সকলে মিলন দিনের প্রহর গুনে,আর প্রচ্ছদ প্রহর গুনছে তার প্রত্যাখ্যানের।অভ্রা তাকে প্রত্যাখ্যান করার আজ চারটা দিন পেরিয়ে গেলো।এই চারটা দিন প্রতিটা মুহুর্তে প্রচ্ছদ অনুভব করেছে অভ্রা বিহীন সে সুখ পাবে না।উহুম,,শারীরি সুখ নয়,,আত্মার সুখ পাবে না সে। প্রতিটা ক্ষনে ক্ষনে সে ভালোবাসার জন্য একপ্রকার ভিক্ষা চেয়েছে অভ্রার নীকট।কিন্তু প্রতিবারই অভ্রা তাকে নীরবতা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে,সে ভীষণ গভীর এক অপরাধ করে ফেলেছে দুটো বছর আগে।যা কখনোই ক্ষমার অযোগ্য।
চারটা দিন উষ্ণের ভরসায় প্রবনদের বাড়িতে রয়েছে অভ্রা।প্রনতি,প্রভাতি,প্রীতি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।কোনো কিছুতেই ডাকে না, আর না কোনো খোঁজ নেয়।এত বড় পরিবার, তবুও যেন কেউই নেই অভ্রার।একা সে, ভীষন একা।
সন্ধ্যাটা আগে কাটতো সকলের সাথে ড্রয়িংয়ে।কিন্তু গত তিনদিন সন্ধ্যায় অভ্রা যখনই ড্রয়িংয়ে গিয়ে উপস্থিত হয়,তখন সকলে একে একে উঠে চলে যায়।তাই আজ ভাবলো, যাবে না এখন সেখানে।থাক না তারা তাদের মতো,শুধু শুধু কেনই বা অভ্রা একটা পরিবারের আনন্দক্ষণ নষ্ট করবে।তাই আজ সন্ধ্যাটা সে বাড়ির লম্বা বারান্দাতেই কাটাবে বলে চিন্তা করলো।
কানে ইয়ারফোন গুঁজে ফুলের বাগানে দৃষ্টি দিলো আপন মনে।আবছা আলোর মুহুর্তে, মন মোহিত করতে কানে বাজতে থাকা গানটা নিজ মুখেও ধরলো।চোখ বন্ধ করে গেয়ে উঠলো...
""" Tuhi haqikat, khwab tu,,
Dariya tu hi, peaas tu,
Tu hi dil ki bekarari,
Tu sukun, tu sukun"""""
চোখ বন্ধ থাকলেও বুঝতে পারলো তার সন্নিকটে কেউ একজন এসে উপস্থিত হয়েছে।নাকে তীব্র পার্ফিউমের ঘ্রাণটা চিনিয়ে দিলো,ব্যক্তি তার মনের খুব কাছের,তার ভালোবাসা।বুঝতে পেরেই গান থামিয়ে দিলো অভ্রা।সরল দৃষ্টিতে একবার প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে কান থেকে ইয়ারফোনটা খুলে ফেললো।
"ভালোই তো গাইছিলে।থামলে কেন?"
প্রচ্ছদের কথায় অভ্রা দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললো...
"কিছু অনুভূতি ভুল মানুষের সামনে প্রকাশ করতে নেই।"
"আমায় তুমি আর কেন চাইছো না অভ্রা?আমি যে কাঙাল হয়ে যাচ্ছি তোমার ভালোবাসার আশায়?তুমি তো আমার কষ্ট সইতে পারতে না অভ্রা,তাহলে এখন কিভাবে আমার এতোটা কষ্টটা তোমার মন ছুঁতে পারছে না,বলো না গো অভ্রা?"
