তুমি কোন কাননের ফুল

পর্ব - ২৮

🟢

বারান্দার ইজি চেয়ারটায় শরীর এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে অভ্রা।কোলের উপর পড়ে আছে লাউডে দেওয়া ফোনটি।ওপাশ থেকে গ্রুপ কলে অনবরত কথা বলে যাচ্ছে একের পর এক বন্ধুরা।তমা,গৌরব,তুহিন,টুটুল সবাই আছে।তকটু আগেই অভ্রার থেকে উৎসাহ নিয়ে জানতে চাইলো তার বিবাহিত জীবনের কথা।বন্ধুমহলটার কাছে অভ্রা তেমন কিছুই লুকাতে পারে না বলতে গেলে।তাইতো বিরবির করে বললো তার সংসার জীবনের কাহিনী। তার কথা শুনেই অবাকের চরম পর্যায়ে পৌছে তমা বলে উঠলো...

"বিয়ের প্রায় পনেরো দিন হতে চললো,আর তোর বর তোর সাথে ঠিক করে দুটো কথাও বলে না এখন।এসবের মানে টা কি দোস্ত? "

অভ্রা চোখ বন্ধ রেখেই আগের অবস্থায় বললো...

"উনি ক'দিন বেশ ব্যস্ত,তাই হয়তো..."

তুহিন বললো...

"তুই কি পাগল নাকি অভ্রার বাচ্চা? এটাকে ব্যস্ততা বলে না,এটাকে ইগ্নোর বলে।তোর বর তোকে ডিরেক্টলি ইগ্নোর করছে।"

এবার টুটুল একটু চিন্তিত হয়ে বললো....

"কিন্তু উষ্ণ ভাই তো এমন নয়।"

অভ্রা চোখ বন্ধ করেই হালকা হাসলো। বললো...

"উষ্ণায়ন বেশ ভালো মানুষ।আমি উনাকে চোখ বুঁজে বিশ্বাস করি।,,এখন?,,,সে তো কোনো ভুল করছে না।ক'জন পুরুষ এভাবে সহ্য করবে বলতো?তার স্ত্রী অন্য পুরুষের জন্য এখনো কাঙাল?এটা কেউই মেনে নিবে না। "

একটু থামলো অভ্রা।অন্তরের কথাগুলো যে বন্ধুদের বলছে,গলায় যেন কিছু একটা চেপে ধরলো তাকে,তবুও ঢোক গিলে আবার বললো...

"উষ্ণ এতদিনে নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে হয়তো।"

তমা জিজ্ঞেস করলো...

"কি ভুল??"

"এই যে,,আমার জন্য এতোটা করা উচিৎ হয়নি তার।এটাই হয়তো বুঝতে পেরেছে।আর এখনও সে আমার কথা ভেবেই হয়তো সম্পর্কটা শেষ করা নিয়ে কথা বলছে না।"

তমা আবার তেতে বললো...

"মানে কি এসবের হ্যা??উল্টো পাল্টা কি বলছিস এসব তুই?তোদের বিয়ের এখনো একটা মাসও হয়নি,এর মধ্যেই ছাড়াছাড়ি?সমাসের কাছে তুই কোন পর্যায়ে গিয়ে নামবি বুঝতে পারছিস তুই?"

"সমাজ,লোকের কথা,এসব নিয়ে আর ভাবতে চাই না আমি,উষ্ণ আমার জন্য অনেক করেছে।আনমি উনার অতটা ঋণই শোধ করতে পারবো না কখনো।তাই আর বোজা বাড়াতে চাই না উনার।উনি শুধু নিজ থেকে একবার বলুক,আমাকে আর চায় না,আমি তখনই উনাকে মুক্তি দিয়ে চলে যাবো।"

হঠাৎই মুখের উপর শীতল হাওয়ার সাৎে কয়েক ফোটা পানি এসে পড়তেই চোখ খুললো অভ্রা।বারান্দায় চোখ দিতেই দেখলো ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি নামছে ধরনীর বুকে।

ওমনি অভ্রা শাড়ির কুঁচি ধরে দোড়ে যেতে যেতে বললো....

