দরজার বাইরে স্তব্ধ হয়ে থাকা বেলিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রনতি ডাকলো তাকে...
"বেলি?? "
বেলির কি হলো জানা নেই।দৃষ্টি ঘুরিয়ে প্রচ্ছদের দিকে ঘৃণা ভরা দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।শরীর কাঁপছে তার অনবরত।চোখদুটো কেমন যেন ঘোলা হয়ে আসছে।টইটুম্বুর চোখের পানি নিয়ে প্রচ্ছদকে শুধু একটাই প্রশ্ন করলো...
"সেদিন যদি রাহুল আমার সাথে কিছু করে ফেলতো,তোমার কেমন লাগতো মামা?"
প্রচ্ছদের আদরের ভাগ্নি বেলি।বোনের মেয়ে হলেও ছোট থেকে বড় হতে দেখেছে নিজের চোখের সামনে।তার খারাপ কিছু যে প্রচ্ছদ মানতে পারে না।হালকা চেঁচিয়ে বলে উঠলো ...
"এসব কি বলছিস তুই??তোর কিছু হতো না,আমি তো গিয়েছিলাম তোদের..."
বেলি হাতের ইশারায় থামিয়ে দিলো প্রচ্ছদকে।বললো....
"তুমি আমার খারাপ সইতে পারছো না।রাহুলের মতো একই কাজ তো তুমিও করেছো মামা?কি করে পারলে নতুন মামিকে নিয়ে এতোটা নোংরা খেলা খেলতে?একবারও মনে হয়নি সে কতটা আঘাত পেতে পারে?"
প্রচ্ছদের কাছে কোনো উত্তর নেই।চুপ হয়ে রইলো সে।বেলি প্রীতির দিকে তাকিয়ে জোর গলায় বললো....
"শোনো মা,সেদিন যদি নতুন মামি এসে নেলপলিশের বাহানা দিয়ে মিথ্যা কথাটা না বলতো,তাহলে আজও আত্মীয়, প্রতিবেশিরা তোমার মেয়েকে নিয়ে ছি ছি করতো।সেদিন যেই কাজটা তোমার করা উচিৎ ছিলো,সেটা নতুন মামি করেছে।মাত্র দু থেকে তিন বছরের বড় আমার থেকে নতুন মামি,আমার সেদিনের সমস্যাটা সে বুঝতে পেরেছে,যা তুমি আমার মা হয়েও পারো নি।সেদিন নতুন মামি,আমার সম্মান বাচাতে নিজের দিকে একটুখানি দোষ নিয়ে নিয়েছে,সে হয়তো নিজেও ভাবতে পারেনি তুমি তার অতীত নিয়ে এতগুলো মানুষের সামনে ওকে এতটা অপমানিত করবে।আর দিদাইরা,,তোমাদেরও বলি হারি।সামান্য একটা খুঁত পেয়েছো বলে এভাবে নতুন মামিকে দূরে সরিয়ে দেবে?এই কটা দিনে একবারও খোঁজ নিয়েছো?সে কি খাচ্ছে, কখন খাচ্ছে, আদেও কিছু খাচ্ছে কিনা??ছিহ,,আমার নিজের কাছের মানুষ গুলোকেই আজ নিকৃষ্ট মনে হচ্ছে। ছিহ!!!"
বলেই বেলি চোখ মুছে দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।সোজা গেলো অভ্রার কাছে।রুমে খুজে না পেয়ে সারা বাড়িতে খুঁজতে লাগলো।বারান্দার দিক থেকে উষ্ণকে বের হতে দেখেই বুঝে গেলো অভ্রাও বারান্দায়ই আছে।পেয়েও গেলো সেথায়।পেছন থেকে প্রশ্ন করলো....
"নিজের জীবনের গল্পটা অন্যের নাম দিয়ে চালিয়ে দিলে তুমি নতুন মামি?"