"আমি আর আগের অভ্রা নেই।"
"না না তুমি আমার অভ্রাই আছো।তুমি অভ্রা না হলে কি হ্যা??তুমি তো আমারই অভ্রা।তাই না?তুমি তোমার প্রচ্ছদ দাভাইয়ের অভ্রা...।"
"আমি শুধু উষ্ণের শ্যামা ফুল,আর কেউ না।"
প্রচ্ছদের চোখে মুখে হতাশায় ভরপুর।লোকটা আজ কয়েকটি দিন ধরে পাগলপ্রায়।কি করবে ভেবে না পেয়ে হাটু ভেঙে বসে পড়লো অভ্রার সামনে।কন্ঠ কেমন যেন খাদে নেমেছে তার,তবুও কাপা কাপা কন্ঠে বললো...
"প্লিজ অভ্রা,ফিরে এসো না আমার কাছে।আমি সব কিছু সামলে নেবো,উষ্ণকে,প্রীথুলাকে,সবাইকে বুঝিয়ে বলবো।তবুও তুমি আমার হও,আমায় একটু প্রাণ খুলে বাঁচতে দাও তোমায় নিয়ে।"
অভ্রা কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখলো প্রচ্ছদকে।হঠাৎ কি হলো অভ্রার জানা নেই।নিজেও দু হাটু ভেঙে বসল প্রচ্ছদের সামনে,ঠোঁটের কোনে বিষাদের এক হাসি ঝুলিয়ে বললো....
"আপনাকে পাওয়ার জন্য, কতজনকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।তাদের অভিশাপেই হয়তো আপনাকে পাওয়া হলো না আমার।"
প্রচ্ছদ ভেঙে পড়া দৃষ্টিতে তাকালো অভ্রার দিকে। তা দেখে অভ্রা দু হাত জোর করে বললো....
"আপনি আমায় ভুলে যান দাভাই,প্রীথুলার সাথে সুখী সংসার করুন।এটাই আপনার জন্য ভালো হবে।"
"তুমি সত্যিই আমার ভালো চাইছো অভ্রা?"
"আমার কি চাওয়া উচিৎ?? আমি তো কেউ না,কি আসে যায় আমার চাওয়ায়?"
"আমার কি তুমি কখনো ক্ষমা করতে পারবে না অভ্রা??"
কন্ঠের আকুলতা আজও যেন কাঁদিয়ে দেয় অভ্রাকে।লোকটা যে নিখুঁত অভিনেতা,এতোটা কি করে পারে?
ভেতর থেকে এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো অভ্রার।হাত নামিয়ে ফ্লোরে বসলো বাবু হয়ে,,হাফ গ্রিলের ফাঁকে বাড়ির বাগানটায় দৃষ্টি দিয়ে বললো....
"যেদিন আমার কথা ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তেই আপনার চোখের কোনে পানি গড়িয়ে পড়বে,
সেদিন বুঝে নিবেন,আপনি ক্ষমা পেয়ে গেছেন।"
কারোর পায়ের আওয়াজ পেয়ে দুজনই তাকালো সেদিকে।প্রীতিকে দেখে চোখ বুজে নিলো অভ্রা,,আজ যে আবার তাকে ভুল বুঝলো দিদি।,
প্রীতি কিছুক্ষণ দাড়িয়ে,অভ্রার দিকে তাকিয়ে রাগে "ছিহ!" বলেই মুখ বেকিয়ে দ্রুত পায়ে প্রস্থান করলো।
প্রচ্ছদ বুঝলো, আবারো অভ্রার কষ্টের বোঝা বাড়ছে।নাহ,সবার ভুলটা আজ ভাঙতে হবে।অভ্রাকে সবাই অবহেলা করছে তাও যে সহ্য হচ্ছে না প্রচ্ছদের।কি হলো তার আজকাল?অভ্রার একফোঁটা কষ্টও যেন হাড়ে হাড়ে নিজের মধ্যে এসে লাগে তার।
প্রচ্ছদ উঠে দাড়াতে, যেতে হবে তাকে।পেছন থেকে হঠাৎ অভ্রা বলে উঠলো....
