স্যারদের নিয়ে অভ্রা আর উষ্ণ গাড়ির কাছে এলো।জানালো পথ যেহেতু একই দিকে,তাই স্যারদের আর কষ্ট করে সি এন জি ধরতে হবে না আজ।একসাথে চলুক।অভ্রা পরিচয় করিয়ে দিলো সবার সাথে স্যারদের। নিজে ড্রাইভিং সীটে বসলো।উষ্ণ পেছনে গিয়ে নোয়াব স্যারকে সামনের ফ্রন্ট সীটে বসতে বললো।রিদান স্যার নিজেই বললো...
"আমি পেছনে উঠছি।"
তাকে উঠতে দেখে প্রচ্ছদ নিজের পাশে জায়গা করে দিলো।লোকটার দৃষ্টি নির্মল,ঘুরে ফিরে বারবার যেন সামনে থাকা অভ্রাতেই আটকাচ্ছে।লুকিং গ্লাসের থেকে চোখই সরে না।
সোয়াব স্যারের সাথে সারাটা পথ কথা বললো অভ্রা।স্যারও খুব খুশি,অভ্রার উন্নতি দেখে।বাচ্চা মেয়েটা আজ সফল,মনের দিকের খবর নয়,,বরং আয়ের দিক থেকে।একসাথে কত কি,ফ্রিল্যান্সিং, ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট চলমান পড়ালেখা তো আছেই।অভ্রা জিজ্ঞেস করলো...
"আপনাদের বাইক ছিলো না স্যার?"
স্যার উত্তর দিলো..
"আমার বাইক গতকাল সার্ভিসিং এ দিয়েছি।আর রিদান স্যারের তো এক্সিডেন্টের পর থেকে বাইক চালানো বারণ।"
লুকিং গ্লাসে একবার রিদান স্যারের দিকে দৃষ্টি দিলো অভ্রা।তার এক্সিডেন্টের কথাটা অনেক আগেই শুনেছে অভ্রা।পা এখন মোটামুটি ঠিক থাকলেও বাইক আর কখনোই চালাতে পারবেন না তিনি।পুরোনো কিছু কথা মাথায় আসতেই নিঃশ্বাস ফেলে ড্রাইভিংয়ে মনোযোগ দিলো অভ্রা।
বিকেল পাড় হয়ে সন্ধ্যা নামছে প্রায় প্রকৃতির বুকে।সবে অভ্রারা এসে পৌছালো বৈশাখী মেলায়।আগে থেকেই প্ল্যান ছিলো এই সময় আসবে।মেলায় এতো ভীড়ের মাঝে সবাই মিলে একসাথে ঘোরাঘুরিটা বেশ কঠিনই বলা যায়।তাই যে যার মতো দোকানে ঢুকলো।নোয়াব স্যার উষ্ণের সাথেই কথা বলতে বলতে এগিয়ে গেলো একদিকে।প্রচ্ছদ রিদানের দিকে তাকিয়ে বললো...
"চলুন স্যার, একটু ঐ দিকটায় হেটে আসি।"
রিদানও হালকা হেসে রাজি হলো,দুজন মিলে ধীরে ধীরে হাটা ধরলো একটু নিরিবিলির দিকে।
"আপনি কে হন অভ্রার?"
রিদানের প্রশ্নে তার দিকে তাকিয়ে হাসলো প্রচ্ছদ।বললো...
"সত্যটা শুনতে চান?"
"হ্যা,সত্যি শুনবো বলেই তো প্রশ্ন করা।"
"এমনি সবার চোখে আমি অভ্রার হবু বরের মাসতুতো ভাই।মানে ভ্ ভাসুরঠাকুর।আর যদি আত্মিক সম্পর্কের কথা বলেন,তাহলে আমি অভ্রার এমন একজন হই,যার সান্নিধ্য পেলে পৃথিবীর সকল দুঃখ ঘুচে যায় এক নিমেষেই।"
রিদান বিদ্যান লোক,প্রচ্ছদের ঘুরিয়ে বলা কথাটাও এক নিমেষেই বুঝে নিলো।নিদারুন যন্ত্রণার এক হাসি দিলো ঝিলের দিকে তাকিয়ে।প্রচ্ছদ দেখলো সেই হাসি।বুঝলোও হাসির কারন।বললো...
"আমি আপনার কথা শুনেছি অভ্রার থেকে দু বছর আগে।ঐ,কথার ছলে বলেছিলো।"
রিদান তাকালো প্রচ্ছদের দিকে, বললো...
