তুমি কোন কাননের ফুল

পর্ব - ১৩

🟢

স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় বাগান বিলাসীর রূপে মোহিত হওয়ার অনুভূতি উষ্ণের এই প্রথমবার।ঠোঁটের কোনে মিষ্টি হাসিটা সরার নামই নিচ্ছে না।বাড়িটার লম্বা বারান্দাটা প্রায় সকলেরই পছন্দ। এটা কোনো নির্দিষ্ট রুমে নয়,বরং উন্মুক্ত, সকলেই যখন তখন আসতে পারে।

"কী দেখছিস??"

বুঝলো প্রচ্ছদ চেঞ্জ করে নিয়েছি এতোক্ষণে।এসেও দাড়িয়ে তার পাশেই।তাই দৃষ্টি বাগানের দিকেই নিবন্ধ রেখেই উত্তর দিলো...

"অনেকগুলো ফুল।"

হাসলো প্রচ্ছদ,উষ্ণের কাঁধে চাপড় দিয়ে বাগানের দিকে তাকাতে তাকাতে বললো...

"ফুল আবার এতো মনোযোগ দিয়ে দেখছিস??"

"উহুম,,ফুলের মাঝে আমার একটা শ্যামাফুলকে দেখছি।"

প্রচ্ছদের দৃষ্টি আটকালো বাগানের ফুলের সুগন্ধি নেওয়া অভ্রার দিকেও।হাসিটা বিলীন হয়ে এলো।হৃদয় আন্দোলন আবারো যেন তীব্র হলো।ঢোক গিলে সংযত করলো নিজেকে।উষ্ণের দিকে তাকাতেই দেখলো,সে এখনো তার শ্যামাফুলে বিমোহিত।

"অভ্রাকে ছাড়া উচিৎ তোর।"

ব্যস,এই একটা কথাই যথেষ্ট ছিলো উষ্ণের দৃষ্টি ঘোরাতে।মুখের মিষ্টি হাসিটাও একটু কমে এলো।আস্তে করে বললো...

"" মানে??"

প্রচ্ছদ দুহাত বুকে ভাজ করে দাঁড়ালো। বললো...

"মেয়েটা তেমন সুবিধার নাহ।আমি চিনি আগে থেকে ওকে।"

"হ্যা,অভ্রা আমায় বলেছে ও তোকে চেনে,,ইভেন প্রীতি দি,বেলি,বৃক্ষ সবাইকেই চেনে ও।"

প্রচ্ছদ কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো...

"ও বলেছে এসব?"

"হ্যা,বলেছেই তো।তোদের বাসার পাঁচ তলায় থাকতো,ওর আন্টিরা।দেন নিয়নদার বন্ধু তুই,সেই থেকেই তোকে চেনে।বলেছে আমায়।"

"আর কিছু বলেনি?"

চঞ্চল দৃষ্টি নিবন্ধ হলো প্রচ্ছদের দৃষ্টিতে..

"আর কি বলবে?"

প্রচ্ছদ ঘাবড়ালো।কথা ঘুলিয়ে এলো তার,,নিচে তাকিয়ে এদিক ওদিক চোখের পাতা নাড়িয়ে নিলো বার কয়েক।

"ত্ তেমন কিছুই না।বলছিলাম আরকি..কয়েকমাস দেখেছিলাম তো,আসা যাওয়া আমাদের দোকানের সামনে দিয়েই করতো,সুবিধার মনে হয়নি।আর কিছু বাজে ঘটনাও শোনা যায় এই মেয়ের নামে।"

অবাক হলো উষ্ণ...

"অভ্রার নামে?"

আজ মিথ্যাখানা বলতেও বুক কাপছে প্রচ্ছদের,অথচ রোজ কত অহরহ মিথ্যা বলে সবার সামনে তাও কতটা কনফিডেন্সের সাথে,

"হ্ হ্যা,,ওর নামেই তো।আ্ আরো কত কি,,শুনতে গেলে রাত পাড় হয়ে যাবে।ত্ তোকে বলছি ভাই,এখনো সময় আছে, ভেবে দেখিস আমার কথাগুলো।"

প্রচ্ছদ আর দাঁড়ালো না উষ্ণের সামনে।দ্রুত পায়ে প্রস্থান করলো সে।উষ্ণ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে আবারও দৃষ্টি দিলো দুরে অভ্রার পানে।আপন মনেই ঠোঁটের কোনে হাসির রেখা ফুটলো।বিড়বিড়িয়ে উচ্চারণ করলো কয়েকটটি বাক্য...

