রাস্তার একপাশে সোরগোল হচ্ছে দেখে ভ্রু কুঞ্চিত হলো অভ্রার।সেদিকে এগিয়ে যেতে নিলেই পেছন থেকে তার হাত টেনে ধরলো প্রচ্ছদ।বাঁধা দিয়ে বললো...
"আরেহ,ওখানে কেন যাচ্ছো তুমি?শুধু শুধু ওসবের মধ্যে যেও না।থাক।"
অভ্রা চিন্তিত হয়ে হাত ছাড়িয়ে নিতে নিতে বললো...
"আরে দেখতে দিন না?কি যেন হয়েছে।আপনিও আসুন তো"..
প্রচ্ছদের বাধা মানলো না অভ্রা।জনমানবের ভীড় ঠেলে এগিয়ে গেলেই আসল কাহিনি দেখা গেলো।
বখাটে এক ছেলে একজন ফল বিক্রেতার থেকে এটা ওটা নিয়ে দাম দিতে নাকোচ করছিলো।এই নিয়ে ফল বিক্রেতা তাকে বাঁধা দিতে গেলেই ছেলেটি বিক্রেতাকে ধাক্কাধাক্কি করছিলো।
ঘটনা শুনেই মাথায় রক্ত উঠে গেলো অভ্রার।ভ্রু জোরা কুঞ্চিত করেই ছেলেটির দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো সে।জিজ্ঞেস করলো...
" কি হয়েছে?আপনি উনার থেকে ফল নিয়ে তার দাম দিচ্ছেন না কেন??"..
উগ্রপন্থী ছেলেটা যেন অভ্রাকে বাচ্চা নাজুক মেয়েই ধরে নিলো।এই পিচ্চি তার আর কি বিগড়াবে।তাই নিজের গোড়ামি বজায় রেখে বললো...
"এই মেয়ে,,যা তো এখান থেকে।এটা বড়দের ব্যপার, নাক কেন গলাতে এসেছিস।"
অভ্রা দেখে গেলো ছেলেটার গোড়ামি।তবুও গর্জন করলো না,,শান্ত তবে গম্ভীর স্বরে বললো...
"উনার প্রাপ্য মূল্যটা দিয়ে চলে যান এখান থেকে।আর নাহলে তার ফল গুলো ফেরত দিন।"
ছেলেটা দাম্ভিকতা দেখিয়ে হাতে থাকা ফলের পলিথিনটা ছূড়ে ফেললো কাদা মাখানো রাস্তায়।মূহুর্তের চলন্ত কিছু গাড়ি ফল গুলোকে পিষে চলে গেলো।
"ফল দিলাম ফেলে,,,দেবোনা টাকা।এবার কি করবি বল?চিনিস আমায়??বাড়াবাড়ি করলে না,,তোর আস্ত থাকবে না মেয়ে..."
বলতে বলতেই ছেলেটি এগিয়ে আসছিলো অভ্রার দিকে। তার লক্ষণ ঠিক ভালো ঠেকলো না প্রচ্ছদের কাছে।তাইতো পাশ থেকে অভ্রার বাহু টেনে আনার চেষ্টা করে বললো...
"অভ্রা,, চলে এসো তুমি ঝামেলা করো না,, চলো এখান থেকে।"
ছেলেটি প্রচ্ছদকে বললো...
"এই ভাই,একে সামলান,,কি!!সাথে নিয়ে ঘুরছেন, অথচ সামলাতে পারছেন না?পরে কিন্তু ভালো হবে না।"
অভ্রা সন্তর্পণে প্রচ্ছদের হাতটি নিজের বাহু থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো....
"উনার টাকাটা দিয়ে দে বলছি..."
ছেলেটা গর্জে উঠতে নিলো...
"এই মেয়ে,,তুই তোকারি কাকে করছিস....."