বেলির কন্ঠ পেয়ে ফিরে তাকালো অভ্রা।মুচকি হাসলো,বেলিকে দেখেই।এই কটা দিন,বেলি,উষ্ণ, রজনী,উর্মি ছাড়া কেউই তার তেমন খোঁজ নেয়নি।জানতে চায়নি তার মনের অবস্থা।
অভ্রাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বেলি আবার বললো....
"শেষটা মিথ্যা বললে কেন.?"
"কিছু মিথ্যা অন্য একটা মানুষকে পুরোনো সত্যের থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।"
বেলির চোখে জল।আস্তে আস্তে এগিয়ে এসে দাড়ালো অভ্রার কাছাকাছি।প্রশ্ন করলো....
"আমায় এতো সুন্দর করে প্রতিদান দিতে শিখিয়েছো তুমি।আর নিজের বেলাতেই পারলে না??"
অভ্রার ভেতর থেকে এক অস্থির হাসি বেরিয়ে এলো।অন্ধকারে দৃষ্টি দিয়ে বললো....
"তোমার মতো আমার কাছে প্রতিদান শেখানোর কেউ ছিলো না যে?"
"এখন তো নিজেকেই বোঝাতে পারো,তাহলে এখন কেন প্রচ্ছদ মামাকে.."
"তোমার আর রাহুলের সম্পর্কটা কত দিনের বেলি?"
"প্রায় এক বছর।"
"আর বিচ্ছেদের বয়স?"
"চারদিন।"
"তোমার বিচ্ছেদের দু দিনের মাথাতেই তুমি প্রতিশোধ নিতে পেরেছো।ভালোবাসার মিথ্যাচার উপলব্ধি করতে পেরেছো আশা করি।"
"হুম।আমি ভালোবাসি না ওকে আর।ওর কথা চিন্তাতেও আনতে চাই না।"
অভ্রা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।খোলা আকাশে দৃষ্টি দিয়ে আপন মনেই বেলিকে বলতে লাগলো...
"প্রচ্ছদ দাভাইয়ের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্কটা ঠিক বেশিদিন নয়,,ঐ এক মাসের কাছাকাছি সময়,এরপর প্রীথুলার কথা জানতে পারি।তখনও দাভাই আমার কাছে ভীষণ সুন্দর মনের অধিকারী একজন মানুষ।আমার ভাবনারা এমন ছিলো যে,উনি খারাপ নয়,শুধু পরিস্থিতির স্বীকার।এভাবে সব শেষ হয়েও শেষ হয়নি প্রায় পরবর্তী দু মাস।এরপর দাভাই রাখী পড়ালো আমায়।সেদিন বিকেলে তার আচরণিক পরিবর্তন আমায় বুঝিয়ে দিলো,সে কোনো কালেই আমায় ভালোবাসে নি।তারপর থেকে বলা যায় বিচ্ছেদের দুটো বছর কেটেছে।এই দুটো বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে।তোমার মতো যদি বিচ্ছেদের দু দিনের মাথায় আমি নিজেকে বুদ্ধি দিতে পারতাম,তাহলে হয়তো এই দুটো বছর আমার অন্তরালের সবটা থেকে প্রচ্ছদ আর ভালোবাসা,শব্দ দুটি একসাথে মুছে যেত।আমিও হয়তো ভুলে যেতাম প্রচ্ছদ নামের লোকটাকে।যে আমার ছিলো মাত্র এক মাসের জন্য। হয়তো আমিও পারতাম আবারো আগের মতো উৎফুল্লতায় ভরা জীবন যাপন করতে।এতোগুলো প্রেমের প্রস্তাব, বিয়ের প্রস্তাব ফিরেয়ে দিতাম না।বাবার থেকে অনেকটা লুকিয়ে থাকতে হতো না,কখন আবার বলে বসে প্রস্তাব এসেছে।বিয়ের জন্য যেই ছেলের সামনে যেতাম মনে হতো,আমার প্রচ্ছদ দাভাই সবার সেরা।বারবার মনে হতো আমি দাভাইকে ঠকাচ্ছি, আমি তো তাকে কথা দিয়েছিলাম তাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবো না আমি।কিন্তু চাইলেই কি সব কথা রাখা যায়?"