"তোমার জন্য জ্বলছে যে জন,

সে জন মোর খুব প্রিয়জন।

অতীত নিয়ে আপসোস হয় গো,সে শ্যামা ফুলের কাটা দেখলো,সুযোগ বুঝে উপড়েও ফেললো,কিন্তু এরপর আর কাটা বিহীন ফুলের সৌন্দর্য দেখার সময় হলো না তার।"

-----

টেবিলের উপর মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অভ্রাকে দেখে মুগ্ধ হলো উষ্ণ। বিছানায় তাকিয়ে দেখলো তার বোনেরা নিজেদের জায়গায় ঘুমাচ্ছে বেঘোরে।একপাশে অভ্রার ঘুমানোর জায়গাটাও খালি পড়ে আছে।আলতো হেসে এগিয়ে গেলো অভ্রার দিকে সে।সামনে ল্যাপটপ স্ক্রিনে কিছু একটা লোডিং হচ্ছে, প্রায় শেষের দিকেই।

মূলত নিজের ল্যাপটপ নিতেই এতো রাতে এই ঘরে আসা উষ্ণের।তখন ডিনারের পর অভ্রা এসেছিলো তার কাছে।দেনামনা করে বলেই ফেললো তার কথাখানা।

নিজের ল্যাপটপটা বাড়িতেই রেখে এসেছে অভ্রা।এই কদিন নিজের ফ্রিল্যান্সিং আইডিতে প্রবেশ করা হয়নি তার।তাই একটু চেক করবে বলেই উষ্ণের কাছে চাইলো।

আলতো ভাবে নিজের ডান হাতটা অভ্রার চুলে বুলিয়ে দিতে গেলেই ল্যাপটপের টুট টুট টুট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ওঠে অভ্রা।আচমকা ঘুম ভাঙার পর উষ্ণকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই বলে উঠলো...

"ওহ,,আপনার ল্যাপটপ লাগবে এখন?,,আ্ আসলে চোখটা একটু লেগে এসেছিলো,,তাই।ওহ,এই তো লোড হয়ে গেছে,,আমি ওয়ার্ক সাবমিট করেই দিয়ে দিচ্ছি।"

"আরেহ,,রিল্যাক্স।ব্যস্ত হয়ো না।ইজিলি করো।"

উষ্ণের কথায় অভ্রা একটু শান্ত হলো।পাশ থেকে চশমাটা নিয়ে চোখে পড়ে নিয়ে মন দিলো ল্যাপটপে।সাবমিট করা হলেই বললো...

"হয়ে গেছে আমার।আপনার তো ফ্রিল্যান্সিং সাইডে কোনো কাজ নেই তাই না??আমার একাউন্টটা কয়েক দিনের জন্য লগইন করা থাকলে সমস্যা হবে কোনো??আসলে মাঝে মাঝে একটু চেক করলে ভালো হয় আরকি।"

উষ্ণ শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো...

"সারা জীবনের জন্য থাকতে পারে।"

অভ্রা থেমে রইলল উষ্ণের পানে।একটু পর চোখ নামিয়ে আস্তে করে বললো...

"আসলে,,লগইন থাকলে অর্ডার আসলে নোটিফিকেশন আসবে সাথে সাথে।তো কাজটাও সেরে ফেলতে পারবো।একসাথে এতোগুলো কাজ করা খুব কঠিন হয়ে যায়।"

"বেশি প্রেসার নেওয়ার দরকার নেই,,,না পারলে কয়েকটা অর্ডার ক্যান্সেল করে দিও। আমার যা আছে,বউকে দু বেলায় দুটো ডাল ভাত ঠিক খাওয়াতে পারবো। "

"আমি কাজ ফেরত দিই না।এতে অমঙ্গল হয়।হাতের লক্ষী ছেড়ে দেওয়া উচিৎ নয়।"

"আমিও বা ছাড়ছি কই?আমার লক্ষীকে??"

উষ্ণের প্রতিটি কথার মাঝেই লুকানো কিছু অনুভূতির জানান দেয়।কিছু অভ্রার বোধগম্য হয় বটে,আর কিছু?অজানার উপত্যকা। নীরবতায় কতকাল কাটলো জানা নেই। ঘোর কাটলো রজনীর কথায়...