ব্যস কথারা ইতি টানলো সেখানেই।শান্ত অভ্রা যেন মূহুর্তেই হিংস্র বাঘিনীতে রুপান্তরিত হলো।ছেলেটির কলার টেনে ধরে ঠাস ঠাস করে দুটো চড় বসিয়ে দিলো তার বাম গালে।তীব্রতা এতটাই ছিলো যে ছেলেটার গাল ফেটে রক্ত পরার দশা।।খ্যাপার মতো অভ্রা রক্তচক্ষু নিয়ে ছেলেটিকে বললো....
"টাকাটা দিবি নাকি আরো কয়েকটা...."
"দিচ্ছিহ,,,টাকা দিচ্ছি আমি।।প্লিজ ছেড়ে দিন আমায়।প্লিজ...."
প্রচ্ছদ হা হয়ে গেলো।এই কি সেই অভ্রা?যে একটু আগেই তার সাথে পায়ে পা মিলিয়ে হাটতে হাটতে বাচ্চামো করছিলো,,,ভেড়া দেখেই ভয়ে সিটিয়ে যাচ্ছিলো?হঠাৎ এতো পরিবর্তন কি করে?
ছেলেটি টাকাটা দিয়ে কোনোরকম যেন মুখ বাচিয়ে পালালো।সে যেতেই অভ্রার ভাব আবার কেমন নির্মল হয়ে এলো।দোকানদার লোকটার দিকে তাকিয়ে সেই কি যে একটা মিষ্টি হাসি দিয়েছিলো,,আজ দুটো বছর পর আবারো সেই হাসি প্রচ্ছদের মন দুয়ারে হানা দিলো।কই, তখন তো এতোটাও মুগ্ধতা ছিলো সেই হাসিতে?
"ম্যাডাম,আপনি নিশ্চয়ই এখানে চারদিকে গেড়াওটা দেখতে পারছেন?আর ঐ যে, যেদিক দিয়ে এসেছেন,সেখানে শুদ্ধ বাংলায় বড় বড় করে লিখা আছে
" সংরক্ষিত এলাকা,,কাজ চলাকালীন দয়া করে কেউ প্রবেশ করবেন না "
আপনি কি তা দেখতে পাননি?নাকি দেখেও বুঝতে পারেননি??"
প্রীথুলাও যেন কম যায় না।তর্কের পর তর্ক করেই গেলো অভ্রার মুখে মুখে...
"সেটা তোমাকে কেন বলবো?আর এটা আমাদের বাড়ি,,আমি যখন ইচ্ছে এখানে আসতে পারবো।"
"আমি এটা জানতে চাইনি এটা কার বাড়ি।তবে আমাদের কাজের নিয়ম অনুযায়ী, যতক্ষণ আমাদের কাজ চলবে,ততক্ষণ সেই জায়গাটুকু আমাদেরই।আপনার প্রথম ভুল হলো রুলসের বাইরে গিয়ে এখানে প্রবেশ করা।আর আপনার দ্বিতীয় ভুল কি জানেন?,এই যে আপনি এখানে পরে গিয়েছেন,উনি শুধু আপনাকে সাহায্য করতে এসেছিলো।কোনো বাজে উদ্দেশ্যে নয়,,আর আপনি কিনা উনাকে থাপ্পর মারলেন??সরি বলুন উনাকে।"
"আমি বলবো না সরি উনাকে।"
"বলবেন না??"
"না,বলবো না।"
বড়সড় একটা শ্বাস ছাড়লো অভ্রা।প্রীথুলার থেকে মুখ সড়িয়ে তুহিনের দিকে দৃষ্টি দিলো....
"তুহিন?,,"
"বল অভ্রা??"
"থানায় ফোন কর।"
অবাক হলো তুহিন সহ বাকিরাও...
"কেন?"
অভ্রা আবার দৃষ্টি দিলো প্রীথুলার দিকে।শান্ত কন্ঠে বললো...
"এই ম্যাডামের নামে একটা মামলা হবে।মানহানির মামলা।"
চোখ বড়বড় হয়ে গেলো প্রীথুলার,,আঙ্গুল তুলে অভ্রাকে কিছু বলতে নিলেই অভ্রা হাত উচিয়ে থামিয়ে দিলো তাকে...