নাা টানার শব্দে অভ্রা পেছন ফিরে তাকালো,বেলি কাঁদছে। এতো নরম মনের কেন মেয়েটা?এতটুকুতেই কেঁদে ফেলে?অভ্রা বিরল হাসলো।জিজ্ঞেস করলো...
"আমার গল্পে আমি কাঁদি না,তুমি কাঁদছো কেন??"
বেলি নিজেকে শান্ত করলো কিছুটা।দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো.....
"আমি ভাবছি,,আমার মামা কত বোকা।নিজের ভালোটাই হারিয়ে ফেললো।"
"এমন কিছুই না।মানুষ তার নিজের পছন্দ খুঁজে নিতেই পারে।আমার রূপ লাবণ্য, শারীরিক গঠন প্রচ্ছদ দাভাইকে আকৃষ্ট করতে পারে নি।উনার আর কি দোষ বলো?পুরুষ মানুষের এইটুকু আশা তো থাকতেই পারে তাই না? সারাদিনের ব্যস্ততার পর রাতে তার সঙ্গীনির রূপে মোহিত হয়ে সব ক্লান্তি মুছে দিতে তো তারা চাইবেই।"
"সবাই তো এক না নতুন মামি।উষ্ণ মামা তো তোমাতেই নিজের ক্লান্তি ছেড়ে শান্তি খুজে পায়।"
উষ্ণের নামটা শুনতেই ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো অভ্রার।বললো...
"উষ্ণায়নকে নিয়ে এখনো আমার কোনো অভিযোগ নেই,আর না আছে আগ্রহ।তাকে আরো চেনা বাকি এখনো আমার।কে জানে,সেও হয়তো প্রচ্ছদ দাভাইয়ের মতোই আমার সাথে ছল করছে?"
"নাহ মামি,,,উষ্ণ মামা এমন নয়।"
"নিজের কানে সত্যটা তার মুখ থেকে না শুনলে আজ প্রচ্ছদ দাভাইও তোমার চোখে ভালো থাকতো।ছোট বেলা থেকে তো নিজেদের মাঝেই দেখছো তাকে,,কখনো চিনতে পেরেছো তাকে?"
বেলি উত্তর দিতে পারলো না।অভ্রা হেসে বললো...
"মানুষ চেনা অত সহজ না,বুঝেছো বেলি?বড় হও,কত রকমের মানুষ যে দুনিয়ায় আছে,দেখতে পারবে।"
"কান্না করো না কেন তুমি?? "
"এখন কি চাও তুমি? মামা যে আবার তোমাকে চাইছে?তুমি কি করবে?চিন্তা হচ্ছে না?"
অভ্রা বেলির দিকে তাকিয়ে সুন্দর হাসলো।এই হাসিতে কোনো কষ্ট লুকিয়ে নেই।আছে প্রশান্তির হাওয়া।
"আমি তাকে আজীবন ভালোবাসবো।তবে তাকে আর চাইবো না।এবার আমি নিজের স্বার্থ চিন্তা করবো,,আর তার থেকে আমার চাওয়া আছে কিছু একটা...
আমার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাকে শুধু দেখতে চাই,ব্যস।আর কিছুই চাওয়ার নেই আমার।"
"আমায় না হয় না চাইতেই পাওয়ার খাতায় রাখলেন আপনি?রাখবেন তো?"
হঠাৎ উষ্ণের কন্ঠে ফিরে তাকালো বেলি আর অভ্রা।লোকটা তার চিরপরিচিত নির্মল হাসি দিয়েই তাকিয়ে আছে অভ্রার দিকে। মন খারাপেও এই হাসি খানা এতো প্রশান্তি দেয় অভ্রাকে,,কি বলবো আর।
এই যে, হুট করেই চিন্তারা উভে গেলো,মনে হলো এই তো অভ্রার সকল সমস্যার সমাধান সামনে দাঁড়িয়ে আছে।উষ্ণ মাথা নাড়িয়ে হেসে এগিয়ে এলো,,,বাতাসে উড়তে থাকা অভ্রার এলোমেলো চুলগুলো গুছিয়ে কানের পেছনে গুঁজে দিতে দিতে বললো...
