তুমি কোন কাননের ফুল

পর্ব - ২৭

🟢

পুষ্পে সজ্জিত ঘরটায় অভ্রাকে নিয়ে এসেছে রজনী,প্রীতি মিলে।সাথে উষ্ণও।হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মতে নবদম্পতির প্রথম সঙ্গিন রাতে বেশ কিছু নিয়ম পালন করতে হয়।সেইসব নিয়ম শেষ করেই বাকিরা ঘর ছাড়লো। তারা যেতেই উষ্ণ গিয়ে আস্তে করে দরজার ছিটকিনিটা লাগিয়ে দিলো।

বুকের ভেতর অজানা এক অনুভুতিতে বারবার শিহরন বয়ে যাচ্ছে অভ্রার মধ্যে দিয়ে।উষ্ণ কি বলবে? কেমন ভাববে,নানা রকম প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়।অতিরিক্ত অস্থিরতার কারনে নিজের হাতই নিজে কচলাচ্ছে সে। এই বুঝি উষ্ণ নামক ব্যাক্তিটি তাকে এক ফলসা বৃষ্টির ন্যয় ছুয়ে দিলো শুভ্রতায়।।

কিন্তু বাস্তবা যে সবসময় অভ্রার কল্পনার থেকে একধাপ এগিয়ে চলে।তেমনি আজও তার ভাবনারা মিথ্যা প্রমাণ হলো।উষ্ণ এগিয়ে এলো না অভ্রার কাছে।বরং টেবিলের উপর থেকে ফোন হাতে নিয়ে সেদিকে তাকিয়েই বললো...

"ঘুমিয়ে পরো।"

বলেই ফোনে চোখ রেখেই হাটা ধরলো রুমের সাথে লাগোয়া বারান্দাটার দিকে।যেতে যেতে আবার রুমের উজ্জল লাইটটি নিভিয়ে দিয়ে হালকা আলোর একটি ড্রিম লাইট জ্বালিয়ে দিলো।

হৃদয়ের কোণের কোথাও কি একটা সূক্ষ্ম আঘাত লাগলো অভ্রার??বুঝতে পারলো না।ঢোক গিলার সাথে সাথে যেন সেই আঘাতটাও চেপে গেলো অভ্রা।গায়ের গয়না গুলো খুলবে বলে উঠে দাড়িয়ে লাইটের সুইচের কাছে যেতে নিলেই বারান্দা থেকে উচু স্বরে ভেসে এলো উষ্ণের গলা....

"লাইট জ্বালাবে না।আমার বিরক্ত লাগছে।"

আর লাইট জ্বালালো না অভ্রা।এদিক ওদিক তাকিয়ে কি করবে ভাবতে লাগলো।গায়ের ফুলগুলো কি খুলবে?নাকি না??ভাবনার মাঝেই ফুলে সজ্জিত বিছানার মাঝে নজর এলো মাঝারো আকারের একটা টেডির উপর।টেডিটা দেখেই যেন সব কথা মাথা থেকে উধাও হয়ে শুধু ঘুম শব্দটাই হানা দিলো অভ্রার।আর কিছু চিন্তা না করেই বিছানার এক পাশে গিয়ে গুটিশুটি মেরে টেডিটা জড়িয়ে ধরে চোখ বুজলো অভ্রা। সারাদিনের ধকলের ফলে নিমেষেই ঘুম ধরা দিলো তার চোখের পাতায়।

বেশ অনেকক্ষণ পর বেশ ধীরে সুস্থে পা ফেলে উষ্ণ এগিয়ে এলো ঘরে।ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাড়িয়ে হাতের ঘরিটা খুলতে খুলতে ঘুমন্ত অভ্রার দিকে তাকিয়ে আপন মনেই মুচকি হাসলো সে।ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে, চেন্জ করে এসে আস্তে করে এক হাটু ভাজ করে বিছানায় বসলো সে।নির্বিকার তাকিয়ে দেখলো ফুল দিয়ে সজ্জিত তার ব্যক্তিগত ফুলকে। এতোটা মানাবে,ভাবে নি উষ্ণ। এই যে ঘুমন্ত ফুলটাও কেমন সদ্য ফুটে ওঠা ফুলের মতো লাগছে এখন।