"আর কখনো আমার কাছে ভালোবাসার দাবি নিয়ে আসবেন না দাভাই।হয়তো আপনাকে ভালোবাসি আমি,কিন্তু উষ্ণায়নকে আমি শ্রেষ্ঠ সম্মানের স্থান দিয়েছি।উনাকে আমি নারাজ করতে পারবো না,সত্যি বলতে,,উনার যন্ত্রণা আমার সহ্য হবে না।তাই আমি আমার নিজের করে পাওয়া মানুষটিকে হারাতে চাইনা।বাকি জীবনের জন্য উষ্ণায়ন আমারই থাকতে দিন।"
---------
প্রচ্ছদের জীবনে দুজন মানুষ এসেছে, যারা তাকে কোনো কারন ছাড়াই ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখে।সর্বপ্রথম মা,আর সর্বশেষে অভ্রা।
আজ যখন এক ভালোবাসার মানুষ তাকে ফিরিয়ে দিলো তখন প্রচ্ছদ ঠাই নিলো আরেকটা ভালোবাসার মানুষের কোলে।সেই সন্ধ্যা থেকে প্রভাতির কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে ছেলেটা।আপন মনে কোথায় যেন তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। না কিছু বলছে,না উত্তর দিচ্ছে।কেমন নিস্তব্ধতা ঘিরে ধরেছে তাকে।
প্রভাতি খানিক চিন্তিত ছেলের এমন কাজে।প্রচ্ছদ তো কখনো এভাবে মায়ের কোলে থাকে না।কখনো দু দন্ড বসে কথা পর্যন্ত বলে না,সেই ছেলেই কিনা ঘন্টা তিনেক ধরে এক ভাবে শুয়ে আছে মায়ের কোলে?
প্রভাতি ছেলের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কতবার যে জিজ্ঞেস করলো,,কি হয়েছে,কিছু বল,,
কিন্তু প্রচ্ছদ সেই নীরবই রইলো।প্রনতিও রয়েছে এখানেই।বার বার বোনের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইছে ব্যপারটা কি।কিন্তু কোনো উত্তরই মিলছে না।একটু পরেই প্রীতি আচলে হাত মুছতে মুছতে এসে বসলো তাদের পাশে।বললো....
"এবার বলো তো,এতো জরুরি তলব কেন?"
প্রভাতি প্রচ্ছদকে দেখিয়ে বললো....
"দেখ না,কি যে হলো ছেলেটার, সেই কখন থেকে এভাবেই পড়ে আছে।"
প্রীতি তাকালো প্রচ্ছদের দিকে,মনে পড়ে গেলো সন্ধ্যার সেই ঘটনা,যা সে নিজের চোখে দেখেছিলো।প্রচ্ছদকে জিজ্ঞেস করলো....
"কি হয়েছে তোর??তখন অভ্রা তোকে কি বলেছে?আমি দেখেছি ও তোর সামনে হাত জোর করে বসেছিলো।মেয়ের কাজ দেখো,ভাই এমনি এমনি রাজি হচ্ছিল না দেখে শেষে কিনা পায়ে পড়েছে প্রায়?কিরে বল?ও কি এবার তোকেও ফাঁসাতে চাইছে?"
প্রচ্ছদ উত্তর দিলো না প্রীতির কথায়।মুখ তুলে মায়ের দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো...
"অভ্রাকে তোমার কেমন লাগে মা?"
প্রনতি তব্দা খেয়ে তাকিয়ে রইলো ছেলের দিকে।কি বলছে প্রচ্ছদ এটা?প্রনতি জিজ্ঞেস করলো...
"এই কথা কেন তুই জিজ্ঞেস করছিস বাবা?"
"না মা,তুমি শুধু এটাই বলো,তুমিও কি দিদির মতো ভাবো যে অভ্রা চরিত্র হীন, দোষী?"
প্রভাতি তাকালো প্রনতির দিকে।তা দেখে প্রনতি মুখ ছোট করে বললো....
"ও যেই কাজ গুলো করেছে,তারপরও কি ওকে খারাপ ভাবাটাই উচিত নয়? "
প্রচ্ছদ উঠে বসলো।কাতর কন্ঠে বললো...