"একটা দুরন্ত সত্যি কথা জানেন ফুল?
আমার শ্যামা ফুলের দিকে একটানা বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না।হাসি চলে আসে।"
"কেন? আমাকে কি দেখতে জোকারের মতো?"
"উহুম,আপনি আমার ক্লান্ত মস্তিষ্কে মিশে থাকা এক গুচ্ছ প্রশান্তি। "
মিষ্টি হাসলো অভ্রা,বারান্দায় থাকা ছোট্ট টব থেকে একটা নয়নতারা ফুল এনে উষ্ণের হাতে ধরিয়ে দিলো বেলি।কিটকিটিয়ে হেসে বললো...
"তোমার ফুলকে ফুল পড়িয়ে দাও?"
বেলির দিকে তাকিয়ে হেঁসে ফুলটা নিয়ে অভ্রার কানের পিঠে গুজে দিলো উষ্ণ। চোখ বুজে লাজুক হাসলো অভ্রা।আর বরাবরের মতো অভ্রার স্বল্প হাসিতেই ফাঁসলো উষ্ণ।
বেলি হেলে পড়ার মতো করে উষ্ণের বাহুতে মাথা ঠেকালো।অভ্রার দিকে তাকিয়ে উষ্ণকে প্রশ্ন করলো...
"এত্তো মিষ্টি একটা ফুল তুমি কোথায় পেলে মামা?"
উষ্ণ ঠোঁট উল্টে ভাবার চেষ্টা করে বললো..
"রাস্তার ধারে আগাছায়।অযত্নে বেড়ে ওঠা ফুল এমনই মিষ্টি হয়।তাই না শ্যামা ফুল?"
উত্তর দিলো না অভ্রা।মুখে মিষ্টি হাসি আর লাজুক আভা নিয়েই দ্রুত প্রস্থান করলো বারান্দা থেকে।একে অপরের দিকে তাকিয়ে বেলি আর উষ্ণও বিদায় নিলো সেই স্থান থেকে।
তারা যেতেই অন্ধকারের মাঝে থাকা প্রচ্ছদ চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস ছাড়লো। আজকাল নিঃশ্বাস গুলোও বড্ড বেইমানি করছে। সহজে ছুটেই না।বন্ধ হলেও তো পারে,প্রচ্ছদ না হয় মুক্তি পেতো এই নিদারুণ যন্ত্রণা থেকে।নিজের প্রতি তাচ্ছিল্য হেসে পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে একটা সিগারেট ধরালো সে।
পকেট থেকে ফোনটা বের করে গ্যালারির উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চেক করলো সে।নেই,কোথাও নেই অভ্রার একখানা ছবি।ব্যর্থ হয়ে ফেইসবুকে সার্চ দিলো "অভ্রায়ীনি মজুমদার" লিখে।সাথে সাথেই লিস্টের প্রথমেই ভেসে উঠলো অভ্রার একখানা ছবি,শাড়ি পড়া,কিছুদিন আগেরই ছবি। ঐ যে অভ্রা যখন উপজাতি মেয়েগুলোর সাথে তালে তাল মিলিয়ে নাচছিলো তখন এই ছবি তোলা হয়েছে। আচ্ছা,কে তুললো এই ছবি?উষ্ণ?
