প্রনব বাসুর বাড়ির প্রত্যেক সদস্যকেই নিজের লেগেছে অভ্রার।খুব সহজেই মিশতে পারে তারা।কিন্তু প্রীতির আচরণটা স্বাভাবিক নয়।অবশ্য এর কারনটাও বেশ জানা অভ্রার।তাই তো প্রীতি কিছু বললে আর মুখ তুলে উত্তর দিতে পারে না সে।তবুও অভ্রা মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছে তার সাথে।কিন্তু পারছে আর কই।
রাতে ঘুমানোর সময় উষ্ণ কোথা থেকে যেন একটা পুতুল এনে হাজির করলো অভ্রার সামনে।হাতে ধরিয়ে বললো..
"এই নিন ম্যাডাম।আপনার কোলবালিশ।"
অভ্রা হা করে তাকিয়ে রইলো উষ্ণের পানে।উষ্ণ জানলো কি করে??,
তা দেখে উষ্ণ ফিক করে হেসে বললো...
"অবাক হওয়ার কিছুই নেই। আমার শালি সাহেবা কড়া করে বলে দিয়েছে এটার কথা।"
"অঙ্গ?"
"হ্যা,অঙ্গই।কথা হয়েছে ওর সাথে?"
"হুম,একটু আগেই ফোন করেছিলাম। "
"তাহলে এবার আরামসে ঘুমিয়ে পড়ো তাহলে?"
অভ্রা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো।উষ্ণও মিষ্টি হেসে বিদায় নিলো রুম থেকে।সে যেতেই উর্মি কিটকিটিয়ে হেসে বললো...
"দেখলে সবাই??আমার দাভাই কত্তো খেয়াল রাখে নিজের বউয়ের??"
রজনী যেন একটু অভ্রার পক্ষ নিয়ে বললো...
"কেন রে উর্মি??তোর বর বুঝি রাখে না??তখন যে ফোনে একশ একটা গুড বাই কিস ছুড়ছিলো তা তো আমি লুকিয়ে দেখে নিয়েছি?"
উর্মি লজ্জা পেলো বেশ।তবুও নিজেকে এগিয়ে রাখার প্রচেষ্টায় কথার প্যাচ দিয়ে বললো...
"এহ,,তোর বর যেন কম?বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই রাজভীকে নিয়ে এলো??"
রজনী মুখ বেকিয়ে বললো...
"হুহ,,দেখা যাবে কদিন পর।নিজেও বিয়ে কর,তারপর দেখবো, বছর ঘুরতে তুইও একটা ডাউনলোড দিস কিনা।"
এই এতোক্ষণে বেলি ফোন টিপতে টিপতেই বলে উঠলো...
"এই তোমরা কি ভুলে গেছো?আমি যে তোমাদের ভাগ্নি হই??নিজের মেয়ের মতো কারোর সামনে এসব বলতে লজ্জা লাগে না তোমাদের??"
বেলির কথায় এবার উর্মি, রজনী দুজনেই হু হা করে হেসে দিলো।অভ্রাও যেন আলতো হাসলো এখন।উর্মি বেলির কান টেনে দিয়ে বললো...
"সম্পর্কে ভাগ্নি হলে কি হবে?বয়সে তো ইয়ারি দোস্তই লাগে তোকে।"
-------
ভোরের সূর্যোত্তাপ গায়ে পড়তেই ঘুম ভেঙে গেলো প্রনতি দেবীর।পাশ ফিরে দেখলো নয়না নেই।প্রভাতি এখনো ঘুমিয়েই আছে।তারা তিনজন একসাথেই ঘুমায়। বিছানা ছেড়ে কলপাড় থেকে হাতমুখ ধুয়ে নিয়ে রান্নাঘরের দিকে আসতেই চোখে পড়লো নয়নাকে।তবে সে আজ একা নয়,অভ্রাকেও দেখতে পেলো তিনি।এগিয়ে গিয়ে বললো...
"ওমাহ,অভ্রা।তুই এতো ভোরে রান্নাঘরে কি করছিস?."