"মাসি মনি,,,তোমরা কখনো ওর সরলতা দেখো না?এতো কথা বলার পরও কারোর মুখের উপরে একটা কথাও বলে না অভ্রা,সেটা লক্ষ্য করো না তোমরা?শুধু নামের ভুল গুলোই চোখে পড়ে ওর?"
প্রীতি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো...
"তুই ঠিক করে বলতো,কি বলতে চাইছিস?"
প্রচ্ছদ ক্লান্তায় খাটের কার্নিশে হেলান দিলো।শান্ত স্বরে বললো...
"আমার অভ্রা চরিত্রহীন নয়,খারাপ নয়।ও একটি নিষ্পাপ ফুল।"
প্রচ্ছদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে খুব।তবুও বলতে লাগলো এক এক করে সবটা...
"দুটো বছর আগে তুই যখন অভ্রার কাছে আমার আর ওর বিয়ের প্রসঙ্গ তুলেছিলি,তখন অভ্রা তোকে মানা করেছিলো,এটাই তোর ওর প্রতি রাগের কারন তাই না দিদি?"
প্রীতি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলো তার ভাইটাকে।কি বলতে চাইছে সে?
"সবার সামনে এটাই উপস্থাপন করা হলো। কিন্তু তার আড়ালের সত্যটা কেউই জানে না।যখন শুনলাম তুই আমার জন্য অভ্রাকেই বেছে নিয়েছিস,তখন তোকে সরাসরি না করতে পারিনি,তা করলে আমার ইমেজ নষ্ট হবে বলে,তাই আমি কায়দা করে সেদিন অভ্রাকেই বাধ্য করেছি, যাতে তোকে এই বিয়ের ব্যপারে না করে দেয়।সেই জন্যই অভ্রা তোকে না করেছিলো সেদিন।"
উপস্থিত সকলেই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো প্রচ্ছদের দিকে।প্রীতি অবাক হয়ে বলে উঠলো...
"কিহহ!"
"হুম,অভ্রা আমায় ভীষণ ভালোবাসে।এখন নয়,,সেই দু বছর আগে থেকে।আমাদের বিয়ের সম্মন্ধ তোলার আগে থেকেই সে আমায় ভালোবাসে।আ্ আমিও তাকে নিজের প্রতি ইম্প্রেস করেছিলাম, বোকা মেয়েটা আমার ফাঁদে পড়েছিলো তখন।আ্ আমিও নিদারুণ অভিনয় করে গিয়েছি চঞ্চল মেয়েটির সাথে।কিন্তু আমার বিপরীতের বোকা মেয়েটি যে আমায় নিয়ে তার প্রথম প্রেমের অনুভুতি সাজিয়েছে,তা আমি বুঝতেও পারিনি।আর না কখনো বুঝতে চেষ্টা করেছি অভ্রা কত বিশাল এক ভালোবাসার পাহাড় তৈরি করেছে আমায় নিয়ে।তারপর আমার মন উঠে গেলো অভ্রার থেকে।তাই ওকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি।"
প্রীতি বাসু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো ভাইয়ের দিকে।দুটো বছর আগে তাদের অগোচরে কত কিছুই না হয়ে গিয়েছে,আর সে বিন্দু পরিমান টেরও পেলো না,অযথা অভ্রাকে এই কটা দিন যা নয় তাই বলে গেছে ক্ষোবের বসে।এতোগুলো বছর ধরে প্রচ্ছদ তাদের সাথে একই বাড়িতে থাকে।অথচ এই ভাইকেই চিনে উঠতে পারলো না প্রীতি।কেমন যেন নিজেকেই আজ শ্রেষ্ঠ বোকা মনে হচ্ছে তার।
প্রচ্ছদ চঞ্চল হয়ে উঠলো।হঠাৎ কেমন যেন প্রনতি প্রভাতিদের হাতে পায়ে ধরে বাচ্চাদের মতো বলতে লাগলো....
