তুমি কোন কাননের ফুল

পর্ব - ১৮

🟢

ছাঁদের চারদিক থেকে বয়ে আসা মৃদু বাতাস যেন হীম ধরিয়ে দিচ্ছিলো অভ্রার গায়ে।চক্ষু গহ্বর দুটি এই এতোদিনে টইটুম্বুর হয়ে এলো পানিতে। এই বুঝি কপোলে গড়িয়ে পড়বে।

কিন্তু এটা কিসের কান্না অভ্রার,,প্রচ্ছদের প্রতি ঘৃনা নাকি উষ্ণকে হারানোর ভয়?

উষ্ণ একপা দু পা করে সামনে এসে দাড়ালো অভ্রার।চোখে চোখ রেখে তাকালো।অভ্রার গলা কাপছে,ভীষন ভাবে চাইছে উষ্ণকে সবটা না হোক কিছু অনন্ত বলতে।হাত উঠিয়ে মাত্রই দুটো শব্দ উচ্চারন করতে যাবে অভ্রা,তার আগেই উষ্ণ গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো....

"সবটা শুনেছো হয়তো তুমি।আমি তোমাকে জোর করবো না কিছুর জন্যই।তোমার জীবন,তোমার ইচ্ছে। তাই সীদ্ধান্তটাও তোমার।তুমি চাইলে প্রচ্ছদের করা আবদার রাখতে পারো,আমি তোমায় বাঁধা দেবো না।"

আর একটা মুহুর্তও থামলো না উষ্ণ। অভ্রাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো,,। অভ্রা ঘনঘন মাথা নাড়িয়ে উষ্ণকে আটকাতে চাইলো,কিন্তু কি আশ্চর্য, গলা দিয়ে একটি শব্দও বের হলো না তার।

ছলছল দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো প্রচ্ছদে।আজ অভ্রার এই দৃষ্টি যেন প্রচ্ছদ খুব সহজেই পড়তে পারলো।এই যে,এখন অভ্রার চোখ দুটি কোনো বাক্যব্যয় ছাড়াই প্রচ্ছদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ছে,,"আপনি আমার এতো বড় ক্ষতি কি করে করলেন প্রচ্ছদ দাভাই?"

বুকটা দুমড়ে মুছড়ে যাচ্ছে যেন প্রচ্ছদের। সে কি সত্যিই অভ্রাকে পেতে গিয়ে ক্ষতি করে ফেললো?কি করবে বুঝতে পারছে না প্রচ্ছদ। একটু এগিয়ে অভ্রাকে বলতে নিলো...

"অভ্রা গো,আমার কথাটা..."

অভ্রা দৃষ্টি সরিয়ে ফেললো।বুকের ছাতি ফুলিয়ে ঘন করে শ্বাস ছাড়লো,যেন কত জনমের দম আটকে ছিলো তার মাঝে।প্রচ্ছদের ভয় হলো,তড়িৎ জিজ্ঞেস করলো..

"তোমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে অভ্রা..?''

কিন্তু উত্তরখানা আর পাওয়া হলো না তার।তার আগেই অভ্রা শাড়ির কুঁচি উচিয়ে ধরে ছুটে গেলো নিচে।প্রচ্ছদের কানে এসে লাগলো অভ্রার পায়ের সেই নুপুর জোড়ার ঝুমঝুম আওয়াজ,।কি মিষ্টি, কি মধুর শব্দ তা,কিন্তু এটাও যে উষ্ণের?

