তুমি কোন কাননের ফুল

পর্ব - ১৭

🟢

পাহাড়ি রাস্তার আঁকাবাকা পড়ে বেশ কাট খোর পুড়িয়েই চলছে সিএনজিটা।যাত্রা শুরুর একটু পরই হঠাৎ উষ্ণের ইচ্ছে হলো তার শ্যামা ফুলের এলোকেশে মুখ ডোবাতে।নিজের ইচ্ছেকে অবলোকন না করে হুট করেই অভ্রার খোঁপাটা খুলে দিলো উষ্ণ। বুঝতে পেরেই অভ্রা,অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো...

"আরেহ,,কি করছেন?খোঁপা কেন খুলেছেন।"

"ইচ্ছে হলো তাই।"

বাইরে বাতাসে অভ্রার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়তে থাকলো,,তাই অভ্রা হাত উচিয়ে আবার চুলে খোঁপা করতে নিলেই উষ্ণ আস্তে করে মুখ ঠেকলো অভ্রা কেশে।ফিসফিসিয়ে বললো...

"তোমার ভালোর জন্যই করেছি শ্যামাফুল।খোঁপা করলে তোমার ব্লাউজের ফাঁকে উন্মুক্ত পিঠে মুখ গুজবো।তখন কিন্তু আমায় নির্লজ্জ বললে চলবে না।"

জমে গেলো অভ্রা,,হাতটা ওভাবেই থেমে গেলো।বুকের ভেতর ধিমধিম আওয়াজ তুললো কিছু একটা।বুঝতে পারলো না তা কি।

পাশ থেকে প্রচ্ছদের শরীর থেকে পারফিউমের কড়া স্মেল এসে নাকে ঠেকছে অভ্রার।তম্মিত হয়ে প্রচ্ছদের দিকে তাকাতেই দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলিত হলো দুজনার।লোকটাকে প্রাণ ভরে দেখার ইচ্ছে ইহজন্মেও মিটবে না মনে হয় অভ্রার।এই যে,এখন কেমন বেহায়য়ার মতো করে তাকিয়ে আছে।

দু দুটো অনুভূতি মিলে একাকার হচ্ছে অভ্রার মনে।উষ্ণ আর প্রচ্ছদ।অভ্রা তো দুজনকে এক সাথেই লালন করছে মনের ভেতর।এক তার অতীত,আর এক তার ভবিষ্যৎ। অভ্রার মস্তিষ্ক বার বার জানান দিচ্ছে,,

"এটা ভুল করছিস অভ্রা,এক মনে দুজনের বসবাস থাকতে পারে না।তুই উষ্ণায়নকে খুব বাজে ভাবে ঠকাচ্ছিস।ভুলে যা তুই প্রচ্ছদকে।".

কিন্তু অভ্রার মন যে মানতে চাইছে না।দ্বোটানায় তো সে নিজেও,কাকে বেছে নেবে সে?আবার কি দু বছর আগের মতো বেহায়য়া হবে প্রচ্ছদের জন্য? নাকি তাকে ভুলে নতুন করে ঘর বাধবে উষ্ণায়নকে নিয়ে??

বাতাসের দরুন অভ্রার চুল গুলো উড়ে এসে আচড়ে পড়ছে প্রচ্ছদের মুখে।এলোমেলো ভাবে ছুঁয়ে দিচ্ছে যেন তাকে।প্রচ্ছদ চাইলো না অভ্রার এই সামান্য ছোঁয়াটুকুও হারিয়ে যাক তার থেকে।পুরো অভ্রাটাকে যে ছোঁয়ার অধিকার সে হারিয়ে ফেলেছে।অন্তত এইটুকুই বেঁচে থাকুক।

আলতো হাতে প্রচ্ছদের থেকে অভ্রার চুলগুলো সরিয়ে তার কানের পিছনে গুঁজে দিলো উষ্ণ। আগলে নিয়ে বললো...