"বৃষ্টি নামলো,,ছাঁদ থেকে জামাকাপড় আনতে হবে,,পরে কথা বলবে তোদের সাথে।এখন গেলাম আমি।"

বলেই দৌড়ে রুম থেকে বেড়োলো সে,খেয়ালই করলো না রুমে বারান্দার দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এতোক্ষনের উষ্ণকে।অভ্রা তার চোখের আড়াল হলেও উষ্ণ তাকিয়ে রইলো সে দিকে।আপন মনেই বলে উঠলো...

"এতো ম্যচিউরিটি ভালো না গো ফুল।সবসময় দু লাইন বেশি বুঝে,তেমনি নিজের চিন্তাভাবনাকেও দু লাইন এগিয়ে নেয়।"

দৌড়ঝাপ করে ছাঁদের জামাকাপর গুলো কোনো রকম পেঁচিয়ে এনে দাড়ালো সিঁড়ির রুমের ছাউনির ভেতর।হয়রান লাগছে খুব,,একটু জিরিয়েই নিচে নামবে ঠিক করলো।জামাকাপড় গুলো সিঁড়ির রেলিংয়ের উপর রেখে তাহালো ঝুম বৃষ্টিতে আকৃষ্ট ছাঁদের খোলা আকাশটার দিকে।

মোটা খাচের নুপুর যুক্ত একটু পা বাড়িয়ে দিলো ছাঁদের দরজায়।ওমনি বৃষ্টিকণাগুলো ছুয়ে দিলো উষ্ণের দেওয়া নুপুর যুক্ত চরণটিকে। অদম্য কিছু অনুভুতি বিড়বিড়নকরে উঠলো অভ্রার মনে।এই অসময়ের বিকেলেই নিজেকে এগিয়ে নিলো বর্ষণে ঘেরা ছাঁদের উন্মুক্ততায়।সোজা গিয়ে দাড়ালো একপাশের রেলিংয়ের দিকে।দু হাত তার উপর রেখে চোখ বন্ধ করে মুখটা উচু করে বৃষ্টির ফোটা গুলোকে যেন আমন্ত্রণ জানালো সে।

অনেকটা সময় অতিবাহিত হলো।ঘড়ি ধরা কতক্ষন সময় পাড় হলো তা জানা নেই।হুট করেই পেছন থেকে পরিচিত স্বরের গম্ভীর ডাক কানে এলো তার...

"এভাবে ভিজছো কেন?"

ফিরে তাকালো অভ্রা।তা দেখে উষ্ণ বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে আবার বললো....

"বাসায় এসো দ্রুত।মা ডাকছে।"

অভ্রা আর দাঁড়ালো না সেখানে। দ্রুতই দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।ভেজা হাতে শুকনো জামাকাপড় গুলো ধরতে নিলেই উষ্ণ শীতল কন্ঠে বললো...

"ভিজে যাবে তো। তুমি যাও,,এগুলো আমি নিয়ে আসছি।"

অভ্রা না করলো না।কিছু বললোও না।চুপচাপ উষ্ণের আগেই নেমে এলো সে।বাসায় ঢুকতেই তার পথ আটকে দাড়ালো প্রীথুলা। মুখে তার ক্রুর হাসি।বলে উঠলো,...

"কি গো?বরের অবহেলায় বৃষ্টির পানিতে চোখের জল লুকাতে গিয়েছো নাকি?"

অভ্রা উত্তর দিলো না।প্রীথুলা আবার বললো...

"সেদিন তো বললে ধীরে ধীরে সব হবে,তা সপ্তাহ দুইয়ের তো বেশি কাটলো,আর কবে হবে গো অভ্রা?"

এবার আর চুপ রইলো না অভ্রা।গম্ভীর কন্ঠেই বললো...

"তোমার মতো বেহায়য়া আমি জিবনে দেখিনি প্রীথুলা।বিয়ের সেই প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এমন কোনো দিন আছে যে তুমি আমাকে এই বিষয় নিয়ে কথা বলো নি?"

"বলবো না কেন?তোমাদের সম্পর্ক তো আর..."

"সম্পর্কটা আমাদের তো?আমরাই বুঝে নেবো,তোমাকে এ নিয়ে এতো মাথা ঘামাতে হবে না।নিজের কথা ভাবো তুমি."

বলেই অভ্রা দ্রুত নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো।ওমনি প্রীথুলা মুখ ভেঙিয়ে বলে উঠলো...

