প্রচ্ছদের দম বন্ধ হয়ে আসছে।অভ্রার ছলছল দৃষ্টি তাকে এলোমেলো করে দিচ্ছে এই মুহুর্তে। নিজেকে অনেক কষ্টে ধাতস্থ করে আজ অভ্রাকে শেষ করার প্রয়াস চালাচ্ছে প্রচ্ছদ।কিন্তু এতোক্ষণের প্রচেষ্টা এক নিমিষেই ক্ষুন্ন হয়ে গেলো অভ্রার দুটি চোখের কাছে।কেমন কাতর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়েটা।
হুট করেই অভ্রার কি হলো বুঝতে পারলো না প্রচ্ছদ।যে এতোক্ষণ নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়েছে।কিন্তু চোখ মেলতেই হঠাৎ প্রচ্ছদকে দেখে নিজের সমস্ত চেষ্টাকে ধুলো মেরে দিয়ে গলা থেকে হাত খানা সরিয়ে নিলো,এ যেন নীরবতা দিয়ে প্রচ্ছদকে বুঝিয়ে দিচ্ছে "মেরে ফেলুন আমায়।আপনার হাতে আমার মৃত্যু হোক।"
প্রচ্ছদও চাইলো তাই করতে।কিন্তু যখন হঠাৎ করে অভ্রার টইটুম্বুর হয়ে আসা চোখের পানি এক ফোটা গড়িয়ে পড়লো, তখন কিছু একটা যেন প্রচ্ছদকে ভেতর থেকে সরিয়ে দিলো। বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকর্ষনের মতো ছিটকে ছেড়ে দিলো অভ্রার গলা।
ছাড়তেই সীমাহীন কাশি দিতে লাগলো অভ্রা।প্রাণটা যে যেতে যেতেও আবার ফিরে এলো তার কাছে।
প্রচ্ছদের হাতটা কাঁপছে অনবরত।নিজের অবস্থা দেখে সে নিজেই যেন অবাক হয়ে রইলো।অভ্রাকে ছাড়তেই যেন মনে হলো নিজের মধ্যেও দম ফিরে এসেছে।এমনটা কেন হচ্ছে,, সে আর সইতে পারছে না এমন গোলগোল রহস্য। পাগল হয়ে যাবে তো প্রচ্ছদ।
কাশি থামিয়ে কোনো মতে বড়বড় শ্বাস নিতে নিতে অভ্রা নিভু নিভু দৃষ্টিতে তাকালো প্রচ্ছদের দিকে।প্রচ্ছদ চেয়ে দেখলো মেয়েটার কান্ড।হুট করেই এক বিষাদময় হাসি দিলো অভ্রা।যেই হাসিটার অর্থ বুঝে উঠতে পারলো না।তবে এটুকু বুঝে নিলো আজ,মেয়েটা ভীষণ পুড়ছে,,পুড়তে পুড়তে হাসছে।হয়তো হাসিতেই আবার প্রচ্ছদকে পোড়াতে চাইছে।
প্রচ্ছদ ঘনঘন শ্বাস নিতে নিতে চোখ বন্ধ করলো।তাতেই তরতর করে পানি গড়িয়ে পড়লো তার চোখ থেকে।হুট করেই ছেলেটা ডুকরে কেঁদে উঠলো।নিজের কাঁপা হাতটা দিয়েই অভ্রার ডান হাতটা তুলে ধরলো।কোমল হাতটা নিজের কপালে ঠেকিয়ে অঝোরে কাদতে লাগলো সে।
প্রচ্ছদ কত শুনেছে,পুরিষ মানুষ সহজে কাঁদে না।একসময় অভ্রাই তাকে বলতো,,পুরুষ মানুষ কাঁদলে বুঝতে হবে,তার সহ্যের সীমানা পেরিয়ে গেছে,।বুকের ভেতর কষ্টরা পাহাড় হতে হতে যখন আকাশ ছুয়ে ফেলে,তখনই পুরুষের চোখের কোনের জল বেরিয়ে আসতে চায়।
চালাক প্রচ্ছদতো দুটো বছর আগে অভ্রার এই কথাকেই কাজে লাগিয়েছে।বারবার অভ্রার সামনে কান্না করে বুঝাতো,সে খুব কষ্ট পাচ্ছে,, আর বোকা অভ্রায়ীনি মজুমদার,, সেও তার প্রচ্ছদ দাভাইয়ে কষ্ট সহ্য না করতে পেরে, যা বলতো তাই করতো।এভাবেই তো একদিন মিথ্যা কান্না করে অভ্রাকে বলেছিলো..