উষ্ণ আস্তে ধীরেই অভ্রার মুখোমুখি হয়ে বিছানার আরেক পাশে শুয়ে পড়লো।দৃষ্টি সরালো না ফুলের দিক থেকে।অভ্রার সিঁথিতে জ্বলজ্বল করতে থাকা সিঁদুরের দিকে চোখ যেতেই জয় জয়কার অনুভূতি হলো উষ্ণের।ইশশ এখনো যেন বিশ্বাস হয় না,,এই ফুলটি আজ থেকে সম্পূর্ণরুপে তার ব্যক্তিগত ফুল।আজীবনের জন্য এই ফুলটি তার হয়ে গেছে।হয়েছে তার ঘরণী।আজ থেকে রোজ সকালটা শুরু হবে এই ফুলের দর্শনে,দিনের ক্লান্তিময় শেষটা হবে এই ফুলের প্রশান্তিতেই।

উষ্ণ পলকহীনভাবে তাকিয়েই দেখলো শুধু তার ফুলটাকে।মুখ থেকে দৃষ্টি নামিয়ে একটু নিচের দিকে যেতেই উষ্ণের চোখ আটকালো ফুল সমূহের ফাঁক দিয়ে একটু উঁকি মারতে থাকা অভ্রার কোমল পেটটির উপর।নাহ,,হিরোইনদের মতো এই ফুলটি ধবধবে ফর্সা পেটের অধিকারি নয়।তবে বেশ আকর্ষনীয়, এই যে, নজর যেতেই উষ্ণের গলা বেয়ে নেমে এলো চিকন সুতোর ঘাম।তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে গেলো যেন কিছুটা।তবে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পানির প্রযোজন নেই।নিজের পেশিবহুল একহাত ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে সেই আকর্ষণীয় জায়গাটায় একটুখানি ছোয়ালো শুধু।ওমনিই ঘুমের মাঝেও কেমন যেন কেপে উঠলো অভ্রা। উষ্ণ হাত সরিয়ে ফেললো,হাসলো আনমনেই।

ফুলের পাপড়ির ন্যয় মেরুন রঙের ঠোঁটজোড়ার দিকে তাকাতেই শরীরে কম্পন দিলো উষ্ণের।কুঞ্চিত দৃষ্টি নিয়ে ঘনঘন শ্বাস ফেলতে ফেলতে দেখেই গেলো সেই ঠোঁট জোড়া। কে বলে তার শ্যামা ফুল সুন্দর না?আবেদনময়ী না?এই যে ঘুমের মাঝেও কেমন আকর্ষণ করছে উষ্ণকে।এটাই তো শতশত সাদা চামড়ার নারীদের সূক্ষ্ম দেহের ভাজকেও হার মানিয়ে দিবে নির্দিধায়। ভাগ্যিস,ফুলের এই রুপ দেখার সৌভাগ্য উষ্ণ ছাড়া আর কোনো পুরুষের হয়নি।ভালোবাসুক,মন থেকেই হাজার পুরুষ ভালোবাসুক,কিন্তু ভালোবেসে মনের সাথে সাথে লতানো দেহ ছুঁয়ে দেওয়ার অধিকারটা শুধুই উষ্ণের হওয়া চাই।এটায় যে আর কাউকে ভাগ দিতে নারাজ উষ্ণ।

ভোরের আলো ফুটেছে মাত্র বলতে গেলে,রুমের দরজায় ঠকঠক আওয়াজ শুনতেই ঘুমটা হালকা হয়ে এলো অভ্রার।বিরক্তিতে নড়েচড়ে আবার অন্যপাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করলো।কিন্তু দরজার কড়াঘাত বাড়তেই আর ঘুমিয়ে থাকতে পারলো না।চোখ খুলেই উঠে বসলো।পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো উষ্ণ উলটো ঘুরে ঘুমিয়ে আছে। কখন রুমে এলো লোকটা বারান্দা থেকে??

ভেবে পেলো না অভ্রা।দরজার করাঘাত গাঢ় হতেই নেমে গিয়ে দরজাটা খুলে দিলো।রজনী,উর্মি আর প্রীতিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অভ্রা বললো...

"সরি দিদি,, দরজা খুলতে দেরি হয়ে গেলো,আসলে ঘুমটা একটু বেশিই..."

উর্মি ঠোঁট চেপে হেসে বললো...