"উহ,নিজে কুৎসিত দেখতে বলে বর কাছে টানছে না,,কথাটা বলতে লজ্জা করছে,তাই গায়ে যেন ফোসকা পড়ে আমার কথায়।কথায় আছে না,চোরের মায়ের বড় গলা।।"

পায়ের গতি কমে গেলো অভ্রার।যেটা প্রীথুলা খেয়াল না করলেও মাত্র বাসায় ঢুকা উষ্ণ ঠিকই খেয়াল করেছে।তিক্ত কথা যে মেয়েটা সইতে পারে না।তবুও ঢোক গিলে আবার পা বাড়ালো রুমের দিকে।

-----

সকল আত্মীয়রা চলে গেলেও প্রভাতিরা রয়ে গেছে উষ্ণদের বাসায়ই।রয়েছে উর্মিও।তাদের থাকার উদ্দেশ্য, আর কিছুদিন পরেই উর্মির জন্মদিন।তাই প্রনতি উর্মি আর যেতে দিলো না প্রচ্ছদদের।একেবারে অনুষ্ঠানের পরেই ফিরবে না হয়।

সন্ধ্যায় সকলকে চা নাস্তা দিয়ে রাতের জন্য ভাত চড়িয়ে দিলো গ্যাসের চুলায়।প্রনতি,প্রভাতি,প্রীতি তিনজনই আছে।অভ্রাও হাতে হাতে এটা ওটা এগিয়ে দিচ্ছে তাদের।

প্রনতি প্রভাতি অন্যকাজে একটু ব্যস্ত থাকায় প্রতি বাটনা বাটতে বাটতে অভ্রাকে বললো...

"চুলোটা বন্ধ করে দেতো।আমি হাতের কাজটা সেরেই মার ফেলবো ভাতের।"

অভ্রার হাতে আপাতত কোনো কাজই ছিলো না,তাই বললো...

"তুমি হাতের কাজটা করো। আমিই ভাতের মার ফেলে নিচ্ছি।"

প্রনতি পেছন ফিরে কাজ করতে করতেই সাবধানী কন্ঠে বললো...

"বড় পাতিল কিন্তু,ওজনও আছে। না পারলে রেখে দাও তুমি।"

অভ্রা তবুও সেটা তুলতে তুলতে বললো...

"পারবো আমি মা।"

কাজটা ঠিকঠাক করলোও সে।মারগুলো আলাদা করে একটা গামলায় ভরে নিলো।পরবর্তীতে সেই গামলা থেকে মার গুলো অন্য জায়গায় ফেলতে নিলেই অসতর্কতায় গামলাটি নড়ে বেশ কিছুটা গরম মার হাতের কব্জি জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো অভ্রার।সাথে সাথেই রন্ধ্রসহীত জ্বলে উঠলো অভ্রায়।যন্ত্রণায় আআহ করে চিৎকার করে উঠলো সে।

প্রনতি প্রভাতিরা চমকে ফিরে তাকালো তার দিকে।ড্রয়িং রুমে বসে কথা বলতে থাকা অবন বাসু, প্রীতির বর,প্রচ্ছদ ও উষ্ণ, কি হলো,কি হলো করে ছুটে এসেছে।

প্রীতি দ্রুত অভ্রার হাতের গামলাটা রেখে হাতটা ট্যাপের পানিতে ভেজাতে লাগলো।উষ্ণ এসে দ্রুত অভ্রার হাতটা নিজের দিকে টেনে উৎকন্ঠা নিয়ে বললো...

"কি করেছো কি,,দেখি?"

অল্পক্ষণ চিন্তিত হয়ে পরখ করে হুট করেই অভ্রাকে টানতে টানতে নিজের সাথে করেই কিচেন থেকে বেরিয়ে এলো।ফ্রীজ থেকে আইসট্রে নিয়ে এসে বসলো সোফায়।পাশে টেনে অভ্রাকেও বসালো। বরফের টুকরো নিয়ে অভ্রা ব্যথায় কুঁকড়ে হাতটা সরিয়ে নিতে গেলেই উষ্ণ চেপে ধরলো তার হাত।চোখ তুলে তার দিকে তাকাতেই অভ্রা দেখলো উষ্ণের জ্বলন্ত লাভার ন্যয় দুটি চোখ,দৃষ্টি জোরা অভ্রার পানেই নিবদ্ধ, এ যেন কোনো বাক্য ব্যয় ছাড়াই অভ্রাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে, ''নড়লে একদম ভালো হবে না"