"আমাদের অনলাইন ওয়ার্কের জন্য প্রত্যেকটা ইভেন্টওয়ার্ক শুরু থেকে ভিডিও করে রাখা হয়,,আজকের ভিডিওটাও আছে,,,থানায় প্রমান হিসেবে ওটাই যাবে।এবার সীদ্ধান্তটা আপনার,,জেলে যাবেন??নাকি উনাকে সরি বলে চুপচাপ এখান থেকে বেরিয়ে যাবেন??"
নিভে এলো প্রীথুলা,,জীবনের হাজার হাজার ভুল সীদ্ধান্তের পরে আজ একটা সঠিক সীদ্ধান্তই নিলো সে।অগ্নিদৃষ্টিতে টুটুলের দিকে তাকিয়ে "সরি" বলেই হনহন করে বেরিয়ে গেলো সেখান থেকে।বের হতেই পাশ থেকে প্রীতি বাসু তাকে বলে উঠলো....
"পৃথিবীর সব ছেলেরা আর ছেছর হয় না,,যে তোমাকে দেখলেই পাগল হয়ে যাবে।এতো যে রূপের গরম?নিজেকে আয়নায় দেখো??"
প্রীথুলাও চুপ থাকার নয়,,মুখের উপর জবাব দিলো...
"ভুলে যাবেন না আপনার ভাই আমার এই রূপ দেখেই পাগল হয়েছে।"
বাকা হাসলো প্রীতি বাসু,,,বললো...
"আমি আমার ভাইকে মিন করেই ছেছর বলেছি।"
আর একটি কথাও বলতে পারলো না প্রীথুলা।গটগটিয়ে চলে গেলো বাড়ির ভেতর।তা দেখে প্রচ্ছদ একটা সুস্থির নিঃশ্বাস ফেললো।
প্রতিবাদী অভ্রা নিভে এলো।করুন দৃষ্টিতে তাকালো টুটুলের দিকে।,,ছেলেরার রক্ত গরম।অন্য কোথাও হলে নিজেই এর একটা বিহীত করতো।আজ শুধু অভ্রার কথা ভেবেই যে এতো বড় অপমানটা নিজের কাধে নিয়ে নিলো,তা বুঝতে বাকি রইলো না দলের কারোরই।
"আমায় তুই ক্ষমা করতে পারবি টুটুল??"
অভ্রার করুন কন্ঠে হৃদপিণ্ড লাফিয়ে উঠলো টুটুলের। বুকের ভেতর কেউ যেন দামামা বাজিয়ে বলে উঠলো.. "তোর ভালোবাসা কষ্ট পাচ্ছে টুটুল, তোর অভ্রা কষ্ট পাচ্ছে খুব।"
তড়িৎ গতিতে অভ্রাকে থামালো নিজের কথার দ্বারা..
"এসব কেন বলছিস অভ্রা??তুই কেন ক্ষমা চাইছিস??"
"আমি তোর ভালোবাসার মান রাখতে পারিনি,আর আজ তোর সম্মানটুকুও রাখতে পারিনি।"
অভ্রা মাথা নোয়ালো।টুটগলের চোখও টলমল করছে।এই বুঝি কান্না করে দেবে ছেলেটি, করলো না তা।আলতো হাতটা অভ্রার মাথায় রেখে ভেজা চোখেও মুচকি হেসে বললো...
"এই যে তোর অনুমতি ছাড়াই মাথায় হাত রাখছি?তোকে আজীবন ভালোবেসে যাওয়া অধিকার পেয়েছি,,এটাই আমার সব থেকে বড় প্রাপ্তি। এর থেকে বেশি তোর থেকে আর আমার কিচ্ছু চাওয়ার নেই।ক্ষমা চাইবি না প্লিজ।আমাকে নিজের কাছে অন্তত ছোট করে দিস না?"
----
প্রভাতীর সামনে পড়তেই অভ্রা মাথা নিচু করে ফেললো।পাশে উষ্ণ, প্রচ্ছদ,প্রনতি সহ আরো কয়েকজনের উপস্থিতি টের পেলো।
"আমায় ক্ষমা করবেন মাসিমনি।আমার তখন যেটা ঠিক মনে হয়ছিলো,আমি সেটাই করেছি।"
প্রভাতী হাসলো আলতো করে।অভ্রার গালে আদুরে হাত ঠেকিয়ে বললো...