"আরে আরেহ,,থাক,আর কিছু বলতে হবে না।সমস্যা নেই।"

প্রীতি একবার অভ্রার সারা দেহে চোখ বুলিয়ে মুচকও হেঁসে বললো...

"উষ্ণকে ডেকে দে।সূর্য উঠার আগে স্নান সারতে হবে দুজনকে একসাথে।নিয়ম আছে।"

অভ্রা মাথা নেড়ে এগিয়ে গেলো উষ্ণের দিকে।দু একবার "উষ্ণায়ন,উষ্ণায়ন বলে ডাকার পরও যখন জাগলো না,তখন কাঁপা কাঁপা হাতটা উষ্ণের কাঁধে রেখে হালকা ধাক্কা দিয়ে আবার ডাকলো।ভাবলো,,হয়তো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন উষ্ণ।

অথচ অভ্রা জানতেও পারলো না সারাটা রাত উষ্ণের চোখদুটি একটুও বিশ্রাম নেয় নি।নিদারুন ভাবে দেখে গিয়েছে তার ব্যক্তিগত ফুলটিকে।

নড়েচড়ে উঠে চোখ দুটি হালকা খুলতেই অভ্রা বললো....

" দিদিরা উঠতে বলছে,,কি সব নিয়ম...."

উষ্ণ আবার নড়েচড়ে চোখ বন্ধ করতে করতে বললো...

"যাও,,আসছি আমি।"

অভ্রা আবার বলতে নিলো...

"সূর্য উঠার আগেই নাকি..."

এবার উষ্ণ আগের থেকে একটু কন্ঠ ভার করেই বললো...

"আসছি।"

আর কিছু বলার মতো খুঁজে পেলো না অভ্রা।উষ্ণকে কেমন যেন হুট করেই বেশ অচেনা মনে হচ্ছে অভ্রার।উষ্ণ তো এমন নাহ?তাহলে কাল রাত থেকেই কেন এভাবে এড়িয়ে চলছে অভ্রাকে?

বুঝে পেলো না সে।বড় একটা নিশ্বাস ছেড়ে আয়নার সামনে গিয়ে সারা গায়ের ফুলগুলো খুলে রেখে দিলো ড্রেসিং টেবিলে।এরপর আরো একবার উষ্ণের দিকে তাকিয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।

স্নানের নিয়মটা শেষ করেই উষ্ণ রুমে গেলো চেঞ্জ করতে,আর অভ্রাকে নিয়ে গেলো আরেকটা রুমে।সেখানেই ভেজা শাড়ি বদলে নিলো সে।

মাত্রই ব্রাশ করে বেসিনের সামনে দাড়িয়ে হাত-মুখ ধুয়ে নিলো প্রচ্ছদ।টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছে নিয়ে পেছনে ফিরতেই চোখ আটকালো স্নিগ্ধ এক নারীতে।মাত্র স্নান করে আসায় ভেজা চুল গুলো কামুক পুরুষের অন্তরে নেশা ধরিয়ে দেওয়ার মতোই যেন কাজ করছে।পড়নে তার টুকটুলে লাল একটি শাড়ি। এই শাড়িটা চেনে প্রচ্ছদ,খুব পরিচিত যে,নিজ হাতেই তো পছন্দ করেছিলো উষ্ণের বউয়ের জন্য। ভাবনার বাইরের সৌন্দর্য গুলো বুঝি এমনই হৃদয়হরণ করে?যেমনটি প্রচ্ছদের করছে?

হুট করেই মাথায় এলো অভ্রার হঠাৎ এতো সৌন্দর্যের কারন,তা তো আর কিছুই নয়,উষ্ণের উষ মিঠা ছোঁয়াগুলো। আচ্ছা,গতকাল রাতে উষ্ণ বুঝি অভ্রার শিহরিত ভাবগুলোর সাক্ষী হয়েছে?উষ্ণের ক্ষনে ক্ষনে স্পর্শ গুলোতে কি অভ্রা লজ্জায় কেঁপে কেঁপে উঠেছে?উষ্ণের দেওয়া ভালোবাসার স্পর্শগুলো অভ্রার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে.....