"আপনি বেশ ভাগ্যবান,অভ্রা আপনাকে ভালোবেসেছে।আমি পাইনি তাকে।"
"অভ্রার বয়স কত জানেন?"
"হুহ,,তিনবছর আগে ষোলো ছিল।"
"আপনি ষোলো বছরের সদ্য কিশোরীর প্রেমে পড়েছিলেন।সেই কিশোরী আরেকটু বড় হয়ে আমায় ভালোবাসলো।নতুন নতুন কলেজে পা রেখেছিলো তখন সে।কত ছেলে ওর প্রেমে পড়েছে,হিসেব নেই।আমি নিজেই দেখতাম অভ্রা কি সুন্দর ভাবে তাদের ফিরিয়ে দিতো।তখন ভেবে পেতাম না আমি,কি দেখে ঐ কালো,চিকনা মেয়েটার প্রেমে পড়তো সবাই।এখন বুঝি,ওর সরলতা,ওর মুখের মায়া হাসি যে দেখেছে, সেই গলেছে,আমি পাথরের থেকেও কঠিন ছিলাম,তাই হয়তো ওর মুখের আদলে লুকিয়ে থাকা মায়াটা বুঝতে পারিনি।ও সবার সামনে শান্ত মেয়ে, আমার সামনে আসলেই ভেতরের সব কথা উগলে দিতো।ভেবে পাইনি,মেয়েটা আমায় নিজের সবচেয়ে আপন ভেবেই কথাগুলো বলতো।আর আমি? হাহহ!!"
"আপনিও হারিয়ে ফেললেন তাহলে?"
রিদানের প্রশ্নে সরাসরি তাকালো প্রচ্ছদ।বললো...
"অভ্রার ভাষ্য মতে সে একটু হলেও আপনার প্রতি দূর্বল ছিলো।তবে আপনি তারাহুরো করে ভুল করেছেন,সেই ভুলের কারনে আপনার প্রতি অভ্রার দূর্বলতা কেটে গিয়েছে।"
"অভ্রা স্টাডিতে যথেষ্ট ভালো ছিলো স্কুলে।আমি বরাবরই সুন্দর চেহারার খোঁজে থাকতাম।পছন্দ করতাম ওর একটা বান্ধবীকে।জানতাম পরিনতি কিছুই নেই, তবুও টাইমপাসই বলা চলে।তবে চলতে চলতে কখন যে ঐ কালো মেয়েটার প্রতিই ভালোবাসা জন্মালো তা নিজেও বুঝতে পারিনি।জানালেই উত্তর দিলো,সে এখন এসব নিয়ে ভাবতে চায়না।আমি চিন্তা করতেও পারিনি এতো কম বয়সে কতটা ম্যাচিউরিটি বাস করে ঐ মেয়ের মাঝে।যেটা কেউই জানে না।রাগ হলো আমার,তাই ওকে পাওয়ার জন্য আমি...."
"ওকে পাওয়ার জন্য আপনি ওকে জোর করে শাসিয়ে বলেছিলেন সে রাজি না হলে আপনি তার সাথে ইন্টিমেন্ট হতেও দু বার ভাববেন না,তাই তো?"
"হুম।সেদিন আমার প্রতি অভ্রার ঘৃনাটা সৃষ্টি হয়েছে।এসএস সির আগে টেস্ট এক্সামে আমার সাবজেক্টে ইচ্ছে করে কম নম্বর দিয়েছিলাম,যেন ও বাধ্য হয় আমার কথা শুনতে।ভেবেছিলাম ফেল করিয়ে দেবো,কিন্তু মায়া হলো আমার ওর জন্য, আমি কি করে পারি ওর একটা বছর নষ্ট করতে।তাই টান টান পাস মার্কটাই দিয়েছিলাম।রেজাল্টের দিন ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চে বসে লুকিয়ে কি যে কান্না করেছিলো মেয়েটা,,অশ্রুসিক্ত নয়নে আমার দিকে তাকিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলো সে আমায় কখনো আপন করবে না।আর পাইনি ওকে।হাটা পথে এমনই দু একবার দেখা হয়েছে দূর থেকে,কিন্তু.... "
থামলো রিদান।বলার মতো ভাষা নেই তার।প্রচ্ছদ পকেটে হাত গুঁজে বললো....