"অভ্রা গো,,আমার আর এসব সহ্য হচ্ছে না,,আমায় একটু শান্তি দেবে তুমি?আমি তোমার থেকে একটু প্রশান্তি চাই।একটি বার শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে দেবে তোমায়?"
অভ্রা সেবারও পারলো না প্রচ্ছদের অভিনয় ধরতে।নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে রাজি হয়েছিলো শুধু একটা বার জড়িয়ে ধরতে তাকে।আর সে বারই প্রচ্ছদ অভ্রাকে জড়িয়ে ধরার সাথে সাথে অভ্রার ওষ্ঠে নিজের রাজত্ব চালিয়েছিলো কিছুক্ষণের জন্য। তারপর??
তারপর অভ্রার কম্পমান অঙ্গভঙ্গির হালচাল দেখে বুঝে নিয়েছিলো,এই মেয়ে নাজুক।অন্তত প্রচ্ছদের বিছানা সঙ্গী হওয়ার যোগ্য নাহ।প্রচ্ছদের তো চাই দক্ষ কেউ,,যে প্রচ্ছদের সাথে সমান তালে তাল মিলাতে প্রস্তুত।,
এরপরই ধীরে ধীরে অভ্রাকে ছেড়ে দেওয়ার ফন্দি আঁটে প্রচ্ছদ।অবশেষে সফল,কিন্তু সে জানতেও পারলো না,,
তার এক টুকরো অভিনয়কেই নাজুক মেয়েটা সত্যি ভেবে কতটা কল্পনা এটে গেছে কয়েকদিন ধরে।পাহাড় সমান কষ্ট বুকে নিয়েও হেসে গিয়েছিলো প্রচ্ছদের সামনে।প্রচ্ছদকে ভালো রাখার জন্য মিথ্যা অপবাদ নিজের গায়ে মেখে নিয়ে সরে এসেছিলো সে।তারপর সেই না পাওয়া ভালোবাসার যন্ত্রণা নিয়েই কাটিয়ে দিলো পরবর্তী দু দুটো বছর,,এক একটা দিন ছিলো,এক এক ধাপ নরক যন্ত্রণার মতো।আপসোস,সেসব যে দেখতে এলো না প্রচ্ছদ।সে মত্ত ছিলো প্রীথুলাতে,মত্ত ছিলো পাড়ার নগ্ন বৌদিদের দেহে।
আজ প্রচ্ছদ বুঝতে পারছে অভ্রার বলা কথাটা।আজ সে নিজের ধৈর্য শক্তি সম্পূর্ণ হারিয়েই কাঁদছে। চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে তার।কিন্তু পারছে না।সেদিনের সেই নাজুক মেয়েটা আজ কিছু না করেই অনেক কিছুই করে ফেলেছে তাকে নিয়ে।যা হয়তো প্রচ্ছদের কল্পনাতীত ছিলো।
কাঁধে কারো স্পর্শ পেতেই হুশ এলো প্রচ্ছদের।অভ্রার হাত ছেড়ে মুখ তুলে তাকাতেই দেখলো উষ্ণ শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তার দিকে।
হঠাৎ কি হলো প্রচ্ছদের জানা নেই।উষ্ণকে কিছু না বলেই জাপ্টে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠলো। উষ্ণ যেন না বুঝেও অনেক কিছু বুঝে নিলো।কিচ্ছুটি না বলে আগলে নিলো নিজের থেকে বয়সে দু মাসের বড় ভাইকে।সময় দিলো প্রচ্ছদ কে।
একটু পর প্রচ্ছদ নিজ থেকেই সামলে নিলো নিজেকে।ছেড়ে দাঁড়াতেই উষ্ণ নজর দিলো অভ্রার পানে।একটু এগিয়ে গিয়ে দেখলো,,ঘুমে বিভোর সে।চোখের কোনায় পানি চিকচিক করছে এখনো তার।উষ্ণ আলতো হাতে নিজের আঙ্গুলের গোড়ায় তুলে নিলো সেই অশ্রুকনা টুকু।অভ্রার দিকে তাকিয়েই প্রচ্ছদকে উদ্দেশ্য করে বললো...