অভ্রার কিছু বলার আগেই নয়না হেসে উত্তর করলো.....
"তুমি এখন দেখছো ছোটদি।তোমার বৌমা তো আমারও আগে উঠেছে।আমি উঠে দেখি মেয়ে স্নান টান সেরে পূজো দিয়ে দিচ্ছে।এখন দেখো,কত করে না করলাম রান্নাঘরে আসতে, মেয়ে শুনলোই না আমার কথা।"
প্রনতি বেশ সন্তুষ্ট হলেন অভ্রার কাজে।স্মিত হেসে প্রশ্ন করলো...
"রান্না পারিস তুই??"
অভ্রা ঘাবরালো।হিতাহিত দৃষ্টি এদিক ওদিক নাড়িয়ে আস্তে করে বললো....
"ত্ তেমন নাহ।তবে আমি তোমাদের সাহায্য করতে পারবো কিছুটা।তোমরা না হয় কিছু কিছু শিখিয়ে দিও?"
প্রনতি দেবী নিঃপলক তাকিয়ে রইলো অভ্রার করুন ভয় মিশ্রিত চেহারার দিকে।কেমন ভয় পেয়ে আছে মেয়েটা।ফিক করে হেসে দিলো প্রনতি দেবী।বললো...
"ঠিক আছে।আমিই না হয় তোকে শিখিয়ে দেবো খন।এতো পাকা রাধুনি হতে হবে না।বিয়ের পর টুকটাক রান্না করে আমার ছেলেটার পেট বাচালেই চলবে।"
অভ্রা স্মিত হাসলো।একটু পর প্রভাতিও এসে যোগ হলো তাদের মধ্যে। অভ্রাকে রান্নাঘরে দেখে বেশ খুশিই হলো তিনি।পরক্ষণেই আপসোস করে বললো...
"কি লক্ষী বৌমা পাচ্ছিস রে বোন।আর আমার ছেলের বৌটাকে দেখ,রান্নাঘরের কাছেও ঘেঁসে না।"
নয়না প্রভাতীকে বললো...
"থাক না দিদি।এখানে এসে হয়তো করতে চাইছে না,বাড়িতে তো..."
"না মামি,ওসব ভেবো না।ঐ মেয়ে বাড়িতেও এদিকের খর ওদিকে টানে না।থাকতো রান্নাবান্না।"
কথাটা বলতে বলতে প্রীতি এগিয়ে এলো বৃক্ষকে নিয়ে। তাকে টেবিলে বসিয়ে দিয়ে প্রনতিদের কাছে এসে বললো...
"কি তৈরি হয়েছে গো?ছেলেটার খিদে পেয়েছে।"
অভ্রা মাত্রই পরোটা ভেজে বাটিতে তুলে রাখছিলো।প্রীতির কথায় স্বাভাবিক ভাবেই বললো...
"এইতো দিদি,কয়েকটা পরোটা হয়ে গেছে। আমি বৃক্ষের জন্য একটা ডিম ভেজে নেই,দু মিনিট লাগবে,।"
প্রীতির মুখভঙ্গি এমন হলো যেন সে খুবই বিরক্ত। অভ্রার কথাকে কোনো তোয়াক্কা না করেই প্রভাতিকে বললো...
"পাউরুটি আছে না??ওটাই দাও বৃক্ষের জন্য। "
ক্ষততে একটু নুন ছিটিয়েই দিলো প্রীতি।শান্ত দৃষ্টি জোড়া একবার তার দিকে নিক্ষেপ করে ফের পরোটা ভাজায় মন দিলো অভ্রা।কিচ্ছুটি বলার প্রয়োজনবোধ করলো না।
প্রভাতি শুনলো না নিজের মেয়ের কথা।অভ্রাকে বললো ডিট ভেজে দিতে।অভ্রা তাই করলো।বৃক্ষ পাউরুটি নয়,বরং অভ্রার হাতে বানানো পরোটা আর ডিমভাজিই খেলো।
বেলা একটু গড়াতেই একে একে সবাই এসেই নাস্তাটা সেড়ে নিলো।প্রীতির স্বামী আর বাবার সাথেও পরিচয় হয়েছে অভ্রার।সেই আশীর্বাদের দিনই।এর মাঝে সবাই এটাও জানলো যে অভ্রা আর প্রীতি বাসুর পরিবার পূর্ব পরিচিত।
সকালের নাস্তা শেষ হতে না হতেই কোথা থেকে যেন দুটো মহিলা এসে হাজির হলো বাড়িতে।এরা প্রতিবেশীই বটে।স্বাভাবিক কথার ফাঁকে রান্নাঘরে চোখ যেতেই অভ্রাকে দেখলো।জিজ্ঞেস করতে দেরি হয়নি নয়নাকে...