"বোকা মেয়ে,,ক্ষমা কেন চাইছো তুমি??তুমি তো ভুল কিছু করোনি।প্রীথুলার এমন একটা শাস্তি হওয়াই উচিৎ ছিলো। ঐ মেয়ের দাম্ভীকতার কারনে আজ তোমার দলের ছেলেটাকে অপমানিত হয়ে হয়েছে।"
অভ্রা মাথা তুলে তাকালো।টুটুলের দিকে ইঙ্গিত করে বললো...
"ঐ যে ছেলেটাকে দেখছেন?সে শুধু আমাদের দলের লোক নয়।।।এই কাজের অনেক আগে থেকেই আমরা সবাই একে অপরকে চিনি।ইভেন্টের কাজটা আমরা কেউই উপার্জনের উৎস হিসেবে নিই নি।ব্যস শখ ছিলো সবার,তাই ছোটখাটো ভাবেই শুরু হয়েছিলো।তবে শখ করে করা কাজ যে দিনে দিনে এতটাই পরিচিত হয়ে উঠলো যে এখন একদিনে তিন চার জায়গা থেকেও কাজের অর্ডার আসে।।টুটুল গ্র্যাজুয়েটেড।অশিক্ষিত নাহ,তেমনি নারীলোভীও নাহ।ও খারাপ মনোভাব নিয়ে প্রীথুলা বৌদিকে ধরেনি মাসি মনি।আমি চিনি ওকে,,যাকে পাগলের মতো ভালোবাসে,তাকেই কখনো অনুমতি বিহীন ছোঁয়ার চেষ্টা করেনি,আর ও কিনা প্রীথুলা বৌদিকে ছুঁবে,, এটা সম্ভব নয় মাসিমনি,,দয়া করে আপনারা কেউ ওকে খারাপ ভাববেন না।"
সবার দৃষ্টি পড়লো দুরে কর্মরত টুটুলের উপর।প্রভাতী হেসে বললো...
"আমি ওকে খারাপ ভাবছি না মা।,,তবে ও যেই মেয়েকে ভালোবাসে,সে খুবব ভাগ্যবতী মেয়ে নিশ্চয়ই। "
ইশশ,,সেই ভাগ্য অভ্রার বুঝি হলো না?কেন হলো না?ধর্মে বাঁধা বলে,তাই তো??কিন্তু টুটুল কি একটু বেশিই ভালোবেসেছে?যে তার কাছে ধর্মের বিন্যাসটাও ফিকে?
আর কিচ্ছুটি বললো না অভ্রা,,কি বলবে সে।বলার মতো নেই তো কিছু।নীরবে একবার উষ্ণ আর প্রচ্ছদের দিকে দৃষ্টিপাত করে ফিরে গেলো নিজের কাজে।
----
খুব ভালো ভাবেই উর্মির বাগদানটা সম্পন্ন হলো।
প্রবনদের বাড়ি থেকে কিছুটা দুরেই একটা মন্দিরে কালীপূজোর তিথি পড়েছে।প্রতিবছরের নিয়ম অনুযায়ী,এবারও সেখানে বলী চড়াবে প্রবনরা।তাই বাড়ির সবাইকেই যেতে হবে সেখানে।এবার তাদের সাথে অভ্রাও নতুন মুখ।
উষ্ণের ইচ্ছে হলো অভ্রাকে সেদিন শাড়িতে দেখবে।ইচ্ছেটা সে অবলোকন করতে পারেনি।নিজ মতো করেই জানালো অভ্রাকে।তবে অভ্রা নাকোচ করেছে।পারবে না সে শাড়ি পরতে।তারপর থেকে টানা চারদিন উষ্ণ ভেবেই গেলো কিভাবে অভ্রাকে শাড়ি পড়ানো যায়।তবে উপায় আর পেলো কই।,,পূজোরদিন দুপুরে সোফায় বসে উর্মি পায়ে আলতা দিচ্ছিলো,তা দেখেই রজনর স্বামী আয়ান দুষ্টুমির ছলে বলে উঠলো...