আর ভাবতে পারলো না প্রচ্ছদ, চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেললো,যেন চোখ খুললেই উষ্ণ আর অভ্রার ঘনিষ্ঠ মুহুর্ত গুলো কল্পনা রূপে ভেসে উঠবে চোখের পাতায়। বুকের ভেতর যেন কেউ বড় আকারের পাথর ছুড়ে মারলো তার,,এতো ব্যথা,এতোটাই ব্যথা।

অভ্রা রজনীর সাথে রান্নাঘরের দিকে যেতেই প্রচ্ছদ ছুটে এলো প্রীতির কাছে।হিসহিসিয়ে বললো....

"এমননকেন করছিস তুই দিদি?"

প্রীতি তাকালো এলোমেলো প্রচ্ছদের দিকে।বিচক্ষণ মন বুঝতে পারলো প্রচ্ছদ কিছু একটা বলবে।চোখ বুলিয়ে দেখলো ড্রয়িংরুমে অনেক আত্মীয়রাই আছে।এদের মধ্যে কেউ যদি প্রচ্ছদের এই অবস্থা একটু টের পেয়ে যায়,তাহলে আর কার কি হবে জানা নেই,তবে অভ্রার খুব সম্মানহানি হবে।তাই তো প্রীতি দ্রুত প্রচ্ছদের হাত চেপে ধরে সবার থেকে আড়ালে নিয়ে গেলো একটু....

"কি হয়েছে??''

এই প্রশ্নটা বেশ বিরক্তিকর ঠেকলো প্রচ্ছদের নিকট।রাগে চাপা কন্ঠে বললো....

" জানি না আমার কি হয়েছে,জানি না আমি। কিন্তু তুই তো সবটা জানিস দিদি,তবুও কেন আমার সাথে এমন করছিস তুই??"

"কি করেছি সেটা বলবি তো??"

"আজকে অভ্রাকে ঐ শাড়িটা কেন পড়তে দিয়েছিস?কেন আজই ওকে আমার পছন্দের শাড়িটা পড়িয়েছিস।তুই কি আমায় একটুও বুঝতে পারছিস না??একবারও ভাবতে পারছিস,আমার ভেতরে কি চলছে।আমি কি করে নিজেকে সবার সামনে সামলে রেখেছি?? আমি পারছি না দিদি,এতসব কিছু আমি সত্যিই সইতে পারছি না।একা হলে ইচ্ছে করে নিজেকেই নিজে শেষ করে দিই। কিন্তু তাও পারি না আমি,মরে গেলে আমার অভ্রাকে তো আর দেখতে পারবো না।"

প্রীতি বাঁধা দিলো প্রচ্ছদকে,বললো...

"এসব কি বলছিস তুই ভাই?"

প্রচ্ছদও দ্বিগুন স্বরে চেঁচিয়ে বলে উঠলো...

"হ্যা আমি ঠিকই বলছি।আমি লিটারালি পাগল হয়ে যাচ্ছি। কি করবো,কি করছি কিছুই মাথায় আসছে না।আমার এখন কিচ্ছু ভালো লাগছে না,সারাদিন একটাই ইচ্ছে, অভ্রাকে দেখবো,অভ্রাকেই দেখবো শুধু,এছাড়া আর কিছু ভালো লাগছে না আমার।"

প্রীতি স্থির হয়ে বললো...

"কেন এমন করছিস তুই এখন?ওর তো এখন বিয়ে হয়ে গেছে।ও সম্পর্কে তোর ছোটভাইয়ের বউ,আর তুই কিনা...."

"আমি মানি না এসব সম্পর্কের জাল।কি হয়েছে ও আমার ছোট ভাইয়ের বউ হলে?কি হবে?আমি তো ছোটভাইয়ের বউকে ভালোবাসি নি।।আমি শুধু অভ্রাকে ভালোবেসেছি।আর এটা আমি আর ভুলতে পারবো না।ছোট ভাইয়ের বউ হলেও আমি ওকেই ভালোবাসবো।"

প্রচ্ছদের কন্ঠ নেতিয়ে গেছে।করুন দৃষ্টি,আউলিয়ার মতো অবস্থা তার।যে কেউ এখন তাকে দেবদাশের ট্যাগ লাগিয়ে দিতে পারবে নির্দ্বিধায়। প্রীতি শুধু চুপ করে দেখলো প্রচ্ছদকে। তাকে চুপ থাকতে দেখে প্রচ্ছদ আবার বললো....