"সাড়ে তিন বছর আগে আপনার একটা ভুলের জন্য আমি পেলাম অভ্রাকে।আর দু বছর আগে আমার ভুলের জন্য উষ্ণ পেলো অভ্রাকে।ভালোবাসাটা সবার দিক থেকেই টিকে রইলো।কিন্তু পূর্ণতার খাতায় শুধু উষ্ণের নাম।আমাকে পাওয়ার জন্য অভ্রা যতজনকে ফিরিয়ে দিয়েছে,তাদের অভিশাপেই হয়তো আমাকে আর পাওয়া হলো না তার।"
"সালাম স্যার.."
পেছন থেকে একটা ছেলের কন্ঠ শুনে তাকালো প্রচ্ছদ ও রিদান।টুটুলের হাসি মাখা মুখটা দেখে রিদানও উত্তর দিলো সালামের।এই ছেলেটাকে চেনে রিদান।এক বছরের জন্য ছাত্র হিসেবে পেয়েছিলো।টুকটাক কথা হলো তাদের মধ্যে।কিছুক্ষণ পর নীরবতা ছড়িয়ে গেলো তিনজনার মাঝেই।
তিনটা প্রাণই যেন একই নদীর মাঝি।এই তিনটা প্রানই ভালোবেসেছিলো একটি মাত্র নারীকে।কারোর ভালোবাসা দু বছরের,কারো ভালোবাসা সাড়ে তিন বছরের।টুটুলের কথা বলতে গেলে, একসাথে পথ চলতে চলতে কখন যে ভালোলাগাটা ভালোবাসায় পরিনত হলো তা তার নিজেরও জানা নেই।আহ,ভাগ্যের কি নির্মম খেলা।এই তিনজনকেই হারিয়ে কাঙ্খিত নারী পেয়ে গেলো দু দিনের উষ্ণ।
অভ্রাকে চোখে পড়তেই টুটুল "আমি একটু আসছি" বলেই দৌড়ে গেলো।প্রচ্ছদ তাকিয়ে দেখলো তাকে।রিদান কে উদ্দেশ্য করে বললো...
"ওকেও উষ্ণ হারিয়ে ছাড়লো।শা** ধর্ম ওকে পেতে দিলো না অভ্রাকে।"
"আপনার কষ্ট হচ্ছে না?"
"কেন?"
"এই যে অভ্রাকে আর তার হবু বরকে একসাথে দেখেন সারাদিন?আমার তো এই কিছুক্ষণেই যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে।"
হঠাৎই হো হো করে হেসে উঠলো প্রচ্ছদ।একটু পর হাসি থামিয়ে জিজ্ঞেস করলো...
"বিয়ে করেন নি?"
"উহুম।অপেক্ষায় ছিলাম তার।কিন্তু এবার ভাবছি বিয়েটা করতে হবে।অন্তত তাকে ভুলে থাকার জন্য হলেও।"
"মন থেকে সরাতে পারবেন?"
প্রশ্নটার উত্তর দিতে পারলো না রিদান।কিছুক্ষণ থেমে প্রচ্ছদকে জিজ্ঞেস করলো...
"আপনি বিয়ে করেন নি?বললেন তো উষ্ণায়ন আপনার ছোট? "
"হাহ, বিয়ে আমি সেই দু বছর আগেই করেছি।তবে আজকাল বউয়ের থেকে অভ্রাই বেশি মনে থাকে।সরাতেই পারি না।ভাবছি এবার বউ সরাবো।অন্তত সারাটাক্ষন নিজের মতো অভ্রাকে নিয়ে ভাবতে পারবো।আমার অভ্রা।কতটাই না ভালোবাসতো আমায়।আহ"
অল্প দূরত্বে সামনের একটা চুড়ির দোকানে দেখা গেলো উষ্ণকে।হাতে একটা গোল ঝুড়ি নিয়ে বেছে বেছে মুঠোয় মুঠোয় চুড়ি তুলে নিচ্ছে সেথায়।হাসলো প্রচ্ছদ।আপন মনেই রিদানকে বললো...
"আমার উষ্ণ ভাই সত্যিই অভ্রার মতো করেই ওকে ভালোবাসে। এটা হয়তো আমি পারতাম না।"
"অভ্রা সুখী হোক,যেটা যার সাথেই হোক।জনমটা আমার ঐ এক কন্যার আক্ষেপেই কেটে যাবে।"
--------
অভ্রার সামনে দৌড়ে গিয়ে হাসি মুখে দাঁড়ালো টুটুল।অভ্রা তাকে দেখে খুশি হয়ে বললো...
",কিরে তুই?কখন এলি??আমায় বলবি না আগে?"
