"রাহুলের সাথে আমার গত একবছর আগেই পরিচয় হয়েছে।আমি প্রথমে পাত্তা দিইনি, বিশ্বাস করো নতুন মামী।কিন্তু ও আমার জন্য নিজেকে শেষ পর্যন্ত করতে চাইছিলো,সারাক্ষণ আই লাভ ইউ বেলি,,বলে বলে কান পচিয়ে দিতো।ওর এসব পাগলামো দেখে আমিও রাজি হই সম্পর্কে যাওয়ার।সব ঠিকঠাকই ছিলো।গত পরশু আমি ওকে আ্ আরেকটা মেয়ের সাথে দেখি রাস্তায়।কল করতেই বললো কাজে আছি,পরে কল দিচ্ছি।আসলে ও আমার থেকেই একটু সামনে ছিলো।হুট তোলা রিক্সায় বসে দুজন দুজনকে..
কাল রাতে আমি ওকে ফোন করে বলে দিয়েছি,এই সম্পর্কে আমি আর থাকতে চাইনা।ও্ ও প্রথমে পাগলামি করলেও,আজ সকালে দেখলাম,ও আমাদের কিছু ছবি নিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে ওর সাথে সম্পর্ক রাখার জন্য। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না,,তাই তো তখন ওভাবে..."
বেলিকে থামিয়ে অভ্রা বলে উঠলো...
"তাই তখন কাঁদতে কাঁদতে সবটা জানিয়ে দিচ্ছিলে সবার সামনে।"
বেলি উপরনিচ মাথা নাড়লো। অভ্রা আবার বললো...
"বোকা মেয়ে,,তুমি এই সমাজকে এখনো চিনে উঠতে পারোনি,পুরো বাড়িতে লোকজনে ভর্তি।তারউপর গ্রামের বাড়ি।তুমি যদি তখন ওসব বলতে,তখন তো সবাই রাহুলকে নয়,বরং তোমাকেই খারাপ ভাবতো। সবাই তো আর নিজের পরিবারের মতো বুঝবে না বেলি।"
বেলির মুখটা ছোট হয়ে এলো।করুন চোখে অভ্রার দিকে তাকিয়ে বললো..
"আমার জন্য যে তুমি সবার কাছে খারাপ হলে?"
অভ্রা উপরউপর এক হাসি দিলো।গা ছাড়া ভাবে বললো..
"ধুর,,আমায় নিয়ে ভেবো না তো তুমি।এই গ্রামে আমি কি আর সব সময় আসবো নাকি,লোকে একবার বলেই থেমে যাবে।কিন্তু এটা তো তোমার মায়ের মামার বাড়ি তাই না?আজ যদি তোমায় নিয়ে গ্রামে কিছু রটতো,তাহলে তো তোমার মা ও আর কখনো এই বাড়ি মুখো হতো না তাই না?"
"আমার কথা ভেবে তুমি এতটা সমস্যায় পড়লে?"
অভ্রা জোর দিয়ে হেসে বললো...
"আরেহ,,বললাম না আমার কিছু হবে না।এই যে আমি ঠিক আছি?"
"আচ্ছা, বড়রা যদি তোমাদের বিয়েটা ভেঙে দেয়?"
মুখের হাসিটা হুট করেই সরে গেলো অভ্রার।দূর আকাশের পানে তাকিয়ে চোখ বুজতেই,,চোখের পাতায় ভেসে উঠলো উষ্ণের নির্মল হাসি মাখা মুখখানি। আস্তে করে বেলিকে উত্তর দিলো...
"তাহলে সেটা আমার ভাগ্যের লিখন।"
"কষ্ট হচ্ছে না তোমার?"
অভ্রা আবার তাকালো বেলির দিকে।মুচকি এক হাসি দিয়ে বললো..
"হাসছি যে দেখছো না?কষ্ট হচ্ছে না। "
বেলি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে আনমনেই বলে উঠলো...
"তোমার হাসি অনেক সুন্দর নতুন মামী।সবসময় হাসো না কেন?"