"রাত বিরেতে এসেছিস বউয়ের কাছে,কোথায় ভাবলাম দুজন মিলে প্রেমালাপ করবি,তা নাহ,,কি কাজের কথা বলে যাচ্ছিস দুটোতে মিলে।বেরসিক কোথাকার।"

উষ্ণ চওড়া হাসলো, রজনীর দিকে তাকিয়ে বললো...

"কাজের কথার মাঝেও প্রেমালাপ লুকিয়ে থাকে দে বোন,,যার বোঝার দরকার সে ঠিকই বুঝে নেবে।"

রজনীও উত্তর করে বললো...

"হুম,,তা তো দেখতেই পাচ্ছি, কেমন বুঝছে তোর বউ।তা অভ্রা,আড়াইটা বাজতে চললো,,এখনো ঘুমাও নি যে?শুয়ে পড়ো এখন,কাজ থাকলে পড়ে করে নিও।"

অভ্রা সায় জানালো।এমনিতেই জোড়ালো ঘুম পাচ্ছে তার।উষ্ণকে ল্যাপটপটা ফিরিয়ে দিতেই চলে গেলো উষ্ণ। অভ্রা বিছানায় গিয়ে পাড়ি জমালো ঘুমের রাজ্যে

-----

ব্যতিব্যস্ত ভাবেই প্রতিদিনের ন্যয় সময়টা কাটলো অভ্রার।দুপুরের খাওয়ার পরে যখন সবাই ভাতঘুম দিতে ব্যস্ত,তখন সে ব্যস্ত প্রনতি দেবীর আদর পেতে।

চোখমুখ গর্তে দেখেই প্রনতি,প্রতিভা সকালেই অভ্রাকে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে।বলেনি মেয়ে কিছু।মানা করলেও কাজ করে গেছে হাতে হাত লাগিয়ে।উষ্ণও জিজ্ঞেস করলো কয়েকবার।কিন্তু চাপা স্বভাবের অভ্রা কিছুই বলেনি এই এতোক্ষণে প্রনতি দেবীর কাছে এসে মিনমিনিয়ে বললো...

"মাথাটা খুব ধরেছে মা।"

ব্যস,,এতেই যেন প্রনতির রাগ চওড়া হলো অভ্রার উপর।সকাল থেকে এতো করে বলার পরেও বলেনি মেয়েটা।এখন যখন অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে, তখন এসে লুকিয়েছে শাশুড়ির আচলে।

অভ্রাকে বকেই শান্ত হননি তিনি,বরং অভ্রার মাকে ফোন করেও কয়েকটা কথা শুনিয়েছে।

'''''আপনার মেয়ে এমন কেন,,অসুস্থ হলে বলতে পারেনা।না বললে আমরা বুঝবো কি করে?বারন করার পরও গো ধরে কাজ করে গিয়েছে সকাল থেকে।এবার আমি যদি বকাঝকা করি, তখন কিন্তু আমায় কিছু বলতে পারবেন না।""""

তেজিয়ান কন্ঠে হলেও প্রনতি দেবী যে অভ্রার ভালোর জন্যই এমন বকছেন তা বেশ বুঝতে পারলো অলকা।তাইতো হেসে বললো..

"মেয়ে আমার এমনই দিদি সহজে কিছু বলে না।কষ্ট হলেও সহ্য করে নেয়।কত যে বকি মেয়েকে এর জন্য,, শোনেই না।আপনার দায়ীত্বে দিলাম,,এমন করলে শুধু বকবেন না,,প্রয়োজনে পিঠে কয়েক ঘা দিয়েও দেবেন।আমায় জিজ্ঞেস করার দরকার নেই "

অমায়িক আচরণে খুশি হলেন প্রনতি দেবী।উষ্ণকে পাঠিয়ে দিলো মাথা ব্যথার ঔষধ নিয়ে আসতে। একটু পর সে ফিরে আসতেই দেখলো তার ফুল কি নিশ্চিন্তে মায়ের কোলে মাথা হেলিয়ে ঘুমাচ্ছে। প্রনতি দেবী আলতো হাতে অভ্রার মাথায় আয়ুর্বেদিক তেল লাগিয়ে দিচ্ছে । আরাম পেয়ে কেমন বিড়াল ছানার মতো ঘুমাচ্ছে মেয়েটা।

উষ্ণও ধীর পায়ে এসে বসলো মায়ের পায়ের কাছে।ঔষধের পাতাটা খাটে রেখে হাত বাড়িয়ে অভ্রার চোখের গোলগোল ফ্রেমের চশমাটা খুলে রাখলো।হাতের বইটাও আস্তে করে নিয়ে নিলো।মেয়েটা মাথা ব্যাথা নিয়েও উপন্যাসে মত্ত।

"কষ্ট হচ্ছে তোমার মা??ওকে শুইয়ে দিই??"