" তুমি শুধু আমার হয়ে থাকো ফুল।তোমার চুল,তোমার শাড়ী এবং তুমি পুরোটাকেই সামলানোর দায়িত্ব আমার।"

————————––——

পাহাড়ের আঁকাবাকা রাস্তা পাড়ি দিয়ে ছোট্ট একটা খড়ের ছাউনির তৈরি কুটিরের সন্ধান পেলো সবাই।ইহা অবশ্য এক বয়ষ্ক বাউল মতো করে লোকই দেখিয়ে নিয়ে এসেছে তাদের।

লোকটার হাতে একটা কাঠের দোতারা,একটু পর পরই সে টুংটাং আওয়াজ তুলছে তাতে।আধপাকা জট ধরা চুল গুলো যেন বুঝিয়ে দিচ্ছে খুব বিজ্ঞ লোক তিনি।প্রচ্ছদের খুব ভাব জমে উঠেছে লোকটার সাথে।দুজন মিলে একসাথে এগিয়ে যাচ্ছে, কথা বলছে,আবার হাসছেেও।

কুটিরের সামনে বড় খোলা উঠোনটায় কিছু উপজাতি নারী নাচের তাল তুলছে বাঁশের ফাঁকে ফাঁকে। এটা তাদের একটা ঐতিহাসিক নৃত্য।

বাউল মতো লোকটি গিয়ে কুটিরটির সামনে মাটির দাওয়ায় বসলো,পাশে বসলো প্রচ্ছদও।আরেকজন লোক এসে বৃদ্ধ লোকটিকে হুকা ধরিয়ে দিলো।লোকটি হুকায় একটান দিয়ে তা পাশে রেখে আবারো হাতে তুলে নিলো তার দোতারাটি।টুংটাং টুংটাং করে ছোট্ট একটা তাল মিলিয়ে উপজাতি নারীগুলোর উদ্দেশ্যে বললো...

"বেটিলোক,,মেহমানদের তো তোমরাদের নাচ দেখাইয়া ধইন্য করা লাগবো গো।লও শুরু করো, শুরু করো।মুই গান ধরতাছি।ফজলুর রহমানের খাসা একখান গান।"

নারীরা সম্মতি জানিয়ে নিজেদের জায়গা ঠিক করে নিলো।বাউল মতো লোকটিও তার দোতারায় তাল তুললো।বাকিরা সবাই চার দিকে থাকা কাঠের তক্তায় বসে পরিবেশ উপভোগের প্রস্তুতি নিলো।গান গাইবে শুনে ওখানকার আরো দুজন লোক এসে বসলো বাউলের সাথে,নিজেদের হাতে থাকা ছোট্ট গোল মতো মাদল আর জিপসিতে তারাও তাল মিলালো।

আসর জমছে বেশ।চারদিকে প্রকৃতির সোভা তার মাঝে এমন ঐতিহাসিক নৃত্য। বেশ মনোরমই বটে।হুট করেই উষ্ণ পাশে থাকা অভ্রাকে টেনে তুললো।

ছেরে দেওয়া আচলখানা স্বযত্নে কাধে তুলে দিয়ে পেচিয়ে এনে কোনাটা কোমরে গুঁজে দিলো অভ্রার।এরপর হুট করেই হাতে টান দিয়ে নিয়ে দাড় করালো উপজাতি মেয়েগুলোর মাঝে।

প্রথমে অবাক হলেও পরে বেশ খুশিই হলো অভ্রা।নাচটা তার ভালো লাগে।হয়তো উপজাতি মেয়েদের মতো এতো ভালো পারবে না,,তবে পায়ে পা মিলিয়ে একটু কিছু হলেও পারবে।

মিহি হেসে সে তাল মিলালো বাকি মেয়েদের সাথে।ওদিকে দোতারার সুরে সুরে গান বইলো বাতাসে...

"" ইন্দুবালা গো...

তুমি কোন আকাশে থাকো,জোৎস্না কারে মাখো..

কার উঠানে পরো ঝড়িয়া।

ডুবিয়া মরিলাম,মরিয়া ডুমিলাম//

তোমারই প্রেমে পড়িয়া..

ইন্দু বালা গো,ইন্দুবালা গো।"

প্রচ্ছদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো অভ্রার পানে।মেয়েটা আজকাল তাকে ছাড়াও খুশি থাকতে শিখে গেলো।অন্যকারোর ইচ্ছেতেও নাচতে শিখে গেলো।এভাবেই কি সে হারিয়ে যাচ্ছে প্রচ্ছদের থেকে?

বাজানো চলমান রেখেই বাউল লোকটি পাশ ফিরে প্রচ্ছদের দিকে হেসে প্রশ্ন ছুড়লো...