প্রচ্ছদও ছুটে চললো নিচে।সিঁড়ি বেয়ে নামতেই চোখে পড়লো ড্রয়িংরুমের সাথে লাগোয়া বেসিনটাতে অভ্রা গলগলিয়ে বমি করছে।ব্যতিব্যস্ত হয়ে প্রচ্ছদ তাকে ডাকতে ডাকতেই ছুটে এলো।প্রনতিরাও 'কি হলো,কি হলো করে রান্নাঘর থেকে ছুটে আসতে নিলো।

বেসিনের পানি দিয়ে মুখে ঝামরা মারলো অভ্রা।মাথাখানা তার বেশ ভারি হয়ে আছে।নিজেই কেমন যেন টলছে,সব ঘুরছে তার চারপাশে,তবুও নিজের এলোমেলো দৃষ্টি খুঁজে চললো উষ্ণকে।কিন্তু উষ্ণ নেই,,অভ্রার ঘুরতে তাকা দুনিয়ার কোথাও উষ্ণের চিহ্ন নেই।

চক্কর দিয়ে পড়ে যেতে নিলেই প্রচ্ছদ আগলে ধরলো অভ্রাকে।ব্যস এতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো সোফায় বসে থাকা প্রীথুলা।হম্বিতম্বি করে চেচিয়ে উঠলো...

" প্রচ্ছদ,তুমি এই মেয়েকে ধরেছো কেন,,,ছাড়ো বলছি ওকে।।এক্ষুনি ছাড়ো।"

প্রচ্ছদ উপস্থিত বুঝতে পারলো না তার কি করা উচিৎ।একবার প্রীথুলার দিকে, তো আরেক বার অভ্রা দিকে তাকালো সে।

আত্মসম্মান কঠোর অভ্রার।প্রীথুলার কথা কানে যেতেই নিজের গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে সরে দাঁড়ালো প্রচ্ছদের থেকে।কিন্তু সে যে শরীরের ভারসাম্য আর ধরে রাখতে পারছে না,,ঘোলা চোখে সামনে প্রনতিকে দেখতেই হালকা হাত বাড়িয়ে ডাকলো..

"মা??"

বলতে বলতেই হেলে পড়লো পেছনে।সবাই হুমড়ি কেয়ে এসে কোনো মতে ধরলো তাকে।নয়নার কোনো মতে অভ্রাকে নিচে পড়া থেকে বাঁচালো। প্রচ্ছদ আবারো তাকে ধরতে নিলেই প্রভাতি কড়া চোখে আঙ্গুল উঁচিয়ে বাঁধা দিলো ছেলেকে...

"ধরবি না তুই ওকে।যা গিয়ে বউয়ের আচলে লুকিয়ে থাক।"

সবাই মিলে অভ্রাকে সোফায় শুইয়ে দিলো।উর্মি ভীত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো..

"হঠাৎ কি হলো ওর,,,দাভাইকে কল করবো??"

রজনীর বর মানা করে বললো...

"এখন লাগবে না।আগে বুঝতে দাও কি হয়েছে।পানি আনো একটু।চোখ মুখে ছিটিয়ে দাও ওর।"

বেশ কিছুক্ষন পর জ্ঞান ফিরলো অভ্রার।নিজের চার পাশে সবাইকে দেখলো সে।কিন্তু উষ্ণ তো নেই।কোথায় ও??উঠে বসে প্রশ্ন করলো...

"উষ্ণায়ন কোথায়?"

উত্তর এলো উষ্ণ নাকি কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে,অফিস থেকে নাকি কল এসেছিলো।কিন্তু সে তো অভ্রাকে কিচ্ছু বলে যায়নি।তাহলে কি কুমিল্লা যাওয়াটা তার একটা অযুহাত মাত্র?অভ্রার থেকে দুরে থাকার জন্যই বুঝি উষ্ণের এমন প্রচেষ্টা?