"আজ ওকে এই শাড়িটা না পড়তে দিলেই পারতি,অন্তত আজকের জন্য।"

প্রচ্ছদ যখনই পেছনে ঘুরতে নিলো তখন প্রীতি আস্তে করে পেছন থেকে বলে উঠলো...

"ওদের মধ্যে কাল কিছুই হয়নি।"

থেমে গেলো প্রচ্ছদ কথাটা শুনে।ভ্রু কুঁচকে পেছনে তাকিয়ে বললো...

"মানে?"

"সকালে অভ্রাকে দেখেছি আমি।রাতে যেমন সাজিয়েছিলো,ঠিক তেমনই রয়েছে সাজ।কিচ্ছু পরিবর্তন হয়নি।"

প্রচ্ছদ ভাবলো কিছু একটা,জিজ্ঞেস করলো....

"উষ্ণ ভাই সত্যিই কিছু..."

পরক্ষনেই চকিত হয়ে বললো....

"ও কি অভ্রাকে ইগ্নোর করছে??"

প্রীতিও একটু চিন্তিত হয়ে বললো...

"বুঝতে পারছি না,উষ্ণ তো এমন ছেলে নাহ?"

প্রচ্ছদ হঠাৎই ক্ষিপ্ত হয়ে বললো...

"এমনটা হলে আমি কিন্তু উষ্ণকে ছেড়ে দেবো না।ওর কোনো অধিকার নেই আমার অভ্রাকে কষ্ট দেওয়ার।আমার অভ্রাকে ও যদি ঠকায় তাহলে মেয়েটা এবার পুরোপুরি ভেঙে যাবে।"

প্রীতি প্রচ্ছদকে শান্ত করার জন্য বললো...

"এখন এসব থাক।অন্য কোনো কারনও হতে পারে।একটু সময় দে ওদের।কিছু বলিস না এখন কাউকে।শান্ত হ তুই।"

প্রচ্ছদ কিছু বললো না।নিচের দিকে তাকিয়ে আপন মনেই চলে গেলো সেখান থেকে।সে যেতেই দরজার আড়াল থেকে ক্রুর হাসলো প্রীথুলা।

-----

দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষে ফ্রেশ হওয়ার উদ্দেশ্যে রুমের দিকে যাবে তখনই অভ্রার সামনে এসে দাড়ালো প্রীথুলা।অভ্রা তাকে উপেক্ষা করে যেতে নিলেই প্রীথুলা বলে উঠলো...

"শুনলাম তোমার বর নাকি কাল রাতে তোমায় কাছেই ডাকে নি।ইশশ।"

থেমে গেলো অভ্রা।পেছনে ঘুরে এসে সরাসরি দাড়ালো প্রীথুলার।বোঝার চেষ্টা করলো মেয়েটা তাকে ঠিক কোন সুরে কথাটা বলতে চাইছে।প্রীথুলা হেসে আবার বলে উঠলো...

"কি?কথা কি সত্যি?? আহারে,বেচারি।কষ্ট হচ্ছে না তোমার?"

অভ্রা আলতো হাসলো।এরপর বললো....

"কিছু হয়নি সেটা তুমি কি করে জানলে বলোতো??ক্যামেরা লাগিয়েছিলে বুঝি?দেবরের ফুলসজ্জার মজা নেওয়ার মতো বৌদি যে তুমি,জানতাম না তো আগে।"

প্রীথুলাও বাঁকা হেসে বললো...

"সে যেভাবেই হোক জেনেছি।তোমার জন্য খুব খারাপ লাগছে গো অভ্রা,,ইশশ ফুলসজ্জা তো হলোই না,তারপর আবার সকাল সকাল উষ্ণদাদা কোথায় যেন চলে গেলো,এখনো এলো না,নতুন বউ, কোথায় লেগে লেগে থাকবে,তা নাহ।।জানো?বিয়ের প্রথম কদিন তো আমার বর আমার পিছুই ছাড়তে চাইতো না।"

প্রচ্ছদ যেন সময়েই এসে উপস্থিত হলো সেখানে।প্রীথুলার কথা শুনেই এগিয়ে গিয়ে হালকা ধমকের সুরে বললো...

"এসব কি পিতু? ওকে তুমি এসব কেন বলছো?চলো এখান থেকে।"

প্রীথুলা সাথে সাথেই প্রচ্ছদকে বললো...