অভ্রা আর পারলো না নড়তে,না বের হলো মুখ দিয়ে কোনো শব্দ। দাঁতে দাঁত চেপেই সহ্য করলো যন্ত্রণা, শুধু না পারতে চোখ মুখ কুচকে নিলো ক্ষনে ক্ষনে।,, একটু পরই বরফ লাগার কারনে পোড়া জায়গাটায় একটু আরাম অনুভব করলো অভ্রা।

বরফ দেওয়া শেষ হলেই উষ্ণ মলম লাগিয়ে দিলো জায়গাটায়। কাজ শেষে আর এক মুহুর্তও রইলো না সেখানে।বেরিয়ে গেলো কাউকে কিছু না বলেই।

এরপর আর অভ্রাকে কোনো কাজে হাত লাগাতে দেয়নি প্রীতি,প্রনতিরা।রাতের খাবারের সময়ও প্রীতি নিজ হাতে খাইয়ে দিলো অভ্রাকে।মেয়েটাকে আজকাল একটু বেশিই আগলে রাখতে ইচ্ছে করে তার।করবে নাই বা কেন,মেয়েটা যে সত্যিই আগলে রাখার মতোই কেউ।এদিক সেদিক কত কিছুই না সামলে উঠছে সে।বিসর্জনের কথা তো না বলাই ভালো।

রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে অভ্রা এলো কাঙ্খিত রুমে।বিছানায় তাকিয়ে দেখলো উষ্ণ তার নিজের জায়গাতেই ওপাশ ফিরে ঘুমিয়ে আছে।রুমের লাইটগুলোও বন্ধ। তবুও অভ্রা হালকা আবছা আলোর মধ্যে দিয়েই এগিয়ে গেলো বিছানার দিকে।নিজের জায়গায় ঘুমাতে গেলেই খেয়াল করলো তার নিত্যদিনের সঙ্গী টেডিটা নেই।তাকে খোজার জন্যই অভ্রা সারা রুমের এদিক ওদিক যেতে লাগলো।এতো কম আলোয় ঠিক মতো দেখাও যাচ্ছে না কিছু। যার কারনে হাঁটতে হাটতে হঠাৎই টেবিলের কোনার সাথে পা লেগে হালকা আওয়াজ উঠে বসলো।

সাথে সাথেই বিছানা থেকে ভেসে এলো উষ্ণের শীতল কন্ঠের আওয়াজ...

"কি সমস্যা তোমার?"

অভ্রা দেখলো উষ্ণকে।আমতা আমতা করে বলতে লাগলো...

"ঐ,পুতুলটা খুঁজে পাচ্ছি না,কোথায় যেন রেখেছি..."

অভ্রাপে থামিয়েই উষ্ণ মাঝপথে কন্ঠে আরেকটু জোর বাড়িয়ে বলে উঠলো...

"হ্যা তো?একদিন পুতুল নিয়ে না ঘুমালে কি হয়?ঘুমাচ্ছিলাম আমি,দেখতে পাওনি?এতো কেয়ারলেস কেন তুমি?কি সমস্যা কি তোমার বলো আমায়?? একবার বৃষ্টিতে ভিজে এলে অনেকক্ষণ, সেই সন্ধ্যা থেকে নাক টেনে যাচ্ছো।তখন কারবারি করতে গিয়ে হাত পুড়ে এলে।যেটা পারো না সেটা করতে যাও কেন তুমি?"

উষ্ণের শেষের কথাটা এক প্রকার হুঙ্কারের মতোই ঠেকলো অভ্রার নিকট। চোখ খিঁচে বন্ধ করে কেঁপে উঠলো সে। ঘনঘন নিঃশ্বাস পড়ছে তার।

উষ্ণও যেন এবার কথার তেজ একটু কমিয়ে নিলো।

"চুপচাপ এসে ঘুমাও।"

বলেই বিছানা ছেড়ে উঠে হনহন করে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজাটা ঠাস করে আটকে দিলো।অভ্রা তাকিয়ে দেখলো উষ্ণের কান্ড।সব সময় হাসিখুশি, চঞ্চল মানুষটা হুট করেই কেমন যেন বদলে গেলো অভ্রার কাছে।হয়ে উঠলো এক অচেনা ভয়ঙ্কর রাগী রাজা।