উষ্ণের কথায় প্রনতিদেবী সতর্ক কন্ঠে বললো..

"ধীরে বল।ওর ঘুম ভেঙে যাবে।নাড়ানোর দরকার নেই এখন।ঘুমাক একটু।"

নির্মলতার চিত্রখানা দরজার আড়াল থেকে দেখে গেলো প্রভাতি বাসু।তারও তো এমন ছোট্ট একটা সুখের সংসার হতে পারতো।সেও তো পারতো তার বৌমা কে এমন আগলে রাখতে। কিন্তু প্রীথুলা যে অভ্রার ধাঁচের মেয়ে নয়।

নিজের অন্তর গহীনের কষ্টখানা নিজের মধ্যেই লুকিয়ে প্রনতির খুশিতে এক চিলতে হাসলো প্রভাতি।অভ্রা তো তারও বৌ মা।নিজ ছেলের বউ মন মতো না হোক,অভ্রাকে দিয়েই না হয় শাশুড়ির স্বাধ মেটালো।অথচ প্রনতী দেবী জানতেও পারলো না এই সুশ্রী রমনীটাকেই তার ছেলে নিজ হাতে দুরে ঠেলে দিয়েছে,।করে তুলেছে পেজা তুলো হতে এক পাষন্ড পাথর।

-----

"তোর কথাটা আমি ভেবে দেখেছি প্রচ্ছদ ভাই।কিন্তু আমি তো অভ্রার মাঝে কোনো খারাপ কিছু দেখতে পাইনি?"

উষ্ণের কথায় হতাশ হলো প্রচ্ছদ।তবুও যেন হাল ছাড়বে না সে,আর এই সন্ধ্যায় তাদের আলোচনায় সামীল হয়েছে স্বয়ং প্রীথুলা।প্রীথুলা চায় না অভ্রা এই পরিবারের বউ হোক,,হলেই যে তার বাকিটা জীবন অভ্রার সাথে নীরব যুদ্ধেই কেটে যাবে।তাই কৌশলে সঙ্গ দিতে চাইলো প্রচ্ছদকে

"হুম উষ্ণ ভাই।প্রচ্ছদ ঠিক বলছে। তুমি তো এই কদিন হলো ঐ মেয়েকে দেখেছো। কিন্তু আমরা ওকে দু বছর আগে থেকেই চিনি,,খারাপ মেয়েটা।"

প্রচ্ছদের সাথে এতোক্ষণ সাধারণ ভাবে কথা বললেও প্রীথুলার কথায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো উষ্ণ...

"ওর মধ্যে খারাপ কি দেখেছো তুমি??প্রমান আছে?"

"চোখে দেখার চাইতে আর ভালো কোনো প্রমাণ হতে পারে,উষ্ণ ভাই??আ্ আমরা স্বচক্ষে দেখতাম ওর কীর্তি। "

"সে তো তুমি মিথ্যাও বলতে পারো?"

প্রীথুলা কথা সাজাতে পারছে না উষ্ণের বিরুদ্ধে। ঘাবড়ে যাচ্ছে বারবার।তাই প্রচ্ছদই বললো...

"ও্ ও মিথ্যা বলবে কেন,,সত্যিই তো বলছে। আমরা দেখেছি অভ্রাকে।"

উষ্ণের ইচ্ছে হলো না বেকার কথায় জড়ানোর।তাই সন্তর্পণে প্রচ্ছদকে কাটিয়ে যাওয়ার জন্য বললো...

"ভেবে দেখবো।এসব থাক এখন।কাল কি করবো সেটা ভাব।উর্মির এঙ্গেজম্যান্টটা..."