"আমার কঠিন ফুলটাকে তুই কাদিয়ে ছাড়লি প্রচ্ছদ ভাই??"
প্রচ্ছদের বুকে তীরের মতো বিধলো যেন উষ্ণের কথাখানা।কি বলবে বুঝতে পারছে না সে।ঢোক গিলে মাথা নিচু করে রইলো।উষ্ণ আবারো কাতর কন্ঠে বললো...
"এতোটা ভালোবাসা দিয়ে যাচ্ছি আমি ওকে।বোকা ফুলটা তাও বোঝে না।আমি কি দোষ করেছি ভাই?কেন আমার শ্যামা ফুল এখনো আমায় বিশ্বাসটাই করে উঠতে পারলো না?কেন এখনো ও তোকে অবিশ্বাস করেও ভালোবেসে যাচ্ছে? বল না ভাই?"
প্রচ্ছদ পারলো না উষ্ণের প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিতে।তার কাছে যে দেওয়ার মতো কোনো উত্তর নেই আর বাকি।সে পারছে না অভ্রার ক্লান্ত মুখশ্রীর দিকে তাকাতে। কঠিন মানুষগুলোর হঠাৎ ভেঙে পড়া এতো করুন কেন/?
উষ্ণ আর কথা বাড়ালো না।হৃদয় যে তারও পুড়ছে,,কিন্তু সে কি বোঝাতে পারছে কাউকে?,,কোমল হাতে অভ্রার গায়ের কাথাটা টেনে ঠিক করে দিলো।জ্বর চেক করলো,,নেই এখন।তবে ঔষধের প্রভাবে ঘুমুচ্ছে তার ফুলটা।
বেলি আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলো উষ্ণরা।সে আসতেই উষ্ণ বলে দিলো,অভ্রাকে যাতে একা না রাখে।,,
এরপর বেরিয়ে যেতেই বড় করে একটা দম নিয়ে প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে একটা প্রশান্তির হাসি দিলো।তার কাঁধ জড়িয়ে ধরে হাটতে হাটতে বললো...
"চল,, আজ দুজন মিলে রাতের গ্রামটা একটু ঘুরে দেখবো।"
যেমন কথা,তেমনি কাজ।অন্ধকার গ্রামীন জমির আইল পাড়ি দিলো দুজন একসাথে।ছোট বেলা থেকেই তাদের এই জিনিসটা হয়।মামা বাড়ি এলে খাবে একসাথে,ঘুরবে একসাথে,গ্রামের পুকুরে গোসল করবে একসাথে, সবই আগের মতো।শুধু এখন আর রাতে একসাথে ঘুমানোটা হয় না, এই যা।
আইল ছেড়ে দুজন হাটা ধরলো পিচ ঢালা রাস্তায়।পরিষ্কার রাস্তা।বাতাসেও যেন বিশুদ্ধ একটা ঘ্রাণ। শহরের মতো ময়লা নেই,না আছে ধুলো যুক্ত বাতাস,নেই কোনো গাড়ির হর্নে ভেসে যাওয়া পরিবেশ।
নিস্তব্ধতায় ঝিঝি পোকার ডাকটা যেন একটু বেশিই উজ্জ্বল শোনাচ্ছে। সেই শব্দকেও ছাড়িয়ে গিয়ে হঠাৎ প্রচ্ছদ বলে উঠলো...