অভ্রা নির্জীব হয়ে গেলো।সকলে কত প্রশ্ন করলো,কেন হয়েছে এমন,হঠাৎ কেন অসুস্থ হয়ে গেলো সে।কিন্তু অভ্রা উত্তর দিতে পারলো না কিছুরই।মাঝে শুধু একটিবারের মতো এক পলক তাকালো দুরে দাড়িয়ে থাকা প্রচ্ছদের দিকে।হীনমন্যতায় ভুগতে ভুগতে যে অভ্রার সামনে আসাটাই ভুলে গিয়েছিলো।শুধু দূর থেকে চাইলো,রাধারাণীর নিকট প্রার্থনা করলো,,অভ্রাকে যেন সুস্থ করে দেয়।এইটুকুই।

অভ্রাকে তখন আর ঘরে যেতে দেওয়া হয়নি।সন্ধ্যা হয়েছে মাত্র। তবুও শরীর দূর্বল বলে প্রনতি জোর করে এই সময়ই ভাত মাখিয়ে খাইয়ে দিলো অভ্রাকে।তারপর বললো আর একানে তাকা লাগবে না,রুমে গিয়ে যেন বিশ্রাম নেয়।

রজনীদের সাহায্যে অভ্রা রুমে গেলো।রজনী দুবার করে বলে গেলো শাড়িটা পাল্টে যেন একটু ঘুমিয়ে নেয়।কিন্তু শরীরের ক্লান্ততা আর মনের বিষন্নতা অভ্রাকে এমন ভাবে গ্রাস করে নিয়েছে,যে শাড়ি পাল্টানোর কথা সে বেমালুম ভুলে বসেছে,,

এলোমেলো ভাবে গা এলিয়ে দিলো সে বিছানায়।চিন্তারা যেন আজ একটা জায়গাতেই এসে ঠেকলো,কিভাবে সে উষ্ণকে সত্যটা বুঝাবে?উষ্ণ যে তাকে আবার একা করে দেবে।অভ্রা যে তার দ্বিতীয় বিচ্ছেদ সইতে পারবে না।মরে যাবে তো সে,,কিন্তু অভ্রার যে আরো কটা দিন বেঁচে থাকার ইচ্ছে? পৃথিবীতে থেকে একটুকরো সুখ কুড়িয়ে নেওয়ার ইচ্ছে। তা যে আর হলো না,,বিধাতা যে তাকে আরো একবার ভেঙে দিলো।নিজেকেই নিজে যেন তাচ্ছিল্য করে বলে উঠলো সে..

"তোর আর বেঁচে থাকা হলো না রে অভ্রা,এই সুখের দুনিয়ায় তুই শুধু বিচ্ছেদের যন্ত্রণা নিয়েই কাটিয়ে দিলি।"

----

সেই রাতটা প্রীতুলা সঙ্গ পায়নি প্রচ্ছদের।অন্ধকার বারান্দায় নির্ঘুম রাত পাড় করছে প্রচ্ছদ।অন্তর শান্ত না থাকলে গুম যে ধরা দেবার নয় তার।সিগারেটের ধোঁয়া মুখ থেকে সরেনি তার।চিন্তারা ঘুরপাক খেয়েি যাচ্ছিলো মাথায় তার।এই মুহুর্তে দাড়িয়ে কি করার উচিৎ তা বুজে পেলো না প্রচ্ছদ।শুধু এটুকুই মাথায় আসলো,তাকে ভালো থাকতে হবে,তা যেকোনো মূল্যেই হোক।সমস্ত সত্বা অভ্রাতেই মিশেছে তার।বুঝে নিলো,এই অভ্রাকেই নিঃচিহ্ন করবে সে।এরপর ফুরফুরে শ্বাস ফেলবে পৃথিবীর বাতাসে সে।আর কেউ থাকবে না বুকটা এমন কুড়ে কুড়ে খাওয়ার মতো।আর কেউ থাকবে না প্রচ্ছদের অতীত নিয়ে ঘাটার মতো।আর কেউ থাকবে না উন্মাদ হয়ে ভালোবাসি ভালোবাসি বলার মতো।

ভোরে বারান্দায় পড়ে থাকা সিগারেটের ছাই দেখেই নিজের উপরই তাচ্ছিল্য হাসলো প্রচ্ছদ।আপন মনেই বলে উঠলো..