"চিন্তা করিস না ভাই।ঠিক সামলে নেবো "

কথার প্রসঙ্গে মুচকি হেসে প্রস্থান করলো উষ্ণ।

-----

ভোর হতেই প্রনব বাসুর বাড়িতে হুল্লোর পড়ে গেলো।উর্মির আর তার হবু বর নির্বানের আজ সন্ধ্যায় এঙ্গেজম্যান্ট অনুষ্ঠিত হবে।বাড়ির সামনের খোলা জায়গাটায় ইভেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে। একমাত্র বোনের ক্ষেত্রে কিছুই কমতি রাখে নি উষ্ণ। সাধ্য মতো চেষ্টা করছে সব করার।

সকালের নাস্তা সেরে রজনীর সাথে বাইরে আসতেই চোখে পড়লো কিছু পরিচিত মুখ।অবাক হলো অভ্রা।টুটুল,তুহিন,গৌরবসহ আরো অনেকেই আছে তার বন্ধুমহলের। এগিয়ে গেলো তাদের কাছে অভ্রা।

"তোরা না বললি আজ দুরের ইভেন্ট আছে??এখানে আসবি বলিস নি কেন?"

বেশ কয়েকদিন পর চোখের সামনে অভ্রাকে দেখে চোখের তৃষ্ণা যেন মিটলো টুটুলের।ফোনালাপ?সে তো প্রতিদিনই হয় সবার সাথে। মাঝে মাঝে ভিডিও কলও হয়।তবে সামনাসামনি দেখার মতো অনুভুতি কি আর হয়?

ঠোঁটের কোনে প্রসস্থ এক হাসি দিয়ে অভ্রার দিকে আইডি কার্ড ছুরে মারলো টুটুল...

"সারপ্রাইজ ছিলো ম্যাডাম।খুশি হোস নি?"

তুহিন হেসে বললো..

"আগে জানলে বুঝি আসতে মানা করতি এখানে আসতে??"

অভ্রা বললো..

"আজব,,আমি কেন তোদের মানা করবো?,"

টুটুল কাজ করতে করতে বললো..

"হয়েছে হয়েছে।আগে কাজে লেগে পর,,তারপর কথা বলা যাবে।হাতে সময় কম,,, উষ্ণ ভাই দায়ীত্ব দিয়েছে বলে কথা,,আমি বাবা কোনো খামতি রাখবো না।"

হাতের আইডিকার্ডটা পাশের একটা টেবিলে রাখতে রাখতে বললো..

"উষ্ণ আসতে বলেছে তোদের??কই আমায় তো কিছু জানায় নি?"..

" আপনি আমার সাথে এখনো এতো ফ্রীলি কথা বলতে শিখেছেন?যে আমি বলবো?"..

পেছন থেকে উষ্ণের কথায় ফিরে তাকালো অভ্রা।লোকটার কথার প্যাচ খুলতে পারে না অভ্রা।সবসময়ই কেমন যেন বিপাকে ফেলে দেয়। আসলেই অভ্রা ইজি হতে পারেনি উষ্ণের সাথে।নিজ মনেই প্রশ্ন করলো অভ্রা,,আমি কি কোনো ভাবে উষ্ণকে ঠকাচ্ছি?",,

উত্তর মিললো না,,বরং মিলাতে চাইলো না।ভাগ্যের ডেরাকল আজ অভ্রাকে এই অবস্থায় এনে দাড় করিয়েছে দেখে শুনে সেই আবার প্রচ্ছদই তো তার চোখে ভাসে।আচ্ছা,, এতো ভালোবাসা,প্রচ্ছদের একবারও চোখে পড়লো না?,,,,

প্রভাতি,প্রনতিদের আসতে দেখে তাদের কাছে এগিয়ে গেলো অভ্রা।টুকটাক কথা জুড়ে দিলোও সে।আজ প্রচ্ছদও দোকানে যায় নি।আশপাশেই এটা ওটা কাজ করছে সবার সাথে।

"এই তোমার সাহস কি করে হয় আমায় টাচ করার??তুমি জানো আমি কে??ইডিয়েট!!"