আর ভাবলো না,কাঁপা কাঁপা হাতে ক্লিক করলো অভ্রার আইডিতে,প্রোফাইলে জ্বলজ্বল করছে "গট এঙ্গেজড উইথ উষ্ণায়ন সেনসিংহ।"
নীরবে কিছুক্ষন অভ্রার ছবিটির দিকে তাকওয়ে থেকে মেসেজ অপশনে গেলো প্রচ্ছদ।ইশশ,,দুটো বছর পুরোনো কথাগুলো আজও রয়ে গেছে ভার্চুয়াল জগতে,শুধু রইলো না প্রচ্ছদের মনে।
বেশ কিছুক্ষণ স্ক্রল করে উপরে নিজের করা এ্টা এস এম এস চোখে পড়লো...
"আমি যদি কখনো চলে যাই তোমায় ছেড়ে?"
অভ্রার উত্তর...
"আপনাকে ছাড়া আজকাল আমার দুনিয়া থেমে থাকে।আপনি চলে গেলে তো আমিও থাকতে পারবো না আর। "
সেই কথার উত্তরে প্রচ্ছদ অভ্রাকে পাঠালো এক সু মধুর ভয়েজ.....
"অভ্রা,কি গো তুমি হ্যা??পাগলী,,,এতোটা ভালোবাসো আমায়? কি করে পারো তুমি এতটা ভালোবাসতে?,,,,শোনো,আমি সারা জীবন তোমার পাশে থাকবো,তোমাকে আগলে রাখবো নিজের করে,,,, কখনো তোমায় কষ্ট পেতে দেবো না আমি।আর কখনো নিজের চলে যাওয়ার কথা বলবে না হুম??বোকা মেয়ে..."
সেদিন অভিনয়ের ছলে কত সুন্দর করে কথাটা বলেছিলো প্রচ্ছদ।কিন্তু আজ নিজের কতা প্রশ্নটা সত্যিই ভাবাচ্ছে প্রচ্ছদকে,,অভ্রা এতো গভীর ভাবে কিভাবে ভালোবাসতে পারলো প্রচ্ছদকে?
হাতে আগুনের ছ্যাকা লাগতেই তাকালো প্রচ্ছদ।হাসলো আনমনেই,সিগারেটটার দিকে তাকালো এপাশ ওপাশ ঘুরিয়ে। ক্লান্ত স্বরে আপন মনেই বলে উঠলো....
"তোমাকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারটা...
আমার সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার মতোই হবে হবে করেও হচ্ছে না......!!"
____________
চৈত্র সংক্রান্তির দিনে অঙ্গকে আনার কথা থাকলেও আনা হয়নি এই বাড়িতে।মূলত সে নিজেই আসেনি।পহেলা বৈশাখ,দিনটি বাঙালীর কাছে নতুন আবেগের সূচনাই বলা যায়।
পুরাতন পরিবর্তন করে,নতুন হয়,নতুন হয় বস্র,নতুন হয় মনের সকল চিন্তা ভাবনা,কেউ কেউ আবার দুঃখ ভুলে নতুন করে বাচার অনুপ্রেরণা পায়।কেউ বা আবার পুরাতন মনের সাথে নতুন কিছু যুক্ত করে সম্পর্ককে আরে মজবুত ও নব্বই দশকীয় করে তোলে। এই দিনে পিঠাপুলির আমেজ তো বাংলার ঘরে ঘরেই থাকে।তেমনি বিদ্যালয় গুলোতেও উৎযাপন করা হয় কিছু সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।স্কুলের অনুষ্ঠানের কারনেই অঙ্গ আসতে চায়নি।অভ্রাও তেমন জোর করে নি আর।স্কুল জীবনে বন্ধুদের সাথে কাটানো স্মৃতি গুলো মধুর হয়,তা জানে অভ্রা।অনেকেই স্কুলের দিবস গুলোর দিনে চায় ঘরে কাটাতে।কিন্তু অভ্রার বরাবরই অনুষ্ঠান প্রিয় ছিলো। ভোর বেলা উঠে একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া,খালি পায়ে র্যালি থেকে শুরু করে স্কুলের বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান গুলোও বাদ দিতো না অভ্রা,তেমনি হয়েছে অঙ্গও।ভীষণ ভালো লাগে তার এগুলো।
তেমনি আজও পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান উপলক্ষে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পড়ে স্কুলের অনুষ্ঠানে গিয়েছে অঙ্গ।নাচটা টুকটাক জানা থাকার কারনে সব অনুষ্ঠানেই নাচ করে অঙ্গ।আজও তাই হলো।অনুষ্ঠান শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে স্কুল গেটের বাইরে আসতেই চোখে পড়লো রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাইক্রোবাসটির দিকে। ড্রাইভিং সীটের জানালা দিয়ে অভ্রাকে দেখতেই ছুটে গেলো অঙ্গ।জানালা দিয়েই হাত বাড়িয়ে অভ্রার দু গাল চেপে ধরে লাফাতে লাফাতে বললো....