"কি গো ছোরা,,,ওমন করে তাকাই আছো ক্যান ওর দিকে?চাইয়াও কি পাইতাছো না?"

প্রচ্ছদের বুকটা যেন হুহু করে উঠলো প্রশ্নটা,,নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করেই একপলক শান্ত দৃষ্টি দিলো বাউল লোকটিতে,এরপর আবার অভ্রার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে উত্তর দিলো..

"উহুম,,পেয়েও হারিয়েছি।"

বাউল লোকটির হাসি চওড়া হলো।কেন হলো তা জানার আগ্রহ প্রকাশ করলো না প্রচ্ছদ, হয়তো এই হাসিটাও তাকে তাচ্ছিল্য করার উদ্দেশ্যে.।

"প্রেম বড় ভেজাল জিনিস গো ছোরা।।করলে খাট্টামিঠা, আর না করলেও নোনাপানি, বুঝলা??কষ্টের লাহান বইসা না থাইকা, মোর লগে গাইয়া ফালাও দেহি..."

বলেই লোকটি আবার পরিষ্কার কন্ঠে গেয়ে উঠলো গানটার একটা লাইন।প্রচ্ছদকে আগের মতোই থাকতে দেখে,লোকটি আবারও হালকা ডাকে বললো...

"কি হইলো ছোরা?গলা ছারো?কষ্টের জানান দেওনা তারে?"

প্রচ্ছদ একটা নিঃশ্বাস ফেলে গেয়ে উঠলো...

"মনের চালে দুঃখের বৃষ্টি ঝুমঝুমাইয়া পড়ে,

একলা ঘরে ভালোবাসা কেঁদে কেঁদে মরে।"

ভিন্ন কন্ঠের স্বাধ পেয়ে সকলেই তাকালো প্রচ্ছদের পানে।সকলেই আলতো হাসলো,শুধু হাসি বিলীন হলো অভ্রার।পায়ের গতি ধীর হয়ে এলো তার।চঞ্চল আঁখি দুটি স্থির হলো প্রচ্ছদে।

বাউল লোকটি আবার গেয়ে উঠলো একটা লাইন,,অভ্রার ভ্রম কাটলো,স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা চালালো মন থেকে,নাচে মন দিলো সে,,

বাউলকে অনুসরন করে প্রচ্ছদও গেয়ে উঠলো...

"ডুবিয়া মরিলাম,মরিয়া ডুবিলাম,

তোমারই প্রেমে পড়িয়া..

ইন্দুবালা গো,ইন্দুবালা গো।"

সম্পূর্ণ গান শেষ হওয়ার পর প্রচ্ছদ ঠোক গিলে চোখ বুজলো।অন্তরের কষ্ট গুলো যেন পাথর আকার ধারন করে বসেছে আজ।কতটা কষ্ট জমেছে,তার পরিমান হয়তো কখনোই করা সম্ভব নয়।ভীষণ কাঁদতে ইচ্ছে করছে আজ প্রচ্ছদের।কিন্তু কি আশ্চর্য, চোখ দিয়ে তার একটা ফোটা পানিও বের হচ্ছে না আজ।অথচ এই চোখের জলই ছিলো অভ্রাকে নিজের প্রতি দূর্বল করার এক মোক্ষম অস্ত্র।

ফেরার পথে পুরোটা পথ প্রচ্ছদ নীরব ছিলো। চোখ দুটি তার বন্ধ ছিলো,সে ছিলো গভীর ভাবনায় মগ্ন।চিন্তার একখানা ফল বের হয় সবসময়ই।প্রচ্ছদেরও তা হয়েছে,,ফলটি হলো অভ্রা লাভ।

যেভাবেই হোক ঐ শ্যামবর্ণীয় অভ্রাকে তার চাই।যে কোনো প্রকারেই।কিন্তু তার জন্য উষ্ণকে আগে সরে আসতে হবে।প্রচ্ছদ পারবে না উষ্ণকে নিঃশেষ করে দিতে,আপন ভাইয়ের চেয়েও উষ্ণ বেশি তার নীকট।অভ্রাকে খারাপ প্রমাণ করেই সে আলাদা করবে দুজনকে,তারপর অভ্রা তার,আজীবন আগলে রাখার মতো এক মূল্যবান সম্পদ তার অভ্রা।