"আমার প্রতি তোর ঘৃণা হচ্ছে না উষ্ণ? "
উষ্ণ সামনে তাকিয়েই গা ছাড়া ভাব নিয়ে উত্তর দিলো..
"উহুম।"
একটু সময় থামলো প্রচ্ছদ। আবার জিজ্ঞেস করলো...
"রাগও হচ্ছে না??"
এবার উষ্ণ এক চওড়া হাসি নিয়ে তাকালো প্রচ্ছদের দিকে।নির্মল চোখে চেয়ে হাটতে হাটতেই বললো...
"না,তবে আজ খুব কষ্ট হচ্ছে তোর জন্য আমার।দ্বিধা হচ্ছে, আমি কি ভুল মানুষকে নিয়ে তোর সামনে দাড়ালাম?"
প্রচ্ছদ মাথা নুইয়ে ফেললো।কিয়াৎক্ষন নীরবতা ছাড়িয়ে আবার নিজেই বলে উঠলো...
"অভ্রা খুব চঞ্চল ধাঁচের মেয়ে ছিলো। যদি বলিস পাখি,ও উড়তে জানতো।আর যদি বলিস ফুল,তাহলে ও দুলতে জানতো।
কবে থেকে চিনিস ওকে তুই?"
উষ্ণ তাকালো প্রচ্ছদের পানে।উত্তর না দিয়ে পিচ ঢালা রাস্তায় প্রস্থ বরাবর শুয়ে পরলো লম্বা হয়ে। তাকে দেখে প্রচ্ছদও বসলো তার পাশে।দৃষ্টি শূন্য আকাশের দিকে দিয়ে উষ্ণ বলে উঠলো...
"কুমিল্লা থেকে এসেছি প্রায় একমাস তো হচ্ছেই।মা আর উর্মিকে নিয়ে আসার সময় চৌমুহনী থেকে সি এন জি তে উঠেছিলাম।ঠিক ছিলো সব।সেবারহাট আসতেই তিনজন ছেলে মেয়ের একটা গ্রুপ এসে সি এন জি থামালো।মেয়ে দুজন দেখে ড্রাইভার বললো জায়গা তো হবে না।পেছনের সীটে অলরেডি মা আর উর্মি বসেছিলো।ট্রাভেল করার কারনে মা ঘুমিয়ে পরেছিলো উর্মির কাঁধে।
তো তখন ছেলে মেয়েগুলোর খুব তাড়া ছিলো। হাতে অনেকগুলো ব্যাগপত্র,ককসেট,নানা রকম জিনিস।দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো,স্টেইজ সাজানোর কাজে যাচ্ছে। অন্য সি এনজি গুলো ফুল হতে দেরি হবে বলে একটা মেয়ে বললো...
" আচ্ছা,কিছু হবে না।আমরা ম্যানেজ করেই উঠছি।"
দেখলাম একটা মেয়ে পেছনের সীটে বসেছে।তো আমি নেমে সামনে ড্রাইভারের এক পাশে চলে এলাম।তো ওদের মধ্যে ছেলেটা উঠে বসলো ড্রাইভারের আরেকপাশে।আর তার পাশে বসলো মেয়েটি।মেয়েটির দিকে তখনই আমার নজর গেলো।আর আমি আটকে গেলাম তার মায়ায়।সাজগোছ বিহীন,ঘর্মাক্তক মুখ,তাতে আবার গুড়িগুড়ি ব্রণ,কালছে ঠোট।ডার্ক সার্কেলে ভরা দুটি চোখ।চোখ গুলো কথা বলে জানিস,,নীরব থেকেই যেন অনেক কিছু বলে আমাকে।সেই যে আটকালাম আমার শ্যামা ফুলে,আর চোখ ফেরাতে পারিনি।"
প্রচ্ছদ নিঃশ্বাস ফেলে বললো...
"একমাস?"
"হুম।"
এবার প্রচ্ছদও রয়েসয়ে শুয়ে পরলো উষ্ণের পাশে।বললো...
"দু বছর নয় ঠিক,তার থেকেও বেশি সময় আগে থেকেই আমি অভ্রাকে চিনি।নিয়নদা আমার বন্ধু ছিলো তখন।জানিসই, দোতলা আর পাঁচ তলার প্রতিবেশী আমরা।একদিন নিয়নদার মায়ের সাথে নামতে দেখলাম একটা বাচ্চা মেয়েকে।বেবী পিংক আর সাদার মিশ্রণের একটা জামা গায়ে।একদম ছোট খাটোই বলা যায়।লম্বা চুল ছিলো,এখনো আছে অবশ্য তা।চুলে বেনি করা ছিলো,নানা ভাবে বসলাম একই রিক্সায়।ওর শরীরের মিষ্টি ঘ্রাণটা আমার নাকে লেগেছিলো বেশ।পৌরুষ তত্ত্ব জাগ্রত হলো আমার।ভালোবাসবো,এই কথা মাথায় ও আনি নি আমি,মস্তিষ্ক জুড়ে ছিলো, ঐ ক*চি মেয়েটাকে নিজের বিছানায় নেওয়া,একটা বার ঐ লতানো দেহের স্বাদ নেওয়া।ব্যস।
একটু কথা বলে দেখলাম, মেয়েটা বেশ বোকাসোকা আর চঞ্চল।হাসি ওর মুখ থেকে আড়ালই হয় না।প্রস্তাব দিলাম প্রেমের।জানতাম ও আমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে, তবুও মেয়ে বললো,,'ভেবে দেখবো।'এভাবেই মিষ্টি একটা সম্পর্ক চলছিলো আমাদের। কখনো ওর সামনে নিজের কুদৃষ্টি প্রকাশ করতাম না,যাতে ও আমাকে আরো বিশ্বাস করে।হলোও তাই।জানালাম প্রীথুলার কথা।এমন ভাবে জানালাম,যেন ও বুঝতে পারে এতে আমার কোনো দোষ নেই।বোকাটাও তাই বুঝলো।আমি ওকে ইমোশনালি হার্ট করতাম।জানতাম,ও আমার কষ্ট সহ্য করতে পারে না,কান্না তো নয়ই।তারই সুযোগে আমি ওকে একটা হাগ করবো বলে কমিটমেন্ট করিয়ে নিই।
মেয়েটার মাঝে আমি তখন আনকম্পোর্ট ফিলিং দেখেছি।কিন্তু তাতে আমার কি,আমার তো কার্য সিদ্ধি হলেই হলো।সেদিন আমি ওকে জড়িয়ে ধরার বাহানায়,ওর অনুমতি না নিয়েই,ওর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়েছি।"
চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেললো উষ্ণ।প্রচ্ছদ তাকালো তার দিকে।জিজ্ঞেস করলো...
"খারাপ লাগছে?"
"উহুম।ভাবছি আমার ফুলটাও খুব অসহায় ছিলো তখন।ইশশ,আমি যদি থাকতাম তখন..."
"কি করতি?,আমার মারতি?"
"হয়তো না।শুধু আগলে রাখতাম আমার ফুলটাকে।"
প্রচ্ছদ আবার দৃষ্টি দিলো খোলা আকাশে।আপন মনেই বলে উঠলো...
"মেয়েটা নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েও আমার স্পর্শ গুলোকে মেনে দিয়েছে,শুধু আমায় ভালোবাসে বলে।আর আমিহ!!!"
উষ্ণ হাসলো নীরবে।আস্তে করে বললো...
"প্রচ্ছদ ভাই,,,
তুই যদি জানতি,যে ও তোকে কতটা ভালোবাসে,,,
তবে তুই চোখ বন্ধ করে বলতি...
আমি এই পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান পুরুষ।
কিন্তু,, তুই যে সময়ে তা বুঝলি না?"
প্রচ্ছদ একটুখানি নীরবতা ছাড়িয়ে বললো....
"সময় কি সত্যিই পাড় হয়ে গেছে উষ্ণ?? "
উষ্ণ সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকালো প্রচ্ছদের দিকে।যার অর্থ প্রচ্ছদ বুঝলো।নিজেই আবার বললো...
"দিবি আমায় তোর শ্যামা ফুলটা?সারা জীবনের জন্য? "
উষ্ণের বুকের ভেতর তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। এই ভয়টাই তো সে সেই প্রথম থেকে পেয়ে আসছিলো।সত্যিই কি তার ফুলকে হারাতে হবে তাকে?
"এই দিক দিয়ে আমি খুব স্বার্থপর প্রচ্ছদ ভাই।শ্যামা ফুল আমার আজীবনের প্রশান্তির কারন,আমি ওকে খুব চাই।আমি তা পারবো না ভাই।"
"যদি অভ্রা নিজেই রাজি থাকে?"
এই কথাটার পরিপ্রেক্ষিতে উষ্ণ আর কিছুই বলতে পারলো না।ঠিকই তো ফুল যদি নিজেই প্রচ্ছদের কাছে ফিরতে চায় তাহলে উষ্ণের যে আর কিছুই করার থাকবে না।
"প্রীথুলা বৌদির কি হবে?"
প্রচ্ছদ এবার উঠে বসলো৷ সরু রাস্তার দিকে তাকিয়ে বললো...
"দুটো বছরের সংসার আমাদের।আজ পর্যন্ত ও নিজ থেকে কখনো একটা সন্তান নেওয়ার কথা বলেনি।আমি বললেও মুখের উপর না করে দেয়।কয়েক মাস আগে ভুল করে হলেও ও কনসিভ করে।কিন্তু সে একদমই খুশি ছিলো না তাতে।আমার অনুমতি না নিয়েই এবোরশন করিয়ে ফেলে।অথচ আমি ভীষণ বাচ্চাপ্রেমি।"
প্রচ্ছদ চুপ হয়ে গেলো।একটুক্ষণ পর উষ্ণও উঠে বললো...
"চল,,অনেক রাত হয়েছে।ফিরতে হবে এবার।"
প্রচ্ছদও সম্মতি দিয়ে উঠে পাশাপাশি হাটা ধরলো। যাওয়ার পথে আর এক টুকরোও বাক্য ব্যয় হলো না দুজনার মধ্যে।
কিন্তু দুজনের ভেতরেই জমে আছে কতশত কথা,অনুভূতি, চিন্তারা।
কেউ চাইছে নিজের জিবনকে আবার নতুন করে শুরু করতে পুরোনোর সাথে।আবার কেউ ভয় পাচ্ছে,তার যত্ন করে ভালোবেসে যাওয়া নতুনটাকে হারাতে।
সব চিন্তার ইতি ঐ একটা জায়গাতেই এসে থামে।দুজনই ঐ অভ্রা নামক মেয়েটির প্রতি আসক্ত।
অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরলো দুজনই।ঘরে ঢুকেই রুমের দিকে যেতে নিলে উষ্ণ ক্ষীণ কন্ঠে ডাকলো প্রচ্ছদকে।প্রচ্ছদ দাঁড়ালো,তা দেখে উষ্ণ বললো...
"আমার শ্যামা ফুল যদি চায় তোকে, আমি ওকে বাঁধা দেবো না।তবে তোর কাছে অনুরোধ রইলো,আর যেভাবেই হোক, ফুলের শরীরে যেন জোর না করিস।তা আমি সহ্য করতে পারবো না। "
প্রচ্ছদের ঠোঁটের কোনে এক বিশ্বজয়ের হাসি পরিলক্ষিত হলো।ছেলেটা হঠাৎই উৎফুল্ল হয়ে বললো...
"আমি আর তা করবো না।,,কারন আমি শতভাগ নিশ্চিত,, অভ্রা আমায় ফিরিয়ে দেবে না।কারন ও আমাকে এখনো সেই পাগলের মতো ভালোবাসে।"