"বুঝলে অভ্রায়ীনি মজুমদার,,,এই সিগারেটের মতোই তোমাকেও ছেড়ে দেবো চিরতরে।"

______

সকালের কর্মনিয়মে ব্যস্ত সকলেই।আজ নেই শুধু অভ্রা।সকাল প্রায়,সাড়ে দশটা বাজতে চললো,অভ্রার আগে আর বেলি উর্মিরাও উঠে পড়লো,যেখানে প্রতিদিন তারা চোখ খুলেই বিছানায় অভ্রার জায়গাটা খালি দেখতো।

কিন্তু আজ যে অভ্রা উঠার নামই নিচ্ছে না।বিষয়টা প্রীতুলার চোখে পড়তেই সে বাড়ি শুদ্ধ সবার কানে পৌছানোর জন্য জোরালো কন্ঠে ব্যঙ্গ করে বললো....

"হুহ,,এই কয়েকদিন সবার মন জয় করতে সকাল সকাল উঠে কাজ দেখিয়েছে।এইতো, আসল রূপ তো আজ সামনে এলো মহারানীর।নির্লজ্জ মেয়ে একটা, কেমন পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে এখনো।"

কথাটা কানে যেতেই বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে ফেললো প্রচ্ছদ।প্রীথুলার সাথে অযথা তর্ক করার মতো ইচ্ছে তার কোনো কালেই নেই।পাগলের বকা বকছে,বকুক।

প্রভাতি দেবী প্রীথুলাকে থামানোর জন্য বললেন...

"অভ্রার নামে এতো যে বলছো,তুমি কয়টায় উঠো হুম?আর ও সবসময়ই ভোরে উঠে।আজ হয়তো শরীরটা দূর্বল লাগছে তাই উঠতে পারছে না।থাক,,একটু রেস্ট নিক।"

প্রীথুলা থেমে গেলো।চায়ের কাপে একটা চুমুক দিয়ে উষ্ণ বললো...

"ব্যপার কি,,ও তো ওমন মেয়ে না??"

প্রনতিও একটু চিন্তিত হয়ে বললো...

"জানি না রে উষ্ণ। আমিও একটু আগেই ডেকে এলাম।উত্তর করলো না তো মেয়েটা।"

প্রীতি একটা শ্বাস ফেলে বললো...

"তোমরা নাস্তা করো,,আমি গিয়ে দেখছি।"

উষ্ণও উঠতে উঠতে বললো...

"আমিও যাচ্ছি চলো।"

কৌতুহলী হয়ে রজনী আর উর্মিরাও এগোলো সেদিকে।

অভ্রা নজরে পড়লো সবার।বিছানায় কেমন কাথা মুরি দিয়ে কুঁজো হয়ে শুয়ে আছে মেয়েটা।উর্মি ঝুকে অভ্রার মুখের উপর থেকে আস্তে করে কাথাটা সরালো। উষ্ণের চোখে পড়লো অভ্রার ফ্যাকাশে মুখ,এলোমেলো চুল,কম্পমান ঠোঁট দুটি।কপাল ছুয়ে উর্মি বলে উঠলো..

"আরে ওর তো ভীষণ জ্বর।এতো জ্বর এলো কি করে?"

উষ্ণ ব্যতিব্যস্ত হয়ে উর্মিকে সরিয়ে বসলো অভ্রার পাশে।গালে হাকলা চাপড় দিতে দিতে ডাকলো কয়েকবার..

"ফুল??এই শ্যামা ফুল??শুনতে পাচ্ছো??আমি ডাকছি তো,,চোখ খোলো??"

অনেকক্ষণ পর একটু হুশে এলো যেন অভ্রা।এলিয়ে যাওয়া কন্ঠে কিছু একটা বলতে লাগলো সে।বোঝা যাচ্ছে না ঠিক।আরো ডাকার পর ধীরে ধীরে চোখ খুললো সে।ঘোলা চোখে উষ্ণের মুখ খানা ভেসে উঠতেই সর্বশক্তি দিয়ে উঠে বসলো সে।পাগলের মতো হুট করেই বলতে লাগলো...