-------

সবাই বাড়ি ফিরতেই প্রনতি দেবী এসে অভ্রাকে জানালো তার দিদা শাশুড়ী গতকালই গয়া পরিভ্রমণ করে ফিরে এসেছে বাড়িতে। অভ্রা যেন গিয়ে তার সাথে একবার দেখা করে আসে।।প্রনতি দেবী এটাও বললো,যেন শাড়িটা পাল্টানোর আগেই যায়,,সেকেলের বৃদ্ধা প্রনতি দেবীর মা,তাই যেন শাড়ি পড়েই দেখা করে আসে।এমনিতে তিনি বাড়ি থাকলেও সারাটাক্ষন একটা ঘরেই বসে থাকে,বের হন না।তার খাওয়া দাওয়া সবই সেখানে হয়।তাই পরবর্তী সময়ে অভ্রা কি পড়লো না পড়লো,তা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।

অভ্রা মানলো।আচলটা কাধে টেনে নিয়ে বাকি সবার সাথে এগিয়ে গেলো দিদাশাশুড়ির ঘরে।ঘরে ঢুকতেই প্রনতি পরিচয় করিয়ে দিলো অভ্রাকে...

"মা,,এই হলো তোমার হবু নাতবউ।তোমার আদরের নাতি উষ্ণের বউ।"

অভ্রা প্রণাম করলো প্রনতির মাকে।বৃদ্ধা আগলে তুলে নিজ বরাবর খাটে বসতে বললো অভ্রাকে,,খুঁটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলো অভ্রাকে। ভয় পাচ্ছে অভ্রা,,বৃদ্ধার কি তাকে পছন্দ হয়নি?,,

কিন্তু চিন্তার বিপরীতে পরক্ষণেই বৃদ্ধা হেসে কুটিকুটি হয়ে বললো...

"এই জন্যই তো কই,আমার নাতিডায় কার লাইগা এতো পাগল হইলো।বউতো একখান খাসা খুঁজে আনলো গো আমাগো উষ্ণ? "

উর্মি হেসে বললো..

"হ্যা গো দিদান,,ঠিকই বলেছো তুমি,খাসাই বটে।"

প্রনতি হেসে বললো..

"উষ্ণের যা ধাচ,,আমরা তো সবাই ভয় পাচ্ছিলাম,উর্মির আগেই না বিয়ে করে বউ নিয়ে হাজির হয়।ভাগ্যিস শুধু আশীর্বাদটুকু করে রেখেছে,নইলে তো পাড়ায় মান থাকতো না আমার।"

উর্মি উৎকন্ঠা হয়ে অভ্রার পাশে বসতে বসতে বললো..

"জানো বউমনি,,সেদিন যখন দাভাই হুট করে এসে সবার সামনে বললো,তার একটা মেয়েকে পছন্দ হয়েছে,বিয়ে করতে তাকেই করবে,, আমরা সবাই তো তখন হা করে তাকিয়ে ছিলাম ওর দিকে।বাবা তো চিন্তায় পরে গেছিলো,এই না ছেলে বলবে,আমি আজই বিয়ে করে বউ তুলবো ঘরে।সেদিন সারাটা দিন যা একটা কান্ড গিয়েছে না বাড়িতে।অবশেষে তার কথা বাধ্য হয়ে বাবা জিজ্ঞেস করলো,, " মেয়ে কেমন,কোথায় থাকে,নাম কি,ঠিকানা দাও"

তখন ভাই একটাই উত্তর দিলো,যে সে জানে না কিছুই,সিএন জি তে দেখেছে শুধু একবার,বিয়ে করলে তাকেই করবে।এই কথা শুনে তো আরো একবার তব্দা খেলো সবাই।দুদিন পরে আবার কোথা থেকে যোগার করে তোমার ঠিকানাটা এনে দিয়েছে ও নিজেই,এরপর তো প্রস্তাব নিয়ে সোজা তোমার বাড়ি।বুঝলে?"

অভ্রা শুনলো উর্মির কথা,চিন্তা করলো,উষ্ণায়ন আবার তাকে কবে সি এন জিতে দেখলো?কে জানে?,

বাচ্চাদের দুষ্টুমিষ্টি কথার আসর জমতেই বড়রা যেন চুপচাপ সরে গেলো ঘর থেকে।তারা যেতেই প্রনতির মা অভ্রার হাতের ডাটি ধরে বিচক্ষণার সাথে উৎসাহ নিয়ে বললো...