"তুমি চুপ থাকো তো।"

প্রচ্ছদ আবারো প্রীথুলাকে যেতে বললো,কিন্তু প্রীথুলা নারাজ।তখন অভ্রা হাত উঁচিয়ে বললো...

"ওকে বলতে দিন দাভাই।মনে হচ্ছে দেবর ভাবির সম্পর্কটা তাজা করতে চাইছে।তো কি বলছিলে যেন তুমি?"

প্রীথুলাও আগের মতোই টেনে টেনে বললো...

"বলছিলাম আর কি,,বুঝো এবার,মেয়েদের সৌন্দর্য সত্যিই অনেক কিছু। ওসব ভালোবাসার কথা তো রাস্তার ধারে পারওয়া যায়।উষ্ণও তাই।ভাবো তো,তুমি যদি সুন্দর হতে,তাহলে উষ্ণ কি তোমাকে কাছে ডাকতো না ফুলসজ্জার রাতে,আর না এভাবে সকাল সকাল চলে যেতো তোমায় ছেড়ে।"

অভ্রা দুহাত ভাজ করে দাঁড়িয়ে হালকা হাসলো।আড়চোখে একবার প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে আবার প্রীথুলাতে দৃষ্টি দিয়ে বললো....

"তুমি হয়তো জানো না,উষ্ণায়নের অফিস থেকে কল এসেছিলো,জরুরি কাজে।তাই গিয়েছে ও,আর যাওয়ার আগে আমাকে গুডবাই কিসিও দিয়ে গেছে।।আর রইলো কি সৌন্দর্য, ফুলসজ্জা? হুমমম।।তো কাল রাতের কথা বলতে গেলে,আমরা রাতে বারান্দায় দুজন মিলে গল্প করেছি সারারাত।উষ্ণায়ন তো আমার দিক থেকে চোখই সরায়নি কাল।নিষ্পলক তাকিয়েই ছিলো শুধু।আমরা একে অপরের জন্য গান গেয়েছি।মুহুর্তটাকে অনুভব করেছি।সময় দিয়েছি একে অপরকে,মানসিক শান্তি যাকে বলে।অন্যসব তো ধীরে ধীরে হবেই।

অবশ্য, এসব কথা তো তোমায় বলে লাভ নেই।বিয়ের পর ফুলসজ্জার রাতের দারুন ফিলটা আদেও তুমি নিতে পেরেছো কিনা সন্দেহ। যতটুকু জানি,তোমাদের তো বিয়ের দু বছর আগেই শারীরিক সম্পর্কের অনেক উন্নতি হয়ে গেছে।তাই না?"

অভ্রার হাসি মুখে বোমা ফাটানোর মতো কথাটা শুনে প্রচ্ছদ চমকে তাকালো তার দিকে।অভ্রা এববার তার দিকে তাকিয়ে আবার প্রীথুলাকে বললো...

"তুমি যা ভাবছো তা একদম না গো,,আমার বর আর আমার সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হচ্ছে।আর সেসব আমি ঢোল পিটিয়ে সবাইকে জানাতে ইচ্ছুক নই।তুমি বরণ এক কাজ করো,,এভাবে নিজের দেবর আর জা এর পার্সোনাল সম্পর্ক নিয়ে ঘাটাঘাটি না করে নিজেকে ছ্যাচড়ার পরিচয় দেওয়াটা বন্ধ করো।লোকে শুনলে তো মুখের উপর থু থু মারবে যে।,,মাথায় রাখো কথাটা,দেখবে জীবনে উন্নতি হবে কিছুটা তোমার।"

আর একটি বাক্যও ব্যয় না করে হাসতে হাসতেই রুমের ভেতর চলে গেলো অভ্রা।এদিকে রাগে ফুলতে ফুলতে প্রীথুলা বলে উঠলো ....

"এতো সাহস ওর।আমাকে সরাসরি ছ্যাচড়া বলে গেলো..."

তার কথা শুনে প্রচ্ছদ স্থান ত্যাগ করতে করতে বিরক্ত হয়ে বললো...

"তুমি শুধু ছ্যাচড়া নও।বরং সর্বোচ্চ মাত্রার ছ্যাচড়া।ইতর প্রানীর থেকে অধম তুমি।বুদ্ধিহীন, জ্ঞানহীন প্রানী।"

তুমি কোন কাননের ফুল গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক রোমান্টিক গল্প