"মা, ও মা,,আ্ আমি এখন অভ্রাকে চাই।গত দুটো বছর আমার ওর কথা একটিবারের জন্যও মনে পড়েনি।কিন্তু এই কটা দিনে আমি রিয়েলাইজ করেছি অভ্রার মতো কেউ হয় না।ওর ঠুনকো শ্ শরীরের দিকে নজর দিতে মস্ত এক মনের সন্ধান আমি যেন পেয়েও পাইনি দু বছর আগে।কিন্তু আমি এখন অভ্রাকে চাই মা,,।।মাসিমনি,ও মাসিমনি,ত্ তোমার কথা তো অভ্রা ফেলতে পারবে না।ওকে বলো না এই জনমের জন্য আমার হয়ে যেতে,আমি ওকে ভীষণ আগলে রাখবো,আর আগের বারের মতো কষ্ট দেবো না।প্লিজ মাসি মনি তুমি একটু বোঝাও না ওকে।"
প্রনতি দেবীর মুখে লাগাম লেগেছে।এই মুহূর্তে অভ্রা আর প্রচ্ছদকে একসাথে কল্পনা করতে গেলেই তার চোখের পাতায় ভেসে উঠছে নিজের ছেলের হাসি মাখা মুখটা।তার ছেলেটাও যে অভ্রার জন্য পাগল প্রায়।অভ্রা যদি তার থেকে দূরে চলে যায়,তাহলে উষ্ণকে কি করে সামলাবেন তিনি?
প্রীতি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছে।নিজের প্রতি তার ঘিনঘিন লাগছে।কি করে ফেললো সে ঐদিন।স্তব্ধ কন্ঠে প্রচ্ছদকে প্রশ্ন ছুড়লো সে....
"অভ্রাকে বলেছিস?"
প্রচ্ছদের গলা ধরে এলো।এলোমেলো লাগছে সব।প্রত্যাখ্যান তাকে এতোটা কেন কষ্ট দিচ্ছে...
"হ্যা,,,বেলির কাহিনি নিয়ে ঝামেলা হওয়ার পরদিনই আ্ আমি বলেছি ওকে।সবটা বলেছি।সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত ভালোবাসা ভিক্ষা চেয়েছি ওর কাছে।ও্ আমায় চায় না আর,স্ সন্ধ্যা বেলায় ও আমার পায়ে পড়ে অনুরোধ করেছে,যাতে আ্ আমি ওর কাছে আর কখনো আমার ভালোবাসার দাবি নিয়ে না যাই।"
বলতে বলতেই ডুকরে কেঁদে উঠলো প্রচ্ছদ।ভালোবাসাটা তার কাছে কখনোই দামি কিছু ছিলো না।কিন্তু আজ সে বুঝতে পারছে,সে ছাইয়ের আশায় খাটি হিরাটাই হারিয়ে ফেললো।
"ও কি এখনো ভালোবাসে তোকে?"
"হ্যা,,আমার অভ্রার ভালোবাসায় বিন্দু পরিমান খুঁত নেই,ও আজও আমায় সেই প্রথমের মতোই ভালোবাসে।কিন্তু,,কিন্তু অভ্রা এখন আর আমাকে চায় না।"
"ভালোবাসলে তো সব ভুলে তোর কাছে আসতো ও,এক কথাতেই রাজি হয়ে যেতো।তাহলে?"
"আমার অভ্রার আত্মসম্মানবোধ খুব প্রখর।আমার মতো শুধু আবেগ নিয়ে চলে না সে।সবদিক চিন্তা করে,পরিবার,সমাজ,নিজের ভবিষ্যৎ, উষ্ণের ওকে পাগলের মতো ভালোবাসা।সব কিছুর জন্য অভ্রা আর আমায় চায় না।আরো চায়না আমার নিকৃষ্ট কাজের জন্য। আ্ আমি একজন ন্ নারীদেহ লোভী,, শতশত নারী দেহে আমার বিচরণ হয়েছে,এমনকি প্রীথুলার সাথেও বিয়ের আগেই আমার....."