"আমার উষ্ণ ভাগ্য কইরা তোমায় পাইছে বুঝলা?এক্কিরে খাটি জিনিস। শইলডাও এক্কিরে পকপকা। বুঝলা নাতবউ,,আগের দিনের প্রেম আর এহনকার দিনের প্রেমে বহুত তফাৎ। এহনকার পোলারা চায়,মাইয়ারা যাতে থোমনা থোমনা শইলের থাহে,মাইয়াডির ফুইলা থাকা বুকের ভাজে পোলাডির নিশা কাম করে,তারা চায় মাইয়াডিও যাতে তাদের সনে সমান তালে বিছনা কাঁপায়।

কিন্তু তারা কি আর জানে?আগেকার দিনের প্রেমের কথাগুলান?তারা তো জানে না,মাইয়ারা লাজুক হইলে কেমন মজা পাওন যায়।চিকনাচাকনা মাইয়াডিরে আয়ত্তে আনতে কতটা শান্তি,,ফুইলা থাকা বুকের থেইয়া ছোডখাড বুকের ভাজ খানা আচলে লুকাইয়া রাখার কি মজা।বিছানা না কাপাইয়া,,এ সময়ে লজ্জায় রাঙা হওয়া মাইয়াডির মাঝেও যে কি অমৃত লুকাইয়া থাকে তা তো আজকালকার পোলাডি বুঝবারও পারে না।

কিন্তু আমার চোখ কইতাছে, আমার নাতিডায় তেমনই একখান অমৃত পাইছে। দেইখো নাতবউ,,বিয়ার পর যেদিন তোমারে আমার নাতিডায় ধরবো না??আর ছাড়বারও চাইবো না তোমারে,,"

বৃদ্ধার মুখে কথা আটকায় না,কিন্তু এদিকে যে অভ্রার কান দুটি গরম হয়ে উঠেছে।লজ্জায় তার গাল দুটি যেন এখনই লাল বর্ণ ধারণ করেছে।লজ্জায় কারোর দিকে মুখ তুলে তাকাতে পর্যন্ত পারছে না সে।এদিকে উর্মি আর রজনী তো ব্যস্তা মুখ টিপে টিপে হাসতে। রজনী তো ফট করে বলেই বসলো...

"ঠাম্মি,,দেখো তোমার নাতবউ এখনই কেমন লাজে রাঙা হচ্ছে? "

বৃদ্ধা কিটকিটিয়ে হেসে বললো...

"হ দেখতাছি তো আমি।এহন সকল লাজ গুলান জমাই রাহো বুঝলা নাতবউ।আমার উষ্ণ যেইদিন তোমার অমৃতপান করতে চাইবো,সেদিন সব লজ্জা অনাবৃত হইবো, বুঝলা তো?দেইখো নাতবউ,তুমি আটকাইতেও পারবানা আমার জোয়ান মর্দ নাতিডারে।অয় ও তো কিছুতে কম পড়ে না তাই না?? "

অভ্রা আর থাকতে পারলো না। মুখে এক সমুদ্র লজ্জার পাহাড় নিয়ে ছুট্টে যেতে নিলো বাইরে।এখানে থাকলে নিশ্চিত আজ লজ্জায় লজ্জায় অভ্রার মৃত্যু হবে।

রুমটার দরজার সামনে আসতেই দেখলো উষ্ণ বুকে দুহাত গুঁজে একপাশে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে।তার ঠিক পাশেই প্রচ্ছদ।।

অভ্রার দিকে হালকা ঝুঁকে উষ্ণ বললো...

"অমৃত সুধা কবে পান করবো ফুল?,,দিদুনের দেওয়া অমৃতের সন্ধান....উফহ,,আমার যে আর তর সইছে না।"

অভ্রার সারা শরীর যেন জ্বমে গেলো,নিঃশ্বাসের উঠানামার গতি বৃদ্ধি পেলো কয়েকশ গুন।ধাতস্থ করে অভ্রা..