"হ্যা গো বউদি,ঐ মেয়েটা কে?আগে তো দেখিনি এখানে?"
নয়না হালকা হেসে বলতে নিলো...
"ও আমার এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয়ের মেয়ে..."
কিন্তু তার আগেই প্রনতি দেবী ফটাফট বলে দিলো...
"ও আমার ছেলের হবু বউ গো বৌদি।দাড়াও, তোমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।"
বলেই মহিলাদের উত্তরের অপেক্ষা না করেই গলা উঁচিয়ে অভ্রাকে ডাকলো।অভ্রা এসে দাঁড়াতেই বললো...
"বৌমা,এরা হলো তোমার মামাশ্বশুরদের প্রতিবেশী।"
আর কিছু বলতে হয়নি অভ্রাকে।মেয়েটা স্মিত হেসে এগিয়ে গিয়েই প্রনাম করলো মহিলা দুটিকে।জিজ্ঞেস করলো..
"ভালো আছেন কাকিমা??"
একটা মহিলা উত্তর দিলো...
"হ্যা,হ্যা,বাপু,আছি ভালো।"
পরক্ষণেই মহিলাটি প্রনতির দিকে তাকিয়ে বললো...
"হ্যা গো প্রনতি?এ তোমার ছেলের হবু বউ?তা মামা শশুর বাড়িতে এলো,শাড়ি না পড়ে এসব জামা কেন পরে?তোমরা কিছু বলো নি??"
উষ্ণ সোফাতেই বসা ছিলো। মহিলাটি এবার উষ্ণের দিকে তাকিয়ে বললো...
"হ্যারে উষ্ণ। বলি এখন থেকে বউকে একটু শাসন টাসন করতে পারিস না?পরে তো হাতের নাগালের বাইরে চলে যাবে বউ।"
উষ্ণ তাকালো অভ্রার পানে।মেয়েটাকে দেখলেই তার ভালো লাগে।হ্যা,সর্ব সময়, সর্ব রুপেই ভালো লাগে,হাসে তো নাহ,রাগলে ভালো লাগে,করুন ভাবে তাকালে ভালো লাগে,এই যে এখন?কেমন দাত কিড়মিড় করে ভ্রু কুঁচকে খসেটি বেগমের মতো তাকিয়ে আছে মহিলাটির দিকে,এই রুপেও ভালো লাগছে।ভালো লাগায় মোহভূত হয়েই উষ্ণ বলে উঠলো...
"কি যে বলো কাকিমা,আমি সরল সিধে, বোকা সোকা,বাচ্চা একটা ছেলে।ভাবছি বউয়ের শাসনে একটু বড় হবো,।তাই তো বউ নিয়ে এলাম,সেই বউকে আমি আবার শাসন করবো কি? "
আরেকটি মহিলার যেন পছন্দ হলো না উষ্ণের কথাখানা।পান চিবুতে চিবুতে বলে উঠলো...