"কি গো শালীকা,,আজ এতো সাজগোজ??পূজোর ওখানে কি বিশেষ কেউ আসছে নাকি??"
উর্মি হেসে জবাব দিলো...
"বলছে আপনারে,,,আর সাজলাম কই?আলতাই তো পড়ছি,,শাড়ি পড়বো তাই।"
চট করেই উষ্ণের মাথায় তুরগ বুদ্ধি খেলে গেলো,উর্মিকে জিজ্ঞেস করলো.....
"অভ্রা কোথায় রে?"
"ঘুমোচ্ছে। মা বললো সারারাত জাগতে হবে,তাই যেন একটু ঘুমিয়ে নেয়।"
পাশেই বসে প্রচ্ছদ মোবাইলে কি যেন দেখছিলো।উর্মির কথায় উষ্ণের মুখ বেজার দেখে বললো....
"অভ্রার ঘুম মোটামুটি গাঢ়। জোরে কথা বলা ছাড়া যা ইচ্ছে করতে পারিস।"
উষ্ণ যেন খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলো।উঠে গিয়ে প্রচ্ছদকে জড়িয়ে ধরে বললো...
"ধন্যবাদ ভাই।।ইউ আর সো সুইট।".
বলেই উর্মির হাত থেকে আলতার বোতলটা নিয়েই বললো...
" আয় তোরা,,আমায় হেল্প করবি।"
প্রচ্ছদের কথাই সত্য হলো।এতোগুলো মানুষ ঘুমন্ত অভ্রার আশেপাশে ঘুরলো,,নিরলায় বসে দুটো পায়ে খুব সুন্দর করে আলতা একে দিলো,অথচ অভ্রা টেরই পেলো না।
আলতা আকা পা জোড়া দেখে হৃদ চঞ্চল হয়ে উঠলো প্রচ্ছদের।উষ্ণতো ঐ পা ছুঁয়ে দেখার অধিকার পেয়েছে।কিন্তু প্রচ্ছদের যে সেই অধিকার নেই,সে তো শুধু পারবে আঁখিদ্বয়ের তৃষ্ণা মিটিয়ে নিতে।আচ্ছা,,,অভ্রা তো অপসরা নয়,,তাও পাও ধবধবে ফর্সা নয়,মোটামুটি ধরনের।তবুও রক্তজবার ন্যয় গাঢ় আলতা আকা পা দুটি এতো কেন মোহনীয় লাগছে??
সম্পূর্ণ কাজ ঠিক মতোই শেষ হলো।তবে বিপত্তি বাধলো শেষে এসেই।উষ্ণের ইচ্ছে হলো অভ্রার আলতা রাঙা পা জোড়া আরো একটু আকর্ষণীয় করে তুলতে।তাইতো সবাইকে আস্তে করে"আমি আসছি"বলেই ছুটে চললো বাইরে।দ্রুতই ফিরে এলো হাতে একজোড়া নুপুর নিয়ে।
নুপুর জোড়া সে অভ্রার জন্যই কিনে রেখেছিলো বেশ কিছুদিন আগে।দেবে দেবে করেও দেওয়া হয়নি।হয়তো সময়ও এই সুদৃশ সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো।
বেশ মোটা ঝুমকোযুক্ত কারুকাজ করা নুপুড় জোড়া,এক কথায় চোখে লাগার মতো।নিজ হস্তে নুপুর পড়িয়ে দিলো উষ্ণ। তবে কেউ আর রুম ত্যাগ করতে পারলো না।বেখেয়ালিতে উষ্ণের হাতের সাথে লেগেই ঝুমঝুমিয়ে উঠলো নুপুর।ব্যস বাধলো বিপত্তি সেখানেই।
লেগে আসা ঘুম নিমেষেই হালকা হয়ে গেলো অভ্রার।চোখ খুলেই নিজের পায়ের কাছে এতোগুলো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করে ভকড়ে গেলো সে।লাফিয়ে উঠে বসে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো...
"আপনারা এখানে??কি করছেন??"