"ধ্যাত,,অসভ্য কোথাকার।"

এই টুকু বলেই ছুট লাগাতো অভ্রা নিজ কক্ষের দিকে,,পেছনে ফেলে গেলো এক মাতোয়ারা হাসি আর এক স্তব্ধ হয়ে থাকা কিছু অনুভুতিকে।

-----

কলপাড় থেকে হাতমুখ ধুয়ে আসতে অভ্রা একবার রান্নাঘরে গেলো প্রনতি,প্রভাতি এদের কাছে।জিজ্ঞেস করলো....

"মা,কিছু করবো??"

প্রভাতি তাকালো অভ্রার দিকে।মুচকি হেসে বললো...

"ঘরে গিয়ে আগে শাড়ীটা পাল্টে আসো,,তারপর পারলে সিম আর ডাটা গুলো কেটে দিও।"

অভ্রা যেতে নিয়ে বললো..

"আচ্ছা,, আমি চেঞ্জ করেই আসছি।"

পেছন থেকে প্রনতির ডাকে আবার তাকালো অভ্রা...

"উষ্ণ ছাঁদে গিয়েছে দেখলাম,চা টা দিয়ে আয় তো একটু,তারপর শাড়ী পালটে নিস।"

অভ্রা হেসে চায়ের ছোট্ট ট্রে হাতে নিয়ে এগিয়ে গেলো ছাঁদের দিকে....

"উষ্ণ, তোকে আমি কতবার বোঝাচ্ছি,ঐ মেয়েটা ভালো না,,পুরো ক্যারেক্টারলেস একটা মেয়ে,কেন বুঝতে পারছিস না তুই?"

প্রচ্ছদের চেঁচিয়ে বলা কথার পরিপ্রেক্ষিতেও উষ্ণ শান্ত স্বরে বললো...

"আমি বুঝতে পারছি না,তুই কেন ওকে এতটা খারাপ ভাবছিস,ভাই?"

"উষ্ণ তোকে আমি আগেও বলেছি,ওকে আমি চিনি সেই দু বছর আগে থেকে।"

"হ্যা আমি জানি তা,,একই বাসায় উপর ফ্ল্যাটের একজন প্রতিবেশী, তাই তো??তো কি হয়েছে ভাই??আমি তোদের কিছুই বুঝতে পারছি না,অভ্রার দোষটা কি,, যে তুই ওকে সরাতে চাইছিস আমার জীবন থেকে,প্রীতি দিদি ওকে কেমন বাঁকা চোখে দেখছে,মানে কি এসবের??"

শান্ত হলো প্রচ্ছদ।উষ্ণের চোখে চোখ রেখে বললো...

"জানতে চাস তুই আসল সত্যিটা।"

"নাহ,,আমি অভ্রাকে নিয়ে আর কোনো কথাই শুনতে চাই না।"

"তোকে শুনতে হবে উষ্ণ,,, কারন সত্যটা জানলে তুই কখনোই অভ্রাকে নিজের জীবনের অংশ বানাতে চাইবি না।"

উষ্ণ উত্তর দিলো না,চুপ করে তাকিয়ে রইলো প্রচ্ছদের পানে।প্রচ্ছদ নিজেই বলে উঠলো...

"দু বছর আগে অভ্রার সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো।আর সেটা শুধু এক পাক্ষিক নয়,,দু পক্ষ থেকেই সাড়া পেয়েছিলো।আর আমাদের সম্পর্কটা শুধু মনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না,শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়িয়েছে তা।এই অভ্রাই একটা সময় আমার নিয়মকরা বিছানার সঙ্গী ছিলো।ওর শরীরের প্রতিটা ভাজ,প্রতিটা কম্পমান অনুভূতি আমার শিরায় শিরায় জানা।ওর ওষ্ট প্রকোষ্ঠের পুরুত্ব, ওর মিলবন্ধনের ধরণ সব,সবটা আমার জানা।

আরো কিছু বলার আগেই পেছন থেকে কিছু একটা পড়ার ঝনঝন আওয়াজ তুললো।শব্দের উৎস খুজতে উষ্ণ এবং প্রচ্ছদ দুজনই তাকালো ছাঁদের দরজার দিকে।দেখতে পেলো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিধ্বংসী অভ্রাকে।প্রচ্ছদের ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় জানান দিলো,নিচে পড়ে থাকা ভাঙা চায়ের কাপটির মতোই সে অভ্রার ছোট্ট হৃদয়খানা ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে।

তুমি কোন কাননের ফুল গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক রোমান্টিক গল্প