"ওসব প্রথম কয়েকদিন বউয়ের জন্য এমন পাগল সবাই থাকে বুঝলি তো উষ্ণ। বিয়ে হোক,,কয়েকদিন ফুলের মধু খেয়ে নে, তারপর দেখবো তোর এই প্রেম কোথায় যায়।"
তীব্র ভাবে ফেটে পড়তে ইচ্ছে হলো প্রচ্ছদের।এমন বাজে কথা কেন বললো এই মহিলাটি?আমার অভ্রা কোনো সস্তার নর্দমা নাকি?যে তার মধু খাওয়া শেষ হলেই যত্ম কমিয়ে দিতে হবে?,,,চিন্তাখানা আর নিজের মনে লুকিয়ে রাখলো না প্রচ্ছদ। শান্তটা ছেড়ে এই এতোক্ষণে মহিলা দুটির উদ্দেশ্যে তেজি কন্ঠে বলে উঠলো...
"ও কোনো ফেলে দেওয়ার মতো ফুল নয়।আর না উষ্ণ এমন ছেলে যে মধু খেয়েই ফুলকে পিষে ফেলবে।আপনাদের স্বামীরা মনে হয় এমন।তাইতো নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বিবেচনা করছেন।এটা তো আর সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না কাকিমা।তাই এসব বাজে কথা বন্ধ করুন।আর রইলো জামা কাপরের কথা?প্রথমত এটা ওর নিজের শশুর বাড়ি নয়, মামা শশুর বাড়ি।দ্বিতীয়ত ওদের বিয়েটা এখনো হয় নি।তাই ওকে যে সব সময় শাড়িই পড়তে হবে এমন কোনো কথা নেই।আর তৃতীয়ত,যেখানে আমাদের বাড়ির বউ কি পড়লো না পড়লো,এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই,সেখানে আপনারা ওকে শাড়ি পড়ার কথা বলার কে?ও তো আর আপনাদের বাড়ির বউ নয়, তাই না?"
মুখে ঝামা ঘষে দেওয়ার মতো অবস্থা হলো মহিলা দুটির।অদ্ভুত চোখে প্রচ্ছদের দিকে একবার তাকাচ্ছে তো আবার বাকি সবার দিকে তাকাচ্ছে। একটা মহিলা তো বলেই বসলো প্রভাতিকে...
"ও মা গো প্রভাতি।তোমার ছেলে তো দেখি বেশ কথা বলছে?বিয়ে করে কি ছেলের মুখ খুললো নাকি?কই আগে তো প্রচ্ছদ এমন ছিল না??"
প্রভাতি যেন নিজেই ডেরাকলে পড়লো।নিজেই তো বুঝতে পারছে না তার ছেলের হলোটা কি আজ।বিশাল যুদ্ধ হয়ে গেলেও ছেলে কখনো তার এতো প্রতিবাদী হয় নি।তাহলে আজ? অদ্ভুত দৃষ্টি যেন সরছেই না ছেলের দিক থেকে।তবে তাতে প্রচ্ছদের যে কোনো নড়চড় হলো না তা সকলেই বুঝতে পারলো,সাথে এটাও বুঝলো,ছেলেটার মাথা চটে আছে।ঘনঘন শ্বাস ফেলতে ফেলতে একবার চোখের মণি উচিয়ে অভ্রার দিকে তাকাতেই দৃষ্টি মিলিত হলো এক মায়োনিক দৃষ্টিতে।যেই দৃষ্টিতে কোনো রাগ ছিলোনা,ক্ষোভ ছিলো না,আর না ছিলো কোনো কৃতজ্ঞতার চিহ্ন।শুধু ছিলো একরাশ হতাশা,নিঃশ্বাসের গতিবিধির সাথে মিলিত হওয়া হতাশা টুকু অভ্রাকে আর থাকতে দিলোনা এই ভরা মজলিসে।নিরবে, নিশ্চুপে, কারোর কোনো অনুমতি ছাড়াই চলে গেলো রান্না ঘরের দিকে।
---
সন্ধ্যার দিকে প্রনব বাসুর বাড়ির পেছন সাইডে ছোট্ট ফুল বাগানটার দিকে নজর যেতেই অভ্রার হৃদয় অনুভব করতে চাইলো সেই ফুলের সুগন্ধি। নিজেকে আটকে না রেখে আপন মনে হালকা হেসেই বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিলো বাড়ির বাইরে।মূল দরজার কাছে আসতেই চোখে পড়লো উষ্ণ আর প্রচ্ছদকে।কেমন দুজন মিলে হেসে কুটিকুটি হচ্ছে। অভ্রাকে দেখেই থেমে দাঁড়ালো দুজনই।সকালের পর প্রচ্ছদকে আর দেখেনি অভ্রা,সো রুমেই চলে গিয়েছিলো।দুপুরে কোন ফাঁকে এসে লাঞ্চ করে গেলো তা অভ্রা যানতেও চায়নি,দেখেওনি।উষ্ণ বাড়িতেই ছিলো,বিকেলের দিকে বেরিয়েছিলো।এই এখন আবার ফিরলো দুজন মিলে।অভ্রাকে দেখেই মুখের হাসিটা বিলীন হলো প্রচ্ছদের। উষ্ণ হেসেই ভ্রু উচিয়ে জিজ্ঞেস করলো....