"আ্ আপনি এসেছেন উষ্ণায়ন?,,এ্ এসেছেন?আ্ আপনি আমায় ভুল বুঝছেন তো,,আমার কথাটা বিশ্বাস করুন একবার,,,শুনুশ না??"

উষ্ণ বারবার চেষ্টা করছে অভ্রাকে থামানোর।কিন্তু অভ্রা ধীরে ধীরে ব্যকুল হয়ে উঠছে আরো যেন সে।পাগলের মতো উষ্ণের একটি হাত চেপে ধরে জরানো কন্ঠে বলতে লাগলো

"আমি সত্যি দাভাইয়ের সাথে কোনো ফিজিক্যাল করিনি উষ্ণায়ন,,বিশ্বাস করুন আমায়,,উনি মিথ্যা বলছে।।আ্ আমি সত্যি এমন কিছু করিনি,,,আ্ আমি শুধু,, আমি শুধু একবার উনার ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে...."

আর বলতে পারলো না অভ্রা।তার আগেই উষ্ণ চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো...

"অভ্রা আমি তোমায় থামতে বলেছি।চুপ করো তুমি..."

কেঁপে উঠলো অভ্রা,মুখের কথাও যেন আটকে গেলো তার।ভয় পেলো উপস্থিত বাকিরাও।অভ্রার কথাগুলো উর্মি,বেলি ওদের কানে না গেলেও শুনেছে প্রীতিবাসু। শুনেছে প্রচ্ছদও,কখন যে সে ধ্যান হারিয়ে উষ্ণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তা কারোরই খেয়াল নেই।এদিকে উষ্ণের চিৎকার শুনে প্রনতিরাও ছুটে এসেছে ঘরে।

অভ্রা ডুকরে কেঁদে উঠলো এবার। উষ্ণের হৃদয় তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। অভ্রার এমন বেখেয়ালি ভাব যে সহ্য হচ্ছে না তার।মেয়েটা এতোটা যন্ত্রণা কেন পাচ্ছে?

টান দিয়ে অভ্রাকে নিজের বুকে ঠেকালো উষ্ণ। মাথাটা আগলে ধরলো নিজের সাথে।অভ্রাও যেন একটু আস্তা খুঁজে পেলো।দুহাত দিয়ে উষ্ণকে জাপ্টে ধরে অঝোর ধারায় কান্না করতে লাগলো।কষ্টদের ধুলিস্মাৎ হওয়া প্রয়োজন,,কিন্তু,আদেও কি তা হচ্ছে?

উষ্ণ বাঁধা দিলো না অভ্রার কান্নায়।কঠোর মেয়েটা আজ কাঁদছে,। জানান দিচ্ছে নিজের ভেতরকার অনুভুতির।তবে উষ্ণ আগলে রাখলো অভ্রাকে।বেশ যত্ন করেই আগলে রাখলো।বেখেয়ালে অভ্রার শাড়ির ফাঁকে কোমনে হাত লাগতেই সরিয়ে নিলো তা উষ্ণ। আচল দিয়ে উন্মুক্ত অংশটা যত্ন করেই ঢেকে রাখলো।

বিষয়টা চোখে পড়লো প্রচ্ছদেরও।এই সামান্য কাজেও যেন উষ্ণ তাকে নীরবে একটা শিক্ষা দিয়ে দিলো।নিজ মন থেকেই অভ্রাকে জানালো..