"মিথ্যা জিনিস কতক্ষণ নিজের মধ্যে ধারণ করে রাখা যায় বলো তো?"
"মানে?"
"মানে কিছু না।তুমি কি ভাবলে তাই বলো।আরেকটা ঐশি কি আমি বাস্তবে দেখবো??"
"আ্ আমি কিভাবে কাউকে খ্ খু*ন করবো?"
হেসে দিলো অভ্রা।বললো...
"আরে ওটা তো একটা গল্প ছিলো।আমরা কেন খু*ন করতে যাবো?শুধু একটু শিক্ষা দেবো তাকে।"
বোলি উৎদোগী হয়ে জিজ্ঞেস করলো...
"কিভাবে?"
"সব বলবো,,তার আগে বলো তো,,সামনে গেলে আবার ভালোবাসার টানে দূর্বল হয়ে পড়বে না তো??"
বেলি দ্রুত দুদিকে মাথা নাড়লো।অভ্রা বললো...
"গুড,,জীবনে প্রতিটা মেয়েকেই এভাবে শক্ত হতে হবে বুঝলে?,প্রথম থেকেই।আজ তুমি প্রথম থেকে কঠিন নও বলেই রাহুল এতোটা করার আস্কারা পেয়েছে।"
বেলি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলো অভ্রার কথা।সে থামতেই বেলি বললো...
"তুমি আমার থেকে মাত্র দু বছড়ের বড় হবে হয়তো।কিন্তু তুমি অনেক ম্যাচিউর, উষ্ণ মামা তোমাকে নয় বরং একটা হীরা পেয়েছে বলতে গেলে।"
হালকা হাসলো অভ্রা,সাধারন হলেও,বেলি নামক সদ্য হৃদয় ভাঙা মেয়েটি বুঝতেও পারলো না, সেই হাসিটার আড়ালে লুকিয়ে আছে কত কিছু।
----------
পরদিন সকালে বেলিকে তৈরি হতে দেখে প্রীতি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো...
"কোথায় যাচ্ছিস তুই?"
"একটা কাজ আছে মা,বেরোতে হবে।"
"বলে যা কোথায় যাচ্ছিস??একা একা যাচ্ছিস নাকি??"
বেলি ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে দ্রুত চুল বাঁধতে বাঁধতে বললো...
"নাহ,,একা যাবো না।নতুন মামির সাথে যাচ্ছি।"
নতুন মামী,কথাটা শুনতেই জ্বলে উঠলো প্রীতি।দ্রুত মেয়ের কাছে এসে বাহু টেনে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বললো...
"ওর সাথে যাচ্ছিস মানে??কোথায় যাবি তুই ওর সাথে??বল কোথায় নিতে চাইছে ঐ মেয়ে তোকে?"
বেলি বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে বললো...
"মা, তুমি এমন করছো কেন?"
"এমন করছি কেন মানে?তুই জানিস না কেন করছি এমন।ঐ বাজে মেয়েটা তোকে গতকালই সামান্য... "
"মা,প্লিজ,, এভাবে বলো না তুমি নতুন মামিকে।ও যা করেছে,যা বলেছে তোমার মেয়ের ভালোর জন্যই বলেছে।"
"বেলি!!এখন ভালো খারাপ আমার তোর থেকে শিখা লাগবে?"