"শুভ নববর্ষ দিদি।কেনন আছিস তুই? তুই আসবি আমাকে জানাবি না??আর স্কুলের সামনে কেন?উফহ,,আমার খুব খুশি লাগছে।"
বলেই গাড়িতে থাকা অন্য সবার দিকে তাকিয়ে হেসে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালো।তাকেও শুভেচ্ছা জানালো সবাই মিলে।সবাই বলতে উর্মি,বেলি,বৃক্ষ, রজনী,রাজভী,প্রচ্ছদ,উষ্ণ, রজনীর বর।
"গাড়িতে উঠে বস,ফেনী যাচ্ছি সবাই,বৈশাখী মেলায়।বাড়ি থেকে তোর জামা কাপর নিয়ে এসেছি,কদিন ওখানেই থাকবি,উর্মি দিদির বিয়ের তো আর মাত্র তিন দিন।"
অঙ্গ সবটা বুঝেই মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। পেছনে গিয়ে উর্মির পাশে উঠে বসলো।অভ্রা গাড়ি স্টার্ট দিতে নিয়েও দিলো না।হঠাৎ করেই গাড়ি থেকল নেমে দ্রুত দৌড়ে গেলো দুজন লোকের কাছে।উষ্ণ সীটবেল্ট খুলে নামতে নামতে নিজেই বললো...
"ফুল আবার কোথায় ছুটলো?"
অঙ্গ দেখে বললো..
"উনারা আমাদের স্কুলের স্যার।দিদিরও স্যার হয়,দেখা করতে গেছে হয়তো।ঐ যে খয়েরি রঙের পাঞ্জাবি গায়ে যাকে দেখছেন, উনি হলো নোয়াব স্যার।বলতে গেলে দিদর আইকট টিচার উনি।উনার থেকে ইন্সপায়ার্ড হয়ে দিদি কত সমস্যার সমাধান করতে পেরেছে। "
কথার ছলে বলা দু বছর আগের অভ্রার একটা কথা মনে পড়তেই প্রচ্ছদ অঙ্গকে জিজ্ঞেস করলো...
"আর পাশের জন?"
অঙ্গও বোঝানোর ভঙ্গিতে বলতে লাগলো...
"উনি তো হলো রিদান স্যার,এমনিতে লুকিয়ে স্কুলের মেয়েটা তাকে ক্রাশ স্যারও ডাকে।আমাদের স্কুলের সব চাইতে গুডলুকিং স্যার হচ্ছে উনি।এক কথায় গল্পের নায়ক।"
প্রচ্ছদের যা বোঝার বুঝে নিলো।তাকিয়ে দেখলো রিদান নামের লোকটির দিকে।ভাব ভঙ্গি দেখে বোঝাই যাচ্ছে, না অভ্রা লোকটার সাথে বেশি কথা বলছে, আর না লোকটা অভ্রার সাথে চোখে চোখ মেলাতে পারছে।
প্রচ্ছদ ঠোঁটটা একটু বাকিয়ে তাচ্ছিল্য হেঁসে আপন মনেই বললো...
"আরো একটা হেরে যাওয়া প্রানের সন্ধান মিললো তবে আজ।"