গালের উপর সপাটে একটা চর পড়তেই ফিরে তাকালো প্রচ্ছদ।তার মা তাকে মেরেছে,,অনেকগুলো বছর পর তাকে মেরেছে আজ।মা তাকে ভীষণ স্নেহে রাখে।তাই তো প্রচ্ছদ আর প্রীথুলার বিয়েটাও নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে মেনে নিয়েছে,একমাত্র ছেলের জন্য। এই ছেলেকেই ঠিক পথে আনার জন্য নিজের থেকে দুরে পাঠিয়েছিলেন তিনি।নিজের প্রতি নিজেকেই ধিক্কার জানাতে লাগলো তিনি,চোখের পানি অতি চেষ্টার পরেও আটকে রাখতে পারলো না তিনি।
প্রীতির সব ঘোলাটে লাগছে।আবছা মনে পরে গেলো প্রায় দশ -এগারো বছর আগের কথা।
তখন প্রচ্ছদ সবে সতেরোয় পা দেওয়া কিশোর।সেই সময়ই একদিন বাপের বাড়ি থেকে খবর এলো উপরস্থ পার্টির কিছু নেতাদের সাথে জড়িয়ে গিয়েছে প্রচ্ছদ।এলাকার আরো ছেলে পুলের কারনে আড্ডা খানায়ও তার বিচরন প্রচুর।একদিন তাদের সাথে মিলেই পার্টির কোনো একটা কারন নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় পালাতে গিয়ে পায়ে গুলি লাগে প্রচ্ছদের।
সেবার টানা তিনদিন হসপিটালে থাকার পর প্রভাতিকে বলে নিজের কাছে নিয়ে এসেছিলো ভাইকে।ভেবেছিলো,প্রচ্ছদ আড্ডা,পার্টি,এসব থেকে বেরিয়ে এসে সুস্থ স্বাভাবিক জিবন পাড় করবে।সেই থেকেই প্রচ্ছদ, প্রীতির সাথেই থাকে।সেই থেকে আটটা বছর প্রচ্ছদকে সামলে রেখেছে প্রীতি।তার স্বামীকে প্রচ্ছদকে ব্যবসার মারপ্যাচ শিখিয়েছে।প্রথমে কয়েকদিন ভদ্রলোক নিজের দোকানেই রাখতেন প্রচ্ছদকে,পরে নিজ হাতে নিজস্ব দেকান নিয়ে দিয়েছিলেন প্রচ্ছদকে।পরে প্রচ্ছদের বিয়ের পরই প্রভাতি ও তার স্বামী অরুণকেও একেবারের জন্য নিয়ে আসা হয় এখানে।
সেইদিন প্রচ্ছদকে সৎ পথে নিয়ে আসার জন্য নিজ বাসায় নিয়ে এসেছিলো প্রীতি,কিন্তু এই এতোগুলো বছরে প্রীতি ঘুনাক্ষরেও টের পেলো না প্রচ্ছদ খারাপ থেকেও খারাপের পর্যায়ে চলে গিয়েছে।মায়ের দিকে মুখ তুলে তাকাবে কি করে এখন প্রীতি,সে যে মায়ের ছেলেকে ভালোর জন্য এনে আরো খারাপ করে ছেড়েছে।বড় বোন হয়ে পারলো না নিজের ছোট ভাইটাকে আগলে রাখতে।বাবাকে কি উত্তর দিবে এখন সে?
অথচ দায়িত্ব নিয়ে প্রীতি কড়া শাসনে রাখতো প্রচ্ছদকে।কখনো দশটার পরে ঘরে ঢুকতে দেয়নি প্রচ্ছদকে।শাসন করে যা বলতো, তাই তাই করতো।কিন্তু তার অগোচরে কখন প্রচ্ছদ নানা নারীর সন্ধান পেয়েছে,আর কখনই বা....
ভাবনার মাঝেই কান্নারত স্বরে প্রভাতি প্রচ্ছদকে জিজ্ঞেস করলো....
"অভ্রার সাথে কিছু করেছিস তুই??সত্যি করে বল প্রচ্ছদ।"
প্রচ্ছদ যেন পন নিয়েছে আজ সবটাই সত্যি বলবে।বড় করে শ্বাস নিয়ক চোখ বন্ধ করে থেমে থেমে বললো...
"শ্ শুধু একবার ওর ঠ্ ঠোঁটে...। আর কিছুদিন সম্পর্ক থাকলে হয়তো ওর সাথেও আমি...."
আরো একটা থাপ্পড় মেরে বসলো প্রভাতি প্রচ্ছদকে।কাঁদতে কাঁদতে চেচিয়ে বলে উঠলো....
"তোর মতো দুঃচরিত্রের ছেলেকে আমি পেটে ধরেছি,ভাবতেই আমার ঘৃণা হচ্ছে। এই কুলাঙ্গার,, তুই আমার ছেলে হলি কিভাবে?আমাদের পারিবারিক সংস্কার,আমার,আদর-স্নেহ,এতো করে আগলে রেখেও তোকে বেধে রাখা গেল না?আমাদের স্নেহের থেকেও ঐ চরিত্রহীন মেয়েদের শরীরই বেশি সুখ দিতো তোকে?ছিহ!!!"
প্রচ্ছদ আজ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হিসেবে শুধু নীরবতাই বেছে নিলো।তার মা আজ লজ্জিত তাকে পেটে ধরে।ভুল তো তারই,,না না,,ভুল নয় ঠিক, ঘোর অন্যায়,যে অন্যায়ের জন্য মৃত্যুও হয়তো শাস্তিসরূপ কম পরে যাবে।
"এই জন্যই বুঝি প্রীথুলা সেদিন খাওয়ার টেবিলে অভ্রাকে ঐ কথাটা বলেছিলো?"
প্রনতির শক্ত প্রশ্নে চোখ তুলে তাকালো প্রচ্ছদ।কিছু একটা আন্দাজ করতে পেরে, দ্রুত গিয়ে প্রনতিকে বললো....
"না মাসিমনি,,তুমি যা ভাবছো না নয়।প্লিজ তুমি অভ্রাকে খারাপ ভেবো না।ও এমন মেয়ে না।মেয়েটা শুধুই আমাকে ভালোবেসে গেছে,মনের টানে।দেহের কামুকতা নিয়ে নয়।আর না কখনো ও এসবে জড়িত ছিলো।ওর জীবনে প্রথম পুরুষের ছোঁয়া আমার হাত ধরেই হয়েছিলো।আর আমি জোর গলায় বলতে পারে,সেদিনের পর থেকে এখনো অভ্রা শুদ্ধ। সেদিন তো আমিই ওকে নিজের মায়া কান্নায় ভুলিয়ে ডেকেছিলাম।ও তো কখনো আমার সাথে নিরিবিলি জায়গায় দেখাও করতে চাইতো না।আমি ডাকলে বললো
'" ভালোবাসা দুজনের মধ্যেই হয়,,সেটা না হয় ভরা বাজজারে সকলের চোখের সামনেই থাকুক।লোকে না হয় যানুক,আজ কালের যুগেও শুদ্ধ প্রেম রয়েছে,যা শূন্য স্থানে নয়,লোক চক্ষুর সামনেই হয়।"
সেদিন আমাকে শান্তনা দিতেই বাধ্য হয়ে ও আমার সাথে জনমানবহীন স্থানে দেখা করেছে। আর আমি সেই সুযোগেরই ব্যবহার করেছি।দুটো বছর আগে নাজুক,শক্তিহীন অভ্রা আমার বাহুডোর থেকে ছুটতে পারলো না শত চেষ্টা করেও।আর না পারলো আমার ওকে স্পর্শ করতে আমায় আটকাতে।নোংরা করে ফেলেছি আমি ওর সরু, টসটসে ঠোঁটজোড়া।"