিরক্ত হতে বাধ্য হয়েছি।আমি কি জানতাম?ওরা ঠিকঠাক বর্ননা করতে জানে না?"

বুকের উপর থেকে একটা ভারি পাথর যেন সরলো অভ্রার।শাশুড়ী নামক মানবটি নিয়ে তার চিন্তার শেষ ছিলো না।যদি মানিয়ে নিতে না পারে তো??

মুখের বিস্তৃর্ণ হাসি ফুটিয়ে দুহাতে জড়িয়ে ধরলো প্রনতি দেবীকে।তার বুকে মুখ গুজেই বলে উঠলো...

"আমার আপনাকে নিয়ে অনেক ভয় ছিলো মা।ভেবেছিলাম আমি কখনো আপনার যোগ্য বউমা হতে পারবো না।এখন আমার প্রান ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো শান্তি লাগছে মা।"

প্রনতি দেবীর প্রাণ যেন জুড়িয়ে যাচ্ছে। এতোগুলো দিন ধরে মেয়েটাকে নিয়ে যেই বদ্ধমূল ধারণার জন্ম দিয়ে গেছে, তা যেন এক নিমেষেই পরিবর্তন করে দিলো মেয়েটি।ইশ কত বাজে ভাবেই না ভেবে ফেলেছিলেন তিনি এই মেয়েকে নিয়ে।

"আমার ভুল হয়ে গেছে বউমা।আমি আসলে বুঝতে পারিনি।ভেবেছিলাম আসলেই আমার ছেলে একটা কালো মেয়েকে বিয়ে করে আনছে।"

অভ্রা সোজা হয়ে দাঁড়ালো। কন্ঠে একটু কাঠিন্যতা এনে বললো...

"মা,,সৌন্দর্য দিয়ে কখনো কারোর আচরন বিচার করা যায় না মা। ফর্সা মানুষগুলোও কখনো কখনো কুৎসিত হৃদয়ের পরিচয় দেয়।"

প্রচ্ছদ কান পেতে শুনলো কথাটা।মনে হলো যেন অভ্রার কথার ফর্সা মানুষগুলোর মধ্যে সে নিজেও একজন।

প্রনতি দেবী বললো...

"কিছু ঘটনা আমায় এমনটা ভাবতে বাধ্য করেছে মা।আমি আর এমন ভাববো না।"

অভ্রা হাসলো একটু খানি।প্রনতি দেবী হেসে বললো..

"হয়েছে মা।অনেক জার্নি করে এসেছিস।এবার কলপাড়ে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আয়।"

অভ্রা বাচ্চাদের মতো করে আবদার ছুড়লো...

"আর একটু থাকি তোমার কাছে?"

প্রনতির হাসি যেন আরো বিস্তৃত হলো তার কথায়।বললো....

"থাকতে হবে না তোকে।আমি নিজেই তোর সাথে যাবো। চল হাতমুখ ধুয়ে নিবি।"

তুমি কোন কাননের ফুল গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক রোমান্টিক গল্প