অভ্রা আর খুঁজলো না নিজের প্রাণ প্রিয় টেডি টা।চুপচাপ এসে বিছানায় গুটি হয়ে শুয়ে রইলো।পাশ বালিশ ছাড়া তার ভুলেও ঘুম আসবে না,তা জানে অভ্রা।তাই তো হাতের কাছে আর কিছু না পেয়ে নিজের মাথার নিচের বালিশটাই পাশে এনে জড়িয়ে মুখ গুঁজে দিলো তাতে।

হুট করেই চোখদুটির বাঁধ খুললো যেন তার।হুহু করে কেঁদে উঠলো নীরবেই।বুকের ভেতর আজ আবারো প্রিয় হারানোর মতো কষ্ট হচ্ছে। উষ্ণ কেন এতো পরিবর্তন হয়ে গেলো।অভ্রা দ্বিতীয় বারের মতো ভালোবাসার মতো আরো একটি মানুষ পেয়েছে ভাগ্য করেই।এখন আবারো কেড়তে নিচ্ছে উপরওয়ালা তার থেকে সেই মানুষটাকে।

উষ্ণের এতো যত্ন,এতো ভালোবাসা সব যেন হুট করেই যেন হারিয়ে যেতে লাগলো।উষ্ণ যদি এবার বলেই দেয় অভ্রাকে তার জীবন থেকে চলে যেতে,তাহলে?

সকালে বন্ধুদের তো খুব বলেছে,উষ্ণ চাইলে সে নিজেই চলে যাবে উষ্ণের জীবন থেকে।কিন্তু অভ্রার ভেতরটা যে অন্য কথা বলছে। সে তো আর কাউকে হারাতে পারবে না।উষ্ণকে তো নয়ই।এখন এই ধাঁধাময় সময় থেকে কি করে বের হবে অভ্রা।বাইরের কেউ হলে অভ্রা ঠিক মস্তিষ্কের কথা শুনে কঠিন একটা সীদ্ধান্ত নিয়ে নিতো।কিন্তু উষ্ণ তো তার নিজের।উষ্ণের ক্ষেত্রে যে সে মস্তিষ্কের কথা শুনতে পারবে না।এখন কি করবে অভ্রা?জীন তাকেই কেন বারবার এই ভালোবাসার সম্মোহনে জড়িয়ে ফেলে আবার হারিয়ে দেয়?অভ্রা যে হারতে হারতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে,আর হারতে চায় না তো এই অভ্রা,আর না হারাতে চায় তার নবনতুনের আড়ালে থাকা হাস্যজ্জল উষ্ণায়নকে।

ওয়াশরুমের দরজা খোলায় আওয়াজ পেতেই অভ্রা নিজেকে সামলে নিলো।কোনো রকমে কান্না থামিয়ে চোখ বুজে ঘুমের ভান ধরে রইলো।একটু পরেই বুঝতে পারলো উষ্ণ বিছানায় এসেছে।কিন্তু উষ্ণের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না অভ্রা।

নিজের জন্য নির্ধারিত স্থান ছেড়ে উষ্ণ এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো অভ্রাকে।নিজের বালিশটা নিয়ে অভ্রার মাথার নিচে দিলো।নিজে আলতো করে মাথা রাখলো অভ্রার পিঠে।

অভ্রা কান্না থামালেও হেঁচকি তুলেই যাচ্ছে। নীরবে হাসলো উষ্ণ। বললো...

"ঢং করে ঘুমিয়ে থাকা লাগবে না।আমি বুঝে গেছি।"

অভ্রা আর চোখ বুজে থাকতে পারলো না।চোখ খুলে তাকালো সে উষ্ণের পানে।নিজেকে ধাতস্থ করলো বেশ কঠিন রুপেই।শক্ত কন্ঠে উষ্ণকে বললো....

"আপনার সাথে আমার সরাসরি কিছু কথা বলার আছে।আজ, এক্ষুনি সীদ্ধান্তটা নিতে হবে আপনাকে,আর আমার প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হবে।"

তুমি কোন কাননের ফুল গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক রোমান্টিক গল্প