চিৎকারে মুখরিত চারপাশের সকলেই হা হয়ে তাকিয়ে রইলো প্রীথুলার দিকে। একটু আগেই এক বিকট শব্দ বয়ে এসেছিলো,যা মুলত একটা কসিয়ে থাপ্পড় মারার আওয়াজ।থাপ্পড়টা পড়েছে টুটুলের বাম গালে, আর দাতা? জনাব প্রচ্ছদ বাসুর একমাত্র সহধর্মিণী প্রীথুলা বাসু।

ঘটনার আকষ্মিকতায় হাসিমাখা মুখটায় চোয়াল শক্ত হয়ে এলো অভ্রার।শক্ত দৃষ্টিতে তাকালো দুর থেকে প্রীথুলার দিকে।তাকালো টুটুলের দিকেও,,অপমানে ছেলেটার চক্ষু লাল হয়ে গেছে,তবুও রাগের বহিঃপ্রকাশ করছে না সে।

অভ্রা একবার প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে দেখলো,সে নিজেও প্রীথুলার কাজে অবাক।দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে টেবিল থেকে নিজের আইডিটা হাতে পেচিয়ে এগিয়ে গেলো টুটুলদের কাছে অভ্রা..

"ম্যাম,,আম সরি,আপনি পড়ে গেলেন বলেই তো আমি যাস্ট..."

টুটুলের নত হওয়া কথায় যেন রাগ তরতর করে বাড়তে লাগলো প্রীথুলার।গর্জে উঠে বললো..

"তোমার সাহস তো কম না,,তুমি আবার আমার মুখে মুখে তর্ক করছো,,,তোমাকে তো আমি..."

বলেই নিজের ডান হাত আবার উচাতে গেলেই হুট করেই কোথা থেকে অভ্রা এসে প্রীথুলার হাতখানে পেছনে মুছড়ে ধরলো। হালকা ব্যথালাঘব হতেই চেচিয়ে উঠলো প্রীথুলা....

"এই মেয়ে,কি করছো টা কি ছাড়ো আমার হাত।"

"কাউকে অসম্মান করার ফল হিসেবে এটা খুব কমই হয়েছে ম্যাডাম।"

দাতে দাত চেপে কথাখানা বলেই ঝাটি মেরে ছেড়ে দিলো প্রীথুলার হাত।উত্তপ্ত লাভার মতো ক্ষেপে উঠলো প্রীথুলা।

"এতো সাহস তোমার?তুমি আমার হাত ধরেছো??আমার হাত??"

অভ্রার মনোভাব কেমন শান্ত পরিলক্ষিত হলো,এই চিৎকারের উলটো পিঠে সে প্রীথুলার চোখে চোখ রেখে শান্ত স্বরে বললো...

"উনাকে সরি বলুন।আর গেট আউট অফ আওয়ার রাস্টিক্টেড এরিয়া।"

"আমি কেন সরি বলবো এই ছেলেকে??এই-ই আমায় টাচ করেছে,,তাই আমি ওকে উচিৎ শিক্ষা দিয়েছি।ব্যস।।"

টুটুল বাধা দিতে চাইলো অভ্রাকে।চারদিকে সব পরিচিত মুখ তাদের দিকেই চেয়ে।সে চায় না তার ভালোবাসার মানুষটি নিজের হবু শশুরবাড়ির লোকেদের কাছে খারাপ হোক...

"অভ্রা,, বাদ দে এটা।।আ্ আমি কিছু মনে করিনি। তুই যা, আমি সামলে নিচ্ছি। "

"তুই চুপ থাক টুটুল।এটা আমার আত্মীয়ের বাড়ি বলে এটা ভুলে যাস না আমরা এখানে প্রফেশনাল কাজে এসেছি।আর আমাদের প্রফেশন নিয়ে কেউ টু শব্দও করতে পারে না, আর সেখানে উনি তোকে থাপ্পড় মেরেছে।আর আমি এইসব অন্যায় সহ্য করার মেয়ে না কখনো ছিলাম,আর না আজ থাকবো চুপ করে।"

এক তেজীয়ান অভ্রাকে পুনরায় দেখছে প্রচ্ছদ।ভিতরগত শত্রুতা থাকলেও প্রচ্ছদ খুব ভালো করেই জানে অভ্রা এটা কোনো প্রকার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য করছে না,,বরং অন্যায়কে অন্যায় হিসেবেই চিহ্নিত করছে।আর অভ্রা বরাবরই এমন ধাঁচের মেয়ে,, দুটো বছর আগে একবার যেই রূপের সাক্ষী হয়েছে স্বয়ং প্রচ্ছদও।

তুমি কোন কাননের ফুল গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক রোমান্টিক গল্প