"জানো অভ্রা।উষ্ণের জায়গায় এখন আমি থাকলে এখন ভুলেও হাতটা সরাতাম না,বরং আরো গভীরে প্রবেশ করে তোমার শরীরের স্বাদ নিতে চাইতাম।আমি সত্যিই একটা নারীদেহ লোভী,,চরম মানের দেহ লোভী আমি।"

কথাগুলো মুখ ফুটে আর কাউকে বলা হয়নি।নীরবে দেখে গেলো উষ্ণ অভ্রার প্রথম আলিঙ্গন মুহুর্তখানা। প্রীতি একটু পরই ঘৃণা নিয়ে অভ্রার দিকে তাকিয়ে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে।

তার কারন আর কেউ না জানুক,,প্রচ্ছদ ঠিকই জানে।

নীরবতার লেশ যেনো সরছেই না।উষ্ণ তাড়া দেখালো না অভ্রাকে উঠানোর জন্য। অভ্রার শরীরের তাপে উষ্ণের শরীরও যেন জ্বলে যাচ্ছে।সহ্য করে নিচ্ছে উষ্ণ তাও।কান্না থেমেছে অভ্রার, তবে থেকে থেকে হিচকি তুলছে এখনো।কিছুক্ষণ পর তার মুখটা নিজের বুক থেকে তুলতেই উষ্ণ দেখলো অভ্রা ঘুমিয়ে পরেছে।নীরবে ঘুমাচ্ছে মেয়েটা।

চিন্তার মাঝেও যেন এক চিলটে হাসি এসে ভর করলো উষ্ণের মুখে।মেয়েটা ঘুমের মাঝেও তাকে মুগ্ধ করতে ওস্তাদ। একহাত দিয়ে অভ্রার এলোমেলো চুলগুলো গুছিয়ে নিয়ে উর্মিকে বললো...

"চুলগুলো একটু বেঁধে দে তো ফুলের।"

উর্মি তাই করলো।উষ্ণ প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে বললো....

"এই দিকে ভালো ডাক্তার কে আছে জানিস?আমি তো তেমন চিনি না কাউকে।"

প্রচ্ছদ পকেট থেকে ফোন বের করে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো...

"আমি আসতে বলছি।"

----

সারাটাদিন কাটলো অভ্রার বিছানাতেই।মাঝখানে উঠে ফ্রেশ হয়ে শাড়ী চেঞ্জ করে আবার শুয়েছে।ডাক্তার এসেছে দুপুরের দিকে।ঔষধ দিয়েছে আপাতত।সন্ধ্যায় খাওয়ার পর একটা ঘুমের ইনজেকশন দিলো।

সময়টা রাত প্রায় ১১ টা।সবাই রাতের খাবারে ব্যস্ত।শুধু গভীর নিদ্রায় বিভোর রয়েছে অভ্রা।ঘুমের মাঝেই হঠাৎ মনে হলো কেউ তার গলাটা শক্ত করে চেপে ধরেছে।কেউ একজন গায়ের সমস্ত শক্তি খাটিয়ে যেন তার দম বন্ধ করার প্রয়াস চালাচ্ছে।শ্বাসকার্য বন্ধ হয়ে আসছে যেন দ্রুতই।আর সইতে পারছে না অভ্রা।দূর্বল হাতটা তুলে চেষ্টা করলো গলায় থাকা শক্ত হাতটা সরানোর,কিন্তু পারছে অভ্রা।কোনো ভাবেই পারছে না।ছটপট করছে, গলা দিয়ে শব্দ উচ্চারন করার চেষ্টা করছে কিছুতেই যেন হয়ে উঠছে না।

গভীর ঘুমের কারনে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেও চোখ খুলতে পারছে না সে।অতপর অতি কষ্টে চোখ দুটি একটু খুলতেই ঘোলা চোখের সামনে ভাসমান হলো এক মানব অবয়ব।আর একটু পরিষ্কার হতেই অভ্রা তার সামনে হিংস্রতায় ঘেরা মানবটিকে দেখলো,তাকে দেখেই অভ্রার চঞ্চল হৃদয় জমে গেলো।অবিশ্বাস্য দৃষ্টি স্থির হয়ে রইলো তার দিকে।মস্তিষ্ক, মন কোনোটাই মানতে চাইছে না,, সামনে থাকা মানবটিই তাকে মে*রে ফেলতে চায়।

তুমি কোন কাননের ফুল গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক রোমান্টিক গল্প