"মা প্লিজ।না জেনে এসব বলো না তুমি।তুমি তো কখনো একান্ত ভাবে আমার কিছু জানতেই চাও না।,আমি জানি,,আমি জানি তুমি আমায় ভীষণ ভালোবাসো মা।কিন্তু মা,তোমার মেয়ে বড় হয়েছে,সে এখন দুনিয়া চিনছে নতুন করে,,ঠিক ভুল অনেক কিছু দেখছে।তুমি যদি আমাকে একটু বেশি একান্ততা দিতে,তাহলে আমি সবটা তোমার সাথে শেয়ার করতে পারতাম মা।কিন্তু তা তুমি পারো নি।আমার মধ্যে এমন অনেক কিছু আছে,যা আমি শুধু আমার আপন জনদের বলতে চাই।সবাইকে না মা,এতো এতো আত্মীয়ের সামনে আমি কূল পাইনা মা।মেয়েকে শুধু ভালোবাসলেই হয়না মা,মা মেয়ের একান্ত ব্যক্তিগত এক বন্ধু হতে হয়।কিন্তু তুমি আমার বন্ধু হয়ে উঠতে পারোনি মা,আমি আজও নির্দ্বিধায় তোমাকে কিছু বলতে পারিনা।"
প্রীতি স্তব্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে তার মেয়েটার দিকে।তার ছোট্ট বেলি আজ যেন সত্যিই বড় হয়ে গেছে।একদম বড়দের মতো করেই কথা বলছে।অক্ষিকোটরে জল লুকাতে শিখে গেছে।ভয় পাচ্ছে প্রীতি,কি হয়েছে তার মেয়েটার।হুট করে এতোটা কি করে পরিবর্তন হয়ে গেলো?
প্রীতি উদ্বিগ্ন হয়ে মেয়ের গালে দুহাত রেখে বললো...
"কি হয়েছে মা তোর?তুই এমন করে কথা বলছিস কেন?তুই তো কখনো আমাকে এমন করে বলিস নি কিছু মা??"
বেলি শান্ত স্বরে বললো...
"এখন সময় নেই মা।নতুন মামি নিচে ওয়েট করছে আমার জন্য। আজ একটা ভালো কাজে যাচ্ছি মা।পারলে আমাদের জন্য একটু আশীর্বাদ করো।"
বলেই পাশ কাটিয়ে রুম থেকে বের হতে নিয়েও আবার পেছন ফিরে বললো...
"শোনো মা?,,নতুন মামি প্রীথুলা মামির মতো নয়।সম্পূর্ণ বিপরীত।তুমি যদি পুরোনো রাগ ছেড়ে দিয়ে একটু ভালো করে লক্ষ্য করো,তাহলে বুঝতে পারবে,উষ্ণ মামা খুঁজে খুঁজে খাটি হিরে এনেছে এই পরিবারে,যাকে সবাই মিলে মাথায় তুলে রাখলেও কম হবে।"
আর একটাও বাক্যব্যয় না করে বেলি দ্রুত বেরিয়ে গেলো।পেছন থেকে স্তব্ধ প্রীতি শুধু তাকিয়ে দেখেই গেলো তার মেয়েটাকে।চিন্তারা যে আজ তাকেও ঘিরে ধরেছে।
------
ছোটখাটো একটা আবাসিক হোটেলের রুমে বিছানায় বসে আছে বেলি আর অভ্রা।বসে থাকতে থাকতে অভ্রা আবার বেলিকে জিজ্ঞেস করলো...
"কতদুর রাহুল?"
"বললো তো আর একটুই। "
পরক্ষণেই বেলি ভয় নিয়ে বললো....
"আ্ আমার খুব ভয় করছে মামী।ও যদি কিছু..."
"ভয় পেলে তো চলবে না বেলি।এখন তো আর পেছনে ফেরা যাবে না।"
চুপ রইলো বেলি।একটু পরই রুমের দরজায় ঠকঠক করে আওয়াজ হতেই বেলি ঢোক গিলে তাকালো অভ্রার দিকে।অভ্রা তাকে আস্বস্ত করে নিজে গিয়ে দরজাটা খুললো।সামনে দৃশ্যমান হলো রাহুল।কিন্তু অভ্রাদের পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে রাহুল সাথে করে নিয়ে আসলো তার একটা বন্ধুকে।
রাহুল বেলির সাথে অভ্রাকে ঠিক চিনতে পারলো না।ভ্রু কুঁচকে বেলির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো...
"এটা কে?"
বেলির চোখ কাঁপছে অনবরত।কাঁপতে কাপতেই বললো...
"আ্ আমার নতুন মামী।"
রাহুল আর অন্য ছেলেটি অভ্রার দিকে তাকিয়ে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো....