"আরে মেলায় এসেই তো দেখলাম তোদের।এখন চোখ বন্ধ করতো একটু।"
অভ্রা ভ্রু কুঁচকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই উষ্ণ এসে দাড়ালো তার পাশে।টুটুলের দিকে তাকিয়ে হেসে বললো...
"আরেহ টুটুল ভাইয়া।তুমি এখানে?আগে বললে তো একসাথেই আসতাম।"
উষ্ণকে দেখেই টুটুল হাতের পেছনে কিছু একটা লুকিয়ে ফেললো। একটু অপ্রস্তুতও হলো বটে।
ভ্রু কুঁচকে এলো উষ্ণের সরাসরিই টুটুলকে প্রশ্ন করলো....
"কি লুকাচ্ছো টুটুল ভাইয়া??"
টুটুল বলতে চাইলো না।আমতা আমতা করে বলতে নিলো...
"নাহ,,তেমন কিছু নাহ।ঐ এমনি...."
"আমার ব্যক্তিগত ফুলকে ফুল পড়ানোর এতো ইচ্ছে? "
ধরা পড়ে গেলো টুটুল।মুখটা ছোট করে লুকিয়ে রাখা বেলি ফুলের গাজরাটা বের করলো সামনে।
"অভ্রার জন্য এনেছো?"
টুটুল উত্তর দিলো না।কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না সে।উষ্ণ কি তাকে খারাপ ভাবছে?তার জন্য অভ্রার সাথে কোনো রাগারাগি হবে না তো?
নীরবতাকেই সম্মতির লক্ষণ হিসেবে ধরে নিলো উষ্ণ। নিজ হাতে অভ্রার হাতটা এগিয়ে তুলে বললো....
"এনেছো যখন,নিজ হাতেই পড়িয়ে দাও?"
টুটুল স্তব্ধ হয়ে তাকালো উষ্ণের দিকে।তা দেখেই উষ্ণ হেসে বললো...
"কি হলো?পড়াবে না?"
"ভাইয়া,আপনিই..."
"হ্যা,আমিই বলছি।কারন তোমার নিয়তে কোনো খারাপ নেই।ভালো তো বাসতেই পারো,ও হয়তো তোমার নয় হবে,তাই বলে তোমার ভালোবাসাটা তো ভুল নয়?"
টুটুল মুখ ফিরিয়ে তাকালো অভ্রার দিকে।মেয়েটাও কিছুটা অবাক,কেমন তাকিয়ে আছে উষ্ণের দিকে। উষ্ণ এবার ফিক করে হেসে আবার বললো...
"পরিয়ে দাও??"
স্তম্ভিত ফিরলো টুটুলের।চোখের কোনে পানি নিয়েও মুখে একরাশ হাসি ফুটিয়ে তুললো,,,নিজ হাতে বেলির গাজরাটা পড়িয়ে দিলো অভ্রার হাতে।ভেজা গলায় বললো....
"আমি আজ নিশ্চিন্ত তোকে নিয়া বহুরানী।তোরে আমি আমার কইরা চাইছিলাম।আমাগো গল্পে কিন্তু কোনো তৃতীয় ব্যক্তি ছিলো না।কিন্তু দেখ,তবুও আমি তোরে পাইলাম না।আজকাইল বহুত কষ্ট হয়,কেন যে তুই হিন্দু হইয়া জন্মাইলি,কেন যে আমরা একই ধর্মের হইলাম না।এক ধর্মই মোর ভালোবাসারে পূর্ণতা পাইতে দিলো না।এত্তো নিষিদ্ধ ক্যান রে কাউরে ভালোবাসা?আমার জীবনের সব থেইকা বড় ভুল কি জানিস?তোরে আমি পাবো না জাইনাও সেই প্রথম থেইকা ভালোবাইসা গেছি।"
উষ্ণ গিয়ে টুটুলের কাঁধে হাত দিয়ে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করলো।তার দিকে একবার তাকিয়ে টুটুল নিজের শার্টের হাতায় চোখ মুখ মুছে আবার বললো...