"বরকে মিস করছিলে বুঝি?এমন ছুটছো যে বাইরে??"
উত্তর দিলো না অভ্রা, মাথাটা নিচু করে হাসলো বোধহয়।পরক্ষণেই প্রচ্ছদের দৃষ্টিতে দৃষ্টি রেখে বললো...
"আমার ঋণের বোঝা এভাবেই বাড়ানোর চিন্তায় আছেন বুঝি?"
প্রচ্ছদ কেমন করে যেন টের পেলো অভ্রার কথার মূল।কিছু বলবে বলে একটা ঢোক গিললো,,,তার আগেই অভ্রা আবার শান্ত কন্ঠে বললো...
"এলাকায় অনেক ভালো একটা ইমেজ আছে আপনার।প্রতিবেশী কাকিমাদের কাছে শুধু শুধুই নিজের ইমেজ খারাপ করলেন আমার জন্য। "
প্রচ্ছদ রুক্ষ কন্ঠে বলতে নিলো...
"আমি শুধু তোমার কথা ভেবেই...."
"ভাবতে বলিনি তো আমি।আমাকে নিয়ে ভাবতে বলিনি কাউকে। কে আমায় কি বললো, কে আমায় অপমান করলো,টিটকারি করলো,সেসবই আমার ভাবার বিষয়। আপনি কেন ভাবতে গেলেন?"
অভ্রার প্রশ্নের চেয়েও প্রশ্নবিদ্ধ চাহনিটাই ঘায়েল করলো প্রচ্ছদকে।এক টানা তাকিয়েই রইলো অভ্রার সেই চাহনির দিকে।মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারলো না আর।ঐ দৃষ্টি কি কারোর বাকশক্তি হরন করার ক্ষমতা রাখে?
"দ্বিতীয়বার আমাকে পরাজিত করার পন্থাগুলো এমনভাবে ভেবে নেবেন,যাতে সেখানে নিজের ইমেজ না নষ্ট হয়। বুঝলেন?"
কথাটায় কি ছিলো ভাবতে চাইলো না প্রচ্ছদ।কিন্তু কথার পরে অভ্রা যেই দীর্ঘনিঃশ্বাস যুক্ত হাসিটা দিলো,তা যেন অন্তর নাড়িয়ে দিলো প্রচ্ছদের।চোখ আটকালো অভ্রার প্রসারিত হওয়া গালদুটিতে।কোমলতায় নিজের শক্তপোক্ত হাত দুটি দ্বারা আগলে ধরতে চাইলো মন।কিন্তু এটা যে সম্ভব নয় এখন,কোনোভাবেই সম্ভব নয়।নিজেকে ধাতস্থ করলো,আর যেভাবেই হোক, দেহের চাহিদার অযুহাত দিয়ে প্রতিশোধ নেবে না অভ্রার থেকে।আর দ্বিতীয়বার অভ্রার পবিত্রতার দিকে নিজের নোংরা হাত বাড়াবে না।
ইচ্ছে দমন করার কারনে নিজের হাতের মুষ্টি শক্ত করে রাখলো প্রচ্ছদ,ছুঁয়ে দিতে পারলো না অভ্রার হাসিমাখা কপোল দুটি।