"ঐ যে উষ্ণ মামার হবু বউ?"
"হ্যা।"
"তা এ এখানে কেন?এ তো আসার কথা ছিলো না?"
প্রশ্নটার উত্তরে পেছন থেকে অভ্রা বুকে হাত ভাজ করে বললো...
"সে তো তোমার সাথে এই ছেলেটারও আসার কথা ছিলো না।"
রাহুল তাকিয়ে দেখলো অভ্রার ভাব মূর্তি। একটু পরেই বললো...
"যাই হোক,এসেছো,ঠিক আছে।এখন বের হও।আমমার বেলির সাথে পার্সোনাল কথা আছে।"
বেলি তৎক্ষনাৎ বলে উঠলো ...
"নাহ,,যা বলার নতুন মামির সামনেই বলবো।"
মুখের ভাব একটু পরিবর্তনশীল হলো রাহুলের।জিজ্ঞেস করলো...
"ঠিক আছে বলো।উত্তর কি তোমার??"
"উত্তর একটাই,,আমি আর তোমার সাথে রিলেশন কন্টিনিউ করতে পারবো না।"
"ছবিগুলোর কথা ভুলে যাচ্ছো তুমি??"
"নাহ ভুলেনি।সেটাই নিতে এসেছি এখন।ভালোয় ভালোয় দিয়ে দাও।"
অভ্রার কথায় রাহুল ফিরে তাকে বললো...
"ঐ,,তুই ওর মামি,মামির মতোই থাক।বেশি বকলে না?একদম খেয়ে দেবো বলে রাখলাম।"
বলেই রাহুল তার বন্ধুকে বললো..
"এই তামিম,, একে বাইরে নিয়ে যা তোহ.."
তামিম ছেলেটা অভ্রার দিকে এগিয়ে তার হাত ধরতে নিলেই অভ্রা ঠাস করে একটা চড় লাগিয়ে দিলো তার গালে।তা দেখেই,রাহুল দ্রুত এগিয়ে আসতে নিলো অভ্রার কাছে।দ্রুত অভ্রা পাশে থেকে রাখা লাঠিটা তুলে এলোপাতাড়ি মা*রতে লাগলো রাহুল আর তামিমকে।
রনমূর্তি ধারণ করা অভ্রার সাথে পেরে উঠলো না তারা।কি লজ্জা, কি লজ্জা,একটা মেয়ের কাছেই শক্তিতে হেরে গেলো দুটো জোয়ান ছেলে।ক্লান্ত হয়ে থামলো অভ্রা।ধরে মোটা দড়ি দিয়ে বাঁধলো দুজনকে।তারপর অভ্রা তাদের একদম সামনা সামনি বসে পরে বললো....
"ছবিগুলো ডিলিট করবি এখনি।"
এই অবস্থাতেও রাহুল বললো...
"পারবো না।"
অভ্রা আর জিজ্ঞেস করলো না।উঠে গিয়ে মোটা কসটেপ এনে মুখে পেঁচিয়ে দিলো রাহুল আর তামিমের।এরপর নিজের ব্যাগ থেকে নতুন কিনা ব্লেডটা নিয়ে এগিয়ে দিলো বেলির দিকে।বেলি হাতে তুলো নিয়ে এগিয়ে গেলো রাহুল আর তামিমের কাছে।
ভয়ে তার হাত পা কাঁপছে। তবুও বুকের ভেতর অদম্য সাহসকে জাগ্রত করে,, অভ্রার কথা মতোই করে ফেললো এক বিপদজনক কাজ।
রাহুলের গায়ের শার্টটা খুলে উন্মুক্ত বুকে বড়বড় অক্ষরে লিখে দিলো একটি বাক্য,
"আমি নারী খাদক।তাই নারীই আমাকে শাস্তি দিয়েছে।"
তবে লিখার ক্ষেত্রে কলমের জায়গায় ব্যবহার করলো সেই ধারালো ব্লেড খানা।
যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা রাহুলের চিৎকারও বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে।গোঙানির শব্দ বদ্ধ রুমটার বাইরে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থাই নেই।
অভ্রার ঠোঁটের কোনে ফুটে উঠলো বিভৎস হাসি।একবার বেলির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো...
"কষ্ট হচ্ছে?? "
বেলি রাহুলের দিকে নিকৃষ্ট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো...
"নাহ,,বরং তৃপ্তি হচ্ছে খুব।নিজেকে আজ স্বাধীন মনে হচ্ছে।"
হাসলো অভ্রা।রাহুলের দিকে ঝুকে বললো...
"এবার কি ছবি গুলো ডিলিট করবি?নাকি ব্লেডটা গলায় চালাবো আমি?"
ভয়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেলো রাহুল আর তামিমের।যদিও এখনো পর্যন্ত তামিমকে কিছুই করেনি, তবুও সে ভয় পাচ্ছে।অভ্রা মেয়েটা যে মাত্রাহীন পাগল,তা বুঝতে বাকি রইলো না তার।রাহুল কোনো মতে মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যা সূচক উত্তর দিতেই বাঁকা হাসলো অভ্রা।
তার মুখ থেকে কসটেপ টেনে খুললো অভ্রা।রাহুলের ফোনটা নিজের হাতে নিয়ে রাহুলকে জিজ্ঞেস করতেই গড়গড় করে সব বলে দিলো।পাসওয়ার্ড,, জিমেইল, সব বলতে,সব কিছুই।অভ্রা
একে একে সব কিছুই ডিজএবেল করে দিলো তার ফোনটা থেকে।আর কিছুই বাকি নেই।
এরপর আবার রাহুলের মুখে কসটেপ লাগিয়ে দিয়ে খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসলো অভ্রা।নিজেও ক্লান্ত সে খুব।মাথার যন্ত্রণাটা কাল থেকেই চাড়া দিয়েছে,এখন তা যেন বেড়েই চলছে।তারউপর সারারাত নির্ঘুম,,কত শত চিন্তারা ঘুরপাক খেয়ে গেছে সারাটাক্ষন ধরে,পেটে খিদেটাও লেগেছে,সকালে না কেউ তার হাতে কিছু খেয়েছে,আর না তাকে খেতে বলেছে।তাই তো আর খাওয়াটাও হয়ে উঠেনি।এতো ক্লান্ততা,এতো চিন্তা,,আর সইতে পারলো না তো অভ্রা।
বেলি অভ্রাকে খাটের সাথে হেলান দিয়ে চোখ বুঁজে বসে হাঁপাতে দেখে জিজ্ঞেস করলো...
"নতুন মামি।এরপর কি করবো আমরা??"
অভ্রা আগের মতো থেকেই বললো...
"অপেক্ষা। "
বেলি আর কিছু বললো না।পাথুরে চোখে শুধু চেয়ে রইলো তার অল্প সময়ের আবেগ,ভালোবাসা নামক নিকৃষ্ট রাহুলের জর্জরিত শরীরটির দিকে।
কিছুক্ষণ পরেই দরজায় আওয়াজ আসতেই ভয় পেয়ে উঠলো বেলি।এই অবস্থায় কে আসলো এখন?অভ্রাকে কিছু বলার আগেই অভ্রা বলে উঠলো...
"ভয় পেও না।পুলিশ অফিসার কৈলেশ চক্রবর্তী এসেছে।আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী। কষ্ট করে খুলে দাও দরজাটা।"
বেলির ভয় কাটলো।উঠে গিয়ে দরজা খুলতেই চোখে পড়লো সামনে দাড়িয়ে থাকা প্রচ্ছদকে। ভয়ে কেঁপে উঠলো বেলি।দু পা পিছিয়ে গিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো....
"ম্ মামা তুমি??"
প্রচ্ছদ উত্তর দিলো না।রুমে ঢুকে চোখ দিলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে থাকা রাহুলের দিকে।উন্মুক্ত বুকের উপর রক্তাক্ত লিখাটা বিরবির করে পড়লো বেশ কয়েকবার।
"আমি নারী খাদক। তাই নারীই আমাকে শাস্তি দিয়েছে।"
এক মুহুর্তের জন্য মনে হলো লিখাটা ঠিক তার বুকের উপরই দাগ কেটেছে রাহুল আর তার মাঝে যে কোনো পার্থক্য পাওয়া গেলো না আর।
স্তব্ধ চোখে অভ্রার দিকে তাকাতেই দেখলো অভ্রাও তার দিকেই তাকিয়ে আছে।কঠোর স্বরে জিজ্ঞেস করলো.....
"আপনি এখানে কেন??"
প্রচ্ছদ কথা ঘুরালো না।সত্যিটাই বললো....
"কাল রাতে তোমাদের কথা শুনেছি আমি।আর আজ তোমাদের ফলো করেই এসেছি এখানে।"
অভ্রা আর বাক্য ব্যয় করলো না।চুপ করে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো প্রচ্ছদের দিকে।একটু পরেই কৈলেশ আসতেই অভ্রা দৃষ্টি সরিয়ে তাকালো তার দিকে।কৈলেশ রাহুলের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বললো...
"গুড জব অভ্রা।আমি এতটাও করে ফেলবি তা আশা করিনি।"
অভ্রা ঠোঁট বেকিয়ে হালকা হাসলো।কৈলেশ আবার বললো...
"তিনজন??"
কৈলেশ যে প্রচ্ছদকেও রাহুলের দলের ভাবছে তা বুঝতে পেরে অভ্রা তাকালো প্রচ্ছদের দিকে।কৈলেশকে উদ্দেশ্য করে বললো....
"কিছুটা একই কাতারেরই বলা যায়।তবে এখন এই দুজন।উনি আমার... "
একটু থেমে মুখে চওড়া হাসি এনে কৈলেশের দিকে তাকিয়ে বললো...
"বেলির মামা উনি।প্রচ্ছদ বাসু।"
কৈলেশ তাকালো প্রচ্ছদের দিকে।কেমন করে যেন তাকালো,,,ধীরে ধীরে প্রচ্ছদের কাছে দু পা এগিয়ে গিয়ে বললো......
"অনেক শুনেছি আপনার ব্যপারে।খুব পৃথিবীর বিশাল মাঠে আপনি একজন দারুণ খেলোয়ারই বটে।খেলার চাল হিসেবে আমাদের অভ্রাকে কেমন পাল্টে দিলেন??"
প্রতিত্তোরে প্রচ্ছদ কিছুই বলতে পারলো না।শুধু বুঝে নিলো,গত দুটো বছর ধরে অভ্রার যন্ত্রণার সাক্ষী হয়েছে এই কৈলেশ চক্রবর্তীও।
কৈলেশ দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ফেলে অভ্রার দিকে তাকিয়ে বললো....
"আমি সামলে নিচ্ছি এদিকটা।তোরা এবার চলে যেতে পারিস অভ্রা।ক্লান্ত লাগছে তোকে,বাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিবি।আমি পরে আপডেট জানাবো এদের বিষয়ে।"
প্রতিত্তোরে শুধু মুচকি হাসলে অভ্রা।বেলির দিকে তাকিয়ে বললো....
"ওয়াশরুম থেকে হাতমুখ ধুয়ে আসো।আমরা বাইরে অপেক্ষা করছি।"
বলেই বেরিয়ে গেলো হোটেলেট সেই রুমটি থেকে।সাথে সাথে বেরোলো প্রচ্ছদও।কিছুদুর যেতেই পেছন থেকে প্রচ্ছদের একটা কথায় থেমে গেলো অভ্রার পা....
" অভ্রা গো, আমাকে কি আবার তোমার করে নিতে দিবে?প্লিজ??আমি এবার সত্যিই তোমায় ভেতর থেকে ভালোবেসে ফেলেছি।আজীবনের জন্য নিজের করে চাই তোমাকে।প্রীথুলাকে ছেড়ে দেবো আমি,আই প্রমিস।ফিরবে তুমি আমার হয়ে???"