"জানস বহুরানী,আম্মারে এহন আমি বহুত কষ্ট দিতাছি।আমার আম্মাটায় আমার প্রতিটা দিনের কান্দন দেখবার পারে না।আম্মা সহ্য করতে না পাইরা এডাও কইছে, যে তোরে বিয়া কইরা নিয়া আসি,,সমাজ,লোকজন আম্মা দেখবে।দুই একডা কটু কথা হুনবার তো হইবোই,তবুও আম্মা আমার ভালা ডা চায়।কিন্তু আমি তো সেটাও পারুম না রে,আমি কার মতন কইরা সব দিক দিয়া ঠইকা গেলাম।তোরে এখন আর আগের মতো রোজ দেহি না আমি।কি যে কষ্ট হয় আমার।কামে মন বহে না, খাওন খাইতে পারি না।চোখ দুইডা জ্বইলা যায় আমার একটা বার তোরে দেহনের লাইগা।"
অভ্রা নিশ্চুপ,ছলছল চোখে দেখছে এই ছেলেটাকে।এক অভ্রাকে ভালোবেসে কখনো অন্য মেয়ের দিকে তাকাতোও না সে তেমন।অভ্রা কত বলতো তাকে,আমি তোর হবো না,কাউকে তো খোঁজ এবার নিজের জন্য,, কথার পরিপ্রেক্ষিতে ছেলেটা কি মিষ্টি হেসে বলতো,তুই ভালোবাসিস না তো কি হইছে?আমি তো ভালোবাসি,তোরে না পাইলেও আমি তো আমার ভালোবাসার লগে বেইমানি করবার পারি না।যতদিন তোরে ভালোবাসমু মন থেইকা,ততদিন অন্য কোনো মাইয়ারেই আমার ভালো লাগবো না।'
উষ্ণ মিহি হেসে বললো....
"ভালোবাসা জিনিসটা কলঙ্ক, বুঝলে তো ভাইয়া,,পাইলাম পাইলাম কইরাও যেটা পাইবা না,সেটা তোমার অন্তরে চিরদিন আটকে থাকবে।হুহ,,আর আমার গর্ব হয় আমার ফুলকে নিয়ে,পৃথিবীর সকল পুরুষও যদি তাকে ভালোবাসে,তাতেও আমার কোনো কষ্ট নেই।ভালোবাসা তো আর বলে কয়ে আসে না।আমি কখনোই তোমাকে অভ্রার সামনে আসতে মানা করবো না।চোখের দেখায় সুখ মেলে,তা তোমারও প্রয়োজন।তুমি প্রাণ ভরে দেখো আমার ফুলকে। আমার মানা নেই।"
ইশশ,ঐ একটা কলঙ্কিত শব্দ কতগুলো মানুষকে ছিন্ন করে দিলো। কেউ পেতে গিয়েও পেলো না,কেউ পেয়েও হারিয়ে ফেললো,কেউ আবার পাবে না যেনেও ভালোবেসে গেছে। আর সর্বশেষ কেউ একজন কোনো পরিশ্রম ছাড়াই জয়ের পুরষ্কার হিসেবে জিতে নিলো ভালোবাসা।বিধাতা কত রকমের খেলা খেলে,তা মানবের ধারনার বাইরে।তবুও সবাই নিজ নিজ মতো করে চায়,ভালোবাসাটা ভালো থাকুক।
ভালোবেসে কে ভালো আছে কে খারাপ আছে সেটা বিষয় নয়,বিষয় হলো ভালোবাসাটাই ভালো থাকুক।ভালো থাকুক ভালোবাসাটাকে আগলে রাখা ভালোবাসার মানুষটি,ভালো থাকুক ভবিষ্যতের দিনগুলি,যেই দিনগুলি হবে ভালোবাসার রঙিন স্বপ্নের দিন।একসাথে হাতে হাত রেখে চলুক তারা,একসাথে রাতের তারায় ভরা আকাশ দেখুক,কখনো বা একসাথেই ঝুম বৃষ্টিতে ভিজুক তারা,কখনো আবার খুনসুটিতে ভরা মাতাল হাসি হাসুক, স্নিগ্ধ এক নাম না জানা বিকেল সন্ধ্যার বর্ণিল সময় একে অপরের বুকে মাথা রেখে সুরেলা কন্ঠে বলুক সেই কলঙ্কিত শব্দটাই। "ভালোবাসি"
এতো এতো ভালো থাকার মাঝে অপাক্ষিক ভালোবাসতে থাকা মানুষগুলোর খোঁজ না হয় খুব নগন্য হয়েই থাকুক।এতো এতো ভালো থাকার মাঝে কয়েকটি প্রাণ না হয় দুরন্ত কষ্ট নিয়েই বেচে থাকুক পৃথিবীর বুকে।তারা না থাকলে যে ভালো থাকাটার মূল্